নারী দশভূজা


                   ✍️ জয়িতা দে

নারী আমি,যেমন রাঁধি তেমনি বাঁধি চুল।
ভালোবাসার চাদরে যেমন জড়িয়ে রাখি,
তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে করি চরম প্রতিবাদ।
নারী আমি, ছুঁতে পারি যেমন পাহাড়চূড়া,
তেমনি পাড়ি দিতে পারি মহাকাশ।
আমি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী;
নেই কোন অবকাশের সময়।
নারী আমি, সন্তানের সুখে যেমন নিজের সুখ,
তেমনি সন্তানের বিপদ নিতে পারি নিজের উপর।
নারী আমি,তাই তো সংসারের সকলের সুখের জন্য 
দিতে পারি নিজের সকল সুখের বিসর্জন।
                     

শেফালী ফুলের গাছ


                 ✍️ মাধুরী লোধ 

সৈবতী শেফালী ফুলের চারা লাগালো পশ্চিম দিকের বাউন্ডারি র ইটের কোল ঘেঁষে ।বারো ফুট উঁচু বাউন্ডারী দিয়েছে পশ্চিম সীমানার মালিক গঙগারাম সাহা ।সৈবতী ঐ সাহার কাছ থেকে বাড়ির জায়গা কিনেছে । পূর্ব শর্ত মতো টাকা নিলে ও সে পরিমাণ জায়গা দেয়নি গঙ্গারাম ,মাপে কারচুপি করে ম্যাপ পাল্টে দিয়ে সৈবতী কে ঠকিয়েছে ।ধরা পরার পর গঙ্গারাম বলছে টাকা দিয়ে যেটুকু বাউন্ডারী র ভিতরে আছে তা লিখিয়ে নেবে বেল গাছের নামে দান হিসেবে ।
এমন জালিয়াতি কানড কারখানা দেখে আকাশ থেকে পড়ে সৈবতী । মানুষের মুখ খর মুখোশ নিয়ে ভাবে ।তার নাওয়া খাওয়া মাথায় উঠে, সুগার বাড়ে প্রেসার বাড়ে । কয়েক দিনে শুকিয়ে কাঠ হয় ।ওর স্বামী পরেশ বসু বলে মেয়েলোক মস্তান কে কৌশলে হারিয়েছে গঙ্গারাম ।
বাউন্ডারী ওয়াল এর ভিতরে সৈবতীর খতিয়ান এর জায়গা সেটা লিখিয়ে নেবার জন্য গঙ্গারাম আইনী নোটিশ পাঠায়। 
বিমূঢ় সৈবতী পাশের বাড়ির উলিক কে ডেকে এনে আইনী  নোটিশ দেখায় , উকিল আইনী জবাব দেয় ।পরে সৈবতী বুঝতে পারে ঐ উকিল ছেলেটি ও যোগ দিয়েছে গঙ্গারাম এর দলে । সৈবতী বুঝতে পারে তার চারপাশে গঙ্গারাম এর চক্র ব্যুহ ।তার স্বামী পরেশ ও চাইছে টাকা নিয়ে বিষয়টি নিস্পত্তি করতে । আইনী ঝামেলার চাইতে অল্প তেই সন্তুষ্ট হ ওয়া ভালো ।
সৈবতী কে ঠকিয়েছে গঙ্গারাম ।পৌর নিগম এর নিয়ম অনুযায়ী বাউন্ডারী ওয়াল থেকে তিনফুট তিন ইঞ্চি দুরত্বে ঘর তৈরি করতে হবে যাতে প্রতিবেশীর বাড়িতে জল বা বর্জ্য প্রতিবেশী র বাড়িতে যেতে না পার , কিন্তু গঙ্গারাম এর বাড়ির একটি ঘরের জল বৃষ্টি হলেই এসে পরে সৈবতীর ঘরের ভিতর । বারবার অভিযোগ পত্র দিয়ে ও কোন সুরাহা করেনি পৌরসভা ।সৈবতী বুঝতে পারে পৌরসভার কাউন্সিলর বা অফিসার গঙ্গারাম এর পক্ষে । ওদের আসকারা পেয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে গঙ্গারাম । এখন সৈবতীর সে ঘরে উই এর বাসা ।ঐ ঘর ওকে ভেঙ্গে ফেলতে হবে । পূর্ব তম বাড়ির মালিক এভাবে ওকে ঠকাবে ভাবতে ও পারেনি সৈবতী । এখন সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে অবস্থায় জায়গা টা আছে ওখানেই নতুন করে ঘর তৈরি করে বসবাস করবে ।পুরান ঘরগুলো ভেঙ্গে চুরে বাড়ির ভোল পাল্টে দেবে ।আর কোন যোগাযোগ বা সম্পর্ক রাখবে না গঙ্গারাম এর সাথে ।
সৈবতীর ছেলে রাস্তার পাশ থেকে তুলে এনেছে একটা শেফালী ফুলের চারা । বলেছে এটা বড় হলে ফুল ফুটবে । ঠাকুর পটে দেওয়া যাবে । শেফালী ফুলের চারা কোথায় লাগাবে জায়গা খুঁজতে থাকে সৈবতী । ছেলে বলে বাউন্ডারী র কাছে লাগাও ।
সৈবতী বলে চার ফুট এদিকে লাগাতে হবে ।
ছেলে বলে ঐ বাড়ির বেল গাছের পাতা তো আমাদের বা বড়িতে এসে পরছে , পৌরসভা র অফিসার চোখে দেখে না ।
সৈবতী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে বেল গাছ আমাদের , ওরা জোর করে ওয়াল দিয়ে আটকে রেখেছে ।
ছেলে বলে তুমি শেফালী ফুলের চারা এখানে লাগাও । ফুল ফুটলে ঐ বাড়িতে ও পড়বে ।
ছেলের পরামর্শ মেনে শেফালী ফুলের চারা লাগায় সৈবতী বাউন্ডারী ওয়াল এর কোল ঘেঁষে ।ঐ ছোট্ট চারা বর্তমানে ডালপালা মেলে এ বাড়ি ও বাড়ির দেয়াল ছেড়ে উপর উঠে যাচ্ছে ।
এবারের শরৎ কালে  শেফালী ফুলের চারা য় ফুল ফুটেছে । সন্ধ্যায় ভোরে মৌ মৌ করে সুগন্ধে । প্রজাপতি আসে , মৌমাছি আসে । ফুল তোলে সৈবতী । ফুলের বিছানা পড়ে দু পরিবারের সীমানায় । ফুলের সাজি হাতে ফুল নিতে আসে প্রতিবেশীরা । সার্থক হয় শেফালী ফুলের গাছ ।
সৈবতী অপেক্ষা করে আইনী নোটিশ এর । কিন্তু আসে না উকিল নোটিশ , আসে না পৌরসভার কাউন্সিলর ,শহর কমিশনার ।
পুর চেয়ারম্যানের বলেন শান্তিতে বসবাস করুন ।পৌর আইন সকলের জন্য সমান । আপনাদের সুবিধা অসুবিধা দেখার দায়িত্ব আমাদের ।


স্মৃতিচারণ


          ✍️ অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

স্মৃতির আঙিনায় আঁকা বেলাভূমির বালুচর। 
শৈশবকালের কেটে যাওয়া প্রতিটি প্রহর।।
নদীরজলে পেখম মেলে গভীর সাঁতার কাটা। 
জল তরঙ্গে আপন মনে নিজের ছবি আঁকা।।
সিক্ত মনের বালুয় গড়া সাধের চালের কল। 
 কালের স্রোতে হারিয়ে গেছে মনের কোলাহল।। 
শীতকালে স্নানের ঘাটে জমতো আসর বেশ। 
হারিয়ে গেছে সেই আনন্দ সুখে আছি বেশ!! 
আমি ছিলাম আমার মনের মুকুটহীন সেই রাজা। 
দিনের পর দিন বেড়েই চলে অবাঞ্চিত কত সাজা।। 
ছোট্টকালের পুরানো দিনগুলি ছিলো কত রঙিন। 
কালের স্রোতে হারিয়ে গেছে পুরানো সেই দিন।। 

ভালো আছি


                   ✍️বিপ্লব গোস্বামী

বেঁচে আছি স্মৃতি নিয়ে বুকে
ভাবনা নিয়ে দিব‍্যি আছি সুখে।
সে তো চলে গেছে দূরে বহু দূরে
অন‍্যের হাত ধরে নিশ্চিন্তপুরে।

সে  ছিল অপরূপা অনন‍্যা
সারা দেহে যৌবনের বন‍্যা।
জ‍্যোৎস্না ঝরা চাঁদের মতো হাসি
সত‍্যি তাকে আজো ভালোবাসি।

বুঝেনি সে ভালোবাসার দর
মিথ্যা ছলে করেছে যে পর।
চাইতো যদি চাওয়ার মতো করে দিতাম তাকে রাতের তারা ধরে।

কখনো সে ভাবেনি তো আপন
করছি আজ কষ্টে দিন যাপন।
হয়তো সে দিব‍্যি আছে সুখে
আমিও সুখী কষ্ট চাপা বুকে।

মুক্তছন্দ


                ✍️চন্দন পাল

* অনাক্রমণতা
চঞ্চু সুখ শেষে অন্ধ মর্ষকাম ছোটে আপেল উপত্যকার ঢালু বেয়ে। কচি বাদামী তৃণাবৃত শীর্ণ রেখা বরাবর নেমে যেতেই হোঁচট লাগে অগভীর এক ক্ষুদ্র কুন্ডে। অদ্ভুত নেশার ঘ্রাণ জাগিয়ে কুন্ড ঠেলে দেয় ঝিনুক পুকুরের দিকে। ভেসে উঠে উদগ্র ঘ্রাণ আর কিছু দাগ। সর্ব্বোচ্চ সুখ পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখি আরও কত প্রিয়জনের পায়ের ছাপ। আমি ফিরে আসি নিডুব !

* ফাঁদ
শিকারে সময় বিনিয়োগ। অতঃপর কৌশল। ফাঁদ বিছান। আটক শিকার। অতঃ নিজের মত পোষ্য ! রোগগ্রস্ত হালে ছাড় কিংবা ক্রীড়নক । আবার নতুন ফাঁদ, নতুন শিকার, আবার রোগ! ফাