পাপড়ি

      
                  ✍️পান্থ দাস

গোধুলির ঠিক পূর্বের সময়টা ছিল ‌৷ যখন বেলাটা শেষের পথে, একদম সেই সময়টা ৷ ছেলেটা দাড়িয়েছিল গ্রামের বকুল গাছটার নিচে ৷ একটু একটু হালকা হাওয়াও বইছিল, হাতে ছিল একটি গোলাপ ৷ হয়তো কারোর নাম গাঁথা ছিল তাঁতে, কিন্তু সময়টা যে থামতে চাইছে না ৷ বকুলের ছায়াও যে এখন শেষের পথে, ক্লান্ত চোখ শুধু অপেক্ষায় ৷ 

গোপন মন আশার আলোটা যে ছাড়তে চাইছে না ৷ বকুলের শুভ্র ঘ্রাণের ছোয়া মনকে যেন আরো মাতিয়ে তোলে ৷ তবে গোলাপটা যে আর বেশী সময় হাসতে দিয়ে থাকতে পারছে না, সময়টা সত্যি কারোর জন্য থেমে থাকে না ৷ সময়ের ভিড়ে আজ হারিয়ে গেল আমার গোলাপটাও যে, শুধু কালের বিনিময়ে তাঁর শুকনো পাপড়িই হাতে রয়ে গেল যে ৷

এসেছে ধরায় আমার বসন্ত


               ✍️শুক্লা চক্রবর্তী

এসেছে ধরায় আমার পাড়ায়, 
আমার সখা আমার প্রিয় বসন্ত। 
এসেছে ধরায় আমার বসন্ত সখা যে, 
তাইতো কৃষ্ণচূড়া সাজিয়েছে নবরূপে প্রকৃতিমারে। 
তাইতো উদাসি কোকিলের কুহুকুহু সুরে, 
হয় যে আমার মন ব্যাকুল। 
চারিদিকে বাজছে যেন সংগীতের কলতান, 
চলো তবে সবে মিলে করি গান। 
"শোনো গো দখিনো হাওয়া 
প্রেম করেছি আমি"
বউ কথা কউ পাখি যে ডাকে ডালে ডালে, 
এ শুনে যে আনন্দে মাতে ছেলে থেকে বুড়ে। 
পলাশ শিমুল কুরচি কুসুম ফুটছে বনে বনে, 
ভ্রমরেরা ছুটছে তাইতো দলে দলে। 
বৃক্ষে বৃক্ষে এলো নব পল্লব, 
  তাইতো বুঝেছি আমি... 
এসেছে ধরায় আমার পাড়ায়
আমার প্রিয় সখা আমার বসন্ত।

ফেসবুক ও বন্ধু


           ✍️প্রতীক হালদার 

ফেসবুক জুড়ে পরিচিত হই 
প্রতিনিয়ত-প্রতিক্ষনে,
কারোর কাছে ফ্যালনা আবার
কেউ দাম দেয় মনে-মনে।

খোঁজ খবরে হয় জানা-শোনা 
অচেনাও হয় চেনা,
ভালোবাসা বিনিময়ে হয় বন্ধুত্ব 
যায় না মানুষকে কেনা।

মনের খুশি ছড়িয়ে যখন 
ফেসবুকে রঙ লাগে,
ইচ্ছে গুলো ডানা ঝাপটায় 
খুশিতে হৃদয় জাগে।

ছড়িয়ে পড়ুক হাজার খুশি 
খুলুক নতুন দোর,
ফেসবুক যেন বন্ধু হয়ে 
দিক সদা মনে জোর।

এমনি করেই থাকুক বন্ধুত্ব 
বাঁচুক ফেসবুক জুড়ে,
জীবন পথে একা হলেও 
রইব সবার ভিড়ে ।

সম্পর্ক


              ✍️শাশ্বতী   দেব

সম্পর্কের  টানে  সময়ের টানাপোড়েনে  সম্পর্কে  আসে  জটিলতা,

সম্পর্ক  এক   জায়গায়  কখনও  টিকে  থাকে  না ।

নদীর  স্রোতের  মত  সম্পর্ক  অহরহ  রূপ  বদলাতে  থাকে ,

বিভীষিকায়  ঘেরা  অদৃশ্য  এই  সম্পর্ক  কখনও  কখনও  নষ্ট  হয়ে  যায়  সময়ের যাতাকলে   পড়ে।

সম্পর্কের জেরে  মানুষের চিন্তাধারায় অনেকটাই অবনতি  হয়ে  
চলছে;

কালের  সীমানা  ছাড়িয়ে অনেক সম্পর্ক  আবার  মাথা উঁচু  করে  দাঁড়িয়ে।

জীবন তৃষ্ণা


                ✍️প্রবীর পাঁন্ডে

জগতের কত রঙ, কত রূপরাশি, 
কত শান্ত ছবি, কত মধুময় হাসি;
কত ফুলের আসব, কত তরুলতা, 
শূন্য তপোবন মাঝে কত নীরবতা;
কত প্রভাতের আলো, কত অন্ধকার, 
কত লুকোচুরি খেলা মেঘবালিকার। 
নয়ন ভরে করেছি পান,তবু মিটেনি পিপাসা। 
একি জীবন তৃষা! 

জীবনের কত কথা, কত সুর গান
কত অনাবিল ছন্দে মধুময় তান;
হৃদয়ের মর্মবাণী, কত ভাব ভাষা, 
আকুল প্রাণের কত মৌন ভালোবাসা;
চঞ্চল ঝরনার  কল কল গীত, 
প্রিয় মিলনের কত বাঁশরী সংগীত। 
হৃদয় ভরে করেছি পান, তবু মিটেনি পিপাসা। 
একি জীবন তৃষা! 

উর্দ্ধে নীলিমা আকাশ, কত তারা শশী, 
নিম্নে অসীম সাগর অতল জলরাশি;
কত বহবান নদী, কত নির্ঝরিনী, 
কত গিরি-মরুভূমি, কত পুস্করিনী;
কত আনন্দ মধুর অধরের সূধা, 
কত হাসি,কত অশ্রু, সৌন্দর্য বসুধা। 
অঞ্জলি ভরে করেছি পান, তবু মিটেনি পিপাসা। 
একি জীবন তৃষা!

উষ্ণতার আশ্রয়

 
           ✍️কাজি নিনারা বেগম

মায়াবী ভোরের শীতের সকালে চায়ের কাপে থাকবে তুমি,
ক্লান্তি গুলো অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কনকনে হিমেল হাওয়ায় বেমালুম হেরে যাই আমি।
 হিমেল কনকনে রাত্রি ছিনিয়ে নিল আগুনের জলন্ত লেলিহানে,,
হৃদয়ে স্পন্দন গতি বেড়ে যায় সমর্পন করি  এক সমুদ্র ভালবাসার আঙিনায়।
 শীতের কম্বলের আশ্রয়ে খুঁজে নেই তোমার লোমশ বুকের সৌরভ,,
অলিন্দে ও রক্তের শিরা ও উপশিরায় রক্ত তঞ্চন জমাট বেঁধে থাকা রক্ত কনিকায় তোমার নাম!

মৃত্যুর হাতছানি

        
          ✍️প্রিয়াঙ্কা আদক মন্ডল

মৃত্যু বড়ই নির্মম, কঠোর, অবাঞ্ছনীয়
কোন অস্ত্রাঘাত ছাড়াই মৃত্যু অনিবার্য।
অদৃশ্য রোগে ভুগছি আমি, 
ঘোর সংকটে কাটছে মোর অস্তিত্ব। জীবনে এসেছিল মোর মৃত্যু একবারও বলিনি কাউকে, 
মৃত্যুকে ঠিক কতখানি পুষেছিনু মোর হৃদয়ে!
হ্যাঁ, নিজের অজান্তে নয় 
মরণঝাঁপ দিয়েছিনু সমুদ্রস্রোতে
শুধুই অদৃশ্যের হাতছানি, না 
অনন্ত মহাকালের স্বপ্নে বিভোর 
কষ্ট আঁকড়ে ছিল মনের গভীরে 
দেহ ক্ষত-বিক্ষত করেছিল আঁধারে।
ভেবেছিনু শব শেষ! 
কিন্তু না, কিছুই হলো না 
জীবনের ক্লান্তির মহাবিশ্রাম বটে 
দীর্ঘ ঘুমের অবসান ঘটে। 
মৃত্যুর অপেক্ষায় আমরা সবাই আছি একদিন মৃত্যুর জন্য আমরা সবাই প্রতিদিন বাঁচি।

