সম্পাদকীয়....................✍️
কবি দেবব্রত'র অনুপস্থিতিতে শব্দের উপস্থিতি......
কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া শব্দেরা থেকে যায়—নীরব অথচ দীপ্ত, স্থির অথচ গভীর। আজ যাঁর স্মরণে এই সাহিত্য সংখ্যা, তিনি তেমনই একজন কবি দেবব্রত। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের সময়ের সাহিত্যভূমিতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে, কিন্তু তাঁর কবিতা সেই শূন্যতার মধ্যেই আলো জ্বেলে রেখেছে।
তিনি কবিতা লিখতেন জীবনের গভীর তলদেশ থেকে—যেখানে আনন্দ ও বেদনা, প্রেম ও প্রতিবাদ, নিঃসঙ্গতা ও স্বপ্ন একে অপরের সঙ্গে কথা বলে। শব্দের প্রতি ছিল তাঁর অদম্য দায়বদ্ধতা। সহজ উচ্চারণে তিনি বলে যেতেন কঠিন কথা, নিঃশব্দে তুলে আনতেন সময়ের আর্তনাদ। তাঁর কবিতা পাঠ মানেই ছিল নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা।
এই সাহিত্য সংখ্যা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আমরা কোনো শোককে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে চাইনি; বরং চেয়েছি তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে আবার একবার সংলাপে বসতে। এখানে নানান কবিদের সংকলিত লেখাগুলো—কবিতা, প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণ—সবই এক একটি জানালা, যার ভেতর দিয়ে আমরা ফিরে তাকাই তাঁর জীবন, ভাবনা ও স্মৃতিচারণের দিকে।
একজন কবির মৃত্যু মানে কেবল একজন মানুষের প্রস্থান নয়; তা এক ধরনের নীরবতা। কিন্তু সেই নীরবতাকে ভেঙে দেয় তাঁর লেখা—বারবার, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আমরা বিশ্বাস করি, এই সাহিত্য সংখ্যা পাঠকের হাতে পৌঁছালে সেই নীরবতা আবারও অর্থবহ হয়ে উঠবে।
এই সংখ্যাটি আমরা উৎসর্গ করছি সেই কবিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছেন—মানুষ চলে যায়, কিন্তু কবিতা থেকে যায়। শব্দের মধ্যেই বেঁচে থাকে স্মৃতি, সময় আর ভালোবাসা। নবোন্মেষ তোমার অভাব সর্বদা অনুভব করবে।
ইতি- নবোন্মেষ
সম্পাদনায়- গৌরাঙ্গ সরকার
অক্ষর বিন্যাস- জয়জীৎ সুর
ডিজাইন- শিবশংকর দেবনাথ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন