সম্পাদকীয়

 
    সম্পাদকীয়..........................................✍️
নবোন্মেষ- শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির পক্ষ থেকে গল্পকার, কবি এবং সাহিত্যিকদের জানাই নাতিশীতোষ্ণ ভালোবাসা। আমাদের এই সংখ্যা শীতের উষ্ণ প্রেমের কবিতা, গল্প এবং বিচ্ছেদের রস, তাছাড়া বিভিন্ন মূল্যবান প্রবন্ধ এবং গবেষণা নিয়ে সজ্জিত হয়েছে। আশা করি পাঠকদের মন মুগ্ধ করতে পারবে। 
ধন্যবাদান্তে,
গৌরাঙ্গ সরকার
সম্পাদক, নবোন্মেষ পত্রিকা

দুর্ভেদ‍্য সত‍্য

✍️ শুভ্রা দেব

মেঘ ও বৃষ্টির লড়াইয়ের মধ্যে দিয়েই শরৎ আর হেমন্ত কিভাবে কেটে গেল। নদীর ধারে কাঁশফুল গুলি ও প্রাণ হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে গেছে। এবার শীতের আমেজ নেওয়ার পালা। মেঘ বৃষ্টির অভিমান যেন মিটল এবার । কিসের যে এতো মান - অভিমান ছিল ওদের। আগরতলার পরেই ধর্মনগর; দীপাবলির সময় নানা রঙের ঝাড়বাতি আর  আলোর রোশনাই এ আলোকিত হয় গোটা শহর আর মেতে উঠেছিল শ‍্যামা মায়ের আরাধনায়। ভোরবেলা থেকেই অঝোর বৃষ্টিতে, স‍্যাঁতস‍্যাঁতে রাস্তাঘাটে  দীপাবলির আমেজটাই হয়েছিল পুরো মাটি। ধর্মনগর মিশন রোডের কোয়ার্টারে থাকে মাহি আর নিখিল। নিখিল পি. ডব্লিউ.ডি অফিসে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার। ঘড়িতে সকাল সাতটা, রবিবার হওয়ার দরুণ অফিস বন্ধ। হালকা শীতের ছোঁয়া লাগতেই ঘুম যেন ভাঙতেই চাইছেনা ; কাজের তাড়নায় তবুও বিছানা ছাড়তে হবে। সবাইকে ঘুমে রেখেই, মাহি যথারীতি দিনের কাজ শুরু করে দিল। মনটা বড্ড কেমন করছে, কারণটা নিজেরই অজানা। কাজের ফাঁকেই মন যেন কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে; বারবার অন‍্যমনষ্ক হয়ে পড়ছে। সকালের কাজ প্রায় শেষ। মনোরঞ্জনের জন্য একটু মুঠোফোনে ফেসবুক ঘাটছে। বেশ কিছুদিন আগে হঠাৎ একটি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসল। প্রোফাইল ঘুরতে গিয়ে দেখা গেল তালা ঝুলানো। সচরাচর মাহি সব রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করেনা। হঠাৎ কি মনে হলো রিকোয়েস্ট টা এক্সেপ্ট করে নিল।
                       তারপর ফোন রেখে আবার শুরু হলো নিত‍্যদিনের রুটিন। মাহি একটা প্রাইভেট অফিসে কাজ করে। করোনাকালীন সময় থেকে ঘরে বসে অনলাইনেই কাজ। কাজের ফাঁকে মেসেঞ্জারে এক আধটু কথা হয় বন্ধুদের সাথে ব‍্যস এভাবেই চলে। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই দিন কেটে যায়। হঠাৎ নজর পড়ে নতুন ঐ প্রোফাইলের মেসেজ। গুডমর্নিং এর একগাদা ফটো উয়িশ আসতো রোজদিনই। মন ধরলে লাইক ইমোজি দিতো নয়তো না। 
                        আবৃত্তি করতে মাহি বরাবরই খুব ভালোবাসে; কবিতা অন্ত প্রাণ। একদিন দেখলো অচেনা ঐ একাউন্ট থেকে একটি কবিতার পোষ্ট, কবিতাটা পড়ে বেশ লাগল। তারপর উৎসাহ  নিয়ে পুরোটা প্রোফাইল ঘুরে দেখতে লাগল-- অনেক স্বরচিত কবিতার ফোয়ারা। কবিতা গুলি বেশ বাস্তবমুখী। প্রতিটি লাইনের শব্দের সঙ্গে  নিজেকে কেমন মিশিয়ে নিতে লাগল। আর যার কলম থেকে শব্দের ফুলঝুড়ি ঝড়ছিল, তার প্রতি মনটা ভীষণ দুর্বল হতে থাকল; কথা বলার একটি তীব্র বাসনা জাগতে লাগল। একদিন সাহস করে মেসেজ পাঠিয়েই দিল " আপনার কবিতা গুলো বেশ ভালো লাগে পড়তে। " এইভাবে কিছুদিন কথা হয়, তারপর আবার হঠাৎ থেমে যায়। অফিস আর ঘর সংসার সামলিয়ে কবিতা পড়ার নেশাটা বেড়ে গেল।
                        
