প্রেম জ্বালা


               ✍️ মাধুরী লোধ 

প্রেমের জ্বালায় অঙ্গ জ্বলে অন্তর জ্বলে এমন আজব কথা কারে বলি সই 
ব্যথা বোধ হয় না পুঁজ বের হয় না রক্ত ঝরে না ধিধি ধিধি পরান জ্বলে মলম পাবো কই ?
বারো মাসের ছয় ঋতু পরান কোকিল করে কুহু কুহু মনের ময়না পারে না কহিতে
মন ময়ুরী পেখম মেলে উড়ে বেড়ায় জলে স্থলে  মাঝ আকাশে ঘুড়ি যেমন চায় আকাশ ধরিতে ।
ক্ষণিক হাসা ক্ষণিক কাঁদা অন্তর জুড়ে কৃষ্ণ রাধা  শিরায় শিরায় প্রেমের আগুন চলে ধীরে লয়ে
মন গোপিনী ছুটছে তালে বন গোপীদের কোলাহলে যত ই ছুটি মনের জ্বালা পারি না নিভাতে
আমার রাই কিশোর আমার মনে  ছুটে ‌পরেমের বৃন্দাবনে  জ্বলে পুড়ে দেহ মন হয় যে কালা 
মন যমুনায় ডুব দিয়ে ঘাটে বসি বড়শি লয়ে  আলিঙ্গনে ধরা দেয় না ব্্শীধারী কৃপা সিন্ধু চিকন কালা
ছুটি ছুটি আরো ছুটি প্রকৃতি পৌরষের ধূলো মাখি  হরি লুটের বাতাসা খেয়ে ও মেটে না মনের জ্বালা ।
আদর করি পাখ পাখালি  গায়ে মাখি চরণ ধূলি ফুল ফলের মাঝে খুঁজি প্রেমের জ্বালার মলম
 দেয় না ধরা প্রেম সোহাগী
বশ মানে না মিষ্টি হাসি তাইতো নানা প্রেমের গীত লিখতে বসি হাতে নিলাম কাগজ রঙ তুলি কলম ।

শেয়াল সমাচার


           ✍️রেজাউদ্দিন স্টালিন 

গভীর রাত্রি শেয়ালের আনাগোনা
মোরগ বাঁচাও -কবিতার প্রার্থনা

যারা চোর তারা ঠিক চুরি করবেই
প্রকৃত কবিরা তাদেরকে ধরবেই

ময়ূরের বেশে দুএকটা দাঁড়কাক 
পরিচয় মেলে কা কা  কণ্ঠের ডাক

তষ্কর যারা অঙ্ক শায়িনী আর
লোভী মূষিকেরা ধরা পড়ে বারবার

কেনো যে ওদের চুরি করতেই হবে
নকলবাজেরা বাদশা হয়েছে কবে

কোনো বোধ নেই যতসব পরগাছা
অন্যের কাঁধে পা দোলাও কেনো বাছা

চোরদের থাকে বেশকিছু অনুগামী
ওস্তাদ থাকে দুএকটা নামীদামি 

অন্যের যত রক্তার্জিত ধ্বনি
অক্ষর আর শব্দের রণরণী

চুরি করে তারা  নিয়ে যায় বীণাপানি 
বোঝে না কিছুই সারেগামা-মাপাধানি

মোরগেরঝুটি খোয়া গেলে কেউকাঁদে
বোধ চুরি করে কেউ মরে আহ্লাদে

বুকের রক্তে যারা লেখে সন্দেশ
তাদের জন্য খোলা সব মহাদেশ

আর তস্কর ছিঁচকে চোরের দল
মাঝনদীতেই ডুবে যায় সম্বল

পুঁটলি এবং তারপর


            ✍️কানাইলাল জানা 

টিকি নাড়তে নাড়তে তিনটি খালি পুঁটলি কাছে এল
একটি পুঁটলিতে ভরি আমার অতীত
আর একটিতে আমার বর্তমান এবং তৃতীয়টিতে ভবিষ্যৎ ভরে
ভাসিয়ে দিই নদীর জলে ...
#
তিনটি পুঁটলিই জল থেকে কুড়িয়ে   পেল ভিন্ন ভিন্ন তিনটি গ্রামের মানুষ 
যে গ্রামে ওঠে প্রথম পুঁটলি গিয়ে দেখি 
খোঁড়াখুঁড়ি চলছে গুপ্তধন পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনায়
যে গ্রামে দ্বিতীয়টি ওঠে তুমুল আগ্রহে চলছে জমিচষা কারণ পাখা মেলেছে মরসুমি বীজ
#
শেষটি উঠল যে গ্রামে কৌটো ভর্তি লোভ হিংসা বাক্যবাণ দাঁড়িয়ে আছে সারি দিয়ে 
আগুন জ্বেলে তাদের পুড়িয়ে 
শুরু হবে আর এক আরম্ভ ...

শৈশবে যাব


              ✍️ শাশ্বতী দাস

চিলে কোঠায় রোদ ভিড় করেছে
ফেলে আসা শৈশবের স্মৃতি নিয়ে,
খেজুরের লালি আর বিন্নী চালের ভাত
কলাপাতায় মোড়া সর্ষে ইলিশের ভাপ
কত আহ্লাদ,কত আড়ম্বরের ধুম।
কালের ভীড়ে হারিয়ে ফতুর,
আহ্লাদের পায়ে শিকল।
হিঁচড়ে টেনে কঠিন গন্ডিতে বাঁধা
ছায়াহীন ব্যস্ততার মাদল।
বেঁচে আছে শ্বাস-প্রশ্বাস
নির্জ্ঞান পরম স্বল্পায়ুতে।
শব্দ ভাঙে কথার ঢেউয়ে
অস্ফুট স্বরে ঋজু কণ্ঠনালী,
শিরায় উজানের টান,অথচ
হারায় জারী-সারী-ভাটিয়ালি।
ঘোরের মধ্যে হাতড়ে খুঁজি
মন ছুটে শৈশবের টানে
গুমরে আক্ষেপ -শৈশবে যাব
শিহরিত অনুভবে -নতজানু শৈশব।
 

সামান্য সড়ক


              ✍️চৈতন্য ফকির 

সামান্য সড়ক সে
পথে পথে চলতে চলতে পথ খুঁজে। 
পথ কি আর পথিকের হয়?

একটু নির্ভরতা কোথাও চাইলে 
সে পথ বেঁকে মিশে যায় 
আরেক রাজপথে। 

পথের কোন শেষ নেই
পথ আঁকাবাঁকা 
সে কেবল পথই আঁকে

যাইতে যাইতে শেষ নেই পরিক্রমা। 


ধানের পাঁচালি


                 ✍️গোবিন্দ ধর 

এক.
মা ধান সেদ্ধ করেন উঠোনের কোণে 
খড়ের আগুন নিভে ধোঁয়া বেরুচ্ছে 
বাঁশের চোঙে ফু দিতে দিতে
মায়ের চোখ রক্তবর্ণ জবা।

দুই.
মায়ের স্বপ্ন সেদ্ধ হয়।
কলার মোচাও।
সকালের পাত পাড়তে পোকমরিচ জুম থেকে লাফিয়ে চলে আসে 
বাবার বাজারের থলে ভরে।

তিন.
আমাদের পূর্ব প্রজন্ম ধান ভানতে 
কখনোই শিবের গীত গাইতেন না।
সকলেই ধান চাষা চাষাবাদ পেশা।

চার.
ধানের আগাচার মতো বাবার কয়েকজন আগাছা বন্ধু ছিলেন।
বন্ধুদের অধিকাংশই ধানের আগাছা। 
বিকল্প এখন অব্দি তুমিই মেধা।

পাঁচ.
উঠোনে শুকাতে দেওয়া ধান
গোরুমোষ খেত
আমাদের অতিবৃদ্ধ পিতা উদাসীন। 
তিনি দেখেও না দেখার ভাণ করতেন।
বলতেন কত খাবে।

ছয়.
হালচাষে আমিও বাবার মতোই অপটু।
বাবা ও আমি তবুও চাষার পুত।
ধানগাছ পরিচর্যায় কেটে গেলো
গোটা এক ফতুর জীবন।

সাত.
ধানছড়া জমাতে জমাতে আমাদের এক সের ধান হলে
বিনিময়ে ঠাকুরদাস মুড়ি দিত।
মা মোয়া গড়তেন।
মুখে পুরে সোনালী মায়ায় ধানছড়া খুঁজতাম।

আট.
ধানে দুধ এলে ঘরে ঘরে লক্ষ্মী আসতেন।
চালতাপাতায় সাধ বেঁধে ধান গাছে রাখা হতো।
তারপর অগ্রাণে ঘরে উঠতো গোলাভরা লক্ষ্মীধান।

নয়.
মাড়াই ঝাড়াই সেদ্ধকালে
তুমি নেই। 
চাল হয়ে ধান গেলোহাড়িতে।
ভাত হয়ে নেমে গেলো অম্ল ভরা উদরে।

দশ.
সারা জীবন চাষার পুতের গালগল্প 
বাবার মৌনতায় প্রশ্রয় সূচক সম্মতি
আজও ধানের মায়াবি দোলন
আমাদের একমাত্র ধান যাপন। 


‌‌

প্রেম তো জীবন


              ✍️কৃষ্ণকুসুম পাল।

প্রেম বিনিময় প্রথা নয়,
প্রেমে নেই জয়,পরাজয়,
তুমি ভালোবাসো বা না বাসো
আমার জন্য কাঁদো বা হাসো
প্রেম সৌররশ্মি অযাচিত দান
কোষে কোষে জাগে বিদ্যুৎ প্রাণ
                 #
কতোজনে প্রেম করি জানে না প্রেমিকা,
ভালোবাসি ঢং, রূপ রং, হাতের শাঁখা,
জানলে,প্রেমিক করে দেবে খুন
ভুলবোনা মশলারাণী পেঁয়াজ রশুন
প্রেম তো জীবন,জীবনই প্রেম-বিশ্ব চরাচর,
প্রেমের স্বপ্নে ঘুমাও চিতায় -অনন্ত অবসর।কৃকুপা।

স্মৃতির পাতায়

  
              ✍️ নূসরত জাহান 

 যাবেই যদি চলে 
 তবে কেন এসেছিলে 
 ক্ষণিকের তরে !! 
 হৃদয়ের বন্ধ দুয়ার 
 কেন খুলে দিলে !! 
 হৃদয়ে বাজে বেদনার সুর
 তুমি শুনতে কি পাও ? 
 ওহহহ !!! কি যে কস্ট 
 কেউ বলে না এখন 
 এতক্ষণ রাত জেগে আছিস ? 
 অলিন্দে চলে কিসের দহন 
 কানে ভেসে আসে 
 ঝিঁ ঝিঁ পোঁকার ডাঁক 
 আর শেয়ালের হাঁক 
 রাত জেগে স্মৃতিগুলো 
 করি আঁকা আঁকি 
 বেদনার অশ্রু ধারা 
 গড়িয়ে পড়ে 
 কে মুছাবে আঁখি !!!

       
 

কেবলই ছবি


                  ✍️শুভ্রা দেব।

অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে সবাই তোমার দিকে,
কি অপূর্ব সুন্দর......
নিয়ন বাতির আবছা আলোয় জেগে উঠছে 
চোখে অদ্ভুত দ‍্যুতির প্রকাশ, যেন এক অনিন্দ‍্য সুপুরুষ...
অজানা সন্ধানী চোখ নিয়ে খোঁজে বেড়াচ্ছে তোমায়,
অলিগলিতে চলছে অগণিত জনতার ভীড়....
পাড়ায় গলি মহল্লায় বড়ো পোস্টারে 
মিলছে শুধু তোমার দেখা....
যুগান্তরের প্রতীক্ষা আজ বরণ ডালা সাজিয়ে 
দাঁড়িয়েছে ঐ মোড়ের রাস্তায়,
তোমার ছোঁয়ায় শতাব্দী হয়েছে প্রতিবাদমুখর, 
নদীর বুকে নেমেছে ভালোবাসার ঢেউ....
তোমাকে পেয়ে  চোরাপথের বাঁকে 
হারিয়ে যাওয়া মেয়েটা আজ নিজের অস্তিত্ব অনুসন্ধানী.....
একাকিত্বের অনুভবে তুমি, শুধু তুমি...
কে তুমি.... 'তুমি  কি কেবলই ছবি'?