সম্পাদকীয়

✍️........................................ সম্পাদকীয়

     সৈনিকদের রক্তের শ্বেতকণিকা গুনতে গুনতে ৭৫ বছর পেরিয়ে গেল আমাদের ভারতবর্ষের স্বাধীনতার বয়স। কত মা তার সন্তানের রক্তের কলসি চোখের সামনে ভাঙতে দেখেছে! এই স্বাধীনতা টাকার বিনিময়ে নয়, এই স্বাধীনতা প্রতারকদের প্রতারণায় নয়, এই স্বাধীনতা নরমপন্থী দলের জন্য নয়, এই স্বাধীনতা রক্তের বিনিময়ে অর্জন হয়েছে। যদিও দেশভাগ হয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।  আর এই দেশভাগ রুখতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুনঃরায়  রাখীবন্ধন উৎসবও দিয়েছিলেন। তাই আমি মনে করি,পরিবারের সবাই যেমন আলাদা হয়ে গেলে শক্তি কমে যায়, তেমনি দেশভাগ হলে দেশের শক্তি কমে যায়। তার জন্য আমাদের সর্বকাল সম্পর্ক ঠিকিয়ে রাখতে। ভুল বোঝাবুঝি শেষ করে গঠনমূলক সমালোচনা করে নিজেদের সম্পর্ক শক্ত করতে হবে। আর দেশপ্রেমি হলে   নেতাজীর মত ত্যাগী হতে হবে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত স্বদেশ প্রেম থাকতে হবে, গান্ধীজির মত সমাজসেবী হতে হবে। আজকের দিনে এটাই মূলমন্ত্র মনে করি। নাহলে, নিজের উন্নয়ন হবে ঠিকই, কিন্তু দেশের উন্নয়ন নাও হতে পারে। আমাদের এই সংখ্যা দেশপ্রেমি, সমাজসেবী, সমাজসংস্কারক এবং আত্মত্যাগীদের নামে উৎসর্গ করলাম। 

ধন্যবাদ এবং শুভ কামনায়
 গৌরাঙ্গ সরকার
(সম্পাদক  নবোন্মেষ পত্রিকা)
 শিবশংকর দেবনাথ
সহসম্পাদক, নবোন্মেষ
 সুপর্ণা মজুমদার রায়
সভাপতি, নবোন্মেষ
 পান্থ দাস
প্রধান আহ্বায়ক, নবোন্মেষ

কালো না ফর্সা


 ✍️ অমৃকা মজুমদার

      চারিদিক থমথমে একটা পরিবেশ।বদ্ধ একটা রুম।পরিচিত আপনজনের কোন মুখ দেখা যাচ্ছে না।অচেনা কিছু মুখ।শরীর অসাড়,নিস্তেজ ।শুধু চোখ দুটি সজাগ ।অপলক  দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওই মুখগুলির দিকে কোন একটা বহু প্রতীক্ষিত সুসংবাদ শোনার অধীর আগ্রহে।শায়িত অপারেশান থিয়েটারে
কৃষ্ণকলি দেখতে পাচ্ছিল দুজন ডাক্তার ,তিন জন নার্স অস্ত্রসস্ত্র শুধু নাড়ানাড়ি করছিল।সে অনুভব করছিল ওর পেটের ঝাঁকুনি  আর ওদের ফিসফিস শব্দ।  --কিছুক্ষন বাদেই ডাক্তারবাবু ফুটফুটে একটা শিশুকে দুহাতে গলায় ধরে ঝুলিয়ে ওকে বলছিল,"দেখ মা,তোর ঘরে লক্ষ্মী এসেছে, একদম তোর মত দেখতে হয়েছে।"
---কিছুটা আনন্দের ,কিছুটা উদ্বিগ্নের মধ্যে নির্বাক কৃষ্ণকলি তখন অস্থির হয়ে যাচ্ছিল শুধু এটা জানার জন্য যে  সদ্যজাত শিশুটি কালো না ফর্সা হল ,ওর মতো কালো হয় নি তো? কিন্তু কথা বলতে পারছিল না কারণ এনেস্থেসিয়ার কারণে মুখে জোর পাচ্ছিল না।
--সিজারিয়ান ডেলিভারি ।প্রথম সন্তান।সেই প্রথম এক নজর দেখেই কখন ঘুমিয়ে গেলো সে বুঝতে পারে নি।জ্ঞান ফিরতেই দেখে ওর আশেপাশে অনেক প্রসূতি মায়েরা। 
--ওদের একজন বলছিল ,"বেশ দেখতে তোমার বাচ্চাটা"।
---কিন্তু মনে চলছিল নানা জল্পনা কল্পনা।যাই হউক,ওরা ফর্সা বলায় মোটামুটি আশ্বস্ত হল আর একটু স্বস্তি পেল যে,না,অন্তত ওর মত হয় নি,বাচাঁ গেলো।
--ছয় দিন পর ছুটি পেয়ে যখন বাড়িতে প্রবেশ করল,
পাড়া -পড়শীদের মুখে শুধু একটাই বুলি," না,মা-র মতো হয়নি।চিন্তা নেই।"
---অনুভব করছিল সে তখন যে  শ্বশুরবাড়ির মানুষেরাও একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।বেজায় খুশি সবাই।
--ছেলেকে বিয়ে করানোর সময় যতসব দুশ্চিন্তা ছিল ওসবের একটু প্রশমন হয়েছে। বাচ্চা টা অন্তত কালো হয় নি।
কালো মেয়েকে বিয়ে করলে পরবর্তী প্রজন্ম কালো হয়েই জন্মাবে ----এই ভয়টা খানিকটা কেটে গেল।
--আবার কেউ কেউ বলছিল,"এখন ফর্সা দেখালেও কিছু দিন পর রোদে পুড়ে কালো হয়ে যাবে।মায়ের রং নি পায় পরে কে জানে!" 
--নানান মানুষের নানান কথা।

