দুর্গতিনাশিনী মা


  ✍️ আসিব মিয়া

মা তুই তো এসেছিলি দুর্গতিনাশিনী হ'য়ে, স্বর্গ দেবতাদের আর্শীবাদ নিয়ে।
এসেছিলি মা স্বর্গ হতে মর্ত্যেলোকে,
আলোর কিরণ ছড়ায়ে মেঘেরও পালঙ্কে।
এসেছিলি মা ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ উলুধ্বনিতে,
সিংহবাহনে মা তোর আগমন এই ধরণীতে।
এসেছিলি দশভুজায় নাশ করতে দুর্গম অসুর,
অশুভ শক্তির ঘোর আঁধার করিতে দূর।
এসেছিলি মা স্বর্গ হতে দৈব্যশক্তি নিয়ে,
'দূর্গা' রুপে শিবের সোহাগিনী হয়ে।
মা, আজ বাদে কাল ফিরবি কৈলাসে,
অশ্রুসিক্ত এই নয়ন তোর প্রত্যাগমন উচ্ছ্বাসে!

ভেজা নীড়


  ✍️ অন্তরা ভট্ট

রঙিন পাতার স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সেই ছোট্ট ঘর
হালকা হাওয়ায় নড়বড়ে হয় সারাক্ষণ
দুলছে দোদুল দোলে খোলা ছাওয়ায়
লাগছে যে বেশ চমৎকার।
হালকা করে মেঘ জমেছে
নামলো বৃষ্টি সেথায় 
বৃষ্টি ভিজে যাচ্ছে যে তার পাতার রঙ
ঘরের কোনে জমলো বুঝি হালকা জল
হঠাৎ করে বজ্রাঘাতে 
ভাংলো বুঝি গাছের ডাল
থাকবে কোথায় ভাবছে বসে
এ কেমন কর্মফল।
পূব আকাশে তাকিয়ে থাকে
আসবে ঊষা কবে
বৃষ্টি থামুক বাঁধবো বাসা
স্বপ্ন আসবে ফিরে।

প্রেয়সী


✍️ প্রবীর পাঁন্ডে

আজকে জোৎস্না রাতে রূদ্ধ দ্বার খুলে
এসো দেবী জ্যোতির্ময়ী স্নিগ্ধ দৃষ্টি তুলে। 
দুটি করে বদ্ধ করে নিয়ে এসে আলো, 
আমার হৃদয় মাঝে দীপ খানি জ্বালো। 
লক্ষ কোটি বর্ষ ধরে অন্তরে আমার
পুঞ্জীভূত হয়ে আছে যত অন্ধকার
দূর করে দাও আজি আলোর প্রকাশে। 
ধন্য করো হে আমায় নিরব পরশে। 
ওগো প্রেয়সী পূর্নিমা দিব্য ধাম বাসী
অঙ্গে অঙ্গে ঢেলে দিয়ে সুধা রাশি রাশি;
আমার হৃদয়-মন চির তৃপ্ত করে
মিটাও রূপের তৃষ্ণা নিমেষের তরে। 
আলোর ছটায় ভরে আমার আলোয়
সৌন্দর্য প্লাবন এনে ঘটাও প্রলয়।

লোকে কি বলবে


✍️ বিজয়া শর্মা

নিজের খেয়ালখুশি মত পারি না চলতে
পারি না নিজে কিছু করতে,
পাছে লোকে কি বলবে।

সর্বদাই থাকি আড়ালে
সম্মুখে পা বাড়াতে পারি না,
পাছে লোকে কি বলবে।

পছন্দের পোশাক পরতে নেই
 ইচ্ছা মতো ঘুরতে নেই,
পাছে লোকে কি বলবে।

ছেলে বন্ধু রাখতে নেই
নিজের মতো সাজতে নেই,
পাছে লোকে কি বলবে।

জীবন কিন্তু একান্তই নিজের,
তাও লোকে কি ভাববে।

বলছি লোকের কথা বাদ দিয়ে,
এবার নিজের কথাটা কি ভাববে।

নিঝুমতা পেরিয়ে

✍️ সঙ্গীতা গুপ্ত

এই শহর এখন নিঝুম
দাবদাহের পর শীতল স্পর্শের দিকে মুখিয়ে
জমাট কালো মেঘের আড়ম্বর,
অভিমানী আকাশটা যেন
সহসাই আমার বুকের উপর,
কতকাল তুমি মৌন
জীবনের কথাগুলো আঁধারে
এই শ্রাবণ দুপুরের স্নিগ্ধতায়
শরীর মন ভেসে যায় বৃষ্টি ভেজা পথে,
জলরং ভরাট আকাশ
একঝাঁক মুক্ত পায়রা উড়ে গেল,
বৃষ্টি ভেজা উপোষী রাতের আঁধারে
উপশম কেবলই তুমি।

অনিকেত ঠিকানা

✍️ শুভ্রা সাহা

    মহামিলনের এই মেলায় 
তুমি কি একাকী খুঁজে নিতে পার 
সমৃদ্ধতায় পূর্ণ কোন অনুভূতিকে ?
     হয়তো বা কেউ এক গাল হেসে 
    তারপরে চলে যাবে 
      ঠাসা ভিড়ে পিঁপড়ের পথ খুঁজে ।
   তুমি অসহায় অবাক চোখে -
    আবারও খুঁজবে কাউকে -
     ; অন্য ঠিকানার ।

      প্রীতির কোনো বাধা কাউকে কখনও 
      একা করে না ।
     সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখনই 
     যখন তুমি এগিয়ে যাবে ।
  অন্য পথিকের অসহায় 
    পথ খোঁজা কে আপন করে ,
   আন্তরিকতার ভিড়ে মিশে যাবে ।

তোমার পূর্ব মৌন মুহূর্তগুলোর জন্য
 এক সকরুন ব্যথা বিদীর্ন মনে 
     সময়ের আক্ষেপ করে ,
    মনের গভীরে  অন্য ব্রহ্মাণ্ডের জন্য 
       আকুল হও তুমি।

গোমতীর তীরে


✍️ পৌষালী ভৌমিক

ঐ যে গোমতীর তীর,
  তটিনীর ধারে এক মায়ার নীড়,
  কুমারী কলসি কাঁখে ছড়ায় কুন্তলের ভিড়।
ঐ যে গোমতীর তীর,
  কল্লোলিনী উর্বর করে যেথার তটভূমি,
  ফসলে ভরায়ে ভূতল কর্ষকে দেয় শান্তি।
ঐ যে গোমতীর তীর,
  জোয়ার ভাটায় দোলে হেথায় ধীবরের প্রাণ,
  ধীবরির সুপ্রভ কোমরবন্ধ যেন তারই প্রমাণ।
ঐ যে গোমতীর তীর,
  বিহগ-বিহগীর মধুরতা ওথায় প্রবহমান,
  অনুরাগে আবেগে ধুয়ে যায় শত অভিমান।
ঐ যে গোমতীর তীর,
  বনানী ঘেরা কুসুমের রঙে রাঙা বিকেল,
  রক্তিমা ছড়ায় কাহিনী আর গল্পকথা অঢেল।
কৃষ্ণবেনীর সুখ-দুঃখের অঙ্গ এ গোমতী,
মায়ার সাগর সে যে অপত্যের জননী,
পবিত্র,পুণ্যময় আর প্রশান্তির নীর,
         ঐ যে গোমতীর তীর...

সেই মানুষটা

✍️  বিজিত গোস্বামী

বৃষ্টির ফুলকি থেকে অতীত বের করার মজাই আলাদা
শৈশব পাগল ,এলোমেলো বাতাস গায়ে চড়িয়ে
ছুটে যাওয়া দামাল সখ্যতার এ গল্প বয়সের ভারে ও
 বেঁচে আছে, কেবল ছবি হয়ে।

একসাথে দঙ্গল সখা সখির বিচরণ ভূমি হারিয়ে গেছে!
পাড়ার জেঠা জেঠি কাকু কাকীমা দাদু দিদিমা কবে
মুখ গুটিয়ে নিয়েছে
বেঁচে আছে সময় ক্যানভাসের ফুটো থেকে হাহাকার গিলে খায়।
হারভাঙা সে শীত মরে গেছে কবে
নিয়ন শহরের সে বাতি রোজ জ্বলে
নিভু নিভু আলো কেবল কুয়াশা শূন্য
রাত বাড়লে খোলা আকাশের গোল টেবিল বৈঠক
 আকাশ ভরে অগণিত তারা সাজিয়ে আসর---কোথায় সে দিন!
জোনাকির মিটমিট আলোর খোঁজে পেছন ধাওয়া ব্যর্থ আজ।

আজ কেবল ব্যস্ততা---
কার চেয়ে কে এগিয়ে
ফার্স্ট হওয়ার দূর্বার ইচ্ছে, পৌঁছানোর প্রবল বাসনা,গোল চাই গোল লক্ষ্যভেদে জড়িয়ে বল।

তখন এসব ছিলনা!
আজ মরেও বেঁচে থাকতে হয়
অতীত চাদর গায়ে উঠোন ফুলকি দেখার সে চোখ মৃতপ্রায়, ন্যুজ শরীর ভাবলেশহীন মুখে একগাদা দাড়ি, হাতে গান্ধী লাঠি।

বৃষ্টির সকাল


    ✍️ অভিজিৎ সরকার

সকালটা ছিল খুব সুন্দর।
ঘুমটা ভাঙল রিমঝিম শব্দে।
উঠে দেখি প্রকৃতি যেন  সেজেছে।
মনটা ভরে উঠলো এই দৃশ্য দেখে।
অন্যান্য দিনের মতো  প্রকৃতি নয় আজ।
যেন সম্পুর্ণ রূপ নিয়েছে পাল্টে।
আমিও প্রতিদিনের মত লেগে পরি আমার কাজে,
এই রিমঝিম বৃষ্টি সকালটা কে খুব সুন্দর করে তুলল।
আমিও বেরিয়ে পরলাম প্রকৃতির মধ্য দিয়ে কাজে।
রাস্তা টাও রূপ নিয়েছে পাল্টে,
আর চারিদিকে সবুজের আচ্ছাধন ,
যেন এই বর্ষার সময় বসন্ত এল।
আমারও মনটা আর নেয় রাস্তায়,
এই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখে।
বেলা হতে যাচ্ছে কিন্তু সূর্যের নেয় খুঁজ।
আকাশ যেন ' তাকে ' রেখেছে ডেকে।
নিয়েছে ' তার ' আঁচলে ,
এখন আর রিমঝিম বৃষ্টি রইল না।
কিন্তু প্রকৃতি সেই রয়ে গেল।
আমি আমার মত কাজে লেগে পরলাম,
কিন্তু ' সে ' স্তির হয়ে রইল।
জানিনা আজ এমন কি হল, যে সকালটা এত সুন্দর শুরু হল।

অন্তঃসত্বা


✍️ সংহিতা চৌধুরী

আমি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কিছুদিন পরেই আমার স্বামী একটি নতুন শাড়ি কিনে আনে। খুশি যেন আর ধরে না।প্রথম যেদিন আমার নাড়ি ছিঁড়ে বেড়িয়ে আসবে সেইদিন শাড়িটা আমি পড়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরবো। কিছুদিন পরেই আমার ডেলিভারির সময় এগিয়ে এলো। আমার শরীর আস্তে আস্তে খারাপের দিকে যাচ্ছে। যথাসময়ে আমি যার তত্বাবধানে ছিলাম সেই লেডি ডক্টর আমার পরিবারকে এসে বললেন যে, যথাসাধ্য চেষ্টা করেও সুতপাকে বাঁচাতে পারিনি। সুতপা বলে গেছে,"আমার কিছু হয়ে গেলে বেবিকে  আমার স্বামীর কোলে তুলে দিও"। তাই হলো।"শাড়িটা আমি পড়েছি ঠিক, তবে নাড়ি ছেঁড়ার কষ্ট চিরতরে ঘুচে গেলো আমার"।

শ্রাবনের বৃষ্টি ধারা

 
 ✍️ সুধীন দাশ গুপ্ত

শ্রাবনের বৃষ্টি ধারা 
আমি যে আপন হারা। 
ধেয়েছো কালো মেঘে 
ঝরবে এবার প্রবল বেগে। 
ঝিম ঝিম ঝিম পরছো ঝরে 
বাতাস শীতল করে। 
হঠাৎ এসে কালো মুখে 
আছো তুমি আপনি সুখে। 
আকাশটাকে করে কালো 
ঢেকে রাখো স্বচ্ছ আলো। 
তোমার ঐ বৃষ্টি ধারা 
আমি যে আপন হারা। 
আসো  তুমি  ফিরে ফিরে 
জগৎ টাকে রাখছো ঘিরে। 
এ কেমন তোমার ধারা 
ঢেকে দাউ সকল তারা। 

মুখোশের আড়াল


   ✍️  সংগীতা দেওয়ানজী

ভালো থাকার মুখোশ  
ও তোমার নিরবতা
বড্ড  বোঝা মনে হয়
একেক সময় ।

মেঘ ভার চোখের কোটর
বেয়ে  আশ্বাস বিশ্বাস নিঃশব্দে বৃষ্টিি হয়ে 
ঝরে পরে ।

নিশ্বাসের সংগে কিছু
শব্দ ধোঁয়া হয়ে ছড়িয়ে
পরে বলতে চায়-
তোমার থেকে তোমাকে চাই
একবার খোলস ভেংগে
বেড়িয়ে এসো,
জীবন তো একটাই।

বিরহ

    ✍️ রেখা রায়

 না বিরহে বেঁচে থাকা অশ্লীলতা। 
দেখো---
অবিরাম বিরহে কেমন বেঁচে আছে
সেই সাঁতার কাটা পুকুরটি 
ও ভুবনেশ্বরী মন্দির! 

কালো না ফর্সা

✍️ অমৃকা মজুমদার

      চারিদিক থমথমে একটা পরিবেশ।বদ্ধ একটা রুম।পরিচিত আপনজনের কোন মুখ দেখা যাচ্ছে না।অচেনা কিছু মুখ।শরীর অসাড়,নিস্তেজ ।শুধু চোখ দুটি সজাগ ।অপলক  দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওই মুখগুলির দিকে কোন একটা বহু প্রতীক্ষিত সুসংবাদ শোনার অধীর আগ্রহে।শায়িত অপারেশান থিয়েটারে
কৃষ্ণকলি দেখতে পাচ্ছিল দুজন ডাক্তার ,তিন জন নার্স অস্ত্রসস্ত্র শুধু নাড়ানাড়ি করছিল।সে অনুভব করছিল ওর পেটের ঝাঁকুনি  আর ওদের ফিসফিস শব্দ।  --কিছুক্ষন বাদেই ডাক্তারবাবু ফুটফুটে একটা শিশুকে দুহাতে গলায় ধরে ঝুলিয়ে ওকে বলছিল,"দেখ মা,তোর ঘরে লক্ষ্মী এসেছে, একদম তোর মত দেখতে হয়েছে।"
---কিছুটা আনন্দের ,কিছুটা উদ্বিগ্নের মধ্যে নির্বাক কৃষ্ণকলি তখন অস্থির হয়ে যাচ্ছিল শুধু এটা জানার জন্য যে  সদ্যজাত শিশুটি কালো না ফর্সা হল ,ওর মতো কালো হয় নি তো? কিন্তু কথা বলতে পারছিল না কারণ এনেস্থেসিয়ার কারণে মুখে জোর পাচ্ছিল না।
--সিজারিয়ান ডেলিভারি ।প্রথম সন্তান।সেই প্রথম এক নজর দেখেই কখন ঘুমিয়ে গেলো সে বুঝতে পারে নি।জ্ঞান ফিরতেই দেখে ওর আশেপাশে অনেক প্রসূতি মায়েরা। 
--ওদের একজন বলছিল ,"বেশ দেখতে তোমার বাচ্চাটা"।
---কিন্তু মনে চলছিল নানা জল্পনা কল্পনা।যাই হউক,ওরা ফর্সা বলায় মোটামুটি আশ্বস্ত হল আর একটু স্বস্তি পেল যে,না,অন্তত ওর মত হয় নি,বাচাঁ গেলো।
--ছয় দিন পর ছুটি পেয়ে যখন বাড়িতে প্রবেশ করল,
পাড়া -পড়শীদের মুখে শুধু একটাই বুলি," না,মা-র মতো হয়নি।চিন্তা নেই।"
---অনুভব করছিল সে তখন যে  শ্বশুরবাড়ির মানুষেরাও একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।বেজায় খুশি সবাই।
--ছেলেকে বিয়ে করানোর সময় যতসব দুশ্চিন্তা ছিল ওসবের একটু প্রশমন হয়েছে। বাচ্চা টা অন্তত কালো হয় নি।
কালো মেয়েকে বিয়ে করলে পরবর্তী প্রজন্ম কালো হয়েই জন্মাবে ----এই ভয়টা খানিকটা কেটে গেল।
--আবার কেউ কেউ বলছিল,"এখন ফর্সা দেখালেও কিছু দিন পর রোদে পুড়ে কালো হয়ে যাবে।মায়ের রং নি পায় পরে কে জানে!" 
--নানান মানুষের নানান কথা।

      ----যখনই বুঝতে শিখলো সেই থেকে কৃষ্ণকলি একটা কথা শুনতে শুনতে তিতিবিরক্ত হয়ে গেছে।
---ওর মা বাবাকে প্রায়ই শুনতে হত," মেয়েটাকে বিয়ে দিতে কষ্ট হবে,ভালো করে পড়াশোনা করান।আবার বেশি পড়ালেও ক্ষতি কারণ উপযুক্ত পাত্রস্থ করতে হলে গাঁটের পয়সা ফুরিয়ে যাবে।" ---বিয়ের সম্বন্ধ আসলেই পাত্র পক্ষ বলতো," মেয়ে কালো অনেক পণ লাগবে।"
---- ওর মনে হত টাকা দিলে ,পণ দিলেই কালো র কলঙ্ক ঢেকে যাবে!
-- এমতাবস্থায়  কৃষ্ণকলি ঠিক করে এখন আর বিয়ে করবে না।বয়স যখন হয়েই গেছে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী  হয়ে বিয়ে করবে।--
----মন দৃঢ় করে কঠোর পরিশ্রম করে সে একটা ভাল সরকারি চাকুরিতে জয়েন করে এবং ভালোবেসে বিয়ে করে নেয়।
---কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা নেই। 
--শ্বশুরালয়ে গিয়েই শুনতে হয়েছে ওদের পরিবারে কেউ কালো নেই।এই বুঝি কালো যুগের  সূচনা হল।
---তারপর সন্তান সম্ভবা হলেই সকলে বলাবলি করত বাচ্চাটা যেন মায়ের মতো রং না পায়।
---তাই যেদিন অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তারবাবু ওর ফুটফুটে শিশুটাকে এক নজর দেখাল,ওই মুহূর্ত টা ওর জীবনে লাল অক্ষরে অবিস্মরনীয় হয়ে রইল।

রাত

   ✍️ সঞ্জয় দত্ত

গভীর যত রাত, ভেসে উঠে দাগ!
এক কাঁধে পৃথিবী ঘুমায়, 
অন্য কাঁধে ঝলসানো রুটি হেসে আছে!
এতক্ষণে স্বপ্ন ঘরে বাস করছে তোমার আমার ছায়া।

প্রেমাপন্ন


✍️ কৃষ্ণকুসুম পাল

প্রেম করতেই হয়,
যারা হাত বাড়িয়েছিল-
ওরা প্রেম না করে ভুল করেছিল।
প্রেমের রসায়ন বুঝতে হলে
চার,পাঁচটি প্রেম করতে হয়
জলপ্রেমী বীজের মতো-
প্রেমে ডুবে থাকো,
যে প্রেম করছে না-
সে বাঘের মতো বিপন্ন হবে
যে প্রেম করবে না-
সে শ্মশানে পস্তাবে,
যে প্রেম করেনি- 
সে শিক্ষা বিমুখ।
প্রেম বাঁচতে শেখায়,
পরকীয়া প্রেম নয়-
অতৃপ্ত যৌবনজ্বালা।