সূর্বণ


            ✍️কাজী নিনারা বেগম

হে  মন্দাকিনী তোমার কৌশিকী ধারায় প্রবাহিত করে দাও গনতন্ত্রের ও চেতনা ও মানবতার মৌলিক "সা,রে ,,গা,,মা ,, পা" এর রিদমের সেই সুরের ছন্দ ও তালে। শির দাঁড়া সোজা রেখে উন্নত শিরে হাটো। তাকাও সেই রোদ্দুর দিনের ইতিহাস সাক্ষিদের অমর দেশপ্রেমিক ও বাপুজীর নিরলস প্রচেষ্টায় ভারত স্বাধীনতা ও নব জাগরণের দিনগুলো কি ভূলে গেছ! হে বীর প্রতীক মাতৃভূমির সন্তানেরা তোমাদের করি অভিবাদন। সম্পৃক্ত হৃদয় স্পর্শ করে আছো আজও বিদ্যমান। সম্পৃতি মিছিলে  কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে   চলো এলো  মেলো মেলোডি ভালবাসার মানবতার ও চেতনার সূরে। পুতে দাও মৃত্তিকার জঠরে সেই কলঙ্কিত বীজ। মূছে দাও সেই অফুরান কবিতার ছন্নছাড়া লাইন গুলো।বারান্দার রঙ চটা দেওয়ালের অমসৃণ পিঠে । বন্ধুর অবন্ধুর অলিতে গলিতে মেট্রো শহরের সোনালী  চৌরঙ্গী লেনের অবিভক্ত লাল নীল বাতির, ঝলসানো সিগন্যাল প্রসেসিং রেড সিগন্যালে। হাটুকনা নির্ভয়ে নির্ভ য়ায় হাটুকনা পারমিতা ও আইরিনরা। 
বড় মুড়া পাহাড়ের বেথালিঙ শিবের  চিরহরিৎ জঙ্গলে তারুণ্যের তরুরাজ্যের নব জাগরণের হৌক না 21জানুয়ারী পুন্য রাজ্যের সুবর্ণ জয়ন্তীর। বিশ্ব মৈত্রীর ত্রিবেনী সঙ্গমে। ফজরের আজানে খোদার দরবারে
ও মন্দিরের পুজারী কন্ঠে অনুসুয়া হৌক না ভ্রষ্টাচারের নীল বিষের ফনায়। আসুক না পরম ধর্মের সহিষ্ণুতা।

হঠাৎ যদি

          
         ✍️সুপর্ণা মজুমদার রায়

হঠাৎ যদি আকাশ কোনো ছলে?
নেমে আসে মাটির ধরা তলে!! 
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা সাথী হবে সব,
ধরনী পরে শুরু এক মহামিলনোৎসব।
উজান পানে উড়িয়ে দিয়ে সপ্তরথী ঘোড়া, 
আকাশ মাটির মনটি হবে মুক্ত-বাঁধনছাড়া। 
হাত বাড়িয়ে আকাশ মাটি দুজনার জড়াজড়ি, 
বহু যুগের সপ্ন পূরণ দুজনায় ভাব করি। 
সুদূর হতে আকাশ মাটি তৃষিত নয়নে চেয়ে, 
একে অপরের ভাবটি জানায় নীরবতা জানিয়ে। 
নাম না জানা কোন সে বেদন ভালবাসার ছলে, 
দূর হতে তাই আকাশ মাটি মনের কথা বলে। 
এমনটি এক দিন আসুক আকাশ মাটির মাঝে, 
ভাঙবে আগল,মিলন হবে দুজন দুজনার কাছে। 
সিক্ত হবে দুটি হৃদয় ভালোবাসা মনে,
আলোক বার্তা ধ্বনিত হবে 
কোকিল গাইবে মধুর কুজনে। 

ছোটবেলা ও যৌবনের শেষে


                ✍️পাপিয়া দাস
ছোটবেলা  বেলা বেশ ভালই ছিল,
শুধু খেলার সাথে পরিচয়।
চাকরি  বাকরির দরকার  নেই,
শুধু বইয়ের সাথে পরিচয়।

খাবার  মজুত আছে কিনা
দেখার দরকার ছিলো নাতো,

পেট ভরে খাবার  পেলে
অন‍্যদের খাবারের  চিন্তা ছিলো নাতো।

নিজের ঘুমে বিভূর তখন
অন‍্যের ঘুমের চিন্তা নেই

যখন তখন  ঘুমিয়ে  পড়া
চিন্তা  করার মতো কোনো চিন্তা নেই।

যৌবনে পা রাখতেই মা বাবার 
বার্ধ‍্যক‍্যের চিন্তা
  আর কর্মজীবনের  চিন্তা মাথায়  এসে চেপে ধরে।

বিয়ের পরে স্বামী,স্ত্রী 
সন্তানের  ভরণপোষণের  
দায়িত্ব পড়ল  বুঝি ঘাড়ে।

কি কি কর্তব্য  করতে হবে
কে কি দায়িত্ব  নেবে 
রাখে নাতো বাকি।

বৃদ্ধ বাবা মা, শ্বশুর শাশুড়ির
দেখাশুনার দায়িত্বে থাকবে
কাজে দিতে পারবে না ফাঁকি।

অফিস  কাচারী  ঘর সংসার 
সামলাতে  হবে তোমায়।
ছুটাছুটি করতে করতে পৌঁছে যাবে
যৌবনের  শেষ কাটগড়ায়।

মাতৃভাষা কলমে


             ✍️ মনচলি চক্রবর্তী 

বাংলা মোদের মা 
বাংলা মোদের মাতৃভাষা 
বাংলা ভাষার মাঝে আছে প্রান 
এই ভাষায় জাগে  বুকে শিহরণ। 
কত দেশ কত যে ভাষা,
আমার হৃদয়ে লেখা থাকুক
 চিরকাল অমর হয়ে 
আমার  মাতৃভাষা বাংলা ভাষা। 
বাংলা ভাষায় বলবো কথা
বাংলা ভাষায় লিখবো গাথা।
বাংলা ভাষায় গাইব গান 
বাংলা মনে আনে ছন্দ তাল।
মায়ের ভাষার আছে সুখ 
মাতৃভাষায় জুড়ে যায় বুক।
বাংলা মায়ের মুখ দেখে
জীবন মন দেবো সঁপে।
রক্ত জড়ানো একুশে ফুটুক
শত শ্রদ্ধার  একরাশ গোলাপ।

মানুষ বড়ই নিষ্ঠুর জাতি

                   ✍️স্বৈপায়ণ দেব  
                    
                       মানুষ বড়ই নিষ্ঠুর জাতি,
                      নিষ্ঠুর এই সমাজ পরিপাটি।
                                 নিষ্ঠুর আমি, 
                                  নিষ্ঠুর তুমি, 
                          নিষ্ঠুরতায় অধোগামী।

                            এই নিষ্ঠুরতার জেরে 
                         কিভাবে যে অকালে মরে ?
                           মায়ের কোল শূন্য করে  
                              আত্মহত্যা সে করে,
                              কি নিষ্ঠুরতাই করে।

                               নিষ্ঠুর তো সেও
                          যে করেছে তাকে হেয়। 
                              ভুলে-যাও-তাকে, 
                            পরোনা আর পাকে।
                          আর নয় রুখে দাঁড়াও 
                        নিজেকে এবার সামলাও, 
                        নিজের বান্ধব নিজে হও 
                         না হয় নিষ্ঠুর আরো হও। 

                         কিন্তু এই নিষ্ঠুরতার জেরে
                              ছেড়ে যেও না তারে, 
                             যে লালন পালন করে 
                             বাঁধলো তার সকল স্বপ্ন 
                                শুধু তোমার তরে।

তোমাকে পাশে চাই

      
                ✍️ মাধুরী লোধ

আমি তোমাকে পাশে চাই
ভিত্তি প্রস্তর আর ফিতা কাটার এলবামে 
ঝুলন্ত পুল এ লোহা লক্কর এ নাড়ীর যোগ 
উচ্ছাস আনন্দ চূড়ান্ত ব্যসত তায় 
সনাক্ত হবে প্রবাহমান নদীর অগ্নি রথ ।
আমি তোমাকে পাশে চাই
গুড মর্নিং ,গুড ইভিনিং ,গুড নাইটে
অভিন্ন বন্ধন যেনো শতমূলী ছড়া
ভুলিয়ে দেবে ত্রিতাপ জ্বালা
আছে শুধু না বলা কথায় মূকাভিনয় ।
আমি তোমাকে পাশে চাই
পূর্ব , পশ্চিমে  উত্তর  দক্ষিণে
কবি ও কবিতা  ও লিটলম্যাগে 
নিঃসঙ্গ নদী তীরে অশান্ত ঘূর্ণাবর্তে
হৃদয় ডালে বসন্ত কোকিল স্বরে ।
আমি তোমাকে পাশে চাই অজাতশত্রু হঠাতে শেখা যুদ্ধ কৌশল
জাকির হোসেন, আমজাদ আলী,বা বিসমিল্লা খান
মাদার টেরিজা , বৈষ্ণব পদাবলী বা
মানুষ বনাম মনুষ্যত্বে
আমি তোমাকে পাশে চাই 
ঠাকুর ঘরে শোবার ঘরে , বারান্দায় , বাড়ির আনাছ কানাচে , শেষ বিদায়ের মৌন মিছিলে পরম সাথী সবুজ সাথীর ন্যায় ।