বর্জন

   ✍️ সাগর শর্মা
লেখা:- ৩০ ই জুন ২০২২ ইং
           (১৫ ই আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ)

প্রখর রোদের আলোয় পুড়তে পুড়তে
শুকিয়ে কঠোর হয় বারান্দাও,
চারিদিক এমনই পাষাণ মনে হয়!
শান্তিতে বসলেও দেহে তাপ লাগে-
                                নির্দ্বিধায় বর্জন করি তাকে।

কিংবা,অন্তরদহনে জ্বলতে জ্বলতে
বারান্দায় উদয় হয় বৃষ্টিবিন্দু
সামনের আয়নাও কপট মনে হয়,
সজোরে হাঁটলে পিছলে পড়ার ভয়-
                                 নির্দ্বিধায় বর্জন করি তাকেও।

সম্পাদকীয়, অক্টোবর

    ✍️.................................সম্পাদকীয়
শরৎকে ঋতুর রানি বলা হয়। এই সময় প্রকৃতি সাজে বাহারি ফুলে। নদীর দুই ধারজুড়ে শুভ্র কাশের বন। আর শরতের যৌবন শেষ হচ্ছে হচ্ছে বলে যে পরিবেশ তৈরি হয়, সেই পরিবেশে সৃষ্টি হয় শীতের যৌবন। এরই দুই ঋতুর মাঝে নিয়ে আসে দীপাবলির শত শত রঙের নানান আলো। ঘরে ঘরে জ্বলে উঠে কৃত্রিম মোমবাতি আর হাজার বছরের পুরোনো দিয়া। কিন্তু দীপাবলিতে কিছু একটা কম হচ্ছে, সেটা হল আমাদের মনের ঘরে আলো জ্বালাতে ভুলে যাই। হেমন্ত ঋতুর রজনীতে চারিদিক সুবাসিত হয় যে ফুলের সুমিষ্ট সুবাসে, সে ফুলের নাম ছাতিম ফুল। এই ফুলের গন্ধ যেন হাজার হাজার মাইল পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করে। ফুলের গন্ধ যেন আমাদের গাঁজা খাওয়ার নেশায় মাতিয়ে রাখে। হেমন্ত ঋতুর যৌবন ধরে রাখে এই ছাতিম ফুল। সব মিলিয়ে আমাদের দীপাবলির ঋতু যেন সজ্জিত এক রূপকথার পরি। যাইহোক, আমাদের নবোন্মেষ পত্রিকার অক্টোবর সংখ্যাও নানান কবিতা এবং গল্পের আলোয় সেজে ওঠেছে। যারা এই সংখ্যায় লেখা দিয়ে সংযুক্ত হয়েছেন, সবাইকে নবোন্মেষ পক্ষ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা। বিশেষ সহযোগিতায় কবি পান্থ দাস, সুমিতা বর্ধন।।
ধন্যবাদ ও শুভ কামনায়
গৌরাঙ্গ সরকার 
( সম্পাদক)
শিবশংকর দেবনাথ 
(সহসম্পাদক)
নবোন্মেষ পত্রিকা

পারের মেয়ে


              ✍️  অনুরাগ ভৌমিক

যেতে যেতে শুনবো পাশের বাড়ির কথা,

দেখবো চুলা থেকে ধোঁয়া উড়ে,
গরম ভাতের ঘ্রাণ;তারে শুয়ে আছে শাড়ি।

বিরাট সবুজ মাঠ, রোদের সমারোহ;

