রামধনু


         
                   দীপক রঞ্জন কর

দূর  গগনে রঙ ছড়িয়ে
সাত রঙে  রয় জড়িয়ে,
পাহাড় নদী সব ছাড়িয়ে 
আছে মস্ত স্থির দাঁড়িয়ে।

পড়ে শোভা বেশ গড়িয়ে 
তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে,
দিলো গগন হাত বাড়িয়ে
দেখে হৃদয় যায় হারিয়ে।

পূব দিগন্তে গগন প'ড়ে 
রঙের ছটা বিরাজ করে ,
দেখি অপলক দৃষ্টি ভরে
ছায়া ভাসে নীল সাগরে।

বৃষ্টি কণায় ছবি আঁকা 
গগন মাঝে ধনুক বাঁকা,
প্রকৃতির এ মোহিত রূপ
রামধনু ঐ বেশ অপরূ।

উনিশে মে


                         প্রতিমা দেববর্মা
 উনিশ মানে বিশ্বের কাছে স্মরণীয় দিন 
 উনিশ মানে একাদশ শহীদের জীবন দেওয়া ঋণ   l 
 উনিশ মানে বাঙালি নারী অবলা কমলার শক্তি 
 উনিশ মানে বাংলার আশা, বাংলা ভাষার মুক্তি l
  উনিশ মানে "জান দেবো তবুও জবান দেব না ধ্বনি "
 উনিশ মানে  ১৯৬১ সালে ভাষা সংগ্রামী র বাণী l
 উনিশ মানে নশ্বর ভুবনে শত শহীদের রক্তরেখা 
 উনিশ মানে ভাষার অস্তিত্ব রক্ষায় বীর ইতিহাস লেখা।

 উনিশ মানে কারোর বুক,চোখ ফুটো করে জনজীবন স্তব্ধের পালা 
 উনিশ মানে একাদশ শহীদের রক্তমাখা বর্ণমালা ।
 উনিশ মানে মোদের গর্ব, হিতেশ,কুমুদ রঞ্জন,তারিনী, সুনীল,বীরেন্দ্র 
 উনিশ মানে শ্রেষ্ঠ রত্ন,
 কমলা,সুকুমার, কানাইলাল, চণ্ডীচরণ,সত্যেন্দ্র,শচীন্দ্র l
 উনিশ মানে কমলার স্মৃতি রক্ষায় শিলচর ভাষা শহীদ স্টেশন 
 উনিশ মানে ২০১১ সালে ৫০ বছর পূর্তিতে ব্রোঞ্চের মূর্তি উন্মোচন।
 উনিশ মানে প্রতিবছর উনিশে মে ভাষা দিবস আয়োজন 
 উনিশ মানে -দূর দূরান্ত আগত ভাষা প্রেমীর কবিতা পাঠ,পুষ্পার্ঘ নিবেদন ।
 উনিশ মানে সারা জাগানো বাংলা ভাষাভাষীর মনে 
 উনিশ মানে বাঙালি জয়ের সিংহাসনে,১১ শহীদের অবদানে l
 উনিশ মানে ভাষা সংগ্রামীদের প্রণাম  জানানো 
 উনিশ মানে ভাষার কঠিন পথ মসৃণ বুঝানো।
 

ঘুম


                           -পান্থ দাস

ঘুম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত একটা পাহাড়। পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্র দার্জিলিঙের লাগোয়া ঘুম পাহাড় হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জমজমাট একটা হিল স্টেশন। দার্জিলিঙ যাবো আর ঘুম ভ্রমণ করবো না, এমনকী আর হয়। এর উত্তরে দার্জিলিং, দক্ষিণে কার্সিয়াং, পূর্বে তিস্তা তথা কালিম্পং এবং পশ্চিমে সুখিয়াপোখরি। 

একঝাঁক আনন্দ আর ভ্রমণ পিপাসু মন নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ঘুম ভ্রমণে । ভারতের উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলপথের একটা শাখা শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং রুটের মধ্যে পড়ে ঘুম রেলস্টেশন। এই ঘুম রেলস্টেশন হল পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে উঁচু রেলস্টেশন। শুধু তাই-ই নয়, এই রেল পরিবহন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত। কাছাকাছি আছে মনোরম পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করার জায়গা 'বাতাসিয়া লুপ'। সারা পৃথিবীর পর্যটকদের কাছে ঘুম রেল স্টেশন অন্যতম আকর্ষণ।

 ঘুম রেল স্টেশন থেকে আরও ওপরে উঠলে পেয়ে যাবেন ঘুম বয়েজ হাই স্কুল। এই স্কুলের খেলার মাঠে পৌঁছালে মনে হবে পৃথিবীর ছাদে দাঁড়িয়ে আছেন! দার্জিলিং থেকে কালিম্পং, টাইগার হিল, সুখিয়াপোখরি, মিরিক, সান্দাকফু, বিজনবাড়ি যেখানেই যান-না-কেন, ঘুম পাহাড় ছুঁয়েই যেতে হবে, এই ঘুম হল একটি জংশন হিল স্টেশন। 
যাই হোক ঘুম ভ্রমণের এই সুখদ স্মৃতি মনের এক কোণে গাঁথা থাকলো ।

প্রথম তোমায় দেখে


                       লক্ষী পাল

তোমাকে দেখে লাগলো মনে ভীষন দোলা, 
 ঐ মধুক্ষন কিছুতেই কখনো যায় না ভোলা।
 প্রেম রঙ্গে রাঙ্গা হলো অদ্ভুত পুলকিত মন, 
 তোমার দেখা পেতে আকুল তৃষ্ণার্ত নয়ন।
 
 মনের অঙ্গনে যে আজ এলো সুখের ফাগুন, 
 হৃদয়ে লাগলো বসন্ত ভালোবাসার আগুন। 
 হঠাৎ সুখের খুশিতে জোয়ারে বইলো মন,   
 দিনে ও অন্তর দেখে শুধু তোমার স্বপন।

 প্রেমের ডালি নিয়ে প্রিয় কাছে আসবে কখন, 
 চাতকের মত চেয়ে থাকে মন সারাক্ষণ। 
 হৃদয়ে পুলক শিহরণ যায় না বুঝিয়ে বলা,
 অনুরাগের ছোঁয়ায় হৃদয়ে যেন দহন জ্বালা।

ইচ্ছেরা সব ।


                   দীপ্তি চক্রবর্তী 

সাঁঝের বেলায় মেঘলা আকাশ,
কেমন করে মন,
ইচ্ছে করে ছুট্টে পালাই,
যেথায় কাশের বন।
পাগলা হাওয়ার শীতল ধারায়,
পাহাড়ি পথ শেষে,
ইচ্ছে করে প্রেমের ছোঁয়ায়,
একটু চলি ভেসে।
চোখে আমার স্বপ্ন হাজার,
যুথিকা করপুটে,
দু-হাত তখন অঞ্জলীতে,
তোমার পানেই ছুটে।
চোখের কোনে স্বপ্ন বোনে,
ঘোড়সওয়ারী মন,
পলাশ রঙে রঙিন হলে,
অস্তাচলের ক্ষণ।
সীমান্তের ওই স্বপ্নপুরে,
হৃদয় বীণার মাঝে,
বাজবে সানাই, নাচবে শিখী,
নিত্য-নূতন সাজে।
হৃদয় দুয়ার খুলবে তোমার,
মেঘমালিকার সাথে,
বসবো দুজন নীল দিগন্তে,
হাত রেখে দুই হাতে।

দিনান্ত


                    সুবর্ণা চক্রবর্তী
দিনান্তের শেষ আভাটুকু শুষে নিয়ে 
কোনো এক অচেনা নগরীর ভগ্ন প্রায় রাস্তা জুড়ে
বিদায় বেলার শেষ ঘনিয়ে আসে
প্রখর রৌদ্র তাপে জঠরের জ্বালা ক্রমশ 
পাল্লা দিয়ে বাড়ে।

নিকষ অন্ধকার বাদ সাধে
প্রখর তেজের তীব্রতায় 
নগন্য হয়ে যায় স্বপ্ন গুলো 
প্রগাঢ় সংশয় নিয়ে
ধুলিসাৎ করে পথিকের পথচলা।


বরষার আগমনে স্নিগ্ধ হতে চায় বারংবার 
নীরবে নিভৃতে ভিজাতে চায় রুক্ষ পদতল
মায়াময় ছায়ায় রুক্ষ জমির গভীরে 
বপন করতে চায় একমুঠো আশ্রয়ের 
ঝমঝমিয়ে আসুক তবে শান্তির বরষা 
ভিজুক পথিক,  ভিজুক মহানগরীর রুক্ষ রাস্তা।

মানা


                          শ্রীমান দাস 

ছুটতে মানা বসতে মানা মানাই কেবল সার
চলতে মানা জ্বলতে মানা, এখন অন্ধকার !
পুড়ছে বাগান ভাঙছে দোকান,পাকা ধানে মই
লুটছে বাড়ী টানছে শাড়ী কার কাছে তা কই !

ফাটছে মাথা কাটছে গলা যাচ্ছে খোয়া জীবন 
দোষী যেজন-মুক্ত সে'জন, নিরীহকেই শমন !
যাচ্ছে চুলোয় যুক্তি বিষয় নিয়ম নীতির কুটে
মাৎসন্যায়ের কালোধনটা বাড়ছে হরির লুটে।

বলতে মানা দোষের কথা,বললেই রক্ত চোখ 
হরিণছানার বুকের ওপর চিতা বাঘের নোখ।
'নিরীহ' এর তকমা যাদের মুখ বুজে সব সয়
অনিয়মকেই নিয়ম জেনে নীরবে পড়ে রয় ।

ঈশ্বর!


                  ভবানী বিশ্বাস 

তোমার পাশে জমিয়ে রেখেছি দুঃখ--

আগের মতো আর কিছুই নেই
এখন হাওয়ায় গান শুনাই
নদীর জলে দুঃখ ভাসাই

দেখি, কবিতাও কেমন ভেসে যায়!

বুঝতে পারি, তুমি চলে গেলে
কবিতাও আমায় ভুলে যাবে... 

তোমার কাছে তাই লেখা জমিয়ে রাখি
বিশ্বাস করি, ঈশ্বর কখনও ছেড়ে যান না...

বর্ষা এলে


               সুপর্ণা মজুমদার রায় 

বর্ষা এলে পাহাড় জটার বাঁধন খুলে যায়,
ধারাস্নানে সিক্ত হয় উন্মুক্ত পৃথিবী। 
বর্ষা এলে চড়পরা নদীটি হয়ে ওঠে ঋতুমতী । 
বৃষ্টির ছোঁয়ায় সারা শরীর জুড়ে ঢেউয়ের বন্যা। 
বর্ষা এলে বেগতিক নদীটার নাম দিই ভরা যৌবনা। 
মেঘাবৃত আকাশকে তার প্রেমের ফাঁদে  বাঁধতে চায়।
বর্ষা এলে মুক্তোর মতো বৃষ্টি ঝরে সবুজ ঘাসের প্রান্তর জুড়ে। 
ছেঁড়া কলাপাতা গুলো ছেলেবেলার ভেঁপু বাজিয়ে চলে।
বর্ষা এলে জলভরা নরম চাঁদ মায়াবী কবির ভূষণ জড়ায়।
সব তো বর্ষা এলেই হয়।
কবির দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে
 লক্ষ -কোটি কল্পনা শব্দমালায় সেজে ওঠে। 
ঘরছাড়া মৌমাছিরা লেবুতলায় ভীড় জমায়। 
সবই তো বর্ষার মঙ্গল, 
তবে কেন রেলধারে ঝুপড়িবাসীর অজানা আশঙ্কায় বিনিদ্র রাত কাটে? 
কেন?

হোক অবসান তবুও


             -- গোপা রায়।
এক অনন্ত প্রতীক্ষার অবসানে
 থাকুক মোহনার উত্তাপ,
শিশির বেয়ে রৌদ্র নেমে আসুক-
বুকের মধ্যাচলে।
মাধবীর আলিঙ্গনে বৃক্ষটা থাকুক ফুলেল শুভেচ্ছায়।
নিঃসঙ্গ প্রহরগুলো আজ
মেলুক পাখনা শুঁয়োপোকার পরিচ্ছদ খুলে।
আজ আগলের আগল খুলে যাক---
সপ্ত দুয়ার ভেদে।
মেঘের পাঁপড়ি ঝরে পড়ুক 
তৃষ্ণার্ত বারান্দার ঠোঁটে।
আজ বড্ড বেশি সমতল
হোক মৃত্তিকার চড়াই শরীর।
পথের ঠিকানা পথের বুকে
রাখুক সরলরৈখিক নিঃশ্বাস।
আজ তবুও হোক প্রতীক্ষার অবসান।।
      

ত্রিপুরার খার্চি পূজা


          - দীপক রঞ্জন কর
আগরতলা শহরের অনতি দূরে,
চৌদ্দ দেবতার বাড়ি খয়েরপুরে।
মন্দিরটি  হাওড়ার নদীর পাশে,
খার্চিপূজা হয় প্রতি আষাঢ় মাসে।

রাজন্য আমল হতে চালু ঐ প্রথা,
ত্রিপুরার ইতিহাস বলে এই কথা।
বাদ্য বাজনায় জাঁকজমক আড়ম্বরে ,
চৌদ্দ দেবতার মূর্তি উন্মোচন করে।

নিষ্ঠা,ভক্তি সহ বিধি অনুসারে,
রাজ চন্তাই মন্দিরে পূজা করে।
খার্চি ঐতিহ্যবাহী এক মেলা বসে
দূর দূরান্ত হতে পুণ্যার্থীরা আসে।

সাত দিনব্যাপী মূর্তি উন্মুক্ত থাখেন,
দর্শনার্থীরা দেবদেবী দর্শন করেন।
আলোর রোশনাই মন্দিরে চারিধার
দোকানপাট সাজে বেশ চমৎকার।

ত্রিপুরা জাতি উপজাতির মেলবন্ধনে ,
আনন্দের জোয়ার ঐ মন্দির প্রাঙ্গণে।

সমর্পিত জীবন


                       সঙ্গীতা গুপ্ত

শেষ রাত, নিস্তব্ধতার বিদায় 
ভোরের এক পশলা বৃষ্টির পর
অনুভবে রোদ্দুর,
বাতাসের আলিঙ্গন 
শুষ্ক পাতার খসে পড়ার শব্দ 
বাঁধনহীন হৃদয় 
 আকাশের রামধনু রঙ
ভালোবাসার আশ্রয়স্থল,
প্রেমের কাননে
মুক্ত বিহঙ্গের উচ্ছ্বাস ,
মন নির্ভয়ে পাখা মেলুক,
অসীম শূন্যে ভাসুক,
অন্তর্যামীর কাছে 
সমর্পিত জীবনের 
পূর্ণতা প্রাপ্তি হোক।


                    

সেদিন আবার দেখা হোক


                ✍🏼 মৌমিতা দাস 

সেদিন আবার দেখা হোক, 
যেদিন এই পৃথিবী হবে শান্ত।
তোমার আমার মাঝে থাকবে না,
আর কোনো বাধা দ্বন্দ।।
সেদিন আবার দেখা হোক,
যেদিন সুনির্মল বাতাস বইবে আকাশে।
সুনালি ডানা মেলে পাখিরা,
 উড়ে উড়ে ডাকবে চারিপাশে।।
সেদিন আবার দেখা হোক,
যেদিন তুমি চাইবে না আর পিছু ফিরে।
ভালোবেসে বাঁধবে বাসা,
আমার মনের ঘরে।।
সেদিন আবার দেখা হোক,
যেদিন রোদের আলো পরবে নদীর উপরে।
নদীর জমে থাকা শ্যাওলা গুলো,
ভেসে যাবে বহু দূরে।
সেদিন আবার দেখা হোক,
যেদিন আমার খোঁজে ক্লান্ত হবে।
ঘুম হারিয়ে গভীর রাতে,
আমাকে পাওয়ার কথা ভাববে।

নাবিক (২)


                    রিপন সিংহ 

তুমি তার নয় 
তুমি তার নয় 
তুমি তোমার 
তুমি তোমারই দেশের। 
সহজ নয় 
সহজ নয় 
এ' জীবন সহজ নয় 
রথের চাকার মতো
বিদায়ের ধ্বনির মতো 
ফিরে আয় 
আবার ফিরে আয়। 
এ' জীবন
ধেয়ে যায় 
শুধু ধেয়ে ধেয়ে যায়,
আর ফিরে না পাই 
তবুও তারে পাই 
কিন্তু কোথায়!

দাম


                 পৌষালী ভৌমিক

আমি দাম খুঁজি,
ল্যাম্পপোস্টের নীচে আলোতে নয়
আঁধারে চাপা পড়া শত শত চোখের,
নিকোটিনের ধোঁয়ায় যেখানে চারপাশ গুমোট
দীর্ঘশ্বাসের বাষ্পে বেঁচে থাকা এক প্রাণের।
আমি দাম খুঁজি,
আধপেটা গোল রুটির উষ্ণ ঢেঁকুরে
রেস্তোরাঁর উচ্ছিষ্টে জমে থাকা তৃপ্তির,
বৃষ্টির জল যেখানে খানিকটা বেশি ভেজা
মেঘ ছোঁয়া দু-কামরা ফ্ল্যাটের শীতল হাওয়ার।
আমি দাম খুঁজি,
একদলের প্রাইস ট্যাগে ছাপা মূল্যহীন অঙ্কে
দু-টাকায় কেনা অপরিণত স্বপ্নের মান কত?
অজানা নেশায় বন্ধ মস্তিষ্কের দোরগোড়ায়
অস্পৃশ্য একজোড়া হাতের কাঁচের চুড়ির দাম কত?


নারী তুমি বহুরূপী



           অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

নারী জাতি বিধাতার এক বিস্ময়কর উপহার। 
যত শক্তিশালী হোক না পুরুষ নারীর কাছে মানতে হয় হার।। 
কখনো বা স্নেহ দয়া মায়া মমতাময়ী রূপ। 
কখনো আবার সিংহবাহিনী রণ মূর্তি স্বরূপ।।
কখনও কখনও অসহায় অবলা শান্ত নীরিহ ছবি। 
  কখনো আবার বিষন্ন বদন কান্নার ভরাডুবি।। 
পছন্দের স্পর্শে জন্ম হয় প্রেম ভালোবাসা আর প্রণয়।
   অপছন্দের ছোঁয়ায় লাঞ্চিত হয়ে তিলে তিলে হয় ক্ষয়।।

বন্ধুত্বের ভাবনা


                ডাঃ রূপক পোদ্দার।

                    বন্ধু তুমি
             ছেড়ে গেছো বলে
           ছন্দ হারালো জীবন।
               এই কত ক্ষন
             না পেয়ে তোমায়
       ছন্ন ছাড়া ছিলো এ'মন।।

                  দেবী ছাড়া
               মোর দেবালয়
            শূণ্য ক্ষুন্ন পরে রয়।

               দেবীর আসনে
             রবে না তুমি যদি
   ভাবতেই মনের মাঝে ভয় হয়।।

                  কলি গুলি
             ফুল হবেনা ফুঁটে, 
      যদি না লাগে তব এ পূজায়।
                   বন্ধু তুমি
           নিত্য সেবায় থেকো
    পূর্নতা পাবে মোর দেবালয় আবার।।

                  তৃপ্ত পরাণ
              নব সাঁজে মোর
       উৎসব রসে ভরপুর মন।
                  পুস্প ঝরা এ
               শীতল সন্ধ্যায়
   উচ্ছ্বাস আনলো তব আগমন।।

                পাখী জোড়া
             মিলন গান গেয়ে
         ফিরেছে যে সবাই যার যার ঘরে।
                 চাঁপার মালায় 
              পরাবো যে তোমাকে
      উদ্দেলিত পরান,বন্ধু ওরে আমার।।

                 শুভ্র মেঘের
               নিষ্ঠুর এ বেলায় 
  এ'মন যে খুঁজছে তোমায় বহু প্রহর।
                  প্রসাদ সম
               এলে বন্ধু তুমি
দখিন হাওয়ায় পূন্য হলো এ'শহর।।

আষাঢ় আসুক


                  রেহানা বেগহেনা

আকাশ যখন তার নীরবতা ভাঙে
বৃষ্টি ঝরায় আমার উঠোন জুড়ে,
আষাঢ়ের কোন এক প্রভাতী বেলায়,
দুঃখগুলো যায় ধুয়ে ---
স্নিগ্ধ শীতল অঝোর ধারায়।
রুগ্ন শুষ্ক মাটি ফিরে পায় প্রাণ,
প্রাণভরে শ্বাস নেয় এক-প্রকৃতি,
খিলখিল করে হেসে ওঠে
ছোট্ট ছোট্ট দূর্বা শিশুদল,
আনন্দে নেচে উঠে দোল খায় ফুল শিশুরাও।

থৈথৈ জলরাশিতে ভরে ভরে ওঠে
নদী নালা খাল বিল
অবিরাম চলে মাছেদের খুনসুটি।

বর্ষা তাই প্রিয় সকলের,
আমারও।
আষাঢ় আসুক,
আষাঢ় থাকুক কিছু সময় আমাদের মাঝে,
আপন করে, নিবিড় ভাবে,
আষাঢ় ধুয়ে নিয়ে যাক -
প্রকৃতির বুকে জমে থাকা আবর্জনা, বিষাক্ত ধুলিকণা।
সাথে করে নিয়ে যাক -
মানুষের মনে জমে থাকা 
অমানবিকতা, হিংসা বিদ্বেষ
জাতপাত ধর্মের ভেদাভেদ।
শুদ্ধ করে দিক আষাঢ়ের জল 
মানুষের মন মনন চেতনা বিবেকবোধ।

আষাঢ় আসুক এমনি করে বারে বারে
প্রতি বছর আমাদের দেশে - পৃথিবীর বুকে।
শীতল ধারা ঝরুক অবিরত পৃথিবীর শুষ্ক ত্বকে।

আষাঢ় কভু কেড়ে না নিক-
নদীপাড়ের কৃষকের জমি, গরিবের ঘর,
অসহায় মানুষের শেষ সম্বল।
আষাঢ় আসুক বারে বারে, ঘুরে ঘুরে
প্রকৃতির ঘরে, নতুন করে।

জল পতনের শব্দ



                   অনুরাগ ভৌমিক 

(১)
জল পতনের একটা নির্দিষ্ট শব্দ আছে। ভাষা আছে।জলের শব্দ শুনে দীপক বুঝতে পারে এই মুহূর্তে মিলি অবগাহনে ব‍্যস্ত।অন‍্যমনস্ক হলো সে।সাবান হয়ে রইলো অনেক্ষণ...
সোফার উপর পর্যন্ত পৌঁছে গেল জল।সারা ঘর ভেসে যাচ্ছে জলে।একসময় সমস্ত জল দীপকের চোখে ঢোকে যায়।এখনই মিলি বেরিয়ে আসবে।চোখে চোখ পড়লে কী হবে?দীপক কী তার দিকে তাকাতে পারবে?আর মিলি?
ভাবছে নিরবে পালিয়ে যাবে।
(২)
দেখতে দেখতে তো পেরিয়ে গেছে অনেক বছর।সময় সময়ের গায়ে লীন হয়ে যায়, আর ফিরে আসেনা।যে রাতে মিলির বাড়িতে বিসমিল্লা খানের সানাই বাজলো তার পরের দিনই দীপক সব ছেড়ে চলে আসে এই শহরে।প্রায় দশ বছর। সেই থেকে টিউশনি করেই দিন চলছে।ছোট্ট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে হেসে খেলে।বিশাল কিছু করবে এমন ইচ্ছে আর নেই।চলে যাচ্ছে একরকম।সন্ধ্যার পর স্থানীয় মন্দিরে ভাগবত বা গীতা পাঠ শুনে,হরি সংকীর্তন করে,ঠাকুরকে ডাকে। ঘরে ফিরে রান্না,তারপর খেয়ে দেয়ে একটু পড়াশোনা করে ঘুমের কোলে ঢলে পড়ে।এই ভাবেই চলছে জীবন।মাঝে মাঝে জীবন বড় অদ্ভূত লাগে তার।
(৩
গতকালের 'আমি' আর আজকের 'আমি' পূর্ণ আলাদা যেন।দীপক নিজেকে দিয়েই ভাবে।দৃঢ় প্রতিজ্ঞ সে আর কামনা বাসনায় ডুববে না।ঈশ্বরের কাছে শুধু প্রার্থণা করে জ্ঞান দাও,ভক্তি দাও,সাহস দাও,বুদ্ধি দাও,মুক্তি দাও।ধীরে ধীরে বুঝতে পারে এই জাগতিক জগতে মানুষ আসে জ্ঞান ভক্তির দ্বারা নিজেকে জানার মাধ্যমে ব্রক্ষ্মকে জানতে,তাঁকে পেতে,তাঁর সাথে মিশে যেতে।ঈশ্বর অভিমুখে যাওয়াই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।তবুও মাঝে মাঝে যখন একা একা অলস সময় কাটায় মিলিকে তার খুব মনে পড়ে।মিলি পাশে থাকলে বোধহয় জীবনটা অন্য রকম হতো...
(৪)
প্রথম প্রথম ভাবতো একটা চাকরি পেলে ভালো হয়। ধীরে ধীরে সেই বাসনাও মন থেকে মরে যায়।
একটা চাকরি না থাকাতে দুজন আজ এতো দূরে।মিলিও মা বাবার অজুহাত দেখিয়ে সরে যায়।কখনো কখনো মনে পড়ে,মনে পড়ে একটা তুচ্ছ চাকরি, অদ্ভুত লাগে দীপকের।প্রেম থেকেও চাকরি অনেক বেশি প্রয়োজন?

পার্কের নিরব বসার টেবিলটার কথা ভুলে নি আজ ও।অনেক্ষণ বসে ছিলো দুজনে।মিলি বার বার বলেছে-"তুমি একটা ছোট চাকরি পেলেও বাবা রাজি হতেন।"
"আর তুমি? চাকরি নেই বলে চলে যাচ্ছ?
এতোদিনের ভালোবাসা,স্বপ্ন, সব মিথ্যে হয়ে গেলো সামান্য চাকরির কাছে?"মিলি নিরুত্তর।সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। দু ফোঁটা চোখের জল  বিদায় অঞ্জলী দেয় মিলিকে।শেষ বারের মতো মিলি ক্ষমা চেয়ে নিলে দীপক শুধু বলে " ভালো থেকো।"
(৫)
দূর থেকে যেমন ই মনে হোক মানুষ এ জগতে একা। মানুষ এই একাকিত্ব কাটতে কাটতে এক সময় পৃথিবী থেকেই হারিয়ে যায়।
মা বাবাকে ছেড়ে, জন্মগ্রাম ছেড়ে,খুব কষ্টে কাটতো দিন।তারপর সব একসময় যেমন সয়ে যায়, দীপকের ও সয়ে গেলো। তবু স্বপ্নে প্রায়ই আসে মিলি। তার শ্বাস টের পায়।কী যেন বলতে চায় মিলি বলতে পারেনা।ঘূর্ণিঝড়ের মতো কিছু এসে পরস্পর কে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।এক অজানা বনে খুঁজতে থাকে অপরকে...

ওয়ালে ঝুলানো ছবিটার দিকে আবার তাকায়।মিলিকে গোলাপি রঙের শাড়িতে ভীযন মানিয়েছে।মনে হয় এইতো সেদিনের সব অভিসপ্ত দিন।
"আংকেল তুমি আমাকে পড়াবে?"
দীপক ছোট্ট মেয়েটির দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে আছে।একদম মিলির আদল।সে কী বলবে,'হ্যাঁ' এইটুকুই সংক্ষিপ্ত জবাব তার।এবার তো মনে হল পালিয়ে যাবে।"তোমার নাম কী"মেয়েটির উত্তর "মৌলি"
"কোন ক্লাসে পড়?"
"ক্লাস টু।
"কোন স্কুল"
"ডনবসকো স্কুল"
"বাঃ দারুন।"
"ওই যে ছবিটা,ওরা তোমার কে হন"
"ওইটা আমার মা আর ওইটা আমার বাবা।"
এমন সময় স্নান ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন বছর প্রায় ত্রিশ/বত্রিশ 
হবে এক মহিলা।না মিলি না। দীপকের বুকটা মোচর দিয়ে ওঠে। কিছু ভাববার শক্তি হারিয়ে ফেলে।এমন সময় 
তিনি হাসি মুখ করে বলেন,"ও এসেছেন আপনি?
আমিই আপনাকে ফোন করেছিলাম ।ও আমার দুষ্টু মেয়ে  ওকেই পড়ানোর কথা বলেছি।"
দীপক একটা  নিঃশ্বাস ফেলল।
"ওর সাথে পড়ে আদৃজা,ওই আদৃজার মা-ই কথায় কথায় বলেছে ওকে নাকি আপনি পড়ান। তার কাছ থেকেই আপনার নম্বর পেয়েছি।"
ছোট্ট মেয়েটি  দৌঁড়ে কাছে গিয়ে বলে "মামণি আজ নয়,কাল থেকে পড়বো।""আচ্ছা ঠিক আছে,আগে স্যার তো রাজি হোক।"
"তাহলে স্যার আপনার টিউশন ফী বা কবে থেকে আসছেন ফোনে জানিয়ে দেবেন প্লিজ।"দীপক কোনো প্রকারে সম্মতি জানিয়ে একটা প্রকান্ড পাথর বুকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়...

রাজনীতি

✍️ দ্বীপ্তনু দে

এ আবার কেমন গনতন্ত্র ভাই যেখানে
চিন্তার অমিল নেই,
ক্ষমতায় যে ই আসুকনা কেন,
সর্বসাধারণের পাশে তো কেউই নেই।

যে জানেনা সেও হয়ে যায় রাজনীতিবিদ,
ক্ষণিকের জন্য,
যদিওবা ফলাফল ঘোষণার পর,
থাকেনা তার কোনো প্রাধান্য।

জয়ের লেলীহান শিখায় যেন না ঢাকা
পড়ে পরাজয়ের চিৎকার,
কারন গনতন্ত্র সর্বসাধারণকে দেয় মাথা
তুলে বাঁচবার অধিকার।

রাজনীতি না হয় থাকুক রাজনেতাদের হাতে,
আর ভালোবেসে, হাসি মুখে, বাঁচার বুদ্ধি
থাকুক আমার আর তোমার হাতে।

সম্পাদকীয়


✒️সম্পাদকীয়...

                   
            সময় যাক না সব একাকী চলে
 তারপর আসবে একদিন আর ডুববো কাজলে।


নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার মার্চ মাসের ই সংখ্যা রাজ্য, বহিঃরাজ্য, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের কবি, লেখক, সাহিত্যিক বৃন্দের কলমে ফুটে উঠেছে। এই তপ্ত দুপুরেও কঠোর পরিশ্রমে যারা পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে খেটে চলেছে, আমরা এই সংখ্যাটি সেইসব মেহনতি বন্ধুদের সমর্পণ করলাম। 

ভারতবর্ষের উত্তর পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্য আমাদের ত্রিপুরা । শিল্প, সাহিত্য, ঐতিহ্যে আমাদের ত্রিপুরা সবসময়ই সমৃদ্ধ। আর সেই ভাবধারা অব্যাহত রাখতে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকার আমূল অগ্রগতি অত্যন্ত লক্ষনীয়। 
এই পথে ত্রিপুরার নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকা রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নাম। আমরা মন খুলে স্বাগতম জানাই নব চিন্তাকে, নব সৃষ্টিকে, নব ভাবনাকে। 

শ্রী গৌরাঙ্গ সরকার মহোদয়ের হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই ব্যাতিক্রমি সাহিত্য পত্রিকার পথচলা। শ্রী গৌরাঙ্গ সরকার মহোদয়ের সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ, ভালোবাসা তথা মাতৃভাষার প্রতি দায়িত্ববোধের ফলই এই নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকা।
পাশাপাশি শুভাকাঙ্খিদের থেকেও সবসময় সহযোগিতা আর উৎসাহ পেয়েছি ৷ তাই সবারকাছে আমরা চিরকৃতজ্ঞ ৷ নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার সম্পূর্ণ কমিটির সদস্য, সদস্যার বৃন্দের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল এই সংখ্যাটি। অনেক ধন্যবাদ জানাই তাদেরও।

আমরা অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই যারা যারা এই সংখ্যার সাথে জড়িত ছিলেন। এই সংখ্যাটি যদি সবার কাছে ভালো লাগে তাহলেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক বলে বিবেচিত হবে ।

ধন্যবাদান্তে,
কার্যকরী সম্পাদক 
শ্রী পান্থ দাস 
নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকা

বুকের বাঁধন

✍️ কলমে : - রণদীপ সিংহ -------------------- 

জল ভরা মেঘ ভাসে সুদূরের ঐ আকাশে , 
আমরা ক ' জন বসে আছি রেল লাইনের পাশে । 
খানিক দূরে ঐ দেখা যায় নিশ্চিন্তপুরে র স্টেশন , 
ক ' দিন বাদেই হবে যার শুভ উদ্বোধন ! 
ও পাড় বাংলার বুক চিরে এ পাড় বাংলায় গমন । 
লাখো লোকের আশা বুকে আসবে সন্ধিক্ষণ ।
দুই বাংলার ই রক্তক্ষরণ সাতচল্লিশের পর !
কে সে ছিল মীরজাফর কোন্ সে যমের চর ?
হৃদপিন্ড কেটে ভাগ করেছে বিশ্বাসঘাতকের দল,
বুকের মানুষ হারিয়ে গেছে আজ --- আঁখি টলটল !
মনের মানুষ প্রাণের মানুষ আর কি তারে পাবো ?
বুকে টেনে জড়িয়ে ধরে হৃদয় জুড়াবো ।
রসুল আল্লা খোদা তালা হে পরম ঈশ্বর ,
প্রাণে প্রাণে এক করে দাও নই তো মোরা পর ।
আবার আমরা এক হতে চাই একই মায়ের সন্তান ,
' ধর্ম ' আপদ বিদেয় হোক ভাই - ভাই হিন্দু মুসলমান ।
---------------------

সন্ন্যাসী টিলা

✍️ ---গোপা রায় 

প্রতিদিন প্রহরের ভাঁজ খুলে জেগে
থাকে সন্ন্যাসী টিলা,
জেগে থাকে এক বুক শূন্যতা বুকে ধরে।

একদিন সন্ন্যাসী রোদ মাখতে 
গৃহস্থ হৃদয় নিয়ে এসেছিল কবি।

বেল বৃক্ষের শরীর ছুঁয়ে নতজানু
হয়েছিল জটাধারী বিগ্রহের কাছে।

মাঝে মাঝে কৌপিনধারী খন্ড মেঘ
লাল শালু পথে নেমে আসে
মহাশূন্য থেকে,
এ পথে বসন্ত বিছায়-- জীবনের সংলাপ রাখে।

রঘুনন্দন জানে সে ইতিহাস,শামসের স্মৃতিকথা।

ফেনীকে দিন শেষের পঙক্তি সাজাতে
দেখেছিলাম পশ্চিমের ঘাটে,
এমন মায়াবী রূপ দেখতে দেখতে
আমিও নদী হয়ে ছিলাম সেদিন। ------------

ইচ্ছা

✍️ মৌসমী শীল

কিরে কোথায় যাস।
পুকুর পাড়ে কাটতে বাঁশ।।
বাঁশ দিয়ে কী করবি ?
বেচব হাটে কাল।
কিনব ভাল জাল।। 
জাল দিয়ে কী করবি।
ধরব মাছ ঝাঁকি ঝাঁকি।।
মাছ দিয়ে কী করবি?
বেচব হাটে কিনব শাড়ি।
দিদি কে দিব পাটের শাড়ি।
মাকে দিব রঙ্গিন হাড়ি।।

পিতামহ তোমার প্রতি

✍️ জহর দেবনাথ

পিতামহ
তুমি তো ধর্মের পক্ষে সত্যের পথে
চলবে বলে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হয়েছিলে
তুমি শপথ করেছিলে
আর কোন পাঞ্চালি কে লাঞ্ছিত হতে হবে না
কোন অসহায় দুর্বল আর বঞ্চিত হবে না---

পিতামহ বুঝলাম
কলির মহাভারতে তোমার ব্যক্তিত্ব আজ
একদম তলানিতে
তোমার স্বপ্নের ধর্ম রাজ্যে আজ
অ-ধর্মের ছড়াছড়ি ধর্মের বেসাতি
আর
স্বৈরাচারী তা আজ পরাক্রমশালী

পিতামহ তোমার স্বপ্নের ধর্ম রাজ্য যে
অধর্মের
দাপাদাপি স্বৈরাচারীতার মাতা মাতি
তোমার প্রিয় প্বার্থ আজ গান্ডীব ছেড়ে
শিখণ্ডি হয়ে বসে আছে

তোমার প্রতিজ্ঞা যে আজ ভূলুণ্ঠিত
শ্বরশয্যা ছেড়ে তোমাকে আবারো উঠতে হবে
তোমার প্রিয় প্র-পুত্র পুত্রি দের হাতে
তুলে দিয়ে যাও তোমার লড়াই এর সেই
চূড়ান্ত বজ্র অস্রটা।

রিমেল

✍️ গোবিন্দ ধর

আমার শহর কুমারঘাটে
এসছে রিমেল ঢুকছে ঘরে।
আমরা আছি কর্ণাটকে
মন ভালো নয়,অল্পাহারে।

দুদিন কেমন লণ্ডভণ্ড
আঘাত আনলো ঘরদোয়ারে
পথে ঘাটে জল থইথই
জল থইথই পুকুরপারে।

রাস্তাঘাটে ক্ষেতে-মাঠে
পড়ছে ভেঙে গাছগাছালি।
আমার শহর কুমারঘাটে
চলছে জোর জোড়াতালি।

রিমেল এখন চলে গেলেও
ভয় ঢুকেছে লোকের মনে
ঘূর্ণিঝড়ে জলোচ্ছ্বাসে
ভয়ে ছুটে পশুও বনে।

প্রজন্ম পূর্ণিমাকে

✍️ অর্পিতা দাস

পথ চেয়ে বসে থাকা ,
সঞ্জীবনীর মতো শত শত ছন্দ।
ভেজা মাটির গন্ধে আলতো হাসিতে হারানো মন,
ঝরা কৃষ্ণচূড়া আর অমলতাসের
পাপড়িতে ছুঁয়ে যায় অনুভূতি।
তোমার ভিড়ে সৃষ্ট কবিভাবনা,
অস্থির সুরে বেজে যায় প্রেমের স্রোতে

শোকাহত শহরের সবুজ প্রকৃতি
বিষন্ন চোখে হয় অশান্ত নদী।

হাহাকার করা সপ্তরঙছটা
নিঃস্ব অন্ধকারাছন্ন নিঃশ্বাসে কেউ ভাবে না-
"যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে
তবে একলা চলো রে"
তোমায় ঘিরে সব ছন্দ আসুক
পূর্ণিমার চাঁদের হাসি হয়ে.......

মানুষ হতে দিন

✍️ কলমে - পৌলমী চক্রবর্তী

যে ব্যক্তি স্পষ্টবাদী
তার কটাক্ষ নাই বা করলেন।
সত্য কে যে বরণ করে
তার পাশে একটু থাকেন ।
সৎ সংকল্প , সৎ চিন্তা
যে ব্যক্তির মস্তিষ্কাধীন।
মানুষ যে হতে চায়
তাকে মানুষ হতে দিন ।
অন্যায়ের প্রতিবাদ করা
যে ব্যক্তির রক্তে মেশানো।
তার পথ রোধ না করে
আপনি না হয় তার সঙ্গে গর্জে উঠুন ।
মিথ্যার পূজারী না হয়ে
যে ব্যক্তি সত্যের কান্ডারী হন।
মানুষ যে হতে চায়
তাকে মানুষ হতে দিন।
যে ব্যক্তি ন্যায় কে খুঁজতে
আটকে গেছে গোলক ধাঁধায়।
আপনি না হয় তার বন্ধু হয়ে
গোলক ধাঁধার দ্বার খুলেদিন ।
অসৎ ব্যক্তির মুখোশ খুলা
যার পরম ধর্ম হয় ।
মানুষ যে হতে চায়
তাকে মানুষ হতে দিন ।

ডানা ভেজা পাখি

কলমে ✍🏻 মৌমিতা দাস

কখনো যদি আকাশে জমে কালো মেঘ,
আর আমার বুকের ভিতরে নামে অঝোরে বৃষ্টি।
তখন যদি আসে এক ঝাঁক ডানা ভেজা পাখি ,
আশ্রয়টুকু চায় আমার ঘরে।
তবে আমি কি-
ফিরিয়ে দেবো তাকে অতীতের ঘরে ?
মন বলে আজ , আসুক পাখির ঝাঁক।
ঠোঁট দিয়ে ঠুকরে ঠুকরে,
ভেঙ্গে দিয়ে যাক আমার নিরবতা।
থেমে যাক বুকের ভিতরে ওঠা বৃষ্টি,
সব ধুয়ে মুছে হোক নতুনের সৃষ্টি।
ক্ষতি কি যদি আজ আমিও চাই যেতে,
ডানা ভেজা পাখিদের সাথে।

মাধবী প্রভঞ্জনে

✍️ কৃষ্ণ ধন শীল

মাধবী প্রভঞ্জনে---
রঙ্গনে রঙ্গনে মধুপের মাধুরী,
অতল নদীতে মনোরমা লহরী,
নবীন কিশলয় ভরা বিটপীর শাখে,
মধুসখা ডাকে কেবল শাখীর কাঁখে।

মাধবী প্রভঞ্জনে---
চৈতি ঝর নামে উড়িয়ে ধুলোবালি,
কালো যবনিকার অহমিকার পালী,
তৃণাঙ্কুরে সঞ্চারে রস নির্ঝর ঝর্ণা,
সেজে ওঠে ধরণী পাহাড়ী সুপর্ণা।

মাধবী প্রভঞ্জনে---
অঞ্জনে অঞ্জলি ধরায় কেবল সুধা,
মহীরূপে দূর হয় জীবের মনন ক্ষুধা,
আসে বাসন্তী যে পাড়াগাঁয়ের মাঠে,
রস নানা যায় ভরে নিত্য সভার হাটে!

গাহি তব জয়গান

✍️ সংহিতা ভট্টাচার্য

তুমি বিদ্রোহী মহা বিদ্রোহী নজরুল...
বিশ্ব তাকিয়ে তোমার পানে মশগুল।
তুমি মানবতার পূজারী করো সাম্যের গান।
কান্ডারী! লহ প্রণাম তুমি, জাগো হে মহীয়ান।

তোমার মহান সৃষ্টি সম্ভার ভূভারতের সম্পদ,
বাঙালির হৃদয়ে তুমি মহীয়ান, তুমি শ্রদ্ধাস্পদ।
তোমার শানিত কলমের আঁচড় ছুঁয়ে যায় মনপ্রাণ
রচিয়াছো কতো বিরহ ব্যথা অভিযোগ অভিমান।

দ্রোহের কবি সাম্যের কবি তুমি চির নির্ভীক উদার,
ঈশ্বর প্রেরিত মানব তুমি প্রেমের স্নিগ্ধতায় এনেছো জোয়ার।
অকূতভয় উজ্জ্বল তুমি বাঙালির হৃদয় মন্দিরে
জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাই প্রণাম করজোড়ে।

নই বাপের আবদারী কন্যা

✍️ লক্ষী পাল

উদারমনা বাবার কাছে যা করতাম আবদার,
চেষ্টা করত প্রাণপণ সকল চাহিদা মেটাবার।
কখনো প্রয়োজনে টাকা পয়সা চাইতাম যত,
তার থেকে বেশি টাকাই বাবা আমায় দিত।

বাড়তি টাকা থাকলেও সেটা রাখতাম জমিয়ে,
প্রয়োজন মত খরচ করতাম সে টাকা বাঁচিয়ে।
বিভিন্ন পোশাকে দেখতাম অন্যদের পড়নে।
তবু মনে আবদার করা ছিল না আমার ধরনে।

শিক্ষার মাঝে বাবার মতে গেলাম অন্য ঘরে,
লেখাপড়াটাও চালাতে পারিনি আবদার করে।
হয়তো বাপের আবদারী কন্যা হলেই ভালো।
জীবন স্বাদ অনুভবে,থাকে না আগোছালো।।

ইঙ্গিত, আকার

✍️ অমিত সরকার

কিছু সময়কে ভূলতে চেয়ে ডাইরীতে
ইঙ্গিত করে রেখেছিলাম ।
ভেবে ছিলাম এই সময় গুলি জীবনে
আর কোন দিন দরকার হবে না ।
বছরের পর বছর জল গড়াতে গড়াতে
জীবন যখন সমুদ্র পাড়ে,
সেই ভূলে যাওয়া ইঙ্গিত যেন টেউয়ের
সাথে সাথে আমার কাছে এসে ।
আঁড়ি না মিতালী বুঝতে পারছি না কিছু,
আসলে কোনটায় নয়।
একটু দাঁড়িয়ে থেকে সে টেউ আবার
মিশে টেউয়ের সাথে,
আমি শুধু ইঙ্গিত গুলিকে আকারের
মতো হয়ে যেতে দেখলাম,
ইঙ্গিত ছোট ছিলো লুকিয়ে রাখতে কষ্ট হলেও,
লুকিয়েই রাখা ছিলো।
আকার তো অনেক বড় লুকিয়ে রাখা গেলো না,
বরং এক আকার থেকে অনেক গুলি
ইঙ্গিতের জন্ম নিলো ।

অগ্নির নজির

✍️ -পান্থ দাস

তুমি ছিলে
হাজারো কবির প্রেরণায়,
তুমি ছিলে
হাজারো সঙ্গীতের স্রষ্টায়,
তুমিই ছিলে
প্রতিবাদের প্রথম সুরের ধারনায় ৷

বাংলার বুকে
হয়েছিলে হাজির 
নাম যার বিদ্রোহী কবি,
ধূমকেতুর মতোই
অগ্নির তুমি নজির
গড়েছিলে এমনই অগ্নিবীণার ছবি।

একটি দিন খুঁজে পাই না

✍️ গোপাল বনিক

ভেসে যায় সোনালী দিন
ভেসে যায় দুরন্ত শৈশব...

যে স্নেহমাখা আঁচল দিয়ে মুখখানি মুছে দিতো মা ,
সে মুখে আজ সংসার যাতনার ছাপ !

স্মৃতির পথ ধরে ভেসে আসে আরও কত স্মৃতি

গোল্লাছুট
'বুড়ি চুরি ভাই-চিড়া দুকি খাই'
সবই ইতিহাসের পাতায় ।

এখন শুধুই
গড্ডালিকার স্রোতে গা ভাসিয়ে
চাল নুন তেলের চাহিদা যোগান দেওয়া ।

বলতো
গান গপ্প আড্ডা সিকেয় তুলে
পুরুষের মতন নির্বিবাদ প্রাণী আর কে আছে?

নারী দিবসে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়
আত্মপ্রচার বিমুখ পুরুষের জন্য
কোনো একটি দিন যে খুঁজে পাই না !

সোহাগ

✍️ কলমে : সুখময় মুড়াসিং 
জানু, তোমাকে এক পলক
দেখব বলে রোজ ঘাটে
আসি,
তোমার প্রতীক্ষায় অধীর তৃষ্ণাত্ব
আমি নিঃস্ব নিস্পলক চাতক
পাখি ।
তুমি গুলবাগিচায় আমি তপ্ত
অরুন কায়ায় পরাগ রেণুর
আশায় ,
তুমি ক্ষীপ্র আমি শ্লথ
তুমি দু'তলায় আমি একতলার
আলসিয়ানায় ।
তোমার হাসির সুর ছন্দে
কৃষ্ণচূড়া আগুন ঝরায়
সানন্দে,
কলির কেষ্ট বিহাগ রাগে
বজায় বাঁশের বাঁশি শুধু
বৃন্দে।
নিশীথে ফোঁটা পাপড়ি গুলি
ছিঁড়ে ফেলি বাসি হবার
আগে ,
তপ্ত অরুণে ধরিত্রীর বুকে
শুকিয়ে পড়ুক কলঙ্কিনী হবার
আগে।

স্বস্তি

✍️ সঙ্গীতা গুপ্ত 
মধ্যরাত্রি অতিক্রান্ত ,
ঘুমন্ত দুটি চোখ ,
কী কালো অন্ধকার চারপাশ
অবচেতন মনে চোখ থেকে গড়াল,
টপটপ করে কান্নার জল
যে কান্না নিয়ে ঘুমিয়েছিলাম,
চেতনায় অপমান লাঞ্ছনার জবাব
দিতে পারি না,
ঘুম যেন সেই যন্ত্রণার মুক্তি।
চেতনায় আত্মহননের কষ্ট,
অবচেতনে আত্মসমর্পণের স্বস্তি।

কেউ শুন‍্যহাত ধরে না

✍️ শ্রীজনার্দন
অজস্র সংশয়ের গ‍্যাড়াকলে আমি
বন্দী হয়ে আছি,
সেই রাতভোর থেকে নিশীথের
অন্ধকারে।

সন্ধ‍্যার আকাশ ডুবন্ত,
মেঘেরা ঢেউ খেলছে এদিক থেকে
ওদিক ;
বৈশাখীর একছটা গরমে নাজেহাল
হয়ে দিন কাটানো,
যেনো এক অস্বস্তির কারাবাস।

ধারালো কথাগুলো এখন,
আগের মতো তোড়ফোড় করে দিতে
পারে না;
সেকাল থেকেই সবকিছু অবগত,
কেউ কারো নয়,
শুধু মেকিপ্রেমের বিলাপ।

কৃষ্ণচূড়া এখন আর আগের মতো
প্রেমের ছবি আঁকে না,
রাজপথে এখন সে প্রায়শই অদৃশ্য 
বৈরাগ‍্যভরা আকাশের মতো
অষ্টাদশীরা,
এখন আর শুন‍্য হাত ধরে না;
শক্ত হাত ধরে এগিয়ে যেতে চায়।

লোকে বলে অনন্তপ্রেম!
আমি বলি,
অনন্তপ্রেম বলতে কিছু হয় না,
সবকিছু প্রয়োজনের খেলা;
শুন‍্য হাতে হয় না কোনো প্রেম;
প্রেম শুধু দেয়া নেয়ার খেলা।

অণু কবিতা

✍️ জয়িতা দে
১) প্রতিনিয়ত পেরেক গেঁথে চলেছি
রক্তাক্ত হৃদয়ে, রয়েছে সীমাহীন প্রেম,
যা তুমি দিয়েছিলে আমায় নিঃশেষে।
সেই প্রেমসুধারস বক্ষে ধরে
ভুলে যাবো সকল আঘাত।

২) তোমায় ঘিরে স্বপ্ন দেখি
এক ভালোবাসাময় নীড়ের।
তাই তো আমি হাঁটি শুধু
তোমায় নিয়ে কল্পনার পথে।।
হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ার দমকে
ভেঙে যায় সব স্বপ্ন।
চেয়ে দেখি তুমি নেই আর
আমাকে আগলে রাখার জন্য।।

৩) প্রিয়, কিভাবে ভুলি বলো তোমার
সেই স্নিগ্ধ ভালোবাসা আর যত্ন।
গভীর রাতে স্বপ্নেরা দেয় হানা
তোমায় নিয়ে ঘেরা মধুর স্মৃতি সৈকতে।

নিশাচর

✍️ অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

রাতদুপুরে নিশাচর পাখীর ডাক
রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারকে আরও ঘন
নিবীড় করে তুলে।
দূর দূরান্তের ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র অণু পরমাণু শব্দ

সজোড়ে আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করে।
খোলা আকাশের নিচে এক নিস্তব্ধ পরিবেশে
গাছের ডাল বেয়ে চাঁদ আর
জোনাকির আলো আধাঁরি খেলা।
ভয়াল জনাকীর্ণ একাকীত্বে আমি ঠাঁই
দাঁড়িয়ে চৈতের রাত দুপুর বেলা।।
মুহুরী নদী থেকে আসা উত্তরের
হাওয়া ছুটে চলে শো শো শব্দে গ্রাম
ছাড়িয়ে অন্য গ্রাম।
চারিদিকে শুধু ভয়াল করুণ আর্তনাদ।
অপেক্ষা শুধু নতুন সূর্যোদয়ের এক
নতুন ভোরের।।

নীল দরিয়ার মাঝি

✍️ কলমে- বিজয়া শর্মা
 বৈঠা ধরে ডাকছে আমায়,
নীল দরিয়ার মাঝি।
প্রবাল দ্বীপের জলধ্বনি,
বাতাসে উঠেছে বাজি।
ও মাঝি ভাই, ও মাঝি ভাই,
কোথায় তুমি যাও!
এমন সুন্দর গানগুলি সব,
কোথায় খুঁজে পাও।
তোমার গানে জুড়ায় মন,
ঘুচায় প্রানের ব্যাথা।
তবুও কেন লিখছি আজও,
অধরা প্রেমের কথা।
মেঘ তরঙ্গ কেটে কেটে,
ভাঙবে জানি বাঁধ।
নীল দরিয়ার মাঝে সে,
পূর্ণ একখান চাঁদ।
ঘুচবে আঁধার, ঘুচবে কালি,
জোৎস্না মাখা চাঁদে।
তুমিও আবার পড়বে জানি,
অধরা প্রেমের ফাঁদে।

নয়ন-তাঁরা

✍️ মৌমিতা সিংহ
প্রাতরাশ সেরে সোফায় বসে খবরের কাগজটা হাতে নিতেই চোখে পড়ল "তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী- তাঁরা ভট্টাচার্য”। হতভম্ব হয়ে গেল নয়ন। প্রায় চল্লিশ বছরের পুরোনো স্মৃতিগুলি যেন আবার জীবন্ত হয়ে কিছু বলতে চাইছে।

তাঁরা তখন এগারো বছরের কিশোরী। একদিন না দেখলেই প্রানটা যেমন দেহ থেকে আলাদা হয়ে যেত। তেরো বছরের কিশোর নয়ন বিকেলে ঘুম থেকে উঠেই পৃথা, বল্টু আর অম্বরীষকে নিয়ে তাঁরার বাড়িতে আড্ডা দিতে চলে যেতো।তখন সবার স্কুলেই গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছিলো।তাই সকলে মিলে দিনগুলো খুব মজা করে কাটাচ্ছিলো।পৃথা ছিল নয়নের একমাত্র ছোট বোন। পৃথা আর তাঁরা একই ক্লাসে পড়তো। বল্টু আর অম্বরীষ ছিল নয়নের সবথেকে কাছের বন্ধু। মাঝে মাঝে নয়নের দাদা সোমও তাদের সঙ্গে খেলা আর গল্পের আড্ডায় যোগ দিতো। নয়ন এবং তাঁরা উভয়ের বাবা-ই সরকারী কর্মকর্তা।এই সুবাদেই তাঁরার সাথে নয়নের দেখা।তখন নয়ন পাঁচ বছরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র।আর তাঁরা তিন বছরের শিশু কন্যা।ছোট থেকেই একসাথে বড়ো হয় দুজনে এবং দুজনার মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। পরবর্তীতে বল্টু আর অম্বরীষের সাথেও তাদের বন্ধুত্ব হয়। বিকেলে তাঁরার হাতে বানানো একগ্লাস সুস্বাদু কাঁঠালেন জুস খেয়ে সকলে মিলে মাঠে চলে যেতো।বিকেলে খেলার জন্য পাওয়া কিছুক্ষণের এই স্বাধীনতাটাই যেন ছিল সারাদিনের একটা অত্যন্ত প্রিয় মুহুর্ত।তারা সকলেই খুব মজা করে কানামাছি, পুতুলের বিয়ে,কাবাডি ইত্যাদি মজার মজার খেলা খেলতো। এভাবেই ছেলেবেলার দিনগুলি ভীষন আনন্দে কাটতে লাগলো।

একদিন সকলে মিলে পরিকল্পনা করলো পুতুলের বিয়ে না দিয়ে নিজেদের মধ্যেই বিয়ে বিয়ে খেলবে। আর যে যার সাধ্যমতো কেউ চাল, কেউ ডাল, কেউ ডিম,কেউ হাঁড়ি ইত্যাদি নিয়ে আসবে। এই ফাঁকে তাদের বহুদিনের একসাথে বনভোজনের ইচ্ছেটাও পূরণ হবে। দিনটি ছিল রবিবার। সকলে মিলে সেদিন সকাল থেকেই লেগে গেল এই বিরাট আয়োজনের জন্য। সবকিছু তৈরী হয়ে গেল। এইবার বিয়ের পালা। এক্ষেত্রে বর নির্বাচিত হলো নয়ন, অপরপক্ষে কন্যা হিসেবে নির্বাচন করা হল তাঁরাকে। আর বাকিরা সকলে ভাগাভাগি করে বরপক্ষ আর কন্যাপক্ষের দায়িত্ব বেছে নিল। খুব ঘটা করে বিয়ে হলো। বিয়ের পরে বনভোজনের অনুষ্ঠানটাও হলো ধুমধাম করে। সেদিন সকলে মিলে ভীষন আনন্দে কাটালো। এই দিনটা ছিল নয়নের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান মুহুর্ত। শুভদৃষ্টি, মালা বদল থেকে শুরু করে বিয়ের সব রীতি মেনেই বিয়েটা সম্পন্ন হয়েছিল। সেইদিন খেলার পরে সকলেই যে যার বাড়ি চলে গেলো। কিন্তু নয়ন সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো। তাঁরা চলে যাওয়ার পর থেকে কেমন যেন এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়ে গেলো। তাঁরাকে ছাড়া নিজেকে যেমন শূন্য মনে হচ্ছিল।সেদিন একটা আলাদা অনুভূতিই মনে বাসা বাঁধ ছিলো। রাতে অনেক চেষ্টা করেও নয়ন ঘুমোতে পারলোনা।চোখ বন্ধ করলেই যেন তাঁরার মায়াবী দুটি চোখ আর মন মাতানো হাসিটা স্পষ্ট দেখতে পায়। নয়নের জীবনে প্রেম প্রথম বারের মতো কড়া নাড়লো। নয়ন ভালোভাবেই সেটা বুঝতে সক্ষম হলো। পরদিন ভোর হতে না হতেই নয়ন মর্নিং ওয়াকে বেড়িয়ে পড়লো। ভাবলো যদি তাঁরাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক পলক তাঁরাকে দেখতে পারে।কিন্তু তা আর হলো না।সে বাড়ি এসে নিজের কাজকর্ম সেরে বিকেল টার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।বিকেলে হতে মাত্রই পৃথাকে নিয়ে তাঁরাদের বাড়ি চলে গেলো। যথাসময়ে বল্টু আর অম্বরীষও চলে এলো। প্রতি দিনের মতো তাঁরার হাতে কাঁঠালের জুস খেয়ে সবাই মাঠে খেলতে চলে গেলো। কিন্তু নয়নের সেদিন আর খেলতে ইচ্ছেই করলো না।তাঁরার সাথে একটু সময় কাটানোর ইচ্ছে হচ্ছিল।নয়নের উদাসীনতা দেখে তাঁরা তার কারণ জানতে চাইলে নয়ন সবকিছু খুলে বলেছিলো।তাঁরাও নয়নের সব ইচ্ছা গুলি মেনে নিয়ে নয়নকে আপন করে নিলো সহজেই।এভাবেই এই খেলা-ই ধীরে ধীরে বাস্তব রূপে আত্মপ্রকাশ করলো। সেই বন্ধু থেকে সম্পর্কটা আরও গভীরে এগিয়ে যেতে লাগলো। দুজনেই ভবিষ্যতের সাথী হিসেবে একে অপরের হাত ধরতে চাইল। অবশেষে একে অপরের হৃদয় স্পর্শ করে ভালোবাসার এক নতুন অধ্যায় আরম্ভ করলো।বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে খেলার বাহানায় দু-জনের সময় কাটানোর মুহুর্তগুলো বেশ ভালোই চলছিল। একে অপরকে কথা দিয়েছিলা এভাবেই ভালোবাসা নিয়ে একে অপরের সাথে বেঁচে থাকবে সারাজীবন।

কিন্তু হঠাৎ ভাগ্যের চাকা উল্টো ঘুরতে আরম্ভ করলো। তিনদিন হল তাঁরার কোনো খবর পাওয়া গেলনা। তাঁরাদের বাড়ির দরজায় তালা ঝুলানো। নয়ন ব্যাপারটা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলো না। তাঁর মনটা তাঁরার জন্য ছট্ফট করতে লাগলো। শেষে বাবার কাছে জানতে পারলো সরকারী কর্মচারী হওয়ার কারণে তাঁরার বাবা অন্যত্র বদলি হয়ে পরিবারকে নিয়ে সেখানেই চলে যান। নয়নের কোমল হৃদয়টা ভেঙে যাওয়ার শব্দটা যেন নয়ন স্পষ্টভাবেই শুনতে পেল। কিন্তু সে নিরুপায়। চঞ্চল নয়নকে আজ প্রথমবারের মতো নিশ্চুপ হয়ে ব্যালকনিতে বসে থাকতে দেখা গেল। কারণ আজ নয়ন প্রথমবার অদৃষ্টের পরিহাসকে খুব কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছিল। কিছুদিন পর মাও ছেড়ে চলে গেল।জীবনের এই কয়েকটা অধ্যায়ের সম্মুখীন হয়ে সে বুঝতে পেরেছিলো জীবনের চলার পথটি এতোটাও মসৃণ নয় যেমনটা সে আগে ভাবতো। সময়ের সাথে সাথে সবকিছুরই পরিবর্তন ঘটলো। শুধুমাত্র অপরিবর্তিত রইলো সেই মিষ্টি স্মৃতিগুলো আর তাঁরার জন্য রাখা হৃদয়ভরা ভালোবাসা। কিশোর নয়নের জীবনে যৌবনের আগমন ঘটলো।তবুও হৃদয়ে গাঁথা ছিল সেই কিশোরীর মনভোলানো উজ্জ্বল ছবি। সাবলম্বী নয়ন বেড়িয়ে পড়লো তাঁরার খোঁজে । সাধ্যমতো সব জায়গাতে খুঁজলো কিন্তু তাঁরাকে আর খুঁজে পাওয়া গেলনা।

ধীরে ধীরে নির্মম ভাগ্যের সাথেই মানিয়ে নিলো নিজেকে।সংসারের প্রতি উদাসীন ভবঘুরে নয়নকেই সংসারের দায়িত্ব নিতে হলো।নিজ দায়িত্বে ছোট বোন পৃথার বিয়ে দিলো। দাদা সোমও বিয়ে করে অন্য শহরে চলে গেলো। বল্টু আর অম্বরীষও যে যার মতো করে নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেছে।ছেলেবেলার সোনালী দিন গুলি জীবন থেকে একেবারেই মুছে গেলো।প্রতি দিনই বিকেল আসে ,কিন্তু নয়ন সেই হারানো বিকেলটা আজও খুঁজতে থাকে।সোনালী স্বপ্নগুলোকে আলিঙ্গন করতে চায় বার বার কিন্তু প্রতি বারই হাতছানি দিয়ে চলে যায় নাগালের বাইরে।

এভাবেই বছরের পর বছর বয়সের সিঁড়ি পেড়োতে পেড়োতে হঠাৎ সৃজার সাথে দেখা হল। নয়ন দ্বিতীয়বার কাউকে আপন করতে চাইলো। দ্বিতীয়বার নয়নের জীবনে আবার প্রেমের অধ্যায় শুরু হলো। সেই প্রেম থেকেই দুজনের বিয়ে হলো। সৃজা নয়নের বর্তমান স্ত্রী। তাদের মাহি নামে একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। সৃজা যথেষ্ট সুন্দরী, সুশীলা এবং বাড়ির সকলের প্রতি দায়িত্বশীলা। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব নিজ হাতে খুব সুন্দর করে সামলায় আর বাড়ির প্রতিটি সদস্যের প্রতি যথেষ্ট খেয়াল রাখে। সৃজা নয়নের প্রথম প্রেমের ব্যাপারে সবকিছুই জানে এবং নয়নের সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে সে যথেষ্ট সম্মান করে। এখন মাহিকে নিয়েই তাদের দুজনার স্বপ্ন দেখা। ভগবান এতো কিছু কেড়ে নিয়েছেন কিন্তু তার বিনিময়ে যে সুন্দর আর দামী উপহার নয়নের জীবনে মাহি-র মাধ্যমে দিয়েছেন তাতেই নয়ন সন্তুষ্ট।মাহিকে পেয়ে নয়ন যেন অতীতের সমস্ত দুঃস্বপ্ন গুলি ভুলে গেলো। মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়েই সে অনেক খুশী।

কিন্তু মানুষ চাইলেই জীবনের সবকিছু সম্পূর্ণভাবে ভুলতে পারেনা। সেইরকম নয়নের জীবনেও ওইসব মিস্টি স্মৃতিগুলি উঁকি দেয় মণের কোণেতে।তাঁরার জন্য হৃদয়ে যে জায়গাটা ছিল সেখানে তাঁরা আজও বেঁচে আছে। বেঁচে নেই শুধু নয়নের সাথে সারাজীবনের জন্য হাত ধরে। ভগবানের ইচ্ছে ছিলো না বলে একসাথে জীবন কাটানোর পরিকল্পনাটা মিথ্যে হয়ে গেলো।আজ যখন তাঁরার ঠিকানা পেলো এতগুলো বছর পরে তখন তাঁরা ভগবানের সাথে আলিঙ্গন করে আছে।নয়নকে আশ্বস্ত করতে সে যেন বার বার বলছে, "আমি আমার কথা রেখেছি নয়ন, বলেছিলাম তোমাকে নিয়েই বেঁচে থাকবো সারাজীবন আর তোমার হৃদয়ে এখনও বেঁচে আছি আমি।" আজ নয়ন তাঁর চোখের নোনা জলকে আর বাগ মানাতে পারেনি। যে মানুষটির প্রতিটি ভালো লাগাকে নয়ন তাঁর নিজের ভালোবাসা করে গড়ে তুলছিলো, বিধাতার নির্মম পরিহাসে আজ সে আর নেই। সংসারের ঘানি টানতে গোপনে দুচোখ মুছে আবারও প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে পড়লো সে।খবরের কাগজ টি সে খুব যত্ন সহকারে নিজের ড্রয়ারে রেখে দিল। আজকের তাজা খবরের কাগজটি হয়তো আবার অন্য কোনো দিনের অন্য কোনো ক্ষণে এক পুরোনো স্মৃতি হয়ে একরাশ তাজা ব্যথার পরশ দিয়ে যাবে।। ∆∆∆^^^^^^×××××××^^^^^^∆∆∆

একাকিত্বের সাধ

কলমে 🖊️ সানিয়া জাহান

এই ব্যস্ত শহরে যখন আমি একা,
তখন ব্যস্ত শহর আমার বড্ড বোকা ।

নিস্তব্ধ হাওয়া করে গুনগুন
তখন মনে গানের ঝুমঝুম।

পাখিদের গানগুলি যেন নতুন শুনা,
নতুন করে চিনে ফেলা।
অবুঝে দীর্ঘনিশ্বাস
জীবন হবে সুন্দর এটা আমার বিশ্বাস।।

কত ভাবনারা খেলে,
আবার দোলে।
      পৃথিবীর প্রত্যেকটা
কণাবিন্দুকে অনুভূতি,
যখন আমি একাকী।

দুঃখের কথাগুলি যখন মনে তুলে ঝড়,
মন বলে জীবন আবার নতুন করে গড়।
একাকিত্বের সাধ তুমি অবুঝে হাসবে,
তখন কেউ আসবে না,
আসবেনা কেউ একবার ঠকবে না।

নুডলসের গপ্পো (নবম পর্ব)

✍️ রাজা দেবরায়

পরবর্তীকালে দেখা যায়, সারাদিনে মাত্র ১.৫ গ্রাম অজিনোমোটো খেয়েও CRS (Chinese Restaurant Syndrome) হতে পারে। ১৯৭০ সালেই আমেরিকায় শিশুখাদ্যে আজিনার ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তবে MSG নিয়ে মতভেদ ও বিতর্ক এখনও বর্তমান।

Monosodium glutamate (MSG) is a flavor enhancer often added to restaurant foods, canned vegetables, soups, deli meats and other foods. The U.S. Food and Drug Administration (FDA) has classified MSG as a food ingredient that's generally recognized as safe. But its use is still debated. For this reason, when MSG is added to food, the FDA requires it to be listed on the label.

