সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়............................✍️
পহেলা বৈশাখ বা পয়লা বৈশাখ নববর্ষের  প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি সকল বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশে জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন লোকউৎসব হিসাবে বিবেচিত। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বাংলাদেশের প্রতি বছর ১৪ই এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। বাংলা একাডেমি কর্তৃক নির্ধারিত আধুনিক বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে এই দিন নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে চান্দ্রসৌর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। এছাড়াও দিনটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটির দিন হিসেবে গৃহীত। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা দিনটি নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে বরণ করে নেয়।

এই উৎসবটি শোভাযাত্রামেলা, পান্তাভাত খাওয়া, হালখাতা খোলা ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন করা হয়। বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছা বাক্য হল “শুভ নববর্ষ”। নববর্ষের সময় বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ২০১৬ সালে, ইউনেস্কো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এই উৎসব শোভাযাত্রাকে “মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে ঘোষণা করে।

বাংলা দিনপঞ্জীর সাথে হিজরী এবং খ্রিস্টীয় সনের মৌলিক পার্থক্য হলো হিজরী সন চাঁদের হিসাবে এবং খ্রিস্টীয় সন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এ কারণে হিজরী সনে নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যায় আকাশে নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার পর আর খ্রিস্টীয় সনে নতুন দিন শুর হয় ইউটিসি±০০:০০ অনুযায়ী। পহেলা বৈশাখ রাত ১২টা থেকে শুরু না হয়ে সূর্যোদয় থেকে শুরু এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে, ঐতিহ্যগত ভাবে সূর্যোদয় থেকে বাংলা দিন গণনার রীতি থাকলেও ১৪০২ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ থেকে বাংলা একাডেমি এই নিয়ম বাতিল করে আন্তর্জাতিক রীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতে রাত ১২.০০টায় দিন গণনা শুরুর নিয়ম চালু করে। আমাদের এই বৈশাখী সংখ্যায় বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছে কবি পান্থ দাস এবং নবোন্মেষ এর অন্য সদস্যরা। 

ধন্যবাদান্তে,

গৌরাঙ্গ সরকার

(নবোন্মেষ সম্পাদক)

শিবশংকর দেবনাথ

( সহসম্পাদক, নবোন্মেষ)

"ডাস্টবিন"

✒️দীপক রঞ্জন কর

পথের মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা 
আমি এক ডাস্টবিন,
সৃষ্টি আমার স্বচ্ছতার কাজে 
ব্রতী থাকি রাত দিন।

আমার জনম সার্থক করো
করো যথা ব্যবহার,
পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত
করেই যাব উপকার।

বাগান,মন্দির, বাজার হাটে
সর্বত্রই আমায় পাবে,
পরিবেশ পরিচ্ছন্নতায় সবাই
 যত্নবান হতে হবে।

পরিবেশ সুন্দর নির্মল রেখো
 রেখো দূষণ মুক্ত 
 স্বচ্ছতার সেবায় ডাস্টবিন আমি
 সর্বদা আছি নিযুক্ত ।

নৌকায় আমার প্রিয়া

✒️রিপন সিংহ 

বসন্তের শেষ লগ্নে আমি বসে রইলাম নদীর মোহনায়,
সারসের নরম নরম ডানায় সূর্যের আলো নিভে যায়।

আকাশে অমৃতাংশু তারার সাথে বসন্ত খেলা করে,
কি মনোরম দৃশ্য তোমার সেই ভাব সহসা মনে জাগে।

হঠাৎ দক্ষিণ প্রবাহ হয়ে নৌকা নিয়ে চলে আসলে,
চাঁদের আলোতে তোমার বদনখানি নয়নে নেশা লাগে।

প্রেমের প্রবাহ আমার কর্ণে এসে ছোঁয়া লাগে,
তোমার নেশায় আমি স্বগতে বিভোর হয়ে ওঠে।

নৌকা থেকে তোমার রাঙা হাত বাড়ালে আমার কাছে,
তোমার হাতে হাত রেখে নৌকায় উঠিলাম সনে।

চাঁদনী আঁধারে নৌকায় বসে থাকি তোমার সনে,
রাত জেগে ভেসেছি তোমার আমার প্রেমের স্বপ্নে।

পৃথিবী আজ থমকে গিয়েছে তোমার আমার অনুরাগে,
জোনাকির আলপনায় চারিদিক সেজে উঠে নতুনভাবে।

ক্ষণিকের মধ্যেই আমি তোমার কাছে বন্দী হয়ে গেছি,
প্রেমের স্বপ্ন দেখতে দেখতে দক্ষিণ প্রবাহে ভেসে গেছি।

আমি বারবার হারিয়ে যায় তোমার সেই ছলনা রূপে,
যদি ফিরে পাই তোমারে আবার সেই কূলে।

শীতঘুম

 ✒️ শুভ্রা দেব

আধুনিকতার চাদর গায়ে 
শতাব্দীর হাত ধরে আজ বহুক্রোশ এগিয়ে,
মলিনতায় চেপে থাকা অস্তিত্বের
শেষ নিঃশ্বাস গুণছে অনির্বাণ। 

পৃথিবীর কানেমুখে শিস তুলে 
ক্ষুধাতুরের করুণ আত্মকাহিনী। 
  
গুটি কতক পায়ে শীতঘুম কাটিয়ে 
হাই তুলে একঝাঁক কোকিল।

রাত যত বাড়ে

✒️মধুমিতা চৌধুরী বর্ধন

টিকটিক শব্দে
ঘড়িটা বেজে চলেছে,
চারিদিক নিস্তব্ধ
অন্ধকারে আবৃত।
জানালায় কান পাতলে শোনা যায়
টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ,
দরজার বাইরের দৃশ্যটা ঝাপসা
যেন অনেক দূর পর্যন্ত
কালো চাদরে মোড়া
এ যেন এক
মায়াবী দৃশ্য।
কোন অতৃপ্ত অশরীরীর চলাচল
এই কালো চাদর ভেদ করে,
হয়তো চলে আসবে সে
হতে পারে সে পাশের বাড়ির কেলু।
চাকরিটা যে খোয়া গেল তার
হারিয়ে গেল সে সেই হাজার হাজারের ভিড়ে
পাড়াপড়শিদের গঞ্জনা আর অপমান
কেড়ে নিল কেলুর প্রাণ।
এইতো কিছুদিন আগেই
বাড়ির আম গাছ তলায়
আচমকা জমেছিল ভিড়
কাছে যেতেই দেখেছিলাম
কেলুর বিবর্ণ মুখটা
সেই মুখ যেন ছিল।
এই রাত থেকেও বেশি অন্ধকার
আত্মঘাতী কেলুর
ওই মুখে লুকিয়ে ছিল
শত চিৎকার ও হাহাকার
ছিল অনেক অব্যক্ত কথা।
ছিল শত অভিমান
সব যেন মিশে আছে এই রাতের অন্ধকারে
এই নিস্তব্ধ রাতের গভীরে
এসব ভাবতেই
সমগ্র শক্তি দিয়ে
বন্ধ করে ফেলি দরজা সশব্দে
এরপর আবার সব চুপ
একলা ঘরে রয়েছি বসে একা
এই রাতে যেন
আমিও এক অশরীরী ।
ব্যক্ত করতে চাইছি অনেক কিছু
কিন্তু এই ব্যাকুলতা
কারো কানে পৌঁছবে না
আমিও যেন ভাঙতে চাই
এই নিস্তব্ধতা,
কিন্তু অন্ধকারের আকুলতা নিয়ে
এভাবেই রাত বাড়ে
ঘরে ও বাইরে।

আজ প্রলয় উল্লাসে

 ✒️চিন্ময় রায়

গোধূলি লগ্নে আকাশ পানে তাকিয়ে দেখি -
    রক্তবর্ণ সূর্যাস্তের ছাপ। 
ক্ষীণ হয়ে বেঁচে থাকা হয়তো,
    মানবের মাঝে মস্ত বড় অভিশাপ। 
সমাজ আজকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রলয় কণ্ঠস্বরে, 
মিথ্যের জয় হয় সর্বত্র আজ,
   সত্য বহুদূরে! 
কানে বাজে আছে প্রলয় হুংকার,
 কন্ঠে অট্টহাসি। 
শোনা যায় শুধু মহাকালের ডমরু, 
শুনিনা শ্যামের বাঁশি। 
নৃত্য তান্ডব চলছে অবিরাম, 
    গতানুগতিক ধারায়। 
নিজের প্রিয় মানুষ রাখতে চাইলেও, 
    সেও আজকে হারায়। 
প্রলয় হস্তে মহাকাল মোর সংহারকের  ভূমিকায়, 
   মানবের মাঝে প্রশ্ন হাজার -
     কে তারে গো খুঁজে পায়?
চলছে প্রলয় চলছে নাচন,
    আপন মৃদঙ্গের তালে। 
চিৎকার করি তখন মোরা-
     আপন কেউ হারালে। 
ললাট পানে তাকিয়ে দেখি, 
   আগুনের লেলিহান শিখা। 
মুখচন্দ্রে চোখ পড়ে যখন, 
      পাইনা চন্দ্রের দেখা। 
চন্দ্র আজকে হারিয়ে গেছে!
    আগুন উষ্ণের ফলে। 
চলছি আজও সাহস রেখে, 
    প্রভু তোমার বল এ।

