সম্পাদকীয় প্রতিবেদন
১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। চুরুলিয়া গ্রামটি আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া ব্লকে অবস্থিত। পিতামহ কাজী আমিন উল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি।
বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার। তার কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। নজরুল ইসলামকে বিদ্রোহী কবি ও বলা হয় কারণ কাজী নজরুল ইসলাম তারা কবিতার মাধ্যমে পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উচ্চারিত করেন। অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তিনি প্রবল প্রতিবাদ করেন।
যাদের লেখনীতে নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার নজরুল জন্ম জয়ন্তীর বিশেষ সংখ্যা "বিদ্রোহী " সম্পূর্ণ হয়েছে তাদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আপনাদের কলম হয়ে উঠুক বিদ্রোহী।
ধন্যবাদান্তে
গৌরাঙ্গ সরকার ( সম্পাদক )
শিবশঙ্কর দেবনাথ ( সহ সম্পাদক)
কবি নজরুল
✍️মনচলি চক্রবর্তী
বিদ্রোহী
কবি তুমি নজরুল,
দিয়েছ তুমি অজস্র সুন্দর সৃষ্টি, ভুলায়াছ সবাকার মন
আপোষ করনি কখনো অন্যায়,অবিচারের সাথে
মাথানত হয়নি কখনো
পরাধীনতার শিকলে
তোমার লেখনীখানিই ছিল
তোমার প্রতিবাদের নিরন্তর পথচলার হাতিয়ার
সৃষ্টিতে কবি তুমি অতুলনীয়
প্রতিটি হৃদয় তোমার সৃষ্টিতে আলোড়িত,
প্রনমি তোমায়
হে কবি আমরন
স্মরি তোমারেই চিরন্তন।
কালজয়ী নজরুল
✍️শাশ্বতী দেব
মনীষীদের মধ্যে তিনি অন্যতম,
ভেদাভেদ করতেন না যিনি হিন্দু-মুসলিমের মাঝে
যাঁকে স্মরণ করি তাঁরই কীর্তি দিয়ে,
যিনি মানতেননা মূর্তিপূজো।
সুদূর প্রসারী জ্ঞানে সমৃদ্ধ ছিল যাঁর লেখা,
বিদ্রোহের ছাপ ছিল যাঁর লেখায়
কালজয়ী কবিতা লিখেগেলেন যিনি,
ফুটে উঠত যাঁর লেখায় মানবতার কথা।
জ্ঞান ছিল যাঁর বহুভাষায়,
সাম্যবাদী কবি নামে হলেন যিনি খ্যাত
করলেন যিনি বহু গান রচনা,
স্রষ্টা যিনি বহু কবিতার।
প্রতিভা ছিল যাঁর বহুধা বিস্তৃত
লেখনশৈলী ছিল যাঁর অসাধারণ।
ভূতের খোঁজে শ্মশানে
✍️ প্রীতম ভট্টাচার্য
আজকাল হয়তো আমরা সবাই ইংরেজ হয়ে গেছি। তাই বাংলা ক্যালেন্ডার এর কথা আমাদের মনে নেই। আর তিথি মনে থাকার তো প্রশ্নই নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকার চারদিকে । প্রথমে ভাবলাম অমাবস্যা। তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমার ধারনা ভুল। অন্ধকার দূর করার জন্য চাঁদটা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে । কিন্তু মেঘের সাথে লুকোচুরিতে জিততে পারছে না।
জানালা দিয়ে চাঁদের কিঞ্চিৎ আলো আমার ঘরেও ঢুকছে । আমাদের এখানে মশার যন্ত্রণা একটু কম। যদিও আগরতলা শহরে এই কথাটা অবাস্তব শোনাবে। কিন্তু এটাই ঠিক। এমন ও হতে পারে মশারা ভূতকে ভয় পায়। কারণ আমাদের বাড়ি শ্মশান , হেঁটে গেলে মাত্র পাঁচ মিনিট। একেবারে কাছাকাছিই বলা যেতে পারে। আজকাল বিদ্যুৎ খুব চঞ্চলতা দেখাচ্ছে। এমনিতেই মেঘলা আকাশের জন্য ভ্যাপসা গরম। মধ্যরাত হয়ে গেছে কিন্তু ঘুম আসছে না। এমনিতেও একেবারে অন্ধকারে আমার ঘুম আসতে চায় না। বিদ্যুৎ থাকলেও একটা ছোট লাইট জ্বালিয়ে রাখি।
একটা হ্যারিকেনটা মিট মিট করে জ্বলছে টেবিলে ।ঘুম যখন আসছে না। ভাবলাম উঠে যাই। কিছু লেখালেখি করি। ইদানিং ভূতের গল্প লেখার খুব ঝোঁক এসেছে মাথায় । গল্পটা অর্ধেক লেখা হয়ে গেছে । শেষের দিকটা কি লিখবো সেটা ভাবতে গিয়ে হঠাৎ মাথায় একটা প্রশ্ন আসলো, অশরীরী বলতে আসলেই কি কিছু আছে ? মানুষ কে আনন্দ বা ভয় দেওয়ার জন্য আমরা লেখকরা গল্প লিখে থাকি। সেটা ঠিক। কিন্তু...... প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খেলেও সঠিক উত্তর আমার জানা নেই । কিন্তু অনেকেই বলে মধ্যরাতে নাকি শ্মশানে ভূত, প্রেত, অশরীরীরা হেঁটে বেড়ায় । আমার বাড়ির কাছাকাছিই নদীর পাড়ে একটা শ্মশান আছে। কিন্তু রাতে কখনো সেখানে যাই নি। তাই কথাটা কি আদৌ সত্য ? নিজে পরীক্ষা করে দেখিনি।
আজ বাড়িতে কেউ নেই। মা থাকলে হয়তো নিষেধ করতেন। এতো রাতে বাড়ি থেকে বের হতে দিতেন না।ধীর পায়ে শ্মশানের দিকে হাঁটতে লাগলাম । খুব গরম বলে একটা গামছা নিয়ে নিলাম। বার বার ঘাম মোছার জন্য।
সম্পূর্ণ জনমানবহীন রাস্তা । অবশ্য এই রাত বারোটার সময় রাস্তায় কেউ থাকার কথা ও নয়।
নদীর পাড় ঘেঁষে ছোট একটা শ্মশান । কোনোরকমে বেড়া দিয়ে বুঝানো হয়েছে এতটুকু শ্মশানের জায়গা । দু’একটা কুকুর দেখা যাচ্ছে এদিক ওদিকে । মানুষ পোড়ার আঁশটে গন্ধ পুরো শ্মশান জুড়ে । সন্ধ্যার দিকে হয়তো কাউকে পোড়ানো হয়েছে এখানে। চিতা থেকে এখনো হাল্কা হাল্কা ধোঁয়া উঠছে। ভূতের সন্ধানে দশ মিনিট ধরে এদিক ওদিকে ঘুরলাম। কই না কাউকে দেখতে পেলাম না। ভাবলাম কিছুক্ষণ দাঁড়াই। আবার কিছুক্ষণ হাঁটলাম, না। কেউ নেই। কিছুক্ষণ আগে একটা লাশ পোড়ানো হল। শ্রাদ্ধ টাদ্ধ কিছু হয় নি এখনো। ভূত রূপে তো তার দেখা মেলার কথা। ভূতেরা তো শুনেছি শ্মশানেই থাকে। আগের ভূত গুলিই বা কোথায়? নাহ্ , কিছুই তো দেখতে পাচ্ছি না । তাহলে কি ভূত বা অশরীরী বলে কিছুই নাই?"
এ যাত্রায় কোন লাভ হল না। বাড়ি ফিরে এলাম ।
পরদিন দুপুরে খগেন্দ্র দাদুর সাথে দেখা হল পথে । এই এলাকার বয়স্ক লোকদের মধ্যে একজন। বহুদিনের বহু ঘটনা উনার কণ্ঠস্থ। মাঝে মাঝে আমাদের বলে শোনান।
বয়স আশি ছুঁই ছুঁই হলেও আমাদের বয়সী ছেলেদের সাথে উনার ভালই যোগাযোগ। ভালই মেলামেশা।
দাদুকে দেখেই আমি জিজ্ঞেস করলাম - আচ্ছা দাদু , অশরীরী বলতে কি কিছু আছে ?
আত্ম বিশ্বাসের সাথে দাদু জবাব দিল- আছেই তো । থাকবে না কেন?
দাদুর কথা শুনে মনে হল, ভূতেরাও বুঝি মানুষ। আর আমরা যেমন পৃথিবীতে আছি, ভূতদের ও এভাবে থাকতেই হবে।
বললাম- কাল তো মধ্যরাতে আমি শ্মশানে গেলাম । কিছুই তো দেখতে পেলাম না ।
দাদু বললেন - ওদের কি সবসময় দেখা যায় ?তোমার দেখার ইচ্ছে ছিল বলে তুমি শ্মশানে গেছো। তবে ভূতদেরও তো ইচ্ছা থাকতে হবে, তোমাকে দেখা দেবার।
দাদুর কথাটা যুক্তি সঙ্গত মনে হল। কারোর সাথে দেখা করার ইচ্ছা না থাকলে আমরাও তো ব্যস্ততা দেখাই। তবে অমাবস্যার দিন রাতে গিয়ে দেখতে পারো ।
দাদু চলে গেলেন ।
বাড়ি এসে পঞ্জিকা খুলে দেখলাম। আগামী পরশু দিন অমাবস্যা।
মধ্যরাত ।
চারিদিক নিশ্চুপ । গত পরশু দিনের মত আজও শার্টের উপর গামছা গায়ে জড়িয়ে রাত বারোটায় শ্মশানের দিকে হাঁটতে লাগলাম । শ্মশানের আশেপাশে আর কোন বাড়ি ঘর নেই । ঝোঁপ জঙ্গলে ভরা চারপাশ । আমি শ্মশানে ঢুকলাম ।একটা চেয়ার পড়ে আছে । চেয়ারটাতে গিয়ে বসলাম । সম্পূর্ণ নীরব জায়গা । একটা পাখির ডাকও শোনা যাচ্ছে না । দিনের বেলাতেই এই শ্মশানের চারপাশ দিয়ে কেউ হাটেঁ না ভয়ে, আর আমি এত রাতে শ্মশানের ভিতর ঢুকে বসে আছি ।ভূত দেখার আশা নিয়ে। মানুষ শুনলে নির্ঘাৎ আমাকে পাগল বলবে ।
"নাহ্ , বিশ মিনিট তো হয়ে গেল । অদ্ভুত বা ভয়ংকর কিছু তো দেখতে পাচ্ছি না ।"
অগত্যা বাড়ি ফিরে আসলাম ।
অশরীরী দেখার চিন্তা বাদ দিয়ে অসম্পূর্ণ গল্পের দিকে মন দিলাম । কিন্তু অনেক ভেবেও গল্পের শেষ অংশটা মিলাতে পারলাম না ।
লেখার মন মানসিকতা অনেক সময় পরিবেশের উপর নির্ভর করে ।
কথাটা মনে পড়তেই ভাবলাম আবার একবার শ্মশানে ঘুড়ে আসি। এবার নিশ্চয় ভূতের দেখা পাব। সবাই বলে শ্মশানে ভূত থাকে। সবার কথা তো ভুল হতে পারে না।
শ্মশানের সামনে এসেই মনটা পাল্টে ফেললাম। এখান থেকে আরেকটু সামনে একটা জাম গাছ আছে। বছর কয়েক আগে সেখানে নাকি একটা ছেলে ফাসি দিয়েছিল। দ্বাদশের পরীক্ষা ভালো হয়নি বলে । পরে নাকি ফল বেরোনোর পর জানা গেছিল ছেলেটা ৮৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছিল। বেচারা! অনেকেই নাকি সেখানে ভূত দেখেছে। একজন দেখলে মনে করতাম মনের ভ্রম। অনেকের তো আর ভুল হতে পারে না। নিশ্চয়ই সেখানে ভূত আছে।
দেখা যাক ভূতের দেখা পাই কিনা। হাঁটা শুরু করলাম সেই দিকে । জায়গাটা অনেক নির্জন ।শ্মশানের মতই। সম্পূর্ণ ভৌতিক একটা পরিবেশ । আমার ধারনা ওখানে গেলে হয়তো গল্পের শেষ অংশটা মাথায় আসতে পারে ।
জাম গাছের তলায় গিয়ে দেখি চাদর গায়ে দিয়ে বসে কে যেন কি লিখছে খাতায় । অবাক হলাম খুব । গাছটা রাস্তা থেকে তিন চার মিটার দূরে। রাস্তার লাইটের যে আলো, তাতে ভালো করে কিছু দেখা যাবার কথা না। এত রাতে লোকটা গাছের তলায় বসে কী লিখছে ?দেখে মনে হল , বয়স বেশী হবে না। সে ও কি আমার মত ভূত দেখতে এসেছে নাকি?
জোর গলায় জিজ্ঞাসা করলাম,"এই যে, তুমি কে ভাই ? এত রাতে এখানে কী করছো ?"
ছেলেটা কিছু না বলে সোজা হাঁটতে লাগলো । আমিও ছেলেটার পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগলাম । হাঁটতে হাঁটতে একেবারে শ্মশানের সামনে চলে আসলাম । কিন্তু হঠাৎ করে ছেলেটাকে আর দেখতে পেলাম না । এভাবে কেউ হঠাৎ-ই গায়েব হয়ে পারে? বিশ্বাস হচ্ছিল না । আজ ও শ্মশানে একটা লাশ পোড়ান হয়েছে। চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর ধোঁয়া । আরে এক্ষণ আবার কে মরলো কিছুক্ষণ আগে আমি এই শ্মশানে এসেছিলাম ভূতের খোঁজে। কই? তখন তো এমন কিছু দেখতে পাইনি। ঘন্টা খানেকের মধ্যে এ কি করে সম্ভব? কিন্তু আমার লেখা অসম্পূর্ণ গল্পটা নতুন এই চিতা নিয়েই ।নিভন্ত চিতাটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম।
হঠাৎ একটা বিড়াল কোথা থেকে না জানি আমার সামনে এসে ঝপ করে পড়ল। কুচকুচে কালো বেড়ালটার চোখ দুটো খুব উজ্জ্বল। সামনে কোন গাছ টাছ ও নেই।
হঠাৎ আমার মনে হল আমার পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে । তার নিঃশ্বাসের শব্দ আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি । কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য তার অনুভূতিগুলো কেন যেন আমার অনুভূতিগুলোর সাথে মিলে যাচ্ছে । এই প্রথম ভয়ে আমার শরীর কেঁপে উঠলো । ধীরে ধীরে পিছনে ফিরে তাকালাম । তাকিয়ে দেখি আমার সামনে একটা ছেলে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছি ।ছেলেটার চেহেরা একদম আমার অল্প বয়েসের চেহেরার মত। দৃশ্যটা দেখে কাপঁতে কাপঁতে আমার হাত থেকে মোবাইল টা পড়ে গেল । ভয় পেলেও সাহস হারাই নি। রাস্তার লাইট গুলো ও একবার জ্বলছে একবার নিভছে। কি হচ্ছে বুঝতে পারছহিনা। মাটি তে পড়ে যাওয়া মোবাইলটা হাতে তুলে নিলাম। ছেলেটি আবার হাটতে শুরু করল ওই জাম গাছটার দিকে। আমিও তার পিছু নিলাম। ভূতকে যে আমি একেবারে ভয় পাইনা , তা নয়। কিন্তু গলায় পৈতা আছে বলে ভূত আমাকে হয়ত ভয় দেখাতে পারবে কিন্তু স্পর্শ করতে পারবে না । এমন একটা বিশ্বাস আছে।
ছেলেটার পিছে পিছে দৌড়াতে দৌড়াতে আমি চিৎকার করে চলছি, কে তুমি? দাঁড়াও, দাঁড়াও। কে শুনে কার কথা। তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে ছেলেটা একেবারে জামগাছটার তলায় পৌঁছে গেল। আগে থেকেই একটা দড়ি ঝুলছিল জাম গাছটায়। ছেলেটা সোজা এই দড়িটাতে গলা গলিয়ে ঝুলে পড়ল। আর এই অবস্থাতে ও চিৎকার করে করে হাসছে।
শ্মশানের সামনে ছেলেটাকে দেখে একটু ভয় পেয়েছিলাম বটে। কিন্তু এখন ভয় কেটে গেছে। আমি এবার নিশ্চিত যে এই ছেলেটাই ভূত। যাক আমার অনেকদিনের ভূত দেখার ইচ্ছা পূর্ণ হল।
ছেলে ভূতটা ও বুঝতে পারল, আমাকে ভয় দেখিয়ে কোন কাজ হচ্ছে না। তখন ফাঁসির দড়ি খুলে নেমে এলো।
আমি জিজ্ঞেস করলাম- তুমি কে?
ছেলে ভূতটা আবার হাসতে শুরু করল। কি মারাত্মক হাসি। এই হাসি যেন থামতেই চাচ্ছে না। হাসতে হাসতে জবাব দিল- এখনো কি বুঝতে পারছেন না, আমি হলাম ভূত। এখন এই জাম গাছেই থাকি।
- তোমার কথা আমি শুনেছি।
- কি শুনেছেন আমার ব্যাপারে?
- তেমন কিছু না। তুমি ফাসিতে আত্মহত্যা করেছিলে, পরীক্ষার ফল খারাপ হবে ভেবে।
ছেলেটি আবার অট্ট হাসি হাসতে লাগলো। এতো জোরে হাসতে লাগলো যে আমার কান ফেটে আসছে। হাসতে হাসতে বলল- আমি যা ভেবেছি, তাই ঠিক হল। সবাই মনে করেছে আমি পরীক্ষার খারাপ ফলের জন্য ফাঁসি দিয়েছি। যাক একদিকে ভালোই হল।
ছেলেটার কথাবার্তা আমার মনঃপুত হল না। কি বলছে ঠিক ভাবে বুঝতেও পারছি না।
জিজ্ঞেস করলাম- কি বলেছ? বুঝতে পারছি না।
- আসলে পরীক্ষা নয় আমি আত্ম হত্যা করেছি অন্য কারণে।
- পরীক্ষার ব্যাপারটাই তো আমরা জানি। তাহলে?
- আমার আত্ম হত্যার কারণ মৌমিতা।
- কোন মৌমিতা?
- মৌমিতা সরকার।
মৌমিতা সরকারকে আমি চিনি। খুব সুন্দরী আর ভদ্র টাইপের মেয়ে।পড়াশুনায় ও ভালো। তার বাবা দুপুরের স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
সন্দেহের কণ্ঠ্যে বললাম- কিন্তু?
আবার জোরে জোরে হাসতে লাগলো ছেলেটি। বলল- কিন্তুর কী আছে? আমার কথা বুঝি আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না।
- না না, বিশ্বাস হবে না কেন? আসলে আমার মনে হয় তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে। মেয়েটার বাড়ি তো আমাদের বাড়ি থেকে কয়েকটা বাড়ি পরে, ছোট বেলা থেকেই চিনি। তাই বলছিলাম।
- আপনি কিছুই জানেন না। মেয়েটা একটা ফাজিল।তাকে আমি খুব ভালবাসতাম। সে যে আমাকে ধোঁকা দেবে বুঝতে পারিনি। কখনো কখনো মনে হয় ওকে শেষ করে ফেলি। কিন্তু পারি না। মন মানে না।
- তা, এসব কথা আমাকে বলছ কেন?
- আগেও সত্য কথাটা কয়েকজনকে বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাকে দেখেই সবে ভয়ে পালিয়েছে। এমন কি আমার নিজের বাবাও। আজ অনেক দিন পর আপনাকে পেলাম। আপনি ভয় পান নি। তাই আপনাকে বলছি।
- আমাকে কি করতে হবে?
- আপনি আর কি করবেন? আপনাকে কিছু করতে হবে না। সত্য কথাটা জেনে রাখুন। আমাকে নিয়ে একটা গল্প লিখুন। আপনার মত অনেকেই যেমন জানে মৌমিতা খুব ভালো একটা মেয়ে। এই ধারনাটা বদলাক এটা আমি চাই।
- তা তো ঠিক আছে। কিন্তু নাম টাম ঠিক ঠাক লিখলে। কেউ যদি আমার নাম এ মামলা করে?
- এমন কিছুই হবে না। আমি কথা দিচ্ছি।
- ধরো মামলা হল। তখন ভূতের কথা কি আদালত শুনবে?
- তাহলেও আপনাকে সত্য কথাটা বলবো।
আমরা একই ক্লাসে পড়তাম। আমার তৈরি করা নোট লিখেই ও ভালো রেজাল্ট করত। ক্লাস সেভেন থেকেই আমাদের প্রেম। আমরা দুজন ছাড়া কেউই এই ঘটনা টা জানত না। কিন্তু আমার সাথে ও বিশ্বাস ঘাতকতা করল। একাদশ শ্রেণী তে সাব্রুম থেকে বিজয় নামে একটা ছেলে এসে আমাদের স্কুলে ভর্তি হল। মাঝে মাঝে দেখতাম ওরা দাড়িয়ে কথা বলে। আমি সন্দেহ করিনি। একই ক্লাসে পড়ে কথা তো বলতেই পারে। সন্দেহ করার কি আছে? কিন্তু আমি কি আর জানতাম?
টুয়েলভে উঠার সময় বিজয় আমার কাছাকাছি নম্বর পায়। তখনই আমার সন্দেহ হয়। পরে যখন সৈকত স্যার আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করল- কি কে আকাশ- তুই আর বিজয় কি একই মাস্টারের কাছে পড়িস? আমি কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম- কেন স্যার? স্যার বললেন- তোদের উত্তর গুলি দেখি একই রকম। আমার আর বুঝতে বাকি থাকে না। আমার নোটস আমি নিজে তৈরি করি। মৌমিতা আমার খাতা নিয়ে যায়। তাহলে এই নোটস বিজয়ের কাছে গেল কি করে।
আমি বললাম- তুমি মৌমিতাকে এই বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করোনি?
- করেছিলাম, কিন্তু ও অস্বীকার করেছিল। তবু আমার মন থেকে সন্দেহ দূর হয়নি। এভাবেই আরও কয়েক মাস কেটে যায়। টুয়েলভে আমি মৌমিতাকে কোন নোট দিই নি। নোটস এর কথা জিজ্ঞেস করলে বলি, এ বছর আমি কোন নোটস বানাইনি। এ বছর আমি বই থেকে পড়ব।
- আসলে বই থেকে পড়াই ভালো।
- একদম। নোটস কিন্তু আমি বানিয়েছিলাম কিন্তু ইচ্ছা করেই ওকে দেইনি। ওকে দেওয়া মানে তো বিজয়কে দেওয়া। একদিন সন্ধ্যায় বিজয় আমাকে কল করে বলে, ওকে নোটস না দিলে ও মৌমিতাকে লেখা আমার প্রেম পত্র গুলি আমার বাবাকে দেখাবে, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে দেখাবে। একই ফোনে মৌমিতা ও ছিল, সে ও একথা বলল। সে নাকি আমার নামে বানিয়ে বানিয়ে উল্টা পাল্টা কথা আমার বাড়িতে আর স্কুলে জানাবে। আমি কি করব কিছু বুঝে উঠতে পাড়ছিলাম না। আমার তেমন কোন কাছের বন্ধু ও ছিল না , যার সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করতে পারি। আর কোন দিন মৌমিতার বিষয়ে কাউকে কিছু বলিনি। এখন বললেই বা কি বলব। সবাই আমাকে খুব ভালো ছেলে বলে জানে। আমি প্রেম টেম করি লোকে জানলে কি বলবে। মৌমিতা দের পাশের গলিতে ওকে একবার চুমু দিয়েছিলাম। ওটার ও নাকি ফটো তোলা আছে বিজয়ের মোবাইলে। আর কি- একদিন রাতে মার শাড়ি নিয়ে চলে আসি এই জাম গাছতলায়।
আকাশের কথা শুনে আমার মনটা ভেঙ্গে গেল। মেয়েরা এভাবে বিশ্বাস ঘাতকতা করলে তো অসুবিধা। মেয়েরাই শুধু নয়। ছেলেরাও অনেক সময় বিশ্বাসঘাতকের কাজ করে। মেয়ে হোক আর ছেলে বিশ্বাসঘাতক দের কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার। বিশ্বাস ঘাতকদের আরও অনেক ঘটনা আমি জানি। আমার বন্ধুদের থেকে শুনেছি। কিন্তু তাই বলে কেউ ফাঁসি দেয় নি। আসলে বয়েসের ও একটা ব্যাপার আছে। মানসিক ভাবে প্রাপ্ত বয়স্ক না হলে এসব থেকে দূরে থাকা উচিত।
সান্ত্বনার স্বরে বললাম- তুমি সবাইকে জানিয়ে দিলেই পারতে। খামখা ফাঁসি দিতে গেলে কেন?
- আমার ও এখন তাই মনে হয়। কিন্তু তখন তা মনে আসে নি। তথন মনে হল, এই জীবন রেখে আর লাভ নেই। যে জীবনে প্রেম নেই। বদনাম আর বদনাম।
- তুমি বদলাও তো নিতে পারতে-
- মাঝে মাঝে মনে হয়। কিন্তু হয়ে উঠে না। পারি না। আমি মনে হয় এখনো ওকে ভালোবাসি। কেন জানি না। ও একটা বাজে মেয়ে। বিজয়কে ও ও ধোঁকা দিয়েছে, তারপর নীলাভ বলে একটা ছেলের সাথে প্রেম করত। এখন আবার অলিন্দ নামের একটা ছেলে।
-
হায়রে ভালবাসা......সকাল হয়ে আসছে।একটু ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা বাতাস বৈছে। সারা রাত ঘুমাই নি। শরীরটা ও দুর্বল লাগছে।কিছু না বলেই আকাশ অদৃশ্য হয়ে গেল।
বাড়ি ফিরতে খগেন্দ্র দাদুর সাথে দেখা। সকাল সকাল সূর্য না উঠতে তিনি হাটতে বের হন। তাই এই বয়েসে ও শরীরটা ধরে রেখেছেন।
আমি বললাম- কি দাদু? এতো সকাল সকাল-
- আমি তো রোজ সকাল সকাল ই বের হই। তুমি এতো সকালে কোথায় যাচ্ছ?
মজা করে বললাম- শ্মশান থেকে আসছি। একটা পেত্নীর সাথে দেখা করে এলাম। সুন্দরী পেত্নী।
- তা। ঐ পেত্নীর নামটা কি?
- মৌমিতা।
মৌমিতার পেত্নী হবার সম্ভাবনা আপাতত নেই। কারণ সে অনেক বছর বাঁচবে। এই মাত্র তার নাম নিলাম। আর হেলমেট আর মাস্কে মুখ ঢাকা একজনের বাইকের পেছনে করে ও কোথায় যেন যাচ্ছে। বয়েসের হিসাবে এখন কলেজে পড়ার কথা। আঁটোসাটো পোষাকে ওর ভরন্ত যৌবন দেখলে যে কোন কারোরই ওর প্রেমে পড়ার কথা। আমি আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকালাম।
বিদ্রোহী নজরুল
✍️ সুমিতা স্মৃতি
বিদ্রোহী কবি নজরুল তুমি, গাই তোমার গান।
তোমার প্রতিবাদী কাব্য সম্ভার জাগায় প্রাণে প্রাণ।।
মানব জাতিকে দেখিয়েছ তুমি নতুন পথের দিশা।
আলো এনেছ তাদের জীবনে, যাদের জীবনে ছিল শুধু অমানিশা।।
সাম্যের গান গেয়েছ তুমি, বুকে রেখে বল।
বিরূপ পরিস্থিতিতেও তুমি হওনি কভু দুর্বল।।
আজীবন গেয়েছিলে তুমি মহামিলনের গান।
জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক সমান।।
সাহিত্য, সঙ্গীত সর্বক্ষেত্রেই তোমার সমান অবদান।
সাম্যবাদী ও সর্বহারাতে দরিদ্রদেরকে দিয়েছ প্রধান স্থান।।
তোমার সৃষ্ট রচনাবলী মনে জাগায় শিহরণ।
প্রতিবাদী সাহিত্য রচনার বীজ তুমিই করেছ বপন।।
দুখু মিঞা তোমার দুঃখ কথা শেষ হল না এই জীবনে।
আজও তুমি সমান দীপ্তিতে বিরাজমান বাঙালীর মনন ও চিন্তনে।।
কবি নজরুল
✍️সুপর্ণা মজুমদার
বিদ্রোহী কবি তুমি
তুমি নজরুল,
বিশ্ব বরেণ্য তুমি
তুমি হিল্লোল।
হিমাদ্রি শিখর তুমি
তুমি বহ্নিশিখা,
সাগর কল্লোল তুমি
তুমি রক্ত লেখা।
রাধিকার প্রেম তুমি
শ্যামের বাঁশরী,
কালিকার কীর্তন তুমি
বাংলার কেশরী।
যোদ্ধার কাণ্ডারী তুমি
বাংলার পলাশী,
রক্তে যেথা লাল হল
ক্লাইবের অসি।
তুমি নটরাজ, উদ্যাম তুমি
ভেঙে করো ছাড়খার,
পল্লীজননী,ভাটিয়ালি তুমি
তুমিই মাঝির দাড়।
স্নিগ্ধ কোমল তুমি
তুমিই দামাল,
ইসা-মসির রহিম তুমি
গোঠের রাখাল।
সংগ্রামের হাতিয়ার তুমি
বিজয়ের জয়টীকা,
নূতন প্রভাতের সূর্য তুমি
তুমি দিগন্তের রেখা।
সবার মাঝে রয়ে গেছ কবি
তবু তুমি আজ মুক্ত,
প্রণাম জানায় তোমায় বীর
এ বিনিত চিত্ত।
আবার আসো নজরুল
✍️সাধন নমঃ
তোমা বিনা চলে না কলম,উঠে না হাতে অসি
তোমা বিনা গায় না কেহ সেই উত্তপ্ত অগ্নি গানখানি।
কবে আসবে বলো?কবে গাইবে সেই বিষের গান?
