সম্পাদকীয়

   
সম্পাদকীয়....................একটি বৃষ্টি ভেজা দিন আর বাকি পাঁচটি দিনের থেকে অনেকটাই আলাদা হয়ে থাকে । কখনো তা রোম্যান্টিক, কখনো বা বিষাদ মগ্ন আবার কখনো তা আনন্দ মুখর, তবে বেশির ভাগটাই নস্ট্যালজিক। আর নস্টালজিক আমাদের নিয়ে যায় মেঘের দেশে যেখানে আমাদের রোমান্টিকতার সিঁড়ি শুরু হয়। কখনো কবিতা আসে মেঘের কালিতে, কখনোবা অন্তর-মেঘের বৃষ্টিতে ভিজিয়ে যায় খালি সাদা পাতা। বৃষ্টির জলে ভেসে উঠে কত স্মৃতি! সেই নিয়ে সংগীতশিল্পী গৌতম ঘোষাল একটি গান তৈরি করেছিলেন, "তুমিও কি আমাকে ভেবেছো আনমনে, এমন শ্রাবণ দিনে, এই ভিষণ প্লাবনে? হয়তো কোথাও আছো তুমি। তোমারো জানালা কি ভিজেছে এমন?" বৃষ্টিতে সবার মন আনন্দে কিংবা রোমাঞ্চকরে ভিজে থাকুক। সবার জন্য শুভ কামনা। 
ধন্যবাদান্তে,
গৌরাঙ্গ সরকার, সম্পাদক, নবোন্মেষ 
শিবশংকর দেবনাথ, সহসম্পাদক, নবোন্মেষ 
আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা

বৃষ্টিতে


  ✍️ পান্থ দাস, হাঁপানিয়া, ত্রিপুরা

হারিয়ে যাই
একাকী মেঘে,
মন আটকানো
বন্ধ আলোতে ।

হারিয়ে যাই
বকুলের ঘ্রাণে,
ভ্রমরের পাখনায়
ছুটে চলি বনে।

হারিয়ে যাই
ধুলো মাখা স্মৃতিতে,
মেঘ জমে মনে
আর ভিজে চোখ বৃষ্টিতে।

সন্ধ্যা রাগ

   ✍️ সংগীত শীল

নীলার রক্তিম ঠোঁটে ধূসর ছাই,
কন্ঠে পুড়ে সিগারেট।

নিকোটিনের বিষন্নতা বাসা বেঁধেছে নীলার স্টেশনে 
শুনতে পাই তার আর্তনাদ।
নিঃশ্বাসে কেমন আঘাতের ক্ষত,
অদ্ভুত মায়ায় জড়িয়ে ধরলো সে বাতাসকে।

কি নিষ্ঠুর অভিযোগ!

মেঘ  উঠল ডেকে
আকাশ হল কালো 
আঁধার ঘনিয়ে নেমে এল শ্রাবণ ।
লোকালয় গড়াগড়ি খায়
অথই সাগরে ভাসে আনন্দ,
টিনের চালে শব্দ নাচে সজোরে। 

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে
এবার ফিরার পালা;
নীলা স্টেশনে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ায়,

সবুজের বাঁকে অস্পষ্ট হয় রাগ।

বর্ষা এল

  ✍️ মাধুরী লোধ

বর্ষা এলো ব্যঙ ডাকলো
ঝি ঝি র ঘুম নেই
জোনাক জ্বলে মিটিমিটি
খুশির সীমা নেই।
মাঠ ঘাটের সবুজ বরণ
হাঁসের ডুব সাঁতার
ঝিরিঝিরি জলের ফোঁটা
দোকান খোলো ছাতার ।
কৃষাণ ভাই বেজায় খুশি
হবে আমন ধানের চাষ
খাই খোরাকি আসবে এতে
 বেচবে বারোমাস ।
মেছুনি দিদি বড়শি হাতে
ধরেন টেংরা পুটি শোল
বর্ষা এলেন জল নিয়ে
খেতে দেবেন দ ই খ ই ।
খোকা খুশি খুকু খুশি
আজকে ইস্কুল বন্ধ 
উঠানে ভাসবে কাগজের নৌকা
আহা আহা কি আনন্দ !!!

বর্ষা

   ✍️ তানিয়া বিশ্বাস

সবাই বলে আমি নাকি আসি অবেলায়।
অঝোরে ঝড়তে থাকি ,
সবকিছু নাকি ভাসিয়ে দেয় আমি ,,
বন্যার কারণ আমি । তাই বলে কী আসবো না ?
গ্রীষ্মে যখন প্রচণ্ড রোদ থাকে।
গাছ গুলো যখন শুকিয়ে যায় ।।
পাখি গুলি যখন চিৎকার চেঁচামেচি করে ।
ঘাস গুলো যখন ঝরঝরে ধুলোয় পরিনত হয় ।।
এক রাশ অভিমান নিয়ে যখন অপেক্ষা করা হয়।
আমার আসার,
 আমি অঝোরে ঝরতে থাকি তখন ।।
গাছ গুলো যখন নাচতে থাকে তখন ,
পাখি গুলো যখন খেলতে থাকে তখন
ফুটফুটে সে আকাশ , রামধনু , মেঘ ।
এই তো সে খুশির বর্ষা , আমার অপেক্ষায় সবাই ।।

বৃষ্টির জলের শব্দ

   ✍️ রিপন সিংহ

হৃদয়মেঘে নক্ষত্র ঢেকে রাখে,
বিদ্যুৎ চমকানোর মতো তার হাসি;
বাতাসে তার গন্ধ মেখে হৃদয়ে স্পর্শ করে।
হঠাৎ বৃষ্টি থেমে যায়,
সন্ধ্যার মোহনায় ---
শুনতে পেলাম সেই টপটপ শব্দ;
যেন হৃদয়ের এক নতুন গীতি ছন্দ।
সেই শব্দ যেন তার রাঙা পায়ের নূপুর ধ্বনি,
মনে হয় আমার হৃদস্পন্দে এসে গেছ তুমি!
হঠাৎ আকাশ ফেঁটে গেল,
বন্ধ হয়ে গেল তোমার নূপুর ধ্বনি;
বাতায়নের পাশে বসে হাত বাড়িয়ে দেখি---
কোথাও নেই তুমি,
 তোমার সেই নূপুর ধ্বনি।
হাত বাড়িয়ে দেখি তার রক্তে রাঙা হয়ে গেল!
এ আমি কি দেখি ---!

অপরূপ বৃষ্টি

  ~ ডালিয়া সহেলী


ফসল বলেছে, ফলেছি। ফলেছি। টাপুর টুপুর রিম্ ঝিম্ এ।
রিম্ ঝিম্.. এই বৃষ্টি দুপুরে আনন্দতেই বলেছি।
হ্যাঁ!.. উত্তম, আমি ফসল, আমি ফলেছি। 
আমি বলেছি, হ্যাঁ! আমি বলেছি।
মেঘাশ্লিষ্ট সানুদেশে আজ ধারায় ধাপে চাষ_
অদ্ভূত এই শ্রাবণ মেঘের আষাঢ়স্য প্রথম দিবস.. 
আর চক্রখেলার মশগুল বারোমাস।
তোমার আমার ফলনে মিলন। 
কড়্ কড়্ আজ দুর্যোগে বজ্র সিমন। 
তবুও বলেছি, ফসল আমি ফলেছি। 
টাপুর টুপুর সারারাতে.. সবকিছু আমি বলেছি, হ্যাঁ! আমি বলেছি।
হঠাৎ মাঝে রৌদ্র দ্যুতি লুকোচুরি খেলা।
মেঘের সাথে পাল্লা দিয়ে অঝোর দুত্যির মেলা।
এ দুত্যিতে আজ দ্যুতির খেলা; অরুন্ধতীর ছোঁয়া।
অমরকোষ আজ ভাঙছে তাই; তোমার আমার বাঁধন বেলা।
এ বৃষ্টি নয় সে দৃষ্টি.. অঝোর_ শুধু কাঁদন_
বৃষ্টির ফাঁকে হাজারো সৃষ্টি.. সবুজ আর সামন্।
অম্ববাচীর লোহিত সাগরে নীল আকাশের সাজ;
এ দ্যুতি দুত্যির খেলায় সোনার ধানের চাষ।
বৃষ্টির সৃষ্টি অনাসৃষ্টি বারোমাস আর আজ শুধু শ্রীবাস।।

