নেতাজী তুমি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা

প্রকাশিত হল জানুয়ারির বিশেষ সংখ্যা 
✍️ নেতাজী তুমি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা

সম্পাদকীয়

✍️.......................................সম্পাদকীয়

"তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব," এই বিখ্যাত স্লোগানটি ভারতের অন্যতম শ্রদ্ধেয় স্বাধীনতা সংগ্রামী কিংবদন্তি নেতা, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু বলেছিলেন গোটা ভারতবাসীর উদ্দেশ্যে। তিনি ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি বর্তমান ওড়িশার কটক শহরে জন্মগ্রহণ করেন সুভাষ চন্দ্র বসু। তাঁর মাতা ছিলেন প্রভাবতী দেবী এবং পিতা জানকীনাথ বসু। তিনি ছিলেন তাঁর বাবা মায়ের ১৪ জন সন্তানের মধ্যে নবমতম সন্তান। জনসাধারণের কাছে 'নেতাজি' নামেই সর্বাধিক প্রচলিত তিনি। জানুয়ারী মানেই নেতাজী নেতাজী গন্ধ। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু শুধু ভারতেরই বিখ্যাত নেতা ছিলেন না, উনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা ছিলেন। যার নাম হৃদয়ে আসলে শরীর এবং মনপ্রাণ শিহরণ দিয়ে ওঠে। দেশপ্রেমিক কাকে বলে হয়তো উনি শিখেয়ে গেছেন। উনার সম্পর্কে বলে শেষ করা একটি বিশেষ মূর্খতার পরিচয় দেওয়া হবে। উনি আমাদের মনেপ্রাণে, দেশের সবুজ ঘাসে, বাংলা মা'র মাটির গন্ধে মিশে থাকবে আজীবন। ভালো থাকবেন নেতাজী। এই বিশেষ সংখ্যায় বিশেষ সহযোগিতা করেছেন নবোন্মেষ পত্রিকার আহ্বায়ক পান্থ দাস এবং প্রচারক সুমিতা স্মৃতি। তাদের প্রতি অসংখ্য ধন্যবাদ এবং ভালোবাসা রইলো। 

ধন্যবাদান্তে-

গৌরাঙ্গ সরকার 

সম্পাদক, নবোন্মেষ 

শিবশংকর দেবনাথ 

সহসম্পাদক, নবোন্মেষ পত্রিকা 

খেটে খাওয়া

✍️ সমীরণ পাল

ওহে বাছা কি নাম তোমার?
আজ্ঞে দিদি রবি কুমার।
ঠিকানা কি,থাক কোথায়?
ঘাট পাড়ার ঐ কলোনীটায়।।
সতসকালে ছুটলে কোথা?
জোগার করতে কাগজ খাতা।
কাগজ টাগজ কুড়োও নাকি?
কেনা বেচা করি বৈকি।
কাগজ কেন কেমন দরে?
পাঁচ টাকাতে কেজি করে।
পড়াশুনা কদ্দুর হল?
পঞ্চমেতেই আটকে গেল।
চলছে সব কেমন কিসে?
মা-ছেলেতে মিলে মিসে।
প্রতিদিন কামাই জুটে?
মাঝে মাঝে হয়না বটে।
মা-ছেলেতে চলে তাতে?
মোটা কাপর মোটা ভাতে।
বস্তা দুইয়েক কাগজ আছে
দিয়ে দিন সব বেছে বেছে।
বিনামূল্যে নিয়ে যাও সব
না না একি বলছেন এসব!
যাও নিয়ে সব আবর্জনা 
বিনে পয়সায় কিছুই নেইনা।
হচ্ছে দেখে মায়া বড়ই।
কাগজ কিনি,ভিখাড়ি নই।

যুদ্ধে যুদ্ধে মায়ের মুখ

✍️ হাসনাইন সাজ্জাদী 

একা একা ভাল থাকা যায় না
দেশ জাতি সমাজ ভাল না থাকলে 
নিজে ভাল থাকা কষ্টকর আর
নিজে ভাল না থাকলে সংসার ভাল রাখা যায় না  
সংসার ভাল না থাকলে নিজের থাকা না থাকা সমান 
হয়ে পড়ে
...আমরা জয় বাংলা বলি আমাদের জয় চির অক্ষয়

পৃথিবী একাই যাত্রা শুরু করেছিল
তারপর এলো প্রকৃতি,প্রকৃতি জন্মদিল এককোষী প্রাণ
এককোষী প্রাণ থেকে আজ আমরা বহুকোষী প্রাণী।
আমরাই আমাদের জানার প্রয়োজনে নিউরনে নিয়েছি জ্ঞান
দেখার প্রয়োজনে খুলেছি চোখ শুনতে চেয়ে বের করেছি কান
বাতাস গ্রহণ করতে বের করেছি নাসিকা স্বাদ নিতে জিহ্বা এবং
ধরার জন্য হাত ও হাঁটার জন্য দাঁড় করিয়েছি পা,বিজ্ঞান বলে

এই যে বহুকোষী থেকে মানুষে আকৃতি লাভ নানা বিবর্তনে
এটাকে আজ হুমকিতে ফেলেছিল একদা  করোনাভাইরাস 
অতীত ইতিহাস এমনি,আরো অনেক ভাইরাস এসেছে
মানুষ তার প্রতিষেধক টিকা বের করেছে 
করেছে অতীত ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ

এখন করোনা পরবর্তীকাল চলছে লড়াই 
আবিস্কৃত হয়েছে ভ্যাক্সিন চলছে প্রতিরোধ
এ লড়াই এ একদিন হয়তো মানুষ
সফল হবে আবার বিফলও হতে পারে

যাই হোক মানুষের লড়াই মানুষের সাফল্য
কতকাল অবিকৃত থাকবে জানা নেই

মানুষ করোনাভাইরাস আক্রমণ জনিত কারণে
নতুন প্রজাতিতে একদিন ধীরেধীরে রূপ নেবে
লাখ লাখ বছরের এ বিবর্তন ধারায় মানুষ
কোন আকৃতিতে কী নাম ধারণ করবে তা আজ
এককথায় প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই

হাজার বছরের বিজয় রেখায় আমরা ভাষার লড়াই করেছি
জিতেছি ছয় দফার সংগ্রামে 
একাত্তরে জিতেছি মহান মুক্তি সংগ্রামে 
ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও দেশ
আজ মায়ের সম্মানে। 

কলম তুমি

 
✍️ সুজাতা পাল

মন তুমি তার কাছে যেও
যে তোমার কদর করতে জানে,
ঐশ্বর্য তুমি তার অহংকার হয়ো
যে উপলব্ধি করতে জানে তোমার মানে। 

সময় তুমি তার কাছে থেকো
যে তোমার মূল্য দিতে পারে,
বিদ্যা তুমি তাদের সঙ্গ দিও
যারা তোমায় বিলিয়ে দিতে চায় সমাজের উপকারে। 

কলম তুমি তাদের পাশে থেকো
যারা অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় রুখে,
চাকরি তুমি তাদের হয়ে থাকো
যাদের দ্বারা আর্থসামাজিক উন্নতি হবে 
কখনোই যেন চাকরি করেন শখে।

দুঃখিনী হবে কভু

✍️ অনুপ দেবনাথ

যে প্রেম মানুষকে প্রেমিক করেনা,
সেই প্রেমের প্রেমিক আমি হতে পারলাম না।
যে দৃষ্টির মাঝে সৃষ্টি থাকেনা তা আজো পেলামনা।
বৃষ্টির মাঝে সৃষ্টির স্পর্শ পাবোনা তাতো হতেই পারেনা।
আর কবিতার মাঝে... না থাক।
আর স্পর্শের মাঝে... অনুভূতি। 
আর গভীর প্রেমের রাতে মৃদু আকুতি। 
রক্তজড়া দিনেও বকুলের স্পর্শ পাবে শুধু। 
আচ্ছা আমার দুঃখের রাতে দুঃখিনী হবে কভু?

মেরুদণ্ডহীন


🖋কাজী নিনারা বেগম

কারা সেই মৃত পরিজনের ফসিল দিয়ে গড়ছে ঘরের দেয়াল, 
রক্তের রক্ত সেচে ফসল বুনচে মানবাধিকার ও গনতন্ত্রের সেতু নির্মাণ। 
 ছিনিমিনি খেলছে কারা সেই মানুষ মৃত পরিজনের  লাশের ওপর,
কবরের দেয়ালে গনতন্ত্র মানবাধিকার  চাদর দিয়ে  ঢেকে রাখতে চাইছে।  
গনতন্ত্র আজ অদৃশ্য হাওয়া, 
মৃত পরিজনের কবরের দেয়ালের নীরবতাই। 
 দেয়ালের ভেতর  মৃত পরিজনের লাশের সাথে , 
প্রতিটি মৃত্যুর সাথে  পন্যের বাহারি মোড়কে বেড়িয়ে এল  সভ্যতার  মানব চেতনা। পাপের  প্রাচিরের ধংসাবশেষ অবক্ষয়ে জর্জরিত কায়া এক মেরুদণ্ডহীন মাংসের পিন্ড।

পিঠে পিঠ

✍️ অপর্ণা সিনহা

দেওয়ালে পিঠ লাগার আগেই
পিঠে পিঠ করে দাঁড়াও
এক মাথা দুহাতে ব্যর্থ হলেও
চারহাতে দুমাথা জাগাও।
নিরস্ত্র নয়, রণ সজ্জায় সাজো
এ যে প্রতিশোধের বেলা
পাঠ চুকিয়ে দাও প্রতারকদের 
সকল রকমের খেলা।
অশ্রু ঝরাতে চায় যদি কেউ
রক্ত ঝরাতেই হবে,
উত্যক্ত করে যারা তোমাদের
ছাই করে দাও তবে!
হাতের বদলে হাত নয় এবার
মুন্ডু পাতের মেলায়
অনেক হয়েছে নাটক, অনেক -
সময় গেছে হেলায়।
এবার হিসেব নিকেষের পালা
জাগছে নিপিড়িত জন
তৈরি হও ভন্ড পাষাণের দল
এসে গেল সমাধি ক্ষণ।
                       

জীবন সাথী


✍️ সম্পা কর্মকার

যে হাতটি ধরে ছিলে বছর চারেক আগে ।
সেভাবেই জড়িয়ে রেখো জনম জনম বাহুডোরে ।।
চলার পথে যতোই আসোক বাঁধা বিপত্তি ।
ছেড়ো নাকো হাত...তুমি আছো , আমি আছি এটাই সত্যি ।।
মান অভিমান আর যতোই হউক ঝগড়া...।
থাকবো পাশে আজীবন করছি প্রতিজ্ঞা ।।
ভালোবেসে একবার ধরেছি যখন হাত ।
ছাড়ছি না তোমায় ভেবে পাঁচ সাত ।।
ভালোবেসে ভালোবাসায় বেঁধে রাখবো আগলে ।
সাত জনমের ভালোবাসার জীবন সাথী হয়ে...
গড়বো ভিটে ভালোবাসা আর খুশির ছাঁচে ।।

ধরণ


✍️ কৃষ্ণ দাস 

কলিমাখা দোয়াস কি সুন্দর তাহার উচ্ছসিত ধরন।
সত্যের সন্ধান করা তার অর্গাজম করণ।।
মাঝ নদীতে ডুব দিয়ে গোল্লাছুট খেলার বাহানা।
মাঝি নাদের গাঙে গাঙে গেয়ে বেড়ায় ,
ওই গো, তোমার আমার ঠিকানা দিয়ে যাও, দেবো তোমায় চার আনা।।
হইবে তা কল্পনার বাইরে যা।
কে বা জানে তার পরিচয় দিয়েছে যা।
কবে কার কাছে চাইবো কিছু।
স্বপ্ন দেখি , স্বপ্ন টানে ডাকছে পিছু পিছু।।
যাও পাখি বলো তারে নিয়া লেখো বাণী।
না হয় যেনো কারো কোনো সত্যিকারের জীবনের হানী।।

মূহুর্ত

    ✍️ কৃষ্ণ ধন শীল 
                রানীর বাজার, পশ্চিম ত্রিপুরা

মুহূর্তকে ছোঁয়া যায় না, 
এমনকি দেখাও যায় না, 
তবুও নিশ্চিত সে আছে, 
খুব দামী আমাদের প্রত্যেকের কাছে।

মুহূর্ত শুধু একটি শব্দ মাত্র নয়, 
সে নির্ধারণ করে জয়-পরাজয়, 
সে কখনো খিলখিল হাসায়, 
কখনো বা নিদারুণ কষ্টে আমাদের কাঁদায়।

মুহূর্তেই মুহূর্ত হয়ে যায় শেষ, 
গতি তার যে দুর্বার অনিমেষ,
জন্ম-মৃত্যু আর যত চলন-গমণ, 
মুহূর্তেই হয় শুরু মুহূর্তেই দমন।

মুহূর্তেই যে সৃষ্টি হয় মুহূর্তেই ধ্বংস, 
মুহূর্তেই সম্পূর্ণ আবার মুহূর্তেই অংশ, 
মুহূর্তেই রঙীন স্বপ্নরা হিয়ায় মেলে ডানা, 
মুহূর্তেই হাজারো স্মৃতি করে আনাগোনা।

সুভাষ

 
  ✍️ পান্থ দাস, হাঁপানিয়া, ত্রিপুরা

স্বদেশের শিখা
ছাড়ালো বিদেশে,
বিপ্লবী ঘোরে
নব নব ভেশে ৷

পাঞ্জাব থেকে 
গদরের দল,
দেশকে জোগালো 
দৃঢ় মনোবল ৷ 

নেতাজীর অগ্নি শিখা
দেশকে পরালো 
নব বিজয় টিকা,

অসীম সাহসে প্রাণ ঢ়েলে
দেয় সুভাষ 
পূর্ণ স্বাধীনতার
প্রদীপ জ্বেলে।

মাতৃভূমি দেশমাতৃকা


✍️ কলমে- মনচলি চক্রবর্তী 
হে মোর মাতৃভূমি
হৃদয়ের ছন্দ তুমি
প্রনমি তোমায় জননী
শস্যশ্যামলা এই ধরনী
মোর গর্ব, মোর প্রানের ঝংকার
মাতৃভূমি তুমি মোর অহংকার
জননী জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও প্রিয়
তব সুখ সমৃদ্ধি মোদের শ্রেয়।
দেশমাতৃকা তোমার চরনে সঁপিনু দেহমন
 মোর মাতৃভূমি তোমায় করি সতত পূজন।

শুধু শুধু কেউ আসে না


✍️ জনার্দন

আমি দেখছি, তুমিও দেখো, তোমরা সবাই দেখো;
ভালো কিছু তো দেখছি না!
তারপরও বলছো, হ‍্যাঁ' এটা ভালো।

আমি সহজভাবে কিছু একটা বলতে চাই;
এটা কোনো অনুভূতি নয়, 
একটা কাহিনী মাত্র।
বুকের যন্ত্রনা, সবটাই খোলাখুলি।

শুধু শুধু  কেউ আসে না,  
নিজেকে তুলে ধরার জন‍্যে আসে, 
ওরা আসলে সাহায্যপ্রার্থী।

প্রলুব্দ করার যতরকমের সামগ্রী আছে সবটাই  নিয়ে আসে;
আসলে' নিয়ে আসে একটা বঁড়শি।

প্রয়োজনে দাদা-বৌদি, কাকা-কাকি, পিসি-মাসি,....
ব‍্যর্থ হলে ননসেন্স, স্কাউণ্ড্রাল।

জমে থাকা কষ্টগুলির ভাগ, কেউ নিতে আসে না; শুধু আসে, শেষবেলার টোপ  আর অনাগত ভবিষ্যতের গল্প শোনাতে।    
কত দরদ! 

কাল্পনিক একটা গল্প শুনিয়ে মনকে বশ করে নেয়,
ঠেলে দেয় একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতে।

প্রথমবেলায় ওরা সবচেয়ে বেশী আপন;
এই মানুষগুলোই শেষবেলায় সরে দাঁড়ায়।

নব ভারত


✍️ সুপর্ণা মজুমদার রায়

পূর্ব গগনে উঠেছে অরুণ তরুণ ভারত জাগো,
অলস হয়ে ঘুমিয়ে থেকো না একতার ছবি আঁকো। 
দেশকে যারা করেছে খন্ড অন্তর কলহ দ্বন্দ্বে, 
চিহ্নিত করো তাদের তোমরা হাত রেখে সহোদর স্কন্ধে। 
স্বার্থের তাগিদে দেশকে যারা শোষণ করে তিলে তিলে, 
কালিমার টীকা এঁকে দাও তোমরা তাদের কপালে। ধ্বজা উড়িয়ে যারা মায়ের স্বাধীনতার গান গায়, 
তাদের শাসনে ভারত এখনো পরাধীন রয়ে যায়। 
সব বাঁধা বেড়াজাল ভেঙে এগিয়ে তোমরা যাও, 
অন্ধকারকে চুরমার করে দেশের কালিমা ঘুচাও। 
উঁচু নীচুর ভেদাভেদগুলো নিশ্চিহ্ন করে দাও  
মানবধর্মের পথে চলে দেশকে স্বাধীন করে নাও। 

**********************

দুধে-ভাতে রাজনীতি?


✍️ রাজা দেবরায়


রাজনীতি শব্দটি কি এখন মানানসই?
এর পরিবর্তে তবে কী দেওয়া যায়?
রাষ্ট্রনীতি বা জননীতি অথবা গণনীতি?
দেশে রাজনৈতিক দল কয়টা হলে ভালো?
রাজনৈতিক মূল্যবোধের মূল্যায়ন কি দেখাবে আলো?
স্বচ্ছ রাজনীতির পরিভাষা বদলাবে বারবার?
ক্যুয়ালিটি নাকি ক্যুয়ান্টিটি জিতবে ভবিষ্যতে?
বাদ দিন তো মশাই এসব,
"আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে!"

ভাট ফুলের ঘ্রাণ


✍️ অনুরাগ ভৌমিক 

এখানে সময় নদী নয়, মেঘ হয়ে চড়ে বেড়ায়।

চুপ থাকি সবুজ পাতার মতো,

পিতার দেওয়া আলো এখনও পথ দেখায়।

ভাট ফুলে ছাপ রেখে যায় আমার সময়,

রাত আসে, পরিচিত শীতের রাত,

সমর শেষে-
ক্ষুধার কাছে আমার সমর্পণ।

ঝরে পড়ে খেঁজুরের রস,

ভোর পৌঁছায় পৃথিবীর ঘরে ঘরে,

মাঠে মাঠে জ্বলে বুড়ীর কুটির।

আনন্দ শেষে হৃদয়ে জেগে উঠে আগুন,

তবু শীত আসে, পীঠের ঘ্রাণ ভাসে,
আমাকে একা রেখে সে হাঁটে আমাদের পাড়ার পথে...

নৈতিকতার নেই যে বালাই


✍️ কলমে - প্রতীক হালদার 

নৈতিকতার নেই যে বালাই 
নাগরিকের নেই যে দায়,
লোভ-হিংসার এই সমাজে 
কষছে হিসাব আরও চাই।

আইন-কানুন দিচ্ছে ভেঙে
করছে নিজে অত্যাচার,
তার ভয়েতে চুপ যে সবাই
হয় না কোনো সুবিচার।

দোষীর মাথা রয় যে উঁচু 
নির্দোষীরা ভয় টা পায়,
আইন-কানুন মিথ্যা হয়ে
নিজেই নিজে মূর্ছা যায়।

কেউ ভাবে না কারোর কথা
নিজের জন্য ভাবনা সব,
পরের জন্য নেই তো সময়
অন্যায় দেখেও থাকে নীরব।

তবুও বুলি 'আমরা মানুষ'
মুখেই শুধু ভাই-ভাই,
বিপদ বুঝে দেয় যে দৌড়
নাগরিকের কোনো কর্তব্য নাই।

আমাদের সম্পর্ক


✍️ দেবলীনা ভট্টাচার্য্য

ওই , মনে পড়ে কি তোমার
কিভাবে শুরু হয়েছিল আমাদের সম্পর্ক?
কলেজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে ছিলে তুমি
হঠাৎ করেই আমার চোখ গেল তোমার দিকে।

মনে পড়ে কি ? ওই দিন গুলোর কথা 
যখন তুমি আসতে ডিপার্টমেন্টে,
তখন আমি মুচকি হাসতাম আর
তোমায় দেখতাম আমি আড় চোখে তাকিয়ে।

মনে পড়ে কি তোমার, 
সেই ২০২১ এর লক-ডাউনের কথা। 
কতটাই অচেনা ছিলাম আমরা,
একসাথে করতাম আমরা তখন অনেক মজা।

তখন কমতে থাকল আমাদের মধ্যেকার দূরত্ব।
আরও কাছাকাছি আসতে থাকি আমরা,
একে অপরের সবকিছুতেই গুরুত্ব দিতে লাগলাম। 
এইভাবেই অনেক ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম আমরা ‌।

তারপর হঠাৎ করেই আমাদের বদলে গেলো সব,
শুরু হলো  আমাদের নুতন পথে চলা
হয়ে উঠলাম আমরা একে অপরের প্রিয় মানুষ,
এইভাবেই পূর্ণতা পেলো আমাদের সম্পর্ক ।

অদ্বৈত মল্লবর্মনঃ জীবন ও সৃষ্টি


✍️ ----জহরলাল দাস 

অদ্বৈত মল্লবর্মন নামটি উচ্চারণের সাথে সাথে আমাদের মানসপটে ভেসে ওঠে বাংলা সাহিত্যের প্রবাদসম সেই উপন্যাসটির কথা---" তিতাস একটি নদীর নাম "। অথবা " তিতাস একটি নদীর নাম " উপন্যাসটির কথা বললে যার নামটি অবধারিত ভাবে আমাদের মানসপটে ভেসে ওঠে তিনি অদ্বৈত মল্লবর্মন।
বাংলা সাহিত্যের পাঠকমাত্রই জানেন অদ্বৈত মল্লবর্মন ব্রাত্য জীবনের ব্রাত্য কথাকার। 
ভারতীয় কর্মবিভাজিত বর্ণভিত্তিক  হিন্দু সমাজ ব্যবস্থায় অন্ত্যজ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লোক হিসেবে চিহ্নিত  জলজীবি মালো সম্প্রদায়। জলকে কেন্দ্র করেই তাদের জীবন জীবিকা। জলের মধ্যে জাল ফেলে মৎস্য স্বীকার করেই তারা বংশ পরম্পরায় বেঁচে বর্তে  আছেন  কিংবা থাকেন। আর্থিক ভাবে তো বটেই শিল্প- শিক্ষা- সংস্কৃতি সবদিক দিয়েই পিছিয়ে পড়া এই মৎস্যজীবী, শ্রমজীবী,  মালো সম্প্রদায়ের বাসভূমি তৎকালীন পূর্ববঙ্গের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উপকণ্ঠে তিতাস নদী তীরবর্তী গোকর্ণ গ্রামে। উচ্চবর্ণীয় হিন্দুরা যাদের গাবরপাড়া বা মালো পাড়া বলে ডাকে । তিতাস পাড়ের সেই মালো সম্প্রদায়ের নদীকেন্দ্রিক জীবন, সংস্কৃতি , সুখদুঃখের বারোমাস্যা নিয়েই অদ্বৈত মল্লবর্মন লিখেছেন এই কালজয়ী উপন্যাস--" তিতাস একটি নদীর নাম "। কেন এই উপন্যাসটির এত জনপ্রিয়তা, লেখকের এই উপন্যাস সৃষ্টির এত দীর্ঘ বছর পরে ও কেন তার এত প্রাসঙ্গিকতা যা অদ্বৈতকে আজও অমরত্ব দান করেছে সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি। তার আগে আমরা দেখে নেব কিংবা জেনে নেবো মহান এই লেখকের জন্ম ও কর্মজীবন এবং পরবর্তী মহান সৃষ্টির প্রেক্ষাপট।
"তিতাস একটি নদীর নাম " উপন্যাসে সমাজের যে জনগোষ্ঠীর জীবন চিত্রের জীবন্ত ছবি অঙ্কন করেছেন অদ্বৈত মল্লবর্মন তিনি নিজেও এই সমাজের প্রতিনিধি। আমাদের প্রচলিত বর্ণবাদী সমাজ ব্যবস্থায় ব্রাত্যজন হিসেবে চিহ্নিত এক দরিদ্র মালো পরিবারে 1914 সালের পয়লা জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ববঙ্গের দক্ষিণ- পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উপকণ্ঠে তিতাস নদী তীরবর্তী গোকর্ণ গ্রামে পিতা অধর চন্দ্র মল্লবর্মনের ঘরে অদ্বৈত জন্ম গ্রহণ করেন। অন্য আর দশটি মালো পরিবারের মতো অভাব, দারিদ্র্যতা ছিল তাঁদের নিত্যসঙ্গী। ছোটবেলাতেই বাবা মাকে হারান অদ্বৈত। তার পরবর্তী সময় শুধুই কন্টকময় পথচলা। অশিক্ষা, কুশিক্ষা,অভাব, দারিদ্র্যতা  মালোপাড়ার মালো সম্প্রদায়ের পরিচিত দৃশ্য। এমন এক পরিবেশ পরিস্থিতি থেকে অদ্বৈত মল্লবর্মন জীবনের পথচলা শুরু করেন। 
শৈশব থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখা যায় অদ্বৈত মল্লবর্মনের। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ, একাগ্রতা , উৎসাহ ও মেধা দেখে গ্রামের কিছু শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তির সাহায্য সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন অদ্বৈত।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে প্রথম মাইনর স্কুলে তাঁর বিদ্যার্থী জীবন শুরু হয়। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই তিনি লেখালেখি শুরু করেন। অন্নদা উচ্চবিদ্যালয়ে তাঁর সাহিত্য চর্চা আরো গতিশীল হয়ে উঠে। গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ তিনি নিয়মিত লিখতে শুরু করেন। 1933 সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার জন্য কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হন।   কিন্তু পিতৃমাতৃহারা অভিভাবকহীন জীবন এবং অন্যদিকে দারিদ্র্যতা শেষ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত করে রুটি রুজির সন্ধানে জীবিকার খোঁজে কলকাতা শহরে পাড়ি জমান। সেটা 1934 সাল।প্রথমে মাসিক ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে কাজ শুরু করেন।  কিছুদিন কাজ করার পর নবযুগ পত্রিকায় যোগ দেন। সংবাদপত্রে কাজ করার সুবাদে তখন তিনি কলকাতার বিভিন্ন কাগজে লেখালেখি করতে থাকেন পুরোমাত্রায়। 
নবযুগ পত্রিকা কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় কাজে যোগ দেন। এই পত্রিকাতেই কাজ করার সময় তাঁর ইতিহাস সৃষ্টিকারী উপন্যাস  "তিতাস একটি নদীর নাম " ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। এছাড়া ও তিনি "নবযুগ","কৃষক ", "যুগান্তর " ইত্যাদি পত্রিকায় কাজ করেন।কিন্তু কোথাও আর স্থায়ী রোজগারের ঠিকানা হয় নি।শেষ পর্যন্ত "দেশ" পত্রিকার  সহকারী সম্পাদক সাগরময় ঘোষ তাঁকে স্থায়ী রোজগারের ব্যবস্থা করে দেন। সেখানে অকৃতদার অদ্বৈত যা রুজি রোজগার করতেন ইচ্ছে করলে তিনি নিজে স্বাচ্ছন্দ্যে খেয়ে পরে চলতে পারতেন। কিন্তু তাঁর এই রোজগার থেকে  নিকটাত্মীয় স্বজন সহ বন্ধু বান্ধবদের ও সাহায্য সহযোগিতা করতেন। তাছাড়া পরিচিতজন কেউ বিপদে আপদে তাঁর সাহায্য প্রার্থী হলে তাদের ও তিনি যথাসাধ্য সাহায্য সহযোগিতা করতেন ।শুধু তাই নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিজ গোকর্ণ গ্রাম থেকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কাজে যেমন চিকিৎসা, লেখাপড়া ইত্যাদি প্রয়োজনে  কলকাতা শহরে গেলে তারা অদ্বৈতের কলকাতার নারকেলডাঙা অঞ্চলে ষষ্ঠী তলার বাসায় আশ্রয় নিতেন। অদ্বৈত ও তাঁর গ্রামের মানুষদের থাকা খাওয়াসহ, চিকিৎসা ইত্যাদি ব্যাপারে যথাসাধ্য সাহায্য করতেন। খুব বড় মনের মানুষ ছিলেন অদ্বৈত মল্লবর্মন।
নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পর বাকী অবসর সময় শুধু লেখাপড়া নিয়ে ডুবে থাকতেন। বইকেনা ও বইপড়া তাঁর প্রচন্ড নেশা ।প্রচুর বই কিনতেন। একদিকে মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা আর একদিকে প্রচুর বই কেনা ফলে তাঁর হাত প্রায়শই ফাঁকা থাকত।কিন্তু এতে কোন বিচলিত বোধ করতেন না অদ্বৈত মল্লবর্মন।পড়াশোনা আর লেখালেখিই ছিল তাঁর ধ্যান জ্ঞান। কিন্তু তিনি বাস্তব বর্জিত লেখক ছিলেন না। তিনি ছিলেন বাস্তববাদী লেখক। তাঁর লেখায় কল্পনা ও রোমান্টিকতার কোন স্থান ছিল না। কলমের কালির তুলিতে তিনি বাস্তবের ছবি আঁকতেন । যা আমরা তাঁর  "তিতাস একটি নদীর নাম " উপন্যাসে দেখতে পাই।
লেখক অদ্বৈত মল্লবর্মন তিতাস নদী ও মানুষের অন্তরাত্মার ছবি এঁকেছেন। তিতাস তাঁর কাছে নিছক একটি নদীই শুধু নয়, তিতাস যেন তাঁর কাছে এক প্রানচন্চল জীবন্ত জলপরি। যার বুকে কান পেতে তিনি শুনেছেন তার বুকে বয়ে যাওয়া জলের গোপন কথা; তার বুকে বসবাসকারী জলজীবি মানুষের মনের গোপন ব্যথা বেদনার কথা। জল ও জীবনকে তিনি এক করে দেখেছেন। অধ্যাপক শান্তনু কায়সার একারনে তিতাস উপন্যাসকে নদী ও মানুষের যুগলবন্দি বলেছেন। সুস্নাত জানা বলেছেন, জেলে জীবনের মহাকাব্য।  সেজন্য  বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্যে এত নদীকেন্দ্রিক উপন্যাস থাকা সত্বেও অদ্বৈত মল্লবর্মনের "তিতাস একটি নদীর নাম " উপন্যাসটির এত জনপ্রিয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা। এখানেই অন্যান্য নদীকেন্দ্রিক উপন্যাসিকদের সাথে অদ্বৈত মল্লবর্মনের পার্থক্য। 
" তিতাস একটি নদীর নাম " উপন্যাস ছাড়াও অদ্বৈত মল্লবর্মনের "সাদা হাওয়া", "রাঙামাটি", নামে আরো দুটি উপন্যাস আছে।এগুলিও তৎকালীন সময় ও সমাজের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস।
পূর্বোক্ত তিনটি উপন্যাস ছাড়াও বিভিন্ন ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও চিঠিপত্রে অদ্বৈতের সমাজবোধ ও জীবন ভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে "সন্তানিকা", এবং "স্পর্শদোষ" গল্প দুটি জীবনবোধের এক অনবদ্য নিদর্শন। লোকসমাজ ও লোকসংস্কৃতির প্রতি ও অদ্বৈত মল্লবর্মনের সহজাত আকর্ষণ ছিল। 
" তিতাস একটি নদীর নাম " উপন্যাসে লেখক অদ্বৈত মল্লবর্মন মালো সমাজের জলকেন্দ্রীক জীবন জীবিকা, সমস্যা সংকটের পাশাপাশি অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে তাদের জীবন প্রবাহের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িত লোকসংস্কার, লোকরীতিনীতি ইত্যাদি উপস্থাপন করেছেন। জীবন-জীবিকা, সমস্যা-সংকট আচর-আচরন খাওয়া-খাদ্য সংস্কৃতি সবটাকেই লেখক আশ্চর্য দক্ষতার সাথে তুলে ধরছেন। তাছাড়া তাঁর বিভিন্ন প্রবন্ধ নিবন্ধে লোকসংস্কৃতির নিখুঁত বর্ণাঢ্য সমাহার আমরা দেখতে  
পাই। যেমন-- ত্রিপুরার বারমাসী গান, পল্লীসংগীতে পালাগান, মাঘমন্ডল, বরজের গান, শেওলার পালা, ভাইফোঁটার গান, অপ্রকাশিত পল্লীগীতি, অপ্রকাশিত পুতুলের বিয়ের ছড়া, অপ্রকাশিত বাউল সঙ্গীত ইত্যাদি। 
মাত্র 37 বৎসরের জীবনে বিনোদন কিংবা বিলাসিতার কোন স্থান ছিল না অদ্বৈতের ।প্রচন্ড পরিশ্রম ও অনিয়মিত খাওয়া দাওয়ায় ভগ্ন স্বাস্থ্য হয়ে গিয়েছিল অদ্বৈত মল্লবর্মনের। কিন্তু নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ছিলেন একেবারেই উদাসীন। দেশ পত্রিকায় কাজ করার সময়ই তিনি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হন। কিন্তু নিজের অসেচেতনতা ও অবহেলার কারণে দিন দিন এই জটিল ব্যাধি দেহে বিস্তার লাভ করতে থাকে। শেষ অবধি দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষ ও অন্যান্য বন্ধুরা কাঁচরাপাড়া যক্ষ্মা হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু এই জটিল ব্যাধি তখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত 1951 সালের  16ই এপ্রিল অমিত প্রতিভাবান এই সাহিত্যিক পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন ।

