শীত

✒️অঞ্জলি দেনন্দী

শীত কালে জন্মদিন পালন করি।
পয়লা পৌষ, প্রথম কেঁদেছিলাম, ভূমিষ্ঠ হয়ে।
কোলে নিয়ে মা বলল, খুব সুখী তোরে পেয়ে!
ওরে ও আমার মেয়ে! 
আয় রে, আদরে তোকে লালন পালন করি!
কত বছর গেল বয়ে।
মা পৃথিবী ছেড়ে গেল চলে।
শেষ কথাটা গেল বলে,
নিজের জন্মদিন পালিস, ধুমধাম করে!
এরপর মা গেল মরে।
আজ আমার বয়স আশি।
নিউ ইয়র্কে থাকি, বিদেশবাসী।
ভারত ছেড়েছি বহু বছর আগে।
তবুও আজও বালিকা বেলার জন্মদিনের স্মৃতি
মনে জাগে।
আজও পালি সেই সে পায়েস খাওয়ায় রীতি।
আমার নাতি কেকও আনে।
আর আমাকে দিয়ে কাটায়।
সে তখন আমায় খুশি করে
তার ইংরেজী নাচ আর গানে।
পটাকাও ফাটায়।
অনেক ছবি তোলে, ভিডিও ও করে।
অনেক নিমন্ত্রিত অতিথিতে বাংলো আমাদের ভরে।
কেউ বা ভারতীয় - কেউ বা বিদেশী আবার।
সকলেই খায় দেশী ও বিদেশী খাবার।
বৃদ্ধা আমাকে উপহার দেয় সকলেই ভালবেসে।
উপহার নিই আমি হেসে হেসে হেসে।
অঞ্জলি নাম আমার।
আমার জন্মদিন পালন করা - সে অনুষ্ঠান,
নয় তো কখনই থামার।
আমার মৃত্যুর পরও পালিত হবে সে অনুষ্ঠান।
আমি জানি তা।
মানুষ আমায় ভালবাসে, আমি মানি তা।

কলমশ্রমিকের প্রেমাঞ্জনমিলনান্তক নয়তো !