                            দীর্ঘদিন পর আবার মাহি ঐ অচেনা একাউন্টে মেসেজ পাঠায়। সেই থেকেই বইতে শুরু করল কথার ঢেউ। যখনই সময় হতো কথা চলতো। এভাবে কেটে যায় মাস চারেক। ওরা যেন একে অন‍্যের পরিপূরক হয়ে উঠল; যাইহোক না কেন শেয়ার না করলে কেমন অধরা থেকে যায়। ছন্দস্রোতে ভেসে ঘনিষ্ঠতা প্রবল থেকে প্রবলতর। অবিবাহিত প্রবীণ মনে কেবল ঘোর অশনি সংকেত; বিবেকের দংশনে বিদ্ধ কোমলমতি হৃদয়। এই পথে আর নয়, ধ্বংসযজ্ঞের অবসানে-- হতে হবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কিন্তু প্রতিবারই প্রচেষ্টায় ব‍্যর্থতার করাল থাবা। অজানা অনুভূতির টানেই বারবার ফিরে আসা। ছোটবেলা থেকেই মাহি যেই ছবি এঁকে কাগজের পর কাগজ ছিঁড়ে গেছে, সেই মানুষটাকে আজ যেন নতুন করে আবিষ্কার করছে ঐ অজানা মানুষকে ঘিরে   ; অন‍্যদিকে তাকেও বিচ্ছেদ গ্রাস করতে চলছে ভেবে-- সে যেন  কেমন উন্মাদপ্রায়। তবুও সৃষ্টির পথে ধ্বংসলীলা সাঙ্গ করতে এই বিচ্ছেদ চিরমঙ্গলময়। মাহি পাগলের মতো হয়ে উঠছে, বাঁচামরা যেন সমান। প্রাণ থেকেও নিষ্প্রাণ দেহ। কেন এমন হচ্ছে, কিসের জন্য এতো মরিয়া? আবেগ - ভালোবাসা;  কি এই সম্পর্কের নাম? যাকে কোনোদিন সামনে দেখেনি, স্পর্শের উর্দ্ধে যার অবস্থান ; যার বাস্তব উপলব্ধি নিশুত রাতে দেখা স্বপ্নসম ; তারজন‍্য কেন এই ব‍্যকুলতা! উত্তর মেলা ভার।  ঈশ্বরের কি লীলা! -- মাহি ওরা ক'দিনের জন্য বেড়াতে গেল দীঘা সমুদ্র সৈকত দেখার উদ্দেশ্যে। ঘোরাঘুরি করতে করতে হঠাৎ শরীরে অদ্ভুত শিহরণ ; কি দেখল নিজের চোখকেই বিশ্বাস হচ্ছেনা। মুখোমুখি এক দুর্ভেদ‍্য সত‍্যের। সেই চোখ, মুখ, দীর্ঘদিনের তপস‍্যা-- যাকে একবার সামনে থেকে দেখার, তার বাস্তবায়নকে মানতেই পারছেনা মাহি, বারবার চিমটি কাটছে নিজেকে, সত‍্যতা যাচাই করার জন্য। 
                         হঠাৎ বিকট আওয়াজ শোনে-- উঠে বসতেই চোখে- মুখে জল ছিটকে পড়ল। নিখিল, মাহির উঠতে দেরী দেখে মজার ছলে জল ছিটাতে লাগল। কনকনে ঠান্ডা বাতাসে জলে ভেজা মুখ নিয়ে আরও কাঁপতে কাঁপতে নিখিলকে জড়িয়ে ধরল আর ডুবে গেল ভালোবাসার অনাবিল স্রোতে।

পৃথিবীর জ্বর এসেছে

   ✍️ সাগর শর্মা

পৃথিবীর জ্বর এসেছে
থার্মোমিটারের শেষ পাঠও আজ অতিক্রান্ত
দিন দিন দেহকে করছে দূষিত-
বাড়ছে রোগের কারখানা
ধীরে ধীরে সে দেহের চামড়া প্লাবিত করবে।

এদিকে ভেতরে প্রতিনিয়তই সে ধ্বংস করে চলেছে-
শ্বেত রক্ত কণিকা তার দ্বারা অবলুপ্ত;
      ঠাঁই পেয়েছে ক্যানসার,
      মারণ ভাইরাস,
    আর কিছু জীবনক্ষয়ী অসুখ।
           এই জ্বর আদতে কোনো অসুখ নয়-
         এটি সব রোগের একটি সম্মিলিত উপসর্গ মাত্র।

শীত

✍️ রেহানা বেগম হেনা

শীত তুমি এসেছো, আবারও আমাদের ছোট গাঁয়ে,
হেমন্তের শিশির ভেজা, কোমল ঘাসের সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে।
তোমার আগমনে -
হিমেল সিংহাসনে হয়েছে আসনখানি পাতা,
তোমার রাজ্যাভিষেকের সাথেই হবে গরিবের হৃদয়ে ব্যথা।
তোমার আগমনে -
বনে বনে, ডালে ডালে শুরু হয় পাতা ঝরা,
ফুলে ও ফসলে তবু সেজে ওঠে আমাদের বসুন্ধরা।
তোমার আগমনে - 
রেশমী পোশাকে ধনীদের দেহ হয় মোড়া,
অভিশপ্ত জীবন কাটায় অসহায় দরিদ্ররা।
তোমার আগমনে -
বিদায় হয়ে যায় -
শিউলির ঘ্রাণ, কাশের মেলা, তা ছিল পথের বাঁকে বাঁকে,
প্রকৃতি আবারও নতুন করে ধরা পালকে রঙিন আলপনা আঁকে।
তোমার আগমনে -
ধনীদের মুখে ফোটে হাসি,
পিঠে পুলি, খেজুরের রস --- খাবে বসে দিনরাত দেশবাসী।
গরিব তবু অসহায়! হিমেল হাওয়ায় কাঁপে থরথর,
রাত্রি যাপনে একটুকু উষ্ণতা পাওয়ার নেই উষ্ণ ঘর।
শীত -
তুমি এসো না কখনও গৃহহীন গরিবের দ্বারে,
তোমার দাপটে ওরা পথেঘাটে, ফুটপাতে পড়ে মরে।
ছিন্ন বস্ত্র, বস্তা, পলিথিন জড়িয়ে থাকে ভিখারির বেশে,
তোমার হাতের কোমল পরশে কত যে চলে গেছে চিরঘুমের দেশে।
তাই তো আমি তোমার কাছে মিনতি করি হায়,
ভুল করেও তুমি এসো নাকো আমাদের ছোট গাঁয়ে।

বাপের হুটেল


✍️ অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

কী ভাইবছত যে তুই, এন্নে আর কয় দিন যাইব। 
মনে করছত কিতা, 
বাপের হুটেল ইয়ান হারাজীবন খোলা থাইব কন। 
বাপ ইয়া একদিনের লাই কাইত্তই যাক তই টের হাইবি তুই 
তোর এত আনন্দ, আনন্দ ন 
সব নিজের কোয়ালের লাই থুইতাছত। 
কবি সুচরিতা পাডারী বাপেরে 'ভাত গাছ' কইছে 'ভাত গাছ '। 
সাহিত্যিক অপক্ক হেরেমচাঁদ ঠাউর "বাবা তো বাবা-ই " কইছে। 
দিগন্ত সাহিত্য হত্রিকার হতিষ্ঠাতা টিংকু হুত্রধর ও সভাপতি হান্থ দাস দুনো জনে বাপেরে 'বটগাছ' কইছে 'বটগাছ ' 
আর তুই অইছত এমন এক কুলাঙ্গার হোলা 
যেতে বাপেরে চাইর হইসা দাম দেছ না। 
বুজবি রে বুজবি,  থাইকতে বুজদি ন 
সব হারাই তই বুজবি বাপ কি জিনিস। 
তুই কিতা ভাইবছত, 
হরালেহা ছাড়ি দি দিনে রাজমেস্থরীর জোয়ালীর কাম করবি 
আর হইন্দা ন অইতে লাল গোলাবী দুই চোকেত্তে চাইর চোখ লাগাই বাইক লই বাইর অই যাবি 
এত সুখ, সুখ ন মেঘে মেঘে বেলা কাডি যার
হগলের বাপ হারা জীবন বাঁচি ন থায়
এন্নে দিন যাইত ন রে মনা 
বাপ জমিনেত্তে কাম করি মাথার ঘাম হাথ হালাই সংসার চালার 
আর হেতের বেলা হইরত্তে হুডানি দেহানি শুরু অই যায়। 
হগল বাপের লঙ্গর-খানা আজীবন খোলা থাইকত ন
একদিনে ন একদিন তোরে এই লঙ্গর-খানার ভাড় নন লাইব
এই কথা মনে রাইছ। 

শরতের শোভা

✍️ প্রতীক হালদার 

কাশফুলেরা মাঠের পাশে 
দুলছে হাওয়ার তালে,
লাগছে তাদের ভীষণ ভালো 
এমন শরৎকালে।

ঘাসের উপর ভোরবেলাতে 
শিউলি পড়ে ঝরে,
সাদা রঙের মেঘের ভেলা 
ঘুরছে আকাশ জুড়ে।

পদ্ম ফোটে পুকুর বিলে 
ছড়ায় শোভা জলে,
রাজহাঁসেরা ঘুরে বেড়ায় 
সবাই সদলবলে।

ঢাকের উপর পড়ল কাঠি 
শিশিরে ভিজে ঘাস,
পুজো এল দিচ্ছে উঁকি 
মনের যত আশ্।

শরতের এই এমন শোভায়
দুর্গা এসে গেল,
দিনরাত্তির দারুণ মজায় 
সবাই গা ভাসালো।

রাসলীলা মাহাত্ম্য


✍️  মায়া রানী মজুমদার

রাসলীলার মাহাত্ম্য
                         শুন দিয়া চিত্ত, 
রাস মানেই রস
                      লীলা মানে নৃত্য। 
এক অঙ্গের'ই দুই রূপ
                    শ্রীকৃষ্ণ আর রাধা,
ভিন্ন দেহে জন্ম নিয়েও
                     ছিল মিলনে বাধা।
গোপীগণ সনে রাধা 
                      জল ক্রীড়া করে,
যত গোপীগণের পরিধেয় 
                     বস্ত্র রাখে উপরে।
শ্রীকৃষ্ণ চুপিসারে বস্ত্র 
                  রাখে বৃক্ষের উপরে,
সবাকার বস্ত্র নাহি হেরে
          গোপীরা উঠে স্নান সেরে।
গোপীদের সাথে লীলা 
                  করে শ্রীকৃষ্ণ কানাই, 
কার্তিকের পূর্ণিমা তিথি
                ছিল শুভ ঐ দিনটাই।
রস রঙ্গে মেতেছিলেন
                 জগতের প্রভু শ্রীনাথ,
প্রতিজন গোপী সনে
            নৃত্যে মত্ত জগতের নাথ।
প্রতি বৎসর কার্তিকের 
                  শুভ পূর্ণিমা তিথিতে,
রাসলীলা হয় উদযাপিত 
                    এই শুভ তিথি মতে। 
রঙ্গরসে আছে কন্টক 
                      আছে কতো বাধা, 
বৃন্দাবনে করে লীলা
                     শ্রীকৃষ্ণ আর রাধা।
রঙ্গ লীলায় হয়ে মত্ত
                      আনন্দে হন মগন, 
নরনারীর লীলাক্ষেত্রও
                         সুমধুর বৃন্দাবন, 
প্রেম লীলায় কৃষ্ণ আর
                        রাধা বিনোদিনী।
অষ্ট সখী রেখে রাধা
                           হন উন্মাদিনী, 
বৃন্দাবনে রাধা কৃষ্ণের
                      দেখে প্রেম লীলা, 
দেখাদেখি নরনারী মর্ত্যে 
                     করে প্রেম খেলা। 
সর্ব কর্মেই আছে বাধা
                রেখো চোখে জড়তা, 
যথাসাধ্য করো চেষ্টা 
                       রাখতে সম্ভ্রমতা।

বর্ণ মালার বর্ণ


✍️ মাধুরী লোধ 

বর্ণ মালার চাদর জরিয়ে দিলাম
তোমার শীতল গায়
ভালবাসার উম ছুঁয়ে দিলাম
পরম প্রতীক্ষায় ।
ফসলের মাঠে তোমার হাওয়া
খেলার মাঠে জিত
নৌকার বৈঠায় তোমার বাঁধন
অট্টালিকায় ভিত।
বটের ছায়ায় পাখীর পাখায়
শাপলা শালুক জলে
মন্দির মসজিদ শঙ্খ ঘন্টায়
পথে পদে মাতৃভাষা বলে ।
নদী সাগরে জোয়ার আসে
আসে ভাটার ক্ষন
আকাশে বাজে মেঘমল্লার
নাচে ময়ূর ময়ূরী র মন।
পাখার হাওয়ায় বর্ণমালা
শিশুর হাসির ছাপ
ওঝার ছু মন্তরে ও বর্ণমালা
পালায় ভূত পেত্নীর বাপ ।
ষড় ঋতু  যায় আসে
 আসে একুশে ফেব্রুয়ারি দিন
ভাষা দিবসে শপথ নিলাম 
শুধতে চাই ভাষা শহীদদের ঋন ।

অনেক তো হাঁটলাম


✍️ গোবিন্দ ধর 

পথ কোথায়?কে যেন কংক্রীট বিছিয়ে রাখে।
এতেও সুখ ওদের।এতেও আনন্দ ওদের।
বেপথে চালিত করে আনন্দ বাজার অব্দি যাওয়া
কঠিন বাস্তব। পথে আরো চলমান যান 
চলাচল গলে ঠিক লক্ষ্যে পৌঁছা পর্যন্ত 
আপনাকে কঠিন একাকীত্বের ভেতর হাঁটতে হয়।
তখনই সামনে একটি সরু পথ মিলে গেলে
নিশ্চিত আপনি ঠিকঠাক রাস্তা পাবেন।
পথের বিকল্প শুধুই পথ।সামনে যেতে যেতে
ঠিক একদিন রাস্তা মিলবেই। 

ব্যর্থ মানুষ


  ✍️ কৃষ্ণকুসুম পাল

অনেক ব্যর্থ মানুষ দেখেছি
যারা কোনদিন এভারেষ্টের চূড়ায় উঠতে পারেনি,
অনেক ব্যর্থ মানুষ দেখেছি
যারা প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ দেখেনি,
অনেক ব্যর্থ মানুষ দেখেছি
যারা ছায়াপথের নক্ষত্র গুনতে জানেনা,
অনেক ব্যর্থ মানুষ দেখেছি
যারা অক্লান্ত সেবা করেও বিনিময়ে কিছু চায় না,
অনেক ব্যর্থ মানুষ দেখেছি
যাদের অসীম শ্রম করেও অনাহারে থাকতে হয়,
অনেক ব্যর্থ মানুষ দেখেছি
যারা ধনকোবের হয়েও ওদের মনে কোন প্রেম নেই
অনেক ব্যর্থ মানুষ দেখেছি
যারা সন্ন্যাসী হয়েও কামনা বাসনায় পরিপূর্ণ,
এরা সেদিন সকলে সফল হবে
যেদিন সব শয়তানদের মঙ্গলগ্রহে পাঠাবো,
ওরা সেখানে শেয়ানে শেয়ানে কোলাকুলি করবে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম সেরা ম্যাচ


✍️ রাজা দেবরায়


এবছর অর্থাৎ ২০২২ ইং অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবলের সেরা মঞ্চ 'ফিফা বিশ্বকাপ'। ফিফা অর্থাৎ ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল এসোসিয়েশন। এই বছরের বিশ্বকাপ সহ এখন পর্যন্ত ২২টি বিশ্বকাপ হয়েছে। ১৯৩০ সাল থেকেই বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে। তবে শুরুতে 'ফিফা বিশ্বকাপ' ছিলোনা, 'জুলে রিমে কাপ' ছিলো। ১৯৭০ সালে ল্যাটিন আমেরিকা ঘরানার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতে অর্থাৎ জুলে রিমে কাপ জিতে চিরকালের জন্য ঘরে তুলে নিয়েছে। কারণ এটাই কথা ছিলো, প্রথম যে দেশ তিনবার বিশ্বকাপ জিতবে সেই দেশ চিরকালের জন্য 'জুলে রিমে কাপ' বগলদাবা করবে। 'জুলে রিমে কাপ'-এর পরেই 'ফিফা বিশ্বকাপ' শুরু হয়।

এবছর ২০শে নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে 'ফিফা বিশ্বকাপ', শেষ হবে ১৮ই ডিসেম্বর। বত্রিশটি দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা হচ্ছে। গোটা বিশ্ব মুখিয়ে আছে দেখতে কার হাতে বিশ্বকাপ উঠবে। ১৯৩০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বহু বহু ম্যাচ হয়েছে। টানটান উত্তেজনা অনুভূত হয়েছে বহু ম্যাচ। তার মধ্যে মনে রাখার মতো ম্যাচও কম নয়। তবে চিরকাল মনে রাখার মতো ম্যাচের কথা বললে অবশ্যই ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হওয়া আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যাণ্ডের ম্যাচের কথা স্মরণ করতেই হবে।

মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হওয়া ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপকে বরাবরই 'মারাদোনার বিশ্বকাপ' বলা হয়। যদিও এই কথাটি নিয়ে একটু বিতর্ক আছে বা বিতর্ক করা যায়। কারণ একটা বিশ্বকাপ শুধুমাত্র একজনের নামে উল্লেখিত হলে সেসময়ের বাকি খেলোয়াড়দের অবজ্ঞা করা হয়। আবার এটাও ঠিক যে এই বিশ্বকাপে বাঘা বাঘা খেলোয়াড় থাকলেও অধিক চর্চায় ছিলেন দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যাণ্ডের ম্যাচটি 'মারাদোনার বিশ্বকাপ' এই তকমাটিকে আরও বেশি উজ্জ্বল করেছে। 'হ্যাণ্ড অব গড' এবং 'গোল অব দ্যা সেঞ্চুরি' এই ম্যাচেই দেখতে পেয়েছেন আপামর ফুটবলপ্রেমীরা।

প্রথম হাফটাইম দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলশূন্য অবস্থায় থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় মারাদোনা ম্যাজিক। ৫১ মিনিটে হওয়া প্রথম গোলটিই ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত গোল, 'হ্যাণ্ড অব গড'! তিউনিশিয়ার রেফারির চোখকে ফাঁকি দিয়ে এবং ইংল্যাণ্ডের গোলকিপার পিটার শিলটনের মাথা টপকে হেড (হাত!) দিয়ে গোল করলেন 'ফুটবলশিল্পী' মারাদোনা। ১-০ গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলো। এরপর চার মিনিট পরেই বিশ্ববাসী দেখতে পেলো শতাব্দীর অন্যতম সেরা গোল!

মাঝমাঠ তখন আর্জেন্টিনার দখলে। নিজেদের মধ্যে ছোটো ছোটো পাস দেওয়া চলছে তখন। মারাদোনার মুখ নিজের গোলপোস্টের দিকে। হঠাৎ পাস চলে আসে তাঁর দিকে। তাঁকে ঘিরে রেখেছেন ইংল্যাণ্ডের স্টিভ হজ, পিটার ব্লেটস্লে এবং পিটার রিড। প্রথমে মারাদোনা বাঁ পা বলের উপরে নিয়ে গেলেন এবং এই মুভমেন্টেই এক লহমায় ঘুরে গেলেন ইংল্যাণ্ডের গোলপোস্টের দিকে। পিটার রিড, বুচার এবং উইক তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করলেও মারাদোনা দুর্বার গতিতে ছুটেই চলেছেন। গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এলেন শিলটন। শিলটনকে একপাশে ফেলে এবং ট্যাকল করার জন্য বুচারের শেষ চেষ্টাকে বিফল করে গোল করলেন মারাদোনা। 'গোল অব দ্যা সেঞ্চুরি'!

শীত


    ✍️ পান্থ দাস

শীতের দোলা
লাগলো প্রাণে
শিশিরে মাখা
ঘাস যে খেলে।

গাঁদার ডগায়
নাচে যে জলবিন্দু,
রোদের ঝলমলে
যাই যে চলে সপ্তসিন্ধু।

রোদের জন্য 
থাকি যে অপেক্ষায়,
স্বাদতো মেটেনা
পিঠে পুলি তে,

স্নানের ঘরে
মন যে যায়না,
ঠান্ডায় ভোরে
বলে বিছানা এখন উঠোনা।

প্রতিদান

 ✍️ অনুরাগ ভৌমিক

চোখে জল এনে দিলে,

এই জল ধীরে ধীরে দীর্ঘতর হয়;নদীর মতো।

পাখি গান শুনতে বলে, নৌকা ও গান শোনায়।

দীর্ঘ শরীর চেনা গাঁয়ের পাশ দিয়ে ছুটে চলে।

একসময় দাঁড়ায়,যেখানে বিরাট বিল,পারে তেঁতুল বৃক্ষ,

একটা ডাহুক দুপুর দুপুর বলে ডাকে,

নিবিড় পানাফুল তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে।

এই ফুল চুলে গুঁজে ছুটেছিল শকুন্তলা 
হরিণের পেছন পেছন...

তোমার দেওয়া সমস্ত জল দিয়ে সময় সাজাই,

বয়ে চলাই জীবন,তাই বয়ে চলি,
বুঝতে পারি গাছেদের ও জ্বর হয়,

এসো হাওয়া হয়ে,পথে পথে প্রেমের বকুল ছিটিয়ে যাবে...

হোঁটচ

 
✍️ চন্দন পাল

রাস্তায় এক চতুর্দশীকে বললাম,,,
এই খুকি কাজ ফেল্ , স্কুলে যা। পড় ।
লেখাপড়া ছাড়া দেশটাকি এমনিই গড়বে!

বললো, সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করতে পারবে !?
স্কুলে গেলে, আমি না হয় 'মিড ডে মিল'টা পাবো--
কিন্তু বাড়িতে আমার কুট্টুটা, সয্যাশায়ী মা' টা,,,  কী খাবে ? আর অষুধ,,,,!
বাপ তো সেই কবেই পালিয়েছে। কারওবা মরেছে।
থাকলেও বা সবার যোগাড় করতে পারে কই।!
দুর্বল, অদক্ষ বলে, অর্ধেক দিয়ে তাড়িয়ে দাও।
দাও না!!

উফ্!  যেন চাবুক! 

ত্বরায় পালানোর পথ খুঁজি,
চলতে চলতে হোঁচট খাই! 

দেখি, তারাতো নির্বল, অসহায় ছিলনা কেহই!!
একবার দেশভাগ, একবার ভাষাভাগ, একবার দলভাগ করে করে গ্রামছাড়া করলে হাতে আর কত থাকে !?
ঝর জল দাঙা ভূকম্পের মার তো আছেই।
দুচারজন না-হয়  বাছাইকর্তার পকেটে গুঁজে দিয়ে রেশনটা, চাকরীটা বাগিয়ে নিলো! বাকিরা ---
বাকি আরও সোয়াকোটি খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানহীন ।
সংস্কারহীন, শপথহীন, ঘরছাড়ারা ঘুরে ঘুরে বড় হয় নগরে বন্দরে, নৈশালয়ে।
তারপর বছর বছর জন্মদেয় আরও আরও ঝুপড়ি শিশু।
তারাও বড় হয় আবার খাবার খোঁজে, কাজ খোঁজে। 
কেউবা তাদের নিয়ে ব্যবসা ফাঁদে। 
ওফ্! আমার হোঁচট আর শেষ হয় না।

বড় এক লাগে, 
বড় একা লাগে কর্মে ধর্মে প্রতিনিধিত্বে।
যদি সবাই একযোগে পূষন হতে পারতাম,
তাহলে বলতে পারতাম---
শিশু শ্রম নিষিদ্ধ! 

প্রত‍্যেকটা হৃদয় অবহেলায় বাঁচে


✍️ সংগীত শীল

এত বছর পর নীলার সাথে দেখা
আগে কত হেঁটেছি একসাথে,
আনাচে-কানাচে শুধু স্মৃতি আগলে বেড়ে উঠেছে ছায়াশূন‍্য নগরীর বুকে মায়া।

এই শহর বড্ড যন্ত্রণার
তবু কেন এত স্নিগ্ধতা খুঁজে পাই? জানি না।

মনে আছে নীলা,
তোমাকে এক পলক দেখার জন্য
রাত দুপুর দাঁড়িয়ে থাকতাম
যেমন করে শিশু মা'কে চোখেহারায় 
কতকাল দেখিনা এমন তোমায়
সেই চোখে তাকাও না যে
কত বসন্ত পেরিয়ে গেছে।

বাড়ি যাওয়ার জন্য যখন রিক্সা চেপে বসতে,
বুকের ভেতর পাঁজরগুলি প্রতিধ্বনিত হত।

সময় শুধুই সংখ্যা মাত্র
এত কান্না, রক্তপাত
তবুও তোমার জন্য ক্লান্তি আসে না।

এত স্নেহ করেছো কিন্তু,
কই তোমার দুচোখে তো প্রেম দেখিনি আমার জন্য!
যেই আকস্মিক চাওয়াতে
দমকা হাওয়াও আটকে যাবে।
সেইরকম প্রেম!

তোমার দেয়াল সীমারেখা পর্যন্ত পৌঁছোতে পারিনি,
চেষ্টা করার দুঃসাহসও করিনি কোনোদিন।

এই যে এত দীর্ঘশ্বাস 
মিহিন চাপা সংলাপ
রাতের ভাঙা আকাশের আঁচে
নীরবে গোপনে থাকে,
তাকে কি ভুলা যায়?

থেকে যায় স্মৃতি। 
বৃষ্টিভেজা দিনের মতো হৃদয়ে 
শুধু থেকে যায়!

সেই সীমানা

✍️ সুস্মিতা দেবনাথ

      তখন ভোর ৪টা বেজে  ৩০ মিনিট সেই সীমানায় পা পেলা, সেই জায়গা, যেখানে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিনগুলো কাটিয়া আসা। আজ অনেকদিন পরে সেই আগের স্কুলে যাওয়া। কতই না স্মৃতি জড়িয়ে আছে ওখানে। পা ফেলতেই মনে হল খুব আপন একটা জায়গা। এক নিমিষে ডুবে গেলাম সেই ছোট্টবেলাতে সেই হাসি খুশির দিনগুলিতে। গিয়েছিলাম জীবনের একটা ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য দৌড়ানোর উদ্দেশ্যে।  অবশেষে উদ্দেশ্য পূরণ, আর সূর্যের আলোয় আলোকিত হলো চারপাশটা। একটু পরেই স্কুল স্টুডেন্টদের আসা শুরু হবে। মনটা আজ ভিষণ হালকা। দুঃখ কষ্ট যেন এক নিমিষেই হারিয়ে গেল কোথাও। দৌড়ানোর পরেই জুতোগুলো খুলে বসে ছিলাম সেই স্কুলের বারান্দায়। যাই হোক জুতোগুলো হাতে নিয়েই যাচ্ছি বাড়ির দিকে। ভাবনা গুলো যেন ফুরাচ্ছে না, হাঁটছিলাম ঠিক আপন মনে, সেই মাঠের ঘাসে তারপর বাড়িতে যাওয়ার পথে আবারো মনে পড়ে গেল সেই রাস্তা সেই বাঁশের জার সেই  ছোট পুকুর, সেই ধান খেতের পাশে নালা,  যেখানে  প্রতিনিয়ত মাছেরা করতো খেলা। স্কুল থেকে বাড়ি যেতে প্রায়ই দেরী হয়ে যেত, তার কারণ ছিল দাঁড়িয়ে থেকে মাছেদের খেলা দেখা, রাস্তার পাশে থাকা ফুল গাছ থেকে ফুল ছেড়া, তখন পার্টিকুলার কোন বন্ধু ছিল না। যে মুহূর্তে ঠিক যার সঙ্গে থাকতাম সেই ছিল বন্ধু আর সেই বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে বাড়ি ফেরা হতো । তখন অবশ্য কোন স্বার্থ ছিল না মনে, কোন হিংসা স্পর্শ করিনি তখনও, তাই হয়তো দিনগুলো এত সুন্দর ছিল। হঠাৎ মোবাইল বেজে উঠতেই বন্ধুর কল কিরে আসবি না আজ কলেজে, কিছুটা থমকে উঠে বললাম হ‍্যা হ‍্যা অবশ্যই আসবো। শুভ সকাল বলে শুভেচ্ছা জানাতেই আমি হেসে উত্তর দিলাম হ‍্যা শুভ সকাল। দশটায় বের হব ঠিক সময়ে বেরিয়ে পরিস। ফোন কাটতেই তাড়াতাডি ছুটে গেলাম বাড়ির দিকে, বাড়ি যেতে হবে ভিষন কাজ পরে আছে যে, সেই যে জীবন সংগ্রাম। এখন যে আমি নেই ছেলেবেলাতে। যাইহোক  ফিরেছিলাম কিছুক্ষণের জন্য তো সেই ছেলেবেলার দিনগুলোতে। বাড়ি ফিয়েই তো আবারো সেই জীবন যুদ্ধ।  লড়াই করে চলেছি প্রতিনিয়ত।  পেরিয়ে  যে এসেছি সেই সীমানা।

এটাই বাস্তব

✍️ বিপ্লব গোস্বামী

সস্তায় পাওয়া জিনিসের
মূল্য দিতে জানি না,
পরিচিত লোক বড় হলে
বড় বলে মানি না।

আপন জনের গুণ গাই
পরের গুণ দেখিনা,
নিজেকে বড় নেজেই বলি
পরেকে বড় মানি না।

নিজের দোষের যুক্তি দেখাই
দোষ বলে মানি না,
অন‍্যের দোষের নেইতো ক্ষমা
শান্তি ছাড়া ছারিনা।

স্বপ্নেরা

✍️ দিব্যেন্দু নাথ

যদি তোমার দেখা পাই, বলবো 
আজও ভুলতে পারিনি

ধানভাঙা সোনালি বিকেলে 
তোমাকে পাওয়া যেত
 শিষধানের আলে

মিঠেল রোদ মাখতে-মাখতে,
কখন কুয়াশার চাদর লেপ্টে নিতো দুজকে

আজও আমন আসে গন্ধ মেখে,
শিশিরও ঝরে, সূর্যও ঝুলে
লংতরাই পাহাড়ের ডালে
ম্লান আলোয় ভাসে পাকাধানের মাঠ।

ধুসর কুয়াশা শুষে নেয় 
হৃদয়ের আলেয়া স্বপ্নগুলো। 

চলন্ত ট্রেনে ঝাঁপ দিলেও
স্টেশন ছাড়া হয় না।

একলা জীবন


✍️ মৌমিতা দাস

আমি এক অনাথ শিশু, 
নাই আমার কোনো আপনজন। 
এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াই 
   তাই তো আমি সারাক্ষণ। 

সেই কবে একলা করে, 
    চলে যায় বাপ- মা  । 
আছি কত দুঃখে আমি, 
বলে বোঝানোর নাই কোন উপমা। 

অভাব দেখেছি, দুঃখ দেখেছি, 
            বুঝেছি জীবনের মানে। 
ধ্বংস দেখেছি,  সুখ দেখেছি, 
      ক্ষতবিক্ষত হয়েছি মনেপ্রাণে। 

বিশ্বাসের মানে সাহায্যের জন্য, 
          গিয়েছি যাদের দ্বারে দ্বারে। 
তারাই এখন আমায় চোর বলে, 
       লাথি- ঝাঁটা মারে।

