ই-ম্যাগাজিন

নবোন্মেষ পত্রিকায় সবাইকে স্বাগত

সম্পাদকীয় কলম

জোনাকি

   ✍️প্রতীক হালদার 

ও - জোনাকি,দিনের বেলা 
থাকিস কোথায় তোরা?
আঁধার হলে দল বেঁধে সব 
রাত-দুপুরে ঘোরা ।

ভয় পাস নে ভূত কে বুঝি?
সাহস কোথায় পাস?
এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াস 
যেথায় খুশি যাস ।

আঁধার গলি আলোয় ভরাস 
রাতের পরী তোরা,
দেখতে পেলেই ধরতে ছুটি 
এক নিমেষে মোরা ।

ক্লান্ত পথিক ফিরছে ঘরে 
দেখাস তারে আলো,
এমনি করেই পুণ্যি করিস 
থাকিস তোরা ভালো ।

বলব আবার কাল'কে কথা 
আজ'কে তবে থাক,
আসবি আবার আমার কাছে 
দেবো যখন হাঁক ।

আউল বাউল

   ✍️ সুপর্ণা মজুমদার রায়
-------------------------------------
বাউল তোমার একতারাতে
কোন সুরটি আছে সাধা?
শিরায় শিরায় ভাব তরঙ্গে 
সরল মনের জীবন গাঁথা। 
বাউল তোমার একতারাতে
সুধা মাটির ভেজা গন্ধ, 
শ্যামাঙ্গিনীর পায়ের মলে
রাঙা মাটির সুর ছন্দ । 
বাউল তোমার একতারাতে
দেহতত্ত্বের মিলন সুর, 
হরেক পাখির কলতানে
জাগরণের নুতন ভোর । 
নবচক্র বাঁধা আছে 
একতারাই তারের মাঝে, 
ধর্ম অর্থ কাম মোক্ষ 
তোমার সুরে মিশে আছে। 
বাউল তোমার একতারাতে
সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলি,
ফুলের বনে গুঞ্জরনে
মধুর খোঁজে নেশায় অলি। 
বাউল তোমার একতারাতে
সাত সাগরের নীলাভ ঢেউ, 
ভালবাসার সাত কাহনে
মনের মাঝে আবছা কেউ । 
বাউল তোমার একতারাতে
আসা-যাওয়ার হাজার বিলাপ 
রাধা শ্যামের ভক্তি রসে
সুখ সারীর প্রেমের আলাপ। 
বাউল তোমার একতারাতে
নদীর পারে ধোঁয়ার রেশ, 
দুখী সতীর পুড়ছে দেহ
কেড়ে নিল মরণ বেশ। 
বাউল তোমার একতারাতে
মন যমুনার জোয়ার ভাঁটা, 
সপ্তপদীর দিন গুনে যায়
বিনিসূতোর সম্পর্কটা।
বাউল তোমার একতারাতে
ভবসাগর পারের কথা, 
বিধাতার এই রঙ্গ মঞ্চে 
নাটকান্তে যথা তথা।  
বাউল তোমার একতারাতে
একটি তারেই আছে প্রাণ, 
সুখ দুঃখের গল্প নিয়ে 
জীবন যুদ্ধের কতো গান । 
বাউল তোমার একতারাতে
কৃষ্ণ -খ্রীস্ট তফাৎ বিহীন, 
কালিমাকে ধুয়ে মুছে 
মানবতার ফিরবে সুদিন। 
রাঙা মাটির পথে পথে 
লালনের সেই দীর্ঘ রেশে,
বাজিয়ে চলো একতারাটি
বাউল তুমি আউল বেশে।

অতীতের দাবানল


            ✍️রাহুল দেবনাথ।

বিলাসময় এ জীবন নাটক।
বিষন্নতায় ভরা।।
সুখের খোঁজে দুঃখ মিলে ভাই।
সুখে কাতর কারা।।
যদি না ভুলো অতীত কাহিনী।
বর্তমান তোমার বৃথা।।
দুঃখে দুঃখে সংঘর্ষ কেন?
সুখের আড়াল সেথা।।
জ্বলছো কেন? অতীত দাবানলে,
ছায় দেবে নাকো ঠাঁই।।
সব শেষ হয়ে যাওয়া ছায় যদি,
একটা ইট এত শক্ত রূপ পায়।।

ভালোবাসার পদাতিক


              ✍️কাজী নিনারা বেগম   

অধ ভুখন্ডের অনা কাঙ্ক্ষিত ভালো বাসা,,
যেনো এক অনাবৃত মায়াবী ভোরের উজ্জ্বল হলুদ রঙের সুরুজ ন্যায় উপরে পড়েছে।। 
উষ্ণতা ও আদরে অধমৃত ভালো বাসার পদাতিক  অপরাজিতা,,
ক্ষত বিক্ষত আত্মাগুলো
 নির্জনে ।।
নৈকট্য বিষাক্ত বিষাদের গল্প নিয়ে অসিম দিগন্তের,
তারা গুলোতে খুজেঁ চলেছে এক জীবন্ত কিংবদন্তি।।

নিদ্রা


            ✍️পৌষালী ভৌমিক 

ছেলেবেলার সেই অপ্রিয় নিদ্রা,
তখন বড্ড ইচ্ছে হতো রাত পাখি হবার
রাতগুলো না জানি কত তারার স্বপ্নে ভরা।
আজ বড়বেলায় সেই নিদ্রা বড়ই প্রিয়,
এখন  রাত পাখি খুব চেনা
মাঝ রাতের স্বপ্ন গুলো যে বিনিদ্রার তুলিতে আঁকা।
ছেলেবেলায় যে নিদ্রা সময় নিয়ে আগলে রাখতো খুব, বড় বেলায় সে আজ চিন্তার অজুহাতে ফিরিয়ে নিয়েছে মুখ।

সময়


             ✍️সুমিতা স্মৃতি

সময় চলে যায় আসে না ফিরে। 
কেউ রাখতে পারেনি সময়কে ধরে। 
সময় বয়ে যায় স্রোতের মত। 
সময়ের সাথে চলে যায় জীবন শত শত।। 
সময় শিখিয়ে দেয় জীবনের মূল্য। 
আর জীবন বলে দেয় যে সময় সবচেয়ে অমূল্য।। 
সময় দেখিয়ে দেয় জীবনের গতি। 
সময়ই নিয়ে আসে জীবনের সুখ ও দুর্গতি।। 
সময় ঈশ্বরের সৃষ্টি অমূল্য সম্পদ। 
সময়ের সাথে বদলে যায় মানুষের জীবন চলার পথ।। 
তাই বলি যদি কর বৃথা সময় নষ্ট। 
জীবনে পেতে হবে অনেক দুঃখ কষ্ট।। 
      
               

অনবসর


             ✍️ জীবন দেবনাথ 

হে সত্যিই তো কেউ অবসর নেই ।
কেউ হাটে ,কেউ মাঠে ,আবার কেউবা ঘরের কোনে ইন্টারনেটে ।।

সবাই ব্যস্ত যার যার গন্তব্যের খুঁজে।
কেউ সফলতার খুঁজে ব্যস্ত,
কেউ সফল হয়ে ও সফলতা নিয়ে ব্যস্ত।।
কেউ সু চিন্তা থেকে দুঃসচিন্তায় ব্যস্ত ,কেউ ভাবনায়।
কেউ সফলতার ভুল পথে ব্যস্ত।।
আবার কেউ দিক-বেদিক চঞ্চলতায় ব্যস্ত।
কেউ এই সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় ব্যস্ত।।
কেউ মৃত্যুর আশায় দিন গুনতে ব্যস্ত।
কেউ অনাহারে অর্ধাহারে ক্ষুদার তাড়নায় একমুডো ভাতের জোগাড়ে ব্যস্ত।
আবার কেউ বা বিবেক হীন , মানবতাহীন , নিষ্ঠুরতায় ব্যস্ত ।।
     হে সত্যিই কেউ অবসর নেই ।।

খাওয়া


                 ✍️মাথুর দাস


কেউ খায় কম আর কেউ খায় বেশি,

কেউ খায় মিষ্টি বা টক ঝাল নোনতা ;

লোভে পড়ে খেয়ে নিলে কোন্ ছেড়ে কোন্-টা

কারো বাড়ে পিলে আর কারো মেদ বেশি ।



দ্যাখো বিজ্ঞাপনে কত যে খাবার লোভনীয়,

নোলা বাড়ে হাঁক ছাড়ে জঠর, রসনা ঠেলে ;

ডাক দেয় হাজারো খাবার, দোকান-হোটেলে,

ভুলে যাই সুষম আহার পেটে বড়ো শোভনীয় ।



পরিমিতি-বোধটুকু লোকে বুঝবে যে কবে !

মানতে গিয়ে গন্ধ-রঙ-স্বাদের দাবিখানি

বেড়েই চলেছে নানান রোগের হাতছানি ।

জেনো, বেশি যদি খেতে চাও কম খাও তবে ।

বুঝতে হবে


                 ✍️কৃষ্ণকুসুম পাল

নেতা যদি চুপ থাকে
বুঝতে হবে-------
খোঁজে দলবদলের উপায়,
নেতা যদি মিছিলে হাঁটে
বুঝতে হবে--------
নেতা ক্ষমতাহীন অসহায়,
নেতার মুখে উপদেশ
বুঝতে হবে--------
নেতা আছে ক্ষমতায়,
নেতা রেগে অগ্নিশর্মা
বুঝতে হবে-------
নুন লেগেছে আঁতের ঘায়,
নেতার জন্য ভাতা,পেনশন
বুঝতে হবে------
বেকারের জন্য স্বাবলম্বন,
নেতার জন্য জেড সু
রক্ষা
বুঝতে হবে------
জনতার জন্য জিরো আরক্ষা। 


ঝামেলার প্রকারভেদ


              ✍️ অনিমেষ গোপ

ভাষার জগতে অফুরন্ত শব্দ রয়েছে।
কিছু শব্দ মিলনে মনের আবেগ প্রকাশ পায়।

কিছু শব্দ মিলনে আদর ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।
ঘৃণার সৃষ্টি হয় বেশকিছু শব্দ ব্যবহারে।

শব্দ ব্যবহারের ফলে যমরাজ সন্তুষ্ট হয়েছিল।
বিরক্তকর পরিবেশ সৃষ্টি হয় অসংযত শব্দ মিলালে।

বেশ কিছু শব্দ মিলনে দুঃখ প্রকাশ হয়।
আবার কিছু শব্দ মিলনের ফলে ঝামেলার সৃষ্টি।

ঝামেলা কখনো ভয়ের, আবার বিনোদনের।
ঝামেলা কখনো ক্ষতির, আবার কারোর লাভের।

আমন্ত্রিত ঝামেলা, যুক্তির যাঁতাকলের ঝামেলা।
প্রকৃতি সৃষ্টির ঝামেলা, স্বার্থ জনিত ঝামেলা ।

কারো কাছে ঝামেলা বেশ ভয়ঙ্কর ।
কারো কাছে ঝামেলা আনন্দের খোরাক।

নিষ্কর্মাদের কাছে ঝামেলা হয়ে ওঠে প্রসাদ
অকালপক্কদের কাছে ঝামেলা মধুময়।

গরিবের কাছে ঝামেলা সম্মান নষ্টের ভয়।
সম্মান রক্ষার্থে প্রতিবাদ না করে নীরব রয় ।

নিরবতাকে দুর্বলভাবে কৌশলীরা খেলা করে।
অতি চালাক সময় হারিয়ে সব বুঝে ঘোলা জলে।

কৌশলিরা ঝামেলা নিষ্পত্তির চেয়ে, বিস্তার করে।
সমাজে কিছু সংখ্যক ঝামেলা বেশ ভালবাসে।

বেশ সংখ্যক ঝামেলা নিষ্পত্তি করতে চাই।
কিছু সংখ্যক ঝামেলা বিস্তারের আনন্দিত।
           

সিদ্ধান্ত নাও


               ✍️সাইফুল ইসলাম 

আমার শান্তির দেশে সাধু বেশে?
কে যেন সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায় ভাই !
সে ধার্মিক ভাবছ এরকমটাই !
তুমি ভুল সে ভন্ড সাধু ভাই !
যারা ধর্মে ধর্মে সম্প্রীতি চায় ?,
করিতে ধ্বংস বরবাদ !
তারা নাস্তিক শয়তানের জাত !
নিরাপরাদ মানুষের রক্তে রঞ্জিত তাদের হাত !
তারা ধর্ম নিয়ে করতে চায় গোপন রাজনীতি ভাই !  
ধর্মের চক্ষু মেলে দেখো তারা ধর্মের ভিতরে নাই !
তারা দেশে প্রেমের নামে লুটছে জনতাকে ভাই !
তারা শান্তি সম্প্রীতি নষ্টকারী দেশদ্রোহী তাই !