✒️কনককান্তি মজুমদার 

স্বপ্নটা দেখিয়েছিল আচমকাই। ঠিক যেমন আচমকা এক বৃষ্টির রাত ভেজে ঝমঝমিয়ে। ভিজিয়ে দেয় মন প্রাণ, খোলা জানালার ছাঁট এসে ভিজিয়ে দেয় চোখ মুখ। প্রেমের নাচন তেমনই অনিশ্চিত ভবিতব্যে ঝড়ের ঝঙ্কৃত সেতারের মুর্ছন হয় প্রস্তুতির ব্যতিরেখে। হৃদয় তন্ত্রিতে গুনগুন গুঞ্জন তার বাড়ানো হাতে সমর্পণ।  রূপনারায়নের মাঝ দরিয়ায় বৈঠা হাতে এক অনন্য দ্বিত্ত্ব সত্ত্বার মিলন কামনার দুরন্ত আবেগ প্রসূত অদমিত গতিযান।
     আমার বক্ষ জুড়ে তানিয়ার লালিত স্মৃতির তাড়নায় পায়ে পায়ে সাঁঝের প্রদীপ উতল হলো। নিবুনিবু শিখায় নিভেও নেভে না। সে থেকেও নেই। আমার অস্তিত্ব ঘিরে তারই আনাগোনা। যন্ত্রণার দিন যায় আশার ভাবনায়।
            কথা হয়নি। দেখা দেয়নি। তবুও মনের মনিকোঠায় তানিয়ার কাল্পনিক উপস্থাপনা নিত্য নৈমিত্যিক। বছর ঘুরে গেলো। ঘুর্ণায়মান পৃথিবীর ঋতুচক্রে বসন্ত ধাক্কা দিলো ফুলবাহারে, দক্ষিণা সমীরণে পলাশে শিমুলে ! সে এসেও এলো না। 
           ধীর মন্থরতায় রাত নামে নিশুতির নিস্তব্ধতা নিয়ে মনের গোপন গভীরে। রোজকার ভাবনায় রাতের শয়নে স্বপ্ন হয়ে আসে। নামের আদলে নাম নিয়েই হয় এক তরফা প্রেম বন্দনা। সেতো মন খোলেনি। সে যে মুখ দেখায়নি তবুও তাকে 
ভুলিনি ! অন্ধ আকর্ষিত ভালবাসা ভুলতে দেয়নি। 
          চেনা হলো না আকার আকৃতিতে,জানা হলো না স্বরে ; শুধুই নামের বাঁধনে নব প্রযুক্তিগত লিখিত বন্ধন বেঁধে দিলো দু'টি মনে। ভুল হলো, দু'টি বুঝি নয় একমাত্র মনে একতরফা। সেতো আলেয়ার মত কেবলই মানসিক উদ্ভুটো উদ্ভাবনে। এই লেখালেখির পাশাপাশি অগ্রগমনে কখনো উত্তর আসে কখনও নয়। তবুও এই এক হতাশ তিয়াষায় তৃষ্ণার্ত ছুটে যায়।
            মনের ভ্রমে একটি স্বর ভেসে এল অস্ফুট অস্পষ্টতায় আজ আচমকাই। 
আমায় কোথায় নেও?
উত্তর তেমনই ফিসফিসানির প্রেমের অমৃত ধামে দুজনের মিলনের অমরালোকে।
প্রহসন মনে হলেও নারীর মন বলে এ এক নিশ্চিন্ত জীবনের আশ্বাস। যৌবনের আকর্ষিত উষ্মায় আলিঙ্গনাবদ্ধ উদ্দীপনার উচ্ছল উচ্ছাস। তীব্রতার অন্ধ অনুসরণ। হয়ত কুল ছাপিয়ে অকুলের নিশ্চিন্ত বিশ্বাস...!
তাই বিশ্বস্ত প্রতিটি সকাল আমার তাকেই খোঁজে। প্রতিটি রাত তার অপেক্ষায়। সে থেকেও নেই। হৃদয়ের যেখানটার হদিশ শুধুই বেদনার তার উপস্থিতির সেই ঠিকানা !
উপসংহারে কলমশ্রমিকের উবাচঃ
ভেঙে পড়া মনটার কেউ খোঁজ রাখেনা। এমন কি যে চলে গেলো সেও নয়। কেন এলো আর এভাবে কেনইবা চলে গেলো হিসাব মেলে না। 
বর্তমান সময়ের... মানে দু'বছরের অর্ধেক টা কাটলো তোমাকে চেয়ে, এখন বুঝি বাকিটা তোমাকে ভুলতে লাগবে  - এটাই প্রেম...!