একটি পুকুর ও এঁদো ডোবা

✒️চৈতন্য ফকির 

আমাদের যৌথ পরিবারে তখন একটি পুকুর ছিলো।
একটি পানাপুকুর। পানাপুকুরকে আমরা ডোবা বলতাম।
একেবারে এঁদোডোবা যাকে বলে।
ছোটবেলা এই ডোবায় খাবি খেতে খেতে সাঁতার শিখি।

দুপুরে বড়শিতে জিওল ধরি।সকালে ফুলকপি ক্ষেতে
কলসি ভরে ভরে জল এনে বাড়ির দক্ষিণে দিতাম।
ঠাণ্ডায় হাত হিম হয়ে কেটে পড়বে এত শীতল তার জল।
গরমের সন্ধ্যায় পচাজলকেও মনে হতো 
বরফের দেশে স্বান করছি।
শরিকি পুকুরে মাছচাষ হতো।
মাঝেমাঝে মাছশিকার করে
ভাতাভাগি করে কারো পাতে মাগুর তো কারো শিংকইলাঠিগুলো যেতো।তা দিয়েই নানান স্বাদমতো 
রান্না চড়াতেন মা কাকি ঠানদিরা।

পাশের পুকুর ছিলো ঠাকুরদা মন্মথ আর ঠানদি রাণীর।
জলে নামলেই নানান নিষেধ। 
সকল নিষেধ ডিঙিয়ে আমরা মাঝেমাঝে স্নান সারতাম
সিগ্ধ লাগতো শরীর।

এখন আমাদের বাথরুম আছে সেই পানাপুকুর নেই 
এঁদো ডোবা নেই। বুকজলে স্নান নেই। 
মাছ শিকার নেই। যৌথ পরিবার নেই। ফুলকপি ক্ষেত নেই। 

যৌথ পরিবারের সেই সব দিন নেই আছে শুধু 
ভিডাব্লিউ এসের জীবাণুমুক্ত ব্লিচিং পাউডারজল।

নেই সে এঁদো ডোবা ও বিশুদ্ধ পুকুর! 

হারিয়ে যাই

✒️পান্থ দাস

হারিয়ে যাই
একাকী রাতে,
মন আটকানো
বন্ধ আলোতে ।

হারিয়ে যাই
গোলাপের ঘ্রাণে,
ভ্রমরের পাখনায়
ছুটে চলি বনে।

হারিয়ে যাই
ধুলো মাখা স্মৃতিতে,
মেঘ জমে মনে
আর ভিজে চোখ বৃষ্টিতে।

নতুন বছর

✒️মনচলি চক্রবর্তী 

পয়লা বৈশাখ মানেই 
 নতুন বছরেকে নতুন রুপে,
নতুন আবেশে ডাকা।
নতুন ভোরে নতুুন সূর্য কিরনে
 জীবনকে নতুন রূপে আঁকা। 
শিমূল পলাশ কৃষ্ণচূড়ায় রাঙিয়ে 
বসন্ত শেষে নতুন সাজে বৈশাখ আসে। 
বসন্তের রং মাখিয়ে নতুন সবুজকুঁড়ি
নিয়ে নতুন আভরনে বৈশাখ হাসে।
পুরাতন সব দুঃখ, কষ্ট, জড়া, ব্যাধি, গ্লানি পেছনে ফেলে,
সব সুখস্মৃতি মনেতে রেখে গোপনেতে।
পয়লা বৈশাখকে, নতুন বছরকে,  
নতুন প্রভাতকে করববো আহ্বান আনন্দতে।
 বর্ষবরন আসে কোকিলের মধুর সুরে
 প্রতিটি হৃদয় থাকে উৎসবে, উল্লাসে জুড়ে।
সব হিংসা বিদ্বেষ বিভেদ আমরা ভুলে 
মনের গোপন দ্বার সব দেবো নতুন বছরে খুলে।
মনের সাদা খাতা থাকে নতুন বছরের অপেক্ষায়,
নতুন সূর্য উঠার, নতুন ভাবে বাঁচার আশায়।
নতুন সূর্য 
 নতুন আশা লিখে রাখে মনের খাতায়। 
নতুন বছর
নতুন প্রেম নতুন স্বপ্ন হৃদয়ে সাজায়।
বর্ষবরনের মিলনের মেলায়
 বাধা থাকে সবার হৃদয়ের তান।
ফুলে ফুলে, মিষ্টি গন্ধে ভ্রমরেরা 
করে যায় নতুনের গান।

প্রকৃতির আজ্ঞা

✒️মায়া রানী মজুমদার 

দাবদাহের তাপদাহ থেকেই চাই মুক্তি,
তাপদাহের কারণ বিশ্লেষণে আছে যুক্তি।
প্রকৃতির মাঝেই মোদের সবকিছু প্রাপ্তি, 
তবুও মিটে না স্বাদ, আরো চাই যে তৃপ্তি।
বৃক্ষাদি ধ্বংস করেই বাড়াচ্ছি সভ্যতা, 
বিনা দোষেই প্রকৃতির সাথেই অসভ্যতা।
আঘাত করবো যেথায়, ফিরবে সেই আঘাত,
প্রকৃতির বিধানের হবে না কোন ব্যাঘাত।
অভিশাপের কি দোষ বল এই দুনিয়ায়,
অভিশাপের পাল্টা জবাব লাগছে সবার গায়।
অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত মোরা বৃক্ষাদির সনে,
প্রকৃতির বক্ষেই মোরা,পশু পাখিরাও বনে।
বৃক্ষ ছেদন করবো না আর করলাম প্রতিজ্ঞা, 
পাল্টা জবাবের ভয় দেখিয়ে প্রকৃতির আজ্ঞা। 
ভয়ে জড়সড় মোরা করজোরে করি আহ্বান, 
শান্ত করো ধরণী, ভুলবো না বর্ষা তব দান।
প্রকৃতির প্রাকৃতিক নিয়মেই ঝরবে অঝোরে, 
ঝরবে কখন, বলবো মোরা কি করে ? 
অঝোর ধারায় বর্ষাদেবী ধরণীকে করে সিক্ত।
বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় যদি হয় অতিরিক্ত ।

তারপর

 ✒️শৌভিক বাগচী

তারপরে কি যে হলো
একটু খুলেই বলি
হাঁটার এই রাস্তাটা 
ভালো না | 

জেনে বুঝে তবু চলি 
উপায় কি ,ঠেলাঠেলি 
খেয়ে আর পেট বুঝি 
ভরে না |

তবুও ভাষণ চলে 
রক্ত গরম হয় 
মগজ ধোলাই করে 
দিনরাত |

হাঁটি আর ভাবি মনে 
গলে যাক পীচ তবু 
 তার চেয়ে ঢের ভালো 
ইস্পাত |

কয়েকটা রুটি ছিল 
এ বেলাটা খাওয়া গেলো 
ও বেলা যে আসবে না 
ভাবি নি |

খাওয়ার পরেই ঘুম 
সময়টা নি:ঝুম 
ক্লান্তিতে শব্দটা 
শুনি নি |

তারপরে পিষে দিলো 
রক্তে পিছলে গেলো 
চাকা গুলো হেসে দিলো 
হা হা রব |

লাশ কাটা ঘরে তাই 
টেবিলেই শুয়ে থাকি 
পচা গলা দেহে আমি 
শুধু শব |

তবুও এটাই জেনো 
শবে সব মিলে যাবে 
হাত তুলে বলবেই 
দিয়ে দাও |

তখনি সবার কাছে 
তুমিই লজ্জা পাবে 
ইতিহাস বলবে যে 
চলে যাও | 

বদলে ফেলা দিনগুলোতে

✒️হাসনাইন সাজ্জাদী 

পরিবর্তন ঘটে যায় পরিবর্তন করে নেই 
বদলে যাওয় দিনগুলোতে 
পরিবর্তিত হয় অনেক কিছু
সময় বদলে ফেলতে পারি আমরা 
কেমন অনায়াসেই!

এলিফ্যান্ট রোডের ট্রাফিক জ্যাম 
যেখানে একসময় আমি গাড়ি রিকশায় চড়ে
ঘেমেঘুমে ক্লান্ত হতাম
অনায়াসে এখন আমি সে পথে দ্রুত 
হাটাহাটি করি আর দেখি জ্যামে মানুষ কত অসহায় 
ভাবি এক জীবনের জন্য ব্যাপারটি কী হুলস্থুল কাণ্ড না?

সিদ্দিকী হাউজের যে গলি দিয়ে কচিৎ আমার
যাওয়া আসা হতো প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে 
এখন সে গলিতেই আমার হাটার মহোৎসব হয়
রাত বাড়লে

এলিফ্যান্ট রোড ঢাকা মেডিকেল আবাসিক মসজিদ
এরোপ্লেন মসজিদ কিংবা মল্লিকা ইস্টার্ন মার্কেট এলাকা 
যেখানে আমার হাটাহাটি ছিল কষ্টসাধ্য
এখন আমি খুব সাচ্ছন্দ্য পাই সম্ভোগের মতো
কোনো ব্যাপারই না!

জীবনটাকে যত মুক্ত ভাবা যায় ততই স্বাধীন থাকে মন
মন যত সহজ চোখে দেখে নতুন নতুন রাস্তার  বাঁকবদল
তত সহজ হয় দ্রুত পেরিয়ে যাওয়া সময়কে গ্রহণ 

আমার সময় আমি বদলে ফেলতে জানি
কে বলে সময় বদলায় না আমরা বদলে যাই
আমার সময় বদলে ফেলার সহজ নাম...

নুডলসের গপ্পো (প্রথম পর্ব)

✒️রাজা দেবরায়

বাচ্চাদের খিটখিটে আর বদমেজাজি স্বভাবটা কোত্থেকে যে তৈরি হলো তা নিয়ে বহু অভিভাবক চিন্তায় পড়েছেন। আলোচনা করেছেন, কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনো হদিস পাননি। শেষে হতাশ হয়ে কারণ বিশ্লেষণের চেষ্টা ছেড়ে দিয়েছেন। কখনও হয়তো ভেবেছেন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন কিনা।

অবশেষে কারণ জানা গেছে। বাচ্চাদের যা হয়েছিলো সেটা সি.আর.এস-এর পূর্বলক্ষণ। সি.আর.এস বা চাইনিজ রেস্তরাঁ সিন্ড্রোম 'রোগ'টার নামের থেকে কার্যকারণ সম্পর্কের কিছুটা হলেও অনুমান করা সম্ভব। প্রায় ১৪০০ বাচ্চার ওপর পরীক্ষা করে জাপানে এই সিন্ড্রোমের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

চাইনিজ রান্নার কদর সারা বিশ্বেই দেখা যায়। বিগত বেশ কিছু দশকে সেই বাজার হু-হু করে ছড়িয়ে পড়েছে ইওরোপ এবং আমেরিকায়। ওইসব দেশে এখনও চাইনিজ খাবারের বহু অনুরাগী রয়েছেন যারা সকাল-বিকেলই খেয়ে থাকেন।
(চলবে)

ঝরে পড়া বৈশাখ

✒️অনুরাগ ভৌমিক 

একফালি চোখ। অশান্ত।ঠোঁটে ধানী লঙ্কার হাওয়া।মুখর। নিঃশব্দ গ্রীষ্ম।লিভজেল ঘ্রাণে আবিষ্ট অনতিদূর।সতেজ যৌবন।বিলোড়িত আনন্দ।সন্তর্পণ বাহু।

নীল আকাশ। হলুদ রঙা জগৎ। বৃক্ষ ছায়া। রোদের চিৎকার।

বিভোরতা।বিন্যস্ত দুপুর।নদী বয়ে নিয়ে চলে সময়...

নিঃসঙ্গ।ঝরা পাতা বেলা।হিমেল চোখ।শীতল শ্বাস।মুহ্যমান।ছেঁড়া ছেঁড়া উড়ন্ত জীবন।পথের বাঁকে অদৃশ্য ধুনকর...