ফুলদানি

     ✍️দীপ্র দাস চৌধুরী

শহরের ক্যানভাসে জলেদের দাগ
তুমি শুধু ক'রে যাও ভালোবাসা ভাগ।

কার ভাগে বেশি পড়ে? কার ভাগে কম?
এইসব ভেবে হয় মনটা জখম।

মেঘ জমে চুপিসারে। মেলে দেয় ডানা...
আজকে তো কাউকেই ভালোবাসা মানা।

ভালোবাসা জলে মেশে, ঘোলা হয় মন
আজকে সে দূরে গেছে যে ছিল আপন।

যারা চলে যেতে যায় তারা তো থামেনা,
বুকে শুধু মেঘ জমে বারিশ নামেনা।

জমতে জমতে মেঘ ভেঙে পড়ে শেষে
ভেজায় শহর ফের মাটি ভালোবেসে...

ভালোবাসা মিশে যায় মাটিদের সাথে
মনের টুকরোগুলো তুলে নিয়ে হাতে-

ফের তুমি ভাগ করো ভালোবাসা জানি
ফুলের কদর কবে করে ফুলদানি?

আর্তনাদ

     ✍️কাজী নিনারা বেগম

এক শান্ত বিকালে হাটছি একা একা,, 
এক অদৃশ্য স্মৃতি বহন করে।। 
জীবনে আঁকা বাঁকা পথে বড়ই ক্লান্ত,, 
চল্লিশ উর্ধে আমি হাটছি একা।। 
একে একে সব, স্বজন হারানোর শোকে,,
আমার দুচোখ যেন মমির মত শান্ত।। 
প্রিয় জনের লাশ কাঁধে নিয়ে হাটছি বিলক্ষণ,, 
কাতর কন্ঠে পাঠ করছি সেই বিদায়ী গান।।

বাবা

     ✍আলমগর কবীর

আজ বাবা বেঁচে আছেন তাই হয়তো বাবার উপযুক্ত সম্মানটুকু দিতে তোদের লজ্জা!
একদিন হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে পালিয়ে যাবেন তিনি! 
কাউকে কিছু বলবেননা, জানাবেননা, হঠাৎ চলে যাবেন! কোথাও খোঁজেও পাওয়া যাবেনা। 
তখন তোদের কত রকমের সম্মানের কথা মনে হবে! 
কিন্তুু তাতে আর কি এসময়ে যা হওয়ার তা তো হয়ে গেছে!  
তখন আর মুখ লুকি লুকিয়ে কাঁদতে হবেনা তোদের! 
চোখের জন ফেলতে হবে কেনো তোদের এই বুড়োটার জন্য! 
তোদের কিচ্ছু করতে হবেনা তখন!  
তখন শুধু চুপ থেকে বাবাকে একটু শান্তিতে বিদায় দিস!
বাবাতো তোদের কাজে আসেনি তাই,  বিদায়ের দিনে শুধু এইটুকু করে দিস!  
তাতেও তিনি কিচ্ছুটি মনে করবেননা!  
আমি জানি,  আমি ভালো করেই জানি বাবা কি জিনিস!  
কারণ আমি সবসয় বাবার পাশে থাকতাম,  বাবার অনেকটা  কাছেও  থেকেছি আমি
 আর বাবাকে খুব কাছে থেকেও দেখেছি! 
তাই অনুভবটা করতে আমায় তেমন বেশি ভাবতে হয়নি! 
বাবা আমাদের জন্য হাজারও অপমান সহ্য করে,  বুকে চাপা দিয়ে নিরব হয়ে থাকতেন।
তবুও কাউকিছু বলতেননা। 
তোদের দেওয়া বহু অপবাদ শুনে বাবা হাসিমাখা মুখটা গুমরাও হয়ে যেতে দেখেছি!
তবুও বাবা বুকের মধ্যে জমে থাকা সবটুকু বেদনা বলতে যাননি! 
বলতে যাননি তিনি তোদের কাছে কিছু 
যা বলেছেন আমাকে সব বলে গেছেন!  
 আমিও ভুলবোনা তা কখনো!  
ভালোবাসি বাবা বলতে চেয়েছি অনেকবার 
কিন্তুু বলতে পারিনি! 
এখন বলি ভালোবাসি বাবা,  এই একবারই যথেষ্ট বলতে হবেনা আর বার বার! 
এই একবারই লেখা হয়ে গেলে মুছবেনা কখনো
স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে
তুমি ফিরে আসবে আমার ডায়েরিতে কলম হয়ে আবার।

জামাই ষষ্ঠী


                   ✍️বিজয় ভৌমিক

জামাইবাবু, জামাইবাবু,করছো তুমি কি?
দেখছো না যে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হয়েছি।
জামাইবাবু, জামাইবাবু, করছো সেথায় কি?
দেখছো না যে শ্বশুরবাড়ির খাবারের লিষ্ট করছি।

আম, কাঁঠালের গন্ধে ভরা আষাঢ় মাসে।
ইলিশ,মাংস,হরেক রকম খাবার সঙ্গে আছে।।
বন্ধ থাকুক আজ তোমার সকল কাজ।
ষষ্ঠীতে তুমি হবে জামাই রাজ।।

সন্দেশ, দই, মিষ্টির হাঁড়ি।
ডাকছে তোমায় শ্বশুরবাড়ি।।
আজকে জামাইদের হবে আনন্দ।
নতুন জামাইদের জানাই অভিনন্দ।।