শব্দের ঘরবাড়ি

✍️ মাধুরী লোধ

শব্দেরা ঘর বাঁধে  অনেক রয়ে সয়ে মন খুশিতেকবিতা কোটরে
কবির কলম চোখ প্রেমিক ভাবুক অভিমানী হয়ে উঁকি ঝুঁকি মারে ।
বর্ণ মালার পালকগুলো কলমের ঠোঁটেকালো পিঁপড়ে হয়ে চলে ইতি উতি
খুঁজে আনে বাল্যশিক্ষা ধারাপাত যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ সাপ লুডু  লাভ ক্ষতি ।
গাছ আসে ফুল আসে ফল হাসে আসে  জীব জড় আসেলতা গুল্ম
পাহাড় হাসে  ঝর্ণা বয় মাটি জল নদীচর আসে হাওয়া বাতাস  মহাকাশ মহাশূন্যে ।
কবি ভাই রসে মজে হন রোমান্টিক প্রেমিক সাগরে আসে  যখন জোয়ার 
নৌকায় পালতোলে জাহাজে দম ফেলে   ডিঙগি নৌকায় হয়ে যান স ওয়ার ।
ঘাটে বসে কনে বৌ বিরহীনী বা বিয়ের ঘট পুরায় পঞ্চ এয়োতি  নেচে গেয়ে
কবি হাসেন সাঁতার মেলা , মৎস্য ধরা হঠাৎ কবি বদখেয়ালে খাতায় রাখেন লিখে ।
বাজারে বাড়ে আগুন দর রাস্তায় হঠাৎ অকারনে হয় চাক্কা জ্যাম 
কবিতায় চাষ করেন কবি আমাদের বাঁচতে দাও সুস্থ ভাবে  থামাও ঘ্যান ঘ্যান ।
আমরা চাই মানুষের মতো বাঁচার অধিকার হটাও শোসন নামের প্যান প্যান ।
শব্দের ফুল ফোটে কবিতার ময়দানে কেউ বলে পাগলের প্রলাপ প্রতিবাদী
কবিরা  তো কাউকে করেন না খুন জখম  তাঁরা থাকেন সমাজ সাথী ।
শব্দের বাগান থেকে তুলুন অমূল্য ফুল্ল কুসুম মাখুন অবয়বে প্রফুল্ল মনে চিত্তে
শব্দেরা কবিদের বানান ধনী মানী জ্ঞানী কবিরা  কলম ধরেন পরহিতে ।

ওহো! ফুটবল

✍️ অপাংশু দেবনাথ
-------------------------
এতো বৃত্ত চারিদিকে এড়াতে পারিনা আমি,
অবশেষে সেই রাতে ছেলেসহ ঢুকে পড়ি।

বাবা বলতেন, তাঁর একদৃষ্টে চেয়ে থেকে
মাথা ঘুরে যেত খুব,ছেলেটারও একরোগ।

অতএব, সে ঘুমোতে গেলে আমি স্থির চোখে
দেখি, বাঙালির বুকে এসে ক্রমাগত ওই
বৃত্তগুলো ঢুকে যেতে থাকে, নির্বোধ চিত্তে
আমিও গড়াতে থাকি যেন অনাদি কালের
পড়ে থাকা মাঠ। আর, পটু খেলুড়ে তোমার
ক্লান্তিহীন দৌড়ক্রীড়া, সবুজ সরণি ধরে।

ছুটে যাচ্ছো নগরের যাবতীয় অন্ধগলি
পেছনে ফেলে নীরবে,অন্ধকারে মাঠ নেই,
ভ্যাপসা গন্ধে সাজানো তোমার জন্য ওখানে।
চিপা গলিপথ ভেবে শিউরে উঠি, শরীরে
জ্বর নিয়ে কেঁপে উঠো, রোজ রাতে আসে জ্বর।

হরিৎহৃদয় মেলে তবু আমি বৃত্তভাঙি,
বৃত্ত আঁকি, তুমি এসে জালে জড়াবে বলে।

জীবনের চালচিত্র

✍️ অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

সজীব আমার বড়ো হয়েছে কাজ কাম কিছু করে না। 
বাংলা বিষয়ে অনার্স নিয়েও কলেজের ধার ধারে না।। 
বাবার পয়সা উড়িয়ে চলে বন্ধুদের সাথে মিশে। 
মদ গাঁজা খেয়ে ঘুরে বেড়ায় আনন্দ উল্লাসে।। 
ছাত্র হিসেবে নেহাত সে এতটা খারাপ ছিলো না। 
মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক দুটোতেই অল্পতে প্রথম হলো না।। 
সবার কত আশা ছিলো মস্ত বড়ো মানুষ হবে। 
সে আশা আজ নিজের জন্যই সূর্যাস্তে গেলো নিভে।। 
কলেজ শেষেই বাড়ী ফিরে মন বসে না কাজে। 
পকেট খরচ চায় না  দেখো আপন চক্ষু লাজে।। 
আগের সজীব কোথায় যেন হারিয়ে গেলো আজ। 
সময়ের ফেরে খোঁজে দেখো ছোট্ট একটা কাজ।। 
অবশেষে বেছে নিল শিক্ষকতার কাজ। 
উড়নচন্ডী আরবী ঘোড়া বড়োই শান্ত আজ।। 
নিজেকে নিয়ে ভাবার কথা কবেই গেছে ভুলে। 
নানা দুঃশ্চিন্তা যেন সর্বদা মাথার মধ্যে ঝুলে।। 
সজীব একটা মেয়েকে ভালোবাসে, বিয়ে করতে চায়। 
কিন্তু সরকারী চাকুরী নেই তার এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়।। 
একদিকে প্রণয়ী প্রেমিকা অন্যদিকে নিজের পরিবার। 
শত দুঃখ কষ্টেও দুটো সামলানোই তার দায়ভার।। 
অবহেলা করে কর্তব্য থেকে যায় নি কভু সরে। 
সুখের জীবন কাঁদছে দেখো সময়ের হের-ফেরে ।। 
জীবনের কাছে হার মানা তাঁর স্বভাব সিদ্ধ নয়। 
ভালোবাসার শক্তি মৃত্যুকেও করে পরাজয়।। 
এখনও তাই লড়াই করে চলছে তার জীবন। 
 এমন সজীব বিশ্বজুড়ে ঘরে ঘরে লড়ছে আজীবন।। 

কে বলে সূর্য অস্তাচলে?


✍️ প্রদীপ কুমার মাইতি

কে বলে সূর্য অস্তাচলে?
মাটির হাহাকারে দিনের শেষে সূর্য ঘরে ফিরে
সিক্ত নয়নে তুষের আগুনে জ্বলে ধিকিধিকি করে। 
তাই সে অন্তরালে। 
সূর্য কভু যায় না অস্তাচলে।
সূর্য ফিরে আসে অন্ধকার পাড়ি দিয়ে ভোরের আকাশে  প্রত্যাশার স্বপ্ন এঁকে দিতে, 
সূর্য ফিরে আসে আমাদের অন্তরের অন্তস্থলে বেঁচে থাকার ঠিকানায় মুক্তির মশাল তুলে দিতে,
সূর্য  ফিরে আসে দেহের শিরা- উপশিরায় জমাট রক্তে উত্তাপ ছড়িয়ে দিতে,
সূর্য ফিরে আসে বিপ্লবী মন্ত্রে যজ্ঞের আগুন জ্বালিয়ে দিতে,
যে আগুনে পুড়ে ছাই হবে শোষণের চাকা,
নিপীড়ন, উৎপীড়ন, লোভ-লালসা যাকিছু আছে স্তব্ধ হবে একা-একা।
সেদিন নয় বেশি দূরে।
যে দিন সূর্য আর জ্বলবে না ধিকিধিকি,
ফিরবে ঘরে জয়ের ভেলায় আলোকোজ্জ্বল আঁখি। 
দিনের শেষে ফিরবে না আর নয়ন ভরা জলে, 
সূর্য কভু যায় না অস্তাচলে।