ডুব দেয়,ভেসে উঠে কিশোর কিশোরী।

ঢেউএ ঢেউএ ছুটে যাই আরও দূর, বহুদূর,

কত কত দৃশ্য,কথা,কর্ম জমা হয় ক্ষুদ্র এ বুকে;বয়ে চলি দিগন্তের দিকে।

শূন্য সব চারদিক,কাল গতিময়,বেলা কাটে চেয়ে চেয়ে,

দেখা হয়না আর,ব্যাথা নিয়ে ধেয়ে যাই, নদীর পারের মেয়ে

হৃদয়ের শুন্যতা

               ✍️কাজী নিনারা বেগম

ভেবেছ কি তুমি দূরে চলে গেছ  সবকিছু শেষ , 
না তুমি চলে গেছ কিন্তু তোমার আগোছালো ঘরে টেবিলে রাখা ডাইরির উপর।
 চিকচিক করা বেগুনি কলম খানা মনে করে দেয় তোমার সেই প্রেমের কবিতা খানা,
 এক হৃদয়হীন মানুষের কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে?
 এখনো রাত জাগি তোমার জন্য এক বুক শুন্যতা নিয়ে,
 রাতের নির্জনে নৈঃশব্দের চোরাচালানে। 
কখনো বা সেই রাতে ঘুমের ওষুধের নীল বীষে  শিরা উপশিরায় জড়িয়ে স্বপ্নের দেশে খুঁজে ফিরি,
আবার আমার আমিকে সঁপে দেই কখনো একান্তে নরম বিছানার কুল বালিশে।

মেয়েদের জীবন

  ✍️ মৃত্তিকা দাস

মেয়েরা সারাজীবন সবার কাছে             
            বোঝা হয়ে থাকে ,
নিষ্ঠুর সমাজ শুধু মেয়েদের
            অবহেলায় রাখে 
সব কাজেই মেয়েদের বাঁধা পেতে
 হয়, 
প্রতিটা মুহূর্তে কষ্ট তারা সহ্য করে রয়।
সমাজে মেয়েদের সঠিক কোনো
             পরিচয় থাকে না, 
কথায় কথায় তুচ্ছ ভাবে,সত্যিকারের 
              সম্মান করে না।
বছর বছর দেবী দুর্গার যারা 
            পূজা করে থাকে, 
তারাই আবার মেয়েদের ঘরের
     কোণে বন্দি করে রাখে।
সবাই বলে মেয়েরা নাকি হয়েছে
              এখন স্বাধীন, 
তাহলে নিরাপত্তার ভয়ে কেনো,
        থাকছে তারা পরাধীন?
বাবা মায়ের কাছে যে মেয়েরা 
           লক্ষী হয়ে থাকে, 
সেই লক্ষীকেই পরের ঘরে সবাই
          পায়ের নিচে রাখে। 
মেয়েরা নাকি মায়ের রূপ 
          একথা সবাই বলে, 
আবার তাকেই সবাই তুচ্ছ ভেবে
           মুখ ফিরিয়ে চলে। 
মেয়েদের নিয়ে কেউ করোনা
          এতো  হেলাফেলা, 
তাদের জীবন নিয়ে সবাই এবার 
           বন্ধ করো সব খেলা।
যেদিন মেয়েরা পাবে এই সমাজে              
              সমান অধিকার,
সেদিনই সমাজ থেকে মুছে যাবে সব অন্ধকার।

নব যুদ্ধবাজদের প্রতি


    ✍️ কৃষ্ণ ধন শীল 
                   
হে বীর যুদ্ধবাজ,
জেগে ওঠো আজ, 
এসেছে সময়,
তুচ্ছ করে মৃত্যু ভয়,
জেগে ওঠো জেগে ওঠো শুভের সাথে, 
সত্যব্রত হয়ে উজ্বল আলোক হাতে,
অহিংসা মনে আনো আর হও নিষ্ঠাবান,
হৃদয়ে একতার ধরো সুর-তান।

ভাঙতে হবে আজ যত বেড়াজাল,
প্রাচীর ভেদাভেদের,স্বার্থের মায়াজাল, 
অন্যায়কে করতে হবে আজ নিমেষে দমন,
সুখ বিলিয়ে দুঃখ জনের করতে হবে যে হরণ, 
হে প্রস্ফুটিত বীর তোমার হবে জয়, 
হিংসার আজ দেখি আমি নিশ্চিত পরাজয়,
ভীষণ যুদ্ধ করে সব যুদ্ধের শেষ টানো, 
প্রাচীন জটলা শিকড়ে ভয়ংকর আঘাত হানো।

মা


✍️ সুমন্ত দেব 

প্রথম আলো দেখা
প্রথম স্নেহ স্পর্শ অনুভব
নিশ্চিন্ত ঘুমের অনুভূতি
প্রথম হাসি ভরা মুখ
সব কিছুই তুমি মা।