------জহরলাল দাস 
       খোয়াই, ত্রিপুরা। 
যোগাযোগ--9436539264।

মতান্তর


✍️ বিপ্লব গোস্বামী

দেখতে দেখতে বিজয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কের পাঁচ বছর হয়ে গেল।আমাদের প্রথম পরিচয় ২০১৫ সালে।তখন আমি সবে মাধ‍্যমিকের ছাত্রী।তখনোও ভালোবাসা কারে কয় তা বুঝতাম না।বিজয়ের কথাবার্তা-চালচলন খুব ভালো লাগত আমার।বিজয় আমার থেকে বছর সাতে বড় হবে।কিন্তু আমরা দুজন সমবয়সীর মত চলতাম।সেই ভালোলাগা কি করে যে ভালোবাসা হয়ে গেল তা টেরই পাইনি।দিন যেতে লাগল, আমি মাধ‍্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চ মাধ‍্যমিকে ভর্তি হলাম।ভালো মার্কস নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করলাম। তারপর ডিগ্ৰীও কমপ্লিট করে নিলাম।এতদিনে বিজয়ও সরকারি চাকরির পেয়ে সেটেল হয়েগেছে।বিজয়ের বাবা-মা এখন তাকে বিয়ে দিতে চান।বিজয় আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে তার বাবা মায়ের সঙ্গে দেখাও করিয়েছে।ওরা আমাদের সম্পর্কটা মেনি নিয়েছেন।এখন শুধু আমার বাবা-মা আমাদের সম্পর্কটা মেনে নেলেই হয়।
          অনেক দিন থেকে বিজয় আমাকে আমাদের সম্পর্কের কথা আমার বাড়িতে জানাতে বলে আসছে।আমি সাহস করে ওঠতে পারছি না।কেন জানি মনের মধ্যে একটা ভয় হচ্ছে।যদি আমাদের সম্পর্কটা কেউ মেনে না নেয়।বারবার মনে হচ্ছে দিদিভাইয়ের কথা। দিদিভাই একজনকে ভালোবাসত।তারাও বিয়ে করতে চেয়েছিলে।কিন্তু বাবা-মা কেউই ওদের সম্পর্কটা মেনে নেননি।তাই ওদের বিয়ে হয়নি।ওরা চাইলে নিজেরা বিয়ে করে নিতে পারত।কিন্তু বাবা-মাকে কষ্ট দিতে চায়নি তাই মুখ বুজে সব সহ‍্য করে নিয়েছে।
      এদিকে বিজয়ের বাবা-মা ওকে বিয়ের জন‍্য চাপ দিতে শুরু করেছেন।বিজয় আমাকে আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা  বলতে বারবার অনুরোধ করছে। আমি কিছুতেই বাবা-মাকে বলতে সাহস পাচ্ছিলাম না।অবশেষে একদিন সাহস করে দিদিকে আমাদের সম্পর্কের কথা বলেই ফেললাম।দিদিকে অনুরোধ করলাম বাবা-মাকে বুঝাতে। আমার কথা শুনে দিদি অবাক হয়ে গেল।দিদি কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকল।তারপর বলতে লাগল তুই কি ভুলে গেছিস আমার বিয়ের ঘটনা ? তুই কি এত সহজে অতীত কে ভুলতে পারলি ! তুই তো সব জানিস,তারপরও তুই ভালোবাসতে গেলি।বল তুইও কি আমার মতো বুক চাপা কষ্ট নিয়ে বাঁচতে চাস ! তুইও কি মরতে মরতে বাঁচতে চাস! কেন বোন কেন ? এই বলে দিদি কাদতে লাগল।
       আমি দিদিকে জড়িয়ে ধরে বললাম, আমার সবই মনে আছে দিভাই।আর আমি কিচ্ছু ভুলিওনি।আর আমি খুব ভালো জানি তোর মতো আমাদের সম্পর্কটাও কেউ মেনে নিবে না।কিন্তু,,,, ।আমি কথাটা শেষ করার আগে দিদি আবার বলতে লাগল,এত সব জেনেও তুই ভালোবেসেছিস ! তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে ? তুই তো জানতে ,আমি দেবাকে কতটা ভালোবাসতাম।আর দেবাও আমাকে কতটা ভালোবাসতো।আমরাও তো ঘর বাঁধতে চেয়ে ছিলাম।কি দোষ ছিল আমাদের ?আমরাতো একে অপরকে খুব ভালোবাসতাম।কি কম ছিল দেবার? দেখতেও তো সুন্দর, স্মার্ট, সরকারি চাকুরিজীবী, ভদ্র ,শান্ত ছিল ! একজন ভালো বর  হতে যে সব গুণ থাকতে হয় ,দেবার মধ‍্যে কি ছিল না ?  তবুও তো কেউ মেনে নেয়নি আমাদের সম্পর্কটা ! কেউ মেনে নেয়নি বাবা,মা,ভাই কেউ নয়।কেন জাতের মিল নেই বলে ? একবিংশ শতাব্দীতেও বিয়ে করতে হলে জাতের মিল থাকতে হয় ? স্কুল কলেজ আমরা কি এসব শিক্ষা নিয়েছিলেন ? না ,কই ওসব তো পড়িনি।উল্ট ধর্ম নিরপেক্ষতা,সম্প্রিতির কথা পড়েছিলাম।।কই কোন ধর্ম গ্ৰন্থতেও তো জাতপাতের কথা শুনি নি ? তবে কেন আজো আমাকে এক বুক কষ্ট নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে? কেন আমার চেয়ে ষোল বছর বয়সে বড় এক অজানা অচেনা পরুষের সঙ্গে ঘর করতে হচ্ছে ? শুধু কি সম্ভ্রান্ত বড়লোক বলে ? নাকি স্বজাতি বলে ? হাররে সমাজ ! বড় বিচিত্র এ সমাজ ব‍্যবস্তা।যেখানে কোরো মতামতের, কারো ব‍্যক্তি স্বাধীনতার কোন মূল‍্য নেই।এই সমাজে  আমাদের মতো মেয়েদের মতামতের কোন মূল‍্য নেই ! তুইতো সবই জানিস, তবে কেন ভালোবেসেছিস বিজয়কে ?কেন দুঃখকে আলিঙ্গন করতে যাচ্ছিস ? তুই জানিস না রে বোন,আমাদেরকে ভালোবাসতে নেই ! যুগ উন্নত হলেও এখনো সমাজ থেকে কুসংস্কার যায়নি।এখনো এ সমাজে আমাদের মতো মেয়েদের মতামতের কোন মূল‍্য দেওয়া হয় না।যা বলেছিস তা আর যেন ভুলেও বাবা-মাকে বলিস না।প্লিজ ওকে ভুলে যা, প্লিজ।এখনো সময় আছে , নয়তো আমার তো তোকেও সারা জীবন বুক চাপা কষ্ট নিয়ে বাঁচতে হবে।এই বলে দিদি আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।আমি বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।আমারও দু'চোখের কোণ থেকে আপনা আপনি  জল গড়াতে লাগল।
       দিদি একটু শান্ত হলে আমি দিদিকে আমার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলাম।বললাম , দিভাই তুই সবকিছু মেনে নিতে পেরেছিস কিন্তু আমার দ্বারা  ওসব হবে না রে। বাবা মা যদি আমাদের সম্পর্কটা যদি মেনে নাও নেন, তবুও আমরা কিন্তু বিয়ে করেই নিবো।আর এটা ভালো করেই জানি বাবা -মা আমাদের সম্পর্কটা মেনে নিবেন না।তবু তুই আমার সিদ্ধান্তের কথা ওদেরকে জানিয়ে দিস।আমার কথা  শুনে দিদি আমার বাহুর বাঁধন সরিয়ে দিয়ে দু'পা পিছন দিকে হেঁটে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।

