তাইতো কবি জেগে উঠে


                   ✍️সৌরভ দেবনাথ 

কবিতার প্রতিটি ছন্দে সেঁজে উঠেছে আমার ডাইরির পাতা ,
কবিতা কী প্রেম ভালবাসা আর বিনোদনেই গাঁথা! 
রাস্তার ড্রেন থেকে উঠে আসে ভ্রূণ হত্যার গন্ধ ...
তাই বুঝি কবির কলমে উঠে প্রতিবাদের ছন্দ। 
শত অনাথ শিশুরা ঘোরে আজ শহরের পথে ঘাটে, 
জড়বুদ্ধিসম্পন্ন বাবুরা তা দেখেও মুখ ঘুরিয়ে হাঁটে। 
মেয়েমানুষেরা আজও নিরাপদ নয়...
ধর্ষকরা মুখোষ পড়ে ,
ধর্ষণ তো দূরের নয় কাছের মানুষই করে। 

তাইতো কবি জেগে উঠে 
কলমের কালিতে অবহিত করে।

পরিণাম


                 ✍️ রূপালী রায় 

গাছ নাই, বৃক্ষ নাই 
নাই পশু পাখি ।
যেদিকে তাকাই শুধু ইট পাথরের  ইমারত 
 যানবাহন দেখি ।

গ্রাম নাই, গঞ্জ নাই 
নাই ফাঁকা জমি ।
উন্নতির দৌড় যাপে 
হারিয়েছে আজ সবি ।

মেঘ নাই, বৃষ্টি নাই 
গরম পড়েছে অতি -
যা কিছু ভুগছি  আমরা আজ
সবি এসবেরই পরিণতি ।

দম্ভ তবু কমে না
হায় রে মানব জাতি।
এখন থেকে না শুধরেলে
কি যে হবে গতি ।
প্রকৃতি রুষ্ট আজ
মানুষের প্রতি ।

গরমে পুড়ছে  মানুষ 
রোদ উঠেছে অতি ।
কখনো আবার অসময়ে ঝড়-বৃষ্টি 
হচ্ছে মানুষের ক্ষতি ।
প্রকৃতি রুষ্ট আজ 
গোটা মানব জাতির প্রতি ।

ক্ষুদ্র চিঠি

  
                          ✍️চিন্ময় রায়

 চারিদিকে  ফাটল ধরেছে,ভূমি মাতার কষ্ট বেশ,
অগ্নি লাভা ছড়িয়ে পড়েছে,তাপের আর নাইকো শেষ।
মানব শরীরে হাহাকার  ভারি,রুদ্ধশ্বাসে   পৃথিবী,
হে নাথ,করো শান্ত , এইটুকুই দাবি।

মানুষ তবুও কাজে মত্ত,পশুরা খুঁজছে শান্তির স্থান, 
সজীববস্তু ঘর্মাক্ত প্রায়,অশান্তির নেইকো  অবসান।
বিশ্বমাতা কাঁদছে এই দাবদাহের ফলে,
দাবানলের মতো জ্বলছে শুধুই নিভেনা শীতল জলে। 

পাপ কাজে লিপ্ত মানুষ ,হয়তো এটাই  অভিশাপ
সূর্যি মামা আকাশেতে তাই দারুণ দিচ্ছেন তাপ। 
তাপের ফলে গাছেরাও প্রাণ নিয়ে হাঁসফাঁস করে
বাইরে বয়না বাতাস, শুধু এ.সির উল্লাস ঘরে।

হে ঈশ্বর,শান্ত করো পৃথিবীরে, প্রার্থনা তোমার কাছে,
এরূপ চিঠি আবার লিখব,অনেক কিছুই বলার আছে।

বৃষ্টিকান্না


                      ✍️ রূপঙ্কর পাল

তুমি আমি ভিজি ইচ্ছে করে
রোমান্টিকতা গায়ে মেখে,
বিনা ইচ্ছেয় জ্বরে পুড়ে শরীর–
তবুও টিপটিপ বৃষ্টির স্পর্শ
শরীর ছুঁতে থাকে প্রতিক্ষণ।
ছাতার মতো বড়ো পাতাটি
মানেনা কোনো বাঁধা...
টাকার অঙ্কে হিসেব মিলিয়ে
না মেলানো হিসেব, নিয়তি নিয়তই বেগতিক;
তখন তার কান্নার নিচে খুঁজতে থাকা সুখ।
সংসারের তাজা প্রাণের ছবি মুখের উপর
দুঃখগুলো দূরে সরিয়ে পাথর চাপা বুক,
মাটির ভেজা গন্ধ লেগে থাকা শরীর
বৃষ্টিকান্না ঠিক অসুখ বয়ে আনে, মনের;
ভালো-মন্দের দায়িত্ব যখন কাঁধের উপর।
পুড়ে যাওয়া দেহ আর ভিজে যাওয়া মন-
একই, অনুভবে কষ্ট, অগোছালো চারদিক,
জলের নৌকা ভাসিয়ে নেয় চারদিক
ফেলে ঠিক দৈন্যের সাগরে, স্বপ্ন বিসর্জন।

আঁধার


                     ✍️গোপাল বনিক

পৃথিবীতে মেঘের আনাগোনা।
সূর্যের তেজে কেমন রক্তাল্পতা ভাব।
চারিদিক ঝাপসা হয়ে আসছে।
গাছের পাতাগুলিও আজ মৌন।
যে পাখি ভোরে উড়ান ভরেছিলো খাদ্যের খোঁজে,
হঠাৎ থমকায়।
ল্যাম্পপোস্টের গায়ে আবছা আলো ঝুলতে থাকে।
আঁধার ভ্রমে সবার এখন বাসায় ফেরার পালা।

মা


                       ✍️অংকিতা বর্মণ

মা হওয়ার প্রথম অনুভূতি;
হাসিতে খুশিতে স্বর্গসুখে পাগলী।
যে-ই মেয়ে কোন একদিন;
হাসপাতাল,ঔষধ, বড়ি,ইনজেকশন;
নামেতেই হত অতি নারাজ ।
আজকাল এতো প্রতিদিনের কাজ।
তবুও খুশিতে পাগলী ভাব।
আজকাল বমি যখন তখন;
এটা খাবিনা ওটা খাবিনা;
এখানে সেখানে যখন তখন;
আসা যাওয়া আর হবেনা।
সব মানে আনন্দে উৎফুল্লে।
নারী বলতেই কেশকে ভালোবাসে;
মা হতে হলে কেশও ঝরে।
জ্বর,সর্দি,কাশি যাইহোক;
ঔষধ নিলে শিশুর আঘাত হবে;
এই ভয়টি সকলের থাকে।
শত ব্যাথা শত যন্ত্রণা;
কখন আসে কখন যায়;
মায়ের মমতায় বলতে পারেনা।
সবচেয়ে বড়ো যন্ত্রণা তখন;
সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে যখন।
৪৫-৪৭ ইউনিটের অধিক ব্যথায়;
মনবজাতিকে প্রাণহীন বানায়।
তবে সন্তান ভূমিষ্ঠের ক্ষণে;
৫৫-৫৭ ইউনিট পর্যন্ত ব্যাথা;
কুড়ি'টি হাড় ভাঙার যন্ত্রণা;
মায়েরাই কেবল সহ্য করে;
সন্তান সুখ দেয় ঘরে ঘরে।
তবুও বড় হয়ে মাকে বলে;
তুমি কি দিয়েছ?তুমি কি করেছ?
আরে বোকা, তোদের প্রাণ দিয়েছে!
তাইতো বলে মায়ের চরণে স্বর্গসুখ রহে।
মা রূপেই ভগবান ধরিত্রীর বুকে।

 

সত্তা


                 ✍️সংগীত শীল

সুখের অসুখ ভীষণ বেড়ে,
এতকাল না হয় রাখঢাক,
সাদা কালো মেঘেদের ভীড়ে।

স্মৃতির কোলাজ খুলে দেখি,
উপেক্ষার সহস্র পথ পেরিয়ে
তৃপ্তির পাড়ে, এবার স্বপ্নের সিঁড়ি।

গতিময় পরাণ,
জীর্ণ শরীরে রূপোলি ঝর্ণা মাখবে গায়ে। 

শৈশবের পেখম, 
শরীরসত্তার বিড়ম্বনার শল্যকলায় মুক্তির পথে।

বুকে ফুটবে গোলাপের কাঁটা
রক্তাক্ত কোমল পাপড়ি,
স্ট্রেচারে গড়াগড়ি। 

নিশ্চিন্ত থেকো আমার শুভার্থী।