চুয়াত্তরের বুড়োটা


               
               ✍️ শিবাশীষ মিত্র

চুয়াত্তরের বুড়োটার আজ
বেজায় ভীষণ ব্যামো ।
নিজ সন্তানের দাসত্বে দিন
গুনছে নমো নমো ।।

নিজালয়ে দৈন্য দশায়
একদম গেছে চুপসে ।
স্বাধীনতা বেঁচে খেয়ে
স্বাদ-হীনতায় ভুগছে ।।

নিজেরে সে চিনতে না'রে
পুরুষ না সে নারী।
চুয়াত্তরের বুড়োর যে আজ
বিকার ভীষণ ভারী ।।

বুড়ো আজো খোঁজে মরে
দুবেলা দুমুঠো ভাত ।
নিজ সন্তান খোঁজে বাপের
কোন ধর্ম কোন জাত ।।

চুয়াত্তরের বুড়োটা আজ
গড়ায় ফুটপাতে ।
বৃদ্ধাশ্রমেও ভীষণ ভীড়,
জ্যাম ঐ রাস্তাতে ।।

বুড়োর কুড়ি সন্তান তবু
বিন্দাস, মস্তিতে ।
বুড়ো আজ আশির সাথে
সর্বহারার বস্তিতে ।।

মাতৃভূমি


            ✍️ মনচলি চক্রবর্তী 

হে মোর মাতৃভূমি
হৃদয়ের ছন্দ তুমি
প্রনমি তোমায় জননী
শস্যশ্যামলা এই ধরনী
মোর গর্ব, মোর প্রানের ঝংকার
মাতৃভূমি তুমি মোর অহংকার
জননী জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও প্রিয়
তব সুখ সমৃদ্ধি মোদের শ্রেয়।
দেশমাতৃকা তোমার চরনে সঁপিনু দেহমন
 মোর মাতৃভূমি তোমায় করি সতত পূজন।

স্বাধীনতা

                    
                  ✍️ সুমিতা স্মৃতি

যে ছেলেটা পথে পথে ভিক্ষে করে কাটায় দিন। 
সে কি জানে,স্বাধীনতা কাকে বলে? স্বাধীনতা কতটা রঙিন? 

যে মেয়েটা পেটের দায়ে স্কুল ছেড়ে কাজে যায়। 
তার কাছে 'স্বাধীনতা' শব্দটি বড়োই অসহায়।। 

যে মহিলারা বৃদ্ধাশ্রমে কাটায় সারাজীবন। 
তাদের কাছে  প্রশ্ন করো স্বাধীনতা দেখতে কেমন? 

যে যুবক উচ্চশিক্ষিত হয়েও ধরছে নেতার পা। 
সে কি সত্যিই জানে, কাকে বলে স্বাধীনতা? 

যে দেশে জাতি ধর্মের আজও চলে বিদ্বেষ। 
এটাই কি আমাদের  বৈচিত্র্যময় ভারত? ঐক্যের দেশ। 

যে দেশে এখনো চলছে কন্যা ভ্রুণ হত্যা। 
এটাই কি স্বাধীন  ভারতবর্ষ?  এটাই স্বাধীনতা?

আতঙ্ক!


                 ✍️ কৃষান নমঃ

আবার এসেছে দেশবাসীকে
যন্ত্রণা ব্যথা দিতে আতঙ্কিত ভাইরাস
আবার কিছু আতঙ্কের প্রতিশ্রুতি
আমাদের সেই স্বপ্নভঙ্গ
আবার মাঝরাতে অ্যাম্বুলেন্স আওয়াজ
ডাক্তারদের বিরক্তের চাবিকাঠি
সমাজটা সভ্যতার মতো এগিয়ে চলছিল
তখনি আতঙ্কের দালাল এসে জগৎকে বিগরে দিলো
অস্বস্তি কর, যন্ত্রণার পৃথিবীর বুকে অন্ধকার করে আনে
রং মাখা আনন্দ উল্লাস গলি গুলিতে
নিয়ে আসে এক আতঙ্কের ছায়াযুদ্ধ
একটি প্লাস্টিক মোরানো লাসের গোপন গুহা
সেখানে শুধু শোনা যায় অচল শরীরে নিঃশব্দ গজনের 
শুধুই চারদিকে আতঙ্ক আতঙ্ক!

স্বাধীনতা তুমি


               ✍️ সম্পা কর্মকার

স্বাধীনতা তুমি ,
আমাদের দেশের পতাকার সান ।
স্বাধীনতা তুমি ,
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো মান ।
স্বাধীনতা তুমি ,
আমাদের মুক্তির স্লোগান ।
স্বাধীনতা তুমি ,
হাজারো মায়ের সন্তান হারানোর ক্রন্ধন ।
আবার নতুন করে বেঁচে থাকার মেলবন্ধন ।
স্বাধীনতা তুমি ,
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের 'বন্দেমাতরম' স্লোগান ।
স্বাধীনতা তুমি ,
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের বিদ্রোহী ভাবনার চেতন ।
স্বাধীনতা তুমি ,
মাতঙ্গিনি হাজরার দেশের প্রতি মাতৃত্বের বন্ধন ।
স্বাধীনতা তুমি ,
দিলে মাথা তুলে দাঁড়াবার সন্ধান ।
স্বাধীনতা তুমি ,
দিলে দরিদ্রের সম্মুখে অন্ন-বাসস্থান।
স্বাধীনতা তুমি ,
বাড়িয়ে দিলে মাতৃভূমির সৌন্দর্য্য ।
স্বাধীনতা তুমি ,
ভরিয়ে দিলে অনাথের মুখে অট্টহাসি ।
স্বাধীনতা তুমি ,
নির্মল স্নিগ্ধ হাওয়ায় মিশিয়ে দিলে মুক্তির গন্ধ ।

বিপ্লবী


                 ✍️ কৃষ্ণ দাস

ভারত মায়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাই আমার।
দিয়েছিলে বলিদান , 
ভারত মায়ের বীর নারী ,
মায়ের সেবায় নিয়োজিত করে , করেছিলে নিজেকে কুরবান।
উৎসর্গ করেছিলে নিজেকে ভারত মায়ের পায়ে।
ছিল সেই দিন, 
যে দিন গিয়েছিলো হাজার হাজার মানুষ, 
শুধু মানুষ 
বিপ্লব ডেকে আনে, সুভাষ 
ফাঁসিতে ঝুলে ভগৎ ,
ক্ষুদিরাম 
মুখে হাসি নিয়ে গান গেয়ে ওঠে 
"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি ।"
হাসি হাসি পড়বো ফাঁসি , দেখবে ভারত বাসী।
মাগো হারবো না আমরা , 
হে বীর সুভাষ 
ছিল দিল্লি, ডাক পড়ে সুভাষের মুখে ।
আনবো স্বাধীনতা ,
গান্ধীজি এর স্বপ্নের ভারত গড়বে ।
বুক ফুলে উঠে 
যখন শুনি , বলি ভারত মাতার জয় ।
শুনবে যখন আগাম ভারত মায়ের সন্তান 
দেখবে নতুন ভারত ।

স্বাধীনতা


              ✍️ সুপর্ণা  মজুমদার

স্বাধীনতা!!!! 
ওগো মোর প্রিয় স্বাধীনতা..
তোমারই হাত ধরে শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছিল ভারতমাতা। 
তবে কেন ধর্ম জাতিতে বিভেদের জাল পাতা? 
১৯৪৭, মধ্য রাত্রি,  স্বাধীনতা তুমি এলে 
স্বাধীন করার ছলে মা কে দু-ভাগ করে দিলে !
ধর্মের নামে বিভাগ হল মোদের ভারতমাতা 
এটাই কি পাওনা ছিল বলো স্বাধীনতা? 
স্বার্থের তাগিতে করল যারা দ্বিখণ্ডিত  স্থান ,
হিন্দুস্তান পেলাম মোরা ,আর হল পাকিস্তান !
বিভেদের বাণী ছড়িয়ে যারা মাকে দুঃখ দিল চরম, 
তারাই মুখে বুলি উড়ায়, "বন্দেমাতরম্ !"
দেশমাতাকে কড়াল আঘাতে করল যারা ছিন্ন, 
স্বাধীনতা! করেছ কি তাদের নিঃশেষ, নিশ্চিহ্ন  ?
ধর্ম আর জাতির নামে আজও চলে ভেদাভেদ, 
স্বাধীনতা  !এ তোমার কেমন বিচার 
এ যে মত্সান্যায়ের  পূর্ণ  ভূমি 
নাই কি তোমার খেদ  ?
ভারতমাতার অশ্রুধারা সইতে না আর পারি 
স্বাধীনতা !তুমি দাও না মাকে সত্যিই স্বাধীন করি !
               স্বাধীনতা!!! 
ওগো মোর প্রিয় স্বাধীনতা!! 
দাও না বাড়িয়ে হাত, 
তোমারই হাত ধরে আসুক ফিরে 
      ভারতের  নূতন সুপ্রভাত।

কালখণ্ড :৩ চৈতন্য ফকির


               ✍️ গোবিন্দ ধর

নিজেকে সুপার মুন ভাবতাম।এখন দেখি আমিই অমানিশা।নেশায় ঘুরপাক খেতে খেতে একটি লাঠিম আমি।বৃত্তের জ্যা ও পরিমিতি বোধ না জানা আমাকেই অতিক্রম করতে করতে বুঝেছি সারাক্ষণ ঘুরপাকই   জীবন।দেওয়ালে লেগে থাকা কাদামাটি টপকে হাঁটতে হাঁটতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চেয়েছি নিরাপদ সড়ক সপ্তাহের সতর্কতায়।
আমারই বৃত্তে ঘুরপাক খেতে খেতে আমিই লাঠিম।আমিই নষ্ট শশা।আর৷ সব শশধর।আর সব কুমারী প্রতিমা।প্রতিমা নিরঞ্জন হলে শশধর শশব্যস্ত খরগোশ। আর সবই চৌকাঠে লেগে থাকা পদধূলি। জীবন হয় মাঞ্জা সুতোয় কেটে যাওয়া মুণ্ডু নয়তো উড্ডীয়মান ঘুড়ি।

বীর শহীদ


           ✍️ মায়া রানী মজুমদার 

ভারত মাতাকে জানাই শত সহস্র প্রণতি, 
স্বাধীন মোরা অদ্য, পূর্ণ করেছো মিনতি।
স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দিলাম পুষ্পার্ঘ্য
বীর শহীদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য।
ব্রিটিশদের লেলিহান আক্রোশ,অসম্মান। 
পরাধীনতার গ্লানিতে যবে বিধ্বস্ত সম্মান।।
বহু মা হারিয়েছেন আদরের বুকের সন্তান। 
অত্যাচারে হারিয়েছে নারীরা আত্মসম্মান।। 
বোনেরা হারিয়েছেন আদরের প্রিয় ভাই, 
দেখলো যখন হাতে কোন স্বাধীনতা নাই। 
ব্রিটিশের বিরুদ্ধে মোদেরই বীর সন্তান, 
ঝাঁপিয়ে পড়ে কেড়ে আনে স্বাধীনতার মান।
বহু ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গালো মোদের মাতৃভূমি, 
দেশমাতৃকার বীর সন্তানদের কাছে মোরা ঋণী।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হারালো সহস্র প্রাণ, 
মাতৃভূমির সম্মান রক্ষার্থে করছিলো প্রাণ দান।
বুক পেতে নিয়েছিলো তাজা বুলেটের গুলি, 
তবুও "স্বাধীনতা চাই", বলেছিল ভাইয়েরা মুখ খুলি।
আনলো যাঁরা স্বাধীনতা, নিজ প্রাণ ভয় তুচ্ছ করে। 
বীর শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই ভক্তি ভরে।।

স্বাধীনতা এলে

         
                   ✍️  বিপ্লব গোস্বামী

স্বাধীনতা এলে মনে পড়ে যায়
নীলাভ দিনের কথা ।
স্বাধীনতা এলে মনে পড়ে যায়
দাসত্বের সেই প্রথা।
স্বাধীনতা এলে মনে পড়ে যায়
মা বোনের কান্না।
স্বাধীনতা এলে মনে পড়ে যায়
রক্ত নদীর বন‍্যা।
স্বাধীনতা এলে মনে পড়ে যায়
অপমান আর গ্লানি।
স্বাধীনতা এলে মনে পড়ে যায়
বীর নেতাজির বাণি।
স্বাধীনতা এলে মনে পড়ে যায়
শহীদের বলিদান।
স্বাধীনতা এলে মনে পড়ে যায়
জাতির পিতার আহ্বান।

ক্রাশ_খাবো_কি_করে?


            ✍️ পূজা মজুমদার

ক্রাশ  খাবো কি করে?
আমি যে রাস্তার ধারে 
 অভুক্ত শিশুদের
  দেখতে পাই! 

ক্রাশ খাবো কি করে?
 রক্তাক্ত  দেহকে লাশে
 পরিনত   হতে যে 
দেখতে পাই!
 
ক্রাশ খাবো কি করে?
  আমি যে  আঁচলখানা 
বৃদ্ধাশ্রমে
  দেখতে পাই! 

 ক্রাশ খাবো কি করে?
  আমি যে  বড়বাবুদের পা 
 মজুরদের মাথায় 
দেখতে পাই!

ক্রাশ খাবো কি করে?
 আমি যে নারীর কান্না 
     শুনতে পাই!
  
  ক্রাশ খাবো কি করে?
আমি যে দেখছি
 নগ্ন দেহ খুঁজছে 
তার বস্ত্র!

 ক্রাশ খাবো কি করে?
     বর্তমানের দুর্গা এিশূল ধরতে 
      পাচ্ছে যে কষ্ট!
  
ভাই বোনেরা! তোমরাই খাও 
একে অপরের  উপর ক্রাশ ;

  আমি বরং দেখি 
         সর্বকালের সর্বনাশ।।

অধিনায়ক


                  ✍️ চন্দন পাল

তুমিও খোঁজ, আমিও খুঁজি,  প্রিয় যে সে,  খুব।
সবার লাগি সুখ খোঁজে সে, অবাক দিলো,  ডুব।

সে যে এক, সন্ধানের নাম,   মন কাড়া কত,   জিজ্ঞাসা ! 
বলিদানের, আদল নিয়ে, পেলো কি ফিরে সব, ভালোবাসা ? 

যুদ্ধবাজ সে, ঘোড় সওয়ারও, চালাতো সময়ে বেতার তোপ।
রাজা নয় সে,    মন্ত্রীও নয়,   নয় বিজ্ঞানী,  ভূপ।

মণিপুরে পায়, দেবজ্ঞানে পূজা, মুক্তিকামী সব, দুস্ত  প্রাণে।
ক্ষমা করে এসো, ধরোগো হাল,  সুবাস ছড়াক  সুশাসনে।
** (অষ্টপদে, অষ্টচরণ )।

ভবিষ্যতের কাণ্ডারী


             ✍️ প্রতীক হালদার 

দেশটা যারা দখল করে 
চালায় অত্যাচার,
সাদা চামড়ার ইংরেজ শাসন 
২০০  বছর পারাপার ।
মুখের অন্ন কেড়ে নিয়ে তারা 
চালায় শাসন-শোষণ,
কিছু দেশদ্রোহী তাদের গোলাম 
করেই চলেছে তোষন ।
লুটপাট হল অর্থ-মুদ্রা 
গরীবের শেষ সম্বল,
নীলচাষীদের অকথ্য নির্যাতন 
নড়ল না ধর্মের কল ।
কে জোগাবে সাহস আগামীর পথে?
তুলবে 'ইনক্লাব' ধ্বনি ,
বাঁচাতে মাতৃভূমি নিজের হাতে 
কার হবে আগমনী?
মিথ্যা শাসন গুটিয়ে দেবে 
ভাঙবে মুর্খতার বেড়াজাল,
ভবিষ্যতের কাণ্ডারী হবে 
ধরবে দেশের হাল ।

পূর্বায়ন


               ✍️ চন্দন পাল

     অচিন দেশের প্রজারা ফ্রিতে পাওয়ার জন্য একবার প্রকৃতির কাছে , একবার সরকারের কাছে যায় । একবার নেতাদের কাছে তো আরেকবার কোর্টের দ্বারস্থ হয় । প্রজার কষ্টের শেষ নেই ।

   প্রজাকে খুশি করতে শেষপর্যন্ত সরকার ব্যাঙ্কের সঙ্গে বুঝাপড়া করে হিসাব করে দেখলো সবাইকে অন্তত বিশলাখ করে টাকা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা আছে ।

    সুতরাং রাজ্যে ঘোষণা হয়ে গেল প্রতিদিন একশো হাজার জনের বেশি লোককে ঐ টাকা একাউন্টে দিয়ে দেওয়া হবে এবং পাঁচ দিনের মধ্যেই সবাই টাকা পেয়ে যাবে।

   ঘোষণা শুনা মাত্র মানুষ খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেল । শুধু পূর্বায়নের মধ্যে কোন হেলদোল নেই । সে প্রতিদিনের মতোই কর্মকে ধর্ম জ্ঞান করে কাজ করে যেতে লাগলো ।

    সন্ধ্যায় বাজারে গিয়ে সে এটি এম থেকে সমস্ত টাকা তুললো । সামর্থ্য অনুযায়ী  তা দিয়ে দুতিন মাসের নুন ভাত জল খেতে পারে মতো মালপত্র কিনলো । আত্মহারা ব্যবসায়ীরা কম দামেই মাল বিক্রি করে দিল । সবাই যেন রেস্ট নিতে চায় । ফ্রিতে পাওয়া গেলে আর কাজ কেনো !

    সবাই যখন টাকা আনতে ব্যাঙ্কে যায় তখন পূর্বায়ন যায়  না । অন্যেরা যখন জিজ্ঞাসা করে তখন  সে কোনও উৎসাহ দেখায় না । এমন একটা ভাব যেন না হলেও চলবে ।

   পাঁচ ছয়দিন পর মানুষের কাছে টাকা এসে গেল । তারা তাজমহল , সুইজারল্যান্ড দেখতে যেতে চায় কিন্তু ড্রাইভার নেই। প্লেন চড়তে চায় কিন্তু পাইলট নেই । মাটন , কাবাব খেতে চায় কিন্তু রেস্তোরাঁ নেই। নিকো পার্কে চড়তে চায় কিন্তু ম্যশিনম্যান নেই । সন্তান বিডিও গেম, মোবাইল চায় বাবা মুঠো ভরে টাকা দিয়ে দেন । কারণ খেলনা দোকান নেই ।

    এইভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর মানুষের ঘরের মজুত খাদ্য শেষ হয়ে এল । এবার মানুষ খাদ্য খুঁজতে খুঁজতে পূর্বায়নের বাড়ি যায় । পূর্বায়ন মানা করে না।সবাই কে যত্সামান্য দিয়ে দেয় । আর মানুষ খুশি হয়ে তাকে মুঠো মুঠো টাকা দেয । পূর্বায়ন  সবাই কে বলে এভাবে তো আর বেশি দিন দিতে পারবোনা । একটা বিহিত করতে হবে সবাই কে।

    মাসখানেকের মধ্যে সবাই যাঁর যাঁর কাজে যোগ দেয় । পূর্বায়ন সব টাকা আবার এটিএমে নিয়ে  রাখে । তার একাউন্ট্ এখন চল্লিশ লাখ টাকারও বেশি শো করছে।

নেতাজী


           ✍ আলমগীর কবীর

ওগো নেতাজী তুমি মহান তুমি দুঃসাহসিকবান
তুমিই সেই নেতা যার নেই কোনো তুলনা 
যতই আমরা যাই তোমায় ভুলে কিন্তুু তুমি মোদের ভুলছনা।
ওগো নেতাজী শুননা তোমার চরণধূলি মোরে দিয়ে দিবেকি একটু শান্তনা।
যখন আমি বুঝতে শিখেছি তখনই তোমার নাম শুনেছি 
তখন থেকেই হয়েছি পাগল অনেকে তোমায় চিনলনা।
আজও আমি গাই তোমার গান নাহি পাই মনে শান্তি 
তোমার জীবনী পড়ে মোর হচ্ছেনা কভু তৃপ্তি। 
ওগো নেতাজী যেখানেই থাকো জানাই আমি তোমায় প্রণাম
আমরা ভারতবাসী মহাভাগ্যবতি জন্মেছে এই দেশে এক বীরমহান।
ওগো নেতাজী তোমার মতো হতে পারবোকি জানিনাতো আমি
তবুও মনে ভালোবাসা জাগে মোদের জন্মভূমি। 
যখন তুমি ছিলে বন্দী, বন্দী নিজ গৃহে অনাহার
তারপর সেই ইংরেজবাহিনী তোমার ভয়ে আতঙ্ক আর হাহাকার।

জানতে ইচ্ছে করে

                ✍️ প্রশান্ত দাস 

আমার অনেক কিছু জানার আছে, এই বসুধায়;
আমি কে? আমি কোথা'বা আছি?
আমার অস্তিত্ব কি থাকবে এই ধরায়?
কিছু থাকবে কি নিজের বলে?
আমি কি দেশের জন্য কিছু করতে পারবো?
আর তা ভাবতেই মনে পড়ে সেই বীরদের কথা?
ঐ যে নেতাজী; তোমাকে জানাই সেলুট!
ঐ যে ক্ষুদিরামের মতো আরো যুবশক্তি!
মনে পড়ে সেই মানুষকে যার নাম ভগৎ সিং।
প্রণাম করি সূর্য সেনের মতো বীরপুরুষদের। 
মনে পড়ে মাতঙ্গিনী দেবী,দেবী প্রীতিলতা যোদ্ধাদেরও,
যাঁরা নিজে নারী হয়েও ছুটেছিল ভারতরক্ষায়।
ভারতবর্ষের বহু অমর বীর যোদ্ধারা ছিলেন, 
যাঁরা দেশের জন্য অকালেই হারালেন প্রান!
আজ তাঁদের বীরত্বেই ভারতবর্ষ স্বাধীন।
যাঁদের কৃতিত্ব আমাদের জানা দরকার!
এখন কি আছে তাঁদের অস্তিত্ব বলে কিছু?
তাঁরা কি পেল ভারতবর্ষের কাছে নতুন প্রাণ?
আমরা কি ভুলে গেছি তাঁদের এত মাহাত্ম্য?
আমাদের মনে তাঁরা কি আজও বাস করে?
সত্যিই কি এমন ভারতবর্ষ গড়তে চেয়েছিলেন যোদ্ধারা?
                    আমি এই প্রশ্নগুলির উত্তর চাই!
                                নতুন ভারতবর্ষের কাছে।

মায়ের ভালোবাসা

                    ✍️ কানু বনিক

মায়েরা'ই পারে আগলে রাখতে, কিছুটা ধমক, হয়তো কিছুটা আদর দিয়ে । 
ততটা মাখামাখি থাকে না, এই মাতৃস্নেহের! মা যে আমার গর্ভধারিনী। 

মা-ই তো জেগে থাকে রাত-বিরোতে তার ছেলেটার জন‍্য, ছেলেটা যে এখনো ঘরে ফেরে'নি। 

পৃথিবীর সকল মায়েরাই বোধ হয় এরকমই হয়, সন্তানের জন‍্য একটু আকুলতা।

মা-তো আমার পাগল, শুধু ছেলে পাগল,  বেমালুম ভূলে যাই মায়ের এই পাগলামো গুলো, যৌবনের মাঝরাস্তায় এসে।

মা-তো থাকে আশায় আশায়, ছেলে বড় হবে' বউ আনবে ঘরে, থাকবো একটু সুখে শান্তিতে। 
মা'তো  মা-ই' হয় ! মাকে যে কষ্ট সইতে হয়। 

মায়ের ঠিকানা যখন বৃদ্ধাশ্রম, ছেলেটাকেও নিয়ে যায় বুকের মাঝে, 
ভালো থাকিস তোরা, থাকিস একটু সুখে শান্তিতে। 
তবু একটু শাসন, বৌমাকে একটু দেখে রাখিস্। 

মা-তো আমার বুকের গভীরে আছে, বুকের মাঝে ক্ষত  জায়গাটা মা-ই পূরণ করে রেখেছে । পরবাসে গিয়েও মা থাকে শুধু ছেলের বুকে।

আমার আমি,তুমি হারিয়ে যেও না


               ✍️ দীপাঞ্জলি পাল
কি ভালো লাগে
বৃষ্টি না রোদ্দুর? 
----আমার একলা ঘর,বারান্দার চিলেকোঠা,
আর ঘরের ছোট্ট জানালার পাশে বসে 
মেঘরোদের ভোর  হতে গোধূলি,
হাওয়ার ঝাপটায় বৃষ্টির ছিট গায়ে লাগা
সাথে কফি কাপ আর কল্পনামদির গান।
ঝিঝি ডাকের তারাভরা রাত আর রজনীগন্ধার ঘ্রাণ।
আর কি ভালো লাগে
পাহাড় না সমুদ্র?
----ভালো লাগে সেই জানালার পাশে 
টেবিলে বসে দিনলিপির কাহিনী লিখতে।
আর ঝুলবারান্দার আরামকেদারায় বসে
গল্পের বই সাথে ঝালমুড়ি খেতে।
খুব ইচ্ছে করে জানো
বেরিয়ে পড়ি অজানার উদ্দেশ্যে
টপকাতে চাই পাঁচিলকে।
আর কি ভালো লাগে
শহর না গ্রাম?
----ইচ্ছে করে শরৎ মেঘের ভেলায় চড়ে 
বসন্তের রামধনুকে ছুঁতে।
রোপে করে পাহাড়চূড়ায় উঠতে কিংবা
কোনো পাহাড়ঘেরা  রাতের শহর থেকে কিছুটা দূরে
সারা রাত জেগে আকাশের তারা গুনতে
আর অনেক গল্প করতে শুধু তোমার পাশে বসে

ইচ্ছেমতী


               ✍️ সুস্মিতা মহাজন 

পারলে এবার নদী হবো,
তরঙ্গের সুরে গান ধরবো।
ইচ্ছে মতন ভেসে যাবো,
তবে এবার নদী হবো।
দুঃখ যত জলে মিলবে,
দেখবে নাকো অতলেও।
রোদের আলোয় হাসি ছলছল,
বুক ভরা স্বপ্ন আদর দিয়ে।
বাসবো ভালো ঢেউগুলোকে,
লিখে যাবো বালির চরে।
মিছে যত ভ্রান্তি ছিলো,
সব মিশবে অন্য দলে।
আপন ভোলা নদী হবো,
খুঁজবে না গো হারিয়ে গেলেও!

সৈনিক


               ✍️সৌরভ দেবনাথ


আমরা সৈনিক আমরা বীর ,
              নয় তো আমরা ভীতু।
যখন-তখন যুদ্ধ হলে,
            জিতব আমরাই তো।
তাইতো বলি সবাই মিলে,
            হাতে হাত রেখে চল।
নেই তো এখানে হিন্দু-মুসলিম ,
            উভয় ভাই পরস্পর।
দেশ জুড়ে চলছে অশান্তি,
          দেয় যে ওরা হানা।
ভারত সীমান্তে দাঁড়িয়ে আছি ,
         তাই তো ওদের যন্ত্রনা।
মাগো আমরা তোমার বীর সন্তান  
          দেব নাগো ভীতু দের স্থান।
তাইতো বলি তোমার সেবা করতে পেরে আমার জীবন সার্থকবান।
আমি সৈনিক আমি রাজা আমি মায়ের শ্বাস,
আমি বিনে মায়ের অন্য সন্তানদের হবে সর্বনাশ।
মাগো তুমি ভয় পেয়োনা আছি আমি পাশে,
তোমার কোলে জন্ম নিয়েছি মরবো তোমার বুকে।
মাগো একলাল শহিদ হলে আছে শত লাল,
তোমার বীর লালের অভাব নেই ভয় পেয়ো না আর।
চল রে ভাই যেতে হবে মা যে আমায় ডাকল বলে,
যুদ্ধ হলেও ভয় করিনা মা যে আমার পাশে আছে।
সেই মুহূর্তেও মনে পড়ে আমার মায়ের কথা,
তখনই সবাই বলে উঠি ভারত মায়ের বার্তা,
সর্বশেষে বলি আমরা মায়ের সেই কথা,
সবাই মিলে বল রে ভাই জয় হিন্দ বন্দেমাতরাম, ইনক্লাব জিন্দাবাদ,ভারত মাতা কি জয়।।

বেঁচে থাকার নাম স্বাধীনতা


                   ✍️মিঠুন রায়

স্বাধীনতা শব্দে লুকিয়ে আছে অজস্র দেশবাসীর স্বপ্ন,
বিবস্ত্র ছেলেটি চায় একটু নুন ভাত
ক্ষুধার জ্বালায় ছুটে বেড়ায় ভরদুপুরে রাস্তায়।
স্বাধীনতা আজ মুছে গেছে গরীবের জীবনপঞ্জী থেকে,
নানা ভাষা-নানা মত লিপিবদ্ধ শুধু সংবিধানে 
প্রকৃত স্বাধীনতা এখন কেঁদে বেড়ায় কৃষ্ণকলির মতো।
স্বাধীনতা শুধু জাতীয় পতাকা পতপত করে বাতাসে উড়া নয়,
মুক্ত বিহঙ্গের মতো  মাথা উচু করে বেঁচে থাকার নাম স্বাধীনতা।

শহীদ


                ✍️অন্কিতা বর্ধন


একটি বছর পর আজ খোকা আসবে ,
হ্যা , আজ খোকা আসবে।
রুক্ষ মরুভূমির সেই বালুময় বাতাস, 
বরফের চাদরে ঢাকা সেই পাহাড়,
প্রবল ঝড়, বৃষ্টি, মেঘের সেই গর্জন, রোদ্রের প্রখর তাপ তুচ্ছ করে দাঁড়িয়ে আছে সেই সিমান্তে।
হাতে বড় একটি রাইফেল,
পিঠে থাকে মস্ত বড় বোঝা,
দেখে মনে হয় ছেলেটা অনেক বড়ো হয়ে গিয়েছে,
যে কিনা সামান্য আঘাতেই মা বলে কেঁদে দিতো।
আজ খোকা আর কাঁদে না ,

ঐ যে আমার খোকা আসছে
মস্ত বড়ো গাড়ী করে।
 গাড়ীর চারদিকটা ফুল দিয়ে সাজানো,
চারিপাশে, চারিপাশে কত মানুষের মেলা।
কত যে সেনা আসল খোকাকে দিয়ে যেতে।
গেরুয়া, সাদা, সবুজে মোড়ানো খোকার কফিন!
কফিন খুলতে না খুলতেই উপচ্ছে পরছে মানুষ।
মুখটা যে কালো কাপড়ে মোড়ানো,
সারাটা দেহ গুলিতে ক্ষত বিক্ষত ।
খোকা এখন আর কাঁদে না।
ছোট বেলায় খেলার মাঠে সামান্য আঘাতেই মা বলে ঝাঁপিয়ে ধরত আর বলতো,
" মা ওরা আমাকে মেরেছে" ।
আজ ক্ষত বিক্ষত দেহে কোনো নালিশ নেই মুখে।
আজ চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছে , বীর মায়ের সন্তান আজ শহীদ  শহীদ  শহীদ 
আমার খোকা শহীদ।

মা ভারতী


                  ✍️সুস্মিতা দেবনাথ

জনম আমার ধন্য আজি
মা ভারতীর কোলে।
সবুজ শ্যামল মায়ের আঁচল
স্নিগ্ধ হাওয়ায় দোলে ।।
মা ভারতীর দামালরা রোজ
দেয় যে আত্মহুতি ।
মায়ের তরে স্বজন ছেড়ে
জ্বালায় স্মারক জ্যোতি ।।
বন,পাহাড় আর বরফ তাদের
জীবন সাহারায় ।
নির্ঘুম রাত ব্যস্ত দিবস 
মায়ের পাহারায় ।।

মখমল খাট,মার্সিডিজ আর
রাজার সিংহাসন ।
গ্লিসারিনের চোখের জলে
শ্রদ্ধাঞ্জলির ঢং।।
নেতা অভিনেতার মত 
চাটুকার নয় তাই,
রোজ মরে শুধু দেশের তরে,
ওরা আমার ভাই।।
       

স্বাধীনতার টানে


                 ✍️  রুপালী রায়

স্বাধীন হয়েও হলাম না ভাই
হলাম শুধুই নামে ।
বুঝলে মশাই-
 স্বাধীনতাটা ভীষণ দামী ,
বিক্রি  হয় চড়া দামে ।
ছয় বছরের আসরফ আলী ,
বই ছেড়েছে  সেই কবে 
বাবার সাথে কয়লা কুড়োয় ,
তার বইয়েতে স্বাধীনতার,,,
 দাঁড়ায় কিরূপ মানে ?
স্বাধীনতা দিবস ঠিক কোন তারিখে 
 আদৌ কি তারা  জানে ?

সেই মেয়েটার  বয়স কত 
দশ কিংবা বারো হবে ,
জন্ম যাদের-
ফুটপাথ কিংবা নর্দমার পাশে ,
সে তো আজও জানেও না
স্বাধীনতা দিবস ঠিক কবে ?
তাদের বইয়ে স্বাধীনতার,
 সংজ্ঞাটা ঠিক কিরূপ হবে ?

যে ছেলেটার বস্তা কাঁধে ,
খালি পায়ে-মাঠে-ঘাটে ,
স্কুলে যাওয়ার বয়স যখন 
খিদের জ্বালায় বেজায়  ছুঁটে  ।
তারা তো  জানেও না 
স্বাধীনতার ফুল  কি আদৌ কখনো  ফোটে ।
     

চলছে চলুক


         ✍️ গোপাল দে

মানবতা আর একতার গল্প যখন
তোমার বোধগম্য হয় না। 
বারে বারে কুঠারাঘাত করে
রক্তাক্ত করেছে যখন মমতা মাখানো মুখ,
চির শান্তির বাণী সেখানে মূল্যহীন। 
কুঠারে কুঠারাঘাত করে 
জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। 
সময় এসেছে প্রতিবাদের। 
আঘাতের প্রত্যাঘাত করে 
যুদ্ধ জয়ের সময় এসেছে। 
তোমার ওই রক্তচক্ষুর সামনে
আমার শান্তির পতাকা বেমানান।
জীবন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে 
বাঁচার তাগিদে লড়তে হবে। 
শুরু যখন হয়েছে 
চলছে চলুক এই রণ সংগ্রাম।
রচিত হোক আরো এক কুরুক্ষেত্র।

স্বাধীনতার আলো


            ✍️ অনুশ্রী ভট্টাচার্যি.                               
স্বাধীনতার নতুন আলোয় আলোকিত আজ মোরা।
নব আশার নব দিগন্তে এ বিশ্ব ভুবন ভরা।।         থাকবো না আর বদ্ধ ঘরে মুক্ত মোরা আজ।       নতুন আলোয়, নতুন রঙে, এ ধরনী সাজ।।  
মিষ্টি মোদের এই মাতৃ ভূমি, বড্ড ভালোবাসী।     মা গো এই ধরনীতেই যেন মোরা বারবার ফিরে আসী।।                 
কতই না বীর, জীবন দিল, মা গো তোমায় রক্ষীবারে।                    
 আসতে দিও না কোনো কুচক্রিকে মাগো তোমার দ্বারে।।      
মোদের দেশে আছে মাগো কত জাতির বাস।     তবু নেইকো দন্ধ, নেইকো বিবাদ, শুধু আনন্দ উল্লাস।।              
প্রানে প্রানে মিলে আছি মোরা সকল ভারতীয়।  স্বাধীনতার এই দিনটি যেন প্রানের চেয়েও প্রিয়।।    
কত না বিপ্লবী প্রান দিলো এদেশের জন্য।        
এই ধরনীতে জন্ম নিয়ে হলাম যেন ধন্য।।          শস্য শ্যামলা এ ধরনী যেন মোদের কাছে গর্ব।  স্বাধীনতার এই দিনটি যেন মোদের কাছে একটি বিশেষ পর্ব।।

সূরুযের জোসনা


          ✍️কাজী নিনারা বেগম

স্বাধীনতার তুমি বড় নিষ্ঠুর ,,
স্বাধীনতা তুমি বড় উচ্ছৃঙ্খল স্মৃতি।। 
স্বাধীনতা তুমি হয়তো আজ গুছিয়ে রাখা বইয়ের সেলফের রের্কডের মতো,,
স্বাধীনতা তুমি সদ্যোজাত ঘাসের সবুজের প্রিয় মুখগুলো।। 
 স্বাধীনতা তুমি শতাব্দীর প্রথম ও শেষ ভাগে নিশ্চুপ থাকা অসিম দিগন্তের উন্মাদ চাঁদ!
স্বাধীনতা তুমি তারা হীন ভবিষ্যত প্রজন্মের মাতাল সুরুজ।
 স্বাধীনতা তুমি সূরুযের আহ্লাদিত কিরণের প্রানের নির্যাস,,
স্বাধীনতা তুমি মৃত্যুর গভীর রাতে সজ্জিত আয়োজন।। 
স্বাধীনতা তুমি নিস্তব্ধতা সুরে সহস্র শতাব্দীর প্রশ্ন বিদ্ব,,
জোসনার আলো মসৃন অভিশাপ প্রত্যাখ্যান।। 
 স্বাধীনতা তুমি দমকা হওয়ার মিশে থাকা আকাশের আবির!

পঁচাত্তরে এসে


                 ✍️প্রীতম শীল

স্বাধীনতার আজ ৭৫ বছরে এসে,
আমার বৃদ্ধ মা থমকে গেছে।
স্বাধীনতার ইতিহাস আর বলেনা,
সব যেন উনার কাছে মিছে।

মায়ের মুখে স্বাধীনতার গল্প শুনে,
নির্ভয়ে প্রশ্ন করতাম আমি।
মা স্বাধীনতার জন্য এতো রক্ত কেন?
স্বাধীনতা কি এতোটাই  দামি?

মা তখন একগাল হেসে বলে,
আগে বড়ো হও তুমি।
তখন বুঝবে এ রক্তের দাগ,
ছিলো কতোটা দামি।

আজ আমি আমার মতো চলি,
আমাকে বাঁধা দেয়না কেউ।
ছুটন্ত ঘোড়ার মতো দিকবিদিক,
তেপান্তরে আছড়ে পড়া ঢেউ।

সবই যখন ঠিক আছে তবে,
ভাতের লড়াইটা হবে কেন?
শিক্ষা নিয়ে আমি চলি রাস্তায়,
আরো একটা পরাধীন যেন।

ছিন্ন বসন পরিধানে মাঠে ঘাটে,
বাবুরা চালায় দেশ।
এই সেই স্বাধীনতার গল্প শুনিয়ে,
দিব্যি রয়েছি বেশ।

তাইতো মায়ের হাতের ত্রিরঙা,
আজ কাঁপা কাঁপা হাতে।
স্বাধীন ভারতের সমস্ত অধিকার,
লেখা আছে ত্রিরঙা তে।

তবে মা অশ্রু জলে আমায় প্রশ্ন করে,
খোকা এটাই কি স্বাধীনতা।
আজ আমি বড়ো হয়েছি বলে হয়তো,
শুনতে হচ্ছে মায়ের কথা।

১৫-ই আগস্ট


                       ✍️প্রশান্ত দাস 

ভারতবর্ষে ১৫ই আগস্ট দিনটি প্রতিবছর সম্মানের সহিত পালন করা হয়। এই দিনটিতে আমাদের দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ১৯৪৭ সালের ১৫ই অগাস্ট আমাদের ভারতবর্ষে ব্রিটিশ রাজশক্তির শাসনাধীন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীনতা আদায় করেছিল। দেশের জন্য স্বাধীনতার অর্জন করতে পেরে প্রত্যেক বছরেই এই দিনকে  প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। তখনকার সময়ের ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রধানত অহিংস অসহযোগ, আইন অমান্য আন্দোলন এবং বহু চরমপন্থী গুপ্ত রাজনৈতিক সমিতির অহিংস আন্দোলনের পথে পরিচালিত এক দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের অতিক্রান্ত হওয়ার পর ভারতের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। দেশ স্বাধীনতার কিছুটা আগ-মুহূর্তে ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্যে ধর্মের নিরিখে বিভাজিত হয়। তথাপি হিন্দুস্তান-পাকিস্তানের জন্মও হয়। ১৫ ই আগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পদে আসন্ন জহরলাল নেহেরু শপথ নেন। তিনি শপথ নেওয়ার পর দিল্লির লাল কেল্লার লাহোরি  গেটের উপর ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি জাতির উদ্দেশ্যে কিছুটা বক্তিতা রাখেন। আজও অগাস্টের ১৫ তারিখ দিনটিকে সম্মানের সঙ্গে বলা হয়। এই দিনে সারা ভারতবর্ষ জাতীয় ছুটি দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।  বিভিন্ন স্কুলে, অফিসে, বিভিন্ন পদের সেনাবাহিনী, বিভিন্ন রাজ্যের অলিতে-গলিতে প্রান্তে প্রান্তে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এই দিনে ছেলেমেয়েরা শহীদ সেনাদের, দেশপ্রেমিকদের, ভারতমাতার এবং বিভিন্ন দেশদ্রোহীর সাজপোশাক পরিধান করে রেলিতে অংশগ্রহণ করে। চারিদিকে জনগণ জয়ধ্বনি দেয়, বাজনা বাজায়, নাট্যাভিনয়ে যোগদান করে। দেশপ্রেমিকদের, শহীদ হওয়া সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সারাদিন দেশের  মানুষজন আনন্দে উল্লাসে ঘুরে বেড়ায় জাতীয় পতাকা হাতে কিংবা সঙ্গে নিয়ে যেন ভারতবর্ষ নিজেই ঐ দিন নানা রঙে রঙিন হয়ে যায়। কিন্তু দেশের প্রধান অনুষ্ঠানটি হয় দিল্লির লালকেল্লায়। রীতিমতো দেশের প্রধানমন্ত্রী পতাকা উত্তোলন করে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। সেই সঙ্গে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতা ও শহীদ সেনাদের শ্রদ্ধা জানান।

                                            - "জয়হিন্দ "


স্বাধীনতা


                 ✍️পাপিয়া দাস

স্বাধীনতা  পেয়েছি 
বহু  লড়াইয়ের  পর,
দেশহিতের সংগ্রামে  জয়ের পর
বেঁধেছি মোরা সুখের  ঘর।

আমরা এখন স্বাধীন  নাগরিক 
চলি স্ব -ইচ্ছায়,
ভীতু হয়ে বসে থাকিনা,
বসে  থাকি নাগো লজ্জায়।

ছেলেমেয়ে  সকলেই সমানাধিকার
উজ্জ্বল  করছে দেশের  নাম
স্বাধীনতার পূর্বে  ছিলাম মোরা
ইংরেজ ফিরঙ্গীদের গোলাম।

প্রায় দু'শ বছরের  হস্তক্ষেপ 
মোদের ভারতবর্ষে,
এখন আমরা মুক্ত 
স্বাধীনতা  মোদের শীর্ষে।

স্বাধীনতা


                 ✍️মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

স্বাধীনতা, তুমি চিরদীপ্ত,
চিরায়মানা, কবির কবিতা,গানের কলি
ক্ষিপ্ত হৃদয়ের অমলিন হাসি।

স্বাধীনতা,তুমি লাখো শহীদের 
রক্তে রাঙ্গানো খুশী
পথে পথে উন্মত্ত শ্লোগান।

শত জন্মদের সন্তান বলিদানে,
মায়ের শুভ্র শাড়ির আঁচলে
লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণার মুক্তি।

স্বাধীনতা,তুমি তরুণ তরুণীর 
শানিত কন্ঠে প্রতিবাদের ঝড়ে
বজ্রকঠোর চাহনীর উন্মূলন।

চৈতের দুপুরে দীঘির শান্ত জলে
বঙ্গললনার অবগাহন,
ভয়হীন চলন;মুক্ত নীলাকাশ।

স্বাধীনতা,তুমি আজাদ হিন্দ ফৌজের
স্বপ্নে দেখা অনঘ ছবি,
মুক্তির উল্লাস,চিত্তের শুদ্ধি।

তোমাতে অর্পিত ভবিষ‍্যৎ গণতন্ত্র,
একতার জয়গানে মুখরিত  
গেরুয়া,সাদা,সবুজের মেলবন্ধন।

হাই স্বাধীনতা


            ✍️বিভুলাল চক্রবর্তী

হাই স্বাধীনতা-
তুমি এসেছ ? কী যে আনন্দ হচ্ছে! 
কিন্তু, তোমাকে বসাব কোথায়? 
জানি তুমি ক্ষণিকের অতিথি- 
রাত পোহালেই মলিন, ফ্যাকাশে
হয়ে যাবে বাসি! 
তবু তুমি এলে দেখতে পাই
আমার নির্বাসিত অতীতকে, 
আমার নির্যাতীতা বন্দিনী জননীকে। 
মনে পড়ে বীর শহীদদের আত্মত্যাগে
রক্ত ঝরানো এক দীর্ঘ স ্গ্রামের ইতিহাস! 
হায় স্বাধীনতা- 
আজ ভূগর্ভ থেকে মহাকাশ চর্চায়
তোমারই জয়জয়কার, কিন্তু - 
কোথায় তোমার সাইনিং ইন্ডিয়া, 
কোথায় একসূত্রে বিকাশের ধারা? 
স্বাধীনতা, আজ চুয়াত্তর বছর পরেও 
তোমার মানে এরা বোঝেনা! যারা এখনো
স্টেশনের পাশে পাতার ঝুপড়ি তে মাথা গুঁজে! 
যে অসহায় শিশুরা পথে জন্মায়, 
যে অবুঝ শিশুটা মৃতা মায়ের
আঁচল ধরে টানে, যে নির্ভয়ারা- 
মরেও দু: সহ যন্ত্রণা ভোগ করে
তারা বোঝেনা এ স্বাধীনতার মানে। 
যে ছেলেটা বইখাতা ছুঁড়ে
স্টেশন চত্বরে হাত পেতে ভিক্ষা চায়
ওদের মায়েরাও বুঝতে চায়না! 
চেয়ে থাকে বাতানুকূল কক্ষের দিকে
এক উদাস কঠিন দৃষ্টি মেলে। 
যে শ্রমিকরা কাটা পড়ে রেলের চাকায়
তারাও পায়নি এ স্বাধীনতার স্বাদ- 
তিক্ত, অম্ল না মিঠা! 
এ রক্ত কার স্বাধীনতার জন্য? তবে- 
যারা বঞ্চিত হতে হতে বিদ্রোহী হয়, 
দিন বদলের স্বপ্ন দেখে, তারা হয়তো
কিছুটা বোঝে- স্বাধীনতা কী এবং কেন। 
আর, স্বাধীনতার মানে তারাই বোঝে 
যারা শ্রমিকের রক্ত চুষে বিত্তশালী, 
শিল্পপতি- আর কিছু বাংরেজ রাজনীতিবিদ
যারা গিরগিটির মত রঙ পাল্টায়! 
তবু স্বাধীনতা, পেয়েছি তোমায়
অনেক ত্যাগের মহিমায়। 
ত্রিবর্ণ পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে পালন করি
স্বাধীনতা দিবস, খুব আনন্দ উচ্ছাসে। 
কেউ পায় চকলেট, কেউবা উদ্গার তোলে 
মিষ্টি সন্দেশে! ভালো থেকো স্বাধীনতা- 
আবার দেখা হবে ৩৬৫ দিন পরে।

নিখাঁদ দেশপ্রেম


             ✍️সুজন দেবনাথ 

পরাধীন দেশের ওগো সাহসী বীর শহীদেরা,
নিখাঁদ ছিলো তোমাদের দেশপ্রেম। 
তোমাদের গন্তব্য ছিলো স্বাধীনতা, 
তাইতো তোমরা পরাধীন মাতৃভূমি কে-
অধীন করেছো বুকের রক্ত ঢেলে। 

লালে লালে রঞ্জিত করেছো 
দেশ মাতৃকার যুগল চরন।
ফাঁসীর মঞ্চে গেয়েছো যেদিন
তোমরা জীবনের জয়গান, 
তোমাদের মহান আত্মত্যাগে সেদিন থেকে
বাড়িয়েছো এই দেশমাতৃকার মান।

ওগো স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর শহীদরা, 
তোমরা এসো আবার ধরনীর বুকে,
দেখা দাও আরেকটি বার।

দুচোখ ভরে দেখে তোমাদের 
আজ গোটা বিশ্ব করুক অঙ্গীকার।
নিজেকে নিয়ে বেঁচে থাকা নয়,
পরের তরে জীবন দানে এবার 
সকলেই হোক উদার।

দেশ জননীর বার্তা


                ✍️সঞ্চয়িতা শর্মা 

আমি তো তোদের 
সকলেরই জননী।
মম এ বক্ষে মিলেমিশে গেছে
সব অবরোধ বাণী।
ত্রিবর্ণ রঙের আঁচল পেতে
পালন করেছি সবে।
আগলে রেখেছি সন্তান মোর
ঐক্যে সগৌরবে।
ভাইয়ে ভাইয়ে বিভেদ কোথায়?
মা তো সবার এক।
প্রস্তাবনায় মায়ের ছবিটা 
একবার খুলে দেখ।
এক হয়ে যবে,মিলেমিশে সবে,
মায়ের বক্ষজুড়ে,
আনন্দে মোর বুক ভরে উঠে 
সকল ছেলের তরে।
রত্নগর্ভা জননী যে আমি 
সন্তানের গরবে,
শৌর্যে বীর্যে সন্তান মম
একহয়ে সদা রবে।
শান্তির রঙে নীলাভ চক্র 
অক্ষয় হোক তবে,
জগৎ সভায় জননী তোদের
শ্রেষ্ঠ আসন লবে।
         

স্বাধীন স্রোত


                   ✍️পান্থ দাস

 শ্রেষ্ঠ মোদের জাতীয় পতাকা,
তিন রঙের যেন এক অনন্য গাঁথা ৷

কত বীর
জানা অজানা
বিদেশি ছত্রে তাঁরা
দিয়ে গেছে হানা ৷

তাঁর ফলাফল হাতে নাতে,
দেশবাসী চলে সব একসাথে ৷

স্বদেশ প্রেমের
স্বাধীন স্রোতে,
বীর যোদ্ধারা
আর কি টলে ৷

সারা ভারতে এই প্রতিবাদ
জনে জনে আনে মুক্তির স্বাদ ৷

স্বাধীনতার জয়গান


            ✍️মনীষা গুপ্ত পাল

চোখে তোমার স্বপ্ন ধরো 
ওষ্ঠে ধরো স্লোগান ।
হে বীর, তোমার প্রিয় মাতৃভূমি গাহে তোমারই জয়গান।
 গর্জে ওঠো ! শৃংখল খোল!
অবারিত করো দ্বার ।
মুক্তির স্বাদ পেতে হলে-
 বিদ্রোহের আগুন জ্বালো বারবার।
 তোমার ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা নাও ছিনিয়ে।
 নবীনের দাও সাহস, করো বরণ।   করো মুক্তির মন্ত্র উচ্চারণ !
এসো হে বীর,পণ করো সবে
 একদিন জয় তোমারই হবে।

বন্ধনা

           
                  ✍️ অন্তরা ভট্ট

দেশ মাতৃকার করিগো বন্ধনা
দিওগো মোরে তব চরণে ঠাঁই
তোমার পরশ মম হৃদয়ে মাগো
 স্নেহের দোলা দিয়ে যায়।

রাশি রাশি পুষ্প আনি 
দিবগো তোমার চরণে ঢালি
প্রভাতের শাখায় শাখায়
গুঞ্জনীয়া দিল ডাক নব আশায় 
দিকদিগন্ত দিয়ে পাড়ি।

নবীনেরে দিয়ে ডাক
গড়ে তোলো নতুন সমাজ
সেজে উঠুক দেশের সন্তান
ভরে থাক আনন্দ কানায় কানায় ।

আজি এ শুভদিনে
করিগো মিনতি তোমা পানে
উন্নতি যেন তব চরণে পায় ঠাঁই ।।
                           

ভারত আমার কাবু কঠিন রোগে


           ✍️ সুশীল দাস

না দেখা যায়, না ছোঁয়া যায়
স্বাধীনতা  অনুভবের বিষয়।
স্বাধীনতা একক নয়
স্বাধীনতা ভিন্ন রকমের হয়।

একের থেকে স্বাধীনতা লাভ-ই সমগ্র স্বাধীনতার প্রাপ্তি নয়।
কর্মে স্বাধীনতা হীনতায়
মানুষ অলস দায়িত্বহীন হয়।

ভেজালে পড়ার ভয় মানুষের
কর্মোদ্যোগ ও নিষ্ঠার করে ক্ষয়।
সবার স্বাধীন দেশে বাস
অথচ স্বাধীনতার নাই আশ।

সবাই বলে সরকার নাকি
স্বাধীনতা ‌নিচ্ছে কেরে,
সরকারও স্বাধীনতার লাগি
দিশেহারা হয়ে ঘোরে ফিরে।

আবার শুনি পুলিশ নাকি
করছে স্বাধীনতার হরণ
পুলিশেও স্বাধীনতা খুইয়ে
ধরেন কত চরণ।

অফিস আদালত স্কুল কলেজ
সব স্বাধীনতা হীনতায় ভোগে
এমনি করিয়া ভারত আমার
কাবু হয়েছে  কঠিন রোগে।

মধ্যবিত্তের লকডাউন

                 ✍️ জয়জীৎ সুর
                                
 পকেটেও ফুরিয়েছে এসেছে টাকা,
বাজারেও বাড়ছে জিনিসের দাম,
জানিনা কবে খুলবে আবার অফিস,
 কবে আসবে আবার ঘরে টাকা ।

বাড়ছে লকডাউনের মেয়াদ,
বাড়ছে মাথায় ঋণের বোঝা,
ভালোই বুঝছি দাদা,
আর কটা দিন এভাবে গেলে, উড়ে যাবে মাথার ছাদ টা।

 সবজিতে ধরলেই লাগছে হাতে ছ্যাকা,
 মাছ মাংসের দোকানে মনে হচ্ছে রাখা আছে সোনা,
আমরা না হয় থাকলাম পেটে গামছা বেঁধে,
 বাচ্চাগুলো কি আর বোঝে এই লকডাউনের মানে?

না দাদা আমরা ভাইরাসে নয়,
 দুটো ডাল ভাতের অভাবেই, 
আমরা পাড়ি দেবো,
 যমদূতের বাড়িতে।

             

অনুগল্প - বিক্রম রায়


              ✍️ মন্দিরা ভারতী

দুপুরবেলা বর্ডারে যাবার সময় মা বাবা পাড়ার সকল আত্মীয়সজন আসছে আমায় স্টেশনে ছাড়তে। ঠিক এমন সময় রমেন কাকা বলে উঠল ' কি রে.... শহীদ হতে যাচ্ছিস নাকি বাপু'! মা রেগে গিয়ে বলে উঠল - আহ্ ঠাকুরপো... এসব কি অলক্ষনে কথা বলছেন বলুন দেখি। পাড়ার কাকিমারা বলতে লাগল - তোকে আজ আর যেতে হবে না বাছা, কাল চলে যাস। তখন বাবা বললো ধুর্.... যতসব আজগুবি ব্যাপার। বিক্রম চল তো বাবা চল। দেরি হলে ট্রেন মিস করবি। মায়ের চোখের জল দেখে বাবা কাকিমার দিকে চেয়ে বললো - ' বুঝলে ঊষা  যদি এতই ভয় পেতুম তাহলে ছেলেকে আমার ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বানাতুম, ক্ষুদিরাম বা সুভাষের মতো দেশের জন্য লড়াই এর জন্য তৈরি করতুম না। ছেলে আমার ভারতমায়ের সন্তান গো। 
ছলছল চোখে মা বলে উঠল - যেতে যখন হবেই তখন আর দেরি করিস নে বাবা। ভালোই ভালোই পৌঁছে গেলেই হলো। মা ঊষা কাকিমাকে বললো 'আমার বিক্রমকে আমি সেদিনই ভারতমায়ের হাতে তুলে দিয়েছি যেদিন ও দেশের সিপাহি হয়েছিল। ভারতমাতা ঠিক ওকে রক্ষা করবে'। 
মা বাবা সবার কথা শুনে খুব গর্ব হলো। ইতিমধ্যেই ট্রেন চলে এল। বাবা বললো পরের বার যখন যাবি, সাথে বৌমাকে পাঠানোর ব্যাবস্থা করবো। তাহলে আমরা এখানে একটু নিশ্চিন্ত হবো। 
হ্যাঁ হ্যাঁ খুব হয়েছে তোমাদের। এবার আমি আসছি।
বিক্রমের যাওয়ার একঘন্টা পর তার বাড়িতে একটা ফোন আসে। সব যেন নিস্তব্ধ। চারদিক অন্ধকার হয়ে এল তার মা বাবার চোখে। 
       

স্বাধীনতা


               ✍️ অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

স্বাধীনতা তুমি 
ভোরের মিছিল,  শোষণ মুক্তির স্থল।
স্বাধীনতা তুমি 
দাসত্ব মুক্তির জোড়ালো কোলাহল।।
স্বাধীনতা তুমি 
জন জাগরণ, দেশহিতে মৃত্যুবরণ।
স্বাধীনতা তুমি 
শহীদের রক্তে রাঙা উড়ন্ত বিজয় কেতন।। 
স্বাধীনতা তুমি
ছুটন্ত মনে উড়ন্ত প্রাণে বীরত্বের দাবানল।
স্বাধীনতা তুমি
শোষণ মুক্তির চূড়ান্ত ফলাফল ।। 
স্বাধীনতা তুমি 
আপন হারানোর শোক, বীর শহীদের স্মৃতি। 
স্বাধীনতা তুমি 
ইংরেজ বাহিনীর অত্যাচারের ইতি।। 
স্বাধীনতা তুমি 
মুক্ত আকাশে দিলখোলা চিৎকার। 
স্বাধীনতা তুমি 
১৫ আগষ্ট,  শহীদ গণের বার।। 
স্বাধীনতা তুমি 
 মায়ের কান্না, বোনের সিঁতির সিঁদূর।  
স্বাধীনতা তুমি 
ভাইয়ের বলিদান রক্তে রাঙানো সুর।। 
স্বাধীনতা তুমি 
গোলা বারুদের বুকে এক একটি কাটানো রাত। 
স্বাধীনতা তুমি 
হাতে হাত রেখে জোড়ালো কন্ঠে তীব্র প্রতিবাদ।। 
স্বাধীনতা তুমি 
পৃথিবীর বুকে এক নতুন ইতিহাস। 
স্বাধীনতা তুমি
জীবনের বাণী নতুন দিনের আভাস ।।
স্বাধীনতা তুমি 
নব সূ্র্যোদয় রূপালী ভোরের আলো। 
স্বাধীনতা তুমি 
মুক্তি দাতা, তাইতো বাসি ভালো।। 
           
             

স্বাধীন হয়েও পরাধীন


              ✍️ সুপর্না কর

      স্বাধীন হয়েও মোরা
     এখনো যেন পরাধীন।
মোদের স্বাধীনতার চাবিকাঠি,
যেন আজ রাজনীতিরই অধীন।।

     রাজনীতির গেড়াকলে
         সবাই যেন বন্দী।
 সবাই কী আর বুঝতে পারে
      রাজনীতির এই ফন্দি?

      স্বাধীন ভারতে আজও
      কত যে পরাধীন নারী!
     সব কিছু দেখেও মোরা
      কিছু কী করতে পারি?

        তবে কীসের স্বাধীন
            হয়েছি মোরা?
     যেখানে আজও পীড়িত
       মোদের মা-বোনেরা।।

      তবুও কী বলবে সবাই
       হয়েছি মোরা স্বাধীন?
 হোকনা যতই স্বাধীনতা পালন
 মোরা আজও যেন পরাধীন।।

     মেয়েরাও যেদিন পারবে,
 একা রাতের আঁধারে চলতে।
       সেদিনই পারবে সবাই,
      দেশকে স্বাধীন বলতে।।

                                   

রক্তে রাঙানো স্বাধীনতা


              ✍️মিঠুন দেবনাথ

কত রক্ত ঝরেছে এই স্বাধীনতায়,
লক্ষ লক্ষ তাজা প্রাণ হারিয়েছে।
কত মায়ের কোল খালি করেছে,
কত সিঁথির সিঁধুরের গঙ্গা বয়ে গেছে,
সেই দিনগুলো ভুলানোর নয়।
বীরদের জন্য আজকে আমরা নীরাপদ।
যোদ্ধাদের স্মরণ করে এগিয়ে চলা হচ্ছে,
যে স্মৃতিগুলি আমরা ভুলতে পারি না।
রক্তের ছোঁয়ায় ফিরে পাওয়ার আনন্দ,
আজও আমরাই পালন করে যাই
এবং সারা জীবন তা পালন করেই যাবো।
যুব সমাজ সবসময় এগিয়ে থাকবে।

দেশকে যাঁরা করেছিল স্বাধীন


                  ✍️ শাশ্বতী দেব

দেশের মাটিতে জন্মেছিল যাঁরা একদিন, 
দুষ্ট ইংরেজদের কবল থেকে দেশকে যাঁরা করেছিল স্বাধীন। 
দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে এগিয়ে এল যাঁরা, 
উপমা হয়ে রইল আজ ভারতের কাছে তাঁরা। 
ভারতমাতাকে ভালোবেসে যাঁরা দিয়ে গেল প্রাণ, 
তাঁদের স্মৃতি থাকবে সবার কাছে চির অম্লান। 
যাঁরা আজ বলি হল রাস্তায়, 
শহীদ হওয়ার সময় ভারতমাতার গান গেয়ে প্রাণ তাঁদের যায়। 
সংকল্পে ছিল তাঁরা সবাই একই, 
তাঁদের নাম বরাবর সবার মুখে মুখে থাকবেই। 
সহ্য করতে হয়েছিল তাঁদের অনেক কষ্ট আর যন্ত্রণা, 
তাঁদের মধ্যে কেউ আমাদের জানা আবার কেউবা আমাদের অজানা।

আমার ভারত মহান


             ✍️ পৌষালী ভৌমিক

আমার ভারত মহান,
সম্রাট ছিলেন একসময় তার আকবর,
অশোক, আর পৃথ্বীরাজ চৌহান।
১৫ই আগস্ট দিনটি হলো
স্বাধীন ভারতের স্বাধীনতা দিবস,
এই দিনটির প্রতীক্ষায় বহু মহামানব
করেছেন প্রচেষ্টা আজীবন নিরলস।
ভারতমাতা আজ পেরেছে উচ্চে তুলতে শির,
করেছে পবিত্র এই স্থানকে শহীদদের রক্তমাখা নীর।
ভারতমাতাকে জানিয়ে বন্দনা
বঙ্কিমচন্দ্র করেছেন রচনা 'বন্দেমাতরম' সংগীত,
ভারতের জাতীয়তাকে সম্মান জানিয়ে
কবিগুরু দ্বারা রচিত হয়েছে 'জনগণমন' গীত।
ভারতে আজ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একত্রে করছে বাস,
মহামানবের মহাতীর্থ এই মহা ক্ষেত্র মহান।
'ভারতমাতা' সে যে অপরূপা অনন্যা,তুলনা হয় না যার,
সেই দেশের মাটিকে আজ আমার সহস্রকোটি প্রণাম।



আয়না


                     ✍️সীমা দাস

সে রোজ আয়না দেখে,
সবার মত করেই,
রোজকার একই প্রতিবিম্ব।
আজও দেখেছে,
বারবার প্রতিবার।
এক অবাক কাণ্ড,
তার মুখটি আয়নায় 
অবিকল ছবি আঁকে।
ওরাও দেখেছে আয়না,
তার মতই রোজ দেখে।
কখনো তার গা ঘেঁষে,
আবার কখনো পেছন থেকে।
অবাক করার মত,
এক অদ্ভুত ঘটনা।
প্রত্যেকবার আয়নায়,
তার চেহারাটা যেনো স্পষ্ট।
দেখলেই মনে হয়,
ফুরফুরে এক জীবন্ত ছবি।
কিন্তু ওদের বেলায়,
চিত্রটি সম্পূর্ণ আলাদা রকমের।
ছবিগুলি কেমন ঘোলাটে,
আবছা অসম্পূর্ণ দেখায়।
মনে হয় ওদের চোখমুখের সামনে,
অচেনা ছাইভরা চাদর লেপ্টে আছে।
হতে পারে আয়নার ভুল,
না হয় রহস্যে ঘেরা আয়না।



অতীতের কথা

 
                   ✍️প্রিতম দাশ

পলাশীর সেই প্রান্তরে,
বেজেছিল যুদ্ধের দামামা।
 প্রায় দুইশত বছর ধরে,
অপশাসনের কবলে ছিল ভারতীয়রা।

লুণ্ঠনকারী ইংরেজরা,
শূন্য করেছে দেশের সম্পদ ভান্ডার।
শোষণকারী হয়ে পাপীরা,
শোষণ করেছে বুক মোদের দেশ মাতার।

গঙ্গায় ভাসিয়েছে রক্তের বন্যা।
মৃত্যুর স্তুপ জমে হয়েছে পাহাড়।
বৃদ্ধ থেকে শিশু কন্যা,
অত্যাচারীদের হাত থেকে পায়নি কেউই নিস্তার।

শ্রমিক শ্রেণীর শ্রমের ফসল,
হাতিয়ে নিয়েছে লোভীরা।
দুর্ভিক্ষে ভুগেছে দেশ সকল।
সমৃদ্ধ করেছে নিজেদের দেশ ওই অনাচারীরা।

বিপ্লবীদের প্রতিবাদে,
জাগ্রত হয়েছে সবাই।
দেশ মাতা কে স্বাধীন করতেই হবে;
চলো বহিরাগতদের তারাই।

এভাবে হাজারো আত্ম বলিদানে,
হয়েছে এই দেশ স্বাধীন।
সংগ্রামীদের অবদানে,
আজ মোরা ভারতমাতার অধীন।

নারী তুমি আজও স্বাধীন


                 ✍️দিপীকা চক্রবর্ত্তী

যে মেয়েটি স্কুলের বদলে
যাচ্ছে লোকের ঘরে,
কাপড় কাঁচেছে, বাসন মাঝছে
পাচ্ছে অপবাদের হাঁড়ি
অবাধে হচ্ছ নারী ধর্ষণ
সকলের মুখ বন্ধ।
সবাই দেখছে,সবাই জানছে
তবুও চোখ থেকেও আজ অন্ধ।
ছোট বেলায় বাবার কোলে
বড়ো হয়ে পরের ঘর,
বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের অধীন--
হে নারী! তুমি কি আজ ও স্বাধীন?
পেটের দায়ে হাট বাজারে
নারী! তুমি আজ ও ঘুরছ দ্বারে দ্বারে
ডর ভয় আজ করে উপেক্ষা
সুদিন ফিরে পাবার অপেক্ষা--
বিশ্ব দরবারে যুদ্ধ জয় করে--
নারী! তুমি আজ পরাধীন হয়েও স্বাধীন।

হে স্বাধীনতা, তোমায় বুকে জড়িয়ে


              ✍️ প্রিয়াঙ্কা দেবনাথ

তোমায় বুকে জড়িয়ে সুখী হওয়া যায় বলে;
হে স্বাধীনতা,
তোমার কোমল স্পর্শে দাসত্বের কালীমা ঘুঁচে যায় বলে;
পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তে
কত দেশমাতৃকা অকালে হারিয়েছে তার প্রাণপ্রিয় বীর সন্তান।

তোমায় বুকে জড়িয়ে দুঃখ ভুলা যায় বলে,
হে স্বাধীনতা,
তোমায় আঁকরে ধরে সসম্মানে বেঁচে থাকা যায় বলে;
অশ্রু সাগরে জীবন ভাসিয়ে দিল কতো গৃহবধূ ,
রাখিহাতে অপেক্ষায় আজও
বোনদের মৃত প্রাণ।

তোমার ছায়ার নীচে নিশ্চিন্তে শৈশব কাটবে বলে,
হে স্বাধীনতা,
তোমায় বুকে জড়িয়ে মুক্ত পৃথিবীর বুকে বেড়ে উঠা যায় বলে,
স্বাধীন পরাধীনের অর্থ বুঝে উঠার আগেই
পিতৃহারা হয়েছে কত অসহায় সন্তান।

তোমার হাতে হাত রেখে উঁচু করে শির, পথ হাঁটা যায় বলে;
হে স্বাধীনতা,
তোমার কোলে মাথা রেখে দিনশেষে নিশ্চিন্তে ঘুমোনো যায় বলে;
কত গ্রাম শহর অচিরেই হারিয়েছে অস্তিত্ব।
আর্তনাদে কেঁপে উঠেছে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল।

তুমি ভুলে যেওনা হে স্বাধীনতা,
তোমার চোখে চোখ রেখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখবে বলে,
কত উর্বর ভূমি আপন সত্ত্বা বিলিয়ে দিয়ে মরুদ্যান হয়ে গেছে।
তোমায় বুকে জড়িয়ে মুক্তির হাসি হাসবে বলে,
কত নিষ্পাপ মুখ অপলক দৃষ্টিতে দুবাহু বাড়িয়ে
যুগের পর যুগ কাটিয়ে দিয়েছে।