জঠর জ্বালার অবসান
অমৃত জীবন সুধা পান
প্রথম মুখের বুলি
সেই চেনা গন্ধের টান
সব কিছুই তুমি মা।

দিনের শেষে কাজের অবসান
পরম আনন্দে তোমার কোলে
তোমার মিষ্টি কন্ঠে সোনা
ঘুমের দেশের সেই গান
সব কিছুই তুমি মা।

পৃথিবীর যত মায়া বন্ধন
মুখোশের আড়ালে থাকে
স্বার্থের মায়াবী মায়াজাল
একমাত্র নিঃস্বার্থ আপনজন
শুধুমাত্র তুমি মা।

দুঃখের সাথী ব্যথার আশ্রয়স্থল
আনন্দে বিরহে পরিবর্ধনে
কোলাহলে নীরবে নির্জনে
প্রতিটি মুহূর্তে ভরসারস্থল
সব কিছুই তুমিই মা।

মা তুমি সন্তানের অস্তিত্ব
মা তুমি সন্তানের ব্যক্তিত্ব
মা তুমি তুমি সৃষ্টির মূল তত্ত্ব
সব কিছুই তোমায় ঘিরে মা।

বড্ড একা

✍️ সুজন দেবনাথ

জীবনের অনেকটা পথ হেঁটেছি,
খুঁজে পাইনি আজও সেই পথ
যার বুক জুড়ে রয়েছে শুধু
নিঃস্বার্থ প্রেম আর ক্ষয়হীন ভালোবাসা।

হৃদয়ের গহীন কুন্ডে অদৃশ্য 
অনুতাপের তুষের আগুনে আমি দগ্ধা।
মাঝে মাঝে ভীষণ ইচ্ছে করে
জীবনের বুক চিরে নিজেকে
ছুড়ে ফেলি অসীম শূন্যতায়!

না পারিনি, আমি পারিনি তো
নিজের অস্তিত্ব কে বিলীন করে দিতে।
চাইনি কখনো কাপুরুষের মতো
নিজেকে নিয়ে বাঁচতে, 
তবুও শত চেষ্টায় আমি ব্যার্থ!
জীবনে আজও পারা যায়নি 
সবারে ঐক্যের বন্ধনে বাঁধতে।

সুভাষীনি

 ✍️ সুখ চন্দ্র মুড়াসিং (সুখময়)

                         সুভাষীনির সুবাসে কিছু পুরুষ লোকের  জিহ্বা লক লক করলেও সুভাষীনি মচকাবে তবু ভাঙ্গবেনা।  ভাঙ্গবেই বা কি করে , যৌবনের শুরুতেই সংঘাতিক ভুল করে ভেঙ্গে ছিল।একমাত্র মেয়ে সমাদরেই বড় হয়েছে , পড়াশোনা মোটামুটি ভালো রাজধানী শহরের নামী মহাবিদ্যালয়ে অনার্স নিয়ে পড়তে আসার কয়েক মাসের মধ্যে এক সুঠাম সুপুরুষ যুবকের প্রেমে পড়ে ভাসতে লাগল। যুবকটি পরিপাটি সাজে দামী গাড়ী চালিয়ে সুভাষীনিকে নিয়ে দূর ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়ত,দামী রেষ্টুরেন্টে দামী খাবার খাওয়াতো, বন্ধুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিত।সুভাষীনি উদ্বেল প্রেমে মরমে গেলেও যুবকটি নিরুত্তাপ ! সুভাষীনিকে বুঝিয়ে বলত "বেশী পাগলামি করোনা পড়াশুনার ক্ষতি হবে", আগবাড়িয়ে কখনো হাত বাড়ায়নি দু'য়েকটি চুমুর মধ্যেই সংযত থাকত।                                                     এই ব্যবহারেই সুভাষীনি আরো দুর্বার হয়ে পড়ল, ফাইনাল পরীক্ষার পরদিনেই সুভাষীনির  চাপাচাপিতে যুবকটি কোর্ট ম্যারেজে বাধ্য হল। মা বাবা যখন জানতে পারলো তখন সুভাষীনি দু'মাসের অন্তঃসত্ত্বা।মা বাবার দুঃখ হল _ স্বাধীন বাংলাদেশে মানিয়ে নেওয়ার বহু চেষ্টা করেও যখন অসম্ভব হয়ে উঠল তখন খালি হাতেই এদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। অনেক কায়িক পরিশ্রমের ফলে আজ একটু থিতু হতে পেরেছে , কিন্তু মেয়েটি ; কন্যা সম্প্রদান করে এক ফোঁটা আনন্দ অশ্রু ফেলতে দিলনা !                                      খোঁজ  নিয়ে জানাগেলো ছেলেটি ড্রাগ পাচরকারি , লোকচোখে ধুলো দেবার জন্য মেয়েটিকে ব্যবহার করত। সুভাষীনির চাপাচাপিতে যুবকটি সব স্বীকার করে বলল : এ পথ থেকে সে ধীরে ধীরে সরে এসে অন্য ব্যবসা শুরু করবে । দ্বিতীয় সন্তান যখন পেটে তখন সুভাষীনির মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল!  অভয়নগর ব্রিজের নিচে স্বামীর ক্ষত বিক্ষত নিথর দেহ পড়ে আছে ! জমানো টাকায় কয়েক বছর টেনেটুনে সংসার চালানোর পর স্থানীয় এক নেতার সাহায্যে ডিম সাগরের পাড়ে টং দোকানে সকল দূপুর চা টিফিন সন্ধ্যায় তেলে ভাজার ব্যবসা শুরু করল।নেতার হাত যখন মাথার উপরে তখন চিন্তা কিসের ? মাঝে মধ্যে রাতের অন্ধকারে নেতা বাবুকে দৈহিক দক্ষিণা দিতে হয় তাতে কি , যৌবন এখনও ঢলে যায়নি!

হেমন্ত

✍️ মনচলি চক্রবর্তী 

 মিষ্টি মিষ্টি  সোনামাখা  রোদে 
মন ভরে উঠে আনন্দে।
এসে গেছে গেছে হেমন্ত
জানান দেয় বিকেল পরন্ত।
  শীতল হাওয়া বয়ে যায় 
দারুণ এক শিহরণ দিয়ে  যায়। 
সুন্দর উজ্জ্বল প্রভাত
মেঘ হীন নীল আকাশ।
সূর্যের মিষ্টি  হাসিতে 
খুশীর প্রকাশ। 
পাখিরা ডাকে নদীর কূলে কূলে, 
গান করে গাছের ডালে ডালে।
প্রজাপতিরা  ফুলে ফুলে আনন্দে
নেচে যায় তালে ছন্দে। 
আজ দোল লেগেছে মনে  প্রাণে
প্রকৃতির পরশ লাগে সোনালী ধানে।

কেউ শোনেনা

 ✍️ কৃষ্ণকুসুম পাল

আমি পাহাড়কে বলি-
আনন্দে নাচো,
আমি সাগরকে বলি-
ধ্যানে মৌন হও,
আমি বাতাসকে বলি-
তুমি ঘুমাও,
আমি আকাশকে বলি-
তুমি কথা কও।
             #
কেউ শোনেনা কথা,
সকলে ভাবে আমি পাগল,
শুধু তুমি আমার সব শোন,
তাই তুমি আমার পাহাড়,
তাই তুমি আমার সাগর,
তাই তুমি আমার বাতাস,
তাই তুমি আমার আকাশ,
তুমি প্রেম,তুমি প্রাণ,তুমি জীবন।

কোনো এক দিন

✍️ স্বপন দেবনাথ 

কোনো এক দিন, কোনো এক হেমন্ত বা বসন্তের পরশে,
যদি হয় তোমার সাথে দেখা এই পৃথিবীর পরে ;
যদি হয় তোমার সাথে প্রেমালাপ কৃষ্ণচূড়ার নীচে
তবে দুজনেই হারিয়ে যাব প্রেমের অতল সমুদ্রে।
তখন দুজন দুজনার দৃষ্টির স্বাদ আস্বাদন করব 
একে অপরের ভালোবাসার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে।