রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সম্পাদকীয়
নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে
রয়েছ নয়নে নয়নে,
হৃদয় তোমারে পায় না জানিতে
হৃদয়ে রয়েছ গোপনে।
-রবীন্দ্রনাথ
২৫শে বৈশাখ মানেই আমাদের প্রাণের মানুষ, মনের মানুষ, আবেগের বন্ধু প্রাণের ঠাকুর রবি ঠাকুরের জন্মদিন। যিনি বিশ্বকে কবিতার জালে আটকে দিয়েছিলেন, গানের সুরে মাতিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বকে। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অল্প ছোঁয়ায় যেখানে সমুদ্র হয়, সেখানে উনার সম্পর্কে বলা মানে মহাসাগরে সাঁতার কাটার সমান। আজ সাহিত্য যেন উনার হাত ধরেই উনার পিছু করে যাচ্ছে। আমরা বাঙালী হয়ে, বিশ্ববাসী হিসাবে আজ ধন্য হলাম রবি ঠাকুরের মতো একজন সাহিত্যিক বটবৃক্ষ পেয়ে। কবিগুরুর শ্রীচরণে প্রাণখোলে জানাই শতকোটি প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি।
শুভেচ্ছা রইলো
গৌরাঙ্গ সরকার, সম্পাদক
শিবশঙ্কর দেবনাথ, সহসম্পাদক
নবোন্মেষ পত্রিকা
ছন্দহীন বৈশাখ
অঙ্কিতা বর্ধন
বছরটা শুরু হোক না ,এক নতুন ছন্দে।
করোনা নামক হত্যাকারী ভাইরাসটা ,
হয়ে যাক বিলুপ্ত চিরকালের জন্য।
চারদিকে যে মৃত্যুর হাহাকার,
ছন্দহীন জীবন ,শুধু চলছে আতঙ্কের চিৎকার।
আজ জনজীবন যে স্তব্ধ এক আতঙ্কে।
গতিময় হয়ে উঠুক এক অন্য ছন্দে।
সচেতন হই আমরা নিজ জনগণ ।
মাক্স আর স্যানিটাইজ ব্যবহার করি প্রতিখন।
বাঁচি নিজেও বাঁচায় অপরকেও,
দূরত্ব বজায় রাখি সারাখন।
এড়িয়ে চলি বিয়ে বাড়ি আর যত পূজা পার্বণ।
ভালো হবে আমাদের পক্ষে,
সুস্থ থাকব আমরা জনগণ।
কি হবে একটি
বছর ,যদি দেই সব সুখ বিসর্জন?
থাকব ভালো আমরা সবাই, আমরা তো দেশের জনগণ।
প্রকৃতির আমরা শ্রেষ্ঠ প্রাণী। আমরা যেসব কাজ করতে জানি।
এই বিশ্বে এখন একটি কাজ, চলো সবাই মিলে করি। সচেতন হই আমরা সবাই। সচেতন বিশ্ব গড়ি।
করজোড়ে প্রার্থণা করি, বৈশাখ আসুক এক নতুন ছন্দে ।
বাতাসে আসুক নির্মল নতুন হাওয়া।
নির্মল হোক এই পৃথিবী,
ফিরে আসুক আবার সেই আপন গতি।
ঠাকুর তুমি
মিঠু মল্লিক বৈদ্য
হে ঠাকুর,তুমি যুগে যুগে বরেণ্য
বিশ্বজোড়া খ্যাতি,গীতাঞ্জলির মাধুর্য্যে নোবেলজয়ী।
মনোহরা লেখনী,উজাড়িত শব্দের অধিজননে
প্রতিহৃদে আছ চির অম্লান হয়ে।
তোমার কলমে বিভূষিত বাংলা
অপরূপা,গানের প্রতি কলিতে
উদ্ভাসিত আবেগ,অক্ষয় -অবিনাশী।
বিশ্ববন্ধিত, নন্দিত স্বীয় ঔজ্জ্বল্যে।
তুমি আসমুদ্র হিমাচল,মহার্ণব
তোমাকে জানা দূরূহ,দুঃসাধ্য।
তোমাকে নিয়ে লেখা নিছকই ছেলেখেলা
তবুও লিখি ভালোবেসে,পদতলে অঞ্জলী দিতে।
তোমার আভায় আলোকিত চরাচর
তেজোরশ্মিতে প্রদীপ্ত সাহিত্যাকাশ,
ঠিক যেমন মহাশূন্যের দিবাকর
তৃপ্ততায় ভরায় এ বিচিত্র ভুবন।
সৃষ্টিতে খচিত অফুরান অনুভব
কলমে উদ্যম,মনে অমোঘ শুদ্ধতা
চিরপূজ্য,শাশ্বত বাংলার ঘরে ঘরে
এই ক্ষৌণী বিমুগ্ধ তোমার কবিত্বে।
বৈশাখী রবির কাব্য
পৌষালী ভৌমিক
রবি তোমার উদয় পূর্ব গগনে,
প্রথমা ঋতুর উষ্ণ নবীনের কোলে।
নববর্ষের হালখাতার হর্ষ তখনও উড়ন্ত,
বৈশাখের পঁচিশ অঙ্কটি রেখে গেলে জীবন্ত।
রবি তোমার কলমে বৈশাখ আজ রবিমাস,
তুমি মানেই তো নতুন, ঠিক যেন মধুমাস।
বিধাতা তোমায় কলম দিলেন,সৃষ্টির বরদান,
বিধাতার ন্যায় রাখলে তাই অদ্বিতীয় সৃষ্টির মান।
রবি তোমার সৃষ্টি সজীব,অক্ষরে প্রাণ আঁকা,
দুঃখে হাসে নয়নবারি,সুখের কবিতায় আবেগ ঢাকা।
তোমার কাহিনীতে উপন্যাস রচায় হৃদয় বাড়ম্বার,
ওহে, কোন অমৃত রেখে গেলে কাব্যতে তোমার!
রবি তুমি ভুবন খ্যাত,কবির কাব্যের গুরু কবিগুরু,
তোমার কাব্যের ঔজ্জ্বল্যে সাহিত্যের নবশিখার শুরু।
রবি তুমি এখন অমরত্বের কল্পনারাজ্যে বিরাজমান,
মোর হৃদয়ের প্রাঙ্গণে আলেখ্য তোমার নাম,
হে বিশ্বকবি,মধ্যগগনের অমর রবি,লহ মোর প্রণাম।
তাই হবো বা নাই হবো
বাগু বিশ্বাস
যদি বলো দাও, শুধরে দেব
তোমার অভিধানের পৃষ্ঠা থেকে ভুল বানানের
শব্দগুলো শুধরে দেব।
জিহ্বা ঠোঁটের আড়ষ্টতা শুধরে দেব,
চোখের থেকে ভুল দৃশ্যের ছলাৎছলাৎ শুধরে দেব।
যদি বলো দাও, পাল্টে দেব
ওলোট-পালট হাওয়ার গতি পাল্টে দেব।
ব্যথার চিবুক পাল্টে দিয়ে আলোর বাতি জ্বালিয়ে দেব,
করতলের ভাগ্যরেখা পাল্টে দিয়ে বজ্রউল্কি এঁকে দেব।
যদি বলো যাই, তাই হবো
একটি সাদা এনভেলাপে চন্দ্র এবং সূর্য হবো,
না ছাপানো কাব্যগুচ্ছের নতুন মলাট বই হবো।
সোনার দামে ফুল কিনব,
ফুলের দামে প্রেম,
হঠাৎ করে ঝড় উঠলে
বিস্মৃতির হেম।
যদি বলো নেই, নেই হবো।
দুটি অনুকবিতা
শ্রীমান দাস
১/
তান্ডব
তান্ডব এলে ঝিমিয়ে পড়ে উৎসব,
মূহুর্তেই বিলীন বাঁধন কলরব...
প্রাণোচ্ছল হাসির ফোয়ারা
এলোমেলো কুটুমভাত।
২/
দূষণ
অজাত শিশুটিও জেনে গেছে
গর্ভধারিণীর আতঙ্কিত প্রহর ,
অভিমানে ভূমিষ্ঠ হতে চায়নি সে
কলঙ্কিনী আলো আর এ দূষিত বাতাসে।
বৃদ্ধাশ্রম থেকে বলছি
✍️সাধন নমঃ
কেমন আছিস অভিলাষ?
খুব মনে পড়ছে রে আজ।
তোর চাকরী ভালো চলছে তো ?
বেতন আগের থেকে বেড়েছে তো?
তুই নাকি নতুন গাড়ি কিনেছিস!শুনে খুশি হলাম।
জানিস বাবা অনেক দিন হল আমি গাড়ি চড়ি নি
দুচোখ অশ্রুসজল হয় মাঝরাতে।
আচ্ছা তোর ছেলেটা ভালো আছে তো?
শুনেছি দেখতে নাকি খুব মিষ্টি হয়েছে,ঠিক তোর মত করে।
ওকে ভালো স্কুলে পড়াবি কিন্তু,যেন উঁচ্চ শিক্ষিত হয়
ঠিক তোর মত করে।
তবে শুধু শিক্ষিতই নয়,সুশিক্ষাও দিবি
যেন আমার মতো তোরও ঠিকানা পরিবর্তন না হয়।
আচ্ছা ভুলেই গেছি রে!রুমা ভালো আছে তো?
রুমার শরীর কিন্তু মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়,খেয়াল রাখিস।
স্ত্রী কিন্তু ঘরের লক্ষ্মী।
আজ না খুব মনে পড়ছে ঐ মাস্টার মশাই,মানে তোর বাবাকে,
খুব খেয়াল রাখত আমার।
আর বলতো তুমি খুব সুখে কাটাবে একদিন দেখো
সত্যিই আজ খুব সুখে আছি রে।
আনন্দে কেঁদে উঠে আমার মনটা,জলে ভিজে থাকে আচলটা।
মাঝে মাঝে তোর মতো একটা মুখ খোঁজে বেড়াই
বদ্ধ চার দেওয়ালের মাঝে বড় নিঃসঙ্গ আজ।
তবুও তোদের সুখে আমি আজ বড় সুখী,
নিশ্চয় ভালো আছিস,ভালো থাকবি
আমি তোর হতভাগী মা,বৃদ্ধাশ্রম থেকে বলছি।
"ট্রেন "
কৃষ্ণ ধন শীল
চলছি ট্রেনে কালের টানে ধূসর কালো ধোঁয়া,
নেই যে মনে কোন স্টেশনে নিয়ে ছিল হাওয়া!
চলছে গাড়ি শব্দ ভারি উঁচু নিচু পথে,
হাসি সুখে কান্না দুঃখে আছে একই রথে!
উর্ধ্ব গামী ছুটছে হয়ে বিশাল পারাবারে,
কেউ ভর পেট কেউ উপোস কেউ অর্ধাহারে।
পিছন পড়ে স্মৃতি কত ভীষণ চলার পথে,
নেই যে সময় ভাবনা করার আগুয়ানের ব্রতে।
ছোট বগি ছোট কামরা সূক্ষ্ম ছোট ঘরে,
থাকছে বসে অন্ধ হয়ে চির সুখের তরে!
বাইরে কত আলোক ধারা সবুজ কত প্রান্তর,
অন্ধ কোণে আলোক খুঁজে মিছা ভোলা অন্তর।
পাহাড় নদী সাগর দ্বীপে চড়ি নামি চলে,
হারিয়েছে শান্তি নীড় সে গতির কথা বলে,
ছুটছে যত হচ্ছে ক্ষত ফুরছে তার আয়ু,
ছাড়ছে নিঃশ্বাস জীবন আশ্বাস বিষিয়ে প্রান বায়ু!
বেলার শেষে জড় বেশে পড়বে ছিটকে যাত্রী,
সময় শেষে বিলীন হবে যত পাত্র-পাত্রী।
রবী
-পান্হ দাস
তুমি পৃথিবী তুমি বিশ্ব রজনী
দেখেছিনু বটে তোমার সৃষ্টির কাহিনী,
তোমার লেখায় জন্ম লক্ষ লক্ষ চরিত্র
কাটেনাকো অধীর সাঝের রূপোলী ছত্র ৷
বাংলার শোভায়
তুমি চির বিরাজিত,
রেখে গিয়েছো শান্তি নিকেতনে
তোমার অসীম আলোর আলোকিত ৷
অন্তহীন সোনালী সোনার তরীর
সুদক্ষ মাঝি তুমি,
সোনার মুকুটে রয়েছে নোবেলও
প্রকৃতিতে তুমিই সকল বাঙালির জননী ৷
পরাধীন ভারতের জ্বলন্ত শিখায়
আস্ত কুমিরের দল যখন দিয়েছিল হানা,
আপাদমস্তক ক্রোধে, বিষাদে প্রতিবাদের সুরে
গর্বের সাথে করেছিলে 'নাইট' উপাধি মানা ৷
গীতাঞ্জলী কে কেই বা পারে ভুলতে
ইতিহাসের পাতায় আছে তা সংরক্ষিত,
রাজর্ষিতে আজও আছে
ত্রিপুরার ঐতিহাসিক কথা বর্ণিত ৷
থাকবে চির অমর হয়ে তুমি
শত শত তোমার সংগীতে, রচনায় ও সৃষ্টিতে
থাকবে চির স্মরণীয় হয়ে তুমি
আমাদের অনন্য জাতীয় সংগীতে ৷
আমি বাঙ্গালী।
সুস্মিতা দেবনাথ।
আমার গর্ব আমি বাঙ্গালী ,
আমি বাংলা ভালোবাসি।
বাংলা আমার মাতৃভাষা,
বাংলা'ই কথা বলি।
আমি বাঙ্গালী,
বিদ্যাসাগরের অ, আ,ক,খ, আমি
প্রানে ধরে রাখি।
আমি বাঙ্গালী,
তাই বলে অন্য কোনো জাত'ই আমি ঘৃনা নাহি করি।
আমি বাঙ্গালী,
বাংলায় গান গায়বো আমি
লিখব হাজারও কবিতা।
গর্ব করে বলব আমি বাংলা আমার ভাষা।
আমি বাঙ্গালী-
রাত্রি স্নান
সীমা দাস
ষোলআনায় আমদানীকৃত বিকৃতরূপ,
হাশফেশে রূদ্ধশ্বাষ।
বদ্ধ ঘরের দরজা খুলে,
বেরিয়ে আসতে চায়।
তারপর কিছুক্ষনের জন্য,
আবার আবদ্ধ হতে ব্যস্ত।
মলিনাতার তেতো স্বাদে,
চরম অতৃপ্ততা।
সহনশীলতার বাণ,
আজ ছিটকে গেছে।
বাধাহীন হয়ে,
বিঁধে যেতে অবিচল।
একটি চলমান চালচিত্র,
সম্পূর্ণ আন্দাজ করা গেল।
তাই একটু খোলা হাওয়ায়,
করতে চাইছে রাত্রি স্নান।
........
The little children
Mithun Debnath.
The little children ,
Playing with his friends .
They're happy for whole days ,
They wants to play everytime .
The little children
They're like to see festival ,
They're like to see flowers ,
They're like to see swimming pool .
The little children
They're like to do runs,
They're like to do naughty ,
They're like to do some house works.
They don't like to reads,
They don't like to eats ,
They don't like to sleep and
They don't like to cry,
They're like to do naughty,runs and playing .
The little children
They wants to know ,what is earth ?
They wants to know ,who I am ?
They wants to know ,what is nature?
And, what is Sun?what is Moon?
স্বাগত বৈশাখ
সৌমেন ভট্টাচার্য্য
এসো হে বৈশাখ...
নব কলেবরে
চৈতের চিতাভস্ম
দাও বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে।
ঝড় -ঝঞ্ঝা নয়
এসো কালবৈশাখীর তান্ডব পরিহারে।
ফুল ফল শোভে কত গাছে গাছে বাগে বাগে,
তাদের তছনছ দিও না করে
রুদ্রমূর্তি ধরে।
গ্রীষ্মের ফল সব
হয় রসালো।
কৃষকের আশা তুমি
করো পূর্ণ মধুর রূপে।
এসো হে বৈশাখ----
নব কলেবরে।
ভেবে দেখো
গোপাল দে
পরের ভুলে আঙুল ঠেলে
বাজার গরম করছো বেশ।
তুমি বাবু পাকা খোকা
তোমার রূপের নাই তো শেষ।
বাতির তলায় অন্ধকার আর
শর্ষের মধ্যেই ভূত থাকে।
নিজের ভুলে লাগাম টানো
বাঁচাও তোমার নাকটাকে।
বিশ্বকবির প্রতি
প্রবীর পাঁন্ডে
----------------------------------
ধন্য তুমি কবিবর শ্যামল ধরায়
ছড়ালে জীবন সুধা কাব্য গীতিকায়-
প্রবন্ধে,গল্প কথায়,নাটকে আখ্যানে
বিরহ মিলন ময় মধুর বাখানে।
কত নব নব ছন্দে, কত সুর গানে
হৃদয় করিলে পূর্ণ ও গীতিবিতানে।
তুমি না গাহিলে গান কাব্যবীণা লয়ে-
তুমি না রচিলে গীত সুর ছন্দ দিয়ে-
কে গাঁথিত গীতিমাল্য কবিতার হার!
কে করিত উন্মোচন নন্দনের দ্বার!
কে জানিত হৃদয়েও আছে মধুবন!
চিত্ত সেথা অবিশ্রাম করে বিচরণ।
সেথাও বসন্ত আসে ধরে যে মুকুল,
সুমন্দ বাতাস বহে ফুটে শত ফুল।
তুমি না করাতে যদি পরিচয় খানি-
অন্তরের কথাগুলো বাহিরেতে আনি,
কে জানিত মানবের হৃদয় গুহায়
এত কথা এত ভাব রয়েছে লুকায়!
যত কথা ছিল এই মরম মাঝারে
হৃদয়ের দ্বার খুলে আনিলে বাহিরে।
কল্পনার চিত্র দিয়া করিয়া রচন
জনে জনে সকলে করিলে বিতরন।
কুশ্রীতার মাঝখানে বিচিত্র সুন্দরে
নব রূপে নব রঙে দিলে তুমি ভরে।
যত কিছু অসুন্দর তব শ্পর্শ পেয়ে
উঠিল নিমেষ তরে চিরশুভ্র হয়ে।
বাংলার নদী মাঠ,পুস্পিত কানন
সর্বত্র তোমার কবি মানস চারণ।
মানসীর ভাবোচ্ছ্বাসে; সোনার তরীতে
ভাসালে জগৎ জনে সৌন্দর্যের স্রোতে।
হে বিশ্ব বন্দিত কবি? জগতের রবি;
কোথা হতে পেয়েছিলে এ সুন্দর ছবি।
কোথা হতে পেয়েছিলে এত ভাব ভাষা;
এত সুর, এত গান, এত ভালোবাসা।
তুমিই প্রথম কবি বিশ্ববাসী জনে
বেঁধেছিলে একসূত্রে প্রাণের বন্ধনে।
মিলন সাগর তীরে করিয়া আহ্বান
দিয়েছিলে সবাকারে প্রেমমন্ত্র দান।
ধন্য তুমি বিশ্বকবি বিশ্বগত প্রাণ
করালে জগত জনে প্রেমামৃত পান।।
বৈশাখ এলো
অভিজিৎ দাস
চৈত্রের দহনে শুষ্ক মাটির,
বুকফাটা ওই আর্তনাদ..
স্নেহের পরশে নীরব করিতে,
বৈশাখ এলো অকস্মাৎ।
তাই শোনাযায় বজ্রনিনাদ,
মেঘের নাচন দূর আকাশে।
কৃষক বন্ধুর প্রাণ নাচে,তাই দেখে
আজ,ভয়-উল্লাসে।
চৌদিকে তাই ব্যস্ত সমীর,
তিমির নামে চারপাশে।
বৈশাখ এলো ডাক শোনাযায়,
ডাকছে দেখো,বন-বাঁশে।
ব্যস্ত কৃষক কাজ ফেলে, তাই
ছুটছে দেখো,ঘর পানে।
ছেলে-মেয়েরা নেচে উঠে,দেখো
ভীত পাখিদের কূজনে।
একটু পরে বৃষ্টি নামে,
মাটির করে,তৃষ্ণা দূর।
বৈশাখ এলো,বৈশাখ এলো,
ডাক শোনাযায় বহুদূর।
অপভ্রংশ ভাবনা
হামিদুল ইসলাম
তারাদের কান্নায় ডুবে যায় নদী
স্মৃতির ঘাটে চিতল হরিণ
অশান্ত কবরী জটায় ছেয়ে যায় আকাশ
নিঃস্ব হাত
তবু হাতড়াই জীবন ও শঙ্খবেলা ।।
আত্মহননের দ্বার খোলা সকাল বিকেল
অশান্ত বেহুলা রজনী
গোলাপের কাঁটায় শতছিন্ন নারী শরীর
রথতলা বেচে দিই
নিষ্ঠুর নৈঋতের হাতে ।।
ভগবানপুরের বাসগাড়ি অচল এখন
ধর্মঘটে জেরবার মুহূর্ত
অপভ্রংশ ভাবনারা কালঘুমে জড়বৎ অচেতন
তবু সূর্য উদয়
প্রতিদিন রাস্তার মোড়ে মোড়ে ।।
আবিলতার কাদায় ছুঁয়ে যায় শব্দবন্দি মন
ইতিহাস বদলায় ।।
______________
।
গ্রাম+পোষ্ট=কুমারগঞ্জ। জেলা=দক্ষিণ দিনাজপুর
___________________________________
মৃত্যু
দ্বীপ বণিক
অজস্র ঘূর্ণিপাকের শেষ প্রান্তে এসে,
লোহার দরজার বাইরে মৃত্যু একদিন কড়া নাড়বে।
বলবে সেদিন চলো এবার সময় এসেছে তোমার;
নিয়ে যাবো তোমাকে এক অজানা দেশে'তে।
থাকবেনা যেখানে মায়ার বাঁধনে ঘেরা সংসার,
শুধু থাকবে আত্মার বিচরন সেই ভুবনে।
আমি বলি মৃত্যু যেদিন আসবি তুই;
খেলবো না সেদিন তোর সাথে কোন লুকোচুরি।
সময়ের কাছে সেদিন হার মেনে,
যেতে হবে তোর সাথেই।
দেহের মৃত্যু হলে সেদিন আত্মা রবে অমর,
নিয়মের বাঁধন মেনে জায়গা হবে নুতন দেহ'তে।
মৃত্যু হয়েছে যেদিন যত পথিকের;
মায়ার বাঁধন কাটিয়ে সবাই ভুলে গিয়েছে তাদের।
তাইতো বলি আয় মৃত্যু আয়;
আসবি যেদিন দুহাত ভরে জানাবো তোকে স্বাগত।।
রুপান্তর
বিধর্না মজুমদার
নিজ সুবিধার্থে দূরে গেলে,
স্বার্থপর বলে গণ্য হয়।
অপরের কর্মে হলে তফাৎ
আত্মরক্ষামূলক কার্য!
প্রত্যেকে মন্দ নয়
ভালোও নয় বটে।
দৃষ্টিকোণে নিষ্ঠা চাই মাত্র
বদলানো তো ধর্ম!
পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে,
ভাবনা চিন্তনের বদল ভাবী।।
কবি প্রনাম
মনচলি চক্রবর্তী
বৈশাখ মানেই
পঁচিশে বৈশাখ,
পঁচিশে বৈশাখ নিয়ে আসে
কবিগুরুর আবির্ভাব ক্ষন,
কবি তুমি রবি হয়ে
দিও কিরন আমাদের
চলার পথে, প্রতি বাঁকে
প্রতি মোড়ে।
তোমার সৃষ্টিতে
আমাদের অমূল্য কৃষ্টি,
তোমার মাঝেই মোদের
সভ্যতা, সংস্কৃতি, গৌরব,
অস্তিত্ব সমুজ্জ্বল।
তুমি রবে নীরবে, আপন হয়ে
মোদের হৃদয় মাঝারে,
হে কবি জগৎ সভায়
লয়েছ চিরস্থান,
তোমার চরনে জানাই
শত কোটি প্রনাম।।
মৃন্ময়ী
রুপালী রায়
শেষ বিকেলটা আজও আমার কাছে ভীষণ প্রিয়
গোধূলি সন্ধ্যা দাঁড়িয়ে আছি পাড়ার মোড়ে
খোলা আকাশের নীচে
সন্ধ্যার ঘন কালো রং ক্রমশ আমাকে ঘিরতে শুরু করেছে
তুমি এসে কতটা সহজে বলে দিলে এখানেই ইতি টানতে হবে মৃন্ময়ী মায়ের অসুখ করেছে
দেশে ফিরতে হবে
বোধহয় আর আসা হবে না
আমি সেদিন বারবার অপেক্ষার জন্য কাতরে ছিলাম
তুমি রাজি হওনি
সেই মৃন্ময়ী ডাকটা আজও কানে বাজে
কানে বাজে তোমার কথা,কবিতা
তোমার লেখা প্রথম কবিতা আমার জন্য
সেদিন রাজি না হওয়ায় কারণটা আজ বুঝতে পারছি
সকলে মিলে প্রায় জোর করে আমায় বিয়ের পিড়িতে বসানোর চেষ্টা করেছিল বারবার ।
বাবার সাথে সম্পর্কটা ভালো নেই আর ।
যাওয়ার সময় ঠিকানাটা ও দিয়ে যাওনি
কিছু দিনের মধ্যে যোগাযোগটাও বন্ধ করে দিয়েছিলে একেবারে
মনে পড়ে আমাদের প্রথম দেখার কথা
নীলগিরী হাটের পাশেই কবিতার আসর বসত রোজ
তুমি আমার কবিতা শুনে আমায় ভালোবেসে ছিলে
আচ্ছা আমি কি দেখে ভালো বেসেছিলাম ?
তোমার প্রিয় নীল টি শার্টটা
মনে পড়ে দুজনে মিলে কিনেছিলাম নিউ মার্কেট থেকে
তখন তোমার বয়স অল্প
ফরমেল ড্রেস পড়তেই ভালো বাসতে বেশি হাতে ব্লেক কালারের হাত ঘড়ি
অনেকে অনেকবার বলেছিল দেশে গিয়ে তুমি বিয়ে করেছ
বিশ্বাস হয়নি
যাকে ভালো বাসা যায় তাকে কি করে এতটা অবিশ্বাস করতে পারি?
সব বিশ্বাস অবিশ্বাসের পালা শেষ হলো
আজ দেখলাম আবার তোমাকে নিউ মার্কেটে
নতুন মানুষ খুব বায়না ধরেছিল মনে হয়
না হয় তুমি যে কখনো এ পথে ফিরতে না তা আমি অনেক আগেই বুঝতে পেরেছি ।
ভয় পেয়ো না এই চিঠি তোমার ঠিকানায় পৌঁছাবে না ।
তবে বেশ মানিয়েছে দুজনকে ।
ভালো থেকো প্রিয় নীল ।
আমার বৈশাখের রবি
সুপর্না কর
হে কিংবদন্তি বিশ্বকবি
তুমি আমার সেই বৈশাখের রবি।
তুমিই সেই কবিগুরু,
যাহার হাতের ছোঁয়ায় হয়েছিল জাতীয় সঙ্গীতের শুরু।।
তোমার লেখা সঙ্গীত আজও সারা বিশ্ব শুনে।
গোটা জগৎ আজ মুগ্ধ তোমার সাহিত্যের গুনে।।
দেশের মতো বিদেশেও তোমার শ্রেষ্ঠত্ব আছে ছড়িয়ে,
আমিও আজ সাহস করে লিখছি তোমায় নিয়ে।
তোমার লেখা কত গল্প কবিতা আজও সকলের স্মৃতিতে আছে।
অনন্তকাল ধরে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে গোটা বাংলার কাছে।।
তোমাকে অনুসরণ করেই মোর লেখার জগতে পথচলা শুরু।
জন্মদিনে তোমার চরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই হে কবিগুরু।।
বসন্ত
কৃষান নমঃ
ঝরা সেই পাতা গুলো হাসছে
আবার সবুজ হওয়ার আশায়।
দু:খকে ভুলে তারা,
লিখছে খুশির কাছে চিঠি
রঙিন সেই ভাষায়।
গাছের নতুন পাতা, চারদিকে ফুলের গন্ধে
উদাসীন কোকিলের ডাক ধরে
সেই বসন্তেরই আগমনে।
কৃষ্ণচূড়ার রাজপথে সাজে
সঙ্গীতের মধুর সেই বাদ্য কানে বাজে।
ভগবানের আশীর্বাদে
দেখি আবির রাঙ্গা চারদিকে।
বসন্ত কথা বলে পাখির ডাকে,
ছেলে - বয়স্ক সবেই আনন্দে মেতেছে আজ
সেই বসন্তেরই আগমনে।
ভ্রমরা দল বেঁধে চলছে দেখ
ফুল ফোঁটার আনন্দে।
গাছে নতুন পাতা পল্লব জাগে
চারদিকে দেখছি অপরূপ লাগে
সেই বসন্তেরই আগমনে।
আমার রবীন্দ্রনাথ
সংহিতা ভট্টাচার্য্য
আমার যতো সাধ আহ্লাদ
কবিগুরু তুমি রবীন্দ্রনাথ,
রবির কিরণে সাজিয়েছ প্রভাত
তুমি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ।
আমি আসার অনেক আগেই এ ভবে
কেন চলে গেলে তুমি বিশ্বসংসার ফেলে
সাজিয়ে দিয়ে গেলে তোমার সৃষ্টির দরবার...
যা নিয়ে বাঁচবে এ বিশ্ব হাজার কোটিবার।
আজ ও ভেবে ক্লান্ত হই আমি
কোথায় পেলে তুমি এত সুন্দর লেখনী !
রঙ বাহারি ছন্দের মালা গেঁথে গেছো তুমি
তোমার লেখনী যেন যাদুর পরশমনি।
আজ ও মনে পড়ে ছোটবেলার সেই "ধ্রুব" স্যার
যিনি পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তোমার বিশ্বসংসার,
তোমার রেখে যাওয়া যত সৃষ্টি সম্ভার ..
আমার "ধ্রুব" স্যারের চোখে দেখেছি বার বার।
বাবা আমার দেখিয়েছেন পৃথিবী
"ধ্রুব" স্যার আমায় চিনিয়েছেন " রবি "
রাগে অনুরাগে যখন একা ছবি আঁকি...
মনে মনে স্যার তোমায় গুরু ভাবি।
মনে পড়ে সেদিনের কথা
যেদিন হয়েছিলেম পিতৃহারা,
চোখ মুছিয়ে দিয়েছিল তোমার "সঞ্চয়িতা",
ভাবছি !তুমি কি করে জানলে আমার বিষন্নতা!
আজ বিষন্ন একলা হয় যখন প্রান
সাথে নিয়ে বসি তোমার "গীতবিতান ",
গুনগুনিয়ে সুরে বেসুরে গেয়ে যাই তোমার গান,
তোমার সৃষ্টি হাজার বছর করে দান।
তুমি তো মহাকাশ আমার স্বর্গের দেবতা---
তুমি আজ হাজার কবির কবিতা..
তোমার সুরে গান গেয়ে ভুলাই সব ব্যার্থতা,
তুমি বিশ্বগুরু, তোমাকে জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা।
কৃষ্ণনগর, আগরতলা।
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""
ভাঙা নৌকা
দীপু দেবনাথ
ভাঙা নৌকায় বসে আমি,
যাব ঐ পার ।
আমার যাত্রীর সঙ্গী হবে ,
ঐ পাহাড় ।
স্রোতের ঢেউয়ে ভাসাব মন ,
সেই স্রোতে ভাসবে আপন ।
জীবন গামী এই আঙিনায়,
মরু ভূমি মন ।
তার তৃষ্ণায় জীবন কাটায়,
জীবনও মরন ।
ভাঙা নৌকার যাত্রী আমি,
মাঝি এখন ।
পার হবার কামনায় জানি,
ক্রিয়ার এই চরণ ।
নৌকা আমার ডুবো ডুবো,
পার হবে কী প্রাণ ?
প্রাণের দায়ে নৌকা ভাসাই,
নৌকার এই জীবন।
থাকবে পরে যাত্রীর ভগ্নাংশ,
সময়ের ছাই ।
ভগ্ন দেশে নৌকার ভেসে,
যায় যে চলে ।
ঐ যে দেখা কূলের ছায়া,
মিলল কি তা শেষে ?
ভাঙা নৌকার যাত্রী আমি,
যাত্রী আমি ঐ------।
বৈশাখের আগমন
অনুশ্রী ভট্টাচার্যি ।
বৈশাখের নব লীলায় নববর্ষের মুখ ।
পাতা ঝড়ার আনন্দ নিকেতনে ছন্দভরা জীবন খেলার সুখ ।।
বৈশাখের নব স্পর্শে জীবন মুক্ত করো দ্বার ।
মুক্ত হাওয়ায় গত বর্ষের জঞ্জাল করো পার ।। রোদের আকাশে, পাখির কূজন, দুপুর বেলার সাজ ।
নতুন রবির, নতুন সুরে, নববর্ষ আজ ।।
কত শিশু মাঠ বাগানে, বসে আছে আমগাছটি ঘিরে ।
নতুন বছর আসলো তেরে ।। পাখিরা ও সকাল হলে বাসা থেকে দিগন্তে ওড়ে ।
প্রভাত হলে পাখির গান দুঃখ হয় পরিত্রান ।।
বৈশাখের রোদে পুড়ে শ্রমিক ভাই তৈরী করে সোনার ধান ।
সবার ঘরে আলোর হাসি, বছর ঘুরে আবার আসি ।। নতুন বছর, নতুন প্রান, হাসি মুখে বলবো কথা দূর করে অভিমান ।।
নবান্নের এই দিনেতে নৃত্য দোদুল সঙ্গীতে ঘের।বারো মাসে তেরো পার্বন বাঙালীর উৎসবেতে ভরা ।।
আজ এই নব গানে, নব ছন্দে, মনে জাগে কত ইচ্ছা ।
নববর্ষের আগমনে সবাইকে জানাই অনেক শুভেচ্ছা ।।
রেস্তোরাঁ
-দীপাঞ্জলি পাল
ও মেয়ে তোর নাম কিরে?
---মিষ্টি
কি করিস?
---একটু টাকা দেবে। টাকা!!
আর বয়েস?
---টাকা দাওনা ...টাকা।
অনেকদিন ভালো কিছু খাই নি
আগে বল বয়েস কত???
---জানি নাতো! সে কিরে?
বয়েস দিয়ে কি হবে!
তাহলে বাড়ী,
---মেয়েদের কোনো বাড়ি হয় নাকি?
জন্ম থেকে বাপের ঘরে
বিয়ের পর স্বামীর ঘরে
বুড়ী হলে ছেলের ঘর
তা না হলে বৃদ্ধঘর।
এই শোন, দাঁড়া, শুনে যা---
কার ঘরে থাকিস এখন?
---মা মরলো জন্ম দিয়ে
বাপ করলো আবার বিয়ে
থাকবো কোথায় আর গাছতলাতে।
রাতেও সেই গাছতলাতে!!!
রাত কি করে কাটাস শুনি?
---নেই মোদের অট্টালিকা
নেই কোনো প্রাসাদবাড়ি।
গাছ আর পথ আমার সাথী
সেইখানেতে কাটে রাতি।
ঘুম আসে কি সেই পথেতে
এত শত হট্টগোলে?
---আলোর থামের নীচে
গাছতলার ওই পাশে
চাদর মুড়ি দিয়ে
কখনো বা জেগে।।
শোন,কি খেতে চাস তুই?
---ওই দোকানের হলুদ ভাত
আর কি যেন সাথে লাল তরকারি
এতেই হবে। দেবে কিনে??
একটু ভেবেই দিলেম বলে
চল, যাই তাহলে ঐ দোকানে।
হলুদ ভাত আর তরকারি দিয়ে
শেষ পাতেতে মিঠাই নিয়ে
যা খুশী তোর ইচ্ছে হবে
খেয়ে নিস তাই পেটপুরে।
দেখছিলাম তাকে আড়চোখেতে
ও বসলো মেঝের মাঝে।
ওঠ, কেনো বসলি এই খানেতে?
ওমা, সে কি গো,
দামী দোকান দামি খাবার
এটাই তো ঢের হয়েছে
এর চেয়ে আর কি বা চাই।
তবু ওঠ, চেয়ারে বস
এইখানেতে এভাবে খায়।
দেখছিল সে অবাক ভাবে
যখন এলো ডালির সাজে
কেউ খাচ্ছে চাইনিজ আর
কেউ বা রঙিন ফোয়ারাতে।
যখন ওর খাবার এলো
ছলছল চোখ প্রশ্ন করলো
এত খাবার, সব কি আমার
কি করে খাবো এতসব খাবার।
কষ্ট হলেও খেয়ে নিল সে
চুপটি করে গোগ্রাসেতে।
কতদিন যেন খায়নি কিছুই
পড়েনি পেটে ভালো কিছু।
প্ৰশ্ন করলাম সব শেষেতে
পেট ভরেছে, লাগবে আর কোনো কিছু
না গো না, কি বলছো
তিন দিনের খাওয়া খাইয়ে দিলে
আরো খাওয়াবে, পাগল নাকি!
চলে গেল সে তারপরেতে,
শান্তি পেলাম বহুদিন পরে
ওকে খাওয়াতে পেরে, আর
ও ভালোভাবে খেলো বলে।
দশম শ্রেণীর ছাত্র
সুজন দেবনাথ
দশম শ্রেণীর সেরা ছাত্র
পিন্টু তালুকদার
যতই পড়ে মন্টু, কানাই
নাগাল পায় না তার।
রোজই তারা ফন্দি আঁটে
পিন্টুর উপর ক্ষুব্ধ
সকাল সন্ধ্যা এটাই ভাবে
করবে কিসে জব্দ।
এমন করেই কাটছে ওদের
ভেবে না পায় পথ
সবাইকে তারা ক্ষেপিয়ে দেয়
ক্লাসে পাকায় জট।
পিন্টু ওদের এড়িয়ে চলে
ক্লাসে পড়ে সর্বক্ষণ
সৎ পথে যে চলে সদাই
তারে টলাবে কোন জন?
বেলাশেষে পিন্টুরা তার
লক্ষ্যে পৌঁছে যায়,
মন্টু ,কানাই , ওরা যেন
কোথায় হারিয়ে যায়।
ঠিকানা:- আগরতলা
সেই ছেলেটা
পূজা মজুমদার
ছেলেটা দেখতে হালকা শ্যাম বর্ন,
দুটি চোখ তাঁর মৃগাঙ্ক,
প্রিয় সাবজেকটা
নয়কো তাঁর অংক !
নিজ আত্মবিশ্বাসে বিশ্বাসী
সেই ছেলেটা বলতো
' সই ' তোমায় ভালোবাসি;
তখন ভালোবাসায় ছিলোনা কাম্যোদ্দীপকের ছোঁয়া :
আস্তে আস্তে
মেয়েটা হলো তার
জীবনে কোঁয়াশার ধোঁয়া ।
নিভে গেলো ভালোবাসার মোমবাতিটা
হয়তো মেয়েটা ছিলো
তুলসী পাতায় ধোয়া !
আজও সেই ছেলেটার
বাস্তবে ধরা দেয় মেয়েটা ,
ছেলেটার ঘরে পরে আছে
সইর জন্য
যত্ন করে
তোলে রাখা
সেই.......
লাল শাড়ীটা।
বসে আছে ছেলেটা
ফিরে আসার পথিক হয়ে;
অপেক্ষায় অপেক্ষাকৃত অপেক্ষমাণ
সেই ছেলেটা
আজ
বাউন্ডেলের
এক বাউল হয়ে
ঘুরে বেড়ায়,
এবং...............
নিজেকে " অভদ্র "
বলে দাবি করে।
ঐদিকে প্রতিটা মেয়ে তার
লেখা কবিতা - গানে
সময়ে সময়ে মরে।।
আমার বৈশাখের রবি
রাজীব বসাক
রবির টানে বাজিয়ে বাঁশি ,অম্রপল্লি কৃষ্ণচূড়া বেজায় খুশি ।
আমার বৈশাখ মনের কোণে, রবি টানে।
নদীর কুলে গ্রাম পাহাড়ে, জোনাক পোকা ছড়িয়ে পড়ে ।
ভেলা চলে নদীর জলে ,উচ্ছ্বসিত পাঁতিহাস বেজায় ঘুরে ।
আমার বৈশাখ গানের সুরে, রবি তোমায় মনে পড়ে ।
কালবৈশাখী ঝড়ের গতি,গানে কবিতায় তোমার স্মৃতি ।
গৌধূলির ঐ বিকেল বেলা, রাখালরাজার বাঁশির সুরে,
আমার বৈশাখে রবি তোমায় মনে পড়ে ।
মেলার ভিড়ে হাটবাজারে ,এঁকেবেঁকে নদীর তীরে,
একলা চলার পথে ,তোমায় মনে পড়ে ।
আমার বৈশাখ রংতুলিতে,তোমার ছবি অঙ্কিত করে ।।
বিলোনিয়া নলুয়া ( জয়পুর )
যাপন কথা
-মিঠুন রায়
অর্ধেক আকাশ আজও পথ চেয়ে আছে,
জীবনসঙ্গীনীর অপেক্ষায়।
চোরাবালি-স্রোত গোপনে কেড়ে নিয়ে যায় বহমান প্রেমের ধারা,
এই আকাশও একদিন পরিপূর্ণতা পেয়েছিল উভয়ের মৃদু স্পর্শে।
আমার হাত ধরে কেঁদেছিল সেও ,
ভেবেছি সকল দুঃখে তার পাশে থাকব আমিও,
এক অন্তর্মুখী বারান্দায়
গভীর রাত পযর্ন্ত হেঁটেছিলাম
ভেবেছি অনাগত ভবিষ্যতের কথকতা,
কিছুই হল না ছোঁয়া
ঘুম ভেঙে দেখি-
কালো মেঘের অন্ধকারে ছেয়ে গেছে
আমার আকাশ,
বসন্তের ঝরা পাতার মতো পড়ে আছে একটি কল্পিত সময়ের যাপন কথা।
কৃষকের সংসার
রাজা দেবরায়
একজন কৃষক তার পরিবারে স্ত্রী,পুত্র,আর তার বৃদ্ধা মা।কৃষকের উপার্জনের পথ হল কৃষিকর্ম।কিন্তু ফসল ফলার আগ পর্যন্ত কৃষকটির উপার্জন এমন কিছু হয় না। কোনো দিন কৃষক খেয়ে,আবার কোনো কোনো দিন পেটে ভয়ংকর খিদে নিয়ে মাঠে কাজ করে।মাঠে সোনার ফসল ফলবে কিছু পয়সা উপার্জন হবে এটাই তার ভরসা । দীর্ঘদিন জমিতে আবাদের পর মাঠে সোনার ফসল ফলল,কিন্তু ফসল বিক্রি করে সে ন্যায্য মূল্য পেল না।ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকটি বসে বসে ভাবছে কি করে চলবে আমাদের সংসার?
চিঠি
--- চন্দন পাল
জন্মদিনে শুভেচ্ছা নিও ঠাকুর,
একশ ষাট বছর আগে তোমার ধরাতে যেমন,
আকাশ বাতাস নদী গাছপাখি হাসতো গাইতো বইতো,
আজ আমার ধরাতেও তাই বয়।
গাড়ি নেই ঘোড়া নেই, পা'এ হেটে চলে পথ।
হাসপাতালে ভীড়নেই, শাকভাতে চলে রথ।
আকাশে লোহার পাখি, আনাগোনা নেই তত
পরিযায়ী পাখি ফিরে, আকাশে আগের মত।
জানো ঠাকুর, কিছুদিন আগেও ,,,,,
সৈকতে কাঁকড়া ফ্লেমিঙ্গো ডলফিন ঘেষতো না, আজ অনুভব করি।
আমরা জঙ্গল দেখতে যেতাম,
আজ বুনোহাঁস, নীলগাই, হরিণ, শীল, দুম্বা দালান দেখতে আসে।
নগরী থেকে আকাশ দেখা যেতো না, আজ আকাশ পৃথিবীকে চাখে।
গঙ্গা যমুনার জল নির্মল ছিল কই! আজ বিনাব্যয়ে আয়নাময় স্বচ্ছ।
শুধু একটু তফাৎ ,,,
তোমার আশপাশ ছিল করুণা ভরা,
আর আমরা ক্ষুদ্র করোনায় ক্লিষ্ট।
প্রতিযোগিতা আর অহংকারে স্বর্গ মর্ত্য পাতালে যারা বিক্রমে ঘুরতো ,
আজ মুখাবরণী আর পাজামায় ঘরবন্দী।
সঙ্গে আমিও। ক্ষমা করো ঠাকুর।
------------ প্রণামান্তে চন্দন।
শঙ্খ ঘোষ প্রয়াণে
বিপ্লব গোস্বামী
আজ সহসা কবিতার মুহুর্ত
হয়ে গেল যে স্তব্ধ ;
সাহিত্যের রাজপথ অলি-গলি
হলো সবই নিস্তব্ধ।
কালকরোনার কাছে
মেনে নিয়ে হার ;
শান্তির নিশ্চিন্ত দ্বীপে
দিয়েছ যে পার।
তুমি ছিলে নির্ভীক,
চির পষ্টবাদী ;
আপোষ বিহীন যুদ্ধা,
সদা সত্যবাদী।
তব শাণিত শব্দের বাণে
ভেঙ্গেছে কত,
অত্যচারী-উগ্ৰবাদীর শান।
তব প্রতিবাদে ভূলুণ্ঠিত
হয়েছে কত ,
অহংকারী-স্বেচ্ছাচারীর মান।
হয় তো আর দাঁড়াবে না তুমি
একা ঐ গলির কোণে ;
হয় তো শুধু দেখব তোমায়
কাগজের বিজ্ঞাপনে।
পিতা একটি বহুবচন
নৃপেশ আনন্দ দাস
মেয়ের প্রশ্ন,
বাবারা কি বটগাছের মতো ?
এ প্রশ্নের উত্তর কোন দিনই কোন পিতা হয়ত খুঁজে নি !
বাবা নিজের অজান্তেই বটেরই ডালের মতো হাতখানি, ওর মাথায় বুলিয়ে, স্মিত হাসিতে স্নেহ ঢেলে দেয় ;
শুধু অপলক চেয়ে থেকে কথা বলে, অন্য একটা বটগাছের সাথে ।।
জীবিত বলেই,
মাঝে মাঝে নিজের বুকের ভিতর বিদ্রোহও জন্ম নেয় ।
সে বিদ্রোহ হারও মানে, বারে বারে ।
এ বিদ্রোহে কখনো পিতা কাঁদে, কখনো মাতা, আবার কখনো ভাই কিংবা বোন ।
সবাই-ই এক একটা বট, অথবা পিতা, অথবা,
প্রতিটি পিতাই যেন এক একটি বহুবচন ।
কবিগুরু
মুন্সি দরুদ
শান্তির কেতন হাতে যদি আর একবার
ফিরে আসতে কবিগুরু তুমি,
আজও অপেক্ষা করে বিশ্বভারতী ।
পাহাড় পরিমাণ বইয়ের গাদায়
ধুলো পড়েগেছে, ঝাড়বার কেউ নেই,
এসে একবার দেখে যাও -
তুমিবিনা ফাঁকা লাগে ঝোনাঝুরির হাট,
তুমি ফিরে এলে খুশি হবে প্রকৃতির বাট ।
টেলিপ্যাথিতে রবীন্দ্রনাথ
সুপর্ণা মজুমদার
--------------------------
"জীবনের পরপার থেকে রবীন্দ্রনাথ বলছি------হ্যাঁ, তোমাদের হৃদয়ের কবি রবী ঠাকুর । তোমরা আজ আমার জন্মদিন পালন করেছো, আমার গুণ গান গাইছো,আমার জয়ধ্বনি করছো? ।আমার রচিত গান, কবিতা, নাটক সবকিছুতে তোমরা আজ বিভোর হয়ে আছো। আচ্ছা, একটা কথা বড় জানতে ইচ্ছে করে, তোমাদের মনে আমি কি শুধুই আমার জন্মদিন আর মৃত্যুদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ? তোমরাই তো বলো আমি তোমাদের প্রাণের কবি, মনের কবি। সত্যিই কি আমাকে তোমাদের হৃদয়ে আপাদমস্তক স্থান দিতে পেরেছো? নাকি লোক দেখানো ভরং!! জানো! সত্যিই ভীষণ জানতে ইচ্ছে করে। আমার জন্মদিন আর মৃত্যুদিনে দুটো গান গাইলেই কি আমাকে হৃদয়ের কবি হিসেবে আখ্যা দেওয়া যায় ? একবার নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করো। কতটুকু জানো তোমরা আমাকে ? হয়তো তোমাদের মাঝে মুষ্টিমেয় কারো বসার ঘরের আলমারিতে শোভা পায় আমার সৃষ্টি সম্ভার। কতটুকু জানো আমার সাহিত্য- দর্শন সম্পর্কে, যার উপর ভিত্তি করে বলতে পার আমি তোমাদের আত্মায় মিশে আছি ? বছরের তিনশো পয়ষট্টি দিনের শুধুমাত্র দুটো দিনকে বাদ দিলে আর কতদিন আমাকে মনে করো,আমার ভাবনায় ভাবিত হও? আমার চিন্তনের অংশীদার হও? বলো....!
জানো, কখনো বিদ্রূপহাসি পায়,আমি আমার সৃষ্টিকার্যের জন্য বিশ্বকবি আখ্যা পেয়েছি ঠিক, কিন্তু আমার সর্বপ্রথম পরিচয় আমি একজন বাঙালী । আমি বাংলার কবি, বাংলার সাহিত্যিক,বাংলার দার্শনিক । কিন্তু যাদের জন্য সর্বপ্রথম এই বিশাল সৃষ্টি, সেই বাঙালীরাই আমাকে ভুলতে বসেছে । শুধু আমাকে নয়, ভুলতে বসেছে এই বাংলার গর্ব পঞ্চ কবি, নজরুল, অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত, দ্বিজেন্দ্রলাল,সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র। এমনকি বাংলা হরফের স্রস্টা ঈশ্বরচন্দ্রবিদ্যাসাগর,সমাজসংস্কারক রাজা রামমোহন রায়, সবাইকে আজ বাঙালীরা ভুলতে বসেছে।
হে হে (বিদ্রূপ হেসে), অবশ্য হবে নাইবা কেন, এ-যুগের বাঙালী প্রজন্ম যে বাংলা ভাষাকেই ভুলতে বসেছে !! ভিন্ ভাষার বলয়ের আবর্তে ভেসে গিয়ে নিজের ভাষাকে অচ্ছুৎ করে দিয়েছে । ভিন্ ভাষাকে সস্নেহে জড়িয়ে ধরেছে নিজেরই মায়ের মতো,আর তাতে এ যুগের বাবা-মায়েরা হচ্ছো গর্বিত । ভবিষ্যতে হয়তো দেখা যাবে মুষ্টিমেয় কিছু বাঙালী ছাড়া সমগ্র বাঙালী প্রজন্ম বাংলা ভাষা ভুলতে ভুলতে নিজের মা-কেই ভুলে গেছে । কিন্তু এই ভাবধারার জন্য এই প্রজন্ম দায়ী নয়, দায়ী তোমারা,বাবা-মায়েরা । তোমাদের উৎসাহে আজ বাংলা ভাষা, বাংলা হরফ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে । তোমাদের এতটুকু বিবেকে বাঁধে না। অথচ জানো,আমাদের এই বাংলা ভাষাটাই হচ্ছে বিশ্বের সবচাইতে মধুরতম ভাষা । ভিন্ ভাষাকে স্বাগত জানানোর মানে কি নিজের মাতৃভাষাকে গলাধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া? তাকে বিসর্জন দেওয়া? আসলে তোমরা বড়োই অনুকরণপ্রিয়, যা অন্য কোন জাতির মাঝে লক্ষ্য করা যায় না । এই অনুকরণ প্রিয়তার কারণে তোমাদের নিজস্বতাকে হারিয়ে ফেলেছো, যা খুবই দুঃখ জনক ।
এই প্রজন্ম ক'জন জানে আমাকে,নজরুলকে,কান্ত কবিকে? হয়তো একদিন এমন আসবে আমরা ওদের কাছে একটা অজানা অচেনা জগৎ হিসেবে পরিচিত হবো। বিশ্বাস করো, এটা ভাবতেই হৃদয় ভীষণ বিষন্ন হয়। আমি যে সত্যিই তোমাদের হৃদয়ে স্থান পেতে চাই, তোমাদের আত্মার সাথে মিশে যেতে চাই। মুষ্টিমেয় কিছু বাঙালীর হৃদয়ে নয়, আপামর বাঙালির হৃদয়ে স্থান পেতে চাই আমারই সৃষ্টির মাধ্যমে, আমারই আদর্শ, ভাবধারার মাধ্যমে । আমি চেয়েছিলাম আমার জাতির মানুষের হাত ধরে বিশ্বের ঘরে ঘরে পৌঁছাবো । তাই তো শান্তিনিকেতনের ভাবনা জেগেছিল আমার অন্তরে। আমি চেয়েছিলাম বাঙালী জাতির সাথে বিশ্ববাসী আমাকে চিনুক, আমাকে জানুক বিশ্বভারতীর সুবিশাল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। আমি আমার কল্পনার সবটুকু নিছাড় করে দিয়েছি সেই প্রতিষ্ঠানের মাঝে ।
হে মহান বাঙালী জাতি, তোমাদের কবিগুরুকে যদি সত্যিই অন্তর দিয়ে ভালোবাস, সত্যিই যদি আমি তোমাদের প্রাণের কবি হই,নিজেদের শ্রুতিমধুর মাতৃভাষাকে হেয় করো না। হেয় করো না বাংলার কোনো কবি, সাহিত্যিক, মনীষীদের, যারা তোমাদের জীবন পথের পরিচয় বাহক। হেয় করো না বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতিকে,ইতিহাসকে। বাইরের পৃথিবীর মাঝে নিজের ভাষাকে নিজের "মা"ভেবে যোগ্য সম্মানটুকু দাও। কে জানে, হয়তো তোমাদের হাত ধরেই আপামর বাঙালি আর বাংলা ভাষা বিশ্বের আঙ্গিনায় ধ্রুব তারার মতো জ্বলজ্বল করবে ! সেদিন আমি, তোমাদের রবী ঠাকুর ভাববো সত্যিই তোমরা আমাকে তোমাদের হৃদয়ে স্থান দিয়েছো। সেদিনের অপেক্ষায় থাকবো,যেদিন সত্যিই তোমাদের মননে আর চিন্তনের গভীরে আমাকে ঠাঁই দেবে প্রাত্যহিক জীবনে নুতন প্রজন্মকে আমার সৃষ্টির সাথে, আমার ভাবধারার সাথে একাত্ম করে । আার যদি না দাও, যাকে তোমরা বলছো প্রাণের কবি, মনের কবি, হৃদয়ের কবি রবিঠাকুর..., সে একদিন অজানার অন্ধকারে হারিয়ে যাবে । আমি আশাবাদী তোমরা প্রাণের কবিকে হারিয়ে যেতে দেবে না।
আমি তোমাদের প্রতিটি স্পর্শ পেতে চাই । তোমাদের স্পর্শ পেতে মন যে সদা ব্যাকুল হয়!!
-----------*********-------------
চির স্মরণীয়
শাশ্বতী দেব
বৈশাখের শুরুতে করি স্মরণ যাকে,
বিস্তারিত জ্ঞান যার বিশ্বচরাচরে।
গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ লিখলেন যিনি,
সঞ্চয়িতার রচয়িতা স্বয়ং তিনি।
বাঙালির গর্ব ঠাকুরবাড়ির ছেলে,
খ্যাতি যার প্রসারিত বিশ্ব দরবারে।
পেয়েছেন যখন নোবেল সম্মাননা,
ধন্য হলেন রত্নগর্ভা মাতা সারদা।
কর্নেল বাড়ি সেই সাক্ষ্য বহন করে,
প্রাসাদের গৃহে যার স্মৃতি ধরা পড়ে।
ত্যাগ করলেন যিনি নাইট উপাধি,
আমাদের প্রিয়তম সবার বিশ্বকবি।
প্রতিদিন শুনি যার কীর্তি শত শত,
হই তখন আমরা আনন্দে আপ্লুত।
বিশ্বকবি
সুমিতা স্মৃতি
বিশ্বকবি তুমি রবীন্দ্রনাথ নাম।
বললে শেষ হয়না তোমার সুনাম।।
ধন্য মোদের ভারতবর্ষ, ধন্য বাংলার মাটি।
তোমার দেখানো পথেই আমরা এখনো হাঁটি।।
বাংলা সাহিত্যে অনুরাগী তুমি, ইংরেজিতে ও রেখেছ অবদান।
বিশ্বজুড়ে পূজিত তুমি মহান তোমার দান।।
নোবেলজয়ী রবি তুমি, প্রখর তোমার দীপ্তি।
তোমার মধুর সঙ্গীত শুনে মনে আসে তৃপ্তি।।
সাদাসিধে স্বভাব তোমার, সাধারণ আচরণ।
হৃদয়ে আমি তুলে রেখেছি তোমার যুগল চরণ।।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)