মেঘ বালিকা


                ✍️সুধীর রায়

মেঘ বালিকা!মেঘ বালিকা!
কোথায় তুমি যাও?
মন ভোলানো পাখি তুমি!
একটু দাঁড়াও।

কোন সুদূরে উড়ে বেড়াও-
কোথায় তোমার বাড়ি?
ডানা মেলে উড়তে পারো!
নিষ্প্রয়োজন গাড়ি!

এই ভুবনে তোমার মতো-
কজন আছে সুখি!
ইচ্ছে মতো উড়ে বেড়াও-
আমরা চেয়ে থাকি!

কভু পরো সাদা শাড়ি!
____কখনো বা কালো!
তোমার সাজে রূপের পরী!
____ভীষন লজ্জা পেলো!

রূপের বাহার দেখে তোমার-
_____মনটা যে যায় ছুটে!
তোমার সাথে ভাব জমাতে-
_______ মনে আলো ফুটে!

আবার দেখা হবে


                ✍️গোপাল দে

চলতি পথ,মাঝে মাঝে বাঁক,
হাজারো চড়াই উৎরাই।
আবার কখনো কখনো
বিস্তির্ণ খোলা মাঠ,
খোলা আকাশের হাতছানি।
এ যাত্রা তোমার আমার।
আপনখেয়ালে হারাতে চেয়েছো অনেকবার,
কিন্তু আমি জানি....
এ পথ চলা আরো বাকি,
যেতে হবে অনেকদূর।
হঠাৎ পিছন ফিরে দেখি
ভরসার সেই হাতটি নেই
ফাঁকা রাস্তা,নির্জন নিশ্চুপ।
অজানা কোনো অভিমানে
অতল তলিয়ে গেল
হাতে হাত রেখে বহুদূর যাওয়ার
সেই মিথ‍্যে প্রতিশ্রুতি।
হয়তো অন‍্য কোনো পথে
হয়তো তোমার হাত
অন‍্য কোনো নতুন হাতে।
আশায় বুক বাঁধে প্রাণ,
আবার দেখা হবে...
আবার ভুলত্রুটির অবসান ঘটিয়ে
মিলবো জীবনের অন‍্য কোনো স্রোতে।
আবার দেখা হবে বন্ধু,
দেখা হবে তোমার আমার
স্বপ্নে গড়া সেই পথে।

শোক আর শ্লোক


              ✍️দেবাশীষ সরখেল

আজ রাতে  ক্ষ্যাপা আমি হয়ে গেছি রোদ্দুর রায়  বিশ্বজগৎ করিতেছে হায় হায়
 তুই আমি  হই ছন্নমতি চলে যাই বিশ্বভারতী
 ফিরতি ট্রেনে  আমার মাথা জুড়ে তোর থাই
 তিল কুত্তি   ভিটে জুড়ে  বুনিয়া চলেছে কালের  কানাই
 আমাদের জন্ম নাই মৃত্যু নাই
 যত  অগ্নি'ফুল খাই
 জাহান্নামে যাই যাই করে
 পৌঁছে গেলাম ভদ্রলোকের  চেনা বন্দরে
 হলাম ভদ্রলোক
 আর আমাদের পিছু পিছু ছুটে  মহাজীবনের  শোক
  শোক আর শ্লোক  শোক আর শ্লোক

শীত


          ✍️পার্থজিৎ ভৌমিক

চারিদিকে হিমেল হাওয়া 
বাতাসেতে  বয়।
শীত এলেই শুষ্ক পথ
ধূলো মেখে রয়।

শীতের সকাল চাঁদর মোড়া
শিশির দিয়ে ঢাঁকা।
যেদিক পানেই তাকাই
যেন সাদা ছবি আঁকা।

সবুজ প্রান্তর ডুব দিয়েছে 
কুয়াশারই  তরে।
সূর্য কিরণ উঠতে আজি
বড্ড দেড়ি করে।

সূর্য‍্যি কিরণ উঠলে হেঁসে
 চাঁদর সরে যায়।
পাতার উপর জমা শিশির 
মাটিতে লুটায়।

উদ্বাস্তু উমা


               ✍️শ্যাম মালাকার

আজ একাত্তরের বহু বছর পর 
     পূর্ব বঙ্গ আবারও উত্তাল। 
স্বাধীন বাংলাদেশে আজ 
    সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা ।
অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে যাওয়া 
কুমিল্লার সেই ছোট্ট অভুক্ত শিশুটা - 
       যখন আহত , 
তখন তার মুখে একটাই সুর - 
          মা মা মা ...
বেচারা সে জানেই না  যে 
জগৎ জননী মহিষাসুর মর্দিনী আজ 
          উদ্বাস্তু উমা 
পদ্মার বুকে ভাসছে তরণী, 
   ভূমিচড় দুরু দুরু কম্পিত - 
যেনো কাঁদছে ধরণী।
     স্তব্ধ আকাশ স্তব্ধ বাতাস। 
স্তব্ধ জলরাশী,
   পদ্মার পাড়ে যাইনা শোনা- 
সেই রাখাল বালকের বাঁশি। 
   আজ নোয়াখালি কম্পিত, 
স্তব্ধিত হাজিগঞ্জ আর কুমিল্লা ।
  চিন্ময়ী জননীর সেই - 
 মৃন্ময়ী প্রতিমা তে হয়েছে হামলা । 
  কোরান শরিফ মরকটের পায়ে - 
রেখেছিল কী চিন্ময়ী মায়ের - 
      মৃন্ময়ী প্রতিমা? 
তবে কেনো শাস্তি পেলো - 
     বালক শিশু আর - 
উদ্বাস্তু উমা ? 
     বিজয়ার সিঁদুর খেলার আগেই - 
রক্তের হোলী খেলায় মেতে উঠলো 
   কিছু যবনের দল  ।
হাতে নিয়ে কাটারি কুঠারি- 
    ছিন্ন ভিন্ন করে দিল ,
দেবী অঙ্গের লজ্জা বস্ত্র শাড়ি  ।
    নোয়াখালির যতীন সাহার সেই 
নিথর দেহ টা যেনো মৃত্যুর আগে -
তৃষ্ণার শেষ জলবিন্দুর জন্য - 
   কাতরাতে কাতরারে বলে 
          মা মা মা ...
কিন্ত   আজ যে  তার জগৎ জননী
  মহিষাসুর মর্দিনী মা - 
          উদ্বাস্তু উমা ।
যিনি স্বয়ং আজ যবন দ্বারা 
      হয়েছে নির্যাতিতা। 
  তাঁর দুই দুহিতা 
লক্ষ্মী আর স্বরস্বতির ইজ্জত বাঁচাতে - 
    শত যবনের হাতে তিনি আজ ধর্ষিতা। 
তাঁর দুই পুত্র স্বামীনাথন 
    আর গজানন কে বাঁচাতে- 
তিনি আজ পাগলিনী- 
    ললাট হতে যে দূর্গাদের তেজ প্রবাহিত ,
তারা  আজ কুমিল্লা আর চাঁদপুরের 
    মাটিতে সমাহিত । 
থম থমে আজ ভাষা শহীদের- 
     প্রাণের দেশ ।
স্বাধীনতার এত কাল পরেও - 
   সেখানে কাটেনি পাকিস্তানি 
জেহাদের রেষ  ।
       যে জেহাদের রোষানলে আজ - 
ওপার বাংলার শত শত 
      রক্তে মাংসে গড়া দূর্গারা ধর্ষিতা। 
আজ বিজয়ার পবিত্র  সিঁদুর 
      কুমিল্লার রাঙা মাটিতে ।
সিঁদুর রাঙা রক্তের রঙ - 
    পদ্মার জলে প্লাবিত। 
আজ বাংলাদেশী যবনদের ভয়ে ,
     রক্তে মাংসে গড়া - 
শত শত  মা ষষ্ঠীর কন্যা লক্ষ্মী স্বরস্বতি
 তাদের মান  ইজ্জত নিয়ে  আতঙ্কিত ।
 পদ্মার এপাড়ে দাড়িয়ে - 
 আজ ভাবে শত উমা
   গঙ্গার ওপাড়ে আছে ,
সেই পাপ নাশিনী - 
       রক্তাক্ষ্মী শ্যামা। 
 আজ মনে হয় ওপারের -
শত শত জননী শতাক্ষ্মীর 
   শত আঁখি  থেকে বেদনার 
অশ্রু ঝড়ছে। 
সেই শত অশ্রু ধারা -
     পদ্মার তরঙ্গের সাথে মিশে- 
দক্ষিণেশ্বরীর চরণ ধোয়াবে। 
আজ পদ্মার পাড়ে দাড়িয়ে 
           মা মা মা ......
 বলে ডাকছে শত শত -
        উদ্বাস্তু উমা । 
আজ একাত্তরের বহু বছর পর 
     পূর্ব বঙ্গ আবারও উত্তাল। 
স্বাধীন বাংলাদেশে আজ 
    সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা ।
অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে যাওয়া 
কুমিল্লার সেই ছোট্ট অভুক্ত শিশুটা - 
           যখন আহত , 
তখন তার মুখে একটাই সুর - 
          মা মা মা ...
বেচারা সে জানেই না  যে 
জগৎ জননী মহিষাসুর মর্দিনী আজ -
          উদ্বাস্তু উমা ।

একটি বার্তা তোমাকে তোমাকেই


            ✍️সরখেল দেবাশীষ

যখন তোমাকে দেখে লেখে
 তুমি তা দেখে দেখে  কমেন্ট কিংবা লাইক করো
 তখন অক্ষর শ্রমিকের  জীবন সংহারো  ঘটে যায়।
 রাতের জোনাকির মতো সে  কাঁপে
 ক্ষোভে ও সন্তাপে ।
 এই আত্মদগ্ধ  আত্মরতি  কালি উৎসবের অব্যবহিত আগে।
 সে জাগে  জেগে জেগে কেবলি পোড়াতে থাকে  জীবনের  ঘন কৃষ্ণ জয়ডাক।

 তুই আজ সারারাত জেগে থাক অপ্রেমে

ইচ্ছে ছিলো


         ✍️ আলমগীর কবীর

জীবনে বহু ইচ্ছে ছিলো বর্তমান এলে তলিয়ে যায়
সমুদ্রের ওই অতল গহিনে আর কি তাহা ফিরে পাই।
ইচ্ছে ছিলো মানুষ হবো মানুষ আর আমি হলাম কই
এখন দেখি মানুষের চেয়ে বেশি  অমানুষই সর্বত্রই।

মানুষ হওয়ার ইচ্ছেটাকে ধরে আছি শক্ত হাতে
লেগে থাকি আঠার মতো দেখা যাক কি হয় তাতে।
ইচ্ছে ছিলো দরিদ্রতা একদিন জীবন থেকে চলে যাবে ভেবেছিলাম মনের আশা ভালোবাসা সব পূরণ হবে।

দেখেছি কতো বাবা মায়ের জীবন যুদ্ধের কঠিন লড়াই
অভাব থাকা সত্তেও যে পাইনি কভু ঘাটতি মোরা।
স্কুলের পরে বাকি সময় গরু চড়াই মাঠে গিয়ে
কত রকম গ্রাম্য খেলা খেলতাম মোরা লোকালয়ে। 

কতো রকম ভাবনা তখন আসতো মনের দড়জা বয়ে 
আমিও যদি পড়তে পারতাম দূরের কোনো স্কুলে গিয়ে।
এমন করে ধিরে ধিরে শেষ হইলো স্কুল জীবন
শুরু হইলো পরের ধাপে পড়াশুনার বীজ বপন। 

এরই মাঝে কতো রকম ইচ্ছে ছিলো হারিয়ে গেছে
আরো ইচ্ছে জন্ম নিলো এখনো তা বেঁচে আছে।
ইচ্ছে ছিলো ইচ্ছে আছে ইচ্ছে একটাই মানুষ হব
এ ইচ্ছেটাই পূণ্য পেলে জীবনে অনেক শান্তি পাবো।

যদি আবার সময় পেতাম


                 ✍️সুজন দেবনাথ

যদি আবার সময় পেতাম
নতুন ভাবে উদয় হতাম,
নবীন আলোয় রাঙাতাম ভূবনটা।
যদি আবার সময় পেতাম--
সমস্ত ভুল সূদরে নিতাম,
নতুন করে সাজাতাম জীবনটা।

যদি আবার সময় পেতাম--
স্বপ্নগুলো গুছিয়ে নিতাম,
জীবন নদী হোকনা আঁকাবাঁকা।
যদি আবার সময় পেতাম--
শৈশবটাকে খুঁজে নিতাম,
আপন মনে আঁকতাম দিগন্তরেখা।

যদি আবার সময় পেতাম--
আনন্দ সব বিলিয়ে দিতাম,
বন্ধু বলে জায়গা পেতাম অন্তরে।
যদি আবার সময় পেতাম--
আর্তজনের সঙ্গী হতাম,
দুঃখীর তরি বাইতাম সুখ সাগরে।

যদি আবার সময় পেতাম--
সত্যি যদি আবার সময় পেতাম।

উচ্চারন


                 ✍️চন্দন পাল

এখন সময় স্পষ্ট উচ্চারণে র
আর অনিহা নয়, নম্রতা ছেড়ে স্বর চড়া হোক । 
স্বচ্ছতার পক্ষে, আত্মজার অকুতোভয়ে।

বেলাইনে আছে যারা কৌশলে চাপবো। 
একদিন তারাই ! চ্যায়ারম্যান সাজবে। 

হয়তোবা,  চাপটা তাকে পথ দেখাবে।
যোগ্য ত্রাতা কিংবা অভিভাবক হতে।

ঝুঁকির কোলে,  আজ সময় দিন, 
কাল সময়-সম্পদ সাশ্রয় হতে পারে।

 দুষ্টদল আকারে বাড়ে বন্ধুসুলভ দুষ্ট প্রীতিতে, প্রাপ্তিতে।  
ধৃষ্টঐক্য বিবর্তনের কোন যুক্তিতে, নিজেরাও জানেনা।
অজান্তে প্রতিষ্ঠা পায়, অন্যায় ব্যাভিচার। 

ওরা নগণ্য, আমরা অনেক।
শুধু, নব্বই ভাগ একসাথে নামতে বাকি।

এমনিতেও ছিটকে পড়ে, কত কাটাছেঁড়া হয়। 
মারবে মারুক, দলবেঁধে, তার ঘর ছিঁড়ে আনবো,  ওষুধের টাকা ।
শুধু, নব্বই ভাগ একসাথে উচ্চারণ বাকি । 

অভিযোগ


             ✍️অনামিকা দও (অনু)

ভালো রাখতে চেয়েছিলাম তাকে 
সকল বিপদের আড়ালে
 কিন্তু সে ভালো থাকতে চাইল কই?
বহুদিনের জানাকে খুব অজানা মনে হয়
 জানতে তো চেয়েছিলাম বহুবার জানতে সে দিল কই? আজও একলা রাতে স্মৃতিগুলো আকড়ে কাঁদি
 সে আর কাঁদল কই?
বোঝাতে তো চেয়েছিলাম বহুবার, বহুপ্রকারে 
জেদের বশে সে আর বুঝলো কই? 
জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিলাম,ভালোবাসতে চেয়েছিলাম 
সে আর ভালোবাসতে দিল কই?

প্রতারণা

      
                      ✍️ বিপ্লব গোস্বামী

নীলা তার মা বাবার খুব আদরের মেয়ে।বয়স চার  হতে না হতেই বাবা তাকে নামী ইংরেজি মাধ‍্যম স্কুলে ভর্তি করে দিলেন।মা বাবার খুব ইচ্ছে ছিল তাদের মেয়ে পড়াশোনা করে বড় মানুষ হবে।গান শিখে খুব নামী গায়িকা হবে।তাই অল্প বয়সেই নীলার জন‍্য তার বাবা হারমোনিয়াম কিনে আনলেন।সিদ্ধান্ত নিলেন সঙ্গিত বিদ‍্যালয়ে ভর্তি করার। নীলার মায়ের সঙ্গে তিনি গল্প করতেন , দেখবে মিনা আমাদের মেয়ে এক দিন খুব নামী গায়িকা হবে।আর যেদিন আমাদের নীলা টিভিতে গান করবে সেদিন সবাইকে আমি ডেকে বলব,দেখো আমার নীলার গান টিভিতে দেখাচ্ছে।মিনাও বলতেন সত‍্যি গো আমাদের মেয়ে একদিন খুব বড় গায়িকা হবে।
              গোপাল বাবুর আর সেই ইচ্ছেটা পূরণ হয়নি।মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কর্কট রোগে গোপাল বাবুর  মৃত‍্যু হয়।নীলা সেদিন স্কুলে ছিল।স্কুল তখনও ছুটি হয়নি।তখন  একজন লোক গিয়ে নীলাকে স্কুল থেকে নিয়ে এলেন।নীলা সেদিন কিছুই বুঝতে পারেনা।বাড়িতে এসে দেখল বাড়িতে অনেক লোকের ভিড়।বাবাকে উঠানে শুইয়ে রাখা হয়েছে।বাড়িসুদ্ধ সবাই মাকে বুঝাচ্ছেন।সে কিছুই বুঝতে পারে না ।সে মায়ের কাছে যেতেই মা তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।মা বলতে লাগলেন নীলা তোর বাবা আর নেইরে,ও আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। নীলা মাকে বলল,"বাবা কোথায় গিয়েছে ? বাবা কি আর কোন দিন আসবে না ?" মা বললেন না সোনা ও আর কোন দিনও আসবেনা।এ কথা বলে মিনা নীলাকে বুকে ধরে আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন।নীলি  সেদিন কিছুই বুঝতেই পারেনা।
                  সেদিন বাবার জন‍্য নীলা কাঁদেনি কিন্তু আজ কাঁদছে।আজ সে বড় হয়েছে,বুঝতে শিখেছে।বুঝতে পারছে বাবার অভাব।বাবার মৃত‍্যুর পর মিনা অনেক কষ্ট করে নীলা ও ছোট মেয়ে  চাঁদনীকে বড় করেছেন।নীলা ও চাঁদনীকে কোন দিন বাবার অভাব বুঝতে দেননি।মিনা গোপাল বাবুর ইচ্ছে পূরণ করতে ছোটবেলাতেই নীলাকে গানের স্কুলে ভর্তি করে দিলেন।নীলা যখন বুঝতে শিখল তখন মিনা গোপাল বাবুর ইচ্ছের কথা নীলাকে বললেন।নীলা বাবার ইচ্ছেটা স্বপ্ন করে বুকের ভিতর পুষতে লাগল।গানের স্কুলের সব শিক্ষকই তাকে খুব আদর করতেন।দত্ত স‍্যার বলতেন "নীলা তোমার কণ্ঠ খুবই মিষ্টি,তুমি একদিন খুব ভালো গায়িকা হবে।"
             একদিকে পরিবারের ভরণভোষণ অন‍্য দিকে দুই মেয়ের পড়াশুনা অর্থ যোগাতে মিনার অনেক অসুবিধা হতে লাগল।অর্থের অভাবে গানের ডিগ্ৰি সম্পূর্ণ না করেই পড়াশুনা বন্ধ করতে হল নীলাকে।দু পয়সা রোজগারের জন‍্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে গান শিখাতে লাগল নীলা। যাতে মাকে একটু হলেও সাহায‍্য করতে পারে তাই।
              বাবা ইচ্ছে পূরণের স্বপ্নটা নীলাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল।প্রথমে পাড়ায় অনুষ্ঠান হলে গান করত।তাতে খুব প্রশংসাও পেত।তার পর আস্তে আস্তে  লোকের ডাক পড়তে লাগল।ছোটখাট অনুষ্ঠানে খুব নাম হতে লাগল।সংস্থা-সংঘ থেকে অনেক পুরস্কারও পেয়ে গেল।একদিন শহর থেকে আসা এক বড় নামী শিল্পীর অনুষ্ঠানে ভাগ‍্যক্রমে গান করার সুজুগ হয়ে গেল নীলার।গান শেষে এক ভদ্রলোক নীলাকে ডাকে বললেন "কি নাম তোমার ? ভালো কণ্ঠ তোমার।বেশ ভালো গেয়েছো।"এই বলে উনি উনার পকেট থেকে একটা কার্ড নীলাকে দিয়ে বললেন এতে আমার মোবাই নাম্বার আছে যোগাযোগ করবে।আমি তোমার গান রেকর্ড করবো।নীলা আনন্দে আত্ম হারা হয়ে যায়।ভাবতে লাগল এবার হয়তো  বাবার স্বপ্নটা পূরণ হবে।     
          বুক ভরা আশা নিয়ে নীলা উনার সঙ্গে যোগাযোগ করল ।উনার বলা ঠিকানায় গিয়ে উনার সাথে দেখা করল।উনি নীলাকে গান রেকর্ড করার জন‍্য গান শিখাতে লাগলেন।নীলাকে প্রতিদিন যেতে হত উনার কাছে।কিছু দিন পর উনি নিজে আসতে লাগলে নীলার বাড়ীতে।এভাবে বছর দিন কেটে গেলে।এক দিন উনি নীলাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেন।নীল বিশ্বাসই করতে পারছিল না এত বড় এক জন মানুষ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছেন।এ তো স্বপ্ন নয়।প্রথমে নীলা প্রস্তাবে রাজি না হলেও  ধীরে ধীরে উনার প্রতি আকৃষ্ট হতে লাগল।
            বিজয় ব‍্যানার্জী সম্ভ্রান্ত  পরিবারের সন্তন।বছর ত্রিশের তরতাজা যুবক।সুন্দর চেহারা।একটু হালকা গঠন।সব চেয়ে আকর্ষনিয় হচ্ছে তার হাসি।তার আকর্ষণীয় পুরুষোচিত চেহারা এবং সুন্দর হাসি নীলাকে এতটা বিমোহিত করেছিল যে নীলা বিজয়কে মনে মনে স্বামীর আসনে বসিয়ে ঘর বাধার স্বপ্ন দেখতে লাগল।
        নীলা বিজয়কে সত‍্যি ভালোবেসে ছিল।ফলে তার সব কিছু বিজয়কে সঁপে দিয়েছিল।দিন দিন বিজয়ে অধিকার বোধ বাড়তে লাগল।এক সময় নীলা গর্ভবতী হয়ে যায়।ফলে নীলা বিজয়কে বিয়ের জন‍্য চাপ দিতে থাকে।বিজয় নীলার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। নীলার মোবাই নং ব্লক করে দেয়।অনেক কষ্টে নীলা দেখা করলে বিজয় বলে আমার দ্বারা তোমাকে বিয়ে করা সম্ভব নয়।এক কাজ করতে পারি, আমি তোমাকে লাখ খানেক  টাকা দিচ্ছি তুমি ভালো এক নাসিংহোমে গিয়ে এবরশন করে নাও।এতে তোমারই ভালো।আর যা হয়েছিল তা ভুলে যাও।এ কথা বলে বিজয় চলে যায়।নীলার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল।গা কাঁপতে লাগল।দম বন্ধ হয়ে আসে।দু চোখ দিয়ে জল আপনা হতেই ঝরতে লাগে।যাকে এত দিন  নিজের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করত।যাকে নিজের  জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবেসেছিল। সে আজ বলছে ভুলে যেতে ,এবরশন করে নিতে।বিজয়ে মুখ থেকে এমন কথা শুনবে তা কোন দিন কল্পনাও করেনি নীলা।নীলার পবিত্র ভালোবাসা ,বিশ্বাস আর সতীত্বের বিনিমনে টাকা দিতে চাইছে বিজয়।নীলা কিছুতেই এ কথা মেনে নিতে পারে না।বিজয়ের মতো এট সম্ভ্রান্ত ঘরে ছেলে,এত বড় মাপের মানুষ এমনটা করতে পারে তা বিশ্বাস করতে পারছিল না নীলা।অবশেষে অপমানে -দুঃখে নীলা আত্মহত‍্যার পথ বেচে নিল।

দেয়াল লিখন


              ✍️দীপ্র দাস চৌধুরী

স্বপ্নেরা আজও দেয়ালে লিখছে নাম
বিকেলটা আজও সুতো ছিঁড়ে যাওয়া ঘুড়ি,
পেছনে রেখেছি জলে ডুবে যাওয়া গ্রাম
শহুরে পাখনা ভর ক'রে তাই উড়ি।

কাগজে দেখেছি সংগ্রাম কাকে বলে,
ভেসে যায় কত রক্ততে রাজ পথ।
সে'সব ভাসিয়ে পুকুর-নদীর জলে-
আমরা নিচ্ছি বেঁচে থাকার শপথ।

গেঁথে যায় কত বুলেটের গুলি বুকে!
আমরা দেখেও না দেখার ভান করি...
কানেই নেব না বলবে যা নিন্দুকে
প্রতিদিন হব দুঃখর সহচরী।

স্বপ্নের শুধু দেয়াল লিখন কাজ
আমাদের কাজ সেগুলোকে মুছে ফেলা,
লজ্জারা যদি চোখে নেমে আসে আজ
দু'চোখ ঢাকবো, বন্ধ করব খেলা।


নাগরিলিপি


                 ✍️গোবিন্দ ধর 

আমিও শ্রীহট্টীয়জাতক।
আমাদের পূর্ব পুরুষের নিজস্বলিপি ছিলো।
লিপি হারিয়েছি আমরা।
দেশ হারিয়েছি ঠাকুরদা যখন মিঞারপাড়া 
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হেডস্যার থেকে
এক কাপড়ে ইন্ডিয়ায় চলে এলেন সেদিনই। 

এক তো লিপি হারানো বালক।
তার উপর উদ্বাস্তু। বাস্তু হারানো আমিও।

আমাদের দেশ ছিলো সিলেট। 
আমাদের দেশ হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে 
স্বাধীন বাংলাদেশ। 

ইন্ডিয়ায় আসা আমাদের মাথার উপর লটকে আছে ভয়।
কখন কাগজ নেই বলে টেনে নিয়ে যায় রাষ্ট্র। 

ডিটেনশন ক্যাম্পে আতঙ্কিত মানুষের ছবি দেখে 
উদ্বাস্তু ভুত মাথায় ঢুকে 
পুনরায় কামড়ে ধরে বিলুপ্ত নাগরিলিপি।

প্রেমের ঘোর


                   ✍️শিখা চৌধুরী 

না হয় একটু পরে এলে
প্রতীক্ষা দির্ঘ হোক, 
না হয় তোমার আশায় আশায় 
একটি নদী হোক।

না হয় থাকলো এলোমেলো 
কোমল কালো কেশ,
সযতনে থাকবে তবু
ভালোবাসার রেশ।

না হয় একটু দুঃখ ব্যথা
দিলে হৃদয় চোর,
সারাজীবন থাকবে তবু
বেঘোর প্রেমের ঘোর।

দেখছো


               ✍️দুলাল সরকার

চেয়ে চেয়ে দেখছো তুমি,
দেখছো প্রতিক্ষণ।
মানুষ হয়ে মানুষের তুমি,
 ভাঙ্গ কত মন।।
বাস করছ ভূবন্ধে তুমি,
রাজ করছ রাজ‍্যে।
তবুও তোমার পৌষায়নি,
ভাগ বসাও ধর্মে।।
আর কত ভাঙবে বাড়ি,
ধর্মের খোচা দিয়ে।
এবার তুমি শান্ত হও,
ভালো মানুষ হয়ে।
এ জগতে সৃষ্টি,
মানুষের ওপরে নান্ট।
তবে কেন মানুষ মানুষকে 
কাটিয়া বেড়ায়?

আনন্দ বিষাদ


               ✍️মায়া রানী মজুমদার 

পূজোর আনন্দে মাতোয়ারা সবাই গ্রামে শহরে।
হারিয়ে যেতে মন চায় এই মহানন্দের ভীড়ে।।
ষষ্ঠী সপ্তমীতে মাতলো সবাই আনন্দেতে বেশ।
অষ্টমীতে হালকা বৃষ্টি,সুন্দর আবহাওয়ার রেশ।।
নবমীটাও  কাটলো ভাল, বন্ধু পরিজন সাথে।
পূজোতে শুভেচ্ছা বিনিময় হলো দিনে রাতে।।
রাস্তার দু'ধারে দোকানীরা সাজিয়ে বসেছে পসারী।
কেনাকাটা,খাওয়া সেরে চলে পথে সারি সারি।। 
আনন্দেতে কাটলো পূজার এই তিনটি দিন।
দশমীতে স্বামীগৃহে প্রত্যাবর্তনের নির্ঘন্ট দিন।।
পরাজিত করেছিলেন মহীষাসুরকে দশম দিনে।
নিধন করে অসুর, ফিরলেন কৈলাশে ঐ দিনে।।
প্রতিবৎসর তাই দশমীতে ফিরে যান স্বামীগৃহে।
ভঙ্গ হয় মর্ত্যের আনন্দ, মনুষ্যরা রয় বিরহে।।
বৎসরান্তে আবার মায়ের সাথে পুনরায় মিলন।
সেই দিনেরই অপেক্ষাতে সবাই রইবো  সারাক্ষণ।।