দইওয়ালা জ্যেঠু


✍️ দীপক রঞ্জন কর

একডাকে পরিচিত দইওয়ালা জ্যেঠু
হররোজ আসে গাঁয়ে পথ বেয়ে মেঠো।
মাথা ঝাঁকা পাকা চুল গাল ভরা দাড়ি
কাঁধে নিয়ে দই ভার ফিরে বাড়ি বাড়ি।
দূর থেকে হাঁকে জ্যেঠু দই রাখবে দই
সাথে পাবে চিড়ে গুড় নতুন ধানের খই।
মা মাসি আসো ছুটে সোনামনি কই,
নিয়ে যাও কম দরে সেরা পাতা দই।
কে কেমন খাবে দই, আন মাটির পাত্র
এক ভান্ড পেয়ে যাবে বিশ টাকায় মাত্র।
গাঁয়ে গাঁয়ে ঘুরে ঘুরে দই বেঁচে রোজ
ভালোমন্দ কে কেমন,নেয় সবার খোঁজ।
ছেলে বুড়ো সবে তাঁরে জ্যেঠু বলে ডাকে
জ্যেঠুর সুরে খোকা খুকি দই দই হাঁকে।
হাসি খুশি থাকে জ্যেঠু, মিষ্টি মুখের ভাষা
বিনিময়ে কিনে নেন সবার ভালোবাসা।

হরিনাম হরিনাম হরিনাম বইলে (গান)


✍️ প্রসেনজিৎ পাল 


হরিনাম হরিনাম হরিনাম বইলে 
কে যায় দুখের বাজারে, 
সর্বসুখ বিরাজ করে 
মোর প্রভুর মাঝারে।

গানে গানে ভজনে
তাঁরে পাবে কীর্ত্তনে,
সেবা যদি কর হরিজনের
মুক্তি আসবে তোমার মনের। 

ধ্যানে-জপে-কর্মে
ফুটাও তাঁরে মর্মে, 
হরিনামে মেতে বেড়াও
হরিকাজে তরী বাও।

কথা ফুরোলো না

    ✍️   সঙ্গীতা গুপ্ত

আসবে বলে আশায় চোখ মেলেছি,
অশ্রু ফেলেছি কতো,
আহত বক্ষ পেতে আমি তোমার হৃদয়ের কাছে নতজানু,
দ্বার খুললে তুমি অবশেষে।
তোমার হাতে গোলাপ দেখে ভালোবাসার অধিকার পেলাম।
নয়ন ভরে তোমায় দেখে,
তোমার সুরে সুর মেলাতে চেয়েছিলাম।
অ-নে-ক কথা বলার ছিল বলে,
অধীর আগ্রহে মুখোমুখি তুমি
কয়েক পেয়ালা ঠান্ডা কফি,
কথা ফুরোলো না তবুও।

শেষের বেলা


✍️ অন্তরা ভট্ট

চলতি পথে হঠাৎ 
কবে তা কে জানে?
থমকে যাবে সময় খানি
থাকবে শহর চেয়ে।

শুভ্র ফুলের চাঁদর
থাকবে শরীর জুড়ে
মুর্ঝে যাবে চক্ষু যুগল
আবেগে আবডালে।

মুখবিবড় অশ্রু জলে
ভিজবে নিশ্চয়ে
আবেগ মাখা দৃষ্টি দিয়ে
দেখবে যে রয়ে।

শহর জুড়ে থাকবে কেবল
মেঘলা ভরা আকাশ
পিছু টান সব হলো যে শেষ
রইলনা সে আর।

ঘুম

✍️   কৃষ্ণ ধন শীল

কায়া ক্লান্ত হিয়া ক্লান্ত
ক্লান্ত যেন এই সময়,
নিশাধারে তাই কেটে গেছে 
যত আশা আর ভয়!
আবেগ যত চিন্তা যত আর যত অনুভূতি,
ছেড়ে গেছে মুছে গেছে ছিল যত আকুতি!

দিনের আলোর শেষে 
এই আঁধারের আঙ্গিনায়, 
ফিরে আসা সুখের স্মৃতিগুলি 
যেন বড়োই অসহায়!
ক্লান্তি শ্রান্তি অবসাদ যত সবই বাহানা শুধু, 
জানি ঘুমিয়ে পড়লে এ জীবন মরু ধূ ধূ!

নিসর্গের টানে

✍️ প্রবীর পাঁন্ডে

মনে হয় যেন কোনো অতিদূর দেশে
যাই চলে,চিরনিশা আঁধারের শেষে-
লোকালয় হতে দূরে তপোবন মাঝে
যেথা স্বর্ণপ্রভা দেবী অপরূপ সাজে;
সোনার আঁচল পেতে মনোহর বেশে
উন্মুক্ত গগন তলে রহিয়াছে বসে। 
হেরি চারিধারে তার সৌন্দর্যের রাশি 
রাঙা চরণের তলে পড়িতেছে খসি।

যেথা দেবী উষারানি ভোরবেলাকায়
কুঙ্কুম রঞ্জিত রাঙা সোনালি আলোয়-
মাধবীলতার মতো বাহুযুগ মেলে
সৌন্দর্যের সুধারস আনে ধরাতলে। 
জ্যোৎস্নার শুভ্রলোকে পূর্নিমার রাতে
যেথা নীল পরীগণ সখিগণ সাথে, 
নির্মল স্ফটিক স্বচ্ছ স্নিগ্ধ সরোবরে 
প্রণয় উচ্ছ্বাসে মেতে জলকেলি করে। 

যেথা মেঘমুক্ত শুভ্র নীলিমা আকাশ-
চারিদিকে বহে শুধু প্রশান্ত বাতাস-
চির বসন্তের সেই সবুজ প্রদেশে
ঝরনার কলস্রোতে গান ওঠে ভেসে;
যেথা নাহি অন্ধকার- আছে মহাদীপ্তি
জীবনের তৃষা নাহি-আছে চিরতৃপ্তি
নাহি কোনো কোলাহল, নাহি কোনোজন
শুধু বন বালিকার নীরব গুঞ্জন। 

জন কোলাহল হীন সেই সে নির্জনে
কুসুম আবাস বাঁধি বড়ই যতনে, 
কেতকীর বেড়া ঘেরা আমলকী বনে
সারাদিন রব বসে সবুজের সনে। 
কত না সৌন্দর্য রাশি এ ভরা ভূবনে-
কত না রূপের খেলা মেঘের কাননে-
পলাতক আলো ছায়া গগনে গগনে
সানন্দে করিব পান আমি তা নয়নে। 

আর কোনো কাজ নয় বসি বৃক্ষতলে
হৃদয়ের রূদ্ধ দ্বার দিব আমি খুলে-
যত কথা আছে মম গোপন হৃদয়ে
লিখে যাব কাব্যগীতে সু্র ছন্দ দিয়ে। 
যত গান, যত সুর আছে মর্মস্হলে
গেয়ে যাব কন্ঠ ছাড়ি শূন্যে-জলে-স্হলে।

ছলিত

✍️ অসীম দেববর্মা

      যেখানে তোমার আমার 
          হয়েছিল প্রথম দেখা,
        সেইখানেই এখনো আঁকা 
      আছে কাটানো সময়ের রেখা।
ব্যস্ততার বাহানায় আমাকে ভুলতে চাও!
নিজেকে নিজেই কেনো শুধু শুধু ফাঁকি দাও?
তোমাকে তুমি প্রশ্ন করো আমি কী ছিলাম না
                 তোমার প্রয়োজনে,
তাহলে কেনো আমি নেই তোমার আয়োজনে!
যাযাবর দেহ কিন্ত মন পরিযায়ী নয় 
মরীচিকার মরুভূমিতে কে কার হয়।
দিন শেষে রাত উড়িয়ে দেয় তার কালো আবরণ,
  চুপিচুপি কড়ানাড়ে রাতের নির্জনতায় মন 
                 খারাপের কারণ।

আধুনিক চোর


✍️ সুস্মিতা সরকার

সে তো আধুনিক চোর 
রাতে নয় দিনে ও চলে কাজ ওর । 

করে না লুকিয়ে
তবু কেও দেখেও দেখে না ওদের। 
             
চোরের ও বড় জীবন , 
শুধু ধনশালী নয় , রাজ্যর রাজত্ব ও ওদের।

ওদের আবার আবার সন্মানের জীবন 
দরিদ্রের কাছ থেকে লুঠ করে ধনীর সাথে বসে ।

ওরাই মাথা উঁচু করে বাঁচে 
তাইতো ওদের আধুনিক চোর বলে । 

দিব‍্যলোকের পথে


✍️ মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

কখনো দেখেছো কি আকাশকে তার
বিশালতা ছেড়ে সংকীর্ণতায় বিলীন হতে ?
দেখেছো কি শত উত্থান পতনেও
সূর্যকে  দীপ্ততা হারাতে?

চাঁদকে মোহনীয় আভায় না হারিয়ে
চিরান্ধকারে বিলীন হতে ?
দেখেছো কি সমুদ্রকে 
জলোচ্ছ্বাস হারিয়ে থমকে যেতে?

ঠিক তেমনি মিথ‍্যার  অন্ধকারে 
ভালোবাসার বিশালতা যায়না তলিয়ে ,
আলোকস্নাত চোখে  কেবলই স্বপ্ন বুনে
প্রভাতী রবির নির্মল আভায়।

নদীর ধর্ম বহমানতা, 
মোহনায় মিশবে বলে
এগিয়ে চলে  চির অনন্তকাল
সাগর বুকে আঁচড়ে পড়ে পরিতুষ্টির চেতনে।

তেমনি করেই ভালোবাসার স্নেহার্দ্রতা
বিদ্রূপতার সকল গলিপথ পেরিয়ে
এগিয়ে চলে শেষ যাত্রার পানে
শান্তির সোপান বিছানো দিব‍্যলোকের পথে।

রঘুপতি

✍️ প্রশান্ত দাস


হিন্দু ধর্মের পতি তুমি,
                         অযোধ্যা সার। 
রাম রূপে বিষ্ণুর আগমন,
                        সপ্তম অবতার। 
সূর্যবংশে আইলা তুমি,
                      কৌশল্যা নন্দন। 
'পিতা রূপে ধন্য আমি',
                        কহেন দশরথ। 
সত্যনিষ্ঠা - ন্যায়কৌশল, 
                      তুমি মানবপ্রেমি।
পিতৃভক্তি - প্রজাবাৎসল্য,
                 জ্ঞানী, পরোপকারী।
আদর্শ স্বামী-পুত্র-পতি,
                 ক্ষমা ও সততারূপ।
গুনের জগৎ সমাপ্ত তবুও, 
                     অসংখ্য রঘুগুন।
 তব সূর্যবংশ ভূষিত এবে,
                        রঘুবংশ নামে।
বিপদাপদে সাধ্য কার যে,
               রাম-লক্ষনেরে খন্ডে।

অতিথি

আমার আশা


  ✍️ পিয়া কর চৌধুরী


আশায় আশায় বসেছিলাম 
     পাব ভাল বর,
আশার মাঝে বয়ে গেল,
   অনেক প্রবল ঝড়।
আশা ছিল কারো জীবনে,
    ভাল সাথী হব।
সাথী হয়ে চিরদিন,
তার পাশে পাশে রব।
আশা ছিল জীবনে আমি ,
পাব অনেক ভালবাসা।
সেটা আমার হলনা পাওয়া,
  সব হয়ে গেল নিরাশা।
আশা ছিল জীবনে আমি,
  গড়ব সোনার স‌ংসার।
পেলাম না সেই সোনার সংসার
সব হল নিরাকার।
 আশা ছিল আমি তোমার
     হব ভাল সাথী
সেই আশাও হলনা আমার,
    এখন একা একা থাকি।

উপহার একটা স্মৃতি


✍ আলমগীর কবীর। 

আজকের এই উপহার স্মৃতিস্বরূপে রেখে দিলাম, বুঝে নিলাম তা দিয়ে, ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। 
এই উপহার যে শুধুই উপহার নয়,
এক পৃথিবী শ্রদ্ধায় ভরা, নীল আকাশের গ্রহ তাঁরা 
এই উপহার সোনা রুপা, মণি মুক্তা দস্তার সম। 

এই টিশার্ট যবে গায়ে জড়বে, মনে পরবে তোমার কথা
থাকবে মনে স্মৃতি হয়ে, এই রজনীর ইতিবৃত্ত 
কত ভালবাসায় মাখামাখির, দিন রজনী অতীত হল
যখনই তোর স্পর্শে ছিলাম, কত যে মোর লাগত ভাল।

হঠাৎ যখন যাবি ছেড়ে, থাকব আমি একা একা
তখন আমার পড়বে মনে, তোর দেয়া উপহারের কথা।
থাকব একা রইবো পরে, তোর দেয়া স্মৃতির টিশার্ট 
জানি আধার রজনীর পরে, ঠিকই আসবে স্নিগ্ধ প্রভাত।