      ----যখনই বুঝতে শিখলো সেই থেকে কৃষ্ণকলি একটা কথা শুনতে শুনতে তিতিবিরক্ত হয়ে গেছে।
---ওর মা বাবাকে প্রায়ই শুনতে হত," মেয়েটাকে বিয়ে দিতে কষ্ট হবে,ভালো করে পড়াশোনা করান।আবার বেশি পড়ালেও ক্ষতি কারণ উপযুক্ত পাত্রস্থ করতে হলে গাঁটের পয়সা ফুরিয়ে যাবে।" ---বিয়ের সম্বন্ধ আসলেই পাত্র পক্ষ বলতো," মেয়ে কালো অনেক পণ লাগবে।"
---- ওর মনে হত টাকা দিলে ,পণ দিলেই কালো র কলঙ্ক ঢেকে যাবে!
-- এমতাবস্থায়  কৃষ্ণকলি ঠিক করে এখন আর বিয়ে করবে না।বয়স যখন হয়েই গেছে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী  হয়ে বিয়ে করবে।--
----মন দৃঢ় করে কঠোর পরিশ্রম করে সে একটা ভাল সরকারি চাকুরিতে জয়েন করে এবং ভালোবেসে বিয়ে করে নেয়।
---কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা নেই। 
--শ্বশুরালয়ে গিয়েই শুনতে হয়েছে ওদের পরিবারে কেউ কালো নেই।এই বুঝি কালো যুগের  সূচনা হল।
---তারপর সন্তান সম্ভবা হলেই সকলে বলাবলি করত বাচ্চাটা যেন মায়ের মতো রং না পায়।
---তাই যেদিন অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তারবাবু ওর ফুটফুটে শিশুটাকে এক নজর দেখাল,ওই মুহূর্ত টা ওর জীবনে লাল অক্ষরে অবিস্মরনীয় হয়ে রইল ।

তোমায় বুঝে কয় জনায়

✍️ মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

স্বাধীনতা ;কে তুমি? কি বা পরিচয়?
আচ্ছা সবাই কি তোমায় জানে,চেনে, বুঝে?

ঐ যে ফুটপাতে শুয়ে আছে চাদর মোড়ে,
বড়লোক বাবার বখাটে ছেলেটা 
মাতাল হয়ে ,হুঁচোট খায় যার 'পরে 
তবুও চুপটি করে শুয়ে থাকে পাশ ফিরে
সে জানে স্বাধীনতার মানে?

যে  শিশুটা রাস্তার মোড়ে হাত পেতে খাবার খোঁজে,
আবর্জনার স্তুপে কুকুরের সাথে রুটি ভাগ করে
ক্ষিধের জ্বালায় হন‍্যি হয়ে ছুটে বাবুদের পাশে
দশটা টাকার প্রত‍্যাশায়,সে কি বুঝে
স্বাধীনতা কারে কয়?জানে স্বাধীনতার পরিচয়?

যে মেয়েটি কৈশোরে খুঁইয়েছে সম্ভ্রম
সমাজের লুলোপ দৃষ্টির রোষানলে 
জ্বলেছে আত্মা,ধর্ষিতার তকমা নিয়ে 
আছে বেঁচে,আদমরা,সে কি অনুভব করে
স্বাধীনতার মর্যাদা?

যে মেয়েটা নিষিদ্ধ পল্লীতে গুমরে কাঁদে;
সমাজের অবিচারে সকল স্বপ্নের বিসর্জনে,
প্রতি মুহূর্তে বেঁচে থাকে বিবেকের দংশনে,
সে কি বুঝতে চায় স্বাধীনতার বিশালতা?
চিনতে চায় স্বাধীনতার অস্তিত্ব ?

তুমি যে চিরদীপ্ত,চিরায়মানা
সাগরের চেয়েও সুবিপুল তোমার গভীরতা
আকাশের চেয়েও সুবিশাল তোমার মর্যাদা
কিন্তু তোমায় বুঝে কয়জনা? স্বাধীনতার মানে বুঝে
কেবল আকাশ, সূর্য,তারা ।

আমার দেশ


✍️ অসীম দেববর্মা
 
 পৃথিবীর বুকে নেই এমন আর দেশ
ভারত মায়ের মতো অরূপ সৌন্দর্যের 
                  সমাবেশ! 
      নানা প্রান্তের নানা ভাষা 
             নানা পরিধান, 
     বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের 
               মিলনস্থান! 
একে একে ঋতুরা এসে মিশে
        ভারত মায়ের বুকে
ফুলে, ফলে, শস্য, সবুজের শ্যামলীতে
  পাখিরা গায় গান মনের সুখে। 
অমৃত প্রবাহিনী তটিনীরা কলকল করে
            বয়ে চলে নিত্য, 
মহাসাগরের উচ্ছল স্রোত ধুয়ায় মায়ের
            চরণ তা সত্য। 
     তিন রঙের জাতীয় পতাকা
তার মাঝে সুশোভিত অশোক চক্রের
             চব্বিশ শলাকা। 
       চন্দ্র, সূর্য, তারা, নক্ষত্রের মতো 
 জয়ের ধ্বজা উড়তে থাকুক সবার শিখরে, 
 জীবনের সংগ্ৰামে লড়াই করে বাঁচতে চাই
 স্বাধীনতা সংগ্রামী, শহীদ জওয়ান, কৃষক, 
        শ্রমজীবীদের কর্ম মন্ত্র আঁকড়ে ।

অমৃত মহোৎসব


  ✍️ বিপ্লব গোস্বামী

      সেজেছে দেশ স্বাধীনতার
                  অমৃত মহোৎসবে,
     ঘরে ঘরে তেরেঙা পতাকা
               উড়াবে আজ সবে।

    সারাদেশে আনন্দ জোয়ার
                      আনন্দ উৎসব,
       বন্ধেমাতরম জয় হিন্দের
                     উঠেছে যে রব।

        আট থেকে আশি সবাই
      আজ আনন্দে আত্মহারা,
          নত শিরে স্মরি তাদের
          অমৃত এনেছেন যাঁরা ।

স্বাদ হীন স্বাধীনতা


✍️ বানী পাল

আরও একবার বিপ্লব হোক
চুয়াত্তরটি স্বাধীনতার মুখোশ উন্মোচিত করে
বেরিয়ে আসুক উলঙ্গ পরাধীনতা ।

সংক্রামিত হোক মানবতা
আমরা সবাই সেভাবেই লড়ব ধারালো রক্ত দিয়ে
এটা হবে গর্ভের জন্য গর্বের লড়াই ।

বার্তা পাঠাও আগামীর কানে
নব প্রজন্মের কপালে আঁকো স্বাধীনতার তিলক
গালে লাগিয়ে দাও নবারুণের লাল।

আলগা হোক কুসংস্কারের আঁচল
হিংস্রতা ধ্বংস হোক ,শুধুমাত্র সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি মেখে
হোক স্বাদপূরক স্বাধীনতার সূর্যোদয়  ।

সংগ্রাম চলবেই

✍️ কামনা দেব

জাগো এবার, জাগো সবাই
সংগ্রাম করো বাঁচার জন্য ,
জীবনটা যে কঠিন লড়াই 
বেঁচে থাকা নয় সামান্য। 

প্রতারণার প্রলোভনে 
পা দিও না কখনো কেউ,
আত্মবোধের অপমানে 
প্রতিবাদের তুলবে যে ঢেউ।

বাঁচার সংগ্রাম চলছে চলবেই
জনগণের সম্মানেতে ,
বাঁচার নির্মোক অধিকারেই
মনুষত্বের স্বত্তা কাড়তে।

প্রয়োজনে দেবো রক্ত 
পেতে সম্ভ্রম শান্তি স্বস্তি,
পথের বাঁধা হোক না শক্ত 
লড়বো শহর হতে বস্তি ।

সমাজ দস্যের অত্যাচারে
বাঁচতে প্রাণপণ যুদ্ধ চলবেই,
মিথ্যাচার আর ব্যাভিচারে
সংগ্রাম লড়াই করতে হবেই ।

রবি তুমি


   ✍️ মিতা বন্দোপাধ্যায় 

"রবি",তোমার শুভ জন্মদিনে তোমায় নিয়ে ,
অন্ধকারে ভাবছি বসে আপনমনে।
ভোরের অম্বরে উদীয়মান তেজোদীপ্ত রবি ;
 রাতের চন্দ্রালোকে হলে নীরবে ছবি ।।

হৃদয় আঙিনায় অসংখ্য তোমার শব্দ তরঙ্গ, 
নিঁশব্দ অবিরাম  বাজায় কাব্য ছন্দ ।
সারা ভূবন হিল্লোলিত তোমার মহিমায় ;
দিশেহারা পথ খুঁজেপায় তোমারি কাব্য কথায় ।।

মনোমাঝে আন্দোলিত হয় তোমার।শব্দ কলি ,
যাতে লেখা আছে দুঃখ সুখের হিসেবগুলি ।
বিশ্ব মাঝে তোমার প্রকাশ ,সর্বত্র বিচরণ,
জাতি কুলমান সব ধন্য হয় অগনন।।
শুধু কবি নও তুমি বিশাল জ্ঞানতপস্বী,
বিশ্বলোকে তাই সর্বশ্রষঠ যশস্বী ।
আলো অন্ধকারে  রাত দিন তোমার কথা ও সুর 
বাজে এর মাঝে বিশ্ব দেখে ভারী সুমধুর ।।
প্রতিটি হৃদয়ে আছ অক্ষয় হয়ে ,
জ্ঞানের আলোক বর্তিতা কথায় ও সুরে ।

স্বাধীনতা এসে


✍️ প্রতীক হালদার 

স্বাধীনতা এসে খুলে দিল দ্বার
বইলো সুখের হাওয়া,
দুখের আঁধার কেটে যেতেই
সুখের হদিশ পাওয়া।

সবটুকু সুখ দিয়ে গেল ওরা
বুকের রক্ত দিয়ে,
সাহস করে যুদ্ধে নেমে 
নিল স্বাধীনতা ছিনিয়ে।

মাতৃভূমির বীর যে ওরা 
জন্ম দেশের জন্য,
দেশের সেবায় মাতালো ওরা 
হল জীবন ধন্য।

এদেশ বলে এসো ফিরে
মাতৃভূমির টানে,
আজ যে আমি স্বাধীন শুধু
তোমাদের বলিদানে ।

বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য

   ✍️ সুজন দেবনাথ

আমার এই মহান দেশের মাটি
সোনার চেয়েও সহস্র গুণ খাঁটি,
হাজার বৈচিত্রের মধ্যেও ঐক্য যে
আমার দেশেই মিলে।
হে পবিত্র ভূমি তুমি জন্ম দিয়েছো
কতো গুণী মুনিঋষির,
যার ধুলিকণা গায়ে মেখেও আজ 
আমরা যে পরম শান্তি পাই।
একদিন যখন পরাধীনতার গ্লানি
এই পবিত্র ভূমি কে গ্রাস করছিলো,
তখন তো এই দেশমাতৃকার
সাহসী সন্তানেরাই এগিয়েছিলো।
সেদিন তো ছিলোনা জাতিভেদ!
ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রান্তের মানুষ
এক জাতি এক প্রাণ আর একতার মন্ত্রে
দিক্ষীত হয়ে নির্ভয়ে বুক পেতেছিলেন
বিদেশি শক্তির ধারালো অস্ত্রে।
এদেশ স্বাধীনতার তেরঙ্গা পতাকা
সকল জাতির রক্তের বিনিময়ে পাওয়া,
ভীষণ জানতে ইচ্ছে করে
যখন পরাধীন ভারত কে স্বাধীন করতে 
সবার প্রয়োজন ছিলো,
আজ স্বাধীন সেই ভূখণ্ডে কেন তবে 
এতো জাতির বিভিন্নতা সৃষ্টি হলো?
বিভিদের মাঝে মিলনের গান কি
তবে আজ আমরা ভুলে গেছি ?

হে স্বাধীনতা


  ✍️ সুমন দাস

হে স্বাধীনতা, আমরা তোমাকেই চাই,
পরাধীনতাকে নয়।
তোমাকে পাওয়ার জন্য,
কত না ভাসাতে হবে রক্তগঙ্গায়‌।
স্বাধীনতা মোদের জন্মগত অধিকার,
পরাধীনতার শৃঙ্খলকে জানাই ধিক্কার৷
থাকবো না দাসত্বের শৃংখলে,
স্বাধীনতা গড়বো নিজ বাহুবলে।
তুমি আসবে বলে ছাই হল গ্রামের পর গ্রাম,
দানবের মতো চিৎকার করতে করতে।
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত জলন্ত,
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে।
এক ফোটা রক্তের বিনিময়ে আমরা গড়বো স্বাধীনতা,
পরাধীনতাকে বিধ্বস্ত করে।
এই প্রতিবাদ আমরা চাই ,
প্রতিবাদের দ্বারা ন্যায্য বিচার পাই।
এই স্বাধীনতা আসবে বলে,
দেশ হলো স্বস্তি উজাড়।
পুরনো নিশান উড়িয়ে নতুন নিশান নিয়ে,
তোমাকেই আসতে হবে, হে স্বাধীনতা।
তাই এই স্বাধীনতা আমরা চাই,
স্বাধীনভাবে জীবন গড়তে চাই ।

আজও খুঁজি তোমায় স্বাধীনতা


   ✍️ সংহিতা ভট্টাচার্য্য

৭৫ তম স্বাধীনতার সকাল। 
তেরঙ্গা উড়ছে পত পত করে।
সুউচ্চ হিমালয় স্ব গর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দেশের উত্তর পূর্ব প্রান্তে।
কল কল শব্দে  বইছে গঙ্গা পাহাড় পেরিয়ে সমতলে।
আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে দেশবন্দনার গান...
রাজপথ জুড়ে সুসজ্জিত শোভাযাত্রা...
নেতাজী মহাত্মা ক্ষুদিরাম 
বিনয় -বাদল- দীনেশ, 
ঝাঁসির রাণী... নানা সাজে সুজজ্জিত কিশোর কিশোরী। 

এরই মাঝে অনেক প্রশ্নচিহ্নের ভীড়ে স্বাধীনতা আজও অসহায় কাঁদে... 

যখন দেখি.... 
বিশাল অট্টালিকার পাশে দু' মুঠো অন্নের জন্য আধপেটা মানুষের বাঁচার লড়াই..
কনকনে ঠান্ডা শীতের রাতে কুয়াশার চাদর জড়িয়ে থরথর করে কাঁপছে অভাগী মা।

দুর্বল অসহায় মানুষের করুন আর্তনাদ,খুন,ধর্ষণ
ধর্মের নামে স্বজন পোষণ... 
দাঁতে দাঁত চেপে পাথর হয়ে বসে থাকা  আশি পেরিয়ে যাওয়া  অসহায় বৃদ্ধ পিতা। 

স্বাধীনতা তুমি কোথায়!..
বহু শহীদের রক্তে রাঙানো রাজপথ! 
মহাত্মার অহিংস অসহযোগ... 
আজাদ সুভাষের বিপ্লব বলিদান.. 
আজ কোথায় হারিয়ে গেলো সেই  স্বাধীনতার মান ?

ভাবনার স্বাধীনতা!


   ✍️ রাজা দেবরায়

ভাবনার স্বাধীনতা নেই,
মস্তিষ্ক হারিয়েছে খেই!
ভাবতে রাজী নই আমি,
তথ্য থাকলেই তো দামী!
বিজ্ঞাপনের জন্য টিভি,
আর চাই নাচ, গান, মুভি।
ব্যস এতেই হবে দারুণ খুব,
আর কিছুতে দেবোনা ডুব।

ব্রেনটাকে শুধু খেলাতে হবে,
তবেই ভাবনার প্র্যাকটিস হবে।
তখনই ভাবনা হবে একদম স্বাধীন,
ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ হবে নিজ অধীন !

স্বাধীনতা তুমি কার

   ✍️ দেবলীনা ভট্টাচার্য্য

   হে স্বাধীনতা তুমি কার?
কি তোমার পরিচয় বলতে পারো আমায়
স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছরে দাড়িয়েও
এই সমাজের মেয়েরা পরাধীন আজো
হে স্বাধীনতা, ইংরেজদের থেকে মুক্ত করে
কত মানুষ রক্তের বিনিময়ে এনেছে তোমায় এদেশে
কত মানুষ হয়েছে শহীদ আর
শত শত মা হয়েছে সন্তানহারা
সবকিছুর বিনিময়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্ট
স্বাধীন হয়েছিল আমাদের এই দেশ

তবে বর্তমানে এসমাজে হারিয়ে যাচ্ছে স্বাধীনতা
স্বাধীন হয়েও আজো এসমাজে বাস করছে পরাধীনতা
এই স্বাধীন দেশে আজো মায়েরা আতঙ্কে থাকে
শুধুমাত্র ঘরে মেয়ে জন্ম নিয়েছে বলে
এদেশে দিনের আলোয়ও হয় মেয়েরা অপহরন
নেই তাদের সুরক্ষা এই স্বাধীন দেশে 
রাতে কোথাও যেতে গেলে আজো
মেয়েদের বলা হয় একা মেয়ে মানুষ রাতে যাসনে
দুপুরে বাড়ি থেকে বের হতে গেলে বলা হয়
তাড়াতাড়ি ফিরবি বাড়ি , সন্ধ্যা করিসনে
বলতে পারো স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর পরেও
মেয়েদের কেন এরকম গন্ডীবদ্ধ জীবন
স্বাধীনতা আসলে তুমি কার এদেশে
তা জানতে চায় বর্তমানের অনেক নবীন মন ।

সাক্ষী

 
  ✍️ চন্দন পাল

সংরক্ষিত আলোর ভাঙন রোখার অক্ষমতায়, 
সঙ্কুচিত এ জীবন !
ক্ষমা কোরো সমভিব্যাহারী, ক্ষমা কোরো কিশোর কাঁচা।
 
জাগঘুমের দেশে অল্প কিছু জেগে থাকার দলে, আমি আর তুমি।
তাও বিবক্ষায় তাপ যোগাতে ধন মানহানি ভয়ে ভীত।

হবো নাই বা কেন? 
মান রক্ষকের সর্দারও এখন শীততাপ ঘরে লক্ষাধিক ভাড়া সহ বুকের তারকা বাড়ায়, ভাল'র প্রতিযোগিতা ব্যাতিরেকে।
নবযৌবন সোনার মুঠোফোন আর বাইকে মোহান্ধ।

যে কলমের মুখ এখনও বন্দুকের চেয়ে ধারালো গল্প বলে।
সে শ্রোতা এখন সুবিধার গল্প শুনতে আহ্লাদ বোধ করে। টিকটক বিডিও আর অভিযোজন জলসা সেরে,
দলে দলে পেপ্সু স্বপ্নে হাঁটে, আদা ব্যাপারীর গল্প শোনে মাঠে। 
"শ্রেষ্ঠ আসন" গোল্লায় যাক, মচমচি গল্পে হাত তালি দেয়,
দেয় বডি গার্ডও। নিজ ভবিষ্যৎ এর উজ্জ্বলতায়।!

প্রতিবেশীর অনুজ্জ্বল ঘরে, অভাবী চিৎকারে, রাতের ঘুম কতটুকু নির্বিঘ্ন উজ্জ্বল!!  তা সময়ই বলবে।

সাক্ষী রইলাম এ সময় সন্ধিক্ষনে, শিশুর বাসযোগ্য ভূমির দূরস্থ বৃথা সংকল্পে।

বিবক্ষা,,, বলার ইচ্ছা 
পেপ্সু,,, পাওয়ার ইচ্ছা ।

স্বাধীনতা


  ✍️ আলমগীর কবীর

আমার কাছে স্বাধীনতা মানে আমাকে আমার মত খেতে দেয়া।
রুচি যা খেতে চায় তা খাবে ; 
যদি খেয়ে হজম করতে পারে তাহলে গরু খাবে, শুয়োর খাবে যা খুশি তা খাবে। 

আমাকে আমার মত করে পড়তে দেবে 
আমি কি পড়ব, কার লাখ খা বই পড়ব তা নিয়ে কেউ নাকগলাবেনা।
আমি আস্তিকদের বই পড়ব, নাস্তিকদের বই পড়ব, আমি পৃথিবীর সবার ইতিহাস পড়ব, জানব;
আমি গীতা পড়ব কোরআন পড়ব, বেদ বাইবেল ত্রিপিটক পড়ব আমার যা খুশি তা পড়ব!

আমি খাটো পোষাক পরিধান করব, লম্বা জামা পরব, আমার কাছে যে পোষাক ভাললাগে  আমি সে পোষাক পড়ব।

আমি রাস্তায় বের হব, হাট বাজারে যাব, আমার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনব।
আমি যখন রাস্তা দিয়ে হাটব তখন আমার মুখ দেখা যাবে আমার বুক ভেসে থাকবে।

আমার কাছে স্বাধীনতা মানে যখন যা খুশি তা গাইব,গান গাইব গজল গাইব, শ্যামা সংগীত গাইব;

পরাধীন থেকে আমি আমরা মুক্তি চাইব
কি খাব, কি পড়ব,কি গাইব তা আমাদের নির্ধারণ করে দেয়া থেকে মুক্তি চাই;

আমি স্বাধীনতা চাই, আমরা স্বাধীনতা চাই, স্বাধীনতা চাই !

দর্পচূর্ণ

   ✍️ রেহানা বেগম হেনা

আমি যে দেখেছি -
অনেক বছর ধরে পশুরাজের দাপট-
সমস্ত অরণ্যজুড়ে ;
সব পশুপাখি ছিল ভীত সন্ত্রস্ত,
নিঃশ্বাস নিতে ভয় পেত সবাই
অরণ্যে পা ফেলতো নিঃশব্দে;
শুকনো পাতার মর্মর শব্দে যেন ঘুম না ভাঙ্গে পশুরাজের ।

কিন্তু আজ দেখলাম -
পশুরাজ মৃত, পড়ে আছে বনের এককোণে।
বীভৎস তার লাশ, দেখে আৎকে উঠলাম,
দেহটা পচে ফুলে ফেঁপে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে;
হাজারো লাল , কালো পিঁপড়ে
তার পচা দেহ জুড়ে ঘোরে বেড়াচ্ছে,
কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে তার দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ।

আজ সে বড়ো অসহায়
আজ আর নেই দৈহিক শক্তির দাপট,
নেই অহঙ্কার, হুঙ্কার, গর্জন, বাহুবল।
যা দিয়ে এতোদিন অরণ্যে সৃষ্টি করে রেখেছিল ত্রাস।

অরণ্য আজ বড়ো শান্ত, স্তব্ধ
সময় বদলেছে -
বনের পশুপাখিরা আজ নিরাপদে পথ চলছে,
খরগোশের ছানারা আজ লাফালাফি করছে
মনের আনন্দে।
সময় সবারই আসে
সময় পরিবর্তনশীল
দাপট , হুঙ্কার আজ ফুটপাতে ধুলোয় গড়াগড়ি খায়,
সুউচ্চ বৃক্ষের কচি পাতায় আজ
আলোর ঝলকানিতে আর বাতাসের দোলায় যেন তারই সঙ্গীত ।

অমৃত মহোৎসব


✍️ অর্ধেন্দু ভৌমিক

ঠাকুরদাদাদের মাথায় ছিল পরাধীন চাঁদ, 
সেদিন চাঁদ তারা আকাশের সুখ শিকলবাঁধা, শ্বাসরুদ্ধ---
অভাবনীয় অনুভবে হৃদয় রক্তমাখা 
ক্ষুদিরাম নেতাজী আরো আরো বীরের ত্যাগ... 

