তোমার কাজই করি প্রভু (গান)

✍️ প্রসেনজিৎ পাল 

তোমার কাজই করি প্রভু 
তোমার কাজই করি,
করাও বলে করি আমি 
ওগো অন্তর্যামী। 

তোমার অনুগ্রহে আমি 
এ-পথ দিয়ে চলি,
তোমার আশীর্বাদেই প্রভু
কিছুতেই না টলি।

নদী

  ✍️ সুকুমার মজুমদার


কোন পাহাড়ে জন্ম তোমার,
কোথায় তোমার ঘর?
কোন দেশেতে বয়ে চলেছো,
ছেড়ে তোমার চড়?
কোন মাঝিটা বন্ধু তোমার, কোন ঘাটে তার বাড়ি?
সুদিন বর্ষা মাথায় করে, দিচ্ছে তোমায় পাড়ি?

উজান ফেলে ভাটির পানে কার টানেতে যাও?
কোন সে সুধায় না'(নৌকা)  ভরিয়ে কাকে দিতে চাও?

কোন শহরের প্রাণ তুমি,
চালাও তুমি কোন সে কল?
কাদের তুমি তৃষ্ণা মিটাও, কারা তোমার বিষায় জল?
কারা তোমার গতিপথে গড়ে বাড়ী কারখানা?
কারা তোমার জলে ফেলে নিত্য আবর্জনা?

শহর গ্রামের জীবনরেখা বইছো নিরন্তর।
তোমার জলে বাঁচে প্রাণ, সিক্ত হয় প্রান্তর।

চলো নদী ভয়ঙ্করী বন্যা নিয়ে সাথে!
ভাষাও বাড়ী,
কলকারবারী, 
দোষ দেখি না তাতে!
তোমার পথের সাথী হয়ে যেতে আমি চাই।
তোমার পাড়ে মাঝি মাল্লার দিতে হবে ঠাঁই!

মনন

  ✍️ সূবর্ণা চক্রবর্তী
                          
ঘুম ভাঙা ভোরে স্নিগ্ধ বাতাসে
ছুঁয়ে যায় কোনো অজানা সপন।
এমনই এক শীতের শুরু 
আদুরে উষ্ণতা মাখা অভ্যাস নিয়ে।
রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিরা- উপশিরায় 
মনের অলিন্দে 
হাজারো শব্দেরা ভিড় জমায়েত করে,
পূর্ব প্রতিশ্রুতির জীবাশ্ম হয়ে,
কিংবা নির্জন একাতিত্ত্বের  সাথে
খুঁজে ফেরে  সুখ।
অসমাপ্ত রজনী 
বলে যায় আমার  নির্ঘুম  জীবনের কাহিনী।
কখনওবা চুপিসাড়ে  পাড়ি দেয় 
উদাসী হাওয়ায় ভর করে
 আপণ খেয়ালে।
পড়ন্ত বেলায়  সামলে রাখি
জোছনার ডালি 
যতনে, সংগোপনে।
সকল ভাবনার অবসান ঘটিয়ে
নিজেকে আগলে রাখি নিজের সমাধিস্থলে। 
পার্থক্যগুলো সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর....
বিলীন হয়ে গেছে চিরতরে।

মানুষ

        ✍️ সুধীর রায়

মানুষ বন্ধু, মানুষ শত্রু, মানুষ স্বার্থপর!
মানুষেই মানুষ গড়ে,মানুষেই ভাঙ্গে ঘর!!

মানুষেই শান্তি,মানুষেই অশান্তি,মানুষেই করে যত্তসব...!
মানুষই খুনি, মানুষই গুণী, মানুষেই বৈভব!!

মানুষেই ভগবান, মানুষেই ভক্ত, মানুষ আপন পর!
মানুষে মানুষে বিভেদের খেলায় মেতে থাকে চরাচর!!

মানুষই ঘৃণা,মানুষেই ভালোবাসা,মানুষেই করে পরিহাস!
মানুষ নষ্টা, মানুষ স্রষ্টা, মানুষেই লিখে ইতিহাস...!!

স্বপ্ন


  ✍️ পান্থ দাস, হাঁপানিয়া, ত্রিপুরা

গোধূলি বেলায়
খুঁজি যে
নিলাভ মেঘ,

তবে নেই যে
খোলা গগনে।

রাত্রির ঘন অন্ধকারে
খুঁজি যে 
প্রদীপের বাঁচার জেদ,

শুধু আছি আশায়
এক নতুন স্বপ্নে।

বইছে হাওয়া
ভাসছে বৈঠা
নিস্তব্ধ যে দিক,

গাইছে কোকিল 
ডাকছে আকাশ 
ভাবনা শুধুই মননে ।

রক্ত আগুন

✍️ মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

কি এমন করেছিলাম ? বাঁচার আর বাঁচানোর 
অভীষ্পায় পথেই তো নেমেছিলাম !
অসুস্থ বাবার কাতরতা,মায়ের না বলা ইচ্ছা ,
সন্তান মুখে খাবার তুলে দিতে না পারায়
স্ত্রীর অস্ফুট কান্না , আমায় করেছে অসহায় ।

প্রতি রাতের অন্ধকার পেরিয়ে 
ভোরের সূর্যে  আলোকিত পৃথিবী ,
আমিও বিনিদ্র চোখে স্বপ্ন বুনি, হয়তো 
আগামী প্রভাতে আসবে ভাসি কোন এক নতুন সুর 
পাব ফিরে খোয়ানো বীণার তার।

কিন্তু নির্ঘুম রাতের বিবশতা আমায় বাধ‍্য করে 
পথে নামার ,ক্ষুধার্ত হৃদয় জেগে উঠে
অন‍্যদিনের মতো ;খাবারের অধিকারে 
ন‍্যায‍্যতার দাবীতে ;বাঁচার তাগিদে
ফিরি রাজপথে ;পোড়ানো  স্বপ্নের ছাই উড়িয়ে।

আর পথের ধারে পরে থাকে অগুনিত স্বপ্নের লাশ, সরকারি আমলার বুটের অভিঘাতে রক্তাক্ত দেহ ,
চোখে তখন উসখুস করে বারুদ
ইচ্ছে করে নিমেষেই  সকল বর্বরতা জ্বালিয়ে
মিশে যাই মাটিতে আর সেই মাটিতে ফুটবে আলো।

কিন্তু অস্তরাগের পথে ঢলে যায়  রক্ত আগুন
চোখের সামনে ভেসে উঠে কয়েকটা শুকনো মুখ
পিছুটান  ফিরায় ঘরে;রাতের নিয়ন আলোয় 
মুখলুকাই বালিশে,বিনিদ্র চোখে জেগে উঠে 
এক আকাশ স্বপ্ন...... আবারও।

শব্দের মজা

✍️ দীপক রঞ্জন কর

শিশুর মনে আসা কিছু শব্দ বাছাই করে 
খেলাছলে শব্দ শেষে আকার দিল জুড়ে ,
নতুন শব্দ গড়ে শিশু লাগিয়ে দিল তাক-
পাঠক সব পড়ে তাহা হতেই হল অবাক!
কানকে করলো কানা,থান্ হলো থানা, খানকে করলে খানা , দান করে দানা।
জামকে করলো জামা,তাল যে হয় তালা
বাম আকারে হবে বামা,পাল তবে পালা।
চাক্ কে করলো চাকা,কাক হলো কাকা
বকে আকার দিয়ে বকা,সখ হবেই সখা।
চার কে করলো চারা,ধার করলো ধারা
এক যে হবেই একা,সার হলো যে সারা।
জলকে বানায় জলা,পাঠ হলো পাঠা
কল হয়ে যায় কলা, আট হলো আটা।
সাজ কে আকার দিয়ে করে দিলো সাজা
তাজ কে করে তাজা , রাজ করে রাজা ।

রঙ বদল

     ✍️ শুভ্রা দেব
      
শতাব্দীর হাত ধরে আজ শুধু
গিরগিটির মতো রঙ বদলের পালা,
সত্য -মিথ‍্যা, ন‍্যায়-অন‍্যায়; 
ওসব থাকুক চুলোয় পড়ে
নিজের স্বার্থ গুটিয়ে কাটতে পারলেই বাজিমাত;
কে কার পেটে মারলো ছুরি, 
কার মাথায় ঢিল ;
এসব দেখে সময় নষ্টের পরিচয় 
যেন নিতান্ত নির্বোধ।
ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজেকে নিয়েই ইদুঁর দৌড়;
নেতা মন্ত্রীর তবিলদারিতে 
জীবন হয়েছে পোয়াবারো
ভাব জেগেছে মনের কোণে
 'হ‍্যামসে বড়া হ‍্যায় কৌন';
অভুক্তের গ্রাস কাড়তেও
বিবেক থাকে মুখ লুকিয়ে--
পাপের সাম্রাজ‍্যে ব‍্যভিচারের জয় জয়কার
মুখোশের আড়ালে রাক্ষসের দেখা-- 
জোড়া খুনিও দেখো 
বুক ফুলিয়ে কেমন রাস্তায় হাঁটে।
রক্ষক আজ হয়েছে ভক্ষক;
রক্ষণের নামে চলছে কেবল ভক্ষণের খেলা।
চেতনায় আজ জাগ্রত হোক বিবেকের দংশন; পাপমোচনের পথটি ধরে --
অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে 
নবীন প্রজন্ম আজ ন‍্যায়ের পথে পা রাখুক ।

মরণ লিয়ে

   ✍️ বিপ্লব উরাং

সব্বাই বাঁচতে খোঁজে
ক‍্যামনে বাঁচবেক,ক‍্যামন করে থাকবে।
ক‍্যামন করে চলবেক
এইগিলা লিয়ে শুধু
ভাবে ভাবতে থাকে।

হ‍্যাঁরে বেচারাম,
মরণ লিয়ে কেউ কি কনদিন তেমন করে ভাবে?

ভাববেক নাই ক‍্যানে নানা?
ভাবে,-জনম যখন হয়েছে
মরনত একদিন হবেক ই।

ধ‍্যুর বুড়বক,-তা ত বুঝলম।
বাঁচন লিয়ে যতটা ভাবে,মরণ লিয়ে কি ততটা ভাবে?)

হামারত মনে হয়,-নাই
ততটা নাই ভাবে।
মরতেত কেহই নাই খোঁজে।
মরণ হবেক,অথচ
মরণ লিয়ে ততটা নাই ভাবে।

মরণের কথা মনে হইলে
মনটা ধুকপুক,ধুকপুক করে
এজনেই কবি বলেছে--
"মরিতে চাহিন আমি
সুন্দর ভুবনে"।
নাই,নাই কেহই তেমন
করে মরণের কথা নাই ভাবে।

বাঁচার জনে যত আকুল হয়
মরণের জনে ততটা নাই হয়।
অথচ হামরা সব্বাই মরব।

এক মুঠো স্বপ্ন

   ✍️ সুমন নাথ

এক মুঠো স্বপ্ন নিয়ে ঘুমোতে যাই প্রতিরাতে,
নীল আলোর জোছনা ছড়িয়ে- 
সিলিং এর আকাশ টাতে,
জানালার পাল্লাটা দোলে মৃদু হাওয়ায়,
থেকে থেকে বাইরের পৃথিবী টাও দেখা যায়,
একটা অদ্ভুত ক্ষ্যাপামো কাজ করতো মাথায়-
মুঠোভর্তি স্বপ্নগুলো বুকের বাঁ দিকে চেপে রাখতাম-
ভয়ে ভয়ে থাকতাম, ফস্কে না পড়ে যায়।
জেগে থাকতাম রাত-গভীর-
যতক্ষণ না ডেকে উঠতো কোনো রাতপাখি,
কানে আসতেই দুহাত ছড়িয়ে, স্বপ্ন দিতাম উড়িয়ে- একান্ত আমার আকাশটাতে,
ভাবতে ভালো লাগতো, বিশ্বাস‌ও করতাম,
কেউ আসবে-পাশে থাকবে, হাসবে, বকবে-
হাত ধরে টেনে নিয়ে যাবে- ওই বাইরের পৃথিবীটাতে।
আমার যা কিছু ভাল, যা কিছু মন্দ, 
ব্লটিং এর মধ্যে সবটুকু শুষে নিয়ে বলবে-
“চলো একটা নতুন গল্প লিখব, ভালোলাগার গল্প- 
নতুন জীবন, নতুন পৃথিবী, সাজাবো পুরাতন হাতে,
আমরা দোয়েল হব-
খাইয়ে দেবে তুমি, ঘর সাজাবো  আমি, 
সুরের মূর্ছনায় হবে প্রেমাঞ্জলি তোমার, 
শীত-গৃষ্ম বা বসন্তে।।“

ধর্ষিতা

ধর্ষিতা 
সুস্মিতা সরকার

কালো মেঘ জমেছে
ওই অবুঝ শিশুর মনে। 
বাল্যকালে পেল সে
ধর্ষিতা নামে এক  উপাধি ।
খুশির চাইতে দুঃখ পুষেছে 
ওই শিশুটির শৈশব জীবনে । 

চলছিল জীবন 
সবকিছুই ছিল গোপন । 
এক বিকেলে কন্নায় ভেঙ্গে
বল্ল তার মাকে সব বুঝিয়ে । 
ওই সব ছাড় খোকা 
এখন আর থাকিস না একা ।
সে বুঝেনি , দায় যে সে সন্মানের 
বিতর্ক চাইনি তার পরিবারের লোকজনে । 

দিন ফুরিয়ে যায় হারিয়ে যায় শৈশব
হৃদয়ে বাড়ছে শুধু ভয়ঙ্কর চিহ্ন । 
 বয়সে স্পষ্ট হয় 
ভালো খারাপের সব পার্থক্য।
 জন্মে যায় তার মনে 
প্রতিশুধের চিহ্ন ।
চলতে গেল একের পর এক
 নতুন অঘটন ।
তিলে তিলে বাঁচার চেয়ে
নিল আজ মৃত্যু‌ বরন ।

ফিরে যেতে চায়


                   ✍️দ্বীপ বণিক 

ফেলে এসেছি যা মনে থাকুক তা,
ছিলো সেথায় কতো কোলাহল। 
কতো কথা ভাঙা ভাঙা শব্দ;
মনে পড়ে আজও বাজিয়ে কর্নের ধ্বণি।
ধ্বংসের স্তূপে বিশাল ইমারত -------

সেথায় ছিলো একদা ধুলো মাখা পথ। 
বাতাসের তীব্র বেগে বেজে উঠে মর্মর ধ্বণিতে;
সেথায় ছিলো বিশাল বট বৃক্ষ।
ধুলো মাখা ঝরা পাতা এসে জায়গা নিতো, 
আমারি ছোট ডিঙার একটি অংশ জুড়ে। 
নদীতে সেদিন ভাসিয়ে বেড়াতাম;
আমারি ডিঙা পড়ন্ত বিকেলে আপন খেয়ালে। 
দিন গুলো আজ অতীত হয়েছে;
হারিয়ে গিয়েছে ধুলো মাখা পথ। 
নদীতে আজ ঢেউ থেমেছে-------
ডিঙা বাঁধা রয়েছে চেনা ঘাটের প্রান্তে। 
তবুও আবার ক্ষনিকের সুখের জন্যে;
ফিরে যেতে চায় পুরনো চেনা দিনে।।

মা

                   
              ✍️অমৃকা মজুমদার

       মা মানে---
মায়া,মমতা আর শান্তির নীড়,
সুখের আগার।
       মা মানে---
পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ বুকের দুগ্ধ,
শিশুর প্রথম খাবার।
        মা মানে---
ভরসা আর আত্মবিশ্বাস।
স্নেহের ভান্ডার,ভালোবাসার শ্বাস।
        মা মানে---
দুষ্ট আদর আর অনুশাসনের কোল
আর মায়াবী মূর্তি।
         মা মানে---
রৌদ্রতপ্ত গ্রীষ্ম দুপুরের
এক ছায়া শীতল কোল।
         মা মানে---
তৃষ্ণার্ত তীর্থের কাকের
তৃষ্ণা মেটানোর জল।
         মা মানে---

বৃষ্টিস্নাত আষাঢ়ে বর্ষার
গা মোছানোর আঁচল।
        মা মানে---
রোগাক্রান্ত দেহের ডাক্তারের
পরিষেবা, যন্ত্রনার ঔষধ।
         মা মানে---
যার কোলে মাথা রাখলে
দূর হয় সমস্ত ক্লান্তি আর অবসাদ।
         মা মানে---
যার ঋণ কখনো যায় না
পরিশোধ করা।
          মা মানে---
আমার গর্ব, আমার অহংকার।
পৃথিবীর আলো, বাতাস দেখিয়ে
যিনি করেছেন ধন্য।

দেশীয় মৃৎশিল্পকে বাঁচাতে হবে

    
✍️বিপ্লব গোস্বামী

আলোর উৎসব দীপাবলি।ধর্মীয় নিয়ম  মেনে এদিন দীপের আলোয় সেজে উঠে হিন্দু ধর্মের  প্রতি বাড়ি।সেই সঙ্গে ধনের দেবী মা লক্ষ্মীর পূজো দিয়ে অলক্ষ্মীকে বিদায় জানানো হয়।অন্ধকার মানেই অলক্ষ্মী আর অশুভ বলে মানা হয় তাই এই দিন দীপ জ্বালিয়ে অশুভ আর অমঙ্গলকে দূর করতে এই উৎসব পালন করা হয়।
               সনাতন ধর্ম মতে শ্রীরামচন্দ্র চৌদ্দ বছরের বনবাস শেষে রাবণকে বধ করে সীতাকে উদ্ধার করে পত্নী সীতা ও ভাই লক্ষ্মণকে সঙ্গে নিয়ে অযোধ‍্যায় ফিরে এসেছিলেন এই দিনে।সেদিন রামচন্দ্রের আযোধ‍্যা ফিরার উপলক্ষ‍্যে গোটা আযোধ‍্য সেজে উঠেছিলো দীপের আলোয়।সেই তখন থেকেই প্রতি বছর দুর্গোৎসের পরবর্তী অমবস‍্যা দীপাবলি উৎসব হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।
               দীপাবলি এলেই সস্তার বিদেশি পটকা,বাজি,ঘর সাজানোর সামগ্ৰীতে ভরে যায় আমাদের স্থানীয় বাজার।অনেক বছর ধরে এভাবেই  দীপাবলির বাজারে বিদেশি পণ‍্য একচেটিয়া ব‍্যবসা করে আসছে।সস্তায় ও সহজে বিদেশি টুনি,বাজি,পটকা,লাইট আর ঘর সাজানোর সামগ্ৰী পেয়ে কেউই কিনতে চায় না দেশীয় সামগ্ৰী ও মাটির প্রদীপ।এরই জেরে মার খাচ্ছে দেশীয় মৃৎশিল্পীরা।এতে দেশীয় মৃৎশিল্পীরা শুধু মারই খাচ্ছেন না বরং বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় কুটির শিল্প।স্বদেশের স্থানীয় মৃৎশিল্প ও দেশীয় কুটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমাদেরকেই।তাই দীপাবলির বাজার করতে গিয়ে টুনি পটকা কিনার পাশাপাশি স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের তৈরী মাটির প্রদীপ কিনতে যেন না ভুলি।দেশীয় মৃৎশিল্পকে উজ্জীবিত করতে টুনির সঙ্গে মাটির প্রদীপ জ্বালানোর প্রথাও প্রচলন করতে হবে আমাদেরকেই।               
               আমরা সবাই জানি আতশবাজীর উদ্ভাবন আমাদের দেশে নয়।বিদেশে পটকা-বাজি তৈরি হয় আর সেই পটকা তারা আমাদের দেশের বাজারে বিক্রি করে অথচ তাদের দেশে দীপাবলি পালিত হয় না।তাই এবার থেকে যেন  দীপাবলীর বাজার করতে গিয়ে সস্তায় বিদেশি টুনি,পটকা,ঘর সাজানোর সামগ্ৰী কিনার সঙ্গে আমাদের দেশীয় মৃৎশিল্পীদের তৈরী প্রদীপ কিনে স্থানীয় মৃৎশিল্পীদেরকে উৎসাহ দান করি।এভাবেই আমাদেরকেই স্বদেশের প্রায় বিলুপ্ত বা প্রায় হারিয়ে যাওয়া শিল্লকে বাঁচাতে হবে।স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেশীয় মাটির প্রদীপ কিনে দেশীয় মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার শপথ গ্রহণ করতে হবে। আসুন আমরা একজন প্রকৃত দেশ ভক্ত  নাগরিক হিসাবে এবার থেকেই দীপাবলিতে নিজের বাড়িতে বিদেশি টুনির পাশাপাশি  মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে পালন করি আলোর উৎসব দীপাবলি।