অবজ্ঞা

               
               ✒️সুখ চন্দ্র মুড়াসিং

একটু বুঝার বয়স হতেই ঋষি বুঝতে পারল  সমবয়সীরা তাকে অবজ্ঞা করে , তার সঙ্গে মিশতে ও খেলতে চায়না । দুর্ভাগ্যের বিষয় তার আপন ভাইবোনেরাই এই বিষয়ে অন্যদের উৎসাহিত করে । মা বাবাকে বলেও কোন লাভ হয়নি তাদের মতামত হল - "তাহলে একা একা খেল", একা একা খেলা তো দূর চলাও যায়না এটা কেউ কী বুঝে ? বয়োজ্যেষ্ঠগণের পাশে ঘেঁষতে চাইলে  অনেকে বলেন - "এই হাবলা কেবলা তোর এখানে কি ? ,যা নিজের কাজে পাকনা ঢেঁকি" ! বলে তাড়িয়ে দেয়। পশুপাখি ফুলফল আলোবাতাস গাছপালার সঙ্গে সুখ দুঃখের কথা বলে সে দিন কাটায়।
          কৈশোরের শুরুতে অনেকই পড়াশুনা ছেড়ে দেওয়ার ফন্দি খোঁজছে নানা নেশার স্বাদ নিচ্ছে, জীবনসঙ্গী বাছাই করছে,
নিরুপায় ঋষি পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়িয়ে চলছে। যৌবনের শুরুতেই অনেকে সন্তানের পিতামাতা , তারও খুব ইচ্ছা হত নিজের একান্ত মনের মানুষ থাকবে যার হাত ধরে খোলা নীল আকাশ দেখবে ফুলে ফুলে রেণু মাখবে পূর্ণিমার চাঁদ দেখবে তাঁরা   গুনবে । কাউকে একটু ভাল লেগে চোখ তুলে তাকালেই কুৎসিত গালাগাল তীর্যক ভাবে ছুটে আসে । স্বপ্ন দেখা ছেড়ে আজকাল মাথা নিচু করে চলাচল করছে তবুও অনেকে মুখচোরা আইব্রু বলে টিটকারী করে ,অনেক উত্তি যুবতী কুষমান্ড বলে ঢলাঢলি করে হাসাহাসি করে। ঋষির , চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে -  আমারও মন আছে রূপ যৌবন আছে জ্ঞানবুর্দ্ধি আছে স্বপ্ন সফল করার ক্ষমতা আছে তোমরা কি দেখতে পাওনা ।
   ঋষি আজ বড় অফিসার , গাড়ী বাংলো চাকর বাকর পেয়েছেন অধিনস্ত অনেক কর্মচারী  স্বসম্মানে চাকুরী করছে কিন্তু গ্রামের লোকজন এবং আত্নীয় স্বজনরা অভাব অনটন জরাজীর্ণ লাঞ্ছনা বঞ্চনা বিনা চিকিৎসায় কাতরে মরলে ও তার কাছে সাহায্য চাওয়ার চেয়ে  কেনজানি আজও অবজ্ঞা করতেই বেশি ভালোবাসে।

কখনও...

✒️সুবর্ণা চক্রবর্তী

কখনও এমনি ভাবে 
       মেঠো পথে হাঁটবো দু'জনা
 বৃষ্টি কে সাথে করে।
      মেঘলা আকাশে চেয়ে রব
      রামধনু কে ছুঁয়ে ।
দিগ দিগন্তে ছুটে ছুটে বেড়াবো 
হারাবো দু'জন দু'জনাতে।
ফেনীল সমুদ্রের হাতছানিতে
         হারিয়ে যাবো স্বপ্নের অতলে।
কখনও বা হিমেল পরশ গায়ে মেখে
    উষ্ণ প্রেমে রোদ পোহাবো, 
কখনও বা শিশিরের ভেজা ঘাসে 
   কিংবা মাটির সোঁদা গন্ধ মেখে 
    আদুরে আব্দার রাখবো।
 কখনও বা বিহানবেলায় খুলে বসবো  
  এক নাম না জানা গল্পের ঝুলি।
কখনও বা তুমি আর আমি রয়ে যাবো শুধু
অখ্যাত কোনো উপন্যাসের শেষের পাতা অবধি ॥
কখনও .....!

পথ শিশু

 ✒️হিরণ সেন
                            
পথের ধারে যখন দেখি
               আদর মাখা মুখ, 
মলিন বস্ত্র পরিধানে ওরা
          সর্বদা তাদের দুখ। 
অযত্নে অবহেলায় যে শিশুর
            পথেই জীবন চলে, 
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা তাদের
               পথশিশু বলে। 
কেন তাদের এরুপ জীবন যাপন
  সেটা চিন্তা করার মানুষ ক ই? 
অত্যাধুনিক সমাজে আমরা
    ভদ্র বলে পরিচিত হ ই। 
যাদের কর্মকাণ্ডে পথশিশু র জন্ম
       তারাই সমাজের ভদ্রলোক, 
জীবনে আরাম আয়াশ করে
      এখনও চায় নূতন ভোগ। 
শিশুদের তো কোন দোষ নেই
     কেন পারি না মেনে নিতে, 
আমরা কখনো আপন করে 
    তাদেরকে কিছু চাই দিতে  ? 
অন্যের কারণে পৃথিবীতে আসা
সমাজ কথিত পথশিশুগণ, 
সমাজ যদি তাদের মর্যাদা দেয়
   তবেই শান্তি পাবে তাদের মন। 

দেশ

✒️পান্থ দাস

হলেন শহীদ 
হাজার অমর কিশোর,
হে বীর প্রসবিনী
ভয়টা কি তোর !

দেশ প্রেমের 
অবাধ সাধনায়,
ধ্যান জ্ঞান কি আর
বৃথা যায় !

যায়না যে ভোলা
তোমাদের রক্তে রাঙা
জাতীয় পতাকা,

দেশহীতে যে দিলেন 
ভরা যৌবন 
চাইতো যে শুধুই একতা ।

এই জন্ম

✒️ঊর্মি সাহা

পূর্বের অভিশাপ ঘাড়ে করে 
ঘর ভরেছি আমার। 
সাদা কালো সুতোয় বুনেছি স্বপ্ন।
একটা পাহাড় কিংবা নদী ,
নীল সাগর , বা
অর্ধ উলঙ্গ শহর ;
সবই আমার কাছে নতুন।
আমার কবিতার গায়ে দলা হয়-
বালিকার লুটে নেওয়া সুখ।
মন্দ নয় কিছুই-
বিধবার সাদা শাড়ি,
উদাম যৌবন,
বৃদ্ধ কাঁপা হাত ,
বা হাঁটু ভাঙ্গা শৈশব ,
মন্দ নয় কিছুই।
কশেরুকাহীন ,
আমার ঘর বন্দি অভিশাপ-
আবার স্বপ্ন দেখে ,
জন্ম দেখে ,
দেখে বাতাসের গতিপথ।
দেখে আমার এই জনমের-
বন্ধ্যা কবিতা!
                                              

পথ শিশু

 ✒️হিরণ সেন
                            
পথের ধারে যখন দেখি
               আদর মাখা মুখ, 
মলিন বস্ত্র পরিধানে ওরা
          সর্বদা তাদের দুখ। 
অযত্নে অবহেলায় যে শিশুর
            পথেই জীবন চলে, 
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা তাদের
               পথশিশু বলে। 
কেন তাদের এরুপ জীবন যাপন
  সেটা চিন্তা করার মানুষ ক ই? 
অত্যাধুনিক সমাজে আমরা
    ভদ্র বলে পরিচিত হ ই। 
যাদের কর্মকাণ্ডে পথশিশু র জন্ম
       তারাই সমাজের ভদ্রলোক, 
জীবনে আরাম আয়াশ করে
      এখনও চায় নূতন ভোগ। 
শিশুদের তো কোন দোষ নেই
     কেন পারি না মেনে নিতে, 
আমরা কখনো আপন করে 
    তাদেরকে কিছু চাই দিতে  ? 
অন্যের কারণে পৃথিবীতে আসা
সমাজ কথিত পথশিশুগণ, 
সমাজ যদি তাদের মর্যাদা দেয়
   তবেই শান্তি পাবে তাদের মন। 

শাপগ্রস্ত অপ্সরা

✒️নবীনকিশোর রায়

গায়ত্রীমন্ত্র ধ্যনে 
ডুবে যেতে চেয়েছি---

কমণ্ডলু নিয়ে পাহাড়শীর্ষে উঠার আগে,ভেসে আসে অপ্সরাদের নূপুরের ধ্বনি... 

চৈতন্য ভেঙে গেলে
অধরা থেকে যায় ধ্যানের সকল আয়োজন।

পাহাড়ের তলদেশে জেগে ওঠে 
শুপ্ত আগ্নেয়গিরি, 
মুখোমুখি পাহাড়ের জঙ্ঘা বেয়ে নেমে আসে গলিত লাভা  
জন্ম নেয় নেত্রহীন কবিতা! 

অপ্সরাদের আভরণহীন
সকল অঙ্গ বর্ণনায়
শব্দদৈন্য পংক্তিগুলো 
দুর্বাসার শাপগ্রস্ত হয়ে ,
কবিতাস্বর্গ থেকে বিচ্যুতি ঘটে ... 

তোমায় নব রূপে পাবো বলে

   ✒️বিশ্বজিৎ মানিক

তোমায় নব রূপে পাবো বলে
সাজালাম কত পুষ্প মালিকা
দিনযাপনের গ্লানি ভুলে ।
কত রাত দিলাম পাড়ি
একাকিত্ব দূরে ঠেলে ।
তোমায় নব রূপে পাবো বলে
অন্ধকার পথে দিলাম পা
জোনাকীর আলো ফেলে ।
পথের ধুলোয় বানালাম বাড়ি
থাকব দু'জন মিলে ।
তোমায় নব রূপে পাবো বলে
মনের ভাবনাগুলো বেড়ায় ঘুরে
হৃদয়সাগরে ঢেউ তুলে।
ভাবের ভুবন পূর্ণ হবে
স্বপ্নের পাপড়ি মেলে ।
তোমায় নব রূপে পাবো বলে
লেখার পাশে তুমি বসো
লক্ষতারার প্রদীপ জ্বেলে ।
চাঁদের আলোয় জ্যোৎস্না ঝরে
তোমার চরণ তলে ।

এক যে ছিল নারী

✒️অপর্ণা সিনহা

এক যে ছিল নারী,থাকে গ্রামের বাড়ি
জীবন যেন করেছে,তার সাথে আড়ি।
ধন্য সে এক জনমে,নারী জন্ম পেয়ে
ক্ষুধা দূর করত সে নিজে আধা খেয়ে।
যে ঘরে জন্মছিল,সে নয় তার নিজ,
পরের ঘরে থাকে,পুঁতে জীবন বীজ।
এক যে ছিল নারী,রঙটা ছিল কালো
আঁধার বুকের মাঝে,মনে ছিল আলো।

হঠাৎ রাজা ডাকে ঢোল পিটিয়ে সভা
মাথা নিচু করে দাঁড়ায় অমিয়প্রভা!
নারীর বিচার করে,বসে জ্ঞানীগুণি
বিচারক আসনে,ধর্ষক ঋষি মুণি!
এক যে ছিল নারী মরল শাস্তি পেয়ে
শেষে নারী জন্ম দিল মৃত এক মেয়ে!
                        

আলোর নির্মোহ গীতি

✒️ফরিদ ভূঁইয়া 

ঘরকুনো অন্ধকারে আলো চোখে ছানি
হাঁস-মুরগের ডাকে ভোরের কুশল 
মাঠেঘাটে মাতামাতি বাতাস উছল
প্রতারিত সময়ের ক্ষোভে কানাকানি... 

মাঠের সবুজ ছুঁয়ে আ'লে আ'লে হেঁটে
শিশিরের কুঁচি শুষে দিন যে দুপুর 
গৃহস্থালি অঙ্কগুলো মিলে না দুখুর
শ্রমের ঘামের প্রাপ্য কিছুতে না মেটে

পক্ষপাত ভালোবাসা—বিবেকে বিরোধ
ক্ষতিগ্রস্ত চোখে দেখে—লোভের বিজয়
প্রশ্ন সত্য গুম করে কীভাবে কী হয়
বিদগ্ধ জনতা গড়ে কাম্য প্রতিরোধ...  

