রিচ ডাউন

                ✍️গোপাল দে

কবিতাদের ছুটি দিয়েছি আজ বহুদিন,
কবির সেই পূর্ণিমার চাঁদ আর ঝলসানো রুটির মতোই
কবিতা আজ নিষ্প্রভ,নিশ্চুপ।
শুধু রাতের আঁধারে এসে উঁকি দিয়ে যায়
অজানা কিছু অন্তহীন গল্প,
যে গল্পে ফুটে ওঠে
কিছু নীরব যন্ত্রণা,হতাশা আর
রুদ্ধকন্ঠের কিছু চাপা প্রতিবাদ।
দুমড়ে মুচড়ে যায় যত আবেগ,যন্ত্রণা,
গভীর হয় সব ক্ষত।
কবিতাদের সঙ্গে সেই নিত্য যুদ্ধে
পরাজিত হয় বারবার
এক অর্ধভগ্ন কলম।

                   

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই



            ✍️সুপর্ণা মজুমদার রায় 

যুগের পর যুগাম্তর সারি বেঁধে চলে যায়, 
যুদ্ধ কথাটি সজীব রয়ে যায়। 
কতো নামে কতো যুদ্ধ! 
যুদ্ধ তো যুদ্ধই বটে। 
শরীরের সাথে শরীরের যুদ্ধ, 
মনের সাথে মনের যুদ্ধ, 
রাজার সাথে রাজার যুদ্ধ, 
শূদ্র জাগরণের যুদ্ধ, 
দেশের মাটি ভাগের যুদ্ধ, জল ভাগের যুদ্ধ, 
মুক্তির যুদ্ধ, ভাষার যুদ্ধ। 
ছাওনির ঘরে জীবন যুদ্ধ। 
ধর্মের সাথে অধর্মের যুদ্ধ 
ভালোর সাথে মন্দের যুদ্ধ। 
ভালোবাসাকে শেষ বিন্দু দিয়ে  জিইয়ে রাখার অদম্য প্রচেষ্টা, 
সেও এক চরম মতদ্বৈধতার যুদ্ধ। 
সুখতলা খুঁয়ে নিজের ছায়ার সাথে যুদ্ধ। 
যুগের পর যুগ যুদ্ধের সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকে তার ক্ষত চিহ্ন আর বিষন্নতা। 
যুদ্ধ কখনো অবসরে যায় না। 
মৃত্যুঞ্জয়ী যুদ্ধের কোনো মৃত্যু নেই। 
" যুদ্ধ নয়,শান্তি চাই ", প্রতিটি যুদ্ধের অবসানে স্লোগানটা এক গালভরা মিথ্যা বিলাপের  দুন্দুভি  । 

ভালোবাসা



   
              ✍️সাগরিকা মজুমদার। 

তোমার হাতটা না ধরলে ,
হয়তো জানতাম না ভালোবাসা কি...
তোমার চোখে চোখ না রাখলে,
হয়তো বুঝতাম না ভালোবাসা কি...
তোমায় সামনে থেকে না দেখলে, 
হয়তো অনুভব করতাম না ভালোবাসা কি...
আসলে তোমার মনে মন রেখেছিলাম বলে
আমার নতুন অধ্যায়টি সুন্দর ছিল। 

ভয়ে রাস্তা পার হতে পারিনি, 
তুমিই তো পার করে দিয়েছিলে;
তুমি আমার সাহস, তুমি আমার ভয়—
হারিয়ে যাবে না তো কখনো? 

তুমি আমার অন্ধের যষ্টি,
তুমি ছাড়া কি আমি থাকিতে পারি!

পাগলী


             

                  ✍️বিজয়া শর্মা

চোখ করে জল জল,
হেসেই চলে খল খল।
বললে পাগলী কয় না কথা,
বুঝে ঠিকিই মনের ব্যথা।
কে জানে কি সুখ পায়,
ধুলি মেখে নিজ গায়।
রূপে ভরা যৌবন তার,
পাগলী বলার সাধ্য কার?
ঘুরে বেড়ায় পথে হাটে,
আলো করে রূপের ঘাটে।
সুখে দুঃখে কেবল হাসি,
কেউ বলেনা ভালো বাসি।

সুমলি


                 ✍️চন্দন পাল

সুমলি তোমার মিষ্টি নাম,  দামড়া পাহাড়ে খুললে চোখ, 
বড়মুড়া কোলে লম্ফ ঝম্প,  ত্রিপুরা তটিনীর কনিষ্ঠা মুখ।

'তুইসামা' জোরে ঋতুর শোভা,  ফুলে ফলে ভোঁমরা বাহার!
শিস্ দিয়ে যায় ডাহুক টিয়া,  'বড়কাঁঠাল' জোরে মাছের সাঁতার। 

ছিপ, আন্তায় খোকন ঘুরে,  তিতির ডাকে টিট্টির টি,
আকাশ ফুঁড়ে ছোঁ মেরে যায়  তোমার জলে মাছরাঙাটি।

মোহনপুরে মিহি মাটির শোভা, সোনার ফসল দু'পারে দুলে,
বিদেশ গিয়ে মিষ্টি সুমলি,  সোনাই নামে তিতাসে মিশে।

দুমুটো অন্নের জন‍্য"


           

              ✍️জনার্দন

একটা অন্তবিহীন পথ,
যে পথ খুঁজে বেড়ায় ;
সহস্র আলোকবর্ষের মায়ারেখা।

আমি শুধু কিনারা খুঁজে যাই।

অথৈ জল;
হাবুডুবু খাচ্ছে গেরুয়া সন্ন‍্যাসীরা।

চারদিকে শুধু কৃত্রিম ভালোবাসা;
রাতের জোনাকিরাও খুঁজে যায়,
পায় না কোনো আশ্রয়।

সন্ধ‍্যা ঘনিয়ে এলো,
জীবন নামে যে নৌকাটা এখনো চলছে;
তাও বোধহয় থেমে যাবে।

রাতের পরীরা 
এখন দিবসেও উঁকি দিচ্ছে,
এদিক-ওদিক।

অপরাজিতার বেশে ডাক দিচ্ছে;
এই যে বাবুমশাই, 
আমাদের তো চাই, 
দুমুটো অন্নের জন‍্য 
একটু সহযোগিতা চাই।

এই ভিড়ের মাঝে
আমাদের ঠেলে দিও না,
ক্ষুদার রাজ‍্যে;
আমাদের নাও,
ভাসিয়ে দিও
স্রোতের মাঝে, প্রেমের সাগরে।

নির্জন দ্বীপ


           
                   ✍️শুভ্রা দেব

হালকা বাতাস....... 
এলোমেলো চুল, 
ইশারায়  অদ্ভুত শিহরণ;


নিশ্বাসে নামে ঢেউ
কূল ভাঙে, কূল গড়ে; 
 

এপার ওপার বসতি নদীর
অবিচ্ছেদ্য হৃদপিণ্ডে
আঁচড় কাটে......
নির্জন দ্বীপে রাতপাখির গোপন অভিসার।

মুহূর্ত

   
                ✍️ অন্তরা ভট্ট

যা কিছুই চেষ্টা করি না কেন
বার বার মুছে ফেলার 
তা আবারো ঝাপসা হয়ে ফুটে উঠে 
কালো ফলকে।
খনিকের জন্য চোখের কোণ জলসে উঠে 
ভরাডুবি হতে থাকে কিছু সময়।
মনের গহীনে জেগে উঠে বিশেষ আলাপ।
খুঁজে বেড়াই কিছু শান্ত সময়ের
নিজের সাথে কথা বলার। 
হয়তো নাও পেতে পারি সেই মুহূর্ত 
নেই তো মানা ভাবার। 

                              

মানুষ খুঁজে ফিরি"


         
            ✍️দীপক রঞ্জন কর।
মানুষ খুঁজে ফিরি আমি
হাজার মানুষের ভিড়ে, 
মানুষের ভিড়ে রয়েছে অ-মানুষ
মানুষ চিনবো কি করে ?

জন্তু জানোয়ার সহজে চিনি
মানুষ চেনা কষ্ট ভারী,
মানুষ চেহারায় অ-মানুষ রয়েছে
মানুষেরই মুখোশধারী।

শত্রুকে আমি করি না ভয়
শত্রুর মুকাবেলা করতে যাই,
বন্ধুর বেশে শত্রু যারা
তাদের এড়িয়ে চলতে চাই।

মানুষ সর্বদা মানুষের জন্য
সাহিত্যে জ্ঞানী গুণীদের কথা,
মানুষ হতে অমানুষের আচরণে
তখনই পাই চরম ব্যথা ।

নুডলসের গপ্পো (৫ম পর্ব)

                 
                   ✍️রাজা দেবরায় 


গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম, একটি অতি জনপ্রিয় নুডলস্ কোম্পানি তাঁদের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দিয়েছে যে তাঁরা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট বা এমএসজি ব্যবহার করেননা। তার মানে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট যে ভালো সেটা বলা যায়না (যদিও তৃতীয় পর্বে আবার বলা হয়েছে, এটা যে খারাপ এরকম কোনও গবেষণায় বা পর্যালোচনায় পাওয়া যায়নি), তা না হলে এই অতি জনপ্রিয় কোম্পানি এটা লিখতেইবা যাবেন কেনো!

এবার তাহলে একটু পেছন দিকে তাকানো যাক। ১৯৬৮ সাল। নিউইয়র্কের রেস্তোরাঁয় ডাঃ রবার্ট কুয়ক্ (Robert Kwok) আর পাঁচদিনের মতোই কাঁটায় জড়াচ্ছিলেন নুডলস্। হঠাৎ অনুভব করলেন হাতটা কেমন যেন অবশ হয়ে আসছে। পরে এই অবশ অনুভূতিটা হাত ছাড়িয়ে ঘাড়ে এবং সেখান থেকে শরীরের পেছনের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। সমস্ত শরীর জুড়ে একটা অবসন্ন ভাব। হৃদপিণ্ডের গতিটা হঠাৎ বেড়ে গেছে। তিনি কোনোক্রমে নিজের বাড়িতে ফিরে এলেন। আরও দুই ঘন্টা এরকম অবস্থা বজায় ছিলো, তারপর ধীরে ধীরে অস্বস্তি আর অবশ ভাবটা কমেছে।

পরে তিনি অনুসন্ধান করে জেনেছিলেন যে যাঁরা চাইনীজ খাবারের খুব ভক্ত, তাঁদের অনেকেরই এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে। এরপরই ব্যাপারটা নিয়ে আরও অনুসন্ধান শুরু হয় এবং তখনই জানা যায় যে এর পেছনে রয়েছে একটি বিশেষ রাসায়নিক, যাকে সংক্ষেপে বলে MSG অর্থাৎ Monosodium Glutamate।

(চলবে)

সত্যের পাঠ


                   
              ✍️সঙ্গীতা গুপ্ত

বাল্যশিক্ষায় পেলাম সত্যের পাঠ,
সত্যের অনুসরণে অতিক্রান্ত অনেকটা পথ,
সত্যের পথে একাকী পথিক আমি,
নিভৃতে সত্যের মুখোমুখি এসে বসি,
প্রশ্ন জাগে কতকাল হতে হবে মিথ্যার সম্মুখীন।
সত্য এক আশ্চর্য আনন্দময় অনুভূতি
নিয়ে যায় অচেনা এক পৃথিবীতে,
চোখ মেলে দেখি আকাশ,সূর্য,তারার আলোক সব সত্যি,
চারপাশে শুধু কিছু অনুভূতিহীন মুখোশধারী।
চাওয়া পাওয়ার হিসেবে গরমিল,
তবু সত্যই বেঁচে থাকার প্রকৃত রসদ,
সত্যের মুখোমুখি আমি
এখানে ই পরম তৃপ্তি।

মৃত্যু

           
           ✍️ সুস্মিতা সরকার

মৃত্যু, সে যে এসে গেছে আমার চৌকাঠে
আজ বহুবছর পর যে সাজব নতুন কাপড়,আলতা সিঁদুরে ।
লাগবে নতুন বৌ যে আমায় 
কাঁদবে ছেলে মেয়ে স্বামি আরাল করে মুখখানি ।
গর্বে যে আজ বুকফাটা 
সকলে আজ আসছে যে দেখতে আমায় ।
নাইকো প্রান এই দেহে   
ভাগ্যলক্ষী বলে কত লোক দিচ্ছে যে উপাধি । 
রাস্তায় আজ ভীড় করছে
নাম যে শুধু হরি ।
হরির নামে শেষ বিদায়ে 
দিচ্ছি আজ মহাশূন্যে পারি ।


কাঠগোলাপ


                 
                  ✍️পান্থ দাস

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর এই কাঠগোলাপ ফুল বর্তমানে ভারতে প্রায় বিলুপ্তির পথে। কিছু কিছু রাজ্যে সম পরিমানে বা মুলত গ্রাম ভারতে দেখা যায় এই মিষ্টি ফুল। 

হয়তো সবার জীবনের একটা সময়ে আমরা এই ফুল অবশ্যই কুড়িয়েছি। তার চমৎকার সুগন্ধে নিজেকে হারিয়েছি। অনেক স্মৃতির ছবিও এঁকেছি।

পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন নামে পরিচিত এই কাঠগোলাপ ফুল। যেমন গুলাচি, গোলাইচ, গোলকচাঁপা, চালতাগোলাপ, গরুড়চাঁপা ইত্যাদি। মুলত ৮ থেকে ১৫ মিটার লম্বা হয় এই ফুল গাছ।

কাঠগোলাপ ফুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, কোনো কোনো ফুল দুধের মতো সাদা, কোনোটি সাদা পাপড়ির উপর হলুদ দাগ, আবার কোনোটি লালচে গোলাপি রঙের। আবার সাদা রঙের কিছু ফুল দীর্ঘ মঞ্জরিদণ্ডের আগায় ঝুলে থাকে। গ্রীষ্ম এবং শরৎকালে গোলাপী, সাদা ও হলুদ রঙের শেডের সুগন্ধযুক্ত ফুলে শোভিত হয় এই ফুল। 

চমৎকার এই ফুলকে আমরাই পারি সংরক্ষণ করতে। ছোট ছোট টবে কাঠগোলাপ লাগিয়ে শহরাঞ্চলেও এই গাছকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ কিন্তু গ্রহণ করা যায়। প্রতিটা ছাদে, বালকনিতে, ঘরের কোনায় সৌন্দর্য বাড়াতে কিন্ত এই ফুল অনেক কার্যকর।

ভাবনা


               
              ✍️ চন্দ্রিমা বণিক
       
ভাবনা আমার রামধনু রঙ 
ক্ষুদ্র পরিসরে, 
প্রজাপতির পাখায় পাখায় 
বিশ্বটি জয় করে। 
বেগুনিতে অজানা অনন্ত 
নীলে আকাশ নীল,
আকাশিতে ঢেউ খেলে যায় 
সবুজ অন্তরেই।
হলুদ গাঁদায় বসন্ত গায় 
রঙিন বারোমাস
লাল কমলা কপাল চুমে
দিব্য প্রতিভাস।
রঙে রঙে রঙ বাহারি 
রাঙা আলোর দেশে, 
উষার আলো যেমন রাঙায় 
গোধূলিও সেই রেশে!
ভাবনা আমার প্রাণগুলো সব
ছায়ায় মায়ায় সাধা,
একই বৃত্তে ঘুরছে সবাই
ব্যাসার্ধ যার বাঁধা,
সাত রঙা ঐ রামধনু যদি 
রাঙত সবার মন
বিশ্বজোড়া খিলখিল রব
ভাসত অনুক্ষণ,
থাকতো না যে হিংসাদ্বেষ 
আর গরিব ধনীর ভেদ
অন্যায় মিথ্যা অবিচার আর
মনের যত খেদ।
সবার মাঝেই অবুঝ শিশু 
ঘুমায় সযতনে,
শিশু বোধেই নির্মল মন
খুশি অকারণে।