নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার ফেব্রুয়ারী সংখ্যা
সম্পাদকীয়
২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সহ পশ্চিমবঙ্গ তথা সমস্ত বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত। বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮, বৃহস্পতিবার) বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে অনেক তরুণ শহীদ হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকত সহ অনেকেই। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। আমাদের লক্ষ্য রাখতে অন্য ভাষার দৌড়ে আমাদের মাতৃভাষার যেন কোনো। ক্ষতি না হয়। কারণ নিজের মাতৃভাষা হারালে নিজের সংস্কৃতিও হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। বর্তমানে কিছু ভাষা সাম্রাজ্যবাদী নিজেদের ভাষা সম্প্রচার করার জন্য ডিজিটাল বুদ্ধির মাধ্যমে অন্যের মাতৃভাষা ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে নেমেছে। সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। তাছাড়া, অন্য ভাষাভাষির লোকদের যেন নিজের মাতৃভাষা না হারায় তার জন্য আমাদের ভাষা তাদের উপর চাপানো থেকে বিরত থাকবো।
আমাদের এই সংখ্যায় যাদের বিশেষ কৃতিত্ব রয়েছে তারা হলেন, পান্থ দাস ( প্রধান আহ্বায়ক), সুমিতা বর্ধন (আহ্বায়ক), শিবশঙ্কর দেবনাথ (সহসম্পাদক) তাদের সংগ্রামী ভালোবাসা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
আমাদের এই সংখ্যাটি মাতৃভাষা রক্ষার জন্য আত্মত্যাগ করা বাঙালী যুবদের এবং প্রয়াত কবি মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে উৎসর্গ করা হল।
ধন্যবাদান্তে,
গৌরাঙ্গ সরকার
নবোন্মেষ পত্রিকা, ত্রিপুরা, ভারত
কবি মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণে
আপনি সদা থাকবেন আমাদের হৃদয়ের মাঝে কবি। নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার পক্ষ থেকে রইলো গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
ম্যাচ ফিক্সিং
কৃষ্ণকুসুম পাল ✒️
চল,দুই বন্ধু করি 'খাইদল' 'চাইদল',
তুই শাসক,আমি বিরোধী প্রবল।
গোপনে মেলাবো হাতে হাত,
বাকী সব দল করবো কুপোকাত।
দু'দলে করবো সংঘর্ষ,হবে শ'খুন,
শহীদ মহাভোজে মহানন্দ শকুন।
বোকারা চায় ভাতা,ঋণ, ভিক্ষা,
দু'জনে ভক্তদের দেবো ভিন্ন দীক্ষা।
#
তুই হেরে বিপদে,আমি মসনদে,
দু'জনই কোটিপতি অর্থ সম্পদে।
তুই না হয় আমি করবো রাজ,
মানুষ দলদাস, নাচাবো সমাজ।
দুই বন্ধুর নাটক বুঝবে না কেউ,
তলিয়ে যাবে অশান্ত সমুদ্রের ঢেউ।
বিপাকে দুই দলে করবো জোট,
ভক্তরা হতভম্ব,হাভাতেও হাতাবো নোট।
চির শান্তি
প্রবীর পাঁন্ডে ✒️
সারাদিন আনমনে বসে থাকি গৃহকোণে
কিছুই ভালো লাগে না আর,
কোনো কাজে মন নাই তন্দ্রা আছে নিন্দ্রা নাই
না জানি কি হয়েছে আমার।
কেহ নাহি কথা কয় সবে মুখ ফিরে রয়
কেহ যেন আপনার নয়,
অন্তরে অতৃপ্ত আশা হৃদয়ে দুখের বাসা
জীবন হয়েছে মরুময়।
ক্লান্ত হয়ে বসে বসে বিরহ সাগরে ভেসে
লাগে না ভালো স্বপ্ন কল্পনা,
ভূরি ভূরি রাশি রাশি সুখ দুঃখ কান্না হাসি
ছায়া মরীচিকা জাল বোনা।
সদাই চঞ্চল মন দিবানিশি সারাক্ষণ
কারে যেন খুঁজিয়া বেড়ায়,
হৃদয়ের মাঝখানে বাহু দুটি টেনে আনে
কোমল পরশ পেতে চাই।
গৃহ হতে বহুদূরে অসীম সাগর পারে
যেথা আছে উন্মুক্ত গগন
মুক্ত বাতায়ন দিয়ে প্রবাসী পথিক হয়ে
আকুল হয়ে ধায় দু নয়ন।
স্বজন বান্ধব ভূলে মনে হয় যাই চলে
পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের দেশে,
ওই যেথা মেঘের তলে আকাশ প্রদীপ জ্বেলে
স্বর্ণ প্রভা রহিয়াছে বসে।
যেথা নাহি অন্ধকার, বেড়া নাহি ক্ষুদ্রতার,
নাহি মানবের কোলাহল;
আছে শুধু পরিতৃপ্তি, যন্ত্রনার চিরমুক্তি
আছে শাশ্বত বিশ্রাম স্থল।।
শিক্ষকের মান
শিক্ষকের মান
শ্রী রিপন সিংহ ✒️
আমি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ..। আমি ১৯৩৯ সালের ২৫ জুলাই কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার আব্বার নাম আযীমউদ্দিন আহমেদ;আব্বা একজন কলেজ শিক্ষক। আমার আম্মা আমি যখন পাঁচ বছরে ছিলাম তখন আমায় ছেড়ে আল্লাহর কাছে চলে যান। আমি ছোটবেলায় খুব পেটুক ছিলাম,আব্বার মুখে জানতে পারলাম আমাকে একবার আম্মা কোন এক বিয়ের নিমন্ত্রণে নিয়ে যায়,সেখানে আমি নাকি তিন দল উঠে গেলেও আমার খাওয়া শেষ হয়না। ১৯৫৫ সালে আমি পাবনা জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করি এবং ১৯৫৭ সালে ব্যাগের হাট প্রফুল্লচন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চাধ্যমিক পাস করি। আমার এই প্রফুল্লচন্দ্র কলেজ ছিল অনন্য। তখন আমাদের অর্থনীতির ক্লাস নিতেন রমেশ চন্দ্র সেন,তিনি এমনভাবে ক্লাস করাতেন যে সমগ্র বিশ্বকে আমাদের সামনে তুলে ধরতেন! এর পর ওনি অশ্বারোহীর মতো জ্ঞানের বাণ ছুঁড়তেন। আমরা সবাই হা...করে স্যারকে তাকিয়ে থাকতাম। অন্য কোন ক্লাসের স্যার যদি না আসতেন,তবে আমি স্টাফ রুমে গিয়ে রমেশ স্যারকে ক্লাসে আসার জন্য অনুরোধ করি,স্যারতো নয় সাক্ষাৎ মনের মতন বন্ধু। আমি ঠিক করে নিলাম যে,আমি ভবিষ্যতে অর্থনীতি নিয়ে পড়বো। রমেশ স্যার অঙ্গ - ভঙ্গ করে এমনভাবে ক্লাস করাতেন যে আমি বাড়িতে একটু পড়লেই বুঝেনিতাম। আমার মতে অর্থনীতি হল পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা বিষয়। রমেশ স্যারের ডিগ্রি ছিল সাধারণ BA (Economic)। হঠাৎ আমাদের দেশে মুসলিম লীগের হাহাকারে আমাদের প্রিয় রমেশ স্যার কলকাতায় চলে যান। কয়েক দিন পর আমাদের নতুন অর্থনীতির ক্লাস নিতে এলেন ড.রমজান মিঞা(B.Com,M.Com,P.hd) ওনার ক্লাস করে আমার মনে হল যে পৃথিবীর সবচেয়ে বাজে বিষয় হল অর্থনীতি। আমি ভাবলাম আর অর্থনীতি নিয়ে আমি পড়বো না। মৃদুল স্যারের বাংলা সাহিত্য পড়ানোর ভঙ্গিমা দেখে আমি অতি উৎফুলিত, স্যারের সাহিত্য চর্চা দেখে আমাকে মুগ্ধ ও পাগল করে দিয়েছে। স্যারতো নয় সাক্ষাৎ ভগবান। স্যার যখন ক্লাসে সাহিত্যের কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে, স্যার নিজেই সেই বিষয়ের চরিত্র হয়ে যেতেন। মনে মনে স্থির করলাম সাহিত্যের সাথেই জীবন কাটাবো। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়া শেষ করি এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করি। ১৯৬১ সালে মুন্সীগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ থেকে শিক্ষকতার জীবন শুরু করি। কয়েক দিন পর আমি কিছুকালের জন্য সিলেট মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করি। এরপর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে দু - বছর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করি। কয়েক মাস পর আমি ঢাকা কলেজে বাংলা বিভাগে যুগদান করি। আমি সাহিত্য চর্চায় আমার জীবনকে বিলিয়ে দিলাম। তৎকালীন বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে আমি ষাটের দশকে বাংলায় সাহিত্য আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। কিশোর - কিশোরীদের নিয়ে আমি কণ্ঠস্বর পত্রিকা সম্পাদনা করি,এরপর ধীরে ধীরে ১৯৭৮ সালে পনেরো জন ছাত্রকে নিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করি। সভাপতি হলেও সবার সহযোগিতায় বাংলাদেশে একটি সর্বাঙ্গীন জীবন - পরিবেশ গড়ে তুলার চেষ্টা করি। এখন কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় পনেরো লক্ষ্য ছড়িয়ে।
কিছুদিন পর আমি আমার এক আত্ময়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়, সেখানে আমার কথাবার্তা শুনে ওখানকার লোকেরা আমায় জিজ্ঞেস করে,
"আপনার পেশা কী? মানে, আপনি কি কোন সরকারী চাকরী করেন?
"হুম্ , আমি আমার পেশাটা হল বেয়াদবী পেশা।
এখানের একজন অবাগ হয়ে জিজ্ঞেস করল,আরে কি বলেন আপনি! বেয়াদবী পেশা মানে?
"হেসে বললাম আমি কলেজ শিক্ষক,আর শিক্ষকতা মানেইতো বেয়াদবী।
আমরা,মানে শিক্ষকরা নিজের সমতুল্য পেশা ছাড়া - এমনকি অন্য কোন উচ্চপদস্থ ব্যাক্তিকেও স্যার বলি না, আমরা স্যার শুনি। তাই আমার মতে শিক্ষকতা হচ্ছে একটি বেয়াদবী পেশা। হেসে হেসে বলি, আমরা কোনোদিন কাউকে সালাম দেই না - আমরা সালাম গ্রহণ করি। আমাদের পেশা হল বিশ্বের সমস্ত পেশাকে তৈরি করা।
যত বড় অফিসার,ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রাষ্ট্রপতি - প্রধানমন্ত্রী সবই লিকলিকে শিশুর মতন আমাদের পায়ে এসে পড়ে।এটা আমাদের অভিমান নয়, এটা আমাদের প্রাপ্য - সম্মান।
"ওহ.. তাতো ঠিক!
তাইতো আপনার কথার ধরন সবার থেকে আলাদা!
তোমার পরিচয়? আমি আইএএস অফিসার আবুলের ছেলে। আমি হেঁসে উঠলাম, আপনি হাসলেন যে? আরে তোর আব্বা আমার ছাত্র। আবুলতো আমার হাতে অনেকবার মারও খেয়েছে। ওই দুষ্ট চাকরি পেয়েই তার আব্বা - আম্মার কাছে না গিয়ে আমার কাছেই প্রথম এসেছিল মিষ্টি নিয়ে।
আবুলের ছেলে হা.. করে তাকিয়ে রইল!
আমি একদিন সাহিত্য কেন্দ্রে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য সভাপতি আসন অলংকৃত করি। গিয়ে দেখি বাহ্ কি আয়োজন, আমি হেসে হেসে বলি,আমার সামনে থেকে এই মাইক্রো ফোনটা ছড়াও।
"কেন স্যার? আমাদের কি কোন ভুল হল!
"নাহ্ , তবে আমি পরে বলবো।
আমি মনে মনে ভাবি সভাপতি মানেই দুনিয়ার লোকের বক্ বক্ ভাষণ শুনে শেষে দু -এক কথা বলে অনুষ্ঠান শেষ করা। দু - ঘণ্টা পর সভাপতিকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করলো। আমি দাঁড়িয়ে মাইক্রো ফোনটা হাতে নিয়ে হেসে হেসে বললাম, তোমরা আমাকে প্রথম থেকেই অপমানিত ও বৈষম্যমূলক আচরণ করেছো। তোমরা আমার বসার টেবিলের সামনে ছোট্ট একটা মাইক্রো ফোন রেখেছো, আর এতে ধরেই নেওয়া যায় যে, সভাপতি এতই বৃদ্ধ হবে যে উঠে আর বলতে পারবে না! আর দ্বিতীয় বৈষম্যটা হল আমাকে দিলে এক - দুশো টাকার পাঞ্জাবি আর প্রধান অতিথি সামিন বেগমকে দিলে তিন হাজার টাকার দামের জামদানি শাড়ী। সবাই হাসতে হাসতে পেট ধরতে লাগলো।
" আমার শরীর খুব খারাপ,তাই আমি আজ খুব ঠেকে ঠেকে কথা বলবো।
"কারণ উত্তাপ নাই,বাড়িতে এত সুন্দরী থাকার পরেও উত্তাপ নাই।
আমি বললাম, বক্তৃতা বললেই হয়না, সবাইকে আকর্ষিত করতে হয়। মানসিকতা জাগ্রত করতে হয়।
"মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।"
এইভাবে দু - এক কথা বলে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করলাম।
অনুষ্ঠান শেষ করে গাড়ি নিয়ে বাসায় রউনা হই। শুনতে পেলাম কোন এক আসামি নেশা দ্রব্যসহ অনেক বেআইনি অস্ত্র মজুত করে অন্যদেশে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে। তাই সবার - সমস্ত গাড়ির চেকিং হচ্ছে। চারিদিকে ট্রাফিক পুলিশ আর সার্জেন্ট। আমি কোন রাস্তা দিয়ে যায়, কারণ আমার ইন্সুরেন্স বা বীমা এক সপ্তাহ আগেই শেষ। আমি বিকল্প এক রাস্তা দিয়ে চললাম, ভাবলাম এখানে কোন পুলিশ থাকবে না। আর আল্লাহর কি দয়া পুলিশতো আছেই সঙ্গে হেড ডি.এস.পি.ও দাঁড়িয়ে আছে; ডি এস পি অফিসার কোন ত্রুটি পেলেই ফাইন নিচ্ছে, লাঠি চার্জ করছে।
"আজ আমার মানসম্মান শেষ।"
আমরা শিক্ষক,আমাদের ত্বকতো পাতলা। ডি এস পি বিশাল দৈত্যের মতো দাঁড়িয়ে আছে, সে আমার দিকে আসতে লাগলো, আমি তখন গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে প্রকৃতির দৃশ্য দেখতে থাকি,মানে যাতে যেন ডি এস পি ' কে তত গুরুত্ব দিচ্ছি না, আমার কোনও অসুবিধা নাই, সব ঠিক আছে। কিন্তু ডি এস পি যেন নাছোড়বান্দা, সে মচ্ মচ্ করে আমার দিকে আসতে লাগলো, সে যতই আমার কাছে আসছে আমার প্রকৃতি দেখা বেড়ে যায় আর হৃদপিণ্ড ঢুক ঢুক করে লাফাচ্ছে। কিন্তু যখন তের পেলাম যে আমার পিঠের কাছে তার নিশ্বাসের শব্দ তখন আর প্রকৃতির দৃশ্য দেখা যায় না। তখন আমি ভয়ে হাত - পা কেপেকেপে আসতে করে তার দিকে তাকালাম। ওরে বাবা মুহূর্তের মধ্যে এক বিপ্লব ঘটে গেল, সেই বিশাল উচ্চপদস্থ ডি এস পি চিহিহি করে চেঁচিয়ে উঠল " আস - সালাম - আলাইকুম স্যার। আমার পায়ে পরে গেল,আমি অবাগ! স্যার কেমন আছেন? বাসায় সবাই ভালো তো,আমায় আশীর্বাদ করেন স্যার, আপনার জন্যই আমি আজ এই পদে আছি। তার হাত - পা কাঁপতে লাগল।
মানে তার দাঁত - পাত - হাত এতবড় অফিসার সব কোথায় ধুলিশা, যেন একটা কাদামাটি আমার পেয়ে পরে গেল। কারণ সে যেদিন ছাত্র ছিল তার সামনে আমরা ছিলাম অনেক বড়, ওই যে অল্প বয়সে মনের মধ্যে যে ছাঁপ পড়ে গেছে, সে ছাঁপ আর মুছা যায় না।
আমি মনে মনে ভাবলাম একজন শিক্ষক হলে চিরদিনের জন্য শিক্ষক, আর একবার ছাত্র হলে সে সারা জীবনের জন্য ছাত্র।
নবান্নের ঘ্রাণ
সোমা নস্কর ✒️
হিমের ছোঁয়া ধানের শীর্ষে
নবান্নের ঘ্রাণ আসে,
সোনার ফসল ফলিয়ে কৃষক
কষ্টের মাঝে হাসে।
ঘরে ঘরে ব্যস্ততা শুধু
নতুন ধান তোলা,
উৎসব লাগে আকাশে বাতাসে
ধানে পূর্ণ গোলা।
পিঠে পুলির নানান স্বাদে
খুশির গন্ধ আসে,
বাঙালির ভালোবাসা মিশে
একতার সুর ভাসে।
কল্পিত নারী
অগ্রদীপ দত্ত ✒️
হে প্রেয়সী হয়তো জন্মেছ এ দেশে,নারীর ভেশে
রুপালি সোনার অলংকার নিয়ে ভরা বাদলে_
মাঠে মাঠে নীল নদীর পাশে পা পড়ছে নরম নরম ঘাসে৷
কোন এক দূরতর সন্ধ্যাঘন আকাশে ভেসে আছো তুমি,
আঁধার রাতে সহস্র তারাদের মাঝেও তোমায় খুঁজি।
আমার আমিতে অনেক পথ চলে বেড়়াই ভাবনায় তোমার,
আজো তোমার নবীন রূপ চোখের স্বাদ মেটায়নি আমার৷
আমার অবসরের কলমের কালি রঙের তুলি কল্পনার ছবি,
ঘর গোছানোর মতো এক একটা চিত্র চিত্তে বুনি৷
কেমন তোমার রূপ জ্ঞান স্বভাব
রাধা রূপ সারদার বিদ্যে লক্ষ্মীর চাল চলন_
এমন কি তোমার নারী রূপী ভাব ধরন৷
একদিন স্রোতে ভেসে হয়তো মিলবো,
শত দ্বীপের মাঝে সুন্দর বনানীর পাশে,
সবুজ পরিবেশ তার সতেজ রং ছড়াবে,
বাতাসে ফুলের গন্ধে চারিপাশ মেতে উঠবে,
আকাশ বৃষ্টি ছাড়া রামধনুর রঙ্গে রঙ্গিন হবে,
সবই যেন কাল্পনিক আমার কল্পনার আকাশে৷
চৌদ্দ ফেব্রুয়ারী
শুভ্রা দেব ✒️
চৌদ্দ ফেব্রুয়ারী,
সভ্যতার বুক জুড়ে
চলছে প্রেমের উদযাপন,
একঝাঁক তরুণ তরুণীর
হৃদয়ে বইছে আনন্দোচ্ছ্বাস।
দূরন্ত কনভয় জ্বলছে
রোষের দাবানলে ;
পুলওয়ামার আকাশ ঘিরে
ঘন কালো ধোঁয়া ,
চুয়ান্নর রক্তে রাঙা
অবন্তীপুরার রাজপথ।
ভালোবাসার বাঁধন ছিড়ে
চিরনিদ্রায় বিলীন
ভারত মায়ের বীর সন্তান,
লাল ওড়নায় লুকানো হাসিমুখ
আজ মলিনতার চাদর পড়েছে গায়;
খসে পড়া তাজা গোলাপ
শুকিয়েছে চির অন্তিম শয্যায় ।
নবজাতক
পূনম দাস ✒️
এসেছি তোমার গর্ভে মাগো
নতুন জীবন চাইতে।
দশটি মাস কাটিয়েছি আমি
তোমার এই উদরে।।
রক্তমাখা যোনী ছেদে
ভূমিস্ট হলাম এই ধরনীতে।
"ওয়া' বলে কান্না করে
পূর্ব জনম গেলাম ভুলে।
বার্তা এসে গেছে
দীপক রঞ্জন কর ✒️
আজি বার্তা এসে গেছে
প্রজাপতি মেলেছে তার পাখনা,
হাওয়ার ভেলায় ভেসে
মন দুটি হারিয়ে যায় যাক্ না।
নয়নে নয়নে হবে কথা
মনের কথা মনে চাপা থাক্ না,
সব বাধা ছেড়ে আজি
হাতে হাত বাঁধার ইচ্ছেটা রাখ্ না।
মিলনের লগন বইছে
দূরে শোনা যায় সানাই বাজনা,
নতুন করে দেখব তোকে
বধু রূপে বিন্দিয়াতে সাজ্ না।
সাজিয়ে চাঁদ রূপ খানা
পান পাতায় মুখ খানি ঢাক্ না,
বিরহ ব্যথা সকল গাঁথা
মেহেন্দিতে লুকিয়ে রাখ্ না।
উচাটন বসন্ত সমীরণে
কোকিল সুর গেয়ে যায় যাক্ না
আজি বার্তা এসে গেছে
প্রজাপতি মেলেছে তার পাখনা।
একাকীত্ব
সুমন দাস ✒️
সুখ-দুখ এক করে,
জীবন কাটাবো নিজের মতো করে।
আপদ বিপদ থাকবে জীবনে,
প্রয়োজনে পাবো না এই জীবনে।
একাই আছি একাই থাকবো,
একাই জীবন গড়বো।
মুখে হাসি ধরে রাখি,
কথা কিছু চাপা রাখি।
বলতে পারি না সত্য কথা,
কাকে বলবো মনের কথা।
অর্থ আছে যুক্তি নেই,
স্বার্থের দুনিয়ায় জায়গা নেই।
আজ ভালো কাল খারাপ,
এই জীবনে মানসিক চাপ।
রঙ্গে রঙ্গে পৃথিবীর বুকে,
চলবে জীবনের জয় গান।
কে রাখবে কার খবর,
স্বার্থ উদ্ধার হলে সবাই পর।
স্বার্থ ছুয়ে তুমি আছো,
বিনা স্বার্থে কিভাবে আছো ।
ভাষার বয়স ৭২
পান্থ দাস ✒️
বাংলা ভাষার একটি রাষ্ট্র গঠন করার জন্য বাংলাদেশে যে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম চলেছিলো, বাঙালিরা তার সূচনা করেছিলো ১৯৪৮ সাল থেকে, কিন্তু এই সংগ্রাম প্রচন্ড তেজী হয়ে উঠেছিল ১৯৫২ সালে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে । যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালিরা রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়ে আত্মবলিদান করেছিলেন । সেই আত্মবলিদানের এবছর ৭২ তম বর্ষ ।
বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে ২১শে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশ নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করেন। অনেক তরুণ প্রাণ শহীদ হন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকত সহ আরো অনেক। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বিশ্ব বাসির কাছে একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।
সেই ঐতিহাসিক বিখ্যাত ঢাকার শহীদ মিনার চাক্ষুষ করতে বেড়িয়ে গেলাম। এলার্মের আগেই চোখটা খুলে গেল। চটপট তৈরি হয়ে ঐতিহাসিক কিছু স্মৃতি মনে গাঁথবো বলে ভোর সকালেই বেরিয়ে গেলাম হোটেল থেকে।
বাংলাদেশের বিখ্যাত শহীদ মিনার চত্বরটা ঘুরে আসার ইচ্ছা অনেকদিন ধরেই ছিলো।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ। এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বহিঃপ্রাঙ্গণে অবস্থিত। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে এখানে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে। এটি ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)