নির্মোহ ঐক্যেই আসে ন্যায় ও সম্প্রীতি
আলোর আলোরা গায় সাহসের গীতি। 

সত মা

 ✒️মৌসমী শীল 

অনেক বছর আগের কথা পাশের গ্রামে সজল ও তার স্ত্রী স্বপ্না বসবাস করত। তারা খুব সুখে ও শান্তিতে থাকত। কয়েক বছর পর তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয় যার নাম রীতা । রীতা র জন্মের দুই বছর পর ছোট মেয়ে রীতা কে তার বাবা কাছে রেখে স্বপ্না মারা যায়। তখন রীতা র কথা চিন্তা করে সজল আরেকটি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং আরেকটি বিয়ে করে। রীতা র সত মার নাম ছিল রমা। বিয়ের পর রমা তার সত মেয়ে কে লালন পালন করে বড়ো করে তুলে। রীতা একটু বড় হবার পর রমার ও সজলের আরেকটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয় যার নাম ছিল রত্না। রীতা বাড়ির সব কাজ একা একা করত রমা একটুও সাহায্য করত না সজল তা দেখে সহ্য করতে পারত না। রত্না ও তার সত বোনকে একটুও সহ্য করতে পারত না।এ ভাবে চলতে চলতে কয়েক বছর কেটে গেল এবং সত মেয়ে র উপর অত্যাচার আরো বেরে যায় রমার।এরপর হঠাৎ একদিন সজলের খুব অসুস্থ হয় তখন মেয়ে রীতা র কাজ আরো বেরে যায় বাড়ি র সব কাজ শেষ করে বাবা র সেবা ও সে নিজের হাতে হাঁসি মুখে করত । তার কিছু দিন পর সজল হঠাৎ মেয়ে রীতা কে ঢেকে বলে আমি বোধহয় আর বাঁচব না আমি মরে গেলে তোর খুব কষ্ট হবে রে মা কিন্তুু তুই সব সময় সৎ পথে চলিল এখন কষ্ট হলেও পরে তুর ভালো হবে রে মা এই কথা বলেই সজল মারা যায়। তার কিছু দিন পর রীতা র সত মা তার উপর অত্যচার আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।বাড়ির সব কাজ একা হাতে করত কিন্তুু রীতা কে খাবার দিত পচা ভাত ও লবণ রীতা হাঁসি মুখে তা খেয়ে নিত। রীতা ছিল খুব সুন্দর তার মাথায় ছিল ঘন কালো চুল আর অন্য দিকে রত্না এতটাও সুন্দর ছিল না। একদিন রমা ও রত্না এসে রীতা কে বলল রত্না কে দেখতে আসবে খুব বড় বাড়ির ছেলে যর বাড়ি খুব সুন্দর ভাবে চকচক করে রাখতে রীতা ঠিক আছে বলে কাজে চলে গেল। রাতে রত্না কে দেখতে আসে তার একটু পর রীতা খাবার নিয়ে গেলে ওরা জানতে চায় কে এই মেয়ে তখন মা রমা বলে কাজের মেয়ে ও বলে রীতা কে চলে যেতে বলে । একটু পর ওরা চলে যায় এবং পরের দিন সকালে তার বলে রত্নাকে তাদের পছন্দ হয় নি । তার পর রমা ও রত্না মিলে রীতা উপর সব দায় চাপিয়ে দেয় এবং বলে রীতা হিংসা করে এমন করেছে।পরের দিন রীতা কে পুকুর পাড়ে বাসন ধুতে দেখে ওই ছেলেটা তার কাছে আসে এবং রীতা কে বলে তার রত্না কে নয় তার রীতা কে পছন্দ হয়েছে।এর পর রীতা র বিয়ে হয় সেই বড় বাড়ির তে এবং তখন রীতা র কোনো কষ্ট হতনা। রীতা সব সময় সৎ পথে চলত‌ সবার কথা শুনত তাই হয়ত এখন সে অনেক সুখী ।সৎ পথের রাস্তা টা কঠিন হতে পারে কিন্তুু পরে ঠিক ভালো সময় আসবে।