প্রকাশিত হল নবোন্মেষ পত্রিকার মার্চ মাসের বিশেষ সংখ্যা 'বইমেলা'
সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়......................................✍️
নবোন্মেষ পত্রিকা, ৩১ মার্চ ২০২৩ শনিবারঃ
আমাদের দৈনিক মনোযোগ চর্চা নানান ভাবে করে থাকি। গান শুনে-গান গেয়ে, ছবি এঁকে, একাকী প্রাকৃতিক শান্ত পরিবেশে এবং লেখালেখিতে। সব-কটির মেলা হয়ে থাকে মানুষের বাহ্যিক জগতে এবং মনের গভীরে। তেমনি সাহিত্য চর্চা আমাদের মনোজগতে প্রতিনিয়ত হচ্ছে, তারই বহিঃপ্রকাশ হল বইমেলা। বইমেলায় যে শুধু বই কেনাকাটা হয়না এমনটা নয়, সেখানে মনের মেলা এবং প্রাণের মেলাও হয়ে থাকে৷ কত নতুন কবির জন্ম হয় আর কত প্রবীণ কবির লেখনীর দর্পণ পরিষ্কার হয় তা বলা মুশকিল! আগরতলা বইমেলা ৪১ বছরের পুরোনো। প্রথম শুরু হয়েছিল আগরতলার শিশু উদ্যানে। আর সেই থেকে আজ এই প্রাণের মেলা পৌঁছিয়েছে হাঁপানিয়াতে এবং কবি-লেখকের সংখ্যাও অনেক উপরে পৌঁছেছে। আমরা আশাবাদী আরো যাতে আকাশছোঁয়া হয় আগরতলা বইমেলা। সবার জন্য শুভকামনা রইলো৷
ধন্যবাদান্তে
গৌরাঙ্গ সরকার (সম্পাদক, নবোন্মেষ)
শিবশংকর দেবনাথ( সহসম্পাদক, নবোন্মেষ)
স্বপ্ন
✍️ অন্তরা ভট্ট
অদম্য উদ্দম তার এগোয় বাঁধা ঠেলে
সহস্র বিপত্তি আর মানছে না
কোনো ভাবে।
ভিষণ ঝড়ের প্রখর বাঁধা
মানছে নাতো কেউ
ছোট্ট একটি কুঁড়ি পাতা
বদলে দিল ঢেউ।
গাছের ডালের শাখারা সব
নড়বড়ে হয়ে আছে
ভাবছে কবে ঝড়বে সে সব
শুস্ক পাতার ভারে।
আসবে নতুন কুঁড়ি
ফুটবে রঙিন ফুল
জুটবে অলি কুল।
রঙিন স্বপ্ন নিয়ে
বাঁচবে আবার মূল।
কালবিভ্রম
কালবিভ্রম
✍️জয়িতা দে
কোথায় আছে কালকেতু ও ফুল্লরা
কোথায় লখিন্দর বেহুলা,
আমাদের আঁকড়ে ধরা
অক্সিস্প্রের মতো
মুঠোফোনের রসধোয়া মুন্সিয়ানা,
তাই নিরুদ্দেশ ধনপতি- লহনা- খুল্লনা।
হারিয়েছে শ্রীমন্তের দেবীচন্ডীর
পূজাপ্রচার গাঁথা,
তবুও সব যেতে পারে বলা
সাথে নিয়ে আধুনিক কথা।
কোথায় আছে শীতলামঙ্গল
সে যে পারে না মেলাতে এখন
প্রাণের গভীরে কোনো সাঁকো?
সিলেবাসের দুপাতার অন্নদামঙ্গলে
হাঁসফাঁস ঈশ্বরী পাটনি
হারিয়েছে তার নৌকো।
চর্যাপদের শুকনো মুখ
ঠাঁই তার শুধু সাহিত্যের ইতিহাস,
এমনিই চলে যায় বছর-
জন্মাষ্টমীর ভোগে
পদাবলীর প্রকাশ।
হারিয়ে গেছে আঠেরো পুরাণ
যুগের স্রোতের তোড়ে,
চন্ডীপাঠের নাম শোনা যায়
মহালয়ার ভোরে।
পরিবর্তনই যুগের নিয়ম
তবে উৎসকে ভুলে নয়
ঐতিহ্য প্রগতির মিলনে হোক
নূতনের প্রকৃত জয়।
উড়ে চলে সময়
✍️অগ্রদীপ দত্ত
সূয্যি ডোবা আকাশে কান্ত দেহে পাখী ফিরে,
খড়কুটোয় তিলে তিলে গড়ে তোলা নীড়ে৷
দিনের সাথে লেনদেন রূপ রস শেষ করে,
মহা পৃথিবীর ধূসর কিংবা ম্লান দৃশ্য মনে ধরে,
নিজের ঠিকানায় চোখে ঘুম জমায়,
প্রভাতের ফুরফুরে পাখী দিন শেষে হিসেব মেটায়
নিজের সাথে,চার পাশের স্বার্থের দুনিয়ায়৷
ডানায় উড়ে উড়ে দেখে পৃথীবির গভীর বেদনা,
লোভ লালসা অহংকারী মানুষের উন্মদনা৷
নীরব দর্শক হয়ে,বাতাস চিড়ে চলে দূর দিগন্তে
পৃথিবীর শেষ সীমানায়,জীবনের শেষ প্রান্তে৷
অতীতের ক্ষয় ক্ষতি বিরহ বেদনা অবিরাম সত্যি,
ভবিষ্যতের স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষা বাসনা সবই শেষে মিথ্যে,
একদিন লাভ লোকসান হিসাব নিকাশের অঙ্কে সব শূন্য,
এই পৃথিবীর এলোমেলো পৃষ্ঠায় কালি দাগ অসম্পূর্ণ৷
জীবনের অন্তিম প্রভাতে নতুন প্রভাত হবে ব্যর্থ,
এই সত্য নিদারুন মনে বেয়ে চলা অনেক শক্ত৷
তাইতো পাখি উড়ে চলে মনের আনন্দে আজকে,
আনন্দ বেদনা সুখ দুঃখ হয়তো থাকবে না কালকে৷
ফিকে বসন্ত
✍️সুপর্ণা মজুমদার
সেই যে এক ষোড়শী মেয়ে
যে মেয়েটা ঘুঁটে কুড়ায়,
মরচে পড়া প্রেমের মাঝে
বসন্ত তার রঙটি হারায়।
দুঃখটা যার নিত্য সঙ্গী
নুন আনতে পান্তা ফুরায়
মধুমাসে তার দ্বারে কি
ভালোবাসা কড়া নাড়ায়?
ছুটতে ছুটতে যে ছেলেটার
সুখতলাটা খুইয়ে গেছে,
বেকার খাতায় নাম লিখালো
ভালোবাসাটা মরে গেছে।
পাশের পাড়ার ঐ মেয়েটা
যাকে নিয়ে স্বপ্ন বুনতো,
মধুমাসে তাকে নাকি
চুপিচুপি রং মাখাতো !!
এখন সেসব ভাঁজের পাতায়
গরীবি যাকে তাড়া করে!