মাধুরী কথন

✍️ মাধুরী লোধ

ফুল গুলো দারুন হাসে দারুন আনন্দে ফোটে গায়ে মেখে শীতকাল
প্রজাপতির দলের পাখায় নাচে শীতকুয়াশা রাঙ্গা গোধূলি  বিকাল ।
 শিশু কিশোর কিশোরী রা হুঁ হুঁ শীতে ঠোঁটে চাটে টক কটা নোনতা ঝাল 
বৌ রানী বলে কোথায় আছেন সূর্য মামা  শীত তাড়াতে দিন রোদের জাল ।
মৌমাছির দল ছুটছে সরিষা মাঠ মৌরানী খুশিতে মারছে লাফ ফাল 
শীতের মাঠে সবজি আনাজ কৃষাণ কৃষাণীর চোখ মুখে হাসিখুশির সকাল 
দাদু কেঁপে বলেন বাঁচবো না আর এবারের শীতে এখন জ্বালো খড়কুটো
আগুন তাপে ও হয় না গা গরম এ যে বয়সের দোষ হাড়ে গজিয়েছে বুড়ো ধান  দূর্বো ।।
হাঁসের গায়ে লাগে না শীত ওদের আছে তাপ উত্তাপ সবলতার চাবিকাঠি
তাইতো শীত কমাতে শৌখিন মানুষ খায় হাঁসের মাংস থাকতে সুস্থ সবল পরিপাটি ।
মাছ গুলো এতো শীত শীত করে না সাঁতরে বেড়ায় এ পাড় ও পাড় সেপাড়ে
খালি ওরা থাকে ভয়ে ভয়ে এই বুঝি পড়বে ধরা জেলেদের জালে বেচতে নেবে বাজারে ।
শীত পাখি গুলো শীতের ভয়ে দেশ ছেড়ে পরিযায়ী হয় ছুটে আসে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
খালের ধারে ঝিলের পাড়ে জমিয়ে করে স্্সার যাপন ওরা নাচে গায় উড়ে ঘুরে  দলে দলে ।
শীতের পোশাক বাড়তি কাঁথা কম্বল লেপ সোয়েটার মোজা গরম নরম টুপি চাদর ,
উম্মে আর ঘুমে শীতের ভারী কদর  শীত কাল ভাবে আর কোন ঋতু পায় আমার মতো আদর  ।।।
জঙ্গলের পশু উম খোঁজে চরম শীতে তাদের তো নেই চাদর সোয়েটার কম্বল
তাগড়া শরীর দিয়ে করে ছুটাছুটি মারপিট লড়াই বড়াই সূর্যের তাপ থাকে সম্বল 
গৃহস্থের ঘরে বড়ো আদরে থাকেন পোস্য খড়ের বিছানা বস্তা দোরে খিল লাগিয়ে
এ করূই কেটে যায় মাত্র দু মাসের শীতকাল হেঁটে চলে আনন্দ পিকনিকে মনকে গরম তাতিয়ে ।
চারদিকে শুনি মেলা মেলা ফুল তরকারি বস্ত্র ব ই পিঠে পুলি হাসিখুশি মুখের বড়ো আয়োজন
আমি ছুটি দলের সাথে মন খারাপের ঔষধি খুঁজতে গায়ে মেখে রাখি শীতকালীন বিনোদন ।

কুলাল' সুভাষচন্দ্র বসু আজও একমেভদ্বিয়ম্ নেতাজী

||  'কুলাল' সুভাষচন্দ্র বসু আজও একমেভদ্বিয়ম্ নেতাজী... ||
✍️ শ্রী রঞ্জিৎ বিশ্বাস

আবার "পৌরুষের বজ্রকৌস্তভ, উল্কার অনলশিখা, রাজনীতির জ্বলন্ত ধূমকেতু" নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু জন্ম নিলেন । অর্থাৎ প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও বরেণ্য মহাপুরুষ নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর এই বছর ১২৭ তম জন্মজয়ন্তী ।  আর ২৩ শে জানুয়ারী দিনটা প্রতিবছর দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেয় যে, নেতাজী সুভাষের মৃত্যু নেই তাঁর কেবল জন্ম হয় । সাম্রাজ্যবাদীরা নেতাজীকে জোর করে যতই মেরে ফেলার চেষ্টা করুক না কেন সে অজয়-অমর-অক্ষয় আছে ও থাকবে । প্রতি বছর প্রতি মুহূর্তে রহস্যময় এই দেশনায়ককে নিয়ে দেশের বিশ্লেষকদের মনে হাজার রকমের বিশ্লেষণ উদয় হয়ে থাকে। তাই, যারা গান্ধীজী, নেহেরু-র অন্ধ ভক্ত সেজে উদ্ভট বিশ্লেষণের ফুলঝড়ি করে থাকেন তাদের এবং প্রকৃত নেতাজী প্রেমী ভারতবাসীদের উদ্দেশ্যে বিশ্বখ্যাত মহান দার্শনিক "প্রাউট" দর্শনের প্রবক্তা শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকারের সুস্পষ্ট, যথার্থ ও ক্ষুরধার বিশ্লেষণটি অবশ্যই ভেবে চিন্তে অনুধাবন করার জন্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে , তিনি বলেছেন---
"ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে যে উদগ্র কুলাল-চেতনা এখানকার জনম একে আলােড়িত, আন্দোলিত ও প্রমথিত করেছিল, সেটা ছিল রাজনৈতিক জগতে সুভাষ বােসের কৌলালিক ভূমিকা। ( 'কুলাল'-এর অর্থ হচ্ছে শিল্পগত বা ভাবগত বা আদর্শগত ব্যাপারে যাঁর বৈদগ্ধ্যিক স্বাতন্ত্র্য রয়েছে ও যিনি তদনুযায়ী পরিকল্পনা করে' এগিয়ে চলেছেন।) যাঁরা বিচার-বিমর্ষে নিরপেক্ষ হয়ে থাকতে ভালোবাসেন তাঁদের আজ জিনিসটা অনুধাবন করবার দিন এসেছে। সেকালের ভারতীয় নেতৃবর্গের প্রতি তিলমাত্র অশ্রদ্ধা না জানিয়েই বলতে পারি, তাঁদের মধ্যে সমাজ-চেতনা ও বৈপ্লবিক চেতনার অভাব তাে ছিলই--কোন দৃঢ়নিবদ্ধ অথনৈতিক চেতনা বা সংরচনাগত কুলালত্ব ছিল না। তাঁরা চেয়েছিলেন, বিভিন্ন ভাবে জনমত গড়ে' তুলে ব্রিটিশকে তিক্ত-বিরক্ত করে' তাদের হাত থেকে স্বাধীনতা-রূপী ফসলটি আলতাে ভাবে কাস্তে চালিয়ে তুলে নিয়েই মারাইজাত করে' নেওয়া। এতে সাপও মরবে না--লাঠিও ভাঙ্গবে না। যাঁরা ভাবেন, অহিংসা নীতি কোন নীতিই নয়-অনন্যোপায় মানুষের একটি রাজনৈতিক চাল; তাঁদের মনে রাখা উচিত যে, সেদিনের নেতাদের এই মানসিকতা ঠিক অনন্যোপায় অবস্থা-প্রসূত ছিল না। জনগণের ওপর তাঁদের যে প্রভাব হল সেই প্রভাবের সাহায্যে তাঁরা গণচেতনাকে ব্যাপক ভাবে আন্দোলিত করে' স্বাধীনতা হাসিল করার চেষ্টা করতে পারতেন। একথা অনস্বীকার্য মহাত্মা গান্ধী গণজাগরণ আনিয়েছিলেন--কিন্তু উদ্বুদ্ধ গণচেতনাকে সংগ্রামের পথে পরিচালনা করেন নি। বলতে পারা যায় যে, তাঁদের সকল নীতির মৌলিকত্ব এক ধরণের‌ নেতিবাদে ও সংগ্রামহীনতাতেই আবর্তিত ছিল। সুভাষ বোসের কুলালত্ব ভিন্নধর্মীয়। তিনি চেয়েছিলেন অবস্থার সুযােগ নিয়ে, আরও স্পষ্ট বাংলায় ঝােপ বুঝে কোপ মেরে  প্রতিপক্ষকে বিনাশ করে' স্বাধীনতা হাসিল করা। এখানেই ছিল তাঁর তৎকালীন নেতৃত্বের সঙ্গে কুলালাত্বগত বিরােধ বা বৈষম্য। আর তাঁদের এই বৈয়ষ্টিক গরলের  অভিপ্রকাশ তথা অহিংসার অজগর সাপ–সুভাষ বােসের দেশত্যাগের অনেক কারণের মধ্যে একটি কারণ। রাজনীতির মর্মমূলে প্রবেশ না করেও ভাসা-ভাসা জ্ঞান নিয়ে অথবা ভিন্ন ধরণের উদ্দেশ্যপ্রণােদিত হয়ে যারা সুভাষ বােসকে কুলঘ্ন বা ভ্রান্ত-দেশপ্রেমিক বলত, তারা হয়তাে এটুকু খতিয়েও দেখেনি যে দৈশিক স্বাধীনতা রক্ষার জন্যে অর্থনৈতিক মতবাদে ভিন্ন মেরু হওয়া সত্ত্বেও রুশের সঙ্গে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র যদি এক পঙক্তিতে বসে ফলার করতে পারে, তাহলে একটি সামরিক শক্তিবিহীন স্বাধীনতাকামী দেশের পক্ষে অক্ষশক্তির (জার্মানী, জাপান ও ইতালী) সহায়তা নিয়ে সুভাষ বােস এমন কী মহাভারত অশুদ্ধ করেছিলেন! আসল যুদ্ধটা তাে ছিল দুটি সাম্রাজ্যবাদী তথা সম্প্রসারণবাদী শক্তির মধ্যে। কোনও পক্ষ গঙ্গাজলে ধােয়া তাবা-তুলসী পাতা ছিল না। সুভাষ বােস দেশের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন আর তা চেয়েছিলেন উদগ্রভাবেই। তাই তিনি এ ব্যাপারে প্রকৃত
সুযােগ সন্ধানীর ভূমিকাতেই নেবেছিলেন। এতে কেউ যদি তার নিন্দা করে, তাহলে‌ বুঝতে হবে সে রাজনৈতিক জীবনে গায়ে আঁচড়টি না লাগিয়েই সস্তায় কিস্তীমাৎ করতে চেয়েছিল। মিত্রশক্তি (ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকা ও রাশিয়া) যদি তাদের রাজনৈতিক বা সামাজিক কারণে সুভাষ বােসকে নিন্দা করে থাকে তাহলে ভিন্ন কুলালত্বের অভিধারক হওয়া সত্ত্বেও অন্য কোন ভারতবাসীর পক্ষে কি তাদের আওয়াজে আওয়াজ মিলিয়ে সুভাষবােসের বিরােধিতা করা সেই সময় সঙ্গত কাজ হয়েছিল ?" সেদিন স্বয়ং নেতাজী বলেছিলেন-- "কোটি কোটি ভারতবাসীর পক্ষে দাঁড়িয়ে তাঁদের মুক্তির প্রয়ােজনে আমি জীবন দিয়ে যাব; যদি সত্যের কোন মূল্য থাকে, এদেশের মানুষ একদিন বুঝবে আমার হৃদয়ের কথা।" আর আজ পুরো ভারতবাসী সেই হৃদয়ের কথা হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে প্রতি মুহূর্তে বলে-- হ্যাঁ, ব্রিটিশমুক্ত স্বাধীন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী যদি নেতাজী হতো তাহলে ভারতবর্ষ এভাবে কখনোই টুকরো টুকরো হতো না ও বর্তমান ভারতের এমন ক্ষুধার্ত ও অরাজকতার অবস্থা দেখতে হতো না । অর্থাৎ বর্তমান ভারতের কেন এমন নিদারুণ অবস্থা ? তার সুস্পষ্ট উত্তর স্বয়ং নেতাজীই সেদিন বলেছিলেন--- "আমার ছেলেবেলায় আমি ব্রিটিশকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়াই সব চাইতে বড় কর্তব্য বলে মনে করতাম। পরে গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেছি যে,ব্রিটিশকে তাড়ালেই আমার কর্তব্য শেষ হয়ে যাবে না।ভারতবর্ষে নোতুন সমাজব্যবস্থা চালু করার জন্য আর একটি বিপ্লবের প্রয়ােজন হবে।" আবারও বলেছিলেন--“ভারতকে যদি প্রকৃতই স্বাধীন হইতে হয় তবে আমাদের শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র পাইলে চলিবেনা, সামাজিক গণতন্ত্র চাই, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রও চাই”। সুতরাং, চলুন দেশবাসী, আর দেরি না করে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্যে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ি ও এই মৌলিক স্বাধীনতা আদায় করে আনি আর তবেই দেশনায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন পালন করা সার্থক হবে । আজও তোমার আসন শূন্য হে বীর পূর্ণ করো হে পূর্ণ করো । জয়তু নেতাজী । লহ শতকোটি নতজানু প্রণাম ।
________________@__________
ইতি--
শ্রী রঞ্জিৎ বিশ্বাস
চড়িলাম, সিপাহীজলা, ত্রিপুরা
১৮/০১/২০২৩ইং

ফটিক সাগর

✍️ চন্দন পাল, ত্রিপুরা 

ঝিনুকের কপাটে উঁকি দেয় মুক্তা,
বিনম্র দ্যুতিতে বলে- "ভেঙ্গে মোর ঘরের চাবি, নিয়ে যাবি কে আমারে।"
জলদেবী শুনে কোলে তোলে নেয়, মুক্তা ভরসা পায়।
 সুর স্বর রঙ শিখে, শিখে দিক্বিদিকে দ্যুতি ছড়ান।
সরল দ্যুতিতে মুগ্ধ হয় সজ্জন, কাছে টানে।
 হাতে হাতে ঘুরে, মুক্তা বড় হয়।
এখন, ছলনা শিখে, শিখে মিথ্যা ঝিলমিলও ।
জলদেবীর চেয়েও বড়-ছোট দেবীর গা বায় । 
হৃদয়হীন! শপথহীন! ভালবাসার গান গায়
 "ভেঙে মোর ঘরের চাবি,,,, "।
অকৃতি অদূরদর্শী সারল্য অপচয়ে জলদেবী,,, 
 গানে বারোয়ারী গন্ধ পায়।

স্বপনে দেখে, 
অন্য কোন জলদেবী, মুক্তাকে নিপুণতায়,
 ঝিনুকে পুরে ছুঁড়েছিল ফটিকসাগরের জলে, 
অন্যকোন জহুরীর ধ্যানে, সঠিক মাজার ভরসায় ।

 এক এক বছরে মুক্তা, রঙমঞ্চে  দ্যুতি হারায়  ।
রবির প্রেমে জগৎ বাঁচে, রবি সুনির্মল। 
নদীর প্রেমে জীবন বাঁচে, নদী অনির্মল!
শ্রান্ত জলদেবী টলমলে মুক্তাকে খুঁজে বেরায় ।

       ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

রুদ্রাক্ষের বীজমুখে

✍️ সুচিত্রা দাস

শৈশব  আর অভাবকে পকেটে গুঁজে
  সকাল বিকাল  কাগজ কুড়োত
 যে ছেলেটা -
আকাশের টুকরো মেঘ তার  
ক্যানভাসে ধরা দিত কাল্পনিক
  তুলি হাতে
কোন একদিন যৌবনের উপপাদ্য বয়ে আনলো দৃষ্টির গাঢ়ত্ব
অজান্তেই  অনুভবে আবেদনে খুঁজতে লাগল   ক্যানভাসের ব্যাকরণ 
যা ছেলেটিকে প্রতিদিন
 প্রেমাতুর করে তুলতে লাগল।
রঙের  নেশায় মাতাল হতে হতে 
ধনতন্ত্রের নগ্ন দশার স্বরলিপি
 রুদ্রাক্ষের বীজ মুখে দাঁড়িয়ে ছেলেটা
রং- তুলি -ক্যানভাস আনন্দে বয়ে বেড়ায়।

জীবনের স্বপ্নগুলো

 ✍️ রেহানা বেগম হেনা

জীবনের ছোটবড়ো কত না স্বপ্নগুলো 
সাজাতে গিয়ে সবই হলো খুবই এলোমেলো।
রেখেছিলাম নিজেরই এক আলমারিতে তুলে
ভেবেছিলাম সময় পেলে দেখবো সেসব খুলে খুলে,
সাজিয়ে নেবো মনের মতন নিজের মতন ক'রে
ঘুঘু ডাকা ছায়ায় ঢাকা নিভৃত কোনও দুপুরে।

তবু একদিন মিললো না তো সেই সময়
নৌকা-জীবন চললো বয়ে, বর্তমানেই ক্ষয়।
হঠাৎ এখন সন্ধ্যাবেলা কপাট খুলতে গিয়ে
পড়লো যাহা অগোছালো ঝপাৎ ক'রে হুড়মুড়িয়ে!
এখন এসব ঠিক সাজাতে বুঝবো বিষম ঠেলা
জীবনের তো চলছে এখন সাঁঝ পেরিয়ে শেষের খেলা।

স্বপ্নগুলো ইচ্ছেগুলো না সাজাতে পেলে,
হারিয়ে যাবে সমস্তটাই কালের ধারার তলে।

বিদায়

-----------
✍️ পূজা মজুমদার 

অনিচ্ছা সত্বেও গতকাল প্রিয় একজনকে বিদায় জানিয়েছি; 
সেদিনের মতনই আকাশ তমেঘলা ছিল,ছিল  ঝড়ো হাওয়া; তবু তো বিচ্ছেদ ঘটেছিল এমনি এক দিন।
সেদিন আমি পারিনি; দুহাত জোড় করে মিনতি করে 
বলতে, 'থেকে যাও প্রিয়, যেও না প্লিজ'
না!আমি পারিনি!পারিনি আমি কিছুই বলতে;
হ্যাঁ আমি তোমায় বিদায় জানালাম;চিরতরে'ই জানালাম;
আমার কি পোড়া কপাল দেখো; প্রতি প্রশ্বাসে নিজের নাম রেখেছি তো প্রতিটা নিঃশ্বাসে তাহার নাম দিয়েছি; সেই তাহাকে আমি হারিয়েছি;
হ্যাঁ হারিয়েছি আমি;এই এক জীবনে আমি সত্যিই তাকে হারালাম;
না পেলাম তাহাকে, না গ্রহণ করতে পারলাম তোমাকে!
এত এত অপ্রাপ্তি;এত এত ব্যর্থতা;আমি আর সইতে পারিনে প্রিয়!
পরিশেষে আমিও কারো দীর্ঘশ্বাস আর নির্ঘুম রাতের কারণ হয়ে দাঁড়ালাম! তাই তোমায় বিদায় জানালাম। 

হে ঈশ্বর!তুমি আমায় কখনো ক্ষমা করোনা! কখনো না!

কবি অইতেও ঝাল আছে

  ✍️  মায়া রানী মজুমদার 

কবিরা কত কিছু লেয়ালেয়ি (লেখালেখি) করে, 
লেইখতে আঁরও তো ইচ্ছা করে।
কিয়া কিয়া লেয় হেতেরা এগাইন,
আঁই ত বুঝি অ না বেইগ্গিন। 
আঁই ত এগাইন এতকিছু ন জানি
তই, হেতেরারে আঁই কিন্তু গুরু মানি। 
হেগাইন লেইখতে অইলে আঁরে ত
হড়া-লেয়া হিগন লাইব, 
বিদেশত্ যাইয়ে রে। 
আঁই ত ন জানি, কেন্তে কিয়া করন, 
ন চিনলে তই  যা অয় আরি ? আঁর ত মরণ দশা অইব। 
লেইখতে চাইলেই কি লেখন যায় নি,
কত কিছু চিন্তা করন লাগে, জান নি ?
কত কিছু মাথাত রাখন লাগে। 
ওরে বাপ্ রে বাপ। 
চিন্তা কইত্তে কইত্তে মাথা ধরি যায়। 
কত ভাবি চিন্তি, তই যাই, কলম ধরন লাগে। 
লেখমু কইলেই কি আর লেখন যায় নি। 
কেবল লেইখলে তো অইতো ন। 
সম্মাননার কথাও ত চিন্তা করন লাগে। 
বাপ্ রে বাপ ! কবি অইতে গেলেও যে, 
কত ঝামেলা মাথাত্ লওন লাগে।
তই যাই কবি অওন। 
কবি অইতেও যে ঝাল আছে বিস্তর।

সবার স্বামীজী

 ✍️ কলমে-সোমা নস্কর

দেশের জন্য যন্ত্রণা তোমার 
ভালোবাসা ত্যাগ খাঁটি, 
ধর্মে কর্মে এক নিষ্ঠ 
ধন্য দেশের মাটি।

ঈশ্বরের বাস তোমার মধ্যে
জগত জোড়া নাম,
জ্ঞানী অজ্ঞানীর পথপ্রদর্শক 
ভারতবর্ষ পুণ্যধাম। 

মানব ধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম 
ত্যাগ সেবা ভালোবাসা,
তুমিই যুগের শিক্ষাগুরু
নবজাগরণের ভাষা।

উজ্জ্বল নক্ষত্র অমর বীর
দেশবিদেশে অমূল্য অবদান, 
সর্বস্তরের মানুষকে তুমি
ভেবেছ ভগবান। 

তোমার শিক্ষা চেতনার আলো
ঘটিয়েছে জাগরণ, 
যুগে যুগে তোমার বাণী
থাকুক আমরণ।

ভারতবর্ষের প্রতীকপুরুষ 
ক্ষমা দয়া পবিত্রতার শান্ত রূপ, 
স্বামী বিবেকানন্দ প্রণাম তোমায়
তুমি মোদের শক্তি রূপ।

প্রত্যাশা

   ✍️  অসীম দেববর্মা 
               ----------------------------
    রাতের নিস্তবদ্ধতা 
   ভাঙ্গে মনের মৌনতা 
             রাত দিন
        যন্ত্রনা সীমাহীন।
       ঐ দূরে,এই কাছে 
   প্রত্যাশার ভরসায় বাঁচে!
   যাচ্ছে সময়, কাটছে দিন
দুঃখ, কষ্টের ছাঁই উড়ে অন্তহীন, 
          শব্দের ফাঁকে 
            বার্তা ঢাকে।

মহাপুরুষ হতে চাই

   ✍️ পাপিয়া দাস

আমি হতে চাই মহাপুরুষ
নেতাজী,বিবেকানন্দের মতো।
যাঁদের মনে রাখবে  এ পৃথিবীর মানুষ 
আজ নয় কাল নয় -
শত শত বছর ধরে।
আমি হতে চাই 
নেতাজীর মতো আর্দশবান
হতে চাই দেশপ্রেমী,নিষ্ঠাবান।
আমি হতে চাই 
বিবেকানন্দের মতো বিবেকবান
হতে চাই  ভালোবাসার অগ্রদূত আর ধর্ম পরায়ণ।

স্কুলে অনেক গল্প পড়েছি
তাঁদের জন্মদিনে  নাচ গান আবৃত্তি 
কতো রকম অনুষ্ঠান হতো।
কতো চকলেট খেয়েছি ওঁদের অনুষ্ঠানে।
আমি মহাপুরুষ হলে
আমার  জন্মদিনও  সারাবিশ্বে
পালিত হবে 
নাচ গান হবে আর শিশুরা চকলেটও খাবে।
আমি জীবিত অবস্থায় না দেখলেও 
মৃত‍্যুর পরে নিশ্চয়ই  দেখব।
ওপারে বসে বসে।

অপেক্ষা

  ✍️ কলমে --অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

আজ আমার প্রতিভা কারো চোখে ধরা পড়ছে না 
কারণ আমি কোনো তাক লাগানোর মত কাজ করতে পারিনি। 
পারিনি কর্মজীবনে চাকুরী পেয়ে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হতে 
পেরেছি শুধু একবুক শূন্যতা নিয়ে হতাশার পথে হাঁটতে। 
সবাই কথায় কথায় আমাকে জিজ্ঞাসা করে 
আমি কি করি ? আঃ বিশাল বড়ো এক প্রশ্নবোধক ! 
কিন্তু কেউ কখনো জিজ্ঞাসা করে না আমি কি কি করতে পারি। 
আজ আমি বেঁচে থাকতে সমাজে কোনো দাম নেই 
কারো কাছে চার পয়সার দাম নেই। 
কিন্তু দুই দিন পর মায়া ছেড়ে চলে গেলে 
সবাই আমাকে হ্যারিকেন ধরে খুঁজবে
সবাই আমার না থাকার গুরুত্ব বুঝবে। 
আমার সমালোচকও আমার সুনাম করতে ছাড়বে না। 
বলবে, কি ভালো ছেলে ছিল অমুক
খুব শান্ত স্বভাবের ছিল, পরোপকারী ছিল। 
কেউ বলবে খুব মেধাবী ছিল ছেলেটা 
আবার কেউ বলবে এত প্রতিভা তার অকালে ঝড়ে গেল সে। 
এটাই স্বার্থের দুনিয়া, থাকতে কেউ তোমার মর্ম বুঝবে না। 
মাঝে মাঝে মনে হয় গা ঝেড়ে সব মায়া ফেলে 
দূর গগনচুম্বী পাহাড়ের চূড়ায় একাকীত্বে মগ্ন হই 
কিন্তু সেই সুযোগ আর পেলাম কই। 
কালেরস্রোতে কবে মৃত্যু এসে আমার অস্তিত্বের নিঃশ্চিহ্ন করে দেয় তার ঠিক ঠিকানা নেই , 
বেঁচে আছি শুধু মৃত্যুর অপেক্ষায়।