অপরিপক্ক

                     ✍️ সমীরন পাল 

অংকে বড্ড কাঁচা আমি
গভীরতাটা মাপতে পারিনি কখনো,
নিয়ম মেনে হিসেব কষতে অপারক।
ভগ্নাংশ গুলিকে জুড়তে কত তোর জোর করি,
অথচ  ভগ্ন অংশ গুলি ঠিক খুঁজেই পাইনা।
কেন্দ্রবিন্দু স্থির রেখে-
বৃত্তের পরিধিটা আঁকতে আমি চরম ব্যর্থ। 
কখনো বুঝতে পারিনি 
কত কালে কতটা দৈর্ঘ্যে-প্রস্তে বেড়েছে প্রতীক্ষা।
তুমি যেদিন বোঝালে সেদিন জেনেছি
দূরত্বটা আসলে স্কেলে মাপার নয়,
সে যে আলোকবর্ষ মাপের।
ভালো থাকা আর ভালো রাখার মাঝে 
বক্র রেখাটা দেখতে পেলাম যেদিন,
সেদিন থেকে ভাল রাখার ব্রতে ব্রতী হলাম।
রাখাতে যে আনন্দ থাকাতে সে নেই।

আগমনী


✍️সোমা নস্কর 

আসছে পুজো,আসছে পুজো
   ঢাকের আওয়াজ বাজে,
নতুন নতুন খুশির মেলা
    রঙ বাহারে সাজে।

ভোরের শিশির,সন্ধ্যা প্রদীপ 
    রাঙায় সকল মনে,
মহালয়ের ভোরের গানে
    জুড়ায় হৃদয় কোণে।

শরৎ এলো এই ভুবনে
    সাজিয়ে কাশের মেলা,
নীল আকাশে ভেসে বেড়ায়
    সাদা মেঘের ভেলা।

শিউলি পদ্ম এনেছে বার্তা
     আগমনী নাহি দূর,
মা আসছে সকল হৃদয়ে
    উৎসবের বাজে সুর।

কৃষ্ণকলি


✍️সম্পা কর্মকার

সে ছিল একুশ বছর বয়সী এক তরুণী ।
তার গায়ের রং কালো ।।
তার কাজল কালো হরিণীর চোখ ।
ঘনকালো দীর্ঘায়িত কেশরাশি , আর ধারালো নাক ।।
সে নাচ , গান , আবৃত্তি সব কিছুতেই পারদর্শী ।
কিন্তু...
সমাজ তার করছে উপহাস ।।
কেন...?
সে কালো বলে তার এই পরিহাস ?
রাতের অন্ধকার আছে বলেই তো চাঁদ হাসে ।।
তাঁরা রা আপন মনে ভাসে ।
সে কালো বলেই কি তার সকল গুন নাশ ?
শ্যামা মাও তো কালো ।।
সমাজ তো তাকে উপহাস করেনি ।
বরঞ্চ...রাত্রির দ্বিপ্রহর জেগে পুজো করেছে ।।
সে মেয়ে বলেই কি এই নির্মম পরিহাস...?
সে কালো বলে কি মানুষ নয় ?
তার কি বেঁচে থাকার কারণ নেই ?
তারও কি ইচ্ছে হয় না , সেজেগুজে আনন্দে ভাসতে ?
সে কালো বলে এই উপহাস , না কি মেয়ে বলে ?

ভাসমান ঘর


    ✍️কৃষ্ণ দাস 

বেঁধে  ছিলাম শূন্যে ভাসমান ঘর।
আলোর নিরিখে ক্ষণিক সময়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ আমার সেই আভাস,
নিজের ,নিজেকে খুঁজে নেবার এক সুন্দর সময় এর মহা মিলন মেলা।
ঘর সাজাতে হবে জানি আমি, 
তবে কি জানো কিসের আলামত যেনো , নিমিষে ভুলিয়ে দেয় আমার হৃদয়টা।
শূন্যে ভেসে থাকা ঘর সাজাতে
সে আমায় ব্যস্ত করে।
 আমায়  মুগ্ধ করে তুললো তার প্রিয় বলে ডাকা।।
কে জানে,
শূন্যে ভাসমান ঘর কোনোদিনই সুন্দর প্রকাশ করতে পারে না।
আপন পরানের গহীন অরণ্যে অবিচল চলতে থাকে, 
কোনো সত্যিকারের ভালোবাসার তাগিদে।
হাসি মাখা মুখে বরণ করি ,আমার সময়ের ভাসমান ঘর।।
আমি তো থাকবো পরিবর্তনের মুখে, হয়ে যাই সেই পাখির সুর।।
পৃথিবীটা যেনো মনে হইলো এল শূন্যে ভাসমান ঘর।।

হেমন্ত


✍️চন্দ্রিমা বণিক 

ঋতুর রাণী তোমায় জানি 
শুনি তোমার আগমনী 
বছর আধেক গেলে, 

শিশির ভেজা কাশের দোলায় 
শিউলি কামিনী গন্ধ বিলায়
ধিনাক তিনাক বোলে।

আকাশ জুড়ে রঙের মেলা
মেঘ নয়, যেন সাদা ভেলা
কত ছবি আঁকে, 

দুখের রবি অস্ত গেল 
চাষির সাধের শস্য এল
সুখের সময় ডাকে। 

প্রাণবন্ত প্রকৃতি আজ
নবান্নে আজ নতুন সাজ
মুখে ফুটায় হাসি, 

কৃত্তিকা আর আর্দ্রা তারা
ধরায় ঢালে আলোক ধারা
বাতাস বাজায় বাশিঁ।

সুরহীন,শব্দহীন,গতিহীন


✍️সাধন নমঃ

তখনো আকাশ উত্তরের মেঘে মুখভার
চারিদিকে শুধু প্রকৃতির কালো রূপের বাহার।
থেকে থেকে কেঁদে উঠছে ছেলেটা, 
সে কান্না শুধু প্রকৃতি আর চারদেওয়ালের মাঝে। 
ক্ষত-বিক্ষত মনটা আজ যেন বজ্রপাতে পাথর 
রাতের আঁধারটাই একমাত্র মুক্তির পথ।
বেকারত্ব আর যৌবনের সন্ধিক্ষণে সে যেন এক
কাঠগড়ায় ফাঁসির আসামি। 
অর্থ আর উপার্জনের চাবুকে ছেলেটি আজ 
যৌবনের শুকনো ডালে নির্মম পরিহাসের কাক।
সেদিনও প্রতিবাদের সুরে কাঁদতে চেয়েছিল 
কিন্তু সে তো ছেলে, কাঁদতে বারণ  ছিল। 
ইংরেজি আর অঙ্ক কষে কষে হাতটা করেছিলো গাধা 
তাই আজ ইট ভাঙতে, কুলি সাজতে মনটা দেয় বাঁধা। 
তবুও আজ হার মানে নি ছেলেটি 
অঙ্কের ত্রিকোণমিতি ভুলে গিয়ে পথের মোরে বিক্রি করছে ঝালমুড়ি। 
সে কাঁদে,আজও কাঁদে! 
কিন্তু সে কান্না সুরহীন,শব্দহীন, গতিহীন।
মেঘের পরে রোদ আসে, রাতের ঘনঘটার আড়াল থেকে 
সোনামুখি সেই মিষ্টি সূর্যটুকু উঁকি মারে।
আর ছেলেটা!
আজও ধুকে ধুকে কাঁদে,
কিন্তু সে কান্না সুরহীন,শব্দহীন, গতিহীন।

প্রতীক্ষা


✍️রেহানা বেগম হেনা

একটা সময় ছিল আমার ----
     থাকতাম শুধু তোমার প্রতীক্ষায়!
ফোনের দিকে মন প্রাণ দৃষ্টি নিবদ্ধ ---
কখন উঠবে বেজে তোমার আগমন বার্তা ---
                ক্রিং ক্রিং ক্রিং,
     ডিসপ্লেতে তোমার নাম!
শুধু প্রতীক্ষা ---
  ওপার থেকে ভেসে আসবে তোমার
             চির সবুজ কণ্ঠস্বর,
   বলবে আমায়,
    "বড্ড ভালোবাসি তোমাকে!
এমনি করেই ভালোবেসে যাব চিরকাল।"
   চলবে গল্পের মিছিল;
            সংবাদ সমাচার,
   আরও কত কী
     মন দেওয়া নেওয়া আনমন,
      খুনসুটিপনা, স্বপ্ন-বন্ধন!
হৃদয়ের স্পন্দন বাড়িয়ে দিতে
     ওপার থেকে ভেসে আসা চুম্বনের কম্পন।
   তোলপাড় শুরু আমার হৃদয় জুড়ে।
স্বপ্ন নেমে আসতো আমার দুয়ারে।

তারপর,
কেটে গেছে দিন মাস বছর
    নদীর উত্তাল স্রোতের মতন,
     প্রতি পলে পলে জীবনের স্পন্দন।

কিন্তু, সব নদী সমুদ্রে হারায় না
                          উত্তাল সঙ্গম সৈকতে।
অনেকেই হারিয়ে যায় মাঝ পথে,
যেমন তুমি আমি আমাদের দুটি মন
   আমাদের কত কত স্বপ্ন-বন্ধন!

তাই, এখন আর কোনও অনুভূতি হয় না।
নাহ্,
এখন আর তোমার প্রতীক্ষায় থাকি না।
মন নেই ফোনের রিংটোনে,
   প্রতীক্ষার প্রহর গুনে গুনে।
এখন শুধু আছি অপেক্ষা ক'রে,
কীভাবে ভুলে যাব তোমারে।
দুই মেরুতে যে তুমি আমি করি বসবাস
তাই, প্রতীক্ষা নেই আর,
   আছে শুধু অপেক্ষা
                       নিরবকাশ।

অগ্নিবাসরে পর্ণমোচী


✍️জনার্দন

এই জনপদের খবর কেউ রাখে না, 
এখানে পর্ণমোচীদের বসবাস,
সবাই শুধু আড়ালে জানতে চায়;
আসলে কেউ কেউ জানতেও চায় না।

ওরা মাঝে মাঝে আসে, 
আবছা অন্ধকারে বেহায়াপনার শিকার হয়, শুধুমাত্র দুমুটো অন্নের খোঁজে।

বুকফাটা চিৎকারেও কেউ খবর নেয় না;
শুধু জন-নেতারা একটা সময় ওদের খোঁজ নিয়ে যায় ।

কেউ তাদের অমৃতবাণী শোনায় না।
শুধু অগ্নি বাসরে ঠেলে মজা লুটতে আগ্রহী।

পৃথিবীতে যদি কেউ তাদের আপন হয়; সে'তো সময়ই বলে দিচ্ছে, কতটুকু আপন!

কালের বিবর্তনে ওরা পরিধি বাড়াতে থাকে, 
কিন্তু সম্পর্কের আধিক্যটা ওরা একটা মূল‍্যে মেপে নেয়।

নারী তুমি শক্তির আঁধার


✍️সুমিতা স্মৃতি

ঘরের লক্ষীকে সন্মান করতে জান না অথচ মাটির লক্ষীকে করো পূজো। 
পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে নারীরা অবহেলিত আজও।। 

আজও মেয়েদের একা ঘর থেকে বেরোতে মনে জাগে সংশয়। 
অথচ মানুষরূপী অসুরদের ঘরেও খুব ঘটা করে লক্ষীপূজা করা হয়।। 

মা রূপী লক্ষী থাকে তোমার বৃদ্ধাশ্রমে পড়ে। 
আর তুমি মাটির প্রতিমাকে লক্ষীরূপে পূজো দাও বেশ তোরজোরে।। 

স্ত্রী রূপী লক্ষীকে অবহেলা করে ভাবো পুরুষ তুমি মহান। 
নারী রূপী প্রতিমাকে পূজা করলে কি নষ্ট হয়না মান? 

লক্ষীরূপী নারী তুমি তুমিই শক্তির আঁধার। 
অধিকার অর্জনে রুখে দাঁড়াও আর সহ্য করো না অত্যাচার।।

পাল্টে যাবে জীবন খানা


✍️প্রতীক হালদার 

নতুন আশার হাতছানিতে 
আনন্দিত মন,
পাল্টে যাবে এবার বুঝি 
আমার এ জীবন।

সুখ গুলো সব দেবে ধরা 
একটু একটু করে,
রঙিন হবে সাত রঙেতে
খুশিতে উঠবে ভরে।

দুঃখ গুলো পালিয়ে যাবে
সুখের এ জোয়ারে,
স্বপ্নগুলো নতুন হয়ে 
ভাসাবে আমারে।

ইচ্ছে গুলো দেব মেলে 
বইবে  সুখের হাওয়া,
বাঁধভাঙা সুখ জীবনটাতে
করবে আসা-যাওয়া।

সুখের তরী দুলে তখন 
চলবে স্রোতের টানে,
পাড়ি দেবে দূর ঠিকানায়
ভবিষ্যতের সন্ধানে।

অন যুগ হালডি গেছে


✍️অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

অন আর আগের যুগ নাই হগল কিচছু অন হালডি গেছে। 
আগে অ্যাঁরা মোবাইল কি জিনিস জীবনে চিনি ন।
তবে ইয়ান ঠিক কথা, 
আন্ডা আমলে আন্ডা এক্কান জিনিস ভালা করি চিনছি, 
হিয়ান অইছে 
গেরামেত্তে কেউগ্গার বাড়ীত্তে টিভি ইগ্গা থাইকলে সাইরত।
হুক্কুরবার আর হনিবার আইলে হুক্কুর করি হেতেরা বাড়ীত্তে দুড়ি যাইতাম বাংলাদেশের চিনেমা চাইবার লাই, মেলা লাগি যাইত। 
অন আর হেই দিন কই, হক্কল কিচছু হাজি গেছে। 
ইস্কুল মাডেত্তে গোলাছুট, রেডি,লবন,কিত-কিত,মান্ডা, ষোলগুডি আরও কত খেলা খেলছি। 
আর অন হগল হোলাহাইনে ত এগিনের নাম অ হুনে ন। 
অনের হোলাহাইনে এগিন খেইলবো কতুন, হেগুনের জীবন ত আন্ডা শেষ করি দিছি। 
হোলা জন্মিবার হরের দিন হেতে আতেত্তে বড্ডা তক্তার মত মোবাইল ইগ্গা ধরাই দিছি,  ইয়া বলে বার্থ ডে গিফট্।
অইতো হিদিন্না ওই আরা ইয়ান দির যখম্মার মা কর যে, আন্ডা হেতে মোবাইল ইয়া দিলে আর ভাত খাইতে কে ন লাগে, হেতে চুপচাপ মোবাইল চাইতে চাইতে ভাত খায়। 
আই তন মনে মবে কইয়ের যে হেতে ভাত খার না,হেতে চাই বইয়ার। হেতেরা রে কনে এ কথা ইয়ান বুঝাইবো। 
হেতে ভাত খার না, মোবাইলে হেতে রে খার। 
অন যুগ হালডি গেছে বাবু,  যুগ এতই হালডি গেছে যে, আই মাধ্যে মাধ্যে হুনি,
 আবুনীর ভাই লেদা ইয়া ও বাপ মা রে ধমকায় আরে কয়,  আরে টাস মোবাইল কিনি দ,  নইলে আই বাড়ী ছাড়ি যামু গই। 
আরে যা গইচ্চা কন্ডাই যাবি, বাড়ী ছাড়ি কেন গেরাম ছাড়ি যা গইচ্চা। 
হেতেরা এগিন কইতো ন,  আদরইগা হোলা। 
বাজারের তুন নোয়া মোবাইল আনি দিবো -তই, আর কেন্নে। 
কনে কার হোলা মাইয়ারে আদর ন করে হেল্লাই বুলি যা চাইবো দিতে অইবো নি কিতা। 
অন দি দি মাথার ওঅরে তুইল ব আর হোলা বড্ডা অইলে বাড়ীর দলিল লই টান দিব। 
এইল্লাই অন বৃদ্ধাশ্রম বাড়ি যার গই, ইয়ান হেতে রা রে কনে বোঝাই ব। 
সআল অইতে হন্দ্যা হর্যন্ত  জমিত্তে কাম কইরতে কইরতে হরান যায় মা বাবের আর হোলা ইয়া বাইক এক্কান লই হুডানি দেহায়,  মনে অয় যন আমেরিহা চাওরি করে, এগিন ভালা ন। 
যে বাপ ইয়া মাথার ঘাম হাত হালাই বড্ডা কইচ্ছে,  যে মা ইয়া ওয়াস থাই হোলা রে খাবাইছে। 
হেতে মনে অয় অন বিয়া করি এবারেস্ট জয় কইরছে। 
হেতে মা বাপেরে ভাত দে না।
 এগিন ভালা ন, এগিন দুই দিন্যা। 
কয় দিন অপেক্ষা কর এক মাঘে শীত ন যায়, তোয়ার অ হোলা আছে, তোয়ার ও হে হাল অইবো।
 তোয়ার লাই ও বড্ডা গিফট এক্কান অপেক্ষা করের,
 ইয়ান আর কিচ্ছু ন --  বৃদ্ধাশ্রম। 
আইজ্জা আই আর বেশী কিচছু কইতাম ন। 
হরে আর লাই অ বড্ডা বড্ডা গিফট অপেক্ষা কইরত হারে।
কারণ কথায় আছে - হইর ল কথা হগলের মাঝে, যার কথা তার মনেত্তে বাজে।

মাঝি


✍️সংগীত শীল

বাবারা বটবৃক্ষের মতো,
রোদে পুড়ে বৃষ্টি ভেজে।
নদী কূল আঁকড়ে ধরে
ছায়া দেয় নিরালায়।
 
একটি বলিষ্ঠ হাত যেন
মাথায় থাকে অবিরাম,
অন্ধকার উদ্বিগ্নতার সুরঙ্গে
আশার বাণী গায়।

বলা হয় না
জড়িয়ে ধরে হৃদয়ের কথা,
কতটা যে ভালোবাসি
এই ব্রহ্মান্ড পরিক্রমার সাথীকে...

বাবা তুমি কঠোর বলেই
আমার জীবনতরী অঙ্গিকারবদ্ধ।
তুমি দৃঢ়চেতা তাইতো
দুঃসাহসিক বীজ বপন করি।

তোমার জন্যই আমার বাগানে
হিল্লোল প্রবাহিত হয়,
আর হঠকারিতার শহরে
আমি দীপ্ত বিশ্বজয়ী হই।

স্থল পদ্ম


✍️মাধুরী লোধ

নতুন বাড়িতে ফুলের চারা লাগানোর জন্য বিজনবিহারী চক্রবর্তী হন্যে হয়ে খুঁজছেন ফুল গাছের ডালপালা । লাগিয়েছেন বিভিন্ন রকমের জবা , গোলাপ এর ডালা , লাগিয়েছেন বাটারফ্লাই , নীলকন্ঠ,মরশুমী গ্যাদা চন্দ মল্লিকা ,মাধবী বারমেসে ফুলের ডালা , গাছের গোড়ায় জল দেবার জন্য ফিট করে রেখেছেন জলের পাইপ, মাঝে মাঝে স্প্রে করেন কীট নাশক ঔষধ ।ভো হলেই ফুলের সাজি হাতে ফুল তোলেন কিছু ফুল গৃহদেবতার জন্য রেখে বাকি গুলো রেখে আসেন যোগমায়া কালি বাড়ি তে মায়ের চরণে দেবার জন্য ।
গাছে আরো ফুল থাকে ভাড়াটিয়াদের পূজার জামা কখনো সখনো ফুল নিতে আসেন প্রতিবেশী গন ,বিজন বিহারী হাসিমুখে বলেন  ফুল ঠাকুরের পায়ে দিয়া আমার নাম কৈবেন ।এই ভাবেই যেনো বাকী দিন কাটাতে পারি ।
গাছে ফুল ফুটলে খুশি তে আত্মহারা হন বিজন বিহারী, ঠাকুর পূজায় দিয়ে মনে সন্তুষ্টি পান আর প্রতি বেশী বা ভাড়াটিয়া পূজায় ফুল দিলে আত্ম তৃপ্তি পান , মনে মনে ভাবেন কিছু তো করতে পারলাম ।
শালা বাবু শুখেন  জামাই বাবুর এমন ফুল প্রীতি দেখে বনধুর বাড়ি থেকে এনে দেয় দুটো স্থল পদ্মার ডালা পুতবার জন্য । একটা সাদা অন্যটি গোলাপী রঙের । মোবাইলে ফুটন্ত গাছের ছবি দেখায় জামাইবাবু কে । গাছের দৃশ্য দেখে বিজন বিহারী শালাকে বলে এই প্রথম কাজের কাজ করেছো । বিয়ের সময় তো পণ নিই নি । এখন মনে হচ্ছে তখন যদি পণ নিতাম অনেক ঝামেলা ও হতো ।আজ আর ফুলের ডালা গিফট পেতাম না ।
শালা বাবু হেসে খুন, দিদি হাসছেন মুখে আঁচল দিয়ে ।
শালা বাবু ঠাট্টা করে বলে আগে গাছে ফুল ফুটুক তারপর মালা গেঁথে আবার মালা বদলের অনুষ্ঠান করবো । উপস্থিত সকলে মুচকি হাসছেন ।বিজন বিহারী যথারীতি লেগে গেলেন স্থল পদ্মের ডালা লাগাবার কাজে ।
বিজন বিহারী চক্রবর্তীর স্ত্রী আলপণা বলে অনেক রকমের স্থল পদ্ম পাওয়া যায় । কাশ্মীরী স্থল পদ্ম থোকা থোকা ফুল ফোটে । সারা গাছ গোলাপী হয়ে যায় । কাশ্মীরী স্থল পদ্ম সাদা ও হয় । গাছের রঙ হয়ে যায় সাদা । অপূর্ব দৃশ্য , মনে হবে গাছের ডালায় বরফের কুচি ।
এবার স্ত্রীর উপর একচোট নেয় বিজন বিহারী চক্রবর্তী এতোদিন বলেনি কেন ,?
আলপণা থতমত খায় । আমতা আমতা স্বরে বলে  কি মুশকিল , উঠলো বাই তো কটক যাই !! 
বিজন বিহারী আক্ষেপ করে বলেন শালাবাবু গুলো কোন কাজের নয় ‌আসবে চা টিফিন খাবে অন্ন ধ্বংস করবে ,আর আমার খরচের বিল বাড়াবে !!
ভাইদের গাল মন্দ করছে দেখে ক্ষেপে যায় আলপণা ।বলে তোমার স্্সার তুমি সামলাও আমি একটা কুটো কাটা নাড়বো না ।
যাও যাও বাপের বাড়ি যাও । তোমার ভাই বৌরা ধান দূর্বা সাজিয়ে বসে আছে  !!
যাদের মা বাবা জীবিত থাকে না সে মেয়েদের বাপের বাড়ি বলে কিছু থাকে না ।
মান অভিমান শুরু হয় স্বামী স্ত্রীতে ।বিজন বিহারী স্ত্রী রাগ ভাঙ্গাতে গিয়ে বলেন ঘাট হয়েছে ।এই কান মলছি ,নাক খৎ দিচ্ছি । এবার রাগ থামাও । আমার জল চেষ্টা পেয়েছে ,জল আনো ।
আলপণা জল আনে খাবার জল ।ঢকঢক করে খায় বিজন বিহারী । স্ত্রীর আঁচল মুখ মোছে ঘখম মোছে । ক্লান্তি দূর করে টেনে ধরে হাত ।
আলপণা কে বলে কাশ্মীরী স্থল পদ্মের ডালা লাগাবো । শালা বাবু বলেছে স্থল পদ্মের মালা দিয়ে  পঞ্চাশ তম বিবাহ বার্ষিকী পালন করবে ।
যা !! আলপণা লজ্জা পেয়ে বলে এসব করার দরকার নেই ।
বিজন বিহারী বলে এখন তো বুড়ো বুড়ির ষাটতম সত্তর তম বিবাহ বার্ষিকী পালন করছে ছেলে মেয়েরা । যুগের ধর্ম মানতেই হবে । ছেলে মেয়ে জামাই নাতি শালা শালার বৌ চাইলে নিষেধ করবো কি করে  ?
আলপণার মুখের রঙ লাল হয়ে উঠে ।সতিই তো । ছেলে মেয়েদের ইচছের মূল্য দিতেই হবে ।
আলপণা বলে যৎকালে তৎ বিবেচনা ।
স্ত্রীর নীরব সম্মতি পেয়ে উৎফুল্ল হয় বিজন বিহারী চক্রবর্তী র অন্তর ।আলপণার কানের কাছে এসে বলে সেদিন কিন্তু কাশ্মীরী স্থল পদ্মের গোছা তোমার খোঁপায় গুঁজে দিতে বলবো বিউটিশিয়ান কে ।
খিলখিল করে হেসে উঠে আলপণা । শেষে ঠাট্টার ছলে বলে কাশ্মীরী স্থল পদ্মের গুষ্টি কিলাই  ! সাদা স্থল পদ্ম গোলাপী সথল পদ্মের মা বাপ কে কিলাই ।
আলপণার কথায় অট্টহাসি হেসে বলে বিজন বিহারী শালা বাবুর স্থল পদ্ম । যতন করে লাগাবো ।যতন করলে রতন পাবো হে গিন্নি !