বসন্তটা হারিয়ে গেছে
গা ছমছম অন্ধকারে ।
শহর যখন ডুবছে নেশায়
ঠোঁট লাগানো রঙীন খামে,
কিছু ফাগুন বিকিয়ে যায়
বস্তা পচা সস্তা দামে।
পথের ধূলোয় রং মাখিয়ে
যুদ্ধটাকে করছে বরণ,
বসন্তটা ফিকে তাদের
অনাহারে হচ্ছে মরন ।
স্বপ্ন তাদের দেখতে মানা
দুঃস্বপ্নে কাটছে রাত,
মনের আবীর হচ্ছে ধূসর
জীবনযুদ্ধে কপোকাত।
পাহাড় প্রমাণ ঋণের বোঝা
দায়ভার যার কাঁধে গেছে,
প্রেমটেম সব উবে গিয়ে
বসন্তটা ফিকেই আছে।
ভাষার ৭২তম বছর
✍️পান্থ দাস
বাংলা ভাষার একটি রাষ্ট্র গঠন করার জন্য বাংলাদেশে যে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম চলেছিলো, বাঙালিরা তার সূচনা করেছিলো ১৯৪৮ সাল থেকে, কিন্তু এই সংগ্রাম প্রচন্ড তেজী হয়ে উঠেছিল ১৯৫২ সালে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে । যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালিরা রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়ে আত্মবলিদান করেছিলেন । সেই আত্মবলিদানের এবছর ৭২ তম বর্ষ ।
বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে ২১শে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশ নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করেন। অনেক তরুণ প্রাণ শহীদ হন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকত সহ আরো অনেক। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বিশ্ব বাসির কাছে একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।
সেই ঐতিহাসিক বিখ্যাত ঢাকার শহীদ মিনার চাক্ষুষ করতে বেড়িয়ে গেলাম। এলার্মের আগেই চোখটা খুলে গেল। চটপট তৈরি হয়ে ঐতিহাসিক কিছু স্মৃতি মনে গাঁথবো বলে ভোর সকালেই বেরিয়ে গেলাম হোটেল থেকে।
বাংলাদেশের বিখ্যাত শহীদ মিনার চত্বরটা ঘুরে আসার ইচ্ছা অনেকদিন ধরেই ছিলো।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ। এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বহিঃপ্রাঙ্গণে অবস্থিত। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে এখানে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে। এটি ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।
সুখের সন্ধানে
✍️অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী
অগণিত আশার উৎপত্তি হয় হৃদয়ের উৎসমুখ হতে।
ইচ্ছে গুলো প্রবাহিত হয় হৃদয়ের নদী পথে ।।
ধীরে ধীরে উতপ্ত জল বাষ্পায়িত হয় মনের আকাশেতে।
অতৃপ্ত সব ব্যর্থ আশা ঘনীভূত হয় মেঘের রাজ্য পথে।।
গভীর শোকে কান্না হয়ে ঝরে নীল গগন হতে।
বাঁধ ভাঙা জল প্লাবন হয়ে ছুটে পুনরায় নদী পথে।।
মনের আঙিনায় কামনার জন্ম অকালে ঝড়ে যাওয়া।
ঝড় হয়ে আসে জীবনে ভেসে বিপরীত মুখী হাওয়া।।
তবু কেন মন স্বপ্ন দেখায় চাওয়া পাওয়ার দরবারে।
সুখের আশায় হেরে যায় মন জীবনে বারে বারে।।
সুখের পিছু পিছু ছুটে যায় মন শোক হয়ে ফিরে কাছে।
হৃদয়ের কান্না লুকিয়ে মন লাশ হয়ে শুধু বাঁচে।।
শেখ মুজিবুর রহমান
✍️ জওহরলাল দাস
বাংলার মুক্তিসূর্য, বাঙালির প্রান
বাংলা মায়ের বীরসন্তান শেখ মুজিবুর রহমান।
পূর্ব বাঙলার মুক্তিদূত তুমি হে মহীয়ান!
স্বৈরাচারী পাক্- বাহিনীর বিরুদ্ধে তুমি ছিলে আগুয়ান
পাক্- স্বৈরশাসকের শত অন্যায় অত্যাচারে তুমি আপোসহীন, অকুতোভয় দুর্বার সৈনিক
বাংলার শতকোটি জনতার শৃঙ্খল ভেঙে দিয়েছো শান্তি- সুখ ।
তুমি বাংলার বটবৃক্ষ, তুমি কোটী জনতার আশ্রয় ,
পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে এনেছো বাংলা মায়ের জয়।
তুমি নির্ভীক, দুর্বার, দুর্জয়
বাংলার ইতিহাসে তুমি থাকবে চির অমর, অক্ষয়।
প্রতিবেশী
✍️অনুরাগ ভৌমিক
বৃষ্টির পর পরগাছার মতো উঁকি দিই আকাশে,একটু আলোর খোঁজে।
বর্ষা আরো তৃষ্ণার্ত করেই চলে যায়,
যেন ছোট্ট পাখিটির অবিশ্রাম ডাক।
তার মতো উড়তে পারিনা,
তার মতো বিরহ ঝাড়তে পারিনা;
তবু উড়ে যেতে চাই শান্তির দেশে।
গভীর নীলে,অনন্ত গহীনে;
যেখানে আমি আর সে প্রিয় প্রতিবেশী...
গঙ্গাকলমে
✍️ রাজেশ পাল
নিশিকান্ত বাবু আজ বড্ড খুশি, অনেক দিনের আশা ছিল মা গঙ্গার জলে স্নান করার, আজকে সেই বাসনা বাস্তবায়িত হবে।
ওনি শুনেছিলেন গঙ্গায় স্নান করলে নাকি সব পাপ খন্ডন হয় । গঙ্গায় জলে ডুব দিয়ে তিনি আজ অনেক আপ্লুত । হাসি মুখে পারে উঠতে উঠতে দেখতে পেলেন একজন সন্ন্যাসী তার শিষ্যদের বলছে ,"অন্যকে ঠকিয়ে সৎ সাজা যায়, মহৎ হওয়া যায়না" এইকথাটা শোনা মাত্রই নিশিকান্ত বাবু স্থির হয়ে গেলেন মনে পড়ে গেল অতীতের স্মৃতি কিভাবে তিনি তার মা -বাবা কে ভিটে ছাড়া করেছিলেন সম্পত্তি হাতিয়ে নেবার পর ।
বসন্তাগমন
✍️কৃষ্ণ ধন শীল
এসেছে বসন্ত, এসেছে ফাগুন,
দূর পলাশ বনে যেন ছেয়েছে আগুন।
কৃষ্ণচূড়া রাঙা হয়ে খিল খিল হাসে,
অঙ্গ আমার পোড়ায় যেন বসন্ত বাতাসে।
অশোক রক্তকাঞ্চন হিমঝুরি আর মহুয়া,
হাওয়ার নেশায় হৃদয়ে দাগে আলতো ছোঁয়া।
কুসুম কলির বাহার আর কোকিলার কুহুতান,
ভরে ওঠে আঁখি আমার জুড়ায় গো পরান।
ছোট নদীটির ধারে মৃত্তিঙ্গা ঐ বাঁশের ঝারে,
ঝিরি ঝিরি পাতা রবে তার নির্জনতা হরে।
আম্র মুকুলে মৌ মৌ করে জুড়ে যত অলি,
শুষ্ক মাঠে ছাড়ে নি:শ্বাস চিকন রোদের ফালি!
সজিনার শুভ্র ফুল যেন হিম সাদা তার বাহার,
অলি ভ্রমরা যত নৃত্য গীতে ফুলে ফুলে করে যে আহার।
বসন্তের মধুর সমীরণ মন্দ মন্দ প্রতি প্রভাতে,
মিলনের আশা জাগে গো মনে মধুর এ চৈতে।
বসন্ত মানেই আনন্দ গর্বের একুশের ফেরি,
শ্রদ্ধাভরে চিত্তপটে শহীদ বীরদের স্মরণ করি।
পতত্রী দলের গীতে দোল-হোলী এসে যায়,
যার জন্য মন আমার থাকে অপেক্ষায়।
নব মুকুল নব কুঁড়ি আর নব নব কিশলয়,
বসন্ত পাখীর নব তানে যেন মুখরিত মলয়।
নভের ছায়া পড়ে সলিলে,আসে সিক্ত মাটির ঘ্রাণ,
আমার বসন্ত মানেই কূজন কলতান আর কুহুতান।
বন্ধুত্ব
✍️ সুব্রত দও।
ভালোবাসা হয়তো এটা নয়,
যে ভলোবসা সাধারনত আমরা বাসি।
হয়তো অন্য এক অনুভূতি নিয়ে জন্ম নেয় মনের কোনে নিজের অজান্তে।
অনেকটা পথ একসাথে হেঁটেও হয়তো তা আমরা বুজতে পারিনা।
আনমনা মনে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে অনেকটা পথ চলা,
সে এক অনন্য অনুভূতি।
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে,হাতে হাত রেখে এক সুরে পথ চলা।
নতুন এক স্বপ্নময় জগতে আনন্দের ছটায় অবাধ বিচরণ।
এক নির্মল সম্পর্কের বাঁধনে যেন আবদ্ধ দুটি প্রাণ।
সে এক অনন্য সুখ,যা হয়তো ব্যক্ত করার মতো নয়।
এক পরম সুখে মাতোয়ারা বন্ধুতের সেই সম্পর্কটি।
হয়তো তখনো বুজতে পারিনি নিজের ভালোবাসার কথাটা।
নিজের মনের অজান্তে একটু একটু করে কখন যে শুক পাখিটি দাঁনা বেঁধেছিল বুজতেই পারিনি।
তবুও নিজের মনের সেই ভাবনাটা অস্বীকার করে বেড়াচ্ছি তখনো।
কারণ সে তো আমার ভলো বন্ধু,
এর বেশি তো কিছু নয়!
বন্ধুতের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন সে প্রশ্ন করেছিল ,
আমাদের সম্পর্কটা আসলে কী?
তখনো হয়তো আনমনা মনটা উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছিল।
হয়তো দুজনেই দুজনকে ভালবাসতাম কিন্তু কেওই বুজতে পারিনি নিজেদের ভালবাসা।
কেওই বলতে পারিনি নিজেদের ভালবাসার কথা।
হয়তো ভয় ছিলো,বন্ধুত্বই না শেষ হয়ে যায়।
সানাইয়ের সুরে বন্ধুতের অন্তিম লগ্নে,
যখন বিদায় জানাচ্ছিলাম,তখন মনটা দোলা দিয়ে উঠেছিল।
শিয়রে উঠেছিল শরীরটা,আমার সমস্থ পৃথিবী যেন বদলে গেল মুহূর্তের মধ্যে।
নিজের হৃদয়টা তখন প্রশ্ন করছিলো,
এটা ভালোবাসা নয় তো আর কী?
তখনো অস্বীকার করছিলাম নিজের প্রতি নিজেকে!
সে আমার ভালো বন্ধু,ভালোবাসা নয়!
তখন হয়তো ভাবছিলাম,আমি যা ভাবছি সেও কি তা'ই ভাবছে!
হয়তোবা না!!!
না ভাবাটাই হয়তো স্বাভাবিক,কেননা এখন তার অন্য পৃথিবী হয়েছে।
কিন্তু,নিজের অশ্রু কণাগুলি যখন আমাকে প্রশ্ন করেছিল .....
এতদিন যাকে(অশ্রু)আগলে রেখেছিলে চোখের কোনে,আজ তাকে কেন ঝরতে দিলে?
এ ভালোবাসা নয় তো আর কী?
তখন সেই প্রশ্নের উত্তর,
তখন সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আমার জানা ছিলোনা!
অভিমানে সে যেন ঝরে পড়লো আরো অঝোরে।
তার সেই প্রশ্নের উত্তর আমি আজও খুঁজে পাইনি1(এটা ভালোবাসা নয় তো আর কী?)
হয়তো এটাই ভালো বন্ধুত্ব।
যেন বুঝি, যেন বুঝিও না
✍️গৌরব নাথ
আমি এলোমেলো করে ভাবতে থাকি সারাক্ষণ
স্পষ্ট, সুষ্ঠ এরকম কিছুই ভাবতে পারি না
নতুন নতুন শিশুদের ইতর বলতে আমি দ্বিধা বোধ করি না
যেন চিন্তা যেন এক একটি দুঃশ্চিন্তা,
এক একটি বোঝা
কোনো মানুষকেই শুদ্ধ মনে হয় না
আমি এতটাও ভাবি, কেন জানি এরকমই ভাবি
কোনো কিছু ভালো লাগে যে, বুঝি না,
আবার লাগেও না যে তাও বুঝিনা
কিছুই আমাকে ধরে রাখতে পারে না
বাবার মৃত্যু শোকও না,
কোনো সুন্দরকে আমার সুন্দর মনে হয় না
এ যে আমার তীব্র অসুখ
যেন বুঝি, যেন বুঝিও না
গলি থেকে রাজপথ
✍️সুচিত্রা দাস
তোমাকে নিয়ে অগোছালো বৃত্তান্তের বৃথা চেষ্টায়
আজম্ম উদাসীন আত্মভোলা
উদ্দেশ্যহীন সড়কের শেষ সীমানা পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারি।
খাঁ খাঁ রোদ্দুরে রাজপথ ঘুরে ঘুরে ঘর্মাক্ত শরীরে খড়স্রোতা হবার লোভে জড়িয়ে ধরেছ অনেকবার।
বন্ধ কপাটে ছেঁড়া আঁচলে ঘাম মোছাতে গিয়ে হেসে ফেলেছি বিপ্লবের উন্মাদনায়।
বোকার মতো দীর্ঘশ্বাস ফেলে সৈনিক হয়ে আওড়ে গেছ কবিতা
হাজারো পদাতিকের ভীড়ে হারিয়ে গেছ গলি থেকে রাজপথে
কেউ শুনতে চায় নি তোমার কথা ; উন্মাদের তকমা সেঁটে পাশ কেটেছে তোমারই বাল্যবন্ধু -- অনিমেষ।
শক্ত চোয়ালে ঝরে পড়েছে প্রতিবাদের সংলাপ
বিবর্ণ পৃথিবীতে কুহকের ছায়া ক্রমশ গ্রাস করেছে তোমার অস্তিত্ব
কোলাহলমুখর পথ ছেড়ে একদিন শুয়ে রইলে ধবধবে সাদা বিছানায়
আমার রুদ্র মহাপ্রস্হানের পথে গলি থেকে রাজপথে।
খোঁজ্
✍️চন্দন পাল
কোথায়? কোথায় ছিল ?
পাঁচ হাজার বছর আগের গীতায়,
আড়াই হাজার বছর আগের ত্রিপিটকে,
দুই হাজার বছর আগের বাইবেলে,
দেড় হাজার বছর আগের কোরানে !!
হ্যাঁ, ওখানেই ছিল, হ্যাঁ ওগুলোতেই ছিল।
শুনেছি, একবার কিষ্কিন্ধ্যায় খুইয়েছে, খুইয়েছে শকুনির পাশাখেলায়।
তারপর গলগথায়, কারবালায়, মায়ানমারে, সিরিয়ায় শেষে বাংলায় বাংলায়।
সেদিন,
কে যেন আবার চিৎকার করে করে খুঁজলো!
চুপ চিৎকারে খুঁজলো, চলন্ত গাড়িতে পা বাঁধা অবলা জীবটা !
"তোমরা কে কোথায় আছো-- ও পড়শী? ও প্রশাসন ?
আমার কাকুরে কারা,,,,, "!
কাকু কি ভাল বেসেছিল?
বেসেছিল কি গীতা বাইবেল কোরান ত্রিপটকের সন্তানেরা!
বুঝেছিল কি ভালবাসা কারে কয় ?
কিভাবে ভালবাসতে হয় ?
