আমি শিক্ষিত


               ✍️ মোঃ আলামিন

হ্যাঁ আমি শিক্ষিত,
দু কেজি ডিগ্রী সার্টিফিকেট নিয়ে
         ঘরে বসে আছি।
কিন্তু সুশিক্ষিত হতে পারেনি।

হ্যাঁ আমি শিক্ষিত
 সৎ পথে চলতে পারি না, ভালো কাজে সাহস নেই, মনুষ্যত্ব নেই, নিজের স্বার্থ খুঁজে বেড়াই।

ঘরের কোণে বসে খবর দেখতে জানি।
বাহিরে প্রতিবাদ করতে ভয় পাই।

হ্যাঁ আমি শিক্ষিত
কারোর জীবন নিয়ে খেলা করায় কোনো  দ্বিধাবোধ নেই আমার।

মানুষের দোষ গুণ, সমালোচনা, কালো সাদা, শিক্ষিত অশিক্ষিত, 
   বিচার করতে বেশ ভালই লাগে আমার।
         
মদ্য পান আর নেশাতেই দিনটা কাটিয়ে দেই, 
 বাকি বন্ধুরাও আমার মতো।
      এই ভাবে কেটে যায় সারা দিন।

হ্যাঁ আমি শিক্ষিত,
আমি ভবিষ্যৎ চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত,
    কোথায় ধর্ষন হচ্ছে, কোথায় কি হচ্ছে
সেটা দেখার বিষয় আমার না,
 দেখার জন্য পুলিশ আছে আইন আছে!
                      আমি কেন?

কাউকে রক্ত দান করা মানবতা দেখানো আমার কাজ নয়!
আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে খুঁজুন!

হ্যাঁ আমি শিক্ষিত,
নিজের স্বার্থ আগে দেখা,
  নিজের খেয়ে অন্যের চিন্তা
      সেটা সম্ভব না ভাই!

 আমি রাজনীতিবিদ আমি এই পদে       
                আমি সেই পদে ,
নিজের পদ আর স্বার্থের জন্য মানুষ কে ঠকানো ও বোকা বানানো আমার কাজ!

হ্যাঁ আমি শিক্ষিত,
অন্যের বোন ধর্ষন ও কো কোথায় 
               শিকার হচ্ছে,
   আমি চিন্তা করার কে ভাই?
আমার বোন তো ঠিক আছে!

দরিদ্র অসহায় মানুষ অত্যাচারিত ও       
             শোষিত হচ্ছে।
এইসব প্রতিবাদ করা আমার কাজ না,
   আমি ছাড়া প্রতিবাদ করা সমাজে অনেক লোক আছে।

হ্যাঁ আমি শিক্ষিত,
বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলতে ও সম্মান দিতে হয়
সেটাও এখন আমার দ্বারা হয় না।

 মা-বাবার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় সে সংস্কার টুকু হারিয়ে ফেলেছি!
    সেই সংস্কার এখন বিলুপ্তের পথে।

       হ্যাঁ আমি শিক্ষিত
        শিক্ষিত সমাজে মনুষ্যত্ব নামক জিনিসটা এখন বিলুপ্তির পথে।

দুখু মিঞার কাহিনী


              ✍️অনুশ্রী ভট্টাচার্যি।                       

 মুগ্ধ হাওয়ায় রাতের শেষে উদিত হয় রবি।            এ মহান বিশ্বের বুকে কত মহামানবের ছবি।।           নব ভোরের, নব আলোকে, বর্ধমানে জন্ম নিলেন আদর্শ মহান কবি।              
 সেদিন থেকে যেন চারিপাশে সব কালো ছায়া হয়ে গেল রুদ্ধ।।       
মহান কবির আবির্ভাবে এই বাংলার মাটি মুগ্ধ।       কত কবিতার নতুন বাক্যে বিদ্রোহের সুর ওঠে।।      দুখুমিঞার আবির্ভাবে হিন্দু মুসলিম বিভেদ দূর হল বটে।                  
 দরিদ্র পরিবারের সন্তান, সকলের জন্য সমানাধিকার তাঁর দৃষ্টি।।                        
অগ্নিবীনা, বিষের বাঁশি, প্রলয় লিখা, মুক্তি প্রভৃতি তার কত সাহিত্য সৃষ্টি।                   
তাঁর কবিতা, সাহিত্যে ভরে গেল এ ভারত মাতার কোল।।               
তাঁর লেখুনিতে কতরকমের অর্থ যুক্ত ছন্দ মাত্রার বোল।             
সঙ্গীত যেন বেঁজে ওঠে তাঁর বিদ্রোহের সুরেসুরে।।    জাতপাতের সব বিভেদ ভুলে সবার প্রান ওঠে ভরে।             
স্বাধীনতার জন্য তাকে লড়াই করতে গিয়েও বন্দি থাকতে হয় ইংরেজদের কারাগারে।।                   কারগারে বসেও বিদ্রোহের আগুন ঝড়ায় তার লেখুনিতে।                      
 তাঁর এই মহান সৃষ্টি গুলি পারবো কী আমরা  ভুলিতে ?                
সৃষ্টি তোমার অচল হল,এক অজানা দুরারোগ্য  ব্যধিতে।।           
বাক্ তোমার রুদ্ধ হল এ কোন নির্মম আঘাতে।      অকালে তুমি বিদায় নিলে মোদের দিলে ছেড়ে,      হে বিদ্রোহী কবি, তুমি আছো , তুমি থাকবে, চিরদিন মোদের হৃদয় জুঁড়ে।।

ক‍্যানভাস


             ✍️ কানু বনিক।

বসন্তের সন্ধ‍্যায়, আমি যখন
বসি রংতুলি নিয়ে 
প্রেমিকের সন্ধান 
তখনও পাই নি।

কি আঁকবো,
কি সাঁজাবো,
সবই তো অলংকার 
আবেশে মিশে যায় 
সব হ্রদয়ের মোড়ে।

খুঁজেছি আমি সেই,
রূপকথার রাজপুত্তর
পঙ্খীরাজে আসবে,
উড়ে এসে
নিয়ে যাবে আমায়,
গগন ছুঁয়ে থাকবে,
থাকবে স্বপনে-মননে,
আমার তুলিতে, আর
ভরিয়ে দেবো মনের ক‍্যানভাসে।

করোনা বিদ্রোহ


              ✍️ বিপ্রদীপ চক্রবর্ত্তী

মৃত্যু মিছিলের হাহাকার দেশে,
গঙ্গায় ভাসে লাশ--
পেটের জ্বালায় গরীব জাতির
নেইকো কোনো ত্রাস!
কৃষক সমাজ পায়না তাদের 
খাজনার সঠিক মূল্য,
দেশটা আর নেইকো স্বর্গ
একদমই নরক তুল্য।
করোনা কারোর জাত দেখেনা;
গরীব নাকি ধনী!
দেখে না কারোর জীবিকার রেকর্ড;
মালিক না শ্রমিকশ্রেণি!
ডাক্তাররা খাচ্ছে হিমসিম যেথা,
মূর্খরা সেথায় জঙ্গি--
অযথা অকারণ জনাকীর্ণতায়,
অসচেতনতার ভঙ্গী।
মাস্ক যেন কোনো ঠাট্টা তামাশা,
যেন গলার আভূষণ।
রাজনীতির তো ব্যাপারই আলাদা!
যেনো উৎসবের তোষণ--
বাড়ছে সংখ্যা, মরছে মানুষ;
দায়ী কি আমরা নই?
আজ যদি তোমরা না শোধরাও;
পাবে কি শেষে থই?
                                 

অমূল্য ভালোবাসা


                  ✍️ অন্তরা ভট্ট

আমার ছোট মামনিটা সিঁড়িতে বসে খুব কান্নাকাটি করছে। আমি গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই কান্নাকাটি আরো বেড়ে গেল ।কি হয়েছে রে মা? বল আমি শুনি ।মামনি বলছে আমার সবচেয়ে কাছের, আমার ভালোবাসার প্রেমিক, আমার আত্মার আত্মীয় কে খুঁজে পাচ্ছি না। আমার জীবনসঙ্গী, আমার জীবন যুদ্ধের কখনো মোরচে না ধরা তরোয়াল আর ঢাল কোথায় খুঁজবো তাদের ?
 
              হঠাৎ দেখি আমাদের বাড়ির কুকুরটা ছাদ থেকে খুব ডাকাডাকি করছে। গিয়ে দেখি সে বই আর কলমটাকে আগলে বসে ছিল। যদি কেউ নিয়ে নেয় তাই। বৃস্টি আসাতে হঠাৎ ডাকাডাকি শুরু করে দেয় এগুলো ভিজে যাবে জেনে। মামনি এসে বলে এই যে আমার প্রেমিককে খুঁজে পেলাম। বিকেলে এসেছিলাম ভুল করে এই বই আর কলম গুলি রেখে গিয়েছিলাম।

                       

নজরুল


               ✍️মুন্সি দরুদ

কবিও গায়ক হয়, কবিও হয় ঈমাম, 
কবিও বাজায় বাঁশি, যাঁর বহু সুনাম ।
কবি চুরুলিয়ার দুখু মিয়া নজরুল,
সাম্যের গান গেয়ে ফুটিয়েছেন ফুল ।

স্মরণে বিদ্রোহী কবি


                ✍️ সুপর্না কর

কালবৈশাখী ঝড়ের ন্যায়
তুমি এসেছিলে এই বাংলায়।
তোমার বিদ্রোহী কলমের নিকট
নতমস্তক হয়েছিল সকল অন্যায়।।

ধর্ম নিয়ে করোনি ভেদাভেদ
করেছো সবাইকে আপন।
তোমার কবিতায় ফুটে উঠেছিল
হিন্দু-মুসলিমের মিলন।।

অন্যায়ের প্রতিবাদে হয়ে উঠেছিলে,
বাংলার বিদ্রোহী কবি।
তোমার কবিতায় ঝলসে উঠেছিল,
নতুন ভোরের রবি।।

তুমি সবাইকে সেদিন, প্রেরণা দিয়েছিলে
জাতিভেদ ভুলে, স্বাধীনভাবে বাঁচার।
তাইতো তুমি বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলে
ক্ষান্ত করতে শোষকের অত্যাচার।।

কারাগারে থেকেও তুমি শুনেছ
গোটা বাংলার আর্তনাদ।
তুমিই সেই কাজী নজরুল ইসলাম,
যাঁর গানের মাঝেও ফুটে উঠেছিল অন্যায়ের প্রতিবাদ।।

                                     

স্বার্থত্যাগ


             ✍️প্রবীর পাঁন্ডে

নিঃস্ব দুর্বলের প্রতি এত অত্যাচার
ভালো নয়!ভালো নয়!মানব তোমার।
তাহাদের প্রাণ আছে, আছে অনুভব;
তুচ্ছ হোক, ক্ষুদ্র হোক তারাও মানব। 
অর্থ মদে মত্ত হয়ে না করি বিচার
সকলের সাথে একি রূঢ় ব্যবহার। 
প্রেমহীন, স্নেহহীন,নিষ্ঠুর- নির্দয়
কঠিন পাষাণ বৎ হে, বজ্র হৃদয়-
ভূলে গেলে শিষ্টাচার,ভদ্র আচরণ;
সংস্কার-সংস্কৃতি, মিষ্ট সম্ভাষণ। 
গোটা দুই ভূমিখণ্ড করে অধিকার
আপনার শ্রেষ্ঠতার কর অহংকার;
দরিদ্র,ভিক্ষুক জনে তুচ্ছ করি জ্ঞান
সর্বহারা-সর্বস্বান্ত কর অপমান। 
ভালো নয়! ভালো নয়! এত স্বেচ্ছাচার। 
ত্যাগ কর এ বাঁধন স্বার্থপরতার, 
হিংসা-দ্বেষ পরিপূর্ণ এ নর সংহার।
দাও জলাঞ্জলি যত সব ক্ষুদ্রতার। 
বৃথা দম্ভ অহংকার দিয়া বিসর্জন
সকলে আত্মীয় ভেবে কর আলিঙ্গন। 
বিশ্বজুড়ে শ্রেষ্ঠ-নীচে একীভূত করে, 
বাঁধো সবে একসূত্রে পূর্ণ প্রেম ডোরে।

আকাশ ছোঁয়া


               ✍️ সীমা দাস

স্বপ্নিল ঘুড়ি,
উড়েছিল সেদিন।
ঘুড়িটির দু_পিঠেই,
রংবেরঙের ছবির আঁকা।
লেজটিও কম নয়,
দেখতে যথেষ্টই সুন্দর।
নেচে_নেচে উড়ে চলে,
এপাশ থেকে ওপাশ।
আর থাকল ঘুড়ির কথা,
এ আবার বলব কী?
একটু পর পরই মনে হয়,
এই আকাশের গা স্পর্শ করেছে।
কিন্তু আজকের দিনে,
হাওয়া তার দিক বদলেছে।
এদিকে থেকে ওদিকে,
ঘুড়িটি বারবার হুচোট খাচ্ছে।
মনে হচ্ছে,
এই বুঝি ছিটকে পড়বে।
লাটাই কিন্তু ধরেছে সুদক্ষ চালক,
 তবে হাল ধরা ক্রমশই কঠিন।
হাওয়ার দুর্দান্ত তাণ্ডবে,
যেনো এক্ষুনি লুটিয়ে পড়বে।
হার মানবেনা সে দক্ষ চালক,
আবারও ধরেছে হাল।
এমনই চলছে অনেকক্ষণ,
ঘুড়ি ও চালকের হাওয়াই যুদ্ধ।
যুদ্ধের সেই টানাপোড়েনে,
দিন প্রায় শেষের পথে।
ঘুড়ির লাটাই,
এখনো শক্ত হাতে।
আগামীদিনে ঘুড়িটি,
আবার উড়ে বেড়াবে।
এক অন্তহীন সীমানা ছাড়ায়ে,
একদিন নিশ্চিত আকাশ ছুঁয়ে যাবে।

অনুকবিতা

      
                     অনুকবিতা:১
          মৌনতা
                  ✍️ গোপাল দে 

সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করাটা 
তোমার নিত্যদিনের স্বভাব।
অন্নবস্ত্রহীন পথশিশু থেকে শীতাতুর বৃদ্ধ 
সবাই তোমার সম্মুখে,
আর তুমি উদাসীনতায় 
মুখ লুকাও খবরের কাগজে।

             অনুকবিতা:২

           লজ্জিত বাক্ স্বাধীনতা
          
অনেক বিনিদ্র রাত্রি কেটে যায়
আত্মচিৎকার আর লেখনীর তীব্র তান্ডবে।
এদিকে ভাষাহীন সমাজ সভ্যতা।
বাক স্বাধীনতা তোমার অনধিকার চর্চা।

চির অক্ষয়জ্যোতি


          ✍️ মিঠু মল্লিক বৈদ্য

কতকাল পড়ি না,শুনিনা নতুন করে
দ্রোহের ঝংকার,কবিতার চরণে
কিংবা গানের কলিতে,শুনিনা 
শুনিনা,সেই ভৈরব নিনাদ।

ধূমকেতুর মতো এসেছিল সে-ই প্রাতে
অগ্নিবীণায় চেতনার বাণী নিয়ে।
রাতের আঁধারে জ্বালিয়ে অনল
দুর্দিনে দেখিয়েছিলে সুদিনের স্বপন। 

ঝড়তোলা তোমার "কান্ডারী হুশিয়ার"
ছিন্ন করে পরাধীনতার শৃঙ্খল 
এগিয়ে চলার মন্ত্রে করেছে জাগ্রত 
উড়িয়েছে অবচেতন মনে চেতন কেতন।

ব্যাথিত জনের মর্মর রোদন
ফুটিয়েছিলে তোমার করুণ কথামালায়।
মেটাতে জাতীর বিদ্বেষ,গেয়েছিলে 
সাম‍্যের গান,খুলেছিলে সুপ্ত মনের দুয়ার।

বাঙ্গালী  মনে জ্বালিয়ে দাবানল 
বাংলার পটে  গড়েছিলে হোমকুন্ড।
পরাধীনতার জরাজীর্ণতা যত হোত্রী সেজে
ঐ কুন্ডে দিয়েছিলে আহুতি। 

হে কবি,লোহার গারদ ভেঙ্গেছিলে
পাষাণ বেদীতে,রুদ্ধ মনের দ্বারে
সজোরে করেছিলে করাঘাত-বিদ্রোহী সেজে।
হে "বিদ্রোহী" তুমি চির অক্ষয়জ্যোতি। 

সে জ্যোতিতে দীপ্ত হউক মহান ভারতের 
আগামীর সূর,ঘুচে যাক সামাজিক নৈরাশ্যতা।
তোমারি দ্রোহের গানে আবারো লাগুক মুক্তির ফাগুন
মুছে যাক সমুদয় অবক্ষয়, সুখ হাসি হাসুক ভারতী।

কাজী


              ✍️ কৃষ্ণ দাস 

লেখনীর শিক্ষাগুরু নিজ পথের পথিক ।
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত ছিল খুব অপেক্ষায় জতিক।।
তব চরণ ধরিতে সক্ষম ,
না জানিনে আমি ও যে কিশোরী মেয়ের বলে ভাবনা অক্ষম ।।
অগ্নিবীণা রচনা তোমার পূরণ করে ভাব ।
নিমড়ানু কিছু লেখা গল্পের মতো সুন্দর প্রকাশ তোমার স্বভাব ।।
লেখনীতে প্রাণ ভরা ,
দেখি গো তোমার ঐ সময়ে , 
যে সময় ছিল আগন্তুক মিলন মেলার , 
যেখানে ছিল অজস্র অজস্র মৃত্যুর কান্না ।
তুমি কবি কাজী উঠেছিলে গর্জে ।
প্রতিবাদ এর সুর উঠে আসলো তোমার বাঁশির সুরে ।।
আলো আঁধারিতে পথ দেখাতে পারলে তুমি কাজী।

নজরুল

 
              ✍️পান্হ দাস

 ছিলে তুমি
     হাজারো কবির প্রেরণায়,
ছিলে তুমি
      হাজারো সঙ্গীতের স্রষ্টায়,
ছিলে তুমিই
      প্রতিবাদের প্রথম সুরের ধারনায় ৷

বাংলার বুকে হয়েছিলে হাজির 
        নাম যার বিদ্রোহী কবি,
ধূমকেতুর মতোই অগ্নির তুমি নজির
        গড়েছিলে এমনই অগ্নিবীণার ছবি,
প্রকৃতিও সত্যি হয়েযেত জাদুময় 
         যখন লাগতো ঠোঁটে  তোমার বাঁশি ৷
                   
তুমি রয়েছো জীবন্ত,
         অজস্র বিরোধীর দোয়াতে
তুমি রয়েছো জীবন্ত,
         সবার হৃদয়ের মাঝে
তুমি রয়েছো জীবন্ত,
          শত শত প্রতিবাদির কলমে ৷

ইডা কেমন বিয়া


               ✍️ রাজেশ পাল 

মিলন  - কিগো অনির্বাণের মা বাড়িতে আসোনি তুমি ? কই তুমি ?

শিবানী - ওমা মিলন দি যে , আসুন দিদি আসুন , ঘরে আসুন ।

মিলন - নানা ঘরে আইতাম না , তোমরার ঘরে আইতে ডর লাগে ‌। আচ্ছা কিগো পাড়ার সবাই ইডি কিতা কয় তোমার পুলা বইলে এক পুলারে বিয়া করবো ? ইডা কি সত‍্যি ?

শিবানী - হ‍্যাঁ ! দিদি এটা সত্যি কথা , আনির্বাণ , আবির নামের একজন ছেলেকে ভালোবাসে এবং সে তাকেই বিয়ে করতে চায় । আমাদের কোনো অসুবিধা নেই, কারণ ভালোবাসা মনের মিলন । ছেলে সমকামী এবং সমকামিতা কোনো রোগ নয়  , ছেলের খুশিতেই আমরা খুশি ।

মিলন - ওমা ইডি আবার কেমন বিয়া ? তারা পুলা না মাইয়া ? জামাই কেডা আর বৌ কেডা ?ইত্তা কিতা হইতাচে আমাদের ভদ্র সমাজে ? মানে ইডা কি সত্যি পুলার লগে পুলার বিয়া হয় ? ওমা কেমনে ?  আবার মাইয়া মানুষেরও বিয়া হয় মাইয়ার লগে ? কলি যোগ , পাপে একদম ছাইয়া গেছে গা সংসারটা , এই যে মহামারী এতানের লিগা হইতাচে , ছি ছি , জীবনে ও এমন শুনচিনা । ইতাতো রোগ ওঝা-বৈদ‍্য দেখাও ভাল হইয়া যাইবো । সর্বনাশ , পুলা দেহি ইডা হিজরা । পাড়ার নাম ডুবছে ।
  
"মুখ সামলে কথা বলুন , কঠোর আওয়াজে মিলনের সামনে উপস্থিত হলেন অমরেশ রায় অর্থাৎ অনির্বাণের বাবা ।" 

অমরেশ - আমার ছেলেকে গালাগালি দেওয়ার সাহস কে দিল আপনাকে , আর কাকে আপনি হিজড়া বলছেন , সমকামী পুরুষ মানে হিজড়া নয় , অশিক্ষিতদের মতো কথা বলবেন না । নিজের ছেলেকে যৌতুক নিয়ে বিয়ে করালেন , ছেলের বউকে দিনরাত অত‍্যাচার করেন বাপের বাড়ি থেকে সম্পত্তির ভাগ আনার জন্য , মদ খেয়ে ছোট ছেলে রাস্তায় পরে থাকে , নারী জনিত ব‍্যাপারে দুবার গেলো লাল ঘরে আর এখন আপনি এসেছেন আমার ছেলের দিকে আঙ্গুল তুলতে ।
   হ‍্যাঁ আমার ছেলে গে , সে একজন সমকামী কিন্তু সে একজন অমানুষ নয় । আর পাড়ার নাম ডুবলো মানে , কয়েকদিন আগেতো ননীদার বাড়িতে পুলিশ এসছিলো , ছেলে নাকি ননীদা এবং ইলাদি কে আর রাখতে পারবেনা , ওনাদের বলল বৃদ্ধাশ্রমে চলে যেতে কই তখন কি পাড়ার নাম উজ্জ্বল হয়েছিল ?  নারী জনিত ব‍্যাপারে যখন আপনার ছেলে জেলে গেল তখন এই কথা গুলো কোথায় ছিল ? 
    আমার ছেলে যেমনই হোক তাকে নিয়ে আমার গর্ভবোধ হয় । একজন নারীকে বিয়ে করে একজন মুখোশধারী পুরুষ সাজার ইচ্ছে আমার ছেলের নেই । প্রকৃত পুরুষ হতে গেলে মেয়েকেই বিয়ে করতে হবে এমনটা নয় । 
     আপনাদের মতো শিক্ষিত মূর্খদের জন্যই সমাজে সমকামীরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় । দোষ আপনার শিক্ষায় আছে , আমার ছেলের অনুভূতির মধ্যে নেই । গুনগত শিক্ষার প্রয়োজন আপনার মতো মানুষের দরকার , হাসপাতালে আমার ছেলেকে নয় আপনাদের বিদ্যালয়ে পাঠানো দরকার ।

মিলন - থাক্ থাক্ ! আমারে জ্ঞান দিতে লাগতোনা , আমার যথেষ্ট জ্ঞান আছে , নিজের পুলারে ঠিক করতে পারেনা আমারে কইতো আইসে । আমার পুলা জেলে গেছে দেইখ্যা কি হইসে , পুলা পান মাইয়ার পিচে ঘুরবো ইডাতো নিয়ম ।

শিবানী - স্ত্রীলতাহানি করাটাও নিয়ম ?
 মিলন - আমার পুলা স্ত্রীলতাহানি করছে না , মাইয়া ইডা আমার পুলারে ফাসাইচে ।
 অমরেশ - এইট পাশ একজন বেকার ছেলেকে ডাক্তারী পড়ুয়া একজন মেয়ে ফাসালো , wow interesting !
 
মিলন -  এখন কি আমার ছেলের দোষ বাইর করতাসো , নিজের পুলার দোষ ডাকনের লিগা ? নিজের হিজড়া পুলারে বোঝাও ইত্তা যাতে না করে , মাস্টারের চাকুরী করে যেকোনো মাইয়া পাইবো কউ মাইয়ারে বিয়া করতে ,বংশের প্রদীপ পাইবা ।

শিবানী - এইটা না হয় আমরা চিন্তা করবো , অনি কাকে বিয়ে করবে । আর বাকিটা আমরা আবির আর অনির উপর ছেড়ে দিলাম , বিয়ের পর ওরা কিভাবে কি করবে , কে কার সাথে ...Let them decide it ...It's not our concern. 

মিলন - এইসব ধর্মের বিরুদ্ধে , ইতা পাপ ।
অমরেশ - তাহলে হরিহর কে ছিল , আয়াপ্পা ভগবান কার সন্তান , শিখন্ডির কে ছিল ?
মিলন - তারাতো ভগবান , তারার সাথে মানুষের তুলনা কেমনে হয় ?
অমরেশ - আমি শুধু আপনার প্রশ্নের উত্তর দিলাম । 
আমি ডাক্তার অমরেশ পাল কথা দিচ্ছি আমি আমার ছেলের বিয়ে , আবিরের সাথেই দেবো , দেখি আমায় কে আটকায় , আমি এই সমাজের বুকে অপবিত্র কলঙ্কিত ভালোবাসাটাকে পবিত্র এবং কাঙ্ক্ষিত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবো । যেই সমাজ নিজেই ঠিক না সেই এসেছে আমার ছেলের সত্বা নিয়ে কথা বলতে ।

মিলন - মাগো মা তোমরারে কেও বোঝাইতে পারতোনা । আমি যাইগা ‌। কলি যোগ , ঘোর কলি যোগ ।

শিবানী - আমাদের কে বোঝাতে আসবেনা দয়া করে , আমরা বোঝার ক্ষমতা রাখি বলেইতো ছেলের পছন্দকে নিজেদের পছন্দে পরিণত করেছি । আপনি এখন আসতে পারেন , নমস্কার ।।

বিদ্রোহী


         ✍️ অংকিতা বর্মণ ঘোষ

বল মানবী বীর-বীরাঙ্গনা..
করব না মোরা নত শির!
নারীর জয়ে করব সমাজ ভীড়।
নয় কন্ঠে, নয়কো যৌবনে;
করব মোরা ধর্মের কর্মে
নারী বলে স্তব্ধে জয়!
এ কন্ঠের করব ক্ষয়।
পিতৃ পরিচয় স্বামীর পরিচয়
এ আবার কিসের জয়?
গড়ব মোরা শিক্ষা-কর্মে স্ব-জয়।


বিদ্রোহী বীরাঙ্গনা মা বোনেরা..
যখন কন্ঠে কন্ঠে বাঁধবে এ সুর
তখন আর নয়কো পোড়া মুখ।
না লজ্জার চাঁদর, না বিছানার
মিথ্যা স্বামীর অত্যাচারী আদর!
বাঁধবে কেবল নারীর সুখ 
যখন তখন ভয়ে কাঁপবে
নারীও আজ বিদ্রোহী বীরাঙ্গনা।
 

আবার হয়ত দেখা হবে


              ✍আলমগীর কবীর

হবে হয়ত আবার কোনোদি দেখা হবে সবাই একসাথে 
তখন আমরা বিদায় নিবো কি হবে আর তাতে।
বিদায় নিয়ে চলে আসবো যার যার আপন ঘৃহে
কেউবা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ তাকাবেনা পেছন ফিরে।
মনে পড়বে অনেকের কথা যারা প্রিয় ছিল
জানিনা আমি কেমন ছিলাম খারাপ নাকি ভালো।
তবুও জানি তোদের কথা আমারও মনে পড়বে
জীবনটা এমনই হয় মায়ায় ভরা, তাতে কি আর করা যাবে।
এসবের মাঝে আসবে আবার এমন
বিয়ে করে অনেকে আবার, শুরু করবে নতুন জীবন।
এরই মাঝে আবার কেউ প্রতিষ্ঠিত হবে
দেখা হলে বলবে তখন, তুই বিয়ে করলি কবে।
কেউ জানেনা কে, কেথায় থাকবে তখন
কেমন আছিস বলে উঠবে, দেখা হবে যখন। 
তখন আরকি হেসে উঠে বলবো ভালো আছি
এখনো যে আমি তোদের, আগের মতই ভালোবাসি।
     

ভাবনা


               ✍️প্রসেনজিৎ রায়

আজ এই বিভাবরীতে
বসে আছি নীরবে।
তাকিয়ে আছি ঐ দূর আকাশে।
আকাশের ঐ চাঁদকে দেখে
তোমার মুখটি মনে পরে।
তুমি নেই পাশে
তাই চাঁদের সাথে এ-মন কথা বলে।
মন বলে শশধর তুমি কি 
আমার আলয় আসবে না?
আমায় কি ভালোবাসবে না?
চাঁদ কি যেন ভাবে।
লজ্জায় মুখটি কাদম্বিনীর আড়ালে ঢাকে।
চারিদিকে আঁধারি ছেয়ে আসে।
জোনাকিরা মিট-মিট জ্বলে।
ঝিঁ-ঝিঁ পোকারা যেন কাকুতির সুরে ডাকে।
দক্ষিণা হাওয়া এসে কানে কানে বলে।
বামন হয়ে তুই চাঁদকে পাবি কি করে।
হ্যাঁ,আজ আমি হলাম বামন 
তুমি হলে নীলিমার ঐ চাঁদ। 
তোমার সাথে আমার হাজারো তফাৎ।
তবুও মন শোনে না কোন বারন।
নিশিদিন তোমায় ভাবে অকারণ। 

আমি নামহীন কেন নই?


              ✍️ সুস্মিতা মহাজন 

বহুদিন ধরে বহুজনে চেনে আমায়,
এদের বেশির ভাগই 'ভদ্র' ও 'শিক্ষিত' পুরুষ;
আমি থাকি নিষিদ্ধ বিদঘুটে অন্ধকার গলির ঘরে।
বেশ সেজেগুজে সুন্দরীও আমি বটে!
তাদের পিপাসা আর ভোগের জন্যই আমার জন্ম,
নিজেকে তুলে দিই কেনাবেচার পাল্লীতে।

আমার সিঁথিতে সিঁদুর দেয়নি কেউ কোনোদিনও, 
তবু প্রতিরাতের অন্ধকারে আমার লাশের উপর -
আঁচড়ের চিহ্ন দিয়ে চলে নতুন নতুন আঙুল। 
গর্ভধারিণী হই আমিও জন্মদায়িনী মা!
সন্তান আমার হয়ে যায় অচ্ছুত;
সমাজের বুকে শুধু যেন হেলাফেলা। 

রজনীতে যারা আমার কাছে লজ্জা বিসর্জন দেয়,
দিনের আলোতেই তারাই সমাজের উজ্জ্বল মুখ।
আমি কাটাই অন্ধকার গলিতে লুকিয়ে রেখে চোখ, 
আমার নামটা না হয় "পতিতা" হয়েই থাকুক।
তোমরা হাজারো তারার ভীড়ে উজ্জ্বল জ্যোতিটি,
আমারবেলায় আমি না হয় শুধু নষ্ট চাঁদই রই!

ঢিল


                 ✍️চন্দন পাল

মারাত্মক একটা ঢিল এসে 
বড় বাড়িটার সব গরিমা, নসাৎ করে দিল ।
উৎসে গিয়ে দেখি, অবিচল এক বোবা প্রজন্ম দাঁড়িয়ে ।
চোখে মুখে তার ভ্রূক্ষেপহীন ভাব ---  

তবে কি সে, সংক্রমণ বাড়ালো যারা 
তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ ?
না-কি সে,  মারীর চেয়েও 
অব্যবস্থা-জনিত মরণে ক্ষুব্ধ !! 
 
একবিংশ শতাব্দীর চাঁদবিজ্ঞান  আর 
সমাজবিজ্ঞানে বিরক্ত !! 
নোংরা মামলায় জড়িয়ে থাকাদের মানুষ ভোট দেয় বলে ক্ষুব্ধ। 

না-কি, কেবলমাত্র বাঙালিস্তানে প্রতিহিংসা দেখে, নিজ গ্লানিতে বিরক্ত। 
জানি না ----

আরেকটি মারাত্মক ঢিল পাশেই পড়ে আছে । নিসপিস আঙুলে আমি লুব্ধ। 

প্রেমে বিদ্রোহে তুমি


                    ✍️সঞ্চয়িতা শর্মা 

বক্ষে তোমার অসীম সাহস
মসীতে ছিল বিদ্রোহ,
বিদ্রোহী কবি,তোমার কাব্যে 
শিহরণ জাগে প্রত্যহ।
অগ্নিবীণার অধীর সুরে
দিকেদিকে অভিযান,
কান্ডারি আজও পরীক্ষাধীন,
জাত না জাতির করবে ত্রাণ।
বিত্তশালী সভ্য জাতির
কদর্য্য ভরা বেশ,
স্পষ্ট করে দেখিয়েছিলে,
উত্তাল হল দেশ।
ভীতির জেরে অত্যাচারী
মসীতে দিলো যে বাধা।
কাব্যরূপী অস্ত্রে তোমার
ওদের চোখে ধাঁধা।
বিদ্রোহের এত আগুন যেথা
কেমনে এত প্রেম এল সেথা?
কেমনে গাইলে এত প্রেম গাথা
বিদ্রোহের পাষাণ?
ঝর্ণার মতো ঝরে অবিরত
তোমার সকল গান।
পাষাণ গলে যে তোমার গানে
তোমার নিপুন প্রেম বয়ানে,
বিদ্রোহ,প্রেম এক হয়েযায়
ওহে নজরুল, তোমার দানে।।
            

হিংসার আগুন


            ✍️পৌষালী ভৌমিক

আকাশে পাতালে, মনেরই আড়ালে
জ্বলছে শুধু হিংসার আগুন,
পুড়তে চলেছে এই আগুনেই কত তরুণ।
সাত ব্যাধি আজ সাত দিকেতে
ছুটছে দাপিয়ে,
তারাই তো দিচ্ছে শান্তির
বিশ্ব প্রদীপ নিভিয়ে।
হিংসার আগুনে হচ্ছে অগ্নিদগ্ধ
কত নির্মল জীবন, 
ধরতে গেলে দেয়না ধরা, 
দেখা যায় শুধু মরণ আর মরণ।
সত্য পারেনা পেতে প্রকাশ
মিথ্যের বাধ্য চাপে,
ধর্মের আজ আর হয়না অবকাশ
স্বার্থপরতার স্বার্থের কারণে,
বিধাতার আশীর্বাদ আজ শক্তিহীন, 
শুভ শক্তির প্রাণ আজ তাই তো ক্ষীণ।
মরণ-বাঁচন তুচ্ছ করে হিংসা হচ্ছে
পরিণত দাবানলে, 
সভ্যতার একদিন হবে বিসর্জন
জেনে নিও এই কালে।।


সময়


                  ✍️দীপাঞ্জলি পাল

সময়ের একদিন সময় হয়েছিল
সময় দিয়েছিল তাকে।
সময় ভেবেছিল সত্যি হবে সব
সময়ের ঘেরাটোপে।
সময় কিভাবে বদলে গিয়েছে
সময়ের অন্তরালে
ভাবেনি কখনো জিতে যাবে সে
সময়কে বাদ দিয়ে।
তাই সময় নামের সময় ঘড়িটা
থেমে গেছে বহু আগে
দম দিতে হবে সেই সময়কে
সময় বের করে।
সময়ের আজ সময় নেই যে
কি করে দেবে সময়
সময়কে তাই বদলাতে হবে
তাতেও নেই যে সময়।
সময় আজ ভাবনায় ব্যস্ত
সময়ের ফাঁকে ফাঁকে
সময় কেড়েছে দিনকে
সময়ের প্রতি রাতে।
সময় হয়েছে সময় নেওয়ার
নেই আজ কোনো সময়
মূল্য দাও সময়কে তাই
প্রতি মুহূর্তে সব সময়।

মরুদ্যান


              ✍️দেবীদাস নন্দী

-না বলে কয়ে এমনভাবে কেউ চলে যায়!আমার দিকটা ভাবলে না একবারও, এতদিনের সম্পর্ক তবে এতোই ঠুনকো? গৌতমের কথায় অভিমান ঝরে।স্বাতীর চুলে বিলি কাটছিল, মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় কাতর মানুষটাকে এমনভাবেই কাছে টেনে নিয়েছে এতদিন।
-বিশ্বাস করো যেতে আমি চাইনি তোমাকে ছেড়ে, ছোট্ট শ্বাস ফেলে স্বাতী, একটু থেমে বলে,তুমিও কিন্তু বোঝনি আমাকে কোনোসময়-
- হয়তো তুমি ঠিক,জানিনা,তবে বিশ্বাস করো, তোমাকে আঘাত দিতে চাইনি কোনোদিন, বেদনার্ত কণ্ঠে গৌতম উত্তর দেয়। 
নিশুতি রাত, ঘুটঘুটে অন্ধকার, ঘরে শুধু দুজন, দুজনেই প্রবীণ।মান-অভিমানের পালা চলে বেশ কিছুক্ষণ, এক সময় ঘুমিয়েও পড়ে।নিশি অবসানে, ভোরের হলুদ আলো  রাতের মোহময়ী মেদুরতা ছিন্ন করে হামলে পড়ে বিছানায়। তড়িঘড়ি ধড়ফড় করে ওঠে গৌতম।দেখে স্বাতী নেই,বিষণ্ন হয়।মেনেও নেয় ।অনেক সাধ্য সাধনার পর এসেছিল স্বাতী। আর হয়তো আসবে না কখনও। হঠাৎ, কি ভেবে উজ্জীবিত হয়, গত রাতের মুহূর্তগুলো তো মিথ্যে নয়, সারা জীবনের সঞ্চয় অবশ্যই-

হারিয়ে গেছে


                    ✍️কৃষান নম 

ইচ্ছেটা আজ হারিয়ে গেছে
অচিন আকাশের প্রান্তরে।
স্বপ্নটা আজ ফুরিয়ে আসে, 
অচিন ঘুমের প্রান্তরে।
আকাশটাও আজ হারিয়ে, 
গেছে মেঘের কালো প্রান্তরে ।
চাঁদের জ্যোৎস্নাও হারিয়ে, 
গেছে আমাবসার কাছে। 
এই জগৎটাও হারিয়ে গেছে, 
অবাস্তব জগতের কাছে ।
ভালোবাসাও হারিয়ে গেছে, 
ধোঁকা, মিথ্যো ভালোবাসার কাছে। 
হৃদয়টাও আজ না হয় কাল, 
হারিয়ে যাবে কোন অজানা মেয়ের কাছে। 
মানুষ ও হারিয়ে যাচ্ছে, 
মনুষ্যত্বহীন সমাজটার কাছে ।
বন্ধুত্ব ও হারিয়ে গেছে, 
বাস্তব পরিস্থিতির কাছে। 
এই ভাবে এক দিন সব কিছু, 
হারিয়ে যাবে এই জগতের কাছে।

দিশেহীন পৃথিবী


             ✍️ দ্বীপ বনিক

স্তব্ধ সবে আজ মৃতুর ভয়ে,
থমকে গেলো জীবন অচেনা পিছু টানে।
চোখের জল শুধু আজ চীর সাথী;
সাদা হতে ঘোলাটে হচ্ছে তার রঙ।
মানব সমাজ সত্যিই তুচ্ছ,
পাথর সম প্রমাণ হলো দিকে দিকে। 
মহামারীর কাছে মানব তুচ্ছ,
এই বিংশ শতকের বুুকে।
ছুটছে সবে লক্ষ্য হীন ভাবে;
কোথায় পাবে সেই অমরত্ব।
নিজের জীবন তো নিজে নষ্ট করলো;
আরও গভীরতম দিনে বুঝবে তার কষ্ট।
এই মহামারী তো শেষ না,
আসবে আরো কঠিনতম দিন। 
এখন আর শতকের ঘর লাগবে না,
দশকের ঘরে'তে হবে মহামারী। 
এতোদিন আমরা করেছি কর্ম;
আজ বুঝছি কর্মফল কতো ভয়ঙ্কর।
প্রকৃতি আজ চাইছে পৃথিবী, 
তাইতো আজ আমরা দিশেহীন।।

ডিপ্রেশন


              ✍ রবিন মজুমদার

বিচ্ছেদের দীর্ঘ ছয় বছর পর দেখা অলোক আর ইপ্সিতার।

ইতস্ততা কাটিয়ে পরিচিত সেই কেফে কফি ডে তে স্বল্প কিছু আলাপচারিতা শেষ করে দুজনেই  বৃষ্টি শেষের অপেক্ষা করতে লাগল। 
এরই মাঝে ইপ্সিতা বলে উঠল "আজ সকালে টিভি তে দেখলাম ডিপ্রেশনের জেরেই নাকি এই বৃষ্টি!"

অলোক কিছুটা আনমনা হয়েই বাইরে তাকিয়ে কি যেন ভাবছিল। তারপর ভেজা কাঁচে বৃষ্টি দেখতে দেখতে বলে উঠল,

"এটা কে ঠিক ডিপ্রেশন বলা চলে না বুঝলি! আসলে আকাশ টারও আজ ভীষণ রকম মন খারাপ। শুধুই আমরা ভাবছি নিম্নচাপ।"

জ্বলছে দেশ

             
               ✍️পূজা মজুমদার 

জ্বলছে ভারত,
 রাশি রাশি চিতা।
   না এখন দেওয়ালী নয়,
 এটা মৃত্যুর ঢেপি।
   ভগবানও নাজেহাল।
  
দ্বিতীয় চরনে মিলেছে ঠাঁই।
চেয়ে দেখো আমার ভারত জ্বলছে
 চারিদিকে কান্নার হাহাকার।
    করোনার জয়জয়কার।

অক্সিজেনও কম পড়ছে।
রাস্তায় ধরতে হচ্ছে লাইন।
   আমার ভারত জ্বলছে।
  মৃত্যুর সানাই বেজেই যাচ্ছে,
  টাকা দিয়েও এই আগুন 
     নেভানো যাবে না।।

চির বিদ্রোহী


                ✍️বিপ্লব গোস্বামী

তুমি চির বিদ্রোহী,করেছো বিদ্রোহ
আপোষ বিহীন আজীবন,হে মহা বীর
লড়েছো বলদর্পী স্বেচ্ছাচারী সনে
তবু কভু তুমি হওনি নত শির।

বিলিয়েছো তুমি বিদ্রোহী বাহী
নিখিল অখিল ব‍্যাপিয়া;
তোমারি ভয়ে অত‍্যাচারী সবে
সেদিন উঠেছিল ভয়ে কাঁপিয়া।

নির্ভীক তুমি করেছো প্রতিবাদ
যেখানে যখনই হেরেছ অন‍্যায়;
ধরণী তুমি ভাসিয়ে দিয়েছো
তোমার প্রতিবাদের বন‍্যায়।

রাজদণ্ড ভয়ে যে গান গায় নাই কেহ
সে গাই গাইলে তুমি ;
গেয়েছিলে গান নির্ভীক
তুমি বীরেদের জন্মভূমি।

অত‍্যচারী শাসক দিয়েছে কারাবাস
তবু হওনি নত শির ;
করেগেছ রণ কলম সৌনিক
চির উন্নত তব শির।

দুখু মিয়া তোমার দুঃখ বিনা
সুখ হলো না জীবনে ;
শেষ বেলা ধরলে মৌন ব্রত
কোন সে অভিমানে।

জাতির মিলন


          ✍️সৌরভ দেবনাথ 

আমি মিলনের গান গাই,আমি মিলনের গান গাই,
আমি জাতপাত হিন্দু-মুসলিম,খ্রিস্টান ভুলে গিয়ে এক থালায় অন্ন খাই।
আমি সেই উদাস বাউল আমি সেই উদাস প্রেমী, আমি সেই কবি গৃহের ফুল,
যেখানে নানান ভাষায় একাকার হয়ে কলমের ছোঁয়ায় গেঁথে কবিতার ফুল।

এই বাগানে মোরা সবাই প্রেমী,বাধিনা কোন
দন্ড ,
একই সুরে লিখি মোরা নানান কবিতার ছন্দ।

কন্ঠ তুমি ঐক্যবদ্ধ করতে চাও তোমার গানের সুরে,
কবি তুমি সঙ্ঘবদ্ধ করতে চাও তোমার লয়ে।

সকল প্রেমীরা চলছে এগিয়ে মনে মিলনের আশা,
কেন-গো তোমরা বিবাদ বাধ? স্রোতে ভাসে রক্তকণিকারা।

একই ভূমিতে থাকি মোরা একই বাতাসে বাঁচি,
হৃদয় মাঝারে সবাই আমরা রাম-রহিমকে রাখি।

একদিন ঠিক বাতাসে ছড়াবে ভালোবাসার সৌরভ,
শুনবে নানান জাতির মিষ্টি কলরব।

চলো আবারো আমরা এক সুরে গান গাই, এক সুরেতে বাঁচি মোরা হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই।।

হঠাৎ দুপুরে

          
             ✍️ রাজীব বসাক

হঠাৎ দুপুরে, শ‍্যামবাবু কেঁদেউঠে বলেরে ,
একটা নেই আস্ত আম,আঁটিগুলি আছে পড়ে ।
বজ্জাত ছেলেগুলি ,নেই কোনো কাজকাম ,
ধরতে পারলে একবার, একশত বার উঠবস করাতাম ।
একটি ও ছুঁইনি আস্ত আম,জিহ্বা নিতে পারেনি স্বাদ ,
শয়তান ছেলেগুলি ,ধরতে পারলে ভেঙ্গেদেব হাত ।
চোখে পড়েনা পাহাড়া দিচ্ছি দিনরাত ,
একটি ও নেই আস্ত আম,
দেখলে জয়বাবু ,ছেলেগুলো বড় বজ্জাত ।
গতবৎসর বৃষ্টিতুফানে ঝড়ে গেল সব,
ভাবছিলাম এই বৎসর ,
কিছু খাবো আর কিছু শহর বাড়িতে পাঠাবো ,
বদমাইশ ছেলেগুলি,নেই কোনো মানসন্মান,
দুরেগিয়ে ভেংচি দেখায়,যেন আমি এই বাড়ির দারোয়ান ।
পুঁতেছিলি কি একটি গাছ, রোজরোজ দিয়েছিস হানা ,
বজ্জাত ছেলে, সব আম খেয়ে রেখেছিস দানা (আঁটি) ।