কবে আবার উত্তপ্ত করবে সেই তরুণ তাজা প্রাণ।
দেশ ভরেছে কালো আঁধারে, বলছে কথা কাক
শ্রেষ্ঠ মুখের অধিকারীরা আজ বড়ই নির্বাক।
ভরে গেছে পাপে দেশ,বিষিয়েছে সেই বায়ু
ঘুঙরাতে ঘুঙরাতে হারাচ্ছে প্রাণ সহস্র সরল শিশু।
এসো তুমি হে দূত, বাজাও বিষের বাঁশি
তরুণ প্রাণ হবে উদ্দমী, তুলবে হাতে অসি।
হারিয়ে গেছে শশি কিরণ,হারিয়েছে মমতা
রক্তপায়ীর দল চারিদিকব্যাপী বিছিয়েছে ক্ষমতা।
হবে আবার সেই রক্তক্ষয়ী পতন নেই কোনো ভুল
আজ এই শুভসংকট দিনে আবার আসো নজরুল।
প্রিয়তমা
✍️ডা: রূপক পোদ্দার
তখন তুমি নাই বা আমার প্রিয়, নাইবা রইলে আমার কাছে জানব আমি আমার এই সেই দেহে, এই সেই দেহে গো তোমারই বুকের শরম-ছোঁয়ার আকুল হয়ে কাঁপন যে ধরে আছে আমার সারা দেহে। এতই অসাড় আমি যে তোমার চুম্বন ও বুঝিনি মনে মনে দিয়েছিলে, তাও তো সে বোঝার সাধ্য ছিল না কেন আমার, বাড়িতে কত লোকই না ছিল তাই ঋণ কখনো স্বীকার করিতে পারি নাই। ভয়ে যদি কোন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা কি না হয়? কী হতে পারতো? এসবে কী কিছু এসে যায় আমার আর তোমার জীবনে।
চেতনায় নজরুল
✍️গোপাল বনিক
গঙ্গার বুকে মৃত লাশ ছবি আঁকে,
বাতাসে ভেসে আসে বোবা কান্নার সুর।
আস্তাকুঁড়ে উচ্ছিষ্ট খোঁজে ক্ষুব্ধ যৌবন,
আহা মানুষের কি আশ্চর্য সুদিন!
দন্ডমুন্ডের কর্তারা এখন কারফিউ ছুঁড়ে দেয়
খেটে খাওয়া মানুষ ককিয়ে উঠে বেদনার অশ্রু হাহাকারে।
এইসব দেখে মহাজন মোহাঞ্জনে খঞ্জনি বাজায়,
সুনিপুন চতুরালিতে স্ফীত করে কালো ভান্ড।
প্রিয় নজরুল এখন তোমার থেকে চেয়ে নেবো-
বিদ্রোহের নিপুন ভোজালি,
শিখে নেবো শেকল ভাঙার গান।
ফিরিয়ে আনবো বঞ্চিত মানুষের শাশ্বত সুর,
তোমার চেতনায় নুতন করে উদিত হউক -
পুবকাশের বলয় কুসুম।।
প্রিয় কবি নজরুল
✍️পাপিয়া দাস
দুঃখময় জীবন তবুও
কবিতা সমগ্রে তিনি ।
সুরকার ও গীতিকার হয়ে
মানুষের হৃদয়ে বিরাজমান যিনি।
সুখ স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন
পাননি তিনি কখনও,
জীবনের দুঃখের সাথে লড়াই
তারই কাছ থেকে শেখানো।
কতটুকুই না কষ্ট পাই
যদি কামড়ে ক্ষত করে ভীমরুল,
তার চেয়ে বহু কষ্ট সহ্য করেন যিনি
তিনি আমাদের প্রিয় নজরুল।
অভিমানী বসন্ত
✍️আক্তার হোসেন
অভিমানী বসন্ত বসে আছে বৃষ্টির অপেক্ষায়,
শান্ত শিশির হারিয়ে গেছে উষ্ণ শহরে।
আমার কবিতা হারিয়ে ফেলেছে ছন্দ,
তবুও মনের ভাবনা লিখে রাখি,হোক সে মন্দ।
অক্ষর গুলো হয়তো নিরুদ্দেশ,
অর্থময় শব্দ গুলো হেঁটে চলে যায় অজানা দেশে।
প্রকৃতি থেকে শিখে ছিলাম পঙক্তির বিন্যাস,
এখন তাঁর–ই সাথে 'পা, মিলিয়ে চলেছি ছুটে।
ক্লান্ত শরীরে বেয়ে নামে অশ্রান্ত ঘাম,
আকাশে-আকাশে ডেকে বেড়ায় বিরহী মেঘ।
বিরহী চোখের জল তবুও পড়ে না এ ধারায়,
অভিমানের ফাটলে তৈরী হয় বিচ্ছেদ।
বিরহের জ্বালা সহেও কমে না অভিমান,
অভিমানী বসন্ত বলে মেঘ তুই চির বেইমান।
প্রিয় নজরুল তুমি
✍️সুজন দেবনাথ
প্রিয় নজরুল তুমি শ্রেষ্ঠ কবি
রয়েছো বাঙালির মন মন্দিরে।
তোমার জ্ঞানে আলোকিত ধরা
দীপ্তমান তুমি দুই বাংলা জুড়ে।।
ভেদাভেদ তুমি দূর করেছ ওগো
ছড়ায়ে দিয়েছো অমর বাণী।
সদা দিন দুঃখিরে ভালোবেসেছ
ছিলে তুমি এক অনন্য মহাদানি।।
কাব্যে,গল্পে,গানে,নাটকে তুমি
কলমে নিয়ত করেছো কত সমর।
বিদ্রোহী ভাব প্রকাশে আজও
সাহিত্যে হয়ে রয়েছো অমর।।
তুমি দরিদ্র ঘরে জন্ম নিয়েছো
সর্বদাই কেঁদেছ দুঃখীর তরে।
দুখু মিয়া তোমার নাম হয়েছে
এই নিখিল জগৎ মাঝারে।।
ভুলিবে না কভু জাতি তোমারে
চিরকাল থাকবে সবার অন্তরে।
পথ দিশারী তুমি রয়েছো সাথে
সকল অসহায়ে পথে প্রান্তরে।।
স্মরণীয় নজরুল
✍️সুস্মিতা দেবনাথ।
চুড়ুলিয়া গ্রামে জন্ম তোমর,
ডাকনাম দুঃখুমিয়া।
বাল্য কৈশোর যৌবন তোমার
কাটে দারিদ্র্যতাই ।
শিমাহীন দুঃখ - কষ্টের মাঝেও তুমি বাংলা কাব্য ও সাহিত্যকে ভুলনি।
বিষ্ময়কর প্রতিভা তোমার,
ভুলে যাবার নয়।
আজ কিছু লিখতে যেতে তোমাকে স্মরণ করে মন।
বিদ্রোহী কবি নজরুল তোমি,
লহোগো প্রনাম।
অভিশাপ
✍️শতরূপা
সবই তো অভিশাপ বলো !
এই মহামারী, এই ঝড়
হচ্ছে সব বিনষ্ট
খালি হচ্ছে প্রতিটা ঘর।
কেমন নীরব ছিল প্রকৃতি !
সইতো সব অত্যাচার,
দূষিত আজ মানুষ
প্রতিটা ঘর হলো ছাড়কার।
সেই তো ডেডবডি হচ্ছে প্যাকিং
প্লাস্টিকে মুড়ে, মুড়ে
পেতে হয় কর্মফল
দেখলে তো এই ভবঘুরে।
মানুষ নাকি পাখি
রাখা যায় না আটকে,
ছোট্ট একটা ভাইরাস
দিলো গেম পটকে।
সবই তো কর্মফল বলো !
ওতো শত অ্যাম্বুলেন্সর শোর
প্রকৃতি আজ হাসছে,
হারতে দেখে মানুষের জোড়।
জীবিত দেহের কবর খনন
✍️সুশীল দাস
আমি ভাবি মনে মনে
প্রতিটি ক্ষনে ক্ষনে
যত করেছি পাপ
সবই নির্জনে,নিজ গুনে।
অবহেলা, অত্যাচার শত
শরীর হয়েছে ক্ষত-বিক্ষত
করেছি নিজ আত্মার হনন
জীবিত দেহের কবর খনন।
হয়নি বিচার আদালতে
তবু বিবেকের কারাগারে
হয়েছে শাস্তি ঘোষণা
ভোগতে হবে জীবন ভর।
ভুল শুধরে নেয়ার সুযোগটা
রয়েছে যৎসামান্য
যেহেতু বিবেক বুদ্ধিকে
করেছিলাম অমান্য।
অত্যাচার, অবহেলা সব
হচ্ছে প্রতিফলিত
ফল সেই রূপ তাহার
যেই রূপ তাঁর কৃত।
তুমি বিদ্রোহী
✍️প্রিয়াঙ্কা আদক
বর্ধমানে জন্ম তোমার গ্রাম চুরুলিয়া,
ছোট বেলায় ডাকনাম, ছিল দুখু মিয়া।
বাল্যকালের শিক্ষা তাঁর মক্তবে হয় শুরু,
কাব্য জগতে শ্রেষ্ঠ আসন, দেয় "বিদ্রোহী" , "ধুমকেতু"।
ধর্মপরায়ণ কাজী ফকির আহমেদ; ছিলেন পিতা,
স্নেহময়ী জাহেদা খাতুন; হলেন মাতা।
বয়স যখন আট বছর বাবা গেলেন মারা,
দরিদ্র পরিবারে আধপেটা খেয়ে, দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
বাঁচার জন্য কাজ জুটল রুটির দোকানে,
দেশপ্রেমের শিক্ষা পেয়ে,ক্ষোভ জাগলো মনে।
১৯১৭ তে পড়া ছেড়ে ; স্বাধীনতার জন্য সৈনিকে যোগ দেন,
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে "আনন্দময়ীর আগমন" লেখার জন্য কারাবাসে যান।
বিদ্রোহী কবি তুমি, প্রমিলা তোমার পত্নী,
কাব্য জগতে এক ঝড় এনেছিলে কালবৈশাখী।
প্রতিবাদী রূপে এসেছিলে তুমি; বাংলার বুকে,
স্বাধীনতার জন্য কলম ধরেছো, রটেছে লোকমুখে।
ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদ যাদের তাদের বিঁধাও শুল,
সুনাম নিয়ে ধরনীতে তুমি ফিরে এসো নজরুল।
ঢাকায় তোমার শেষ যাত্রা পক্ষাঘাত শুরু,
শব দেহ শেষ হলো নেইকো আর দুখু।
নামটি তোমার কাজী নজরুল ইসলাম,
আমরা তোমায় করি অজস্র সম্মান।
ফিরে এসো মায়ের এই শুন্য বুকে,
দেশের জন্য আবার দাঁড়াতে হবে রুখে।
ফিরে এসো......হে কবি, ফিরে এসো!
জাগো হে জাগো
✍️ মন্দিরা ভারতী
দেয়না কেউ বিদ্রোহের আহ্বান,
এখন হারিয়ে গেছে সেসব শ্লোগান।
ভুলে সবে লড়াই-এর কথা,
করেছে আপন মৌনতা ও ব্যথা।
চলবে না আর এমনি করে,
সাহস কর তৈরি মনে ওরে।
লড়াই যখন নিজের মোদের,
দিতে হবে ডাক নিজেকেই নিজে বিদ্রোহের।
জাগো হে জাগো তোমরা সবে,
ভরে যাক চারিদিক বিদ্রোহের রবে।
অভ্যেস ছেড়ে জেগেও ঘুমোনোর,
নিয়ে এসো এক নতুন ভোর।
Kazi Nazrul Islam
✍️রাজা দেবরায়
You have suffered a lot in life,
by staying wide awake at nights.
That is why you are successful, 'Dukhu Miah'.
How many things have you done in one life!
Writing and composing songs,
always played in your mind.
You were the first to create Bengali Ghazals.
How many music lovers sang,
Hindu-Muslim all together.
Your wonderful creations are the classical songs.
How many more creations,
your contribution is great!
You also proved that one can be educated
without gaining formal education too,
and the whole world sings and praises the creations
of this legend and thus, he became immortal.
নিজস্ব বেলা
✍️মিঠুন দেবনাথ
ভোর হল জীবনের প্রথম ধাপ l
ভোর হল অচেনা,অজানা,
ভোর হল অন্ধকারের আচ্ছন্ন আলো ,
উদিত সূর্যের সাথী ও আলোকের পথিক l
সকাল হল জীবনের দ্বিতীয় ধাপ l
জীবনের ছোট ছোট আশা ,আলো
সকাল হল রূপান্তরিত আলোকে পৌঁছানো ও
অচেনা শহরেই পাড়ি দেওয়া l
দুপুর হল জীবনের তৃতীয় ধাপ l
দুপুর হল জীবনের লক্ষ্য,পথ এবং বন্ধুত্ব,
দুপুর হল অচেনাকে চেনার প্রতিভা,আগ্রহ,
সকলের আশার ও স্বনির্ভরতার আলো l
বিকাল হল জীবনের চতুর্থ ধাপ l
বিকাল হল জীবনের ভালোবাসার পথিক ,
বিকাল হল সকলের প্রতি দায়িত্ব,কর্তব্য পালন
সংসার মোহিত ও সখীকে নিয়ে কাটানো মহুর্ত l
সন্ধ্যা হল জীবনের পঞ্চম ধাপ l
সন্ধ্যা হল নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে দেওয়া ,
সন্ধ্যা হল নিস্তব্ধতা,ধীরে ধীরে বঞ্চিত হওয়া ও
অস্থিরতা,বঞ্চনা ও লাঞ্ছনা,অতীতকে ভাবা l
রাত্রি হল জীবনের ষষ্ঠ বা শেষ ধাপ l
রাত্রি হল জীবনের ভুলন্ত মন ও বেদনা,
রাত্রি হল জীবনের অন্ধকারে পৌছে যাওয়া ও
সবকিছুর মায়া ত্যাগ করে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া l
কাজ
✍️দীপ্র দাস চৌধুরী
দূর থেকে দূর শুধু দেখা যায় লাশেদের স্তূপ
তার মাঝে একা একা দাঁড়িয়ে রয়েছে এক কবি,
সব কিছু দেখে নিজে সাক্ষী থাকছে তার লেখার
আমরা পড়ার নামে চোখে শুধু এঁকে যাই ছবি।
একলা দুপুরগুলো দিয়ে যায় শ্মশানের ডাক,
মৃত মানুষের মতো আমরাও চেয়ে ব'সে থাকি।
কবি তো দাঁড়িয়ে থাকে আকাশে নিজের চোখ মেলে
লিখতে গেলেই কথা আজ স্রেফ দিয়ে যাবে ফাঁকি।
রাত নামে চুপিসারে মুছে দিয়ে দুপুরের ঘাম
একটা একটা ক'রে কথা নামে ডায়রির ভাঁজে...
তারপর পাহাড়াতে ব'সে যায় কবিতার দল-
কবিকে জ্বালিয়ে মারে সারারাত ঘুমহীন কাজে।
মেয়ে মানে
✍️মৌমিতা দাস
চারিদিকে শুধু যন্ত্রণায় ভরা মেয়েদের মন ,
মায়া-মমতা দিয়ে তৈরি করা মেয়েদের জীবন ।
মেয়ে মানে ,
১৮ বছর হলেই বাড়ির বোঁজা।
মেয়ে মানে ,
পরিবারের সবার দুঃখ খোঁজা।
মেয়ে মানে ,
নিজের দুঃখ ভুলে সকলকে সুখে রাখা ।
মেয়ে মানে ,
সবকষ্ট লুকিয়ে রাখা ।
মেয়ে মানে ,
জীবনে প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার আশা।
হে ঈশ্বর
তুমিও কী বোঝ না মেয়েদের মনের ভাষা ?
মেয়েদের মনেও থাকে
কিছু স্বপ্ন আর কিছু প্রত্যাশা ।
তুমি আজও কেন আছো চুপ করে ?
বুঝিয়ে দাও মেয়েরাও পৃথিবী গড়তে পারে ।
তুমি, শুধু তুমি
✍️মৌমিতা চক্রবর্তী
যখন কেউ আমায় জিজ্ঞেস করে তোমার নাম
আকাশ দেখাই আমি
তোমার ঠিকানা খুঁজলেই চোখ পৌঁছে যায় লেকের ধারে
ওখানেই রোদ মাখে পরিযায়ীরা
না থেকেও থাকতে পারে কেউ উদয় থেকে অস্তে?
ভাবিনি কোনোদিন হবে বিমূর্ত ক্যানভাসে মূর্তিমান প্রেমিক আঁকা,না ছুঁয়েও যাকে ছোঁয়া যায় অকিল্মিষ বোধে।
আমার হয়েও তুমি আমার নয়
অন্য কারোর?
না কী করে বলবো তা!
হতে পারে স্বপ্ন সত্যি-ভোরের
হতে পারে অতিক্রম-না বলা কথা
হতে পারে সেজে উঠছে-প্রেমিক কাশফুল
ভরাবে আমার শূন্য নদীকুল
হতে পারে লক্ষ্মীর ঝাঁপি খুলে পাবো অজানা ঠিকানার অদেখা প্রেমপত্র
অঙ্ক খাতায় আরশোলার সুখী সংসার
বীণাপাণি গাইতে পারে- ভালোবাসি ভালোবাসি
চাইতেই পারে সমবেত কন্ঠ--- প্রেমিকং দেহি।
চাইবো না আমি। জানি,জানি তো
আছো তুমি।
কল্পে-অনুকল্পে
প্রারম্ভে-ছেদে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)