কোরান 'বাইবেল ' গীতা 'সমস্ত ধর্মগ্রন্থ ?
যদি শান্তির বানী শিখায় ভাই !
তবে কেন ধর্মের নামে এত দাঙ্গা বিবেদ ভাই!
হয় ধর্মগ্রন্থ গুলি ঠিক নয় তারা ঠিক ভাই !
ধর্মীয় গ্রন্থগুলি যদি হয় ঠিক ? তবে তাদের শুধরাও নয় ধ্বংস করে দেও ভাই !
যদি হয় তবে তারা সঠিক ভাই ?
তবে ধর্মীয় গ্রন্থগুলিকে আগুন দিয়ে পড়িয়ে দেও ভাই !
দুইমত একসাথে চলবে না ভাই!
কঠিন সময় সিদ্ধান্ত নাও শক্ত হাতে ভাই !
ধর্মীয় গ্রন্থগুলির শান্তি - সম্প্রীতি নাকি?
গোপন, রাজনীতির ছড়ানো দাঙ্গা বিবেদ চাই ?
সিদ্ধান্ত নাও ভাই ;;
 

ঝরাফুল


                      ✍️প্রবীর পাঁন্ডে

বাগানেতে সারি সারি ফুটেছিল ফুল
শিউলি, রজনীগন্ধা,পারুল, বকুল। 
তারি মাঝে এক ফুল অতীব সুন্দর, 
রূপেতে অতুলনীয় গন্ধে মনোহর। 
আমার নজর কেড়েছিল একদিন
বাগানে বেড়াতে যাই প্রথম যেদিন। 
ছিল আশা একদিন কাছে আমি গিয়ে
চুপি চুপি তুলে নেব দুহাত বাড়িয়ে। 
সে আশায় গেছি আমি কত শত বার, 
তুলে নেব সে সাহস হয়নি 
আমার।
তারপর একদিন প্রভাত বেলাতে
কাছে গিয়ে দেখি আমি ফুল নেই বৃন্তে।

মোর অপেক্ষারও হবে যে অবসান


                ✍️সুস্মিতা পাল

বুঝলে প্রিয়,
অপেক্ষা সে তো এক রাস সুন্দর মুহুর্ত ।
যার নেই যে কোনও সীমা ।
আর,তুমি আছ আমার অপেক্ষার কবিতারও ওপারে ।

এই অপেক্ষা যে, মোর শুধুমাত্র অপেক্ষা নয় ।
এই অপেক্ষা যে, হৃদয়ের অদেখা গহীন মুহূর্তের প্রতিস্থাপনেরও অপেক্ষা ।

তাইতো, তোমারই অপেক্ষায় আজো আছি যে বসে ।

তোমায় নিয়ে লিখবো যে কবিতা ,
সে তো মোর হৃদয়ে জানা আছে ।

কোনও এক কার্তীকি পূর্ণিমায় ,
তুমি আমি থাকবো যে পাশে ।
সেইদিন মোর অপেক্ষারও হবে যে  অবসান ,
সে বিশ্বাস টা আছে যে, মোর হৃদয়ে ।

সেইদিন লিখবো যে দু জনের হৃদয়ের গহীন ভালোবাসা ,
ওই কার্তীকি পূর্ণিমার জ্যোৎস্না তলে বসে ।

বৃষ্টি

      
              ✍️ সুবীর ভৌমিক 

ওগো বৃষ্টি তুমি খুব মিষ্টি

তুমি কি জান?

তুমি ঐ নীল আকাশের সৃষ্টি।

কালোমেঘের সৃষ্টি

তুমি কি জান?

এই পৃথিবীকে তুমি করেছ-

নতুন রূপে সৃষ্টি

তুমি কি জান?

তোমার রূপালি ফোঁটাগুলি

পৃথিবীকে দিয়েছে, নতুন সৌন্দর্য্যের দৃষ্টি

তুমি কি জান?

ঐ ঝর্ণার স্রোতের মতো

তুমি আমার জীবনকে করেছ প্রভাবিত।

তুমি কি জান,

তোমার রিমঝিম শব্দ আমার

হৃদয়ে ফুটিয়ে তুলেছে ভালোবাসার নতুন সিদ্ধতার ছবি।


জীবনের আহ্বান


                 ✍️ চন্দ্রিমা বণিক

সৌর স্নাত মুগ্ধ প্রাণ   
ভোরের আলোতে ধরে যে তান
বলে আয় আয় সবে ছুটে, 
      রাঙা আলোতে ভরিয়ে মন
      সফল কর হে এই জীবন
      ডুবে থাক এই বিশ্ব সংসারেতে।

জীবন ডাকে আয়ের আয়
মহোৎসবের ছন্দে আয়
ঐক্যের সুর ধরে সবাই মিলে, 
      ভুলে গিয়ে সব ভেদাভেদ
      নিঃশেষ হোক মনের খেদ
     এগিয়ে আয় আশার বাতি জ্বেলে। 
দূর হোক সব জরা ব্যাধি
জীবনের গান গাই নিরবধি
বদ্ধ হোক সুদৃঢ় সংকল্প, 
         সৃজন কান্ডে অংশ নিয়ে
         সভ্যতাকে নিয়ে যাবে এগিয়ে
         শুরু হবে নিত্য নতুন প্রকল্প। 

আয় আয় সব দুঃস্থদীন
সাত রঙে আজ হই রঙিন
ঘুমন্ত প্রাণে আগুন জ্বালিয়ে, 
          হাতে হাত ধরে আজ
          জয় করে সব লোকলাজ
          দৃপ্তপদে আজ আয় এগিয়ে। 
            
                        

হেমন্তের আগমন


             ✍️সুরমা আকতার 

হেমন্তের রূপালী পরশ,
প্রকৃতির হৃদয় ছুয়েছে।
সোনালী ধানের সুগন্ধ,
ছড়িয়ে পরেছে সারা গাঁয়ে।
আবার ফিরেছে হেমন্ত দেশে।
কুয়াশার চাঁদরে মাঁকড়শা বুনেছে ঘর;
হৈমন্তিক স্পন্দন নামে দেশে।
ঋতু কন‍্যার আগমনে,
চারিদিকে সৌরভিত।
পৃথিবীর বুকে হেমন্ত,
এসেছে আঁটঘাঁট বেধে।
শস্য ভরা ঋতুর সৃষ্টি,
তৃপ্তি জাগিয়েছে মনে।
শিশিরের ঝর্ণা নামে,
ঘাসের ডগায় স্তরে স্তরে।
প্রকৃতির সাজে হৃদয়ে মাদল বাজে।
নবান্নের ঘ্রাণ ছড়িয়েছে আকাশে-বাতাসে।
নানা ফুলের সুগন্ধে,
ঋতুকন‍্যা মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে,
নবীন-প্রবীণ কবির মনে।

অহংকারের আগুন


             ✍️মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

কলমরা খোঁজে একটা শক্তহাত
যেখান থেকে ঝরে পরার ভয় থাকে না,
যাঁর দৃঢ়তা ও স্নেহানুভবতায় 
নতুন করে বাঁচতে শিখে,কবিতাদের সাজিয়ে 
তোলে নানা শব্দ বিভূষণে।

আবেগ,প্রেম,বিরহ,বিষাদ সবটাতেই
কলমের অবদান,কবিত্বের প্রকাশ।
সমাজের ক্ষত যত আঁচড় কাটে
কবিতাদের পরতে পরতে।
ছোট্ট কলম তাই খোঁজে একটা শক্তহাত।

অজস্র কবিতারা কেড়ে নেয় মন,
বয়ে যায় আনন্দাশ্রু,সাড়া পরে পাঠককুলে।
অল্পে অল্পে  হাতটি হয়ে উঠে আরো দৃঢ়
কলম আত্মহারা,ঝরবার ভয় দূরীভূত।
ঠিক তখনই শক্তহাতের মানুষটি হয়ে উঠেন কবি।

শুরু দাম্ভিক চলন,শ্রেষ্টত্বের তকমায়
চোখে সর্ষে ফুল,আসনের অর্ন্তমুখী লড়াই,
অথচ কলমে-মূল‍্যবোধ,বিবেক জাগরণের
নীতিমালা,অসহায় কলমরা জ্বলতে থাকে 
অহংকারের আগুনে,ছাই হয়ে পড়ে থাকে মহৎ স্বপ্নরা।

কিছু কথা


            ✍️ সংহিতা ভট্টাচার্য 

কিছু কথা বিষ 
অশান্তি ছড়িয়ে দেয়  অহর্নিশ। 

কিছু কথা ধরায় জ্বালা 
যুক্তিহীন, কান ঝালাপালা। 

কিছু কথায় ঝরে  দম্ভ আর অহং
চিনিয়ে দেয় জীবনের নানা রঙ।
 
কিছু কথা শেখায় জীবন সংগ্রাম 
আবেগ ভুলে ছুটে চলা অবিরাম। 
 
কিছু কথা ছুঁয়ে থাকে মন সারাক্ষণ 
রামধনু রঙে আকাশ সাজে যেমন। 

কিছু কথার পরশে জুড়ায় বুক 
সাজে কতো  স্বপ্ন, খুঁজে পাই সুখ।

কিছু কথা দেখায় আলোর পথ.... 
হতাশা ভুলে করি বাঁচার শপথ।.

এভাবেই নানা কথায় জড়িয়ে ক্ষয়িষ্ণু জীবন 
কথা দিয়েই শুরু কথাতেই সমাপন।

জীবন ঝড়


                  ✍️ সঙ্গীতা গুপ্ত

তোমার সাথে কেন যে আমার এত অভিমান, 
তুমিই আমার বিষন্নতার কারণ।
ভেঙে পড়ছে ভালোবাসার মজবুত দেয়াল।
বিক্ষুব্ধ হৃদয় বন্দরে টুকরো টুকরো অভিমান আছড়ে পড়ল।
জীবনঝড়ে ভারসাম্য হারিয়ে দু-মুহূর্ত বসিনি নীরবে 
চাইনি তোমাকে কাছে পেতে, 
সব ভুলে অবিশ্বাসে আর্তনাদে
ভরে তুলি জ্যোৎস্নার সন্ধ্যাকে।
তোমাকে আঘাত করার শপথ  নিই ,
ফেলে আসা অতীতের রূপকথার গভীরে পিচ্ছিল মন 
আমার আশ্রয় খুঁজে ।

ব্যাকস্পেস


                  ✍🏻অভ্রজিৎ দেবনাথ

শহুরে বাতাসে নেই মধ্যরাতের ঘুম
রাত জাগাই চ্যাটিং-এ হাম অর তুম।
সমাধান কতবার হয়েছে আড়ালে
বিরতি লেগেছে চোখের নাগালে।
শ্রীরাধা বদলেছে এখন হিসাব অসীম
বরাবর মনে আছে প্রথম প্রতীম।
স্কুল বাসে উঠে এক সুঠাম তরুণ
ত্রিকোণ প্রেম বুঝে গেছি নিদারুণ।

                      

অলীক চিন্তন


                     ✍️ টিটু বনিক

চলো তারা হয়ে মহাকাশে ভ্রমন করি 
মেঘের ওইপারে চলে যায় 
চলো নতুন পৃথিবীর সন্ধান করি 
যেথায় নতুন করে কিছু গড়া যায়।

চলো নদীর সাথে ভেসে যায় 
মোহনায় মড়ে আর সমুদ্রে মিশে যায় 
চলো পাখির মত ডানা তৈরী করে
আর অনিলের মত উড়ে যায় ।

চলো মৃত্যুর অক্ষিতে অক্ষি রাখি 
আর জীবনের মত জীবন হয়ে যায় 
চলো সব পরিনতির কথা বিস্মিত করি
আর মানুষের মত মানুষ হয়ে যায় ।

চলো শবের আসক্ত ত‍্যাগ করি 
আর ভালোবাসার কারন হয়ে যায় 
চলো পাওয়ার লালসা রোচন করি 
আর কৃপার সাগরে ভুবে যায় ।


পড়ি না


            ✍️অসীম দেববর্মা

আমার নিত্য চলার পথে হোটেল পড়ে না
জমকালো আলোতে নানা ব্যঞ্জন দিয়ে পেট
 পুড়ে খেয়ে, 
অভুক্তের দেখে মায়া কান্না করা চোখের দল   আমি পড়ি না। 
ঘুম থেকে উঠে বিছানার পাশে টেবিলে চা সাজানো থাকে না
পকেটে টাকা থাকলেই চিনি, চা -পাতা, দুধ আর বিস্কুট
এনে দিলেই চুলোতে  চায়ের কেটলি বসে
আয়েশের ব্ল্যাক কফি পান করার দলেও আমি পড়ি না। 
নেই প্রয়োজন কোট, টাই, সুট, বুটের পরিধেয় হোক ঐতিহ্যের বাহার
 নেই প্রয়োজন গা ভরা অলংকার দামী শাড়ি
 তার চেয়ে ভালো সন্মানের কস্তাপাড়ী! 
 দুবেলা দুমোঠো ভাতের থালা থাকুক সবার হাতে 
সুখে, দুঃখে, বাক্য বিনিময় হোক সমাজে বসবাসকারী একে অপরের সাথে।

অমোঘ মিলন


              ✍️ নিধির রায়

জীবন বড়ো ছোটো
এরই মাঝে তোমার সাথে
এমন করে দেখা হবে ভাবিনি।
নীল আকাশের নীচে 
মায়াময় সবুজ গালিচা মাড়িয়ে
মেঠোপথ চলে গেছে দিগন্তে,
পথের প্রান্তে তুমি দাঁড়িয়ে আছো
অপরিচিতা।
তোমার শরীরের কুসুম গন্ধ
বসন্ত নিয়ে আসে।
বসন্তকোকিল আর পলাশবন তোমাকে
আরো মনোরম করেছে,
বনময় আজ শুধু বসন্তবাহার।
গোলাম কুড়ির মতো অর্ধস্মিত তোমার চোখ
অপলক তাকিয়ে আমার দিকে
হে অপরিচিতা তুমি আজ আমাকেই চাও,
এত ভালবাসা!
সাদা শঙ্খের মতো মুখ তোমার
বাতাসের মতো পাতলা লাস্যময়ী 
শরীরে কত মায়াময় নিষ্ঠুরতা,
আমি জানি তোমার ঐ প্রেম 
একদিন আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাবে
হে মায়াময়ী।
এত প্রেম আছে তোমার দুনয়নে!
সেই নিরন্তর ডাকে,
নিশিডাকের কূহকের মতো
মায়াচ্ছন্ন হই।

একদিন যাব তোমার কাছে
নির্লিপ্ত হেঁটে যাব,
মিশে যাব কুসুমগন্ধময় তোমার
বাতাসের মতো লাস্যময়ী
তোমার অশরীরি শরীরে।
কোনো কথা রবে না তখন।

ভূতুড়ে


            ✍️ইমরান খান রাজ 

মানুষগুলো খুব অদ্ভুত 
কথা কারো শুনে না, 
কাণ্ড করে আবোলতাবোল 
ভাব ধরে, কিছু জানে না ! 

পরিবেশটা খুব ভূতুড়ে 
ভিষণ কালো অন্ধকার, 
মানুষ নাই, সবাই ভূত 
পাই না খুঁজে সত্যতার ! 

ভূতুড়ে দেশ, ভূতুড়ে জাতি 
তবুও ভয় নেই আমার, 
সত্যের পথে লড়ে যাবো সদা 
পিছপা হবো না কভু আর !

প্রকৃতির রূপ


              ✍️ অন্তরা ভট্ট

দিক্ দিগন্তে ছুটছে কতো মায়ারই খেলা
যেদিক পানে চেয়ে দেখি বিদ্ধংশিতার মেলা।
আয়রে সবে ছুটে চলি বাঁধতে টাকার ঘর
যেদিক পানে যাগগে যাবে প্রকৃতি সুন্দর।
আকাশ ভরা তারার মিছিল রইল শুখে পরে
বিশ্ব ভরা মানুষ মিছিল যাবে যে কোন পারে।
দেখনা গিয়ে চলছে কতো যানবাহনের ঠেলা
যেদিকেতে দেখি শুধু ধোঁয়া আর ধোঁয়া।
সময় করে সবাই মিলে একটু চেষ্টা করি
প্রকৃতিকে শুদ্ধ করে নিজে সুস্থ থাকি।
                          

চাওয়া


             ✍️সুস্মিতা দেবনাথ

আমার দূর থেকে যাদের ভাবি,
 আছে অতি সুখে।
আসলে তারাই একটু সুখের, সাজেশন খুজে।।

আমরা দূর থেকে বলি,
তার মতো হয় যদি আমার জীবন।
আর কিছুই চাওয়ার নেই,
 ভগবানের নিকট।।
আসলে তাদেরও,
 এমন ভাবনা থাকে।
অন্য কারুর ওপর।।

আমার ভালোবাসা খুজি ,  
তাদের মতো করে।
আসলে তারাও,
তাদেও ভালোবাসাই সন্তুষ্ট নয় গোপনে।।

মীনাক্ষীর আলো


               ✍️কানু বনিক 

উত্তরের মেটোপথ দিয়ে হেঁটে গেলেই হয়,
পৌষালীর ছোঁয়ায় অনেকটাই স্বচ্ছতা পাবে;। 

শীতের ভোরে সমগ্র আকাশটাই যেন বর্ণময় আলো খুঁজে থাকে। 

আমি পূবের আকাশে সূর্যোদয়ের রক্তিম আভা দেখতে পাই। 

কুয়াশাভরা আকাশের ঘোলাটে সূর্যটা যতটা আলো ছড়িয়ে দিতে চাইছে, 
ততটাই সে হাঁপিয়ে উঠছে। 

পাষাণ ঘেমে সৃষ্ট সকল নদীই তো কোনো না কোনোভাবে সমুদ্রে মিশে যায়,
যেমনটা আমার বুকের গভীরে তোমার ছায়া মিশে থাকে। 

মীনাক্ষীর আলোতে ছন্দময় জীবন অনেকটাই গভীর থেকে গভীরে যায়। 

বুকের গভীরে জমানো অনুভূতিগুলো আমি সর্বদা  অক্ষরে সাজিয়ে রাখি। 

যেদিন আসবে সময়, 
সকলের মাঝে সেগুলো ছড়িয়ে দেবো।

আসামী ঈশ্বর

 
              ✍️সপ্তশ্রী কর্মকার

ভূত চতুর্দশীতে বশীকরণের উন্মাদনায়
গ্রামের নদীতে রক্তজল বইছে,
ঈশ্বর বেষ্টনী ছড়িয়ে,  
উগ্রবাদীরা লিপ্ত হয় মানুষ হত্যায়। 
তখন ঈশ্বর অলিন্দের বিষন্ন সুরে বলে,
 রাষ্ট্রীয় গারদ থেকে নিজেকে রক্ষা করে 
"ভালো থেকো"।

ঈশ্বরের আসামী অস্তিত্ব ফিরছে কারাগার থেকে, 
তুমিও দোষী ভাবতে অবাক লাগে!
কৃত্রিম ভণিতার দেশে কোথায় থাকে তোমার আকর?
কিভাবে আমাকে পারাপার করবে পবিত্রতার দেশে।

  ঈশ্বরের কলাকৌশলী বুঝি না আমি,
শুধু নির্বাক দৃষ্টিতে জানালা দিয়ে দেখি, 
সুদূর আকাশে লাল আভাতে ত্রিশূল দেখা যাচ্ছে, 
আর নিঃসঙ্গ পথিক একাকী হেঁটে চলেছেন,
অস্ফুটবাকে বলে উঠে,,
  ঈশ্বর! ঈশ্বর! তুমি জেগে উঠো।
আর এই আশায় বসে থাকি আমি
  আসবে এক সাদা মেঘের ভেলা, 
হেমবর্ণী বাঁকা চাঁদের অপেক্ষায়,
ঈশ্বররূপী কবিতার অন্তিম প্রত্যাশায়।


শিশু


                 ✍️অংকিতা বর্মণ ঘোষ

শিশু নিষ্পাপ শিশু জগতের প্রাণ
তবুও!আজও জন্মে শিশু শ্রমিক?
কিছু স্বার্থবাদী, প্রেমহীন,হৃদঋৃণ
মানব পাপে আজও জন্মে শিশু শ্রমিক!

কিছু প্রেমহীন হৃদঋৃণ কণ্যভ্রুণ
হত্যাকারী নিকৃষ্ট পাপী
আবার কন্ঠে বাঁধে ১৪ নভেম্বর
শিশু দিবস না কি?

কিছু নিকৃষ্ট  দুষ্কৃতি পাপী তাপী
শিশু কন্যা ধর্ষণ কারী
তবে কিসের? শিশুদিবস কন্ঠে বাঁধি!

ভারতমাতার রক্তবর্ণ চোখে  তুফানি কন্ঠে
কন্ঠে নয় চিত্তে চাই জয়
মঞ্চে নয় বাস্তবে চাই জয়
শিশু নবীন শিশু সবুজ
তারা জগতের শ্রেষ্ঠ অবুঝ
কন্ঠে নয় চিত্তে চাই জয়
ধনী-দরীদ্র নয় কেবলই শিশুর জয়
তবেল নবীনে সবুজে সাজবে
ভারতমাতার শীর্ষে জয়
ভারতমাতার কন্ঠে বাঁধবে
শিশু নিষ্পাপ শিশু জগতের প্রাণ
আজ শিশুদিবসের জয়গান।

টুকরো ভাবনা ৮,৯


             ✍️ডাঃ তারক মজুমদার

টুকরো ভাবনা--৮


প্রখর উত্তাপ এখন
দহন জ্বালা  হৃদয় জুড়ে
নষ্ট মানুষ  কষ্ট পায়
বিবেক খায় কড়ে কুড়ে। 


টুকরো ভাবনা--৯

কৃত্রিম  সুখের সবুজ বনে
যত সব এলোমেলো ভাবনা
সময় স্রোতে যায় হারিয়ে
হৃদয়ে আঁকা আলপনা।     
   

আর্তনাদ


           ✍️অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী
 
আমি যে দেখেছি মাতৃহারা শিশুর করুণ আর্তনাদ। 
আমি যে দেখেছি ফুতফাতে থাকা শিশুদের কোমল হাত।। 
আমি যে দেখেছি ক্ষুধার্ত শিশুর করুণ আর্তনাদ।
আমি যে দেখেছি ক্ষুধার্তের মুখে দারিদ্র্যতার অভিশাপ।। 
আমি যে দেখেছি সন্তানহারা মায়ের তীব্র আর্তনাদ।
আমি যে দেখেছি বিশ্বজুড়া মহামারির বার্তালাপ।। 
আমি যে দেখেছি স্বামী হারানো স্ত্রীর উন্মাদিনী আর্তনাদ। 
আমি যে দেখেছি বীর শহীদের রক্তাক্ত দেহের ছাপ।। 
আমি যে দেখেছি ব্যর্থ প্রেমিকের মাতাল আর্তনাদ। 
আমি যে দেখেছি ব্যর্থ জীবনের রাস্তায় কাটানো রাত।। 
আমি যে দেখেছি সৎ লোকের গোপন আর্তনাদ। 
আমি যে দেখেছি সততা নিয়ে ব্যর্থ অনুতাপ।। 
আমি তো দেখেছি স্বজনের শোকে সুজনের আর্তনাদ। 
আমি তো দেখেছি সুজনের পতনে স্বজনের থাকে হাত।। 
আমি যে দেখেছি শুধুই দেখেছি পারিনি কিছু করতে। 
পারিনি আমি অন্যায়ের সাথে জোড়ালো হয়ে লড়তে।। 
       

শীতের_আমেজ

            
                         ✍️পূজা 

তিনদিন বাদে ফিরবো আবার সেই শহরে

শীতের সুরসুরি সারা শরীরে।

এবার বাড়ির গাঁদা ফুলের গাছগুলোকে 
ফেলে যাবো,
ফেলে যাবো ওই  কাঁচা জলপাই,

সবে মাত্র ধানের প্রথম শিষটা উঁকি দিলো
তাকেও ফেলে যাবো,
অগ্রাহয়নের নবান্নটা আর দেখা হলো না,

গাঁয়ের জাফর আলী খেজুর গাছটায়
 মাটির কলসী বসানোর ব্যবস্থা শুরু করে দিয়েছে, 

মরা গাঙটার কূলে যে আখ বাগান সেগুলোও বেরে উঠছে,
বাধা কপি তার প্রথম সূর্য মাখামাখিতে নাজেহাল,
ফুলকপি তেমনটা উঠতে পারছে না,

ফেলে যাবো টাক্টারের ওই গমগম আওয়াজ

আর পরন্ত বিকেলের পাখীদের ঘরে ফেরার গান।

মন ঘুড়ি


                  ✍️মাধুরী লোধ

মন ঘুড়ি উড়ে চলে  হাজারো হাজার 
             লাখো মাইল দুরে
বাতাস লাগে না সুতো লাগে না
       ঘুড়ি উড়ে খালি উড়ে ।
কখনো কখনো বসে অরন্য ছায়ায়
       কখনো বা মহাশূন্যে
কখনো  সাঁতার কাটে মহা সমুদ্রে
     কখনো বা তীর্থ স্থানের পূন্যে ।
মনঘুড়ি থমকায় না আটকায় না
       কখনো কোন গাছের ডালে
লেজ ধরে কেউ করে না টানাটানি
     ছুটে বেড়ায় আপন তালে ।
    মন ঘুড়ি আর মন পাখি  দুজনাতে
     চমৎকার সই ভাব মিতালী 
অজানা কে জানতে চিনতে বুঝতে
      হয়ে যায় আপন ইচ্ছের মালি ।
  আপন পর ভেদ মানে না কখনো
          মন ঘুড়ি চলে আপন মনে
এই পৃথিবীর ছায়ায় মায়ায় মিলেমিশে
             বন্ধুত্ব করে জনে জনে
শত্রু আছে জানতে পেরে ও ভয় পায়না 
        সাহসী মন ঘুড়ি
নিজে নিজে অঙ্ক কষে মনপাখিটা
      ধরে  ফেলে শত্রুর জুয়া চুরি ।
মন ঘুড়ি হয় ইচ্ছে মতো খুশির ইচ্ছে ঘুড়ি  
    কাঁদে বসে ঠক জোচ্চোর প্রতারক
   মন ঘুড়ি ঘুরে ঘুরে মনের মতো তৈরি করে
         ভালো লাগা ভালবাসার ছক ।
 ওড়ো ওড়ো মতো খুশি ওড়ো মন ঘুড়ি
     লাগাম তো রয়েছে আমার হাতে 
ওড়ো ওপর নীচে পূবে পশ্চিমে  দিক বিদিক
   আমার আমি তোমাকে বেঁধেছি খিঁচে ।

এ এক অন্য সকাল


               ✍️রঞ্জিত চক্রবর্তী

শরতের আকাশে আজ
মেঘ রোদের খেলা
শান্তি ও আনন্দের বার্তা
বাতাসে নেচে বেড়ায়।
জুঁই শিউলি কামিনীর গন্ধে
প্রকৃতির রং বদলায়
তবুও এই সকাল অন্য কথা বলে
বিশ্বাস নিয়ে যায় অপর পারে।
অতীতের সাথে বর্তমান ধরে
স্মৃতির মালা গাঁথা
স্রোতে বা বদ্ধ জলে
শুধু তাঁর‌ই গান।
সুখ-দুঃখে যাদের উপস্থিতি নেই
সেই পুরুষেরই আমি একজন
আমি কোনো ছিন্নমূল ন‌ই।
এভাবেই একের পর এক হয়ে আসা
স্মৃতির কাছে অবনত হয়ে
আপনার মুছে যাওয়া
অতীতকে স্মরণে রাখা
যারা আছে বিস্মৃতির অতলে।

মা

    
                    ✍️পান্থ দাস

দুর থেকে যে ভালোবাসা যায় তা আগে এমনভাবে জানতাম না ৷ কে বলেছে ভালোবাসায় শুধু কষ্ট আর ব্যথা পাওয়া যায় ! ভালোবাসার আন্তরিকতা শুধু কি রক্ত মাংসের শরীরেই পরিলক্ষিত হয় ! উওর, না একদম না ৷ ভালোবাসার কোন ভাষা থাকে না, ভালোবাসতে প্রয়োজন শুধু সুন্দর একটি মনের ৷ চোখের ভালোবাসা হয়তো ফুরিয়ে যায়, কিন্তু মনের ভালোবাসা এত সহজে ফুরিয়ে যায় না ৷
কাকে ভালোবাসি ভাবছেন, ভালোবাসি আমার মা মুন্ডমালিনী কালিকে ৷ হয়তো তিনি মাটির, কিন্তু আমার সুখে-দুঃখে, ভালো-খারাপে জীবনের প্রতিটি ছত্রে মা আমার সাথে থাকেন ৷ আমার শুভ বুদ্ধির প্রসার ঘটায় ৷ রক্ত মাংস শরীরী ছেড়ে চলে গেলেও মা কখনো তাঁর সন্তানের হাত ছেড়ে দেয় না ৷ 
জীবন নৌকার ভেলা যে কখন থমকে যাবে তার কোন ঠিক নেই ৷ বিশ্বাস আছে যে ভালোবাসার টানে মা কখনো আমার থেকে পিছপা হবে না ৷ জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে  মায়ের প্রতি এই ভালোবাসা আর বিশ্বাস এইভাবেই অটুট থাকবে সমাজ আর সকল জীব কল্যাণে ৷

মানুষ


               ✍️চিন্ময়  চক্রবর্তী

সবাই  মানুষ  ভালবাসি,
এমন  কোন  মানুষ  নেই  যাকে  কেউ  ভালবাসে  না ।
আমরা  দেখেছি  রবীন্দ্রনাথ   ঈশ্বরচন্দ্র  সুকান্ত  মধুসূদন  আরো  অগণিত  কবিদের ,
আমরা  এমন  মানুষ  ভালবাসি  যাঁরা  নিঃসার্থভাবে  মানুষের  জন্য  প্রাণ  দিয়ে  গেলেন ।
আমাদের  ভারতবর্ষে  কত  ভাল  মানুষ  আছে,
আমরা  কখনও  তাঁদের  ভুলতে  পারব  না ।
আমরা  যখন  ঘর  থেকে  বেড়িয়ে যাই  তখন  রাস্তায়  কত  মানুষের  সঙ্গে  পরিচয়  হয় ,
আমরা  যখন  ভারতবর্ষে  জন্মগ্রহণ  করেছিলাম  তখন  থেকেই  প্রচুর ভাল  মানুষকে  দেখেছি ।
এমন  মানুষ  আছে  যাঁরা  ভাল  মানুষকে  দেখেছি ,
এমন  মানুষ  আছে  যাঁরা  ভাল  মানুষকে খারাপ হিসেবে  পরিণত করে ।
 এমন  মানুষের  সাথে  চলতে  হবে ,
আমাদের  জীবনে  যেন  সুখ  শান্তি  সমৃদ্ধির  বাতাবরণ  থাকে ।

অতীত


             ✍️শাশ্বতী  দেব

অতীত   দেখা   দেয়  চোখের  সামনে  
আমাদেরই   অগোচরে ,

অতীত  দেখা  দেয়  অনিশ্চিতভাবে  বর্তমানকে  ঘিরে ।

অতীত  দেখা  দেয়  পুরোনো  স্মৃতি  অন্তরে  জাগিয়ে  তোলার জন্য ,

অতীত  মনের  কোণে  লুকিয়ে  থাকা  
বিষাদমাখা  স্মৃতির  উত্থাপন  করে মাঝে মাঝে ।

অতীত  মনে  শক্তি  যোগায়  সুস্মৃতির  দ্বারা ,

অতীত  প্রাণে  জাগিয়ে  তোলে  হাস্নোহানা  মনের  কোণে  মোহময়  স্মৃতি  জাগিয়ে  তুলে ।

লাশ


             ✍️রত্না  মজুমদার

বেদনাহত  অনুভূতিগুলি  দাঁড়িয়ে  দাঁড়িয়ে  দেখছে,
 কতভাবে  ডেকে  আনে  মৃত্যু ।
মৃত্যুর  ধ্বস  নিরুদ্দেশের  পথে  কবিতার  পান্ডুলিপি ,
গর্জনমুখী  আঘাতে  আঘাত ;
লাশের  পর  লাশ  পৃথিবীর  বোঝা  হয়ে  
ভেসে  যাচ্ছে  অনাকাঙ্খিতে  অকাট্য  ।
উপায়হীন  ইচ্ছেরা  আপন  আত্মাদের  
বাঁচাতে  উৎকন্ঠায়  উৎকর্ণ   হাহাকার ;
ভৌগোলিক  উত্তরাখন্ড   যেন  নীল  গ্রহে  উতলা ,
ভয়ঙ্কর  দৃশ্যতে  মাথা  নত  করে  আছে  প্রকৃতি ।
ভয়চকিত  চিত্তে  চারিদিকে  তাকিয়ে   
দেখি ,
সংঙ্গাহীন   অবস্হায়  আমিও  তাদের   দলের  একজন  হব  নাকি ;
তৎক্ষণাৎ  ছড়িয়ে  দিল  বাতাস  অক্সিজেন

পরিযায়ী

     
                ✍️মনচলি চক্রবর্তী

পরিযায়ী শ্রমিকে দল
আজ ফিরছে ঘরে 
ওরা গড়েছে শহুরে ইমারত
বহু মাস বহু বছর ধরে
যুগে যুগে হাড়ভাঙ্গা
শ্রমের বিনিময়ে গড়েচলেছে 
সভ্যতার শিখর
কেউ কি রেখেছে সে খবর?

সত্ত্বা


                 ✍️সুবর্ণা চক্রবর্তী 
             
সম্পর্কটা কে আর নেহাৎ পোক্ত বলা যায় না ,
আবার ফেলনা ও সে নয়। অদ্ভুত এক যন্ত্রণা সদা বিরাজমান 
ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা বোধ করি সম্ভব নয়। 
ছারখার করে দেয় সকল মুহূর্ত কে। 
নির্বাক হাসনুহানা ছুঁতে চায় 
     ছুঁয়ে দেখতে চায় 
     মিথ্যে আধুনিকতা কে। 
সুদূরে পাড়ি জমায় নিজেকে 
মেকী সাজে সাজিয়ে। 
পারেনি কো তবু বোঝাতে সত্ত্বাকে, 
মনখারাপের ভিজে চোখে 
শুষে নিতে চায় সে অদৃশ্য প্রেমের অনুভূতি। 
তবু কোথা যেনো রয়ে যায় 
ক্ষীণ সূতোয় জড়িয়ে সম্পর্কের ওঠানামা।