নবোন্মেষ-এর পক্ষ থেকে সবাইকে শারদীয়ার প্রীতি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
কাশফুলের সমারোহ
শারদীয় সংখ্যা- কাশফুলের সমারোহ
সম্পাদনায়- গৌরাঙ্গ সরকার।
সহযোগিতায়- শিবশংকর দেবনাথ, সঞ্চয়িতা শর্মা, সুমিতা স্মৃতি
সম্পাদকীয়
.....................................✍️ সম্পাদকীয়
"আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর;
ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা;
প্রকৃতির অন্তরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার আগমন বার্তা।"
শরতের এই হৃদয় পরশমণি মন্ত্রপাঠ শুনলে আমাদের অন্তর জগতে কতকিছু প্রতিধ্বনিত হয়,তা শুধু কাশফুলেরা বলতে পারবে! মনে হয় অন্তরে কাশফুলের বাগান।আর শরতের শিশির ভেজা রহস্যময় কবিতার সমারোহ আকাশ থেকে এসে হৃদয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে।
কত আবেগ, যুগ যুগ ধরে অপেক্ষার বাঁধ ভেঙে যায়! কবিদের মনে সঞ্চারিত হয় নব নব আবেগ। যা কিনা হাজার হাজার কবিতা তৈরি করে কাশফুলের পুষ্টি জোগান দেয়। শরৎ আসলেই শিউলিফুলেরা পাপড়ি মেলে ঘুম থেকে জেগে উঠে। অনন্য সুগন্ধি সৃষ্টি করে শরৎকালকে মোহিত করে তোলে বিশ্বমানবের কাছে।শুভ
শারদীয়ার প্রীতি,শুভেচ্ছা ও শুভকামনায়-
গৌরাঙ্গ সরকার
সম্পাদক, নবোন্মেষ, ত্রিপুরা
দুই রূপে দুই মা
✍️ বিপ্লব গোস্বামী
আমার এক মায়ের পূজা হয়
বড়োই ধুমধামে ;
আমার অন্য মা মাঠে খাটেন
শরীর ভিজে ঘামে !
আমার এক মায়ের পূজার লাগি
বড়োই আয়োজন ;
আমার অন্য মায়ের খবর নিতে
নেইতো আপন জন !
আমার এক মাকে তুষ্ট করতে
লক্ষ বলিদান ;
আমার অন্য মায়ের ভাগ্যে জোটে
কত শত অপমান !
আমার এক মায়ের গায়ে শোভে
হাজার আভূষণ ;
আমার অন্য মায়ের লজ্জা ঢাকার
নেইতো আবরণ !
আমার এক মায়ের প্রণামী থালায়
স্বেচ্ছায় করি দান।
আমার অন্য মা ভিক্ষা মাগতে
সইতে হয় অপমান !
আমার দূর্গা
আমার দূর্গা বিদ্যা রূপে বুদ্ধি
আমার দূর্গা স্ত্রী রূপে লক্ষী,
আমার দূর্গা শক্তি রূপে শিবানী,
আমার দূর্গা মাতৃ রূপে জননী।
আমার দূর্গা স্কুলে যায়
আমার দূর্গা কলেজ পড়ায়,
আমার দূর্গা স্বপ্ন বুনতে জানে
আমার দূর্গা স্বপ্ন পূরণ করতে জানে।
আমার দূর্গা শিক্ষিত
আমার দূর্গা সমাজে প্রতিষ্ঠিত,
আমার দূর্গা প্রান বাচাঁতে জানে
অন্যের জন্য নিজের জীবন দিতে জানে।
আমার দূর্গা সংসার চালাতে জানে
বট বৃক্ষ ন্যায় সবাইকে আগলে রাখতে জানে,
নিজে দুঃখে থেকেও অপরকে খুশি রাখতে জানে
আমার দূর্গা ত্যাগ করতে জানে।
আমার দূর্গা অস্ত্র হাতে নিতে জানে
আমার দূর্গা স্বর্গ এবং মর্ত্যকে রক্ষা করতে জানে,
আমার দূর্গা তেজী , আমার দূর্গা জেদি
আমার দূর্গা সমাজে পরিবর্তন আনতে জানে,
সে পাপ এবং পাপির নাশ করতে জানে।
আমার দূর্গা প্রতিবাদ করতে জানে
অন্যায়ের বিরুদ্ধে সে আওয়াজ তোলতে জানে।
আমার দূর্গা অত্যাচারের বিরুদ্ধে খড়গ হাতে নিতে জানে,
সে নিজের সম্মান বাচাঁতে জানে,
আমার দূর্গা কলম ধরতে জানে
সে অবহেলিতদের পাশে দাঁড়াতে জানে।
আমার দূর্গা শাস্র পড়তে জানে
কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলতে জানে,
আমার দূর্গা নয় অবলা
আমার দূর্গা অভয়া
আমার দূর্গা নিজের শর্তে বাচঁতে জানে
আমার দূর্গা নিজের শর্তে বাচঁতে জানে।।
গল্পে গাঁথায় মৎস্যকন্যা
✍️ প্রীতম ভট্টাচার্য
মৎস্যকন্যা শব্দটি শুনলেই সাগর পাড়ে শুয়ে থাকা কোনো রহস্যময়ী রূপসীর ছবি আমাদের কল্পনায় ভেসে উঠে। সাধারণ কোনো রমনী নয়, অর্ধেক তার মানব শরীর আর অর্ধেক মাছ। সেই আদিকাল থেকেই সুন্দরী, লাস্যময়ী, এমনকি কখনো বিশ্বাসঘাতক মৎস্যকন্যার চরিত্র ঘিরে জন্ম নিয়েছে বহু কিংবদন্তী। বহু মনের কল্পনা, গল্প, উপন্যাস ছাড়িয়ে বাস্তবেও মানুষ খুঁজে বেড়িয়েছে এই প্রাণের উপস্থিতি। বহু নাবিক অন্তত একবার মৎস্যকন্যার দেখা পাওয়ার আশায় বছরের পর বছর কাটিয়েছেন সমুদ্রের বুকে। অনেকে আবার এক দর্শনে পাগল হয়েছেন এমন গল্পও প্রচলিত আছে।
স্থানীয়রা তাকে তার হাত দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে পাথরের উপর উঠে আসতে দেখত। আবার সে পিছলে ঢেউয়ে মিলিয়ে যেত।তবে মানুষ দূর থেকে শুধুমাত্র কয়েক পলক তার দেখা পেত।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রূপকথায় উপকথায় মৎসকন্যার বর্ননা পাওয়া যায়, যার মধ্যে দূরপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া সবাই আছে।আমরা ছোটবেলায় জলপরীর অনেক গল্প শুনেছি। বাংলার জলপরীও আসলে মৎস্যকন্যাই। হাজারও গল্পের মাঝে কিছু কিছু গল্প আমরা এই বইয়ে জানব।
যেসব অঞ্চলের সভ্যতায় এদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি সেগুলো হচ্ছে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন অর্থাৎ সমগ্র পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, আটলান্টিক মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ইত্যাদি।বলতে গেলে সারা পৃথিবী। সেই প্রাচীনকাল থেকেই মারমেইডদের নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। সাহিত্যে এদের সবচেয়ে পুরানো নিদর্শন হল ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়। ছোটবেলার হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের রূপকথার গল্পে পড়া মৎস্যকন্যার কথা সবারই মনে থাকার কথা। ওয়াল্ট ডিজনির বিখ্যাত সৃষ্টি লিটল মারমেইডের গল্পও সবার জানা। এমনকি আধুনিক যুগেও মৎস্যকন্যাদের নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে ।যেমন এই বইটি। যেটি তোমরা এক্ষণ পড়ছ।
পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক সভ্যতার মিথোলজির দিক থেকে দুটো মিল আমাদের চোখে পরে ।হোক না সেই সভ্যতা মূল ইউরেশিয়ান ভূপৃষ্ঠ থেকে হাজার হাজার বছর ধরে বিচ্ছিন্ন, তবুও মহাপ্লাবন আর মৎসকন্যা বা মারমেডের মিথ সেখানকার মিথোলজিতে পাওয়া যাবে,হয়ত কিছু ব্যতিক্রম থাকবে ।মহাপ্লাবনের মিথের কথাই ধরা যাক, প্রাচীন সুমেরিয়দের “ইরিডু জেনেসিস”,প্রাচীন ব্যাবিলনে গিলগামেশের মহাকাব্যে বর্নিত মহাপ্লাবন,বাইবেলের নোয়ার আর্ক, গ্রীক পুরাণে বর্নিত তিনটি মহাপ্লাবন, আইরিশদের লেবর গ্যাবালা স্যাসার এর বর্নিত মহাপ্লাবন,নর্সদের বের্গেল্মির দানব আর মহাপ্লাবনের কাহিনি, মধ্য আমেরিকায় মায়ানদের ‘পোপোল ভূ’ তে বর্নিত মহাপ্লাবনের কাহিনি, দক্ষিণ আমেরিকার উনু পাচাকুটি বা (ভিরাকোচার অভিশাপে)লেক টিটিকাকায় মহাপ্লাবন, হাওয়াই মিথোলজির নু’উ আর মহাপ্লাবনের কাহিনি, হোপিদের উপকথায় ,মাউরি উপকথায় -মহাপ্লাবনের মিথ আছে পৃথিবীর সব সভ্যতার প্রান্তে ,ভারতীয় উপমহাদেশেই আছে তিন চারটে আলাদা মহাপ্লাবনের কাহিনি (তারমধ্যে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য হলো আন্দামানের আদিবাসীদের মিথটা ,যারা উপমহাদেশের মূল ভূপৃষ্ঠ থেকে হাজার হাজার বছর বিচ্ছিন্ন)।
সেই রকম মারমেড বা মৎসকন্যা জাতীয় প্রানীর মিথ,চিত্র বা দেওয়াল চিত্র কিংবা গুহাচিত্র গোটা পৃথিবীর সব সভ্যতার প্রান্তে প্রচলিত ,সেটা পেরুর কুসকোর প্রাচীন পাথুরে দেওয়ালে অঙ্কিত মারমেড রিলিফ হোক,বা প্রাচীন আসিরিয়ার উপকথা পুরানের দেবী আট্রাগেটিস,এমনকী আলেকজান্দারের বোন থেসালোনিকা , গ্রীক উপকথা মতে যে মরার আগে একটা মৎসকন্যায় রুপান্তর হয়।আরব্য রজনীর আবদুল্লাহর অদ্ভুত জলজগৎএ ভ্রমনের গল্প, বা ব্রিটেনের প্রাচীন উপকথায় ,যেখানে মৎসকন্যা অশুভ জিনিস,আবার সেই পশ্চিম ব্রিটেনের জেনোরের কোন এক গ্রামে,আটলান্টিকের তীরে,ম্যাথু নামে এক মানুষের সঙ্গে এক মৎসকন্যার প্রেম হয়, এই ভাবেই বিভিন্ন লোককথায় মৎসকন্যারা বেঁচে আছে ।
মৎসকন্যাদের নিয়ে প্রথম বর্ননা পাওয়া যায় প্রাচীন অ্যাসিরিয়াতে ১০০০ খিঃ পূঃ। এখানে বর্ননা থেকে জানা যায় দেবী অ্যাটারগাটিস ভুল করে যখন তার মানব প্রেমিক কে হত্যা করে ফেলেন, লজ্জায় দুঃখে জলে ঝাপঁ দেন আত্নহত্যা করার জন্য। কিন্তু দেবী অ্যাটারগাটিস এত সুন্দরী ছিলেন যে সমুদ্র দেবতা পসাইডন তাকে মৃত্যর রাজ্যে যেতে না দিয়ে অর্ধমানবী অর্ধমাছ রূপে নব জীবন দান করেন।
একই বর্ননা পাওয়া যায় ব্যাবিলনীয় উপকথায়। এখানে দেবী অ্যাটারগাটিস এর নাম বদলে হয় দেবী ‘ইয়া’। গ্রীক উপকথায় এই অ্যাটারগাটিসই আবার ‘আফ্রোদিতি’ নামে পরিচিত।কাহিনি মোটামুটি একই রকম। বিভিন্ন দেশের রূপকথায়, উপকথায় মৎস্যকন্যা দের উল্লেখ পাওয়া যায়।
এরপর আসি মৎস্যপুরুষ ‘ইয়ার’ কথায়, মেসোপটেমিয়ায় তিনি পূজিত হতেন সমুদ্রের দেবতা, জ্ঞান, সৃষ্টি আর ম্যাজিকের দেবতা রূপে। তিনি বন্যার দেবতা এনিলিলের হাত থেকে রক্ষা করছেন মানব সভ্যতাকে। ব্যবিলনীয় মিথ অ্যাত্রাহাসিস আর তাদের মহাকাব্য গিলগামেষ অনুসারে মানুষদের চীৎকারে ঘুম নষ্ট হওয়ায় বন্যার দেবতা এনিলিল পুরো মানব সভ্যতাই ধ্বংস করতে চাইলে মারম্যান দেবতা ইয়াই তাদের রক্ষা করেন।
এরপর আসা যাক জাপানী উপকথায়। সেখানে আছে নিনগিও যে আসলে দৈত্যাকৃতি মাছ, যার শরীরের অর্ধেক মাছের আর অর্ধেক মানুষের মত কিন্তু মুখটি বানরের মত। ভয় না পেয়ে খাদ্যাভ্যাসে এই মাছকে রাখতে পারলে সৌন্দর্য আর চির যৌবন সুনিশ্চিত।
আফ্রিকান উপকথায় আছেন দেবী মামী ওয়াটা ইংরাজীতে মমি ওয়াটার, যার সুনজরে থাকলে প্রচুর সৌভাগ্যের অধিকারী আর কুনজরে থাকলে মাছে পরিণত হওয়া ভাগ্যে লেখা থাকবে।
আয়ারল্যান্ডের মৎস্য কন্যারা ভারী সুন্দরী আর একঢাল সবুজ চুলের অধিকারিনী। মৎস্যপুরুষরা যদিও সুন্দর নন কিন্তু এক অদ্ভুত ম্যাজিক টুপি পরেন যার নাম কোহুলিন ড্রুইথ যা তাদের জলের নীচে থাকতে সাহায্য করে।
রাশিয়ায় আছে রুশালকা নামে দয়ালু মৎস্যকন্যার কথা। যারা জলজ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করেন কিন্তু সময় বিশেষে অত্যাচারিত মেয়েদের হয়ে প্রতিশোধ নিতে দোষীকে জলে ডুবিয়ে মেরেও দেয়। নরওয়ে আর স্কটল্যান্ডে আছেন ‘ফিনফোক’ মৎস্যরমণীর দল যারা রৌপ্য প্রেমী আর মানুষদের ক্রীতদাস বানিয়ে রাখে।
ইনকাদের মাঝেও ছিলেন সেডনা নামে এক মৎস্যকন্যারূপী দেবী, যিনি সামুদ্রিক জন্তুদের রক্ষা করেন।
এছাড়া ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে আর আমেরিকায় আছে সামুদ্রিক আত্মা লাসিরন যার উৎস ফ্রেঞ্চ শব্দ লা সিরেন অর্থ মৎস্যকন্যা।
সি জে এস থম্পসন, ইংল্যান্ডের রয়্যাল কলেজের সার্জনদের প্রাক্তন কিউরেটর তাঁর ‘দ্য মিস্ট্রি এন্ড লোর অব মনস্টারস’ বইয়ে উল্লেখ করেন, অর্ধ-মানব এবং অর্ধ-মাছ আকৃতির জীবের অস্তিত্ব হাজার হাজার বছর ধরে বিদ্যমান ছিল এবং ব্যাবিলনের যুগে দেবতা ওনেস, যিনি মাছ-দেবতা নামে পরিচিত; তার মাথায় একটি মুকুট এবং তার মুখে মানুষের মত দাড়ি ছিল কিন্তু কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত তিনি ছিলো একটি মাছের মতো।
গ্রিক পুরাণের দেবতা ত্রিটন, যিনি ছিলেন সমুদ্রের বার্তাবাহক তার পূজা করত সিনেমবল (একটি আফ্রো-ব্রাজিলীয় ধর্ম) সহ বিভিন্ন আধুনিক ধর্মের মানুষেরা। তিনিও ছিলেন অর্ধ-মানব এবং অর্ধ-মাছ আকৃতির।
আমাদের দেশের পৌরাণিক কাহিনিতে জানা যায় ভগবান বিষ্ণু সর্ব প্রথম মৎস্যঅবতার নিয়েছিলেন। বিভিন্ন মন্দির গাত্রে মৎস্য অবতারের যে ছবি পাওয়া যায়, তাতে দেখা যায়- অবতারের উপরের অংশ মানুষের আর নীচের অংশ মাছের মত।
বিভিন্ন দেশের সবগুলো রূপকথা ,উপকথা পড়ার পরে জানা যায় মৎসকন্যারা সংগীতে ভীষণ পারদর্শী, সুরের মায়াজাল সৃষ্টির মাধ্যমে তারা জাহাজের যাত্রীদের মৃত্যুর দিকে আকর্ষণ করত। তাদের গানের গলা এতই চমৎকার ছিল যে সেই গান নাবিকদের কানে পৌঁছালে নাবিকরা সেই দ্বীপের দিকেই ধাবমান হতো। ফলে সেই জাহাজ চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে সাগরে পতিত হত সবাই।
অ্যাটারগাটিস এর মানব প্রেমের অনুকরনে মৎসকন্যারা এরপর ডুবে যাওয়া নাবিক দের তাদের প্রেম এর ডাকে সাড়া দেবার জন্য সাগরের মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে তাদের কাছে পৌছে যেত, হায় তারা বুজত না মানুষ যে জলের নীচে বেঁচে থাকতে পারে না। ফলস্বরূপ যখন মৎসকন্যারা জলের নীচে দিয়ে ডুবন্ত নাবিকদের উদ্ধার করে তাদের দ্বীপে নিয়ে আসত ততক্ষণে তারা মৃত্যু রাজ্যে পৌছে যেত।
কোন কোন উপকথায় এই মৎসকন্যারা মানুষদের প্রতি ভীষণ বিদ্বেষপূর্ণ আবার কোথাও কোথাও কোথাও প্রেমময়। তবে যাই হোক না কেন শেষ পর্যন্ত নাবিকরা মারা যেত। হায়! ভালবাসলেও মৃত্যূ না বাসলেও মৃ্ত্যু। বিশ্বের একেক সংস্কৃতিতে রয়েছে মৎস্যকন্যার একেক রকমের সংস্করণ
তাদের তীক্ষ্ণ সুরেলা গান, অপার্থিব সৌন্দর্য এবং সামুদ্রিক জীবনধারা সব মানুষের অন্তরেই এক অজানা আকর্ষণের সৃষ্টি করে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বহু শতাব্দী প্রাচীন কিংবদন্তী মৎস্যকন্যার দর্শন পাওয়া কি এই যুগেও সম্ভব? তবে কি তা শুধুই কল্পনা? নাকি সত্যি?
ফিরে এসো
✍️ অসীম দেববর্মা.....
তুমি ফিরে এসো বৃষ্টিস্নাত সকাল হয়ে
হয়তো রৌদ্রতপ্ত দুপুরে শীতল হাওয়া হয়ে,
নয়তো বিকেলের শেষে সাঁঝ বেলার শুকতারা হয়ে।
তুমি চলে যাওয়াতে কপালে জুটেছে না পাওয়া দুঃখ যতো!
বুকের ভিতরে খাঁ খাঁ করে
মনের অবস্থা সমুদ্র ঝড়ে বিপর্যস্ত পানসির মতো,
তোমাকে আঁকড়ে ধরে চেয়েছি বাঁচতে
কিন্তু তোমার সামনাসামনি হলেই তুমি মুখ ঘুরিয়ে
আড়ষ্ট হয়ে থাকতে।
শহরের মোড়ে মোড়ে অন্যজনার সঙ্গে তোমার মন
দেওয়া - নেওয়ার কানাকানি
তোমার কাছে জানতে চাইলে দিতে ধমকানি,
সবকিছু এলোমেলো
তোমাকে হারানোর আঁধারে ঘেরা আমার চারপাশ
বিরহের আগুনে জ্বলে পুড়ে আমি জীবন্ত লাশ!
দশভুজা
✍️ গোপাল দে
হে দশভুজা,
দারিদ্র্যক্লিষ্ট অসহায় এই সমাজের
ধারক ও বাহক তুমি,
তোমার হাতেই ধ্বংস হোক যত
ক্লেশ,দুঃখ,যন্ত্রণা আর অসহায়ত্ব।
পূর্ণতা পাক এই ধরাধাম।
হে ত্রিনয়নী,
তোমার ঐ সদাজাগ্রত ত্রিনেত্রে
ঠাঁই করে নিক স্বর্গ,মর্ত্য আর পাতাল।
দৃষ্টি থাকুক সকল জীবের প্রতি
ভূপাতিত হোক যত জাতপাত ভেদাভেদ।
হে সিংহবাহিনী,
দেশ ও জগতের কল্যাণে
তুমি বজ্রহস্তে সংহার করো
যত আসুরিক শক্তি।
দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার আর নয়।
বিনাশ করো যত অন্যায়,অবিচার
লিপ্সা,কাম ক্রোধ আর মোহ।
বিলীন হোক যত ধর্মযুদ্ধ।
হে ত্রিশূলধারিনী,
তোমার ঐ ত্রিফলায় বিদ্ধ করো
সমাজের যত আগাছা জঞ্জাল
রক্তচক্ষুতে প্রশান্তি দিয়ে
শান্ত করো এই জগৎ সংসার।
আসুরিক দম্ভে লাগাম টেনে
ছড়িয়ে দাও প্রশান্তির বাতাবরণ।
মা
✍️ চন্দন পাল
সমতলে মাটি খুঁড়ে,
সোজা দাঁড়িয়ে যায় ডানা ছাটা বরাক ।
ত্রিপালের চাদর গায়ে, বরাক সেজে উঠে
দশভূজা ছাবরায়।
সম্মুখে কদলীবৃক্ষ, থার্মোকল আর শালু,
রং মেখে উঠে যায় চূড়ায়, সজ্জিত মন্ডপ।
দুলে উঠে শিউলি, শালুক আর কাশের পাড়া।
কতো! আনন্দ শ্রম, ফুটে উঠে গ্রাম-শহরের চোখেমুখে, অবয়বে।
আগমনী বার্তায় বিহ্বল কারিগর , আলো আর বাদ্যশিল্পী।
মালা বেলুন বাঁশ শিল্পীর সন্তান গুলিকে দেখো,
সহযোগিতায় কী ব্যস্ত তাদের হাত আর বিনিদ্র মুখের হাসি।
এত আলো তবুও,
তোমার সন্তানেরা মাঝে মাঝে চিৎকার করে উঠে অন্ধকার গলিতে।
দেখো মা, ছবি সঙ্গীত আর সাময়িকী শিল্পী সহ,
পরিবহন, ফুচকা, মাংস-ভাতভাজা শিল্পীরা,
কী ব্যস্ত তাদের অংকে আর মিস্টি আশায়।
এত সাধন তবুও,
তোমার স্বচ্ছ শিল্পীর হিসাব মেলে না,
দেয়া-নেয়ার হাটে।
প্রতিবারই মহালয়া আর বিসর্জন দেখি,
দেখিনি অসুরবোধ নিধন আর সুবোধ জাগানে,
শাণিত তরবারির নিশ্চিত ঝলকানি।
তুমি, এসো মা বছরবছর,
একেকটা নিত্যনতুন কুবোধ নাশে, এ ভূস্বর্গে।
দুঃখের পাঁপড়ি
✍️ জগদ্বন্ধু হালদার |
| এতকাল কাছাকাছি আছি অথচ কোনোদিন একটু ছুঁয়েওতো দেখলে না নিরবধি কেন বয়ে যায় এ বুকে বিশাল নদী কোনদিন চোখ মেলে তাকিয়েওতো দেখলে না কী যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠে এ পাংশু মুখ কোনদিন বুঝতেওতো চাইলে না কেন এ নিবিড় বিশ্বাস নিয়ে বুকের ভেতর কষ্টের সিঁড়ি ভাঙ্গা কোনদিন জানতেওতো চাইলে না কেন এ রাত্রি জাগরণের কবর খুঁড়ে খুঁড়ে দুঃখের পাপড়ি দিয়ে তোমাকে নির্মাণ..... |
আমার দাদা।
| ✍️ - গঙ্গা সাহা |
| দাদা মানেই, বোনের আবেগ, অহংকার আর ছোট খাটো খুনসুটি আর মারামারি। দাদা মানেই,বোনের প্রথম খেলার সাথী। আর একটু উনিশ বিশ হলেই মারপিট আর কান্না ভারী। দাদা মানেই, বোনের চোখে জল আসলেই, মায়ের হাতে লাঠির বারি। আর বাবার ভারী চোখ রাঙ্গানি। দাদা মানেই, সমস্ত মারপিট এর অবশেষে, বোন যদি হয় একটু_ দু -চোখের আড়াল খালি, তখনি মায়ের কাছে প্রশ্ন হাজারি। তা যেন প্রশ্ন কম বেঙ্গ্য ভারী। যেমন কিগো মা কোথায় গেলো- তোমার আদরের মেয়ে খানি। দেখিনা দেখি তাহার চাঁদ বদন খানি। দাদা মানেই, যে দেখায় বোনের জন্য সে কঠোর ভারী, কিন্তু মন যে তার বোনের জন্য দূর্বল ভারী। দাদা মানেই, বোনের সমস্ত বিপদে এগিয়ে থাকা- সবার প্রথমে সেই হাত খানি। দাদা মানেই, বোনের হাতে রাখি আর ফোঁটা নেওয়া, বোনের সারাজীবনের রক্ষা কবজ খানি। দাদা মানেই, চাকরির প্রথম বেতনে বোনের জন্য, সব থেকে ভালো দামি উপহার খানি। দাদা মানেই, বোনের ভালোবাসার প্রিয় মানুষ খানি। ইং:- ০৩/০৯/২০২১। |
সে আর আগের মতো নেই
✍️ আলমগীর কবীর।
কি অদ্ভুদ এক সমাজব্যবস্থা।
হাওয়া যেনো উল্টো দিকে বইছে।
মানুষগুলি লালসায় আসক্ত হয়ে গেছে।
কেউ কাউকে নিয়ে ভাবার সময় নাই।
বাতাসে বিষাক্ত বায়ু বইছে।
গাছপালা আর আগের মতো ধুলছেনা।
পাখিগুলি আর মানুষের কাছে আসেনা।
তারাও বুঝে গেছে, -
মানুষ পাখিদের পরিবারের কথা ভাবেনা।
একবার ধরতে পারলে আর ছাড়বেনা।
মানুষ রুপি প্রাণীগুলো আজ টাকার লোভে মত্ত
তাদের বৈধ অবৈধ বিচার করার সময় নেই।
তাদের টাকায় তাদের সুখ।
হোক তা অবৈধ উপার্জনের অর্থ।
তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় তুলে।
তাদের চোখের সামনে ঘটে যায় হাজারও অপরাধ।
তখন তাদের সময় থাকেনা।
তারা প্রতিবাদের কন্ঠরুদ্ধ করতে জানে।
শুধু চোখে চোখ রেখে সত্তিটা বলতে জানেনা।
তাদের কাছে ব্যঙ্গ করার মতো
শব্দের অভাব নেই।
তারা শুধু ব্যঙ্গ করতেই জানে।
উৎসাহ দেওয়া তাদের কাছে
এক বিরক্তিকর অধ্যায় মাত্র।
নতুন দুর্গা
✍️ সঞ্চয়িতা শর্মা
নতুন দুর্গা চাই,
ত্রিনয়নী সে নাইবা থাকুক,
দশহাতও যার নাই।
নিজের বিপদ রুখবে নিজেই,
জিতবে সে সদাই।
তবু বহ্নি থাকুক অন্তরে ঠিক,
শরীর ছুঁতেই ফোঁস!
সালঙ্কারা নাইবা হলো,
নেই তাতে কোনো দোষ।
ত্রিশূল হস্তে যদি নাও থাকে,
সেফটিপিনেই কাত।
সচেতনতায় অধুনা যুগেও
অসুরের সম্পাত।
আলো
চারদিকে ঝিকিমিকি আলো,
দেখতে কত লাগছে ভালো।
জোনাকির হলুদ আলোর বুকে,
সন্ধ্যায় চলে ঝিকঝিকে।
দিনেকের শুভ্র আকাশে,
বক উড়ে বাতাসে।
রাতের আকাশে গুটি গুটি তারা,
চাঁদটি আমায় দিচ্ছে সারা।
শরতের শুভ্র মেঘ,
চলছে কত ভীষণ বেগ।
নদীর যে আজ আনন্দের দিন,
কাশবনেতে বাজতেছে বীন।
হোকনা প্রেমের উদয়
আমার উমা মেয়ে আসবে বলে
গোটা বিশ্ব চেয়ে পথ পানে।
সকল অশুভ শক্তি ধ্বংস করবে
শান্তি আসবে সকল প্রাণে।।
এক নব প্রভাতে জাগবে পৃথিবী
গাইবে আনন্দে জয়গান।
খুশির জোয়ারে ভাসাবে জগৎ
উৎফুল্ল হবে সকল প্রাণ।।
ভুবনে আসবে ফিরে শান্তি আবার
আনন্দময় হবে এই ধরনী।
কাশের দোলায় শিউলির সুবাসে
এসো মাগো জগৎ জননী।।
ঘরে ঘরে তুমি শান্তির বানী মাগো
সবার ঘুচাও মনের ক্লান্তি।
হরে নাও মাগো দুর্গতি যত এবার
দাও গো সবারে শান্তি।।
বারে বারে তুমি এসেছিলে মাগো
অশুভ করিছো নাশ।
এবারো ফিরে আসবে জানি তুমি
করবে অশুর বিনাশ।।
প্রেম ভালোবাসায় ভরিয়ে দাও মা
সবারই কোমল হৃদয়।
হাসিতে খুশিতে কাটাতে জীবন
হোকনা প্রেমের উদয়।।
নারী নাকি সমাজের মুখ
✍️ পৌষালী ভৌমিক
নারী নাকি সমাজের মুখ,
সেই মুখে তিক্ততা আর অম্ল ছুঁড়ে
পেলে কি অমেয় সুখ?
মুখোশধারী 'ভদ্রলোক',সামাজিক সম্মানে সম্মোহিত,
নারীর সম্মানে শুধুই আত্মসম্মান বাঁচে,বাকিটা আহত।
নারীত্বকে অধীনে রেখে মেটাচ্ছে নিজের পিয়াসা,
পদে পদে অবমাননা করছ নারীর মহিমা।
তোমরা 'ভদ্র' পুরুষ,তোমাদের বীরত্ব কাজে কাজে,
নারীর দেহ বুঝি নির্যাতনের রক্ততেই সাজে?
নারী শুধু মা,বোন,স্ত্রী নয়,নারীও যে আগে মানুষ,
নারীর ছোঁয়া আঁধার ঘোচায়,মেশায় মানে হুঁশ।
নারী শক্তির প্রতীক,পূজিত হয় প্রাণহীন মাটিতে,
প্রাণের মাটি অবহেলায় বাঁচে,অবজ্ঞায় প্রাণ খোঁজে।
নারী নয়কো কারো হাতের পুতুল কিংবা দাসী,
ধৈর্য্য ভাঙলে ঝুলবে 'ভদ্র' পিশাচ মরণের ফাঁসি।
প্রতিবাদ নয়,নারী তুমি গর্জাও বিনাশের সুর,
বর্ষাও অগ্নি,মুছে ফেল পাষাণের অসিত নুর।
আমিও যে নারী,নীতিতে শক্তি মেশাই,
সুর আর কলম,দুয়েতেই আগুন ঝরাই।
দশভূজা
✍️ সুমিতা স্মৃতি
দশভূজা দূর্গা তুমি মায়ার ভান্ডার।
তোমার আলোয় আলোকিত এ জগৎ সংসার।
অসুর বিনাশ করেছ তুমি, করেছ পাপের প্রাতিবাদ।
তোমার মতো তেজস্বী হওয়ার মনে জাগে সাধ।
সৃষ্টি রূপে তুমি মাগো সাক্ষাৎ অন্নপূর্ণা।
পাপ বিনাশে তুমিই আবার ভাসিয়ে দিয়েছ রক্তের বন্যা।
মহিষাসুর মর্দিনী তুমি শক্তির উৎসস্থল।
তোমাকে দেখেই নারীজাতির মনে জাগে বল।
লখীন্দরের বাসর
✍️ সঙ্গীতা দেওয়ানজি
জীবনের কাছে মাথা খুঁড়ে খুঁড়ে জীবন খুঁজেছিলো,
এক টুকরো ভালোবাসা আর স্পন্দন।
তবলার বোলে বেজে উঠেছিলো প্রণয়ের সুর।
রূপ ও রূপিয়ার কাঁধে রেখে হাত,
খুঁজে নিতে চায় যে আনন্দ উল্লাস,
ছন্দহীন বেজে গেছে তার পায়ের ঘুঙুর।
বোকা ছেলে ভাবে আমি তো দিয়েছি সব,
অগাধ ভালোবাসার অবলম্বন।
বুঝেনি,
জীবনের জলছবি আঁকতে গেলে রঙ তুলিও লাগে,
স্বপ্নের তাঁতে বোনা কফিনের চাদরে,
আহ্লাদী সাজায় লখীন্দরের বাসর।
বিষে বিষে নীল লখীন্দর বলেছিলো কি!
ভালোবাসা,তুমি আর আমি,
এরই মাঝে মৃত্যুকে এনে দিলে দাড়ি টেনে।
হায়রে মেয়ে!
অঙ্কের হিসেবে কতো বেশী পেলী?
কবিতা
✍️ বিজন বোস
কবিতা আমার সকালের সূর্য
পলাশ শিউলির সুবাস ,
শালিক বাবুই-র কিচির মিচির
শান্তির বার্তাবাহি পায়রা ।
নরম ঘাসে শিশিরবিন্দু --
ফসলের মাঠ চিলতে রোদ্দুর
ভাটি গাঙের ঢেউ ।
কবিতা আমার শীতলপরশ
দুপুরের আশ্রয়,
মায়ের আঁচল বোনের রাখি
ভাতের হাঁড়ি হজমের বড়ি ,
দুঃখে সান্ত্বনা ভয়ে সাহস
শ্বশানে বেদ
সুনীল আকাশ ।
কবিতা আমার সন্ধ্যাতারা
নিঝুম পথে 'কৃষ্ণনাম'
ঘোষণায় পাঞ্চজন্য যুদ্ধে সুদর্শন ,
রাত্রির শয্যাসঙ্গী
নির্ঘুম চোখে ঘুমের ঔষধ ।
কবিতা আমার বেঁচে থাকার মন্ত্র
নিত্যদিনের সাধনা
কবিতাতেই করি শান্তি স্বস্তির আরাধনা ।
কবিতা ষোড়শীর প্রথম গোলাপ
প্রথম প্রেমপ্রস্তাব ,
গাছ ফুল মৌমাছির মতো
কবিতাই আমার প্রেমিক
জনগণমন অধিনায়ক।
মা
✍️ সংহিতা ভট্টাচার্য
......................................
তোমার গলা জড়িয়ে ধরে
সুখ সাগরে ভাসি
মুক্ত মনে ছন্দ বেঁধে
স্বপ্নে বাজাই বাঁশি।
তোমার শাসন সোহাগ মেখে
জীবনতরী ভাসে
ঝড় ঝাপটা সামলে নিয়ে
তুমিই থাকো পাশে।
তোমার চোখে আকাশ দেখে
রামধনু পথে হাঁটি
জীবন বাঁকে নানান স্রোতে
খুঁজে বেড়াই খাঁটি।
তোমার খুশি আমার খুশি
এক্কা দোক্কা খেলে
ভালোবাসার পরশ মেখে
সময় বয়ে চলে।
আগলে রাখো মাগো
✍️ মিঠু মল্লিক বৈদ্য
শারদ সাজে আসছে মাগো
মর্ত্যধামে নামি,
কাশ শিউলির সুভাস ঢেলো
দিতে মায়ের অঞ্জলি।
কাসর বাজে ঢাক বাজে
বাজে মঙ্গল শাঁখ,
মা আসবেন ধরাধামে
হবে অসুর বিনাশ।
শারদ প্রাতে শিউলি তলে
শিশির ভেজা ঘাস,
ষষ্ঠী তিথির পুণ্য লগ্নে
মা তোমায়, করি আহ্বান।
সপ্তমীতে বরণডালি
সাজিয়ে তোমায় ঘরে তুলি,
অষ্টমীতে বিল্ল পত্রে
অঞ্জলি দিই চরণ তলে।
সন্ধিক্ষণের সন্ধিপুজোয় আলোর ছড়াছড়ি
নবমীর দিনে চণ্ডীপাঠ শুনি।
রাত কাটে এমনি করে বিদায়ের কথা ভাবি
দশমীর প্রাতে দেবী যাবেন কৈলাশ ফিরি।
বছর বছর আসো মাগো
মর্ত্যধামে নামি
দশভূজার রূপে মাগো
রাখ আগলে এই পৃথিবী।।
সময়ের শেষে
✍️ নীলদ্বীপ কুমার
দেখা হবে তোমার সাথে সময়ের আয়োজনে,
যেদিন আমার সকল কিছু পুড়বে দহনে।
মলিন পথ যখন অমলিন হবে গহীন রাতে
ছন্দগুলো অন্ধ হবে তোমার কারণে!
এতটুকু তো পুড়তেই পারি তোমার আসার অপেক্ষায়,
তবুও ভাবি মৃতদেহে কে-ই বা এমন আগুন জ্বালায়।
দেখা হোক তবুও তোমার সাথে সময়ের শেষে
যখন,লিখে দেবো এ জীবন চিরনিদ্রার কাছে।
চূপকথা
✍️ সীমা দাস।
গল্পেরা হয়তো তোমায়,
ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়।
হয়তো বা কবিতা,
ছন্দে ছন্দে দল বাঁধে।
স্বপ্নেরা সব ফুলঝুড়ি এটে,
আদর দিয়ে যায়।
অনেক কালের চেনা পথে,
হালকা বিরতি পরে।
সঙ্গীতের ঘোরে বিভোর মন,
তোমায় দোলা দিয়ে যায়।
ইচ্ছেরা সব ডানা মেলে,
আকাশ পারে যেতে চায়।
ভ্রমরের ছলনাময়ী খেলা,
দরজায় কড়া নাড়ে।
ভুলে যেও তখন,
বিগত দিনের চুপকথা।
প্রাক্তনের সমাপ্তি দিনে,
আজ এক নতুন তুমি।
তখন স্মৃতির পাতা,
হালকা কৌশলে উল্টে নিও।
আস্তে ধীরে হবে এবার,
চিরসবুজের মুখোমুখি।
মা আসছেন
✍️ সুশীল দাস
আমি যখন ঘর থেকে বের হয়
কবিতা দেখি পথে-ঘাটে,
যখন বাজার করতে যাই
অনেক গল্প খুঁজে পাই হাটে।
ধানের ক্ষেতে হাঁটি যখন
দেখি আনন্দ ছড়িয়েছে মাঠে,
শীতের ফসল করবে বলে
চাষী ভাই আইট্টা ধান কাটে।
যখন প্রান ভরে শ্বাস নেয়
বুঝি প্রেম ভাসে শরৎ বাতাসে
আবার কান পেতে শুনি যখন
আগমনীর সুর শুনি আকাশে।
আকাশ, বাতাস,হাট-মাঠ-ঘাট চঞ্চলতা,উদ্বেগ বাড়ায় মনে,
মা আসছেন,মা আসছেন
পূজো দেখি কার সনে?
অমরত্ব
✍️ মনীষ শর্মা
শিল্পীরা বাঁচে
কবিরা বাঁচে।
সুরের কারিগরেরা বাঁচে।
বুকের রক্তে ভেজা ভাষা
ঘামে চুবানো তুলি
মাথাই সুরের জোনাকি
এই সবকিছু নিয়ে- শিল্পীরা বাঁচে,
কবিরা বাঁচে,
গানের জাদুকরেরা আসে।
এইতো সেদিন সূর্যাস্তে,
নিঃশব্দ সন্ধায়, বিষন্ন ঘরে
মহাকবি মিলটন ফেললেন তার শেষ দীর্ঘ নিঃশ্বাস
সেদিনই এই বিপুল মহাবিশ্বে
তরঙ্গে তরঙ্গে হলো কানাকানি-
সৃষ্টির স্রষ্টা ভরসা দিলেন
' ভয়া নেই - আসবেন রবীন্দ্রনাথ!
তাই নন্দনকাননে হারানো বনে,
তিনি শুনিয়ে গেলেন গান
গীতাঞ্জলির সুরহাবারে,
স্তব্ধ হল ইভের শত্রু শয়তান।
চুপটি করে লক্ষীমেয়ে হয়ে বসেছিল মোনালিসা।
সামনে রঙ তুলি হাতে লিওনার্দো।
এক অক্ষয় হাসি তিনি রেখে গেলেন তাঁর ঠোঁটে।
সেই একই তুলি
ঐ একই রং দিয়ে
আজ যখন ওসেন আঁকেন এগ্ন স্বরস্বতী মনে হয়, দেবীর ঠোঁটের কোণে
ঐ বুঝি লেগে আছে,
মোনালীসার সেই হারিয়ে যাওয়া হাসি!
সুরের তোফান তুলেছিলেন বেটোফেন
ঘোর লাগিয়ে দেয়া মোজার্টের অপেরা,
মেঘ মল্লারে তানসেন।
বিন্দু বিন্দুতে,
সুরের সেই সিন্ধু নদী
আজও যায়নি শুকিয়ে,
যখন দেখি শান্ত জ্যোৎস্না
ঝাপসা রাতে,
ভীম সেন যোশী গান ধরেছেন!
তারায় তারায় রয়েছে যোগাযোগ,
যুগে যুগে কবিদের সৃষ্টি কলমে সার্থক হোক।
জীবনের সব রং ফুটে উঠুক তুলিতে,
শিল্পী ছবি এঁকে যায়, মানবতার ক্যানভাসে।
সাত সুরে বাধা সেই যে সহজ সা রে গা মা পা,
ওতেই প্রান পেয়ে জাগে মহাবিশ্বের আত্মা।
ধন্য ঈশ্বর,
ধন্য তাঁর সৃষ্টি,
যুগে, যুগে তাই পাঠিয়ে দেন,
কলম হাতে চিরসজাগ উদাসী এক কবি
ধন্য সে মহাশক্তির মহিমা,
তাইতো, রঙের ক্যানভাস
আজও বিবর্ণ হয়ে যায়না।
সার্থক এই মহিমাময় বিশ্ব,
সুরের বাঁধনে বাঁধা পড়ে যায়
সুগভীর সব অর্থ।
এই তো জীবন,
এটাই বেঁচে থাকা,
এখানেই অমরত্ব।।
ধৈর্য্য
✍️সম্রাট শীল।
___________________
ধৈর্য্যতেই জয়ের তিলক,
ধৈর্য্যতেই বল।
ধৈর্য্য মানে গভীর রাত্রি,
ধৈর্য্যতেই উজ্জ্বল।।
ধৈর্য্যতার স্রোতে নিবদ্ধ,
কূটনৈতিক অভিসন্ধি।
ধৈর্য্য তার শেকড়ে কূটনীতি,
নিজের জালেই বন্দি।।
ধৈর্য্যতেই শান্তি প্রবল,
চারিপাশে শীতলতা।
ধৈর্য্য তেই পরিসমাপ্তি,
অপর প্রান্তের বিলাসিতা।।
অনুগল্প -দূর্গা
বাবা আমায় দূর্গা বলেই ডাকে। বাবা বলে আমি তার দূর্গা মা। বাবা যখন রোজ প্রভাতে পূজোতে বসে, বারে বারে আমার মুখের দিকে তাকায়।
বাবা তুমি তো ঠাকুরের পূজো করছো। আমি কি ঠাকুর নাকি যে আমার দিকে তাকিয়ে থাকো।
বাবা হাঁসলো আর বললো তোকে নিয়েই আমার সব রে মা। তুই যে আমার দূর্গা।
বাবা আমি শিল্পী হবো। মথুর জেঠুর মতো প্রতিমা গড়বো। আর আমার ঠাকুরের পূজারী হবে তুমি।
তাই, তুই প্রতিমা গড়বি! বেশ তাহলে এবার পূজোই আমার দূর্গা মা দূগ্গার প্রতিমা গড়বে।
পরের দিন সকালবেলা বাবা মাটি এনে দিল। বাইরে থেকে আওয়াজ এলো - দূর্গা.....। আসছি বাবা। একি এতটুকু মাটি এনেছো? এতে কী করে হবে বাবা? ওরে মা হবে হবে সব হবে। তুই চল আমার সঙ্গে।
আজ অষ্টমী। আমার নিজের হাতে গড়া প্রতিমার পূজোতে বসেছে বাবা। আমাদের ছোট্ট প্রতিমার দর্শন করতে একজনও এলো না।
বাবা আমার প্রতিমা দেখতে কেউ এলো না কেন?
তুই ব্যাস্ত হচ্ছিস কেন মা। আসবে ঠিক আসবে। চল মা চল সেই সকাল থেকে কিচছুটি মুখে দিস নাই। আই মা আই, খাবি আই। ওরে বোকা মেয়ে কাঁদছিস কেন? দূর্গা কাঁদে না সোনা। দেখবি ঠিক আসবে সবাই।
ইতিমধ্যেই লাল শাড়ি গায়ে খোলা চুলে আগমন ঘটলো এক নারীর। আর পেছনে তার দুই মেয়ে, ছেলে ও স্বামী।
দূর্গা .... দেখ ওরা এসেছে। ওরা এসেছে রে মা তোর প্রতিমা দেখতে।
তাদের সাথে ধীরে ধীরে অনেক লোকজন আসা শুরু হলো।
মহিলাটির মুখখানা ভারি মিষ্টি। তার চোখে একটা অন্যরকম চমক। তিনি যাওয়ার সময় বলে গেলেন - " দূর্গা ..... এমন গভীরভাবে ভালোবেসে প্রতিমা গড়লে স্বয়ং দেবী দূর্গাও আসতে বাধ্য মা"।
---------------------
তোমায় দিলাম
চাও নি কিছুই
তবুও মনের মধ্যে দীপ্ত বাসনা।
বহু দিবা-রাত্রি যাপন করেছ,মুখ ফুটে বল নি কিছুই।
তবুও আমি তোমায় একটা সকাল দিলাম,
তাতে তুমি সূর্যের রক্তিম আলো দিও।
একটা দুপুর তোমার হাতে দিলাম,
তাতে তুমি রবির প্রখরতা এনো।
একটা শীতল বিকেল দিলাম বধূ,
তুমি তাতে কোকিলের গান বুনো।
সন্ধ্যাটুকু রাখলাম শুধু,কথার আসর বসাবো।
দিনান্তে বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে
তোমার খোঁপায় গুঁজে দেব
একশ আট টা লাল গোলাপ।
গোপনে কইব কথা কপোলের ফাঁকে ফাঁকে,
হৃদয়ে বাজিবে বাঁশি তব ছোঁয়াতে।
আমার শেষ রজনীটুকু দিলাম বধূ
স্বপ্ন এঁকো নানা আদলে।
হিমাদ্রি শিখর পাড়ি দিয়ে
ফিরবো তোমার আঁচলে।
মেয়েবেলার দুর্গাপূজো
✍️ ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য
সকাল গুলো বেশ অন্য রকম ছিল তখন। শরৎ আসার সাথে সাথেই হাওয়ায় একটা মিষ্টি আমেজ ভেসে বেড়াতো। শিউলি ফোঁটা ভোরে গায়ে লাগতো পাতলা কুয়াশার চাদর। পরিযায়ী পাখীরা ধীরে ধীরে ভিড় জমাতো বড় পুকুরটার পাশের কদম গাছটাতে। পুতুল খেলার বাক্স তখন গুছিয়ে তুলে রাখা হতো উঁচু তাকের এক কোণে। চতুর্দিকে কেবলই সাজো সাজো রব।
মা, দিদিদের দেখতাম ঘটা করে ঘরদোর পরিষ্কার করতে। দেবী পক্ষের আগে পিতৃপক্ষের প্রত্যেকটা সকালে বাবা তর্পণ করতেন। বাবা বলতেন, পূর্বপুরষরা স্বর্গ থেকে নেমে আসেন একফোঁটা জলের আশায়। তাই পিতৃপক্ষের প্রত্যেকটা দিনই তাঁদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা খুব জরুরী। মহালয়ার দিন দেখতাম বাড়ীতে পার্বণ শ্রাদ্ধ করতেন বাবা। দুপুরবেলা পঞ্চব্যাজ্ঞনে রান্না করে মা পুরুত মামাকে খাওয়াতেন।
মহালয়ার আগের দিন সকাল থেকে আমরা তিনবোন মিলে ফর্দ তৈরী করতাম। কারণ ঐদিন বাবা আমাকে নিয়ে পূজোর জন্য প্রসাধন কিনতে যেতেন। তুহিনা, বসন্ত মালতী, পন্ডস পাউডার,রঙীন ক্লিপ, লাল ফিতে..... আরো অনেক কিছু। সেইসঙ্গে বাবা নিয়ম করে প্রতি বছর চারটে নিপ্পো বেটারী কিনতেন। ফেরার পথে সুরমা বেকারী থেকে বিভিন্ন ধরণের বিস্কিট কিনে ফুরফুরে মনে বাবা মেয়ে বাড়ী ফিরতাম। ভোর বেলা লণ্ঠনের আলোয় বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের গমগমে আওয়াজে “আশ্বিনের এই শারদ প্রাতে....” র সঙ্গে রান্নাঘরে মায়ের চা বানানোর কাপপ্লেটের আওয়াজ ভোর’টাকে বড় মায়াময় করে তুলত....
আমরা ছেটবেলায় কখনো পূজোর কাপড় কিনতে যেতাম না। বাবা থান কাপড় কিনে আনতেন আর মা সারাদিনের কাজ শেষে রাতে মেসিন নিয়ে বসে তাঁর শিল্প নৈপুন্যের ছোঁয়ায়একটু একটু করে জামা সেলাই শেষ করতেন। মা’য়ের তৈরী সেই জামাগুলো আমাদের কাছে যে কী মহার্ঘ্য ছিলো তা এখনকার ব্রেন্ডেড জামা গুলোকেও তৃপ্তিতে হার মানাতো....
মেয়েবেলায় মহালয়ার ভোরে পাড়ার পূজো মন্ডপে মহিষাসুর মর্দিনীর অনুষ্ঠান থাকতো। সবাই মিলে মিশে সক্কাল সক্কাল মা’য়ের আবাহনের মজা’ই আলাদা ছিল....।
তখনো মনে হতো, আর এখনো মনে হয়— পূজোর দিনগুলো এতো ছোট হয় কি ভাবে ? তিনটে দিন যেন বাতাসের আগে মিলিয়ে যায়। তখন স্নান সেরে নতুন জামা পড়েই পাশের বাড়ীর পূজোতে দে দৌড় ! সারাদিন ওখানেই অজ্ঞলি, ভোগ খাওয়া আর একদিন দুপুরে মা’য়ের সাথে অটো করে ঘুরতে যাওয়া.. তখন আসলে এখনকার মতো রাত্রিবেলা প্যান্ডেল হপিং এর রেওয়াজ ছিল না। বেলুন,টিকলি বন্দুক ছিল নিজের কেতা জাহির করার মোক্ষম উপায়। এখন ভাবি,পূজোটা কীভাবে বদলে গেলো ! বিবর্তনের হাত ধরে খুব সন্তর্পনে আমাদের চারপাশে যে কতো পরিবর্তন এসে গেলো ... তা আমাদের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা মন্থন করলেই বোঝা যায়। তবুও শরৎকাল দেখলেই মন নেচে ওঠে... মহালয়ার চন্ডীপাঠ শুনলেই মা’য়ের পূজোর official announcement হয়ে যায়, বিজয়ায় মিষ্টিমুখের চিরায়ত প্রচলন এখনো মনে করিয়ে দেয় বাঙালির একমাত্র উৎসব দুর্গাপূজোর কথা ! যা বহমান কাল ধরে বাঙালির পরিচয়কে বিশ্বের কাছে তুলে ধরবে...
5-10-2021
গুরিয়ার দুর্গা পুজা
✍️ পান্থ দাস,
হাঁপানিয়া, ত্রিপুরা
মা ! আজ কি ফুটবে শিউলি?
কেন গুরিয়া ?
কতটা মাস ধরে শুধু অপেক্ষা করছি একটু শিউলি ফুলটা দেখতে ৷ তুমি বলেছিলে দুর্গা পুজার সময় এই ফুলটা ফোটে, তাই আরো আমার কৌতুহল ৷ জীবনে প্রথম আমি দেখবো শিউলি ৷
আদর করে মা গুরিয়া ডাকে ৷ সবে বুঝের বয়সে পরেছে সে ৷ গুরিয়ার পুজা ঘুরা খুব পছন্দের ৷ বাবা আর মামনি কে সাথে করে সে এবারের পুজা দেখবে বলে বায়না করেছে ৷ শুধু দুর্গা পুজাই নয়, দুর্গা পুজার সাথে জরিত প্রতিটা জিনিসই তার খুব প্রিয় ৷ এবারের গুরিয়ার বিশেষ ভালোবাসা শিউলি ফুল ৷ বুঝের হয়ে এই প্রথম সে দেখবে শিউলি ৷ শুধু দুর্গা পুজার সময় ফোটে বলে শিউলির প্রতি ভালোবাসা তাঁর আরো প্রবল ৷ পাশের বাড়ির ছোট্ট টমি কেও সে এতটা পছন্দ করেনা, যতটুকু শিউলিকে করে ৷
শরৎকাল ছাড়া অন্য ঋতুতে শিউলি ফোটেনা বলে গুরিয়ার খুব কষ্ট ৷ সেই সাথেই যারা পথশিশু রয়েছে তাদের প্রতিও একই কষ্ট অনুভব করে সে ৷ গুরিয়া পুজোয জন্য নতুন জামা- নানা পোষাক উপহার হিসেবে পায় তবে সেই শিশুরা থাকে বঞ্চিত ৷ গুরিয়া ভাবে শিউলি তথা দুর্গা পুজার জন্য যেমন তার কিছু আশা, ভালোবাসা আছে সেইভাবে সেই শিশুদেরওতো কতো আশা-আকাঙ্খা আছে ৷ গুরিয়া ভাবে তাঁর অসুবিধায় বাবা-মা আছে তবে সেইসব শিশুদের তো তাও নেই ৷ তাই গুরিয়া খুব দুঃখ অনুভব করে ৷ গুরিয়া চায় শিউলির মতো সেইসব শিশুদেরও নতুন সূর্য উদয় হোক ৷
কাশের সমারোহ
✍️ প্রতীক হালদার
পথের দু-ধারে , বনের মাঝেতে
মাঠের আলের পাশে,
যে দিকে তাকাও দেখতে পাবে
কাশফুলেরা হাসে ।
মিঠে রোদের আলো মেখে
করছে তারা খেলা,
চাঁদের আলোয় গা ভাসিয়ে
থাকে রাত্রিবেলা ।
ভোর হতে সেই,নেই চোখে ঘুম
কত কি যে ভেবে চলে,
সারাদিনভর নিজের মনে
কত কথা নিজে বলে ।
দুলে ওঠে ওরা প্রকৃতির কোলে
বাতাসকে বলে শোন,
"তোরই আসাতে আমি শিহরিত
আনন্দেতে মন ।"
দুলিয়ে মাথা আকাশ পানে
দেখছে মেঘের দল,
জাগছে মনে অনেক আশা
"আমায় নিয়ে চল ।"
ডানা কাটা পাখি
✍️ অন্তরা ভট্ট
ছোট্ট একটি পাখি
কিচিমিচি নানান কথা বলতো মায়ের গোচর
জানিস তো মা..
আজ যে আমি
ওই যে দূরের পাহাড় চূড়ো আছে
সেথায় গেলাম সঙ্গীদের সাথে।
জানিস তো মা...
অন্য আরেকদিন যাবো
ওই যে দূরের বড়ো গাছটি আছে
তার মগ ডালে তে বসে
তোরই সাথে গাইব মনের সুরে
ভালোবাসবো তোকে আমার মতো করে।
জানিস তো মা...
কাল যে আমি ঘুমিয়েছিলাম রাতে
কেউ যেন মা দিচ্ছে আমার ডানাটি কেটে
হঠাৎ করে ঘুম থেকে উঠে বসি
দেখছি আমার ডানাটি আছে ঠিকমতে
টপ করে পড়লো চোখের জল
ভাবতে লাগি কেউ দিল
স্বপ্নগুলোকে করে জল ।
ইচ্ছে ছিল তোর সাথে যে
ওই যে গাছের মগডালে তে বসে
দেখবো মোরা সাজের বেলায়
সূয্যি মামার বাড়ি ফিরন ।
তুই সব জানিস তো মা...।।
মা মেনকার বাৎসল্য রস
✍️ কৃষ্ণ দাস
মা মেনকা অধীর অপেক্ষায়,
উমার বাড়ি আসার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রহর গুনছেন।
তুই কি আমার সেই ছোট্ট
পুতুল পুতুল মেয়ে।
পুতুল খেলার বয়সে দিয়েছিলেম বিয়ে।।
চার সন্তানের মা হলেন উমা আমার।
থাকবে কি তার সেই রুচি সেই বাহার।।
মেয়ে আমার পুতুল খেলার বয়সী।
গিরি দিলেন বিয়ে আধ বুড়ো বর বয়সী।।
তিন দিনের জন্য আসবে আমার উমা।
চতুর্থ দিনের মাথায় আসবে ভোলা নিতে তার জায়া।।
এবার আমার গৌরী আসলে আমি ঢের এক শক্ত হাতে দাঁড়িয়ে থাকবো চৌকাঠ সম্মুখে।
দেখি গিরি, কত ক্ষমতা রাখে ওই নীলকণ্ঠ তার ভালে।।
শিশির সিক্ত আগমনী
✍️ সম্পা কর্মকার❤️
শরৎ এর শিশিরে ভেজা ভোর...
একাকি বসে উপভোগ করছি চারপাশ , দূর থেকে বহু দূর ।।
ট্রেনের জানালার পাশে বসে দেখছি...
কাশ ফুলেরা আপন মনে দুলছে উতাল পাতাল ।।
প্ল্যাটফর্ম এর যাত্রীরা সব আপন আপন পথে চলছে এপার ওপার ।।
কেউবা ভাসছে গল্পের ভেলায় ।।
শরতের সকাল শিউলি ফুলের আভায় মাতোয়ারা মন ।।
ভাবছে বসে উমা মা যে আমার আসছে আর কিছুক্ষণ ।।
শিশিরে ভেজা প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য অতুলনীয় ।।
সবুজ পাতায় শিশির কণা...
রবির কিরণে লাগছে হীরক কণা ।।
মনে হচ্ছে শরতের নীলাম্বর ছড়াচ্ছে সোনা ।।
শিশিরে সিক্ত প্রভাতের অনন্য এক অনুভূতি...
হৃদয়ের মণিকোঠায় ধ্বনিত করে মায়ের আগমনী ।।
আলোয় আলোয় আলোকিত হচ্ছে শহর ।।
ঢাকিরা সব পাচ্ছে বায়না , আলো হচ্ছে তাদেরও ঘর ।।
মা যে আমার সর্বজনীন...
তাই তো সবাই দলে দলে উপভোগ করছে পুজোর দিন ।।
মা দূর্গা
✍️ অন্কিতা বর্ধন
মেনকার চোখের মনি গৌরি
আসছে এবার বাড়ি।
শিব বলে কাতর হয়ে ,
" তোমায় বীনে আমি
রইব কেমনে।"
গৌরি বলে,
"হে শিব দিন চারএক পর আসব চলে তোমার মহলে।"
সপ্তমী অষ্টমী মায়ের ঘরে
থাকে দূর্গার চরন ।
একটি বছর অপেক্ষায় থাকি
আমরা ভক্তগন ।
নবমীতে মেনকা কয়
"না কাটে এই রাত ।"
"গৌরি আমার যাবে চলে
হলেই যে প্রভাত ।"
"পতি তাঁর বৃদ্ধ ,
ঘরে আছে সত,"
"আমি যে তাঁর সুখের
দেখি না কোনো পথ ।"
গিরি বলে শোন রানি ,
"গৌরি হল শ্মশান
বাসির অর্ধাগিনী।
কাল যেতে হবে
কৈলাস রাজার ঘর ,
তুমি রানি সকল চিন্তা ত্যগিয়া
গৌরিকে আগলে
রাখো রাতভর ।"
ভোর হতেই ডমরু বাজে
গৌরি যাবে শিবের ঘরে ।
মায়ের কান্না বয়ে যায়
গৌরি আমার ফিরে আয় ।
"একটি বৎসর এর অপেক্ষায়
থাকা যে মা বড়ো দায় ।"
মায়ের পূজা
✍️ প্রিয়াঙ্কা আদক
নীল আকাশে মেঘের ভেলা ,
কাশ ফুটেছে শরৎ-এর বেলা ।
শিউলি পরে সবুজ ঘাসে ,
মায়ের আগমনীর সুর যে ভাসে।
মহালয়ে ভোরবেলা
মহিষাসুর মর্দিনী হয় দেখা ,
মায়ের মুখে ফুটে ওঠে
নতুন এক খুশির রেখা ।
মায়ের সাথে ছেলেমেয়ে
যাচ্ছে যে তো মামারবাড়ি ,
মর্তে তারা পূজিত হবে
আর ভক্ত সারি সারি ।
ষষ্ঠী থেকে শুরু করে
পূজা হবে দশমী ,
বিদায় বেলায় সিঁদুর খেলা
করবে মা জননী ।
শেষে আছে মিষ্টি মুখ
নাড়ু ও চিড়ের ভোগ ,
সবাই মিলে পার্থনা করে
থাকবেনা কোনো রোগ ।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)