নারীর শত্রু নারীই পুরুষ তো তাদের প্রকাশের ঘনঘটা

   ~ ডালিয়া সহেলী


আমি দেখেছি একজন মাকে অত্যাচারিত হতে।
আমি দেখেছি একজন মেয়েকে অত্যাচারিত হতে।
আমি দেখেছি একটি সদ্যজাত কন্যাশিশুকে অত্যাচারিত হতে।
আমি দেখেছি একজন অবলা প্রেয়সীকে অত্যাচারিত হতে।
আমি দেখেছি গোটা নারীজাতিকে অত্যাচারিত হতে।
সর্বোপরি আমি দেখেছি একজন নারীকে আর একজন নারীর হাতে অত্যাচারিত হতে।
হতে পারে মানে আজও হয় একজন নারীর কোল আলো করে পুত্র সন্তান না এসে যদি কন্যা সন্তান আসে তাকেও তার মায়ের কাছে অত্যাচারিত হতে হয়।
আসলে একজন নারী শুধুমাত্র পুরুষকে সঙ্গী করে অপর এক নারীকে মারিয়ে দিয়ে দলিত করে দিয়ে চলার জন্য।
একজন পুরুষের লালসার শিকার হতে দেখেছি একজন নারীকে স্বেচ্ছায়।
একজন নারীর একজনপুরুষকে ব্যবহার করতে দেখেছি শুধু অন্যনারীকে পদদলিত করতে পুরুষটিকেকে সাহস জোগাতে।
দেখেছি একজন নারী হয়ে নারীবাদকে অপমান করতে।
একজন নারীর শত্রু একজন নারীকে হতে দেখেছি।
একজন নারী অপর একজন নারীকে টেক্কা দিচ্ছে।
ওভারটেক করতে গিয়ে স্বেচ্ছায় একজন নারীকে দেখেছি সে তার নিজের শত্রু নিজেই হয়ে উঠেছে।
একজন নারী হয়ে ঠিক এইকারণগুলির জন্য নিজেই নিজের কাছে অপমানিত হয়েছে নিজেকে ঠকিয়ে চলেছে নির্দিধায়।
নারী নিজের অজান্তেই নিজের শত্রু হয়ে উঠেছে।
ঘাসের মতো দলিত করতে চেয়েছে নারীজাতিকে।
কিন্তু ঘাস দলিত হয় নি মাথা চারা দিয়ে কার্পেটের মতো নিজে বিছিয়ে গেছে মিত্ররা।
শুধু ল্যাবে জন্মানো কৃত্তিম আগাছাগুলো ঘাসেদের চাপা দিতে গিয়ে অকালে শুকিয়ে গেছে।
অপবাদ দিয়েছে অপব্যবহার করছে একজন মিথ্যাচারী নারী হয়ে অপর সৌষ্ঠব একনারীকে।

বরিষা

   ✍️ অসীম দেববর্মা 
        -----------------------------
আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা 
মেঘেদের বুক চিঁড়ে পড়ল বৃষ্টির ফোঁটা,
অবিরাম ধারাতে নদী তার ছন্দ হারায় 
বর্ষার জল গ্রাম থেকে শহর ভাসায়।
পুকুর টোপার মতো ভরে টইটুম্বুর 
আরেকটু হলেই মাছেদের নিয়ে ছুটবে বহুদূর, 
চাঁদ সদাগরের মতো বানিজ্যে যেতে চায় 
কৈশোরের অবুঝ মন কলার ভেলায়।
কবি ব্যস্ত নতুন ছন্দে বর্ষাকে নিয়ে গান লিখতে 
পল্লী গাঁয়ের অ-ছোঁয়া রমনীর আবেগী মনকে জানতে।

এবার বর্ষায়

   ✍️ অপর্ণা সিনহা

বর্ষা মানে আষাঢ়, আষাঢ় মানে রথ
আনন্দ খুশিতে ভরা সকল জনপদ।
রথে বসে জগন্নাথ,পথে তাঁরই ভক্ত
টানে রথ সবাই মিলে হাতে দড়ি শক্ত!

মা মাসিদের গানের তালে রথ দোলে 
ঢোলক বাজে মৃদঙ্গ বাজে সরগোলে!
শিশুদল আগে ভাগে সু্যোগেতে রয়
হরিলোট পেতে হবে করতে নেই ভয়।

কিন্তু এবার, রথের যাত্রা, যেন মৃত্যুপুরী
বলা নেই কওয়া নেই, নিল প্রাণ কাড়ি!
মুহূর্তেই সব জ্বলেপুড়ে হলো ছারখার
তাজা প্রাণ চলে গেল নিমিষেই এবার!

ধ্বংসলীলা দেখে প্রভু মাথায় রাখে হাত
চোখ হল গোল গোল, কোথা গেল হাত?
সবাই বলে, অঘটনে তাঁরই যেন হাত
হঠাৎ ভক্তেরা ভাবে, তাঁর তো কাটা হাত!

দায়ি কে ধ্বংসলীলার,এতজনের মাঝে?
জানি শুধু অতিরিক্ত কিছুই ভালো নয়যে!
ধর্ম যখন উন্মাদনা, বিপদ তখন সবার,
এমন বর্ষার রথ যেন,আসেনা বারবার।
                                

পদবী পাঁচালী

   ✍️  দীপক রঞ্জন কর


তালতলার তালুকদার
মজার সাথী মজুমদার।
হালদার বড়ই মালদার
দোস্তিদারের অস্তি-সার।

দত্ত বাবুর সত্য কথা
গুপ্ত বাবুর সুপ্ত  ব্যথা।
বণিক বাবুর টনিক ছাড়া
মল্লিক বাবু  দিশেহারা ।

মন্ডল বাবুর ক্যান্ডেল ধরে
কুন্ডু বাবু  চন্ডিগড়ে।
নন্দী বাবু ফন্দি করে 
মিশ্র বাবুকে বন্দী করে।

নট্টপড়ার হট্টগোলে
বৈদ্য বাবু চাল চালে,
পাল বাবুর কূট চালে 
সেন বাবু যায় জেলে।

নাগ বাবুর রাগ বেশি 
ভয়ে কাঁপে দাস-দাসী।
ঘোষ বাবুর কথার দোষে
বোস বাবু রাগে ফুঁসে।

ব্যানার্জি বাবুর এনার্জি নাই
 আচার্যি হল বাবুর্চি তাই।
আক্তার বাবু ডাক্তারি পড়ে
নাথ বাবুর তাঁত ঘরে।

কর বাবুর কপাল খারাপ
ওঝা করে সোজা আলাপ।
কাজী সাহেব দিলেন রায় 
  মাঝি ভাই রাজি তাই।

জানা বাবুর আছে জানা
রানা ভাই যে রাতকানা।
মালি বাবু ছাড়েন বুলি
আলী ভাই মারেন তালি।

লোধ  বাবুর প্রতিশোধে
সিং দা ভোগে বৃষ্টি রোদে।
চক্রবর্তীর চক্করে পরে
মুখার্জি আজ ভবঘুরে।

ভট্ট গেছেন  চট্টগ্রামে
গান্ধী বাবু তার বামে।
শীল বাবুর কিল খেয়ে
ভীল বাবু আসেন ধেয়ে।

ভৌমিকের মৌলিক কাজে
পোদ্দার বাবু  মরে লাজে।
সরকার চলে দরকার বুঝে
সিকদার ভাই শিকার খুঁজে।

সাঁতরা বাবু মাত্রা ছেড়ে
সুর তুলেন রোজ ভোরে,
বড়ুয়া বাবু ঘরোয়া লোক
নিরবে করেন উপভোগ।

চৌধুরীদার ফৌজদারি মামলায়
ঘোষাল,সান্যাল পরেন হামলায়।
গায়েন বাবুর আইন দেখে
হাজরা বাবু দাঁড়ালেন রুখে।

অধিকারীর ন্যায্য অধিকার 
বসাক চাইছে পোশাক তার।
কোনার বাবু সোনার মানুষ
হোসেন,মিঞায় আছেন খুশ।

বর্ধন বাবুর গর্দন ব্যথায়
নাথ বাবুর হাত বুলায়।
দাম কাকুর ঘাম ঝরে
প্রসাদ বাবু পাত্র ধরে।

শর্মা, বর্মা, বার্মা হতে
কোরমা আনে বিলায় পাতে।
মিত্র বাবু চিত্র আঁকে
রায় পাড়ার নদীর বাঁকে।

নম বাবুর সমবয়সী
দাদ বাবু প্রতিবেশী।
বড়াল সদা আড়াল থাকেন
চন্দ বাবু ছন্দেই হাঁকেন।

মাইতি বাবু নাইতে গেলে
পালিত বাবুর দেখা মেলে,
বিশ্বাস বাবুর আশ্বাসের সঙ্গে
খান ভাইয়ের মান ভাঙ্গে ।

মল্ল দাদার গল্প নিয়ে
বিন বাবুর দিন কাটে ,
ভদ্র বাবুকে ভদ্র দেখে
শূদ্র সাহেব সাথে রাখে।

আঢ্য কাকা যাবেন ঢাকা
পুরকায়স্থের পকেট ফাঁকা।
যাদব সঙ্গে আসেন বেড়া
মাহাত বাবু সবার সেরা।

রিয়াং বাবু ইয়াং ম্যান
চাকমা,ভৌমিক আছেন সেন,
সূত্রধরের সূত্র ধরে
লস্কর,পন্ডিত বিচার করে।

বৈদ্য, রাহা, দেব,পাটারি
বসু, সাহা, গুহ ,ব্যাপারী ,
বর,দে,শিব,কবির, মান্না
অনেক হল আজ আর না।

বৈরাগ্য করে আরোগ্য লাভ
সমাদ্দারের সাথে সামন্তর ভাব,
আব্দুল, পাঁজা, বর্মন, কাপালী।
শত পদবীতে হল পদবী পাঁচালী ।

নুডলসের গপ্পো (চতুর্থ পর্ব)

✍️ রাজা দেবরায়


গত পর্বে আমরা দেখেছি যে এম.এস.জি বা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট খারাপ একথা জোর গলায় বলা যাচ্ছেনা অন্তত এই বিষয়ে নতুন কোনো গবেষণার বা পর্যালোচনার নিরিখে।

কিন্তু এটা যদি খারাপই না হয় বা হতো তবে সবথেকে জনপ্রিয় নুডলস কোম্পানির ওয়েবসাইটে এই কথা কেনো বলতো যে আমাদের এই নুডলসে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট নেই! কী বলছে কোম্পানীটি- 

Please be assured that (company's name) Noodles and its Masala Tastemaker do not contain Monosodium Glutamate (MSG/E621). Our stringent quality standards and processes ensure that the ingredients and additives used in our products comply with food regulations.

কোম্পানির নামটি লিখলামনা ইচ্ছে করেই। লিখলেও কোনো অসুবিধা নেই, কেনোনা আমরা সবাই এই অতি জনপ্রিয় কোম্পানীকে বেশ ভালোভাবেই চিনি।

(চলবে)

সাথী

 
✍️ সুস্মিতা দেবনাথ

চাই না জানতে কেমন তোমার 
ব্যাংক-ব্যলেঞ্চ আর টাকাকরি। 
জানাবো তোমায়,জানবে আমায়
বাসবো ভালো প্রান ভরি।।

আলতো করে সকাল সাঁজে 
গোঁজবে খোঁপায় লাল গোলাপ। 
লেকের ধারে,দিঘির পাড়ে 
করবো দু'জন প্রেমালাপ। ।

তুমি ব্যস্ত যখন ভীষণ রকম 
দিন যাপনের তাগদে। 
বলবো হেসে, "আমার তুমি,
বাকি সব আজ থাগ্গে "।।

গাড়ি বাড়ি, সোনা দানা 
আমার কাছে সব মাটি। 
তুমি আমার খেলার সাথী,
পুতুল পুতুল,রান্না-বাটি।।

প্রথম প্রতিশ্রুতি

 ✍️ সুপর্ণা মজুমদার রায়
----------------------------

আষাঢ়ের প্রথম দিনে যেদিন বর্ষার জলে প্রথম ভিজেছিলুম,
বৃষ্টিতে মুখ রেখেছিলুম বৃষ্টির ঝিরঝিরে ছোঁয়া পেতে, শূন্যের জল মুঠোয় ভরে শুন্যে ছুড়েছিলুম । 
পিঠ অবধি এলানো একগুচ্ছ চুল সিক্ত করেছিলুম নিঃসঙ্কোচে, 
ঘরের সমস্ত দরজা খুলে দিয়েছিলুম অগণিত উল্লাসে ।
সিক্ত হাওয়ায় উড়ন্ত পর্দাগুলো ভেসে যাচ্ছিল মাতাল হয়ে ।
সিক্ত বেশে শুধু অপেক্ষায় ছিলাম প্রথম বর্ষার জলে ভিজে ।
কথা যে দিয়েছিলে আসবে উত্সবের দিনে!!
নিয়ে যাবে সেই আষাঢ়ের রথের মেলায় ছাতা হাতে!! সে তোমার প্রথম প্রতিশ্রুতি ।
ভাবনার বিশাল ফর্দ,জমানো আধুলি ভিজে কাপড়ের আঁচলে বাধা ছিল তোমার অপেক্ষায় ।
তুমি কথা দিযেছিলে ।
কখনো খিরকি,কখনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে,
সকাল হতে সন্ধ্যা প্রথম বর্ষায় ভিজেছিলুম অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ।
দিনাব্শানে ক্লান্ত মনে,মুখ থুবড়ে পরা,হৃদয়ের ছাউনি গুটিয়ে যখন ঘরে ফেরার পালা,
হটাৎ বৃষ্টির ঘোলা জলে ছাতা মাথায় অর্ধ ভেজা তোমাকে দেখা বৃষ্টি হতে পাওয়া আমার পরম প্রাপ্তি ।
শুরু হল জলমগ্ন রাস্তায় আমাদের পথচলা, বৃষ্টির ঘোলা জলে আমাদের পা ধুয়ে গেল ।
তোমার প্রথম প্রতিশ্রুতি রেখেছিলে ।
সত্যিই বর্ষা এসেছিল সেদিন ।
আষাঢ়ের প্রথম বর্ষার জল আমাকে ভিজিয়ে দিয়ে গেল ।

------------***********------------

বর্ষাকাল

  ✍️ দীপক রঞ্জন কর 
তারিখ-১০/০৭/২০২৩
------------------
বর্ষাকালে খালে বিলে ঐ
   শুনি ব্যাঙের ডাক,
 ভোর বেলা ডিঙ্গি নৌকায়
   দেখি বৃষ্টি ভেজা কাক ।

মাঠ ঘাট জলে জলময়
    সর্বত্র করে থৈ থৈ ,
ছেলের দল ভেলা ভাসিয়ে
  জটলায় করে হইচই ।

জেলেরা মাছ ধরে জালে
    নদী খালে বিলে
খেয়া পারে মাঝি ভাই 
  নৌকায় পাল তুলে।

কৃষক ভাইয়ের মুখে হাসি 
আপন জমি চষে
ফসল তুলে আনবে ঘরে
 ভাবনা আর কিসে।

কবরে শুয়ে আছি

   ✍️ নাহার শিমু

বেঁচে থাকা এখন আমার কাছে বড়ো একটি কবর
কবরে ভিতর শুয়ে আমি প্রতিরাতে চিৎকার করে কাঁদতে থাকি বুকের ভিতর 
জ্বালতে থাকে দাউ দাউ করে আগুন !!

সুজলা সুফলা শস্য আর শস্যের সবুজ খেত অপার সৌন্দর্যের মাখামাখি, নদী খাল বিল পুকুর ভরা মাছ রােদে ঝিলমিল দিঘি ভরা নানা জাতের মাছ আমাদের বাড়ির পাশে আছে একটা বিল দিঘি আর বিল সব চাচাদের ভাগ আছে 
ঘাস ঘাসফুল বাড়ির সামনে চারিদিকে ভরা।

আমাদের বাড়িতে যাওয়ার সময় আগে নানা বাড়ি ভূয়াপুর
ঐখানে নামার পর মন প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারি দেশের টান মা নেই মায়ের আঁচল বিছিয়ে রাখে আমার নানু
যে আঁচলে ঘাম মুছে, চোখের জল মুছে দাঁড়িয়ে থাকে আমার নানু,

আমার বুকের মাঝে নানুকে সব সময় লালন করি সারাক্ষণ কিন্তু
অনেক দিন দেখি না 
সেই নানু মায়ের মুখ 
আমি যে নানুর,

বুকের দুধ খেয়েছি ঐ মায়াবী চোখের পানি ফেলার এক জনি বেঁচে আছে আর কেউ নেই!!
মনটা কিছু দিন ধরে ছটফট করছে দেখার জন্য কিন্তু আমার
শরীর মন কোনোটাই ভালো নেই দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ রাখে।

পাখি হলে ডানা মেলে উড়ে যেতাম নানুর কাছে ।নানু কানে শুনতে পায় না বয়স হয়েছে ৯০ ফোনে কথা হলে বলে কবে আসবি দেখতে আমাকে। অনেক অভিমান নানুর কেন দেখতে যাইনা। আগে নিজেই চলে আসতো অনেক কিছু নিয়ে এখন মামাবাড়ির সবাই আসতে দেয় না অনেক বয়স 
হয়েছে তাই,

আম্মাজির মন প্রাণ সব সময় দেশের বাড়িতে টানতো
বলতো ভূয়াপুর সে বাড়ি করে শেষ জীবন কাটাবে
আহা জীবন ৪৫বছর বয়সে চলে গেছে না ফেরার দেশে!

 মা'র হাতে কত খাবার মিস করি মায়ের মতো কেউ আছে
জগত সংসারে !
বৃষ্টির দিনে  কত ধরনের ভাজা জিনিস বক্স ভর রাখতো থেতাম ভাজা ইলিশ,গরু মাংস ভুনো খিচুড়ি আব্বার খিচুড়ি খুব পছন্দ ছিল !

মা বেঁচে থাকতে বুঝতে পারিনি বুঝার বয়স হওয়ার আগেই
মা চলে গেল!!

এখন যে মাকে আমার খুব বেশি প্রয়োজন ছিল !
বাবা খুব পিঠা পায়েস পছন্দ করতো কত ধরনের পিঠা তৈরি করে দিতো কোনো আলসেমি ছিলোনা!!

আহা জীবন
জীবন মানুষ কে কত শিক্ষা দেয়,
বাবা মায়ের হাতের মার আর পরের আদর সমান সব সময়
আম্মাজি এই কথা বলতেন!!

এখন কথার মানে বুঝতে পারি
যতো কথা বলি সব কথার উত্তর এখন মিলে য়ায় !!
অন্ধকারে রাতে কাঁদি আর মনে করি
দূরে,
নৈঃশব্দ্যের তলে মাটি খুঁড়ে কবরে শুয়ে আছি  আমি
আমার অন্ধকার খুব ভয় ছিল এখন আর নেই কোন ভয়!!

জীবন থেকে দূরে কোথাও পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে
খুব ইচ্ছে করে, সবার জীবনেই ভুল আছে পৃথিবীতে এমন কেউ নেই তার জীবন দুধে ধোয়া তুলসী পাতা!!

জীবন বলে কেউ নেই আমার, 
কিছু নেই আমার আমি বলি
কেউ নেই আমার শুধু আমি একা একা মরুভূমির জলদস্যু হাতে আমার জীবন।

বুকের ভেতর শূন্যতা হা হা খাঁ খাঁ করে, 
জীবনে দাগ লাগাতে চাইনি তাই বেদনা কষ্ট দুঃখ যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি সারাটি জীবন তবু কারো কাছে মুখ খুলিনি পড়ন্ত বেলায় আর শরীরের বুকের ভিতর নিতে পারিনা!!

 বাকি পথটুকু পার হতে পারছি না!
 তাই জীবনকে এখন অসহনীয় লাগছে
 প্রাণটাও দিতে পারছি না দম বন্ধ হয়ে আসছে
 নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় 
তাই নিজের হাতে কবর খুঁড়ে কবরে শুয়ে আছি আমি!!