চলো, অপরকে ভাল রাখার পথটি খুঁজি, ভাল রাখার পথটি খুঁজি।
,,,,,,,,,,,,,
জীব, কাকুঃ সব দলধর্মের প্রতীকী
কিষ্কিন্ধাঃ বালীসুগ্রীব কান্ড
পাশাখেলাঃ সূচাগ্র মেদিনী কান্ড
গলগথাঃ যিশু বধ্যভূমি
কারবালাঃ নবী বধ্যভূমি
সমীরণ
✍️ সৌরভ ঘোষ
সেদিন আমি বসেছিলুম তটিনী ধারেl
স্পর্শ করিয়া সমীরণ আমায় বারে বারে।।
সমীরণে ভেসে আসিলো সুমধুর আওয়াজ।।
তৎক্ষণাৎ আকাশ হইতে পড়িল প্রচুর বাজ।।
পড়িল আকাশ হইতে প্রচুর জলবিন্দু।
প্রকৃতি যেন আজ আমার প্রিয় বন্ধু।।
রক্তজবা
✍️শুভ্রা দেব
তোমার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে
বাম দিকের ঘরটায়
মাকড়সাদের গণবস্থান;
মনের জমানো অভিমান
বাড়ির সামনের ডোবায়
পদ্ম হয়ে ফুটেছে।
অমাবস্যা শেষে একসাথে
চাঁদ দেখার আশা নিয়ে
উঠোনের কোণে
রক্তজবা গাছটায়
রোজ সকালে জল ঢালি।
প্রতিকারের দাবি
✍️ মায়া রানী মজুমদার
মনুষ্য জীবনের
ঘাত প্রতিঘাত,
নীরবে সহ্য করে
সহস্র আঘাত।
কত কথা রয়ে যায়
অতি গোপনে,
বিপদের ভয়ে তাই
থাকে সন্তর্পণে।
মনের যত সব
দুঃখ, ব্যথা বেদনা,
মনের অন্তঃস্থলেই
রয় আনমনা।
রণকান্ড বেঁধে যায়
কভু শান্তি নাই,
প্রকাশিতেই ভীতু ভাবে
তাই রয় সবাই।
নিরীহ মানুষের উপর
অকথ্য কত অত্যাচার,
অন্যায়ের প্রতিবাদে
চাই মোরা প্রতিকার।
দরিদ্র জীবন
✍️সনত রায়
বেশ কিছুদিন আগের কথা, যখন সতীশের মা-বাবা দুজনই স্বর্গে গমন করেন । এবং সতীশ ই ছিল তার মা-বাবার প্রথম এবং শেষ সন্তান । কি করবে, কোথায় যাবে কিছুই বোঝে ওঠতে পারছিল না । বয়স অল্প কে-ই বা তাকে কাজে রাখবে, আর যদি কাজে রাখে তাহলেও বেতন কম । অল্প বয়সে প্রবল চিন্তায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে সে । লেখাপড়ায় মনোযোগী থাকলেও অর্থের অভাবে আর পড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না হয়তো । এই দুর্দিনে তার কোন আত্মীয় স্বজন তার সঙ্গ দিচ্ছিলো না কেউ কোনদিন একটা খবরও নিতে আসেনি । এই পরিস্থিতিতে তার এমন মনে হয়েছিল যে ভগবান হয়তো পৃথিবীর সকল দুঃখ তার জন্যেই সৃষ্টি করেছেন । হতাশ হয়ে কাঁদতে থাকে সে । সফলতার কোনো পথই খোলা নেই । তখন সে নিজের মনোবল শক্ত করে এই পথটি বেছে নেয় যে সে অল্প বয়সেই কঠোর পরিশ্রম করবে, জীবনে প্রচুর টাকা উপার্জন করতে হবে তাকে । কেউ যাতে তার মা-বাবার উপর প্রশ্ন তুলতে না পারে । কিন্তু কোন পথ ধরে সে এগিয়ে যাবে বোঝে ওঠতে পারছিল না ।
ছেলেটি অনেক পরিশ্রমী এবং সৎ থাকা সত্ত্বেও খালি পেটে, বরন-পোষন কিছু নেই , গরম-ঠান্ডা মানিয়ে নিতে অনেক কষ্ট হয়েছিল তার । এভাবে চলতে চলতে সে একদিন অসুস্থ হয়ে পরে । টাকার অভাবে ডাক্তারের কাছে যেতে পারেনি । অসুস্থতা চলাকালীন সময়ে কয়েকদিন যাওয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে । আজ যদি তির প্রচুর টাকা বা স্বল্প ধন থাকতো তাহলে হয়তো সে এবং তার মা-বাবার এই দুর্দিনের সম্মুখীন হতে হতে না । শুধুমাত্র টাকা না থাকার কারনেই আজ একটি সুন্দর সুষ্ঠ পরিবারের নাম মিটে গেছে এই পৃথিবী থেকে ।
এক বিশ্ব এক পরিবার
✍️মাধুরী লোধ
শ্যামলী মায়ের রোগ সারাতে
লাগাই গাছের চারা
দেহ মনের ঘাম মুছতে
আঁচল পাবো মোরা।
পশু পাখি থাকবে সুখে
পাবেন মানুষ আয়ের পথ
এক বিশ্ব এক পরিবার
চলবে বেগে সাম্যের রথ ।
গাছ লাগাবো ভূমি ক্ষয় রোধে
হবে না বন্যা মরুভূমি
থাকবে না বায়ু জল দূষণ
ক্যনসার শ্বাস রোগ হাঁপানি ।
আপন স্বার্থে বনকেটে
করছে যারা শশান ভূমি
আমরা কেড়ে নেবো তাদের অস্ত্র
সাজবো সবাই সাপের ফণি ।
রোগ সারাবো ভূমি মায়ের
এসো সবাই গাছ লাগাই
পতিত জমিতে করবো ফল বাগান
হবে আবর্জনা সাফাই ।
বিজ্ঞানীজগদীশ চন্দ্র বসুর মতো
বুজবো সবাই বনের অসুখ
আর মারবো না পায়ে কুড়াল
চাই না মানুষের অকাল মরন শোক ।
বিবর্ণ মানচিত্রের অমানিশায়
✍️রেহানা বেগম হেনা
বয়স আশি ছুঁইছুঁই এক বৃদ্ধের স্যাঁতসেঁতে ঘরের ছাল ওঠা দেয়ালে টাঙ্গানো দেশের কবেকার তেলচিটে ফুটিফাটা এক মানচিত্র!
দরজায় খোলামেলা কপাটের শিরা-উপশিরায় আলতো
ছুঁয়ে যায় মৃদুমন্দ হাওয়া,
সে হাওয়ার আবেগী দোলায়
এদিকওদিকে নড়ে ওঠা কম্পিত সময়ের আলপথে হোঁচট খায় মানচিত্রের বিদগ্ধ দৃষ্টি,হয়তো আর ক্ষতিকর সম্ভবনা নেই।
অশীতিপর স্থির চাউনিতে লক্ষ্য রাখে,পলক ফেলতেই বাতাসে জোর লাগে,রূপ নেয় ঝড়ো বৈচিত্র্যের।
বেয়াড়া পূর্বাভাসের লুকোচুরি খেলায় নড়েচড়ে বসার চেষ্টা বৃদ্ধের,
সাদা চুলে কোঁচকানো অভিজ্ঞতায় নতজানু বয়সের চৌকাঠে আত্মসমর্পণ বাধ্যতায়।
চোখের সামনে বেমক্কা হাওয়ার গতি দুমড়ে মুচড়ে দেয় মানচিত্র,
খেই হারা সুতোয় নামেমাত্র ভরে দেয়ালের খানাখন্দে ঝুলে থাকে।
বিবর্ণ রূপের স্মৃতিপাতা যেন আরো বিবর্ণ,শতছিন্ন।
নবাগতদের উদ্দেশ্যে শেষ বারের মতো বৃদ্ধের কম্পিত কণ্ঠে চিৎকার আসে,
নিমেষে ছুটে আসা সস্নেহ পুত্র প্রপৌত্রর দল..
সম্মিলিত চেষ্টার আন্তরিকতায়
কাঠি,সুতো,আঠা,নতুন কাগজে আবারও সেজে ওঠলো -উঠলো মানচিত্র।
ঠকঠকে হাতের লাঠি যেতে যেতে বলে গেলো---
সবে খেয়াল রেখো ঐ অর্বাচীন হাওয়ার কপাটের পানে,
দমকা মুহূর্ত হাওয়া যেন আর কখনো না টানে।
ভেজা আকাশ লুকিয়ে রেখো না দু-চোখের পাতায়,
হাজারো বিপত্তি আসুক থেকো না মহাশূন্য বুকে পথ হাঁটায়।
হতাশ হয়ো না মানুষ
✍️হাসনাইন সাজ্জাদী
উঠো মেরুদণ্ড সোজা করো এবং কেঁদো না
হতাশ হয়ো না মানুষ
অন্ধকারের পর আলো আসে
আলোর প্রতীক্ষায় আছি অন্ধকারের পর
আলো আসে
যেমন দুঃখের পর আসে সুখ
নিশ্চয়ই পৃথিবীর চক্রাকারে ঘূর্ণনে রয়েছে আলো আঁধারের পর্যাবৃত্তি
ভালোর সঙ্গে যেমন রয়েছে মন্দ
বিজ্ঞানের সঙ্গে ধর্ম যেমন করেনি কোনোদিন সন্ধি
যুদ্ধে যুদ্ধে মাতৃগর্ভে শুক্রাণু ডিম্বানুর বিজয়ে মানুষ
সে মানুষের পরাজয় হবে জন্মের আগে থেকে
যুদ্ধজয়ী মানুষ
পৃথিবীর পথে পা রেখেই মানুষ যুদ্ধ করেছে
প্রকৃতির সঙ্গে পরিবেশের সঙ্গে প্রতিবেশের সঙ্গে
স্বস্তি এখানেই মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞানই মানুষের অস্ত্র
যুদ্ধ করে করে বিজয়ী মানুষ
ধর্ম তাদের আর পরাজিত করতে পারবে না কোনোকালে
সাহস রাখো মানুষ যুদ্ধে না নামলে বিজয়ী তুমি হবে কেমন করে?
আমি তো বলছি আমাদের দুঃখ ও অস্থিরতাগুলোকে
আমরাই পারি করতে
কারো সমীপেই নিবেদন করবে না মানুষ
মানুষ লড়বে আপন শক্তিতে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে
জেনে রেখো,মানুষের বিজয় অতি সন্নিকটে
আর প্রকৃতির সাহায্য নিকটে যদি তুমি ন্যায়বান হও
যদি তুমি ন্যায়বান হও আর
নারী ও বৃদ্ধবৃদ্ধাদের প্রতি হও বিনয়াবনত
যদি তুমি শিশুদের প্রতি হও বিজ্ঞানমনস্ক
তবে তোমার বিজয় ঠেকায় কে?
একমাত্র ধর্মান্ধ ছাড়া
একমাত্র প্রকৃতির সঙ্গে যারা
অন্যায় করবে তাদের ছাড়া অন্য কেউ
প্রকৃতির ন্যায়বিচার থেকে নিরাশ হবে না
প্রকৃতি কোনো ব্যক্তির উপর তার সাধ্যের চেয়ে বেশী
এমন অনাচারের বোঝা চাপিয়ে দেন না
যা তার বহন শক্তির ক্ষমতার বাইরে
এবং অবশ্যই মানুষের উপর কিছুটা ভয় ও ক্ষুধা
কষ্টদায়ক হয়ে থাকে
সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের কষ্ট
মানুষের জন্য যুদ্ধের অংশ
মানুষতো এ যুদ্ধ করেই টিকে আছে
আজন্মকাল চলে আসা যুদ্ধ থেকে জয় পরাজয়ের মাধ্যমে
প্রকৃতি থেকে মানুষের জন্য সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ নির্ধারিত হয়
হে মানুষগণ, তোমরা ধৈর্য্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে তোমাদের
অধিকার আদায়ের চেষ্টা কর
নিশ্চয়ই যুদ্ধে যুদ্ধে মানুষ বেঁচে আছে
ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছে সঙ্গে জীবন স্পন্দন
সাহসী যোদ্ধাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ
কখনো যুদ্ধ ব্যথিত কেউ হয়নি মনস্কাম
চেষ্টা করে কেউ ব্যর্থ হয়নি
অতএব,কোনোরূপ হতাশায় আর ভাগ্যের দিকে তাকিয়ে থাকা নয়
বিজয়ের জন্যে পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্যে
লড়তে হবে তাহলেই
তবেই সফলকামী এবং বিজয়ী হবে মানুষ
বিদায় ক্ষণে
✍️অমৃকা মজুমদার
পড়ে থাক বাইশ ঘুটঘুটে জীর্ণ প্রাচীরে,
হেসে খেলে এসে গেছি তেইশের তীরে।
ভালো মন্দে কেটে গেছে বিগত বছর,
কতো অমূল্য প্রাণ ছেড়ে গেছে পরপর।
সুখ দুঃখের মালা গাঁথি ভুবনের বাটে,
ইতিরেখা টানতে হয় যে নিত্য এ হাটে।
থাক না বাইশ পড়ে তিক্ত স্মৃতির পাতায়,
নব খুশির খবর লিখবো তেইশের পাতায়।
মুছে যাক কষ্ট সব শেষ গোধূলির অস্তরাগে,
নতুন আশা নতুন স্বপ্ন ফুটুক না মনের বাগে।
আগামীর জন্য জায়গা দিতে হবে ছেড়ে,
কল্পতরু রোপণ করবো সুখ আসুক তেড়ে।
আশার প্রদীপ সযত্নে সাজাই বরণ ডালায়,
নতুনকে স্বাগত জানাই রকমারি মালায়।
দূর হউক গ্লানি,হউক সবাই সুস্থ নীরোগ,
বিষাদ স্মৃতি ভুলে করবো সবাই উপভোগ।
বেদনা জমে থাক স্মৃতির পরিত্যক্ত কোণে,
তেইশ তাই হয়তো নক্সীকাঁথায় সুখ বোনে।
গুটি কয়েক বৃদ্ধাশ্রমে পড়ুক এবার তালা,
সন্তানের ঘরে পিতামাতার ফিরবার পালা।
মারণ জীবানু নাশ হউক বাইশে ছিলো যত,
নতুন রবি আশার আলো ছড়িয়ে দিক শত।
পানাম নগর পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি
✍️লোকমান হোসেন পলা
পথের দুই পাশে এমনই নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রয়েছে ভবনগুলো পানাম নগর (Panam City) পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি যা বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও এ অবস্থিত। World Monument Fund ২০০৬ সালে পানাম নগরকে বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় প্রকাশ করে। বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর - প্রাচীন সোনারগাঁর এই তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিলো সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
পথের দু’ধারে কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে থাকা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন আর কাঠামোগুলো যেন হারানো জৌলুসের কথা জানান দিচ্ছে।মৃত কোলাহল আর অব্যক্ত ইতিহাস যেন জড়িয়ে আছে এ নগরীর প্রতিটি ইটে।
প্রায় ৪৫০ বছর আগে এ নগরী কতটা সমৃদ্ধ ছিলো, তা বারবার ভাবতে বাধ্য করে রাস্তার দু’পাশের দু’তল-ত্রিতল ভবনগুলো।কেমন যেন একটা রহস্য জড়িয়ে আছে জায়গাটিতে। প্রতিটি ধ্বংসস্তুপে যেন জড়িয়ে আছে একেকটা কাহিনী। যদিও ধ্বংসস্তুপ বলছি, তবুও এর আকর্ষণের নেই কমতি। ভবনগুলোর নির্মাণশৈলী দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না।
পানাম নগরের প্রবেশ পথ
ইতিহাসে পানাম নগর
সোনারগাঁ ছিলো একসময় বাংলার রাজধানী । ১৫ শতকে ঈসা খাঁ বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেছিলেন সোনাগাঁওয়ে। তাই সোনারগাঁকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো ব্যবসা-বাণিজ্য, বন্দর আর নগরী। সোনারগাঁয়ের ভৌগোলিক অবস্থানের দিকে নজর দিলেই এর গুরুত্ব বোঝা যায়। সোনারগাঁ চারদিক থেকে চারটি নদী দ্বারা বেষ্টিত– উত্তরে ব্রহ্মপুত্র, দক্ষিণে ধলেশ্বরী, পূর্বে মেঘনা, পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা। এমন ভৌগোলিক অবস্থান ছিলো ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য উপযুক্ত।
১৩৪৬ সালে ইবনে বতুতা চীন, ইন্দোনেশিয়া (জাভা) ও মালয় দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে এর সরাসরি বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সোনারগাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-নগরী রূপে বর্ণনা করেন।
শীতলক্ষ্যা আর মেঘনার ঘাটে প্রতিদিনই ভিড়তো পালতোলা নৌকা।রাজধানীকে কেন্দ্র করে ক্রমেই গড়ে ওঠে এক অভিজাত শ্রেণি, যারা ছিলেন মূলত বণিক বা ব্যবসায়ী। অন্যান্য এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও সওদাগরদের আনাগোনা লেগেই থাকতো এখানে।
এখানে প্রতিদিনই আসে দর্শনার্থী
পানাম নগরের প্রবেশপথের লেখা থেকে জানা যায়, উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ধনী হিন্দু বণিকদের দ্বারা এ নগরের প্রসার ঘটে। মূলতঃ নদীপথে বিলেত থেকে আসতো বিলাতি থানকাপড়, আর এই বাণিজ্য নগরী থেকে যেতো বাংলার মসলিন। পরবর্তিকালে এই পোশাক বাণিজ্যের স্থান দখল করে নেয় নীল বাণিজ্য। ইংরেজরা এখানে বসিয়েছিলেন নীলের বাণিজ্যকেন্দ্র।
পানাম নগরের স্থাপত্য রীতি
