শৈশবের রাত

              ✍️ রিপন সিংহ 

পৃথিবী আজ ধূসর হয়ে গেছে,
           সারসের পাখাতে
মাশরুমের ছায়ায় বেদনা কিছুটা কমে যায়;
তবুও ---
        রবারের দানার মতো নক্ষত্র ঝরে পড়ে;
ঝরে পড়ে পথে, ঘাটে, মাঠে ---
         ঘাসের বুকে।
তখন সেই পুরনো কথা মনে পড়ে,
এই দানা দিয়ে খেলেছি কত খেলা
আজ হায়! লুপ্ত শৈশবের প্রেমিকা।

কাল সন্ধ্যায় যখন হবে দেখা,
তখন প্রথম সুযোগেই বলে দেবো ;
সেই অপ্রকাশিত সত্য কথা।
কেন তোমাকে এই অপ্রকাশিত কথা,
বলতে হয় বারবার
যে বোঝার নয়, সে বুঝে নিয়েছে
আর যে জানার নয়, সেও জেনে গেছে,
তোমার হৃদয় কি এতই গভীর!

কি মধুর ছিল শৈশবের সেই রাত,
জোনাকির সাথে কত খেলা করেছি অন্ধকারে;
এখন এই রাতে জোনাকির মতো খেলা করো!
         সারারাত জেগে আমার সাথে।

    যেদিন হারিয়ে যাব নক্ষত্রের শহরে,
    সেই দিন খুঁজবে পথের যাত্রীর ভিড়ে।

হিমেল আমেজ

 
 ✍️ সুস্মিতা দেবনাথ 

কনকনে এই শীতল হাওয়া 
কুয়াশা ধোঁয়া ধোঁয়া। 
পরিচ্ছন্ন আকাশ ছবি 
মিষ্টি রোদের ছোঁয়া।।

শীতের আমেজ পুলি-পিঠা 
মন করে খাই-খাই। 
কপি,মুলো,মটরসূটি 
শাক-সব্জির বালাই ।।

খেজুর রসের ঝুলছে হাঁড়ি 
জাগছে ছেলেবেলা। 
দিন যে বেজায় হচ্ছে ছোট 
ছুটছি সারা বেলা ।।

কমলা লেবুর গন্ধে মেতে 
জিভ হয় টল-টল। 
দাঁত কড়-কড় হুঁ-হুঁ হাওয়া 
বরফ স্নানের জল।।

সর্দি-কাঁশি রোজনামচা 
শুষ্ক অতি ত্বক।
আমড়া,তেঁতুল,জলপাই আদি 
দাঁত কির-মির টক।।

বীণাপাণী আসবেন বলে 
কূল গাছেও ফুল।
আম্রমুকুল আসতে দেড়ি 
সাজবে কলেজ স্কুল।।

তোমার আমার ভীষণ প্রিয়,,,
শীত, প্রিয় সবার হয় না ।
গরম কাপড়, কম্বল বিনে 
শীত যে গায়ে সয় না।।

কৃষ্ণচূড়া

             ✍️  বৈশালী নাগ

গ্রীষ্মের দাবদাহে পুড়ে যখন ভুবন
প্রকৃতিতে মোহিনীবেশে মেলে ধরে অনন্য কৃষ্ণচূড়া ফুল।
নিষ্প্রানে প্রাণ ফিরে আসে লাল রূপ দেখে,
ঝরা কৃষ্ণচূড়া পথে পড়ে থাকে যখন
 পুড়ে তখন হাজার প্রেমিক মন,
কৃষ্ণাচূড়ার মোহে আসক্ত বহু ফুলপ্রেমী
সারাদিনের দূর করে ক্লান্তি লালে রাঙা কৃষ্ণচূড়া।
প্রকৃতি তীব্র রোদে সৌন্দর্য ফিরে পায় গহনাস্বরূপ ভুবনমোহিনী কৃষ্ণচূড়া।