শ্যামা মা


 ✍️ মায়া রানী মজুমদার
                   
আলোর রোশনাই রাঙ্গাও
              অন্ধকারের রাত্রি।
অমাবস্যার তিথিতে মায়ের
              হয় পূজা আরতি।।
শ্যামা মায়ের রূপটি 
                      যে হয় কালো।
তাই তো জ্বালো আরো 
           মঙ্গল প্রদীপ জ্বালো।। 
করে দাও সারা ভুবন
              আলো শুধু আলো।
ঝলমল আলোর প্রশান্তিতে
              লাগে দারুণ ভালো।। 
নাশিতে পিশাচ "তারা মা" 
      ধরেন অগ্নিশর্মা রণমূর্তি।
অসি হস্তে বিবস্ত্র দেহে 
                করেন কত ফুর্তি।। 
রণচন্ডিকা মূর্তি মায়েরে 
           করতে নারে নিবারণ।
পাগলা ভোলা শিবশঙ্কর তাই
      পথ মাঝেই করেন শয়ন।।
উন্মাদিনী 'মা' রণাঙ্গনের পথে
            পদস্পর্শে স্বামী অঙ্গ।
তক্ষুনি "মা" জিহ্বা করে বের
          থামালেন সব রস রঙ্গ।।
স্বামী হয় পরম গুরু
     জানে জগতের সর্বলোকে।
স্বামী গাত্রের পদ স্পর্শে 
     "মা" থমকে দাঁড়ান রুখে।।
সেই রূপেই করে পূজা 
            জগতের সর্বলোকে।
দীপাবলীর রজনী সজ্জিত 
        করে রঙ্গিন আলোকে।।
যে অবহেলা করে মাকে
         হতে হয় তাকে হয়রান। 
বড় ছোট সবারেই করেন
      শ্যামা মা আশির্বাদ দান।।

পা


✍️সঞ্জয় দত্ত 

পৃথিবী প্রতিদিন হাঁটছে 
মায়ের কাঁধের উপর।
সংসারের সব সুখ নিয়ে আসেন বাবা।
বাবার পা দেখে ভাবি,
এখনো কতো পথ আমার অতিক্রম করা বাকি!

নিরঞ্জন যখন মৃত


✍️চন্দন পাল

আকাশে দশমীর চাঁদ 
ছোটে না খুকু, খুঁজে না সাজি, বাজেনা ঢাক।
মলিন বাতাস, ফাঁকা পেন্ডেল, ফিকে কিচিরমিচির সকাল।

তেরাত্র শেষে, 
কার্তিক গণেশ, আলো বাদ্য নিয়ে উমা ফিরে কৈলাশ,
বিলাপে সজল পাড়া পড়শী, আকাশ বাতাস। 

কিন্তু,  ঐ যে,,, 
গাড়ির পেছনে নৃত্যাচ্ছন্ন নাবালক,,, মহার্ঘ্য পানে পুষ্ট!
ধুপদীপ হাতে নাচে আর একে অপরে হিচরে টানে, দুখের ভানে সন্দ !
থলে ভরা বাজার নিমন্ত্রণ, সংশয়ে নিরামিষ ভাঙ্গন, মনের রাবণ দহন । 
ফিরা গাড়িতে অর্কেস্ট্রা নাচে, নাচে বাজী, অলক্ষ্যে প্রতিহিংসার রক্ত ছিটা ! 
শোকচিহ্নরা প্রশ্নবোধক! 
বাড়ন্ত সব রীতি! মর মর জাতি। 

ইন্দ্রসভায় প্রস্তাব , 
ভোটে বিসদৃশ বিজয়ার মৃত্যুদন্ড আর বিকাশের জন্ম দেখি।

যুব মানসে বিবেকানন্দ


 ✍️প্রীতম পাল 


“ বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার নয়;
অসংখ্য বন্ধন মাঝে লভিব মুক্তির সাধ,
হে মহানন্দ ময়। ”
          — কবির একথাটির সাথে বিবেকানন্দের চরিত্রটি মিলেমিশে একাকার। বিবেকানন্দ সম্পর্কে বলতে গেলে মনে হয় তিনি হাজারো-লক্ষ-কোটি মানুষের সুখ দুঃখের যেন এক চিরকালের সাথী। পৃথিবীর ইতিহাসে এ যেন এক সর্বত্যাগী, সর্বমঙ্গলাকাঙ্খী, যেন এক মহাজ্ঞানী এক অনন্য ব্যক্তিত্ব; যিনি আসমুদ্র হিমাচল বিশাল এই ভারতবর্ষ পদব্রজে পদব্রজী প্রত্যক্ষদর্শী।  যিনি উপনিষদের আধুনিক ভাষ্যকারদের মধ্যে এক অন্যতম মহৎ চিন্তানায়ক ।

          স্বামীজি সমগ্র ভারতবাসীকে এক অভয় মন্ত্রে দীক্ষিত করেছেন এবং ধর্ম, দর্শন ও ভারতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতির অন্যান্য ক্ষেত্রে চিরাচরিত চিন্তাধারার পরিবর্তে নতুন চিন্তাধারার প্লাবন এনেছেন । চিরাচরিত লোকাচার, ধ্যান-ধারনা ও ধর্মীয় চিন্তার ক্ষেত্রে তিনি এক অভিনব, অভূতপূর্ব, এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেন।

          স্বামীজির চিন্তাধারায়- জ্ঞান, কর্ম, ধ্যান এবং ভক্তি - এই চারটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটেছে । তিনি বলেছেন, আমাদের চরিত্রগঠন ও প্রকাশের মূল চাবিকাঠি হল কর্ম এবং কেবলই কর্ম । গীতার অমোঘ বাণী —
“ कर्मण्येवाधिकारस्ते मा फलेषु कदाचन ।
मा कर्मफलहेतुर्भुर्मा ते संगोऽस्त्वकर्मणि ॥ ”

( কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন ।
মা কর্মফলহেতুর্ভূর্মা তে সঙ্গোহস্ত্বকর্মণি ॥ )৪৭॥

          — অর্থাৎ মানুষের শুধু কর্মেই অধিকার আছে, কর্মফলে নয়। মানুষ নিজেকে যেন কর্মফলের হেতু মনে না করেন এবং নিজের স্বধর্ম আচরণ না করার প্রতিও যেন আসক্ত না হয়।

          ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতাতে অর্জুনকে যে কর্মযোগের রহস্যজ্ঞান দান করেছিলেন, স্বামীজি তার 'কর্মযোগ'  গ্রন্থে সেই কর্মযোগকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং কর্মযোগের কর্মকৌশলকে অতি সহজ ও সরলভাবে ব্যাখ্যা করে সাধারন মানুষের নিকট উত্থাপিত করেছেন। কর্মযোগ আমাদের জীবনে অর্থাৎ ব্যক্তিগত জীবনে, ব্যবহারিক জীবনে, সামাজিক জীবনে, আধ্যাত্মিক জীবনে আজও অপরিহার্য । স্বামীজির মতে গীতাই যে উপনিষদের ভাষা । কর্মই মহাশক্তিকে জাগিয়ে তোলার আঘাতস্বরূপ । গীতায় কথিত এই কর্মযোগকে স্বামীজি নিজ ব্যক্তিসত্বার দ্বারা তুলে ধরেছেন আমাদের নিকট এবং বলেছেন ফলাকাঙ্খা বর্জন করে কর্মসাধনাই হল নিষ্কাম কর্ম । এই প্রসঙ্গে গীতায় বলা হয়েছে — “ যোগস্থ কুরু কর্মানি সঙ্গং ত্যত্বা ধনঞ্জয় | সিদ্ধ অসিদ্ধ্য সমো ভূত্বা সমত্বং যোগ উচ্যতে ||” ৪৮/২ ।

          গীতাতে বর্ণিত এই উক্তিটির তাৎপর্য এইরূপ যে, কর্মের সিদ্ধি অসিদ্ধি, লাভ-ক্ষতি, সুখ-দুঃখ প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রে সমমনোভাবাপন্ন হয়ে, উদাসীন হয়ে, নিরাসক্ত হয়ে, নিষ্কামভাবে, নিঃস্বার্থপরভাবে কর্ম করাই হল 'যোগ'। সিদ্ধি-অসিদ্ধিতে যে সমস্ত বুদ্ধি তাকেই যোগ বলা হয়েছে। সিদ্ধিতে হর্ষোল্লাস, অসিদ্ধিতে বিষাদ - উভয়ই পরিত্যাগ করে কর্ম করতে হবে । এই কর্মযোগের অর্থটিকে কর্মযোগের কর্মকৌশল বা নৈপুন্যরূপে উল্লেখ করা হয়েছে গীতায় ।

          শ্রীকৃষ্ণ, হযরত মহম্মদ, বুদ্ধদেব, যীশু খ্রীষ্ট – এরা সকলেই স্বামীজীর দৃষ্টিতে মহান । তিনি এমন একজন মনীষীর সান্নিধ্যে আসেন যার যুগলবন্দী এক অভূতপূর্ব, এক অশ্রুত পূর্ব, এক অতুলনীয় ঘটনা অর্থাৎ রামকৃষ্ণের সান্নিধ্যলাভ । বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণের ভাবনায় উদ্ভূত হওয়া মানবজাতি তথাপি সমগ্র যুবসমাজের নিকট নিবেদিত প্রাণ ।

          রামকৃশ-পত্নী সারদা মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই স্বামীজি বিশ্বধর্ম মহা সম্মেলনে যোগদান করেন । সেখানে আধ্যাত্মিকতার প্রকৃত স্বরূপটি তুলে ধরার মধ্য দিয়েই সর্বত বিশ্ববাসিকে মুগ্ধ করেন অর্থাৎ তার মূল কথাই ছিল মানবাত্মার জয়গান ; তার মতে আমরা একই ঈশ্বরের সন্তান।

           ভারতের নবজাগরণের মূল চাবিকাঠি হল দেশের, সমাজের তথাপি সমস্ত ধর্ম, বর্ণ, জাতি, সম্প্রদায় নির্বিশেষে প্রত্যেকের সেবা । স্বামীজির প্রত্যেকটি বাণিতেই যুবশক্তিকে দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করার উপদেশ লুকায়িত রয়েছে । তিনি এই ভারত বর্ষকে আমাদের মহান মাতৃভারত হিসাবে গণ্য করেন। এই ভারতবর্ষই হল আমাদের দেবতা, আমাদের ঈশ্বর সব । অন্য সকল নিরর্থক দেবতারা আমাদের মন থেকে অদৃশ্য হয়ে থাক ; কিন্তু এই ভারত বর্ষই একমাত্র ঈশ্বর, আমাদের একমাত্র জাতি যিনি আমাদের ধারণ করে আছেন । এই ঈশ্বর সেবা একমাত্র যুবসমাজই পারে অক্ষত রাখতে । এই দেশের প্রতিটি জীব-জন্তু, প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি গাছপালা সহ সমস্ত উদ্ভিদকুল ও প্রাণীকূলকে এবং সর্বোপরি আমাদের মাতৃভূমিকে আমাদেরকেই যুবশক্তির প্রতিনিধিরূপ পূজন করতে হবে। স্বামীজি বলেছেন আমাদের একে অপরের প্রতি হিংস্র হওয়ার পরিবর্তে উপাসনা করতে হবে। 

          স্বামীজি বলেছিলেন, যা আমাদের তথাপি সমগ্র যুবশক্তির নিকট সর্বাপেক্ষা অপরিহার্য অঙ্গ , যার জন্য আমরা ভুগছি এবং যা এখনও আমাদের চোখ খুলে দিচ্ছে না, তা হল সঠিক শিক্ষা। তিনি দেশের যুবসমাজকে দেশের সঠিক শিক্ষা প্রদানের আহ্বান জানান।

          স্বামীজি জাতি-গঠনের জন্য সমগ্র যুবসমাজকে তাদের আদর্শ স্থাপন করতে বলেন। বর্তমানে উত্তর- স্বাধীনতাকালে জাতি-গঠনের জন্য যুবসমাজকে উদ্যমী হতে হবে। সমগ্র দেশের জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বি শেষে সর্বোন্নতি বিধানের লক্ষ্যে যুবসমাজকেই ঝাপিয়ে পড়তে হবে। বর্তমানের সমগ্র যুবসমাজের ভেতর ভগৎ সিং থেকে সুভাষচন্দ্রের মতো দেশভক্তি জাগ্রত করতে হবে। 

          যুবশক্তিকে শুধু অর্থোপার্জন নয়, সমাজের সর্বসই এক আশার প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করতে হবে, যে প্রদ্বীপ হবে অতলস্পর্শী সমুদ্রের ন্যায় অনুপম জ্ঞানের ভাণ্ডার । সে প্রদীপ কোনোদিন যাবে না নিভে ।

          স্বামীজি বলেছেন, এই যৌবন কালেই মানুষের শক্তি, উদ্যম এবং অসীম ক্ষমতা অর্জন করে। এ সময়েই যে, একজন মানুষের সৃজন ক্ষমতা সর্বাপেক্ষা উৎকর্ষে পৌছায়। যুবমানস যে লক্ষাধিক হয়েও দেশের জাতির কর্মযজ্ঞে শামিল হয়ে জাতিকে যে কোনো প্রতিযোগিতার সম্মুখে স্বসম্মানে দাঁড় করাতে পারে। কিন্তু স্বামীজি প্রশ্ন করেছিলেন— “ আমরা কি বিশাল এই যুবশক্তির সাহায্যে দেশকে জগৎ সভার শ্রেষ্ঠ আসনে বসাবার উদ্যোগ নিয়েছি?” স্বামীজি আরও বলেন যে- এটাই হল সেই বয়স যখন মানুষ এক আদর্শ মানুষে পরিণত হতে চায় । তিনি এই ভারতবর্ষকে দ্বান্দ্বিকতার মাতৃভূমি বলেছিলেন। কারন একদিকে ভারতের এত সম্ভাবনা, এত সম্পদ আর অন্যদিকে এক-তৃতীয়াংশ ভারতবাসী এক বেলা আহার করেই কালাতিপাত করছে। ভারতবর্ষে এই নিরন্ন, দরিদ্র লোকের পাশে এই যুবসমাজকে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন স্বামীজি। যুবসমাজকে সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিকাঠামোগত ভারতের সর্বপ্রকারের উন্নয়নের জন্য তিনি আহ্বান জানান। এই সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিসরে কর্মোদ্দম, অতি মানবিক প্রচেষ্টা যা একমাত্র যুবসমাজই প্রদান করতে পারে। 

          বর্তমানে ভোগবাদের দুনিয়াম যুবসমাজ ভয়ংকরভাবে আধ্যাত্মিক দৈনতায় ভরপুর । এর থেকে যেন পরিত্রানের কোনো উপায়ই নেই। এজগ তের ব্যর্থতম প্রাণটিও বিবেকানন্দের চেতনার স্পর্শে রাঙা হয়ে উঠে। আজ বিবেকানন্দের দৈহিক উপস্থিতি নেই ঠিকই কিন্তু আজও তিনি প্রাসঙ্গিক এবং আগামিরও পরিত্রাতা রূপে সবার অন্তরে প্রজ্জ্বলিত থাকবে অক্ষয় রবির ন্যায়। তাঁর জন্মদিনের ধারাকে বহন করে আমরা একখানা মালা গ্রন্থন করবো। সে মালা যাবে না। ছিরে। সেই সুক্ষ্ম প্রেন্স পূর্ণ মালাখানি হবে যুবসমাজের কাছে মায়ের আশীর্বাদের ন্যায় এক দুর্লভ অনুভূতি।

          একটা নেশামুক্ত সমাজ তৈরী হয় যৌবনের হাত ধরেই। আর সেই যৌবনই যদি নেশার কবলে নিমজ্জ্বিত হয় তবে সে সমাজ ক্রমশ তমালয়ে তলিয়ে যাবে। তাহলে কে হবে আমাদের আলোর দিশারি ? 

          স্বামীজিই ভারতীয় কর্মবাদের সার্থক উত্তরসুরি । তিনি ভারতীয় দর্শনের ভাবধারায় গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন। তিনি বলেছিলেন জগতে আমরা যতরকম কাজ দেখতে পাই, তা সবই চিন্তার প্রকাশ মাত্র। আমাদের নিরন্তর কর্ম করতে হবে। কিন্তু সেই কর্ম হবে আসক্তি শূন্য । তাই কবির গানের সুরে তাল মিলিয়ে যেন আমরাও গেয়ে উঠি – 
“ বহে নিরন্তর অনন্ত আনন্দধারা ।।”
          ‘কর্মের জন্য কর্ম’ করার কথাই স্বামীজি বলেছিলেন। স্বামীজির মতে-কোনো কর্মই তুচ্ছ নয়, ঘৃণ্য নয়; যার যেখানে কর্ম, তার সেখানে মুক্তি ।

          যুবসমাজের প্রতি স্বামীজির উপদেশ বিশ্লেষণ করলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, মানবের প্রত্যেক কর্মই উপাসনা, কারন মুক্তিলাভ করাই তার অন্তর্নিহিত ভাব এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সকল কর্মই সেই উদ্দেশ্যের অভিমুখে চলছে। স্বামীজি একটি বিদেশী পত্রিকার কথা বলেছিলেন যেখানে লেখা ছিল- সম্ভবত ভারতীয়রাই এমন একটি জাতি, যাদের মধ্যে বিপুল পরিমাণে নবযুবক বর্তমান। এই যুবসমাজ এতই উদ্যমী, এত সৃষ্টিশীল এবং এতই ক্ষমতাবান যে তারা ইচ্ছা করলেই সমগ্র বিশ্বজগতের নিকট বিস্ময় সৃষ্টি করতে পারে। 

          আজকের যুবসমাজ স্বামীজির প্রতিটি জন্মদিনে স্বপ্ন দেখে তিনি হলেন যৌবনের মূর্ত প্রতীক, তাইতো তার জন্মদিন 'যুবদিবস'। সেই স্বপ্ন হবে সুস্থ, সবল, কর্মতৎপর আধ্যাত্মিক এবং পার্থিব চিন্তায় সমৃদ্ধ যুবসমাজের হাত ধরে এক প্রাণচঞ্চল সমাজ। বিবেকানন্দ ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল ধরে যুবসমাজের অন্তরে বাহিরে থাকবেন। বিবেকানন্দ বলেছিলেন — “ পৃথিবীতে যখন এসেছিস, তখন একটা দাগ রেখে যা।" তিনি এই যুবসমাজের নিকট চেয়েছেন - “ যাতে চরিত্র তৈরী হয়, মনের শক্তি করে, বুদ্ধির বিকাশ হয়, নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে পারে, এই রকম শিক্ষা চাই ।”
 
          যুবসমাজ গেয়ে উঠবে – “ওগো বাঁশিওয়ালা,বাজাও তোমার বাঁশি” । প্রত্যেকটি যুবকের অন্তরেই বেজে উঠবে সেই বাঁশির তান যে বাঁশির সুর মধুর সুরে গেয়ে উঠবে আপন গরিমায়। 

          স্বামীজি আমাদের হৃদয়ে চিরবিরাজমান। তাই রবীঠাকুরের কন্ঠে বলতে চাই —

“ নয়ন সম্মুখে তুমি নাই;
নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাই।”
রবিঠাকুরের কথাতেও স্বামীজির যুবসমাজের প্রতি আহ্বান প্রস্ফুটিত হয় --- “ স্বর্থমগ্ন যে জন বিমুখ, বৃহৎ জগৎ হতে, সে কখনো শেখেনি বাঁচিতে ” ।
          প্রবন্ধটির পরিসমাপ্তিতে, রবীঠাকুরের কন্ঠে স্বামীজির প্রার্থনায় আমিও যুবসমাজের একজন প্রতিনিধি হিসাবে এইরূপে প্রবন্ধটির সমাপ্তি ঘটাচ্ছি —
“ মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে;
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই। ”

পাশে থেকো


✍️অসীম দেববর্মা

পাশে থেকো কিন্ত থেকো পাশে,
  প্রতিশ্রুতি হয়ে নয় প্রিয় হয়ে 
           থেকো পাশে।
    শুনেছি যে পাঞ্জাবি পড়ে 
   বসন্তে বুকে জড়িয়ে ছিলে 
      সে-ই পাঞ্জাবিটা নাকী
      আগুনে পুড়িয়ে দিলে।
 এও শুনেছি তুমি এখন ব্যাপারী
            মন ব্যাপারী!
এ-দোয়ার, ও-দোয়ার ঘোরোফেরো
তাহলে কী তুমি কোনোদিনই ছিলে না পাশে 
  অর্থ দিয়ে নয় মনোবল হয়ে থেকো পাশে।
পাশে আছি,পাশে থাকবো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিও না
        প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ চলে যায় না!

বিপদের চা


✍️বিপ্লব গোস্বামী

আমার প্রথম বার কলকাতা বেড়ানোর  সফরসঙ্গী ছিলেন আমার মাসতুতো দাদা বিজয়।ফ্লাইটে ওঠার পর থেকেই উনি বলতে শুরু করেন কলকাতায় পৌঁছেই প্রথমে বিপদের চা খেয়ে নিবো।কয়েক বার বলার পর আমি উনাকে বললাম বিপদের চা মানেটা কি দাদা? চা তো চা'ই হয় তবে বিপদের চা বলতে কি বলতে চাচ্ছেন কিছুই বুঝতে পারছি না। উনি সোজা উত্তর দিলেন ভাই বিপদের চা যখন খাবি তখন বুঝবি। এখন কিছুই বলব না তোকে।
     দমদম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর আমরা যশোর রোডের একটা হোটেলে ওঠলাম।হোটেরটা দমদম এয়ালপোর্টের ২ নং গেইটের পাশেই। যশোর রোডের শনি মন্দির পাড়ি দিয়ে একটু দূরেই।হোটেলের পাশেই গোবিন্দ মন্দিরের মোড়ের কাছে একটা ছোট্ট চায়ের দোখান।সেই দোকানের মালিকের নাম হলো বিপদ।আর সেই বিপদের হাতেই হলো চায়ের জাদু।আমারা হোটেলে জিনিস পত্র রেখেই সোজা বিপদের চা খেতে গেলাম।দাদার উৎসাহের শেষ নেই।আমিও কিছুটা কৌতুহলী।দোকানটা  এতটাই ছোট্ট যে দোকানদার ছাড়া আর কেউই দোকানে দাঁড়াতে পারে না।দোকানে বসার কোন ব‍্যবস্তা নেই।দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেতে হয় চা।আমি বিরক্তি অনুভব করতে লাগলাম কিন্তু দাদার জন‍্য কিছু বলতেও পারছিলাম না। তবুও দোকানে বেশ খদ্দেরের ভীড়।মিনিট পাঁচ ছয় দাঁড়ানোর ফর শেষে চা পেলাম হাতে।দাদা তো দিব‍্যি রাস্তায় দাঁড়িয়ে চা খেতে লাগলেন।চা খেতে খেতে আমাকে বলছিলেন কি হলো ভাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখছিস খা খা চা খা।আমি কিছুটা বিরক্তি অনুভব করছিলাম।কিছুটা ইতস্ততঃ করে প্রথম চুমুক দিলাম।প্রথম চুমুকেই তো বশ।সত‍্যিই জাদু আছে বিপদের চা'তে।জীবনে অনেক চা খেয়েছি কিন্তু বিপদের চায়ের মতো এত স্বাদ আর কখনো পাইনি।দাদা তো এক কাপ খেয়ে আরেক কাপের অর্ডার করলেন।আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কি রে ভাই খাবি না কি আরেক কাপ ? আমিও মাথা নারিয়ে হ‍্যাঁ বললাম।দাদা হেসে বললেন কি হলো এতক্ষণ তো আমার উপর বিরক্ত ছিলি।এখন দেখছি বিপদের চায়ের প্রেমে পড়ে গেছিস।আমি শুধু হাসলাম।
     এরপর থেকে আমি যত বারই কলকাতায় যাই প্রতিবারই বিপদের চা খেয়ে আসি।আমি কলকাতায় গেলে প্রথমেই এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে যশোর রোডের পাশের হোটেলে ওঠি।যত বারই গিয়েছি একই হোটেলে থেকেছি তাই ওখানকার হোটেলের কর্মীদের সঙ্গে পরিচয় হয়ে গেছে।আমি যে হোটেলে থাকি তার কাছেই বিপদের চায়ের দোকান।বিপদের আসল নাম হলো বিপদ ভঞ্জন মুখার্জি। দীর্ঘাকায় গঠন , কৃষ্ণ কোলো গায়ের রং।জন্মের পর মনে হয় কেউ মুখে মধু দেয়নি।কড়া কড়া কথা বলে সব সময়ই।কোন দিন হাসি দেখিনি ওর মুখে।তবু খদ্দেরের অভাব নেই।লাইনে দাঁড়িয়ে লোকে চা খায়ে যায়।বসার মতো কিছুই নেই।কেউবা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কেউবা গোবিন্দ মন্দিরের সিঁড়িতে বসে চা খান।অনেকে বাইক সাইকেল থামিয়ে চা খেয়ে যায়।বসারও কোন ব‍্যবস্তা নেই মুখে হাসি খুশিও নেই তবুও কেন এত লোকের ভীর ? এই প্রশ্নটার উত্তর পেতে হলে বিপদের হাতের চা খেতে হবে।জীবনে অনেক দোকান থেকে অনেক চা খেয়েছি কিন্তু বিপদের চায়ের স্বাদ কোথাও পাইনি।সত‍্যিই জাদু আছে বিপদের হাতে। বিপদের চা তৈরির ধরনটাও কিন্তু অন‍্য চা দোকানের থেকে একটু আলাদা।সত‍্যিই অন‍্য রকম স্বাদ।তাই তো দূর থেকে লোক এসে লাইন ধরে এক কাপ চা খেয়ে যান।

স্বপ্ন

 
✍️আলমগীর কবীর। 

স্বপ্ন সবাই দেখে 
কেউ আকাশের দিকে তাকিয়ে স্বপ্ন দেখে
আবার কেউ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে।
সবার সব স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হয়না! 
তবে যার স্বপ্নটটা সফল হয় সে জানে,
তার জীবনে কত প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হয়েছে !

বৃষ্টিভেজা মন


                ✍️ডাঃ রূপক পোদ্দার 

এই বৃষ্টি ভেজা রাতে তুমি নেই বলে সময় আমার কাটে না
চাঁদ কেনো আলো দেয় না
পাখি কেনো গান গায় না
তারা কেনো পথ দেখায় না
তুমি কেনো কাছে আসো না।।
সমুদ্রের ঝড়ো হাওয়া বলে
তারা তোমাকে চায়, তারা তোমাকে চায় পাখি মৃদু কন্ঠে বলে তারা তোমাকে চায়, তারা তোমাকে চায় এই শরতেরই সন্ধ্যায় তুমি নেই বলে সময় আমার কাটে না কাশফুল কেনো ফুটে না, ছুয়ে ছুয়ে যায় না মেঘের ভেলায় ভাসেনা। ভেসে তুমি কেনো আসো না
ঝরে যাওয়া সব অশ্রু বলে
তারা তোমাকে চায়, তারা তোমাকে চায় হৃদয়ের যত অনুভুতি আছে তারা তোমাকে চায়, তারা তোমাকে চায়
এই বসন্তেরই সন্ধ্যায় তুমি নেই বলে সময় আমার কাটে না
ফুলগুলো কেনো হাসেনা, হৃদয়ে দোলা দেয়না আবেশেতে জড়ায়না
তুমি কেনো কাছে আসোনা?
এই বৃষ্টি ভেজা রাতে তুমি নেই বলে সময় আমার কাটে না
চাঁদ কেনো আলো দেয় না
পাখি কেনো গান গায় না
তারা কেনো পথ দেখায় না
তুমি কেনো কাছে আসো না।

কালো আকাশ

 
        ✍️ দীপু দেবনাথ 

সুখ পাখিটা রয়েছে ঘরে 
  নীল আকাশের খুঁজে!
কালো মেঘের চাদর গায়ে 
আকাশ রয়েছে ঘুমিয়ে।

আঁখির কোনে কাজল কালো 
কালো যে রূপের ঘুন বাড়ালো
    একেই পথের দুদিগন্ত 
   এক যে যায় নদীর চরে 
      এক যে যায় ঘরে।
 
 নয়ন নীরে গহীন বনে
    ছিল তার একা ঘর
প্রাণের বন  ছিল আপন 
     যায়নি যখন উরে।

Diwali


                      ✍️Raja Debroy

The thirteenth day of Krishna Trayodasha 
in the month of Ashwin marks
the beginning of Diwali, in Dhanteras.
On second day of shukla 
in the month of Kartik,
the festival ends with Bhai Fonta.
Navratri or Durgotsab,
eighteen days later,
the fragrance in the air is of Diwali.
According to the Gregorian calendar,
mid-October to mid-November,
Diwali is celebrated everywhere.
Seeing several bright & colorful Light,
the melodious, romantic songs take flight!