শুনছিস কি হৃদ ভাঙার শব্দ?


                ✍️ অমৃকা মজুমদার 

কাছে থেকেও যায়  না চেনা মানুষ বড়োই খল, 
ব্যবহারেই ধীরে ধীরে চিনি বৃক্ষ তোমার ফল।
কোকিল কণ্ঠে মন ভরিয়ে ছড়াও  তব ডানা,
হৃদ অলিন্দের গোপন কোণে কালো কাকের হানা।
শক্ত মুখোশ পরেছিলে মুখ চেনা ছিল  ভীষণ দায়, 
আসল রূপের ঝলক পেয়ে এখন শুধুই হায় হায়!
দক্ষ অভিনয়ে ঢাকা ছিলে আর কুটিলতায় ঘেরা,
সুজন সেজে মনের ঘরে  আঘাত হানলে সেরা ।
টানা সুখের লোভ দেখিয়ে দিলে লেমিনেশন শুধু,
সবুজ শ্যামল মাঠের নামে দেখালে সাহারা ধূ ধূ।
আঘাতের পর আঘাত এড়িয়ে যাওয়া নয় কি ভার?
সুখের স্বপন দেখিয়ে কত হায়!করলে অপকার ।
ব্যথাতুর মন কাঁদে;শুনছো না বধির!হৃদ ভাঙার শব্দ?
আদর সোহাগ ভালোবাসায়ও হও নি তুমি জব্দ।
নতুন করে সাধ জেগেছিলো আবার বাঁধবো ঘর,
গোপন চুক্তি ছলের সাথে! বিশ্বাস ভেঙে করলে পর!
ঝরে মুকুল দিনে রাতে রাখছো কি তার  খবর!আড়ালে আবডালে দিচ্ছ ফাঁকি ভাঙছো আমার ঘর।
চেনা মানুষ হয় অজানা চোখ ধাঁধিয়ে যায়,
বিদ্ধ করে দিবানিশি  কি যে সুখ পায়!
নিত্য খুঁজি মনের কোণে  তোমার প্রথম দাবি,
প্রশ্ন করি যখন তখন তুই কবে আর আমার হবি?

আনন্দধারা


                    ✍️ সুবর্ণা চক্রবর্তী

বৃষ্টিভেজা স্নিগ্ধ সকালে 
     পাখিদের কলতানে
বারতা দিচ্ছে এক নবদিনমানের।।

 সুখের পসরায় সেজে উঠেছে
       মনময়ূরীর  হৃদয় গহীনে
   আনন্দ গান আর সুরতানের ।।

মৃদুমন্দ সুরের দোলায় 
     বরষার প্রেমের সতেজ ছোঁয়ায় 
    পাল তুলেছে জীবন তরী ।।

উদাত্ত কন্ঠে আহ্বান জানায় 
অঙ্গীকারে আবদ্ধ হতে
 নিশ্চুপে জাগে অপেক্ষার বারি ।।

ছন্দে ছন্দে তা‌লে তালে 
পাল তোলা নৌকা 
শুধায় বারেবারে।। 

ধরা দিক একবার 
শ্রাবণের বারিধারা 
তৃষিত হৃদয়ের অন্তরে।। 
             

এসো ভোরের স্বপ্ন হয়ে


                 ✍️রেহানা বেগম হেনা 

কতো দিন কতো কতো  রাত
গেছে বয়ে
কতো যে বছর আমার গেছে হারিয়ে,
শুধু তোমার,
 শুধু তোমারই কথা ভেবে ভেবে।
ভাবনার স্রোতের সঙ্গে সময় নিয়েছো কেড়ে।

তুমি এসেছিলে জীবনে আমার
কোনও এক গোধূলি বেলায়,
প্রেমের কবিতার পঙক্তি হয়ে
তারপর...
পঙক্তির পর পঙক্তি শব্দের মিছিলে ছন্দ তুলে তুলে
ঢেউয়ের পর ঢেউ তুলেছ
আমার নিভৃত মনে, নির্জনে গোপনে।
কতো শত আলাপনে।
সেই ঢেউয়ের রেশ ধরে
ছন্দে ছন্দে সুরে সুরে 
এখনও রয়ে গেছো তুমি 
তবে, তবে তা ভোরের স্বপ্ন হয়ে।

তুমিই আমার প্রেরণা -
অজস্র কবিতা লেখার,
তুমিই আমার জীবনের সুখ-
আমার দুঃখ ব্যথা যন্ত্রণা,
আমার জীবনের দুপুরবেলার নীরবতা।
আমার শ্বাস প্রশ্বাসের বরতা।

এখনও কতো দিন কতো রাত কেটে যায়
শুধু তোমার কথা ভেবে ভেবে,
তুমি রোজ এসো একবার আমার ভোরের স্বপ্ন হয়ে।

স্বাধীনতা উত্তরে বলেছিল


           ✍️ বিশ্বজিৎ মানিক

স্বাধীনতাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল--
স্বাধীনতা তুমি কেমন আছ?
স্বাধীনতা উত্তরে বলেছিল,
আমার দিবসে আমি খুব ভালোই থাকি
কিছু সুখী মানুষের নাচে গানে,ভাষণে উপাচারে,
বিজলি পটকা আর মাইকে ধ্বনিত শ্লোগানে
মুখরিত গ্রামে গঞ্জে,শহরে বন্দরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায়।
বাকী দিনগুলোতে কেমন আছি তাও বলব
কিন্তু,রাগ করবে না তো!
শোন তাহলে--
যাঁদের আত্মবলিদানে তোমরা আমাকে এনেছ
তাঁদের বাঞ্ছিত লক্ষ্য আজও করোনি পূরণ ।
তোমরা কথায় কাজে একমন হতে নির্ভীক নও
বরং আইন সংহিতার গণতন্ত্রকে অনেকের নিরাশ্রয়ে
কালসিটে ক্ষত করে রেখেছ মলাটের বাইরে ।
আমার দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গে
আড়ালে রেখেছ অসাম্য উন্মার্গ প্রতিহিংসার মরণব্যাধি।
উন্নত করো তোমাদের নির্মম মনুষত্ব,
তোমরা কালজ্ঞ হলে সেরে উঠবে আমার মরণ ব্যাধি
আমাকে ভালো রাখলে তোমরাও থাকবে ভালো॥

অভিযোগহীন


                ✍️গোপা রায়।

এখনো চোখের পাতা সমান্তরাল থেকে সরলরেখায় এলে...
 দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে জন্মান্তরের প্রেমিক হয়ে সামনে দাঁড়াও,

 সেই পথ ধরে প্রবল ইচ্ছায় আলোর সন্ধানে বেরিয়ে আসতে চাইলে...
 বাড়িয়ে দাও হাত চোরাবালিতে ডুবে যাওয়া  দৃশ্যমান আঙ্গুলগুলো ধরবে বলে,

হয়তো  কোন এক মায়ায় আচ্ছন্ন রাত বসে থাকে এ প্রান্তে সামান্য আলোর আশায়...

অধিকারের গন্ডিতে থাকা অরণ্য... 
মৃত্তিকার উপর চাহিদা রাখেনা কিছুই,
 এক্ষেত্রে অযাচিত হয় বহির্ভূত চাওয়া ভিখিরীর মত।

জন্মান্তরের ক্ষুধা নিয়ে বসে থাকলে সময়ের দরজায়,
সে শূন্য হাতে ফেরায়নি কোনদিন।

রাজার মতো উপুর করা ভান্ডারে উপচে পরে তার ঝুলি,

আর অভিযোগহীন হয়ে বিনিদ্র রাত কাটায় এ মন।
            

ময়না- চড়াই


                   ✍️ মৌমিতা দাস

ময়না পাখি ডেকে বলে চড়াই,
থাকো তুমি গাছের ডালে আবার কর বড়াই ।
আমি বেশ সুখেই থাকি অট্টালিকার ঘরে ,
কতোই না কষ্ট পাও গো তুমি রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে ।
চড়াই পাখি হেসে বলে- শুনো ভাই ,
তোমার তো নিজের বাসা নাই ।
আমার আবার কষ্ট কিসের ?
আছে আমার বাসা ।
নিজ হাতে তৈরি করা,
লতা - পাতায় ঠাসা ।

স্বাধীনতা


                 ✍️কাজি নিনারা বেগম

স্বাধীনতার  সাতাত্তের অমৃত মহোৎসবে
পশ্চিম আকাশে জ্বলে উঠলো  ধ্রুবতারা
তবু খই-এর মতো নগ্ন জিজ্ঞাসা।
স্বাধীনতা তুমি কি শুধুই রঙের  লহরী? 

হাজারো কবিতার স্তূপের গর্বে
দীর্ঘকালের চাপা পড়া কোনো জিবাষ্ম ! 

হতাশার এলোমেলো ছন্দে ছন্দে লেখি 
স্বাধীনতা তুমি অসংখ্য শহিদের মাথায় ঠেকানো বন্দুক-
শ্বাস- প্রশ্বাস। স্বদেশী অনুভূতি। 
শিরায় শিরায় প্রিয়তমার অস্ফুট কান্না।

স্বাধীনতা তুমি আমার হৃদয়ে জমাট বাঁধা...
রক্ত ক্ষরিত দুর্লভ স্যাম্প-
সাটা নতুন কোন আয়োজনের আলোড়ন।

তুমি এলেই শব্দরা কানে বাজে অহরহ।