MSG has been used as a food additive for many years. During this time, the FDA has received many reports of concerning reactions that people have attributed to foods that had MSG in them. These reactions called MSG symptom complex include: Headache, Flushing, Sweating, Face pressure or tightness, Lack of feeling (numbness), tingling or burning in the face, neck and other areas, Quick, fluttering heartbeats, Chest pain, Feeling sick (nausea), Weakness.

But researchers have found no clear proof of a link between MSG and these symptoms. Researchers admit, though, that a small number of people may have short-term reactions to MSG. Symptoms are often mild and don't need to be treated. The only way to prevent a reaction is to not eat foods that have MSG in them.

বুঝুন অবস্থা! শার্লক হোমসের গল্পের মতো রহস্য ঘনীভূত হওয়ার পর শেষে কোনো এক যাদুবলে ঘুরিয়ে স্বীকার করে নিয়েছেন যে অল্প রিয়েকশন হতে পারে তাই এই জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। কোনো দেশই পরিস্কার করে কিছু বলছেনা বা বলতে চাইছেনা! এ এক অদ্ভুত রহস্য!

মানবতাই মানুষের ধর্ম

✍️ রেহানা বেগম হেনা ____________________ 

কেন টেনে হিছড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
কোমলমতি শিশুদের
ওই ধর্মালয়ের দিকে!
ছাড়ো ওদের হাত,
ওরা বেড়ে উঠুক আলোকিত মানুষ হয়ে।
ফুল যেভাবে প্রস্ফুটিত হয় বৃন্তে,
মাতৃবৃন্তে প্রস্ফুটিত হোক শিশু।

কেন বপন করছো ওদের নিষ্পাপ
পবিত্র মস্তিষ্কে ধর্মের বিষাক্ত বীজ?
মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, দ্বেষ বিদ্বেষ?

বরং ওদের নিয়ে যাও বিদ্যালয়ে,
নিয়ে যাও গ্রন্থাগারে,
খুলে দাও গ্রন্থের সম্ভার।
খুলে দাও উন্মুক্ত আকাশ।

ওদের শেখাও গণিত বিজ্ঞান ইতিহাস সাহিত্য।
ওদের মগজের বিকাশ হতে দাও,
ফুলের মতন ফুটে উঠুক ওদের মগজ,
ওদের মন, ওদের আচরণ বিশ্বের জ্ঞানের বৃন্তে।

বড়ো হয়ে ওরা বেছে নিক মানুষের ধর্ম।
ওরা মানবতার সেবায় নিয়োজিত করুক নিজেদের প্রাণ, নির্ভীক কণ্ঠে উচ্চারিত হোক -- মানবতাই মানুষের ধর্ম।

নিয়মে বাঁধা জীবনটা

✍️ কলমে - প্রতীক হালদার

জীবন পাতার খাতার হিসাব
একেবারেই মিলছে না,
কোন ঠিকানায় চলছি ছুটে
কোনো খবর রাখছি না।

হাজার নিয়ম দিচ্ছে করে
জীবনটাকে একঘেঁয়ে,
তবুও আশায় ছুটছি
কেমন অচেনা কোন পথ বেয়ে।

নিজের মতো বাঁচছি না কেউ
সুখকে দিচ্ছি বিসর্জন,
নিয়মে বাঁধা জীবনটা যে
আছে বা আর কতক্ষন?

স্মৃতির ক্যানভাসে

✍️ কলমে - শ্যাম মালাকার

মনে আছে প্রিয় !
কোনো এক পড়ন্ত বিকালে
তুমি আর আমি রবীন্দ্র সরোবরে ।
আজ বিকাল ও একই সময় ও একই ।

আছে সেই বৃক্ষতল
আছে সেই শান্ত তরুদল ।
শুধু তুমি নেই ।
আজ বিচ্ছেদের এতবছর পর -
সে সরোবরের পড়ন্ত বিকেল ,
সেই বৃক্ষতল আর সেই শান্ত তরুদল -
আমাকে কাঁদায় প্রিয় ।
সেই বৃক্ষের কচি পাতা
আর ফুল গুলো আমাকে
কাঁদায় তোমার জন্য ।
আমাকে কাঁদায় ঐ
ঝড়া পাতার দল
তোমার ঐ নরম ঠোঁটের
মিষ্টি আদরের জন্য ।
জানো তো সর্বনেশে
সরোবরের সে বাতাস।
তারাও আজ আমাকে কাঁদায় -
তোমার খোলা চুলের সুগন্ধীর জন্য ।
সরোবরের শতদলেরা
আজ মূর্ছা গেছে ।
কারণ তোমার মতো
কেউ আর বায়না ধরে না -
শতদল দিয়ে কেশের বেশ সাজাতে ।
রতি ক্রিয়াতে মগ্ন সে রাজহংস যুগল-
যারা এক সময়
আমাদের কাছে বসেই -
প্রেমের মোহে যৌবনের সব
সুখ ভোগ করতো ।
আজ সেই রাজহংস যুগলও
আমায় দেখে মুখ ফিরিয়ে নেয় ।
মনে পড়ে প্রিয় -
যে বৃক্ষ আর তরুতলে
আমরা এক থেকে একাকার হতাম ।
সেই বৃক্ষ তরুর মাঝে ছিল -
এক প্রেমিক জোড়া চন্দনী টিঁয়া আর-
নীল শালিকের বাসা ।
তুমি যখন আলতো করে
আমার কাঁধে -
দিতে তোমার মাথা ।
নীল শালিক
আর চন্দনী টিঁয়া যুগল তখন -
ধরতো মধুর সুরে প্রেমের গান ।
কোয়েল তখন আলতো
করে সেই প্রেমের তানে
তাল মিলিয়ে কুহু কুহু কুহু করে-
সুরটি তুলে যেতো ।
আজ তা সবই আছে -
কিন্ত তুমি নেই বলেই
আজ গাছেরা পাখিরা হাঁসেরা
সরোবরের শতদল
আর বাতাসেরা আমাকে
একা করে দিয়েছে।
যেমন টা তুমি করে দিয়েছো ।
না না অভিমানে বলি নাই প্রিয় ।
ভালোবেসে বলছি ,
আমি আক্ষেপ করেই বলছি ।
আজ শুধু তুমি নেই বলেই -
গাছেরা পাখিরা হাঁসেরা
সরোবরের শতদল
আর বাতাসেরা আমাকে
একা করে দিয়েছে ।
জানি তুমি ফিরবে না -
স্বামী সন্তান ছেড়ে আমার বুকে ।
তবুও আমি বারে বারে ফিরে আসি -
এই সরোবরের বুকে পড়ন্ত বিকালে ।
তোমার আমার কাটানো -
সেই সময়কে ফিরে পাবো বলে ।
যখনই আমার চোখ
যায় সরোবরের ঘাসে ।
তখনই তোমার মায়াবী
মুখের সে ছবি ভেসে ওঠে -
স্মৃতির ক্যানভাসে ।

সবুজ স্বপ্ন

✍️ চন্দন পাল, ত্রিপুরা 
জানিস কবিতা,
আমার স্বপ্নটির বয়স কম,
অনন্তর যৌবনমুখি সে-
উজ্জ্বল শচীন, লতা, জুকারবাগের
দিকে তাকায়।
নিদেনপক্ষে বিবেক, সুকান্ত,
চেগুয়েভারা ।
অথচ...
সুখ বা অসুখ নিয়ে, অনেকেই হয়ে
গেছে তা।

ঐ যে, রাম-শ্যাম ; কিংবা দীপা,
অশ্বিন, হলধর, ক্ষুদিরাম।
আরও আরও দৌড় লেগে আছে,
গুণোত্তোর জনস্ফুরন।

স্বপ্নকে বলি- তাঁরা তাদের মত
উজ্জ্বল,
তুমি নিজের মত হও, অ-পূর্ব কিছু !!
যে দিকে ভিড় নেই --
হতে পারে সবার আজীবন ভাত
নিশ্চিতির একটি কল আবিষ্কার ,
হতে পারে যুদ্ধহীন পৃথিবী বা
এক জাতি বানানোর একটি লিংক,
হতে পারে প্রতিযোগিতাহীন
প্রতিভামুখি সমাজ তৈরীর একটি সফ্টওয়ার !
হতে পারে অনেক কিছুই....
অভাবনীয় কোন ভাবনা।

তাঁরাও স্বপ্ন দেখুক স্বপ্ন হওয়ার।
জানিস কবিতা,
শুভলক্ষ্যে নিষ্ঠুরদের জন্য ইতিহাস
জায়গা রাখে। *******

এই ভাবেই বেঁচে থাকা

✍️ মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য 

মেঘলা আকাশ, সুনসান ঘর
মৃদু গর্জনে শিহরিত মন
টিনের চালাটা ফুঁটো করে
গড়িয়ে পড়ছিল দু একফোটা জল।
শুরু লড়াই, বাঁচার লড়াই।

সহস্র লড়াই নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকা
ভাতের লড়াই ,শিক্ষার লড়াই
চাকরীর লড়াই,ভোটের লড়াই
বাসস্থানের লড়াই, স্বাধীকারের লড়াই
সেদিনও ছিল এমনিই এক লড়াই, ভাবনা প্রকাশের।

মায়ের আঁচল পাতা মাটির বুকে,
কল্পনার আকাশে কালো মেঘ,
ভাবনা প্রকাশের মাধ‍্যম যে ভাষা
তার উপর অভিঘাত,, অগ্নিগর্ভজাত সন্তানেরা 
নামলো লড়াইয়ে,মর্যাদার লড়াই।

বুক বিঁধে বেরিয়ে যায় রক্তমাখা বুলেট
ঊনিশ রক্তাক্ত,আঁচলে লুটিয়ে পড়ে নিথরদেহ, 
তবুও টিকে যায় মর্যাদা,
হাসে জয়ের হাসি শুধু মায়ের চোখে বন‍্যা
হারানোর তালিকা ছোট হয় ফেরত পাওয়ার উল্লাসে।

তারপর! শহীদের শিরোপা,
আর এইভাবেই বেঁচে থাকা
লড়াই করেই বাঁচিয়ে রাখা।