শহরটিতে ঔপনিবেশিক ধাঁচের দোতলা এবং একতলা বাড়ি রয়েছে প্রচুর। যার বেশিরভাগ বাড়িই ঊনবিংশ শতাব্দির (১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দের নামফলক রয়েছে)। মূলত পানাম ছিলো বাংলার সে সময়কার ধনী হিন্দু ব্যবসায়ীদের বসতক্ষেত্র। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ছিলো ঢাকা-কলকাতা জুড়ে। তারাই গড়ে তোলেন এই নগর। বর্তমানে দর্শনার্থীরা যে পানাম নগর দেখতে যান, সেখানে একটি মাত্রই পাকা রাস্তা। ৬০০ মিটার দীর্ঘ আর ৫ মিটার প্রস্থ এ রাস্তার দু' পাশে রয়েছে সব মিলিয়ে ৫২টি ভবন।পানাম সড়কের উত্তর পাশে ৩১টি আর দক্ষিণ পাশে ২১টি বাড়ি রয়েছে।
বাড়িগুলোর অধিকাংশই আয়তাকার, উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত, উচ্চতা একতলা থেকে তিনতলা। বাড়িগুলোর স্থাপত্যে ঔপনিবেশিকতা ছাড়াও মোঘল, গ্রিক এবং গান্ধারা স্থাপত্যশৈলীর সাথে স্থানীয় কারিগরদের শিল্পকুশলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখা যায়।
একতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত ভবন রয়েছে এখানে। ভবনের দেয়ালগুলো বেশ প্রশস্ত। দেয়ালগুলো বিভিন্ন আকৃতির ইট আর সুরকি দিয়ে তৈরী। কিছু কিছু ভবনের দেয়ালের অলংকরণ দেখার মতো। নানা ধরনের নকশা, রঙিন কাঁচ, পাথর, কড়ি, চিনামাটি, টেরাকোটা ব্যবহার করা হয়েছে অলংকরণের জন্য। অধিকাংশ ভবনের মেঝে ধ্বংস হয়ে গেলেও কয়েকটি টিকে আছে।
কাশীনাথ ভবন
এছাড়া বাড়িগুলোতে নকশা ও কাস্ট আয়রনের কাজ নিখুঁত। কাস্ট আয়রনের এই কাজগুলো ইউরোপের কাজের সমতূল্য বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এর সাথে আছে সিরামিক টাইল্সের রূপায়ণ। প্রতিটি বাড়িই অন্দরবাটি এবং বহির্বাটি -এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। বেশিরভাগ বাড়ির চারদিকের ঘেরাটোপের ভিতর আছে উন্মুক্ত উঠান।
বাড়ির অন্দরমহল
এ বাড়িগুলোর প্রতিটির ছিল নিজস্ব কুয়া বা জলের ব্যবস্থা। একটি বাড়ি থেকে আরেকটির মাঝে আছে বিশাল ফাঁকা স্থান যা সম্ভবত বাগান হিসাবে ব্যবহার করা হত। প্রার্থনা এবং চিত্তবিনোদনের জন্যও ছিল অনেক জায়গা।
এই রাস্তার দুধারেই গড়ে উঠেছিল পানাম নগর
পানাম নগরীর পরিকল্পনাও নিখুঁত। পানাম নগরী চারদিক থেকে পঙ্খীরাজ খাল দিয়ে ঘেরা যেটি মেঘনা নদীতে গিয়ে মিশেছে। এই নগরীকে সুরক্ষার জন্য এ ছাড়াও ছিল প্রবেশপথে বিশাল গেট, যা সূর্যাস্তের সাথে সাথে বন্ধ করে দেওয়া হতো। না জানি প্রতিটি বাড়িরই ছিল আলাদা আলাদা গল্প যা আজ হয়ে গিয়েছে কালের গর্ভে বিলীন।
সংস্কৃতি
সময় সাথে সাথে পানাম নগর জীবনযাত্রা সংস্কৃতি ইতিহাস হয়ে গিয়েছে । বলা হয়ে থাকে, সে যুগে পানাম নগরী সারাদিন বাণিজ্যের পর সন্ধ্যা থেকে আনন্দের নগরীতে পরিণত হতো। নাচে গানে জীবন্ত হয়ে উঠত প্রতিটি সন্ধ্যা।
শতবর্ষী পুরোনো ভবন
পানাম নগরের অবশিষ্ট থাকা স্থাপনার মধ্যে দিয়ে হেঁটে গেলে আজও দেখতে পাওয়া যায় নানান হল, দরবার, নাচের মঞ্চ সহ বিভিন্ন জিনিস। নগরীর ভিতরে আবাসিক ভবন ছাড়াও আছে মন্দির, নাচঘর, পান্থশালা, চিত্রশালা, খাজাঞ্চিখানা, দরবার কক্ষ, বিচারালয় । এছাড়া আছে ৪০০ বছরের পুরনো টাকশাল ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক তৈরিকৃত নীলকুঠি।
টিকে আছে শতবর্ষী পুরোনো ভবনের ধ্বংসাবশেষ
সব কিছুরই শেষ আছে, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিতে মন্ডিত পানাম নগরও দেখেছে তার শেষ। নানান সমস্যা এবং পরিবর্তিত অবস্থায় যখন অনেক ধনী, অবস্থাসম্পন্ন বণিকেরা পানাম নগর ছাড়তে শুরু করলেন, পানাম নগরের শেষটা যেন লেখা হয়ে গিয়েছিল তখনই। ধীরে ধীরে এখানকার মানুষ কমতে শুরু করল এবং ভাঁটা পড়তে শুরু করল এর যৌবনে। ব্যবসায়ীরা এই এলাকার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেললেন। বরং অন্যান্য নতুন নতুন এলাকা হয়ে উঠল তাদের গন্তব্যস্থল। যে নীল আর মসলিন একসময় জমজমাট করে তুলেছিল পানাম নগরকে, সেগুলোর অনুপস্থিতি ধীরে ধীরে একে করে তুলল এক ভূতুড়ে নগরী। এক জমজমাট এলাকার কী করুণ পরিণতি!
যেভাবে যাবেন এই নগরে
ঢাকা থেকে ৩০ কিলোমিটারের পথ পানাম নগর। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় অবস্থিত পানাম নগর। গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জের বাসে সোনারগাঁ যাওয়া যাবে। নামতে হবে মোগড়া পাড়া মোড়ে। সেখান থেকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা বা ইজিবাইকে করে যাওয়া যাবে পানাম নগর।
পানাম নগর
রাতে থাকার জন্য এখানে কোন ব্যবস্থা নেই। রাতে থাকতে হলে একটু দূরে সোনারগাঁ উপজেলা সদর বা নারায়ণগঞ্জ শহরে এসে থাকতে হবে।যদিও অনেকে একে এখন “ঘোস্ট সিটি” বা ভূতুড়ে নগর বলে ডাকেন, আদতে এটি এখন দর্শনার্থীদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। দেশি বিদেশী নানান পর্যটকের ভিড়ে এখন মুখরিত থাকে পানাম নগর ।
আর যতই প্রাচীন বা “ধ্বংসস্তুপ” মনে হোক না কেন, পানাম নগর যাওয়া আসলে খুবই সহজ। এই ঐতিহাসিক স্থানটিতে যাওয়া যায় নানাভাবে। প্রবেশের জন্যে যদিও টিকেট লাগে তবে তা পাওয়া যায় নামমাত্র মূল্যে। দেশী যে কেউ টিকেট পাবেন ১৫ টাকায় যেখানে বিদেশীদের দিতে হবে ১০০ টাকা। রাজধানী ঢাকা থেকে একদিনের মাঝে গিয়েই ঘুরে আসা সম্ভব এই স্থান।
দেখার সময় : মঙ্গলবার - শনিবার: সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত উন্মুক্ত।সোমবার: দুপুর ২ টোর থেকে বিকাল ৫ টা। রবিবার ও সরকারী ছুটি বন্ধ।
কেউ কম নয়
✍️পাপিয়া দাস
মা যেমন স্নেহের মায়া
বাবা বটের ছায়া।
মা করে খাবার তৈরি
বাবা জোগায় টাকা করি।
মা অসুস্থায় যত্ন নেয়
বাবা ঔষুধ পত্র কিনে দেয়।
মা আদর করে দুষ্টুমি ঘুচায়
বাবা মানুষ হতে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালায়।
মা সন্তানের জন্য খাবার ঘুম ত্যাগ করতে পারে
বাবা অভাব কাটাতে সুস্বাস্থের চিন্তা ছেড়ে দিতে পারে।
মা,বাবা কেউ কম বেশী নয়- এ ধরনীতে
লিখে গেলাম আমার কবিতার শ্লোকে।
পরিবর্তন
✍️ মোঃ আলামিন
শক্ত হতে হবে নিজেকে
সস্তা নও তুমি।
হুট করে হয় না কোনকিছুই,
পরিবর্তন আসে না একদিনে।
মানুষেরই নির্দিষ্ট আত্মসম্মান বোধ আছে
পরিবর্তন মানুষ হয় ধীরে ধীরে।
আগাত, অবহেলা, অসংখ্য কথা
মানুষকে পরিবর্তন করে!
পাহাড় সমান ব্যথা লুকিয়ে মানুষ
শক্ত করে ঘুরে দাঁড়ায়।
যেখানে অনুভূতি গুলো পায় না মূল্য!
সেখানে মানুষ আর নত হতে চায় না
বরং হারাতে চায়।
ভেতর থেকে ভেঙ্গে চুরে যায় ,
মনে ব্যথা লুকিয়ে পাথর হয়ে যায়!
তখন সে আড়াল করে নেয় নিজেকে,
তার আড়াল হয়ে যাওয়াটাকে পরিবর্তন বলি।
কিন্তু তার পরিবর্তটাকে দেখি অসহায়ত্ব
টা কে দেখিনা।
বুঝতে চাইনা তার অভিমানের ভাষা।
আমাদের অহংকারের কাছে তার সরল বিশ্বাসকে হারিয়ে দেই,
তৈরি করে দেই বিশাল শূন্যতা।
আর প্রতিবাদ করতে চাইনা,
নিজেকে আর করতে চাইনা সস্তা,
কাউকে করতে চাইনা বিরক্ত!
শুধু একটু আড়ালে থাকতে চাই।
প্রার্থনা করি ভালো থাকুক
সেই মানুষগুলো!
যে মানুষগুলো জীবন থেকে হারিয়ে যায়।
সময়ে ব্যবধান
✍️ দেবশ্রী দেবনাথ
একই সময়-
কারো ঘরে নতুন অতিথি
গাইছে আনন্দে গান,
কারো ঘরে কান্নার রোল
নিভে গেছে একটি প্রাণ ।
একই সময়-
কারো ঘরে খুশির আমেজে
বিরিয়ানি-মাংস রান্না ,
কারো ঘরে অন্নও জোটেনি
নিত্যসঙ্গী কান্না ।
একই সময়-
শিক্ষিত ছেলেটি প্রতিষ্ঠিত
চাকরির প্রস্তাব পেল,
আবার ,কোথাও এক শিক্ষিত ছেলে
বেকারই রয়ে গেল।
একই সময়-
একটি মেয়ে স্বাধীনচেতা
দিল স্বপ্নের উড়ান,
সেই সময়ই কোনো মেয়ে গৃহবন্দী
স্বপ্নগুলো ভেঙেচুড়ে খান খান।
একই সময়-
কারো চোখে খুশির জোয়ার
কারো হাসিটা ম্লান,
কারো ভাঙছে, কারো গড়ছে
শুধুমাত্র সময়ে ব্যবধান।
বৃষ্টি ও আমি
✍️ সংহিতা ভট্টাচার্য্য
বৃষ্টির সাথে আমার সখ্যতা সেই শৈশব থেকে
বৃষ্টি হলেই কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দিতাম জলে...
হেলেদুলে নৌকা চলতে শুরু করতেই
খুশিতে লাফিয়ে উঠতাম।
কৈশোরে বৃষ্টির সাথে বন্ধন আরও নিবিড় হলো
বৃষ্টিকে জড়িয়ে ধরে ভিজতাম এক অদ্ভুত সুখে।
কলেজ জীবনে বৃষ্টিকে নিয়ে লিখেছি প্রায় হাজার খানেক কবিতা--
কখনো করতলে কখনো হৃদয়ে কখনো গায়ে মেখে ভেসে যেতাম কবিতার ভেলায়।
আজকাল বৃষ্টি এলেই প্রচন্ড কান্না পায় আমার
বুকের ভিতর কিসের হাহাকার নিজেও ঠিক বুঝি না।
আমার দু'চোখ বেয়ে বন্যা নামে...
কলকল শব্দে বইতে থাকে আমার মনের উঠান জুড়ে।
বেণীমাধব
✍️ রূপালী রায়
সে যে তুমি
দূরত্বে হয়েছো বিলিন
এক রাশ ভেজা স্বপ্নের আড়ালে
সাথে করে নিয়ে গেলে আমার
গৃহকোণের একটা প্রদীপ ।
দিতে যদি চাও
ফিরিয়ে কিছু
চাইবো শুধু একটু সময় ।
বেণীমাধব আমার বাড়ি আর এসো না ।
আমাদের বেমানান সম্পর্কে
কত আলোচনা বাকি থেকে গেলো বলো ।
তোমায় জন্য যে প্রেম আমার
কবিতার আড়ালে
হারিয়েছে ছন্দ
দ্বিতীয়বার সে প্রেমের প্রেমিক হতে চাই না আর ।
হারিয়েছি যা নিয়তির নিয়মে
ভাসিয়েছি সবটুকু জেনো
বেণীমাধব আর এসো না ।
মনের আকাশ
✍️প্রতীক হালদার
সুখী হতে চায় যে সবাই
ছোট এই জীবনেতে,
সুখ পাখি দেখা দিয়ে
উড়ে যায় অজানাতে।
স্বপ্ন তবুও সাজে
রোজ রোজ মনের ঘরে,
কখনও যায় ভেঙে সে
হঠাৎ ই অচিন ঝড়ে।
অশনি সংকেতে তে
ভরসা যায় হারিয়ে,
বিপদের আগমনী
ভয় কে দেয় বাড়িয়ে।
মনের ই আকাশ জুড়ে
মেঘেরা সারি সারি,
কে যে কোন দিকেতে ?
এখন ই দেবে পাড়ি।
আচমকা বৃষ্টি নামে
ঝড়ে পরে মুষল ধারার,
শান্ত হৃদয় পাড়া
ব্যাথারা দৌড়ে পালায়।
মনের ই মেঘ কেটে যায়
নতুন এক সূর্য আসে,
মনের ই আকাশে তে
রামধনু মুচকি হাসে।
নিশাচর কবির স্বপ্ন ভ্রম
✍️স্বর্ণা রায়
লাশকাটা ঘরে তাকে যেতে দেখেছি কতকাল
দেখেছি হিজলের তলে নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করতে
রাজার সাম্রাজ্যে প্রজার শাসন আনবে বলে
নিশাচর হয়েছে কয়েক শতাব্দীর আগের কবিরা
বহুকাল দেখেছি তাদের দুঃস্বপ্নের ঘোরে
আজও দেখেছি তাদের প্রভাত শীতে।
মায়ের অনুভূতি
✍️যুস্মিতা দাসগুপ্ত
যখন আমি বুঝলাম
তুই এলি আমার কাছে,
হাসতে হাসতে চোখের জল
এসে গেল নিমেষে।
অপেক্ষায় রইলাম নয়টি মাস
কত কষ্ট সহ্য করে,
তবুও রইলাম হাসি মুখে
কাউকে বুঝতে দিলাম নারে।
অবশেষে দিন শেষ হলে
তুর চেহারা দেখতে পেলাম,
একরাশ কষ্ট নিয়ে
কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম,
তখন বুঝলাম, আমি যে মা হলাম।
আমরা নারী
✍️দীপক রঞ্জন কর
আমরা নারী
গর্ব করে বলতে পারি,
আমরা ঘর পরিবার চালাই
আবার রাজ্য দেশ চালাতে পারি।
আমরা নারী উড়োজাহাজ উড়াই,
চালাতে পারি ঘোড়ার গাড়ি।
আমরা নারী চাঁদেও দিই পাড়ি।
আমরা নারী
উচ্চস্বরে বলতে পারি,
সাত সমুদ্র দিই পাড়ি।
পাহাড় চূড়ায় অবতরণ করি।
সন্তানকে ধারণ করি, আমরা
মা,বোন,স্ত্রী,কন্যার ভূমিকা পালন করি।
আমরা দেশের জন্য বলিদান দিতে পারি ।
আমরা নারী,
আমরা সোনার ফসল ফলাতে পারি,
প্রতিযোগিতায় সোনা ঘরে তুলতে পারি।
দেশের নাম উজ্জ্বল করি।
পিছিয়ে নই কোন কিছুতেই
মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারি ।
আমরা নারী স্বাধীনভাবে বলতে পারি।
আমরা নারী,
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সর্বত্র চলতে পারি ।
আমরা নতুন কিছু আবিষ্কার ও করি,
স্বপ্ন সফল করতে পারি।
আজ আমরা অবলা নই,
সময়ে দুর্গা,কালী,ভবানী সাঁজতে পারি ।
প্রতিবাদ,সংগ্রাম,অসুর দমন করতে পারি।
আমরা নারী, আমরা
সব কিছুই পারি।।
নারীরুপী
✍️ রিপন সিংহ
জন্মান্তর ধরে তোমার অপেক্ষায় আছি,
বর্ষার বাতায়নে, চাতকের মতো ।
মেঘের কাছাকাছি।
কমল হয়ে ডাকলে আমায়,
ভ্রমর হয়ে আসি।
বৃষ্টি ভেজা তোমার নরম রূপে
আমি স্নাত, শুধু তোমায় ভালবাসি।
আমার হৃদয় ডাকে বারেবারে,
শুধু তোমারে।
দৃষ্টিতে দেখিনা যারে;
সেই তুমি হৃদ-মাঝারে।
চির শ্রী ,লাবন্যময়ী ---
পৃথিবীর বর্ণে বর্ণে তোমার হাসি,
সিঁদুরে,মুক্তায়,নববধূর অঙ্গ সজ্জায়।
তোমার স্পর্শ পেয়েছি অনুভবে,
সুর শুনেছি ঘুমন্ত নীরবে।
তুমিতো সেই প্রণয়ী আমার,
তবু ছলনায় হায় ছলিলে আবার!
চোখে আর অন্য কিছু নেই,
তৃপ্তি নেই আমার মনে,
অকারনে--
আমি আজ আর আমি নই
হে মোর জীবন-ধন,
শোন, কথা কই --
আমি তোমাতেই হারিয়েছি যখন।
তাই তো তোমার ব্রত করেছি গ্রহন
সর্বস্ব ত্যাগ করে
দুবাহু বাড়াও, নিয়ে যাও মোরে।
ওগো মোর একান্ত আপন,
আমারি জীবনের অমূল্য রতন।
বাঙালীদের হিন্দী ভাষায় আপত্তি!?
✍️ রাজা দেবরায়
প্রথমেই বলে রাখি যেকোনো ভাষা (শুধু ভাষাই নয়, যেকোনো ব্যাপারে) চাপিয়ে দেওয়ার বিপক্ষে আমি, আশা করি আমরা সবাই। আর সব ভাষাকেই সম্মানের চোখেই দেখি। তবে অধিক গুরুত্ব দিই নিজের মাতৃভাষাকে। কারণ মাতৃভাষায় ভাবতে পারি, অনর্গল কথা বলতে পারি, স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
ভারতের দক্ষিণ দিকে বসবাসকারীরা বা "দক্ষিণ ভারতীয়"রা হিন্দীকে কখনোই আমল দেননি সেভাবে। তাঁরা তাঁদের মাতৃভাষাকেই অধিক গুরুত্ব দেন। যদিও বিদেশী ভাষা "ইংলিশ"কে আমল দেন। তবুও তাঁদের হিন্দী ভাষায় আপত্তির গুরুত্ব দেন প্রায় সবাই।
কিন্তু অনেক (বলা ভালো অধিকাংশ) শ্রদ্ধেয় বাঙালীরা উঠতে বসতে হিন্দী গান শুনছেন, গাইছেন। সঙ্গে ইংরেজীও আছে অবশ্যই। বাঙালীরা হিন্দী সিরিয়্যাল দেখছেন, হিন্দী নিউজ শুনছেন, হিন্দীতে কথা বলছেন। অনেক স্কুলেই হিন্দী পড়ানোও হয়।
এখন কথা হলো তারপরেও হিন্দীতে আপত্তি কেনো!? অবশ্য একটা যুক্তি থাকতে পারে যে চাপানোর ব্যাপারটা মানছেননা। কিন্তু হিন্দী তো দাপটের সাথেই চলছে বাঙালীদের মাঝে! তাহলে আপত্তি কেনো!?
আর নিজের মাতৃভাষার প্রতি কতটুকু শ্রদ্ধা বা যথাযোগ্য সম্মান দেখাতে পারছি আমরা বাঙালীরা?
বলতে চাই
✍️বিপ্লব গোস্বামী
আজ তোমায় সেই কথাটি
বলে দিতে চাই,
যা চেয়েছি তাই তো পেয়েছি
আর কিছু নাই।
তুমি আমার অতি প্রিয়
হীরার চেয়েও দামী,
তোমায় কত বাসিভালো
তা জানে অন্তর্যামী।
তোমায় পেয়ে ধন্য জীবন
চাইনা কিছু আর,
প্রতি জন্মে চাই গো তোমায়
জন্মে বারংবার।
Naithok
✍️Kashmir Debbarma
Khumulungo___
Nini goron kwchak, kwkhwrang, kuphur
Nugui joto nono kha phur.
Sachwlang boyar ni logi
Nwngba thwngo chengwra
Nini nakhwrai mokol pengrwna.
Phududu nokha ni tola
Rekeui siyari pamtwi
Arono khapang kuwaktwi.
Ganao phang
Kotorma bwrwiphang
Lengnao aro nokphang.
Damsa lengnaui
Kongsa biri kusubui
Thango khumulungo kharui.
Kwlangkha khibiui
Ih phangno khibui
Thangkha khumulung o habui.
Ruwaiya mokol
Aisi yokya naiui naithothok
Khumulung ni ih goron no borokrok.
সুখ-দুঃখ
✍️তাহমিনা কোরাইশী
ঢিলেঢালা পোশাকের ফেরিওয়ালা
পৌঁছে দেয় ঘরে ঘরে যত কষ্ট যাতনা জ্বালা
দুঃখের সাথে মেলামেশায় আছে দারুণ মাখামাখি
সাদামাটা তার অবয়ব
ছুঁয়ে থাকতে কতই আপন আপন লাগে তারে।
আর সুখ আসে কেতাদুরস্ত অভজাত পোশাকে
শার্ট-প্যান্টে ফিট বাবুটি যেনো
সামনে এসে দাঁড়ায় ক্ষণকাল
যেনো শীতের অতিথি পাখি
তবুও আমার সরোবরে উল্লসিত উলুধ্বনি
সচরাচর তার নাগাল পাওয়া ভার
নাকাল সময়ে উড়ন্ত ডানায় দেবে সে উড়াল।
সুখ আর দুঃখের টানাপোড়েন এই এক জীবন
তবুও পাঁজরে জমে থাকে কতই না হাপিত্যাশ
দুখের সাথে নিত্যই ওঠাবসা ভালোবাসাহীন এক জীবন।
হায় সুখ!
সুখ সুখ বলে দুঃখেরই মাঝে করি আহাজারি!
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)