খোলসছাড়ারা  টের পায়  স্বাধীনতার সুখ,
 স্বাধীন চাঁদের আকাশ মাথায়
 আমায় কাঁদায় মা'য়ের ভালোবাসা
 স্বাধীনতা আজ, অমৃত মহোৎসব ।

স্বদেশ মুক্তির গান

🖌️ অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

জন্মিয়া মায়ের কোলে যে সন্তান জননী ভুলে। 
মাতৃ জঠরে যেন তার স্থান নাহি মিলে।। 
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে যে হাওয়া লাগে গায়ে। 
স্বদেশের মাটিতে গড়া নিজ কায়া পেয়ে।। 
স্বদেশের জল-হাওয়া রোজ পেয়ে পেয়ে। 
বেড়ে ওঠে মানবশিশু  মাতৃদুগ্ধ খেয়ে।। 
স্বদেশ লালন-পালন করে নিজ সন্তানেরে। 
ব্রিটিশ বাহিনী এসে  তারে শাসন করে।। 
দুশোটি বছর ধরে কত অন্যায় আর অত্যাচার। 
১৯৪৭ সালে ১৫ ই আগস্ট দিনটি তার প্রতিকার। 
দেশের মাটি যারে হৃদয়ে রেখেছে ধরে। 
সেই ছেলে দেশের জন্য মুক্তি যুদ্ধ করে।। 
বর্বর অত্যাচার, শাসন-শোষণ হলো অবসান। 
শহীদের রক্তে পেলাম মোরা স্বাধীনতার মান।। 
স্বদেশের লাগি কত সন্তান দিয়েছে নিজের প্রাণ। 
স্বাধীনতা আজ তাদের দেওয়া মুক্তির শ্লোগান।। 
 ব্রিটিশের  হাতে অস্ত্রাঘাতে রক্ত নদী বহে। 
দেশ আজিকে রক্তে রাঙনো মুক্তির গান গায়ে।

স্বাধীনতার চোখ


                  ✍️দীপু দেবনাথ 

রক্ত মাখা পোশাকে দেখেছি আমি হাজারো চোখ 
সেই রাঙা চোখে ছিল স্বাধীনতার সুখ 
কতই না ঝরেছে রক্ত, হয়েছে মার কূল শূন্য
রাতের আধারে কত সন্তানকে ছিড়ে খেয়েছে বন্য পশু
আঁধারে মায়ের আর্তনাদ, সন্তান কে হারাবার
বাতাসে বইছে রক্ত মাখা দুর্গন্ধ
স্বাধীন হবার বইছে রক্তের ধারা
এই নির্মমতার পরিহাসে মাটি রক্তাক্ত 
মাটির বুকে লেগেছে শীত,
পরেছে গায় লাল চাদর
কূলে তুলে নিয়েছে মাতৃ ভূমি বির সন্তান কে 
ফিরুক মায়ের কোলে সন্তান 
ফিরুক সিঁথির সিঁদুর।
উড়োক পাখি নির্ভয়ে
বয়ে আনুক খুশি সবার মনে ।

বঙ্গদেশের বীর


                    ✍️সোমা নস্কর 

হে বীর শত সন্তান তোমরা রেখেছ দেশের মান 
হীন চক্রান্তের আক্রমণে তুচ্ছ করেছ নিজের প্রাণ,
তোমরা তো কারোর মায়ের পুত্র কোন সতীর অলংকার 
হিংসা দাঙ্গা মৃত্যুযুদ্ধে এগিয়েছো বার বার।
দেশের ভূমি দখল করে যারা করেছিল রাজ
তাদের প্রতিবাদ করে স্বাধীনতা এসেছে আজ,
বলিদানের আত্মঘাতে এনেছো তোমরা জয়ের পথ
আগামী দিনে শক্তি যোগাবে যুদ্ধবাহী তোমার রথ।

স্বপথ নিয়েছ দেশের জন্য প্রাণ থাকতে লড়বে
ভাবুনি তোমরা নিজের কথা বাঁচবে বা কি মরবে,
আজ নেই শুধু তোমরা,রইবে মোদের দেশের মান
ভুলিব কেমনে শহিদ কীর্তি,দিয়েছ তোমরা অমর দান।
তোমাদের স্বার্থ ত্যাগের দানে দিয়েছ ভূমির মূল্য দাম,
টাইগার হিলের উর্ধ্ব চূড়ায়,রবে তোমাদের চির সুনাম।

সুভাষের স্বাধীনতা


                  ✍️রাহুল দেবনাথ

৭৫ বছরের বুড়ি মা আজ‌ও পরাধীন সুভাষ!
দু-বেলা দু-মুঠো অন্নের বদলে সে কেবল,
চার পাঁচটা কুকথা খেয়েছে।
কখনো প্রতিবাদ করেনি!
বরং সন্তানদের পাশে থাকবেন বলে,
মাথা গোজার ছোট্ট একটা ছাঁদ চেয়েছিল শুধু
দিন গুনে সে ছাঁদ এখন বৃদ্ধাশ্রমে...
তবে কিসের জন্য তুমি হারিয়ে গেছো সুভাষ?
কেনই বা তুমি স্বাধীনতা চেয়েছিলে?
রক্তের ঋণী করে ভারতবাসীকে।
ফিরে দেখো সুভাষ,
পরাধীনতার শিকল হতে,
সংশয়ের আড়ালে মুক্ত দেশবাসী,
তোমার ফেরার দিন গুনছে সুভাষ!
ফিরে এসো আরও একবার।
হে ভারত বীর, হে নেতাজি
আমরা আরো একবার রক্ত দিতে রাজি!
আমাদের স্বাধীনতা দাও আবারও !

স্বাধীনতা পর্ব


                       ✍️অগ্রদীপ দত্ত

ভারতবাসীর গর্ব মাতৃভূমির স্বাধীনতা দিবসকে নিয়ে,
পরাধীনতা হতে ভারতবাসী নিয়েছে স্বাধীনতা ছিনিয়ে।
ব্রিটিশ শাসনে সহ্য করতো ব্যভিচার অত্যাচার,
চলতো শুধু ভারত বিরোধী যতসব কারবার।
লুটেপুটে নিয়ে গেল ভারতের যত সব ধন,
হিন্দু মুসলমান বিরোধে লর্ড কার্জনের উস্কানি,
রবী ঠাকুর জানতো এতে ভারতবাসীর ঐকে হানী।
সম্প্রিতীর জন্য হিন্দু মুসলমানে করায় রাখি বন্ধন,
বুঝিয়ে দেয় হিন্দু মুসলমান একে অপরের স্পন্দন।
ক্ষুদিরাম ভগৎসিং হাসিমুখে অন্তিম বিদায় নিল ,
বিট্রিশ বিদ্রোহের নতুন এক আলোড়ন তুলে গেল।
স্বাধীনতা লাভে নেতাজি গান্ধীজী প্রমুখ বীর সন্তানের আগমন,
দেশপ্রেমিকের কন্ঠে বাজে ভারত মোদের 'তন মন জন গন'।
দেশপ্রেমে মাতোয়ারা ব্রিটিশ বিরোধী দেশ প্রেমিক,
ভারত স্বাধীনে ছুটে আসে নানা প্রান্তের নাগরিক।
বীর সন্তানরা করছে ভারত মাতাকে শ্রাদ্ধা ভক্তি,
জাতী ধর্ম বর্ন সকলের ভূমিকায় ভারত বিট্রিশ মুক্তি।
পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল ভারত মায়ের সন্তান,
কত বীর সন্তান স্বাধীনতা খারিতে দিয়েছে প্রাণ,
কোনক্রমে ব্যর্থ যায়নি দেশপ্রেমিকের আত্ম বলিদান।
দুশো বছরের দুষ্কৃতি,অন্যায়,অত্যাচার বলে শেষ কী হয়?
মনে রেখো স্বাধীনতা প্রাপ্তী মানে প্রত্যেক ভারতবাসীর জয়।
পনের আগস্ট উনিশ শতকের সাতচল্লিশ দশকের ঐ দিন,
দুশো বছরের পরাধীনতা থেকে হয়েছে  ভারত স্বাধীন,
স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাছে মোদের অসংখ্যা ঋন ।

স্বাধীনতা


                  ✍️সুস্মিতা সরকার

মানুষ হিতে মানুষের জন্য
নয়কো কোনো পরাধীনতা ।
মানুষ কূলে জন্ম মোদের 
মানুষের কুলে প্রয়াণ  ।
স্বাধীন ভাবে বাঁচব সবে
এই যে মোদের জন্ম স্থান ।
ভারত মোদের জন্ম ভূমি
ভারত মোদের গর্ব ।
ভারত হীতে জীবন দান 
এইতো মোদের গর্ব । 
স্মরণীয় সব ব্যক্তির্বগ  
ভারত হীতে যারা দিয়েছে জীবনের বলিদান
তাদের প্রতি মোর শত শত প্রনাম । 
যারা আজ ও  নিজের জীবনের বীনিময়ে 
করছে ভারতমাতার সেবা  ।  
তাদের প্রতি মোর শত শত প্রনাম ।