রাখিপূর্ণিমা


                ✍️গৌরাঙ্গ সরকার

বাবাহারা রঞ্জিত শহরে গিয়েছিল একটি চাকুরির খুঁজে। পকেটে টাকা ছিল না। পুরনো বেগে পুরনো ৫টা ১০ টাকার নোট ছিল। যাওয়ার সময় মা'র কাছ থেকে ১০০ টাকা চেয়ে নিল। আবার ২দিন পর যেতে হবে, তাই টাকা বাঁচানোর জন্য বাড়িতে ৫০ টাকা দিয়ে কোনোরকম ফিরে এল। আসতেই তার বোন বলে উঠলো "দাদা, একটু হাতটা দে, আজকে রাখিপূর্ণিমা " এই বলে রাখি পড়িয়ে দিল। রঞ্জিত মনে মনে বলছে, "আমার তো মনেই নেই। নে বোন, এই ১০০ টাকাটা রাখ্, বেশিকিছু দিতে পারলাম না।" বোন- "আচ্ছা দাদা।" ২দিন পর রঞ্জিত তার এক বন্ধুকে কল করে বলছে, "১০০ টাকা পাওয়া যাবে ভাই?" বোন অন্য ঘর থেকে শুনে রঞ্জিতের দেওয়া টাকাটা বের করে বলছে, "দাদা, ঘর ঝাড় দিতে গিয়ে তোর ঘরে ১০০ টাকা পেয়েছিলাম, এই নে।"
রঞ্জিত- "আমার ঘরে তুই টাকা পেলি কোথায়?" রঞ্জিত ব্যাপারটা বুঝেও না বোঝার অভিনয় করছে, অসহায় হয়ে টাকাটা নিয়ে নিল। হয়তো বুকে পাথর রেখে টাকাটা নিতে হল।
এটাই ভাইবোনের ভালোবাসা। একজনের পকেট খালি কিন্তু বোনের জন্য ভালোবাসার পকেট ভরপুর। আর আরেকজনের মুখে সুখ না মেখে দাদার জন্য নিজের সুখ ত্যাগ করল। একজন সৈনিক(ভাই) আরেকজন দেশমাতা(বোন) ।

নব ভারত


             ✍️সুপর্ণা মজুমদার রায়

পূর্ব গগনে উঠেছে অরুণ তরুণ ভারত জাগো,
অলস হয়ে ঘুমিয়ে থেকো না একতার ছবি আঁকো। 
দেশকে যারা করেছে খন্ড অন্তর কলহ দ্বন্দ্বে, 
চিহ্নিত করো তাদের তোমরা হাত রেখে সহোদর স্কন্ধে। 
স্বার্থের তাগিদে দেশকে যারা শোষণ করে তিলে তিলে, 
কালিমার টীকা এঁকে দাও তোমরা তাদের কপালে। ধ্বজা উড়িয়ে যারা মায়ের স্বাধীনতার গান গায়, 
তাদের শাসনে ভারত এখনো পরাধীন রয়ে যায়। 
সব বাঁধা বেড়াজাল ভেঙে এগিয়ে তোমরা যাও, 
অন্ধকারকে চুরমার করে দেশের কালিমা ঘুচাও। 
উঁচু নীচুর ভেদাভেদগুলো নিশ্চিহ্ন করে দাও  
মানবধর্মের পথে চলে দেশকে স্বাধীন করে নাও ।

মুক্তির আনন্দ


                  ✍️ মনচলি চক্রবর্তী 

আমি পাখি হবো
উড়ে  উড়ে যাবো।
নীল দিগন্ত জুড়ে 
পাখা মেলে  উড়ে।
নেই কোনো খাঁচা 
মুক্ত  হয়ে বাঁচা।
দিক দিগন্তে মিশে, 
যাবো আনন্দে ভেসে।
দূরে দূর দূরান্তে, 
একবারে শেষ  প্রান্তে। 
সীমানা টুকু ছাড়িয়ে 
ডেকে যাবো চেঁচিয়ে। 
নেই কাঁটাতার সীমানা 
আসীমে  আমার ঠিকানা। 
নাচবো  স্বাধীনতার আনন্দে 
মুক্তির  গানকরবো  ছন্দে। 
আমি পাখি হবো
পরাধীনতার শিকল ছিড়ে,
ডানা মেলে বেরাবো
মুক্তির আনন্দে উড়বো ।

স্বাধীনতা


                   ✍️শম্পা ঘোষ

শহীদের রক্তে ঋণী স্বাধীনতা
আজ বন্ধ্যা তবু স্মরণ সভায়
নীলকর সাহেবের জুলুম বা
রোজ রোজ মূল্যবৃদ্ধির খেসারদে-
মানুষের স্বাধীনতা শৃঙ্খলিত
আজও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি মাত্র,
একজোটে বহিরশত্রু নির্গমনে যে মুষ্টিবদ্ধ আওয়াজ জেগে উঠেছিল তাকে ভুলি কেমন করে?
সকল অচলায়তন ভেঙে আবারো জাগিও-  স্ব-অধীনতার মন্ত্রে গর্ব করে শহীদের রক্তে ললাট কোনে এঁকে দিই বিজয় স্মারক সত্যিকারের স্বাধীনতার ।

স্বাধীন ভারত


                  ✍️দীপক রঞ্জন কর

দুইশ বছর পরাধীন ভারত ব্রিটিশের শাসনে, 
রাজত্ব করে কৌশলে ইংরেজ দখল সিংহাসনে,
অত্যাচার অবিচার লাঞ্ছনা কত করে গৌরবে, 
সহ্য করেছে নিত্য ভারতবাসী  অসহায় নীরবে।
তরুণ যুবকরা গর্জে উঠে আর নয়কো পরাধীন ,
বহু তাজাপ্রাণ বিনিময়ে আজ ভারতবর্ষ স্বাধীন।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভারতবাসী ভাই ভাই
ব্রিটিশের বিরুদ্ধে করছে প্রাণপণ সংগ্রাম লড়াই।
দেশের বিনিময়ে দিতে হয়েছে প্রচুর তাজা রক্ত,
১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত হয় পরাধীন মুক্ত ।

স্বাধীনতা

         
                          ✍️শুভ্রা দেব

স্বাধীনতা, তুমি পূর্ব দিগন্তে উদিত রবি 
তোমায় নিয়ে কবিতা রচে কতো হাজার কবি
তুমি মায়ের বুক ভরা আশা,
প্রেয়সীর ভালোবাসা 
সন্তানের মুখের দীপ্তমান হাসি।
স্বাধীনতা,তুমি আমার ভাইয়ের রক্তে ভেজা মাটির গন্ধ,
কফিন বন্দী বীর শহীদের দেহ-
হাজারো সৈন‍্যের রক্তে রাঙা উড়ন্ত তেরঙ্গা
তুমি কবিগুরুর কলমে 'ভারততীর্থ'
বিদ্রোহীর কন্ঠে ধ্বনিত 'কান্ডারী হুশিয়ার '।
স্বাধীনতা, তুমি নবীন ভারতের প্রাণ,
তোমাতে বজায় আজও প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য 
ইতিহাসের প্রতিটা পাতায় পাতায় রয়েছে লেখা 
তোমায় ঘিরে কতো হাজারো অমরত্বের জয়গান ।

আমার স্বদেশ


                  ✍️রাজেশ ঘোষ

যতই করো বিভেদ, হিন্দু মুসলমান
পরিচয় একটাই ভারতীয়, ভারত আমার মহান
এ দেশ তোমার, আমার, সবার
অহংকার করি আমি, ভারতীয় হবার 
এই দেশের বাতাসে পাই, বুক ভরা প্রাণ 
নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই, ভারত মায়ের সন্তান 
এই দেশের মাটিতে মিশে আছে, কত শহীদের রক্ত
ইতিহাস হয়েছে সাক্ষী, কত ঘটনা অব্যাক্ত
স্বদেশ আমায় শেখায়, স্বপ্ন দেখতে 
এক জাতি, এক প্রাণ, ভেদাভেদ ভুলে থাকতে 
বহু বৈচিত্রের সমাহার, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী
যুগ যুগ ধরে বয়ে চলেছে, গঙ্গা - যমুনা - গোদাবরী
এক সূত্রে বেঁধে আছি, আমরা সবাই
স্বাধীনতা ছিল না সহজ, করতে হয়েছে লড়াই
যতই দেখি মাগো, তুমার রূপের বাহার
মুগ্ধ হই, ধন্য হই আমি প্রতিবার
আজ তুমি স্বাধীন, নেই পরাধীনতার শৃঙ্খল
তবুও মাঝে মাঝে দুঃখ হয়, যখন দেখি তোমার চোখে জল