✍️শ্যাম মালাকার
মানব সভ্যতার ইতিহাস হলো ক্রমবিকাশের ইতিহাস । কালের অগ্রগতির সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়ে চলেছে সমাজ সভ্যতার চালচিত্র। সে চিত্রের মধ্যমণি হলো মানুষ । এই মানুষ শব্দটিকে যদি ভেঙে দেখা হয় তবে আমরা "মান" আর "হুশ" দুই শব্দ পেয়ে থাকি , সঙ্গত কারণেই মনে হয় যে - যে সৃষ্টির মধ্যে মানুষ নামক জীবই সবচেয়ে উন্নত । মানুষ শব্দটির মূল আরবী ধাতু হচ্ছে 'উনসুনম্ব, আর উনসুন মানে হচ্ছে স্নেহ ভালোবাসা। ... সে হিসেবে মানুষ শব্দটির সুন্দর অর্থ করলে দাঁড়াবে এই যে, যার মধ্যে অন্য সব সৃষ্টিকে ভালোবাসার উপাদান আছে এবং যার মধ্যে অন্যের ভালোবাসা রাখার জায়গা আছে- সেই হচ্ছে মানুষ। পরিবর্তনশীল যুগপর্বে প্রতিনিয়ত এই মানব সামাজও পরিবর্তিত হচ্ছে , সেই মধ্যযুগের ইউরোপ বলি কেন আর মধ্যযুগের ভারতবর্ষ বলি না কেন , প্রতিটি দেশে প্রতিটি মানব সমাজের চিন্তার জগতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন কোন না কোন সময়ে এসেছে ,তা ধর্মের ক্ষেত্রে হোক বা সামাজিক ক্ষেত্রে হোক, শিক্ষার ক্ষেত্রে হোক বা রাজনীতির ক্ষেত্রে হোক প্রতিটি ক্ষেত্রেই পূর্ববর্তী সমাজের চালচিত্র পদে পদে বদল হয়েছে এসেছে আধুনিক চেতনা, যে চেতনার মূল স্তম্ভ যুক্তিবাদী মন । পঞ্চদশ শতক ইউরোপের মাটিতে হয়েছিল নবজাগরণের জয়যাত্রা তার সাথে সঙ্গ দিয়ে শুরু হয়েছিল বিজ্ঞান চর্চা । ফলে ইউরোপের মানুষের চিন্তার জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয় । যে পরিবর্তনের ঢেউ গোটা মহাদেশের চালচিত্রকেই বদলে দিয়েছিল ।মধ্যযুগে ইউরোপে ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে শোষণ ও নির্যাতনের যাবতীয় ব্যবস্থা কার্যকর করা হতো । গির্জা রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্মের নামে নির্যাতন করতো । খ্রিস্ট ধর্মের এ সব বাড়াবাড়ির ফলে জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা বৃদ্ধি পায় । এক শ্রেণীর যাজক ধর্মকে ব্যবহার করে ভোগবাদিতায় মত্ত হয়ে মানবতা বিরোধী আদেশ জারিতে লিপ্ত থাকে । পঞ্চদশ- ষোড়শ শতাব্দীর বেশ কয়েকজন মানবতাবাদী ধর্মযাজক ও সাধক ক্যাথলিক ধর্মের এ সব বাড়াবাড়ির প্রতিবাদ করেন , খ্রিস্টধর্মের নতুন নতুন সংস্কারণের আন্দোলন গড়ে তোলেন । ইউরোপে ধর্মক্ষেত্রে এ সব আন্দোলন তৎকালীন ও পরবর্তী যুগপর্বে ইউরোপের আর্থ- সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে সব পরিবর্তন নিয়ে আসে তা সুদূরপ্রসারী অবদান রাখে । ইউরোপের ফরাসি বিপ্লব বিশ্ব সভ্যতার দরবারে নিয়ে আসে স্বাধীনতা আদায়ের এক প্রতিবাদী অগ্নিশিখা । যে অগ্নিশিখার স্ফুলিঙ্গ ফ্রান্স হয়ে সমগ্র পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়ে । শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জগদ্দল পাথরের মতো বসে থাকা পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তে স্বাধীনতার শোষণকারী বিভিন্ন রাজতন্ত্র ও সমাজের বুকে প্রচলিত কূপ্রথা গুলি ফ্রান্সের বিপ্লবের সাম্য মৈত্রী স্বাধীনতার সেই অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করে এক নতুন সভ্যতার জন্ম দিয়েছিল প্রতিটি দেশের মানব চিন্তনে ।
এখন আমি আলোচনা করবো এই একবিংশ শতকে গোঁড়া রক্ষণশীল ইসলামের আঁতুড়ঘর সুদূর সৌদি আরবের সমাজ সভ্যতার চালচিত্রের নিদারুণ পট পরিবর্তনের ক্ষণিক ভাবনা কতটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন মুখি ।
ইসলামের জন্মস্থান সৌদি আরবের পতাকায় রয়েছে আল্লাহর একত্ববাদের বাণী কালেমা শাহাদাত ও একটি তরবারির ছবি। সৌদি আরবের পতাকা এবং জাতীয় সংগীতে কিছু পরিবর্তনের গুঞ্জণ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্প্রতি দেশটির শূরা কাউন্সিল পতাকার প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো রাজকীয় ডিক্রির একটি খসড়া সংশোধনী অনুমোদনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। মজলিশে শূরার সদস্য সাআদ আল-উতাইবির প্রস্তাবের পর এতে অন্য সদস্যরা সম্মতি দেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, শূরার নিরাপত্তা ও সামরিক বিষয়ক কমিটির সম্মতির পর জাতীয় পতাকা, প্রতীক ও সংগীত সংস্কারের এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন এখন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
এপির খবরে বলা হয়, সৌদির শূরা কাউন্সিলের সম্মতিই যে কোনো আইন বাস্তবায়ন ও সংস্কারে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। সে হিসেবে বাদশাহ’র অনুমোদন এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ এর অংশ হিসেবে পতাকা ও সংগীত পরিবর্তন করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের স্থানীয় একটি দৈনিকের খবরে হয়, সংস্কারে জাতীয় পতাকা ও সংগীতে কি পরিবর্তন হবে তা জানানো হয়নি, তবে এগুলোর আইনে সংশোধন আনা হবে। আইনে কী ধরনের সংশোধন আসতে পারে সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু জানায়নি পত্রিকাটি। তবে পতাকার প্রয়োজনীয় সম্মান এবং কালেমাখচিত পতাকাকে অবহেলা ও অনিচ্ছাকৃতভাবে পড়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষার জন্যই এই আইন হতে পারে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে। পতাকা অবমাননার অভিযোগ চার বাংলাদেশিকে গ্রেফতারও করেছে সৌদি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে সৌদি পতাকাকে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল ইসলামী দেশ হিসেবেই পরিচিত সৌদি আরব। কিন্তু হাজার হাজার বছরের সেই ঐতিহ্য থেকে ক্রমেই বেরিয়ে আসছে দেশটি। এক্ষেত্রে একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদির আদি ইসলামী ঐতিহ্যকে ‘কট্টরপন্থা’ আখ্যা দিয়েছেন। বিপরীতে দেশে ‘মধ্যপন্থী ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন তিনি। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘মধ্যপন্থা’র নামে তিনি আসলে পশ্চিমা ভাবধারা ও সংস্কৃতিকেই আমদানি করছেন। বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এখন নামেমাত্র সৌদি শাসক। প্রকৃত শাসন ক্ষমতা মোহাম্মদের হাতেই। ২০১৭ সালে ছেলেকে ক্রাউন প্রিন্স বা যুবরাজ ঘোষণা করেন বাদশাহ। সরিয়ে দেন ভাতিজাকে। ভবিষ্যৎ বাদশাহির পথ সুগম হওয়ায় পর্দার আড়াল থেকে সামনে চলে আসেন প্রিন্স সালমান।
প্রসঙ্গক্রমে মনে রাখা প্রয়োজন যে আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও সৌদি আরবে নারীর ভোটাধিকার অনেক পরে শুরু হয়েছে । অধুনা বাংলাদেশের বহু সমালোচিত ও নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তাঁর "নারীর কোনো দেশ নেই" গ্রন্থের "পুরুষের বেলায় অধিকার আর নারীর বেলায় দায়িত্ব" অধ্যায়ে বলেছেন - পুরুষেরা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে যে মর্যাদা পায় , নারীরা তা পায় না । পায় না , কিন্তু পাওয়া উচিত । এটি নতুন কোনও কথা নয় , সমতায় এবং সততায় বিশ্বাস করা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বহুকাল ধরে বলছেন এ কথা । মুঠো মুঠো ইতিহাস তুলে , তত্ত্ব তথ্য - দর্শন বর্ষণ করে তাঁরা দেখিয়েছেন একসময় নারীর অবস্থা কোথায় ছিল , বিবর্তনে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে , এবং কতটা পথ এখনও বাকি আছে বুড়ি ছুঁতে ।
মেয়েদের কি কেবল এই তৃতীয় বিশ্বই ঠকাচ্ছে ! প্রথম বিশ্বেও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কোনও ধারণা ছিল না মেয়েরা মায়ের জাতের বাইরেও একটি জাত , সে জাতের নাম মানুষ - জাত । মেয়েরা চিরকালই নগণ্য হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে , নাগরিক হিসেবে নয় । নাগরিক শব্দটির উৎপত্তি নগর থেকে । একসময় এক একটি নগরই ছিল এক একটি রাষ্ট্র । ভূমধ্যসাগরের কিনারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পনেরোশ নগরই , প্ল্যাটো মজা করে বলতেন ‘ পুকুরের চারধারে ব্যাঙের মতো ’ , ছিল সেকালের গ্রীস । গ্রীসে , আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে প্রথম যেখানে গণতন্ত্র চালু হয়েছিল , সেই গণতন্ত্রে নাগরিকের মর্যাদা পেত যারা সরকার চালাতো , রাজনীতির জ্ঞান ছড়াতো , তারাই , হাতে গোনা কিছু গণ্যমান্য লোক । নাগরিকত্ব পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকতো বাচ্চাকাচ্চা , নারী আর ক্রীতদাস - দাসী ।
নাগরিকত্ব , নাগরিক অধিকার এসব ধারণার ধীরে ধীরে উত্তরণ হতে থাকে । রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয় , আরও গভীর হয় নাগরিকত্বের বোধ । সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য এটির প্রয়োজন ছিল । নাগরিক নীতিবোধ গড়ে তুলে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষায় প্রতিশ্রুত হওয়া , স্ব স্ব কর্মে , শ্রমে , শৃঙ্খলায় , দেশাত্ববোধে - প্রেমে নিজেকে উৎসর্গ করা ছিল নাগরিক হওয়ার শর্ত । সাম্রাজ্যের সকলেই নাগরিকত্ব পেয়ে গেল । এটি কেবল মুখের কথা হয়ে রইল না , রীতিমত আইনী প্রতিষ্ঠা পেল । চমৎকার ব্যাপার । কিন্তু নাগরিক হওয়া থেকে বঞ্চিত এই রোমান সাম্রাজ্যেও রয়ে গেল দুটো জাত ( ! ) , নারীজাত আর নিচুজাত ।
ষোড়শ শতাব্দী থেকে এক পক্ষের কাঁধের দায়িত্ব অপরপক্ষের কাঁধেও কিছু গড়িয়ে গেল । নাগরিককে একগাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পালন করার জন্য , কিন্তু নাগরিকের জন্য রাষ্ট্রের কি কোনও দায়িত্ব নেই ? নিশ্চয়ই থাকা উচিত , এখন থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল নাগরিকের শারীরিক , পারিবারিক , বৈষয়িক নিরাপত্তা বিধান করা । রাষ্ট্রের দায় দায়িত্ব এবং নাগরিকের অধিকার বিষয়ে ফরাসি দার্শনিকদের চিন্তাভাবনা সাধারণ জনগোষ্ঠীতে এমনই প্রভাব ফেলেছিল যে ফরাসি বিপ্লবের মতো বিস্ময়কর ঘটনাও একদিন ঘটে গেল । লেখা হয়ে গেল মানুষের অধিকারের আইন । ওদিকে আমেরিকার মতো নতুন দেশেও পরিবর্তনের জোয়ার উঠেছে । স্বাধীনতা আন্দোলন ঘটেছে , গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে , সমানাধিকারের সংবিধানও রচিত হয়ে গেছে , গেছে বটে , কিন্তু ক্রীতদাস প্রথা , সাম্রাজ্যবাদ , উপনিবেশবাদ , পুরুষতন্ত্র সবই বহাল তবিয়তেই বিরাজ করছে তখন , যেসব প্রথায় , বাদে , তন্ত্রে কালো মানুষ , দরিদ্র আর নারীর কোনও অধিকার স্বীকার করা হয়নি । ,
পুরুষেরা এইভাবে বিশ্ব জুড়ে নিজেদের অধিকারকে ‘ মানুষের অধিকার ' বলে ঘোষণা করেছে । কোনও বিপ্লবই কোনও সংবিধানই কোনও আইনই নারীর পক্ষে কোনও ঢুঁ শব্দ করেনি । নারীকে আদৌ মানুষ ভাবার মন বড় বড় বরেণ্য বিপ্লবী বুদ্ধিজীবীরও ছিল না । পুরুষের জন্য ‘ অধিকার ’ এর ব্যবস্থা হয়েছে , পুরুষের কথা বলার , ভোট দেবার , ভোটে দাঁড়াবার , ভাবার , স্বাধীনতা পাবার অধিকার । নারীর জন্য হয়েছে দায়িত্বের ব্যবস্থা । ঘরসংসার সামলানো , পুরুষকে সুখ স্বস্তি দেওয়া , সন্তান উৎপাদন করা , সন্তানাদি লালন পালন করার ‘ দায়িত্ব ’ । এক শতক দুই শতক করে সময় পার হচ্ছে , নারীকে যে কুয়োতে ফেলে রাখা হয়েছিল , সে কুয়োতেই আছে , ওদিকে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে তথাকথিত গণতন্ত্রের চমক বাড়ছে , রংঢং বাড়ছে , স্বাধীনতা এবং অধিকার পুরুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে । তবু কী আশ্চর্য , নারীর অধিকারের কথা কোনও পুরুষ বা মহাপুরুষ উচ্চারণ করছেন না । দুএকজন বলেছেন বটে , কিন্তু নারীকেই দাঁড়াতে হয়েছে শেষ অবধি , রক্ত ঝরিয়ে নারীকেই লড়তে হয়েছে নিজের অধিকার আদায় করতে । ভোটের অধিকারের জন্য দীর্ঘ বছর ধরে আন্দোলন করে তবেই সফল হয়েছে পশ্চিমের নারীরা । কিন্তু পশ্চিমের নারীর সফলতার অর্থ কিন্তু ব্যাপক অর্থে নারীর সফল হওয়া নয় । এই একবিংশ শতাব্দীতেও পৃথিবীর অনেক দেশেই নারীর ভোটের অধিকার নেই । নারী এখনও রাজনীতি অর্থনীতি , শিক্ষা স্বাস্থ্য সর্বক্ষেত্রে ভয়ংকর বৈষম্যের শিকার । নিজের প্রাপ্য অধিকার থেকে অন্যায় ভাবে বঞ্চিত ।"
২০১৫ সালে সৌদির শরিয়া কাউন্সিল সূত্রে গালফ নিউজ জানিয়েছে, এবার থেকে নির্বাচনে প্রার্থীও হতে পারবেন নারীরা।দেশটিতে ভোটার হিসেবে গত ২২ আগস্ট থেকে নারীদের নিবন্ধনের কাজও শুরু হয়েছে। এই কাজ চলবে ২১ দিন ধরে। মক্কা ও মদিনায় নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে আরো ছয় দিন আগে। আর আগামী ৩০ আগস্ট থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করতে পারবেন নারী প্রার্থীরা।সৌদি গেজেট জানায়, রোববার মক্কা ও মদিনায় যে দুজন নারী প্রথম ভোটার হয়েছেন তাঁরা হলেন- সানিফাজ আবু আল শামাত (মক্কা) এবং জামাল আল সাদি (মদিনা)। তাঁরা দুজন সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রথম ভোটার। মক্কার বাসিন্দা আল শামাত জানান, তিনি স্থির করেছেন, দেশটির ভোটকেন্দ্রে তিনিই প্রথম প্রবেশ করবেন।এদিকে আল-জাজিরা এক খবরে জানিয়েছে, এবারের পৌরসভা নির্বাচনে প্রায় ৭০ জন নারী প্রার্থী লড়বেন। নির্বাচনী প্রচারণায় পরিচালক হিসেবে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ৮০ জন নারীর।
রয়টার্সের খবরে ঘটনাটিকে সৌদি সমাজব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।গালফ নিউজ জানায়, এ বছরের ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সৌদি আরবের পৌরসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন এবং প্রার্থী হবেন সৌদি নারীরা। গালফ নিউজ আরো জানায়, সৌদি আরবের প্রয়াত বাদশা আবদুল্লাহর নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটিতে ভোটাধিকার পাচ্ছেন নারীরা। ২০১১ সালে প্রথম সৌদি আরবের রাজার তরফ থেকে মহিলাদের ভোটাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সৌদি আরবের রাজনীতি ও সমাজে মেয়েদের চূড়ান্ত বৈষম্য নিয়ে অনলাইনে নিন্দার ঝড় ওঠায় সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সময় সৌদি আরবের রাজা আবদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘শরিয়ত মতে যদি বাধা না থাকে, তাহলে কোনোভাবেই মহিলাদের আমরা সমাজে কোণঠাসা করে রাখতে পারি না।’
তবে শরিয়া কাউন্সিল সূত্রে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী এ পত্রিকা জানায়, সৌদি আরবে রাজতন্ত্র থাকায় রাজনৈতিক দল গঠনের কোনো সুযোগ পাবে না কেউ। তবে রাজতন্ত্রের অধীনে স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনায় এখন থেকে অংশ নিতে পারবেন নারীরা। যে কারণে নারীদের ভোটাধিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা রাজনৈতিক অধিকার বলা হচ্ছে না। তবে রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারীদের এই অন্তর্ভুক্তি সৌদির নারীদের অধিকার আদায়ের পথে হাঁটতে শেখাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কারেন মিডেলটন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সৌদি আরবে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার পথে একে একটি ক্ষুদ্র অর্জন বলে মন্তব্য করেন। সৌদি সমাজে নারীদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের এখানে গাড়ি চালানোর অধিকার নেই। ভ্রমণে, আর্থিক কাজে অথবা উচ্চ শিক্ষায়, অথবা বিবাহের ক্ষেত্রে এখনো তাদের পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হয়। সেজন্যই অধুনা বাংলাদেশের বহু সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তাঁর "নারীর কোনো দেশ নেই" গ্রন্থে বলেছেন- " আমি বিশ্বাস করি নারীর কোন দেশ নেই। দেশ মানে যদি নিরাপত্তা, দেশ মানে যদি স্বাধীনতা ,তবে নারীর নিশ্চয়ই কোনও দেশ নেই। পৃথিবীর কোথাও নারী স্বাধীন নয় ,পৃথিবীর কোথাও নারীর নিরাপত্তা নেই । "
সমাজ ও সংস্কৃতির ‘আধুনিকায়নে’ ভিশন-২০৩০ ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সেই লক্ষ্যেই ইতিমধ্যে বহু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। গাড়ি চালানো, হলে গিয়ে সিনেমা ও মাঠে গিয়ে খেলা দেখা এমনকি অভিভাবক ছাড়াই নারীদের হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বলাবাহুল্য যে ইসলাম ( হিন্দু ধর্ম ও ব্যতিক্রম নয় ) নারীর স্বাধীনতা কীভাবে শোষন করে তা আমরা তিন তালাক, পর্দা প্রথা ইত্যাদি নানান কুপ্রথা থেকে জানতে পারি । সেখানে দাঁড়িয়ে ইসলামের আঁতুড়ঘর সৌদির বুকে নারীর এহেন স্বাধীনতা যেনো "সাগরে শিশির বিন্দু" । ইতিহাসের ছাত্র হয়ে আমি যখন সুলতানা রাজিয়া কে পড়েছিলাম তখন হাস্যকর লেগেছিল ইসলামের বিবিধ ভন্ড নিয়ম শুনে । তখন মনে নানান প্রশ্নের উদয় হয়েছিল । যেমন ধরুন - 1> পর্দা প্রথা যদি নারীর জন্য আল্লাহ্র আদেশ দিয়ে গেছেন তবে রাজিয়া যখন পর্দা ছাড়া দরবারে প্রবেশ করতো তখন দরবারের অভিজাতরা তাকে প্রতিরোধ করার পরিবর্তে সাদরে সম্মান জানাতেন তবে কী রাজিয়া নারী ছিল না ? 2> শুধু পর্দা প্রথার অবমাননা নয় রাজিয়া পুরুষের সাজসজ্জাতে যুদ্ধ করতেন এবং দরবারের রাজনীতিতে তিনি পুরুষের সাজসজ্জাতেই অংশগ্রহণ করতেন। ইসলামের রক্ষক স্বয়ং ধর্ম গুরু খলিফা রাজিয়া রাজিয়ার এহেন কর্ম কান্ডের প্রতিবাদ না করে তিনি স্বয়ং রাজিয়াকে "সুলতানা" অভিধাতে অভিহিত করিয়াছেন । সঙ্গত কারনেই মনে প্রশ্ন ওঠে যে পর্দাপ্রথা যদি ইসলামে নারীদের জন্য বাধ্যবাধকতা মূলক হয়ে থাকে তবে ধর্মগুরু খলিফার স্বয়ং রাজিয়াকে কেন প্রতিরোধ করলো না, তার পরিবর্তে তিনি কেন রাজিয়াকে সুলতানা অভিধায় অভিহিত করল ?
এর পিছনেও খলিফার নিজের একটি ব্যক্তি স্বার্থ ছিল । পিতা ইলতুৎমিসের মতো তিনি ও নিজের কর্তৃত্ব কে যখন বৈধ্য রুপ দিতে খলিফার কাছে রাজদূত পাঠান এবং বলেন - "ধর্মগুরু যদি রাজিয়া কে সুলতানি সাম্রাজ্যের শাসক দলের স্বীকৃতি দেয় তবে রাজিয়া নিজেও সাম্রাজ্যের প্রচলিত মুদ্রায় নিজেকে খলিফার প্রতিনিধি হিসেবে জাহির করবেন। এতএব শাসন করবেন রাজিয়া কিন্ত তাকে পরিচালনা করবেন খলিফা "। খলিফা দেখল যে রাজিয়া নামমাত্র শাসক, রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আসল অধিকারী হলেন খলিফা স্বয়ং ।কারন এর আগে ইলতুৎমিস এসে খলিফার অনুমোদন নিয়েছিল কারণ খলিফা হলো ইসলামের রক্ষক এতএব খলিফা যদি কাউকে শাসক রুপে অনুমোদন দেয় তবে সমগ্র ইসলাম জগৎ কে তা মেনে চলতে হবে । খলিফার কর্তৃত্ব ইসলামিক জগতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা খলিফা উপলব্ধি করেছিলেন । খলিফা তার ঠুন্কো রাজনৈতিক কর্তৃত্বের সুবাদে অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব ও সমাজে নিজের ভাবমূর্তি কে সুদৃঢ় করতে তৎপর ছিলেন তাই হয়তো দাসেরও দাস ( মোহাম্মদ ঘুরির দাস হলেন কুতুবউদ্দিন আইবক এবং কুতুবুদ্দিন আইবকের দাস হলেন ইলতুৎমিস ) ইলতুৎমিস ও তার কন্যার রাজিয়াকে বৈধ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল । এই ধর্মগুরু কর্তৃক বৈধ্যতা দানের নজির শুধু সুলতানি যুগে বা ইসলামের মধ্যে নয় এই প্রথা আমরা দেখতে পাই ইউরোপের খ্রিস্টান জগতেও, যখন রোমানদের চোখে বর্বর জাতি ফ্রাঙ্ক জাতি গোষ্ঠীর অন্তর্গত শার্লামেন নিজের যুদ্ধ প্রতিভা দ্বারা রোমান সাম্রাজ্যের উপর নিজের আধিপত্য কায়েম করলেন তখন শার্লামেন উপলব্ধি করেছিলেন যে, তিনি শুধুমাত্র রোমান ভূখণ্ড দখল করেছেন । রোমান জাতিগোষ্ঠী গুলি এখনো তাকে বর্বর বলে মনে করে অতএব শার্লামেন কে তখনই রোমান সমাজের মানুষ তাদের শাসক বলে মেনে নেবে যখন তাকে পোপ বৈধ বলে স্বীকৃতি দেবে । শার্লামেন পোপের কাছে দূত পাঠায় এবং বলেন যে পোপ যদি তাকে স্বীকৃতি দেয় তবে তিনি পোপের প্রতিনিধি হিসাবে শাসন করবেন । পোপ তৃতীয় লিও ৮০০ খ্রিঃ ২৫ শে ডিসেম্বর রোম নগরে শার্লামেনকে ইমপেরাতোর আউগুস্তুস হিসেবে অভিষিক্ত করেন । ৮১২ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব রোমান সম্রাট শার্লামেন কে পোপ কর্তৃক পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট হিসেবে স্বীকৃতি দান একটি অখন্ড রোমান সাম্রাজ্যের ধারণার পরিবর্তে ইউরোপ মহাদেশের দুটি সাম্রাজ্যবাদ বা সভ্যতার বিকাশকে সুনিশ্চিত করে। এতএব সঙ্গত কারণেই দেখা যাচ্ছে যে প্রতিটা ধর্মের ধর্মগুরুরা নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নারী পুরুষ উভয়কেই স্বাধীনতা দিয়েছে । যেমনটা রাজিয়া পেয়েছে । আর এখনকার খলিফা এখনকার মোল্লা মৌলবীরা নারী সমাজের কাছে কোনো মুনাফা পাইনা বলে তাদের কে পর্দা নামক কূপ্রথাতে আবদ্ধ করে রেখেছে । সেখানে দাঁড়িয়ে ইসলামের আঁতুড়ঘর সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উদ্যোগে ওই দেশের সরকার নারীদের যেটুকু স্বাধীনতা ( গাড়ি চালানো, হলে গিয়ে সিনেমা ও মাঠে গিয়ে খেলা দেখা এমনকি অভিভাবক ছাড়াই নারীদের হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।) দিয়েছে তা যেনো - "গগণ ভেদিয়া অতল সাগরের বুকে একফোঁটা শিশির বিন্দুর বারি বর্ষণ " । কারণ এই আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও মগরাহাট মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র মিজান ফকির তার এক কবিতায় নারীর স্বাধীনতা নিয়ে ঠিক এইভাবে প্রশ্ন তুলেছেন -
" যে নারী বিকিয়েছে তার লজ্জা ,
মুক্ত দেহকে করেছে যে ফ্যাসান ।
তাকেই বা কে দিলো এত স্বাধীনতা ? "
আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে নারী স্বাধীনতার উপর এহেন নিষ্ঠুর প্রশ্ন যেনো স্বাধীন ভারতে নারী কে পরাধীনতায় নিমজ্জিত করেছে । বলা বাহুল্য যে ইসলামের মধ্যে যে মধ্যযুগীয় অন্ধকার চেতনা নিমজ্জিত তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মিজান ফকিরের এই লেখনী । সেখানে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উদ্যোগ সত্যিই যেনো "গগণ ভেদিয়া অতল সাগরের বুকে একফোঁটা শিশির বিন্দুর বারি বর্ষণ " ।
যাই হোক যে পরিকল্পনা নিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অগ্রসর হয়েছিলেন অর্থাৎ সৌদির জাতীয় পতাকাতে পট পরিবর্তন করা সেইখানে ফিরে আসি , আজ অর্থাৎ 7/02/2022 তারিখে আন্তর্জাতিক ডেস্ক থেকে জানা যায় - পরিবর্তন আসছে না সৌদি আরবের পতাকা ও জাতীয় সংগীতে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। গত সোমবার সৌদির শুরা কাউন্সিল দেশের পতাকার প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো রাজকীয় ডিক্রির একটি খসড়া সংশোধনী অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেয়। এতে দেশটির পতাকা, প্রতীক এবং পতাকার বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়। সাআদ আল-উতাইবি এ প্রস্তাব উত্থাপনের পর অন্যান্য সদস্যরাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।সৌদির শুরা কাউন্সিলও একটি খসড়া সংশোধনীতে অনুমোদন দেয়। কিন্তু সেটি বাস্তবায়িত হবে না। গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পতাকা-জাতীয় সংগীতে পরিবর্তন না আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির শুরা কাউন্সিল।এতে আরো বলা হয়, সাআদ আল-উতাইবি নামে মজলিশে শুরার এক সদস্য সৌদির পতাকা ও জাতীয় সংগীতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেন। এখন তিনিই বলছেন, সংশোধনীর লক্ষ্য ছিল পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীতকে ক্ষতি, বিকৃত এবং পরিবর্তন থেকে রক্ষা করা।
সৌদি মালিকানাধীন সম্প্রচার মাধ্যমে আল আরাবিয়াকে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বিধিমালায় পতাকা উত্তোলনের স্থান ও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবর্তন না আনলেও সংশোধনীতে জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের অবমাননা রোধে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।সৌদি আরবের শাসনের মৌলিক আইন ৫০ বছর আগে চালু হলেও এতে জাতীয় সঙ্গীতের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে এখন প্রবিধান যুক্ত করা হয়েছে। সাআদ আল-উতাইবি বলেন, প্রবিধান, পতাকার আকৃতি এবং আকার নির্দিষ্ট করে দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো- অনুমতি পাওয়ার পর যাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার অধিকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর থাকে এবং সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পতাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রবিধান মেনে চলতে পারে। নতুন সংশোধনীতে জাতীয় পতাকা বা অন্য কোনো সৌদি প্রতীকের অবমাননা করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা তিন হাজার সৌদি রিয়েল পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রেখেছে সৌদি আরবের পাবলিক প্রসিকিউশন । বলা বাহুল্য যে এই একবিংশ শতাব্দীতে হঠাৎ করে আধুনিকরণের যে ঢেউ রক্ষণশীল সৌদির বুকে এসে পড়েছিল সে ঢেউ এর উপর লক্ষ করে কামান দাগালো গোঁড়া রক্ষণশীল ইসলাম ধর্ম এবং ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আধুনিকরণের প্রথম প্রয়াস এবং পূর্বের রক্ষণশীল অবস্থাতেই ফিরে গেলো আরব দুনিয়ার চালচিত্র ।
তথ্যসূত্র
--------------
1> যুগান্তর ডেস্ক , পরিবর্তন আসছে সৌদির পতাকা ও জাতীয় সংগীতে ( ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৩৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ)
2> n TV online, ভোটাধিকার পেলেন সৌদি আরবের নারীরা (অনলাইন ডেস্ক ২৪ আগস্ট, ২০১৫, ২১:৫৪)
3> আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ( অনলাইন ) বদলাচ্ছে না সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা-সংগীত ।
4> "নারীর কোনো দেশ নেই" , লেখিকা তসলিমা নাসরিন ।
5> আমার মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র মিজান ফকিরের এক কবিতার অংশ । ( কবিতার লাইন টি মিজান ফকিরের ফেসবুক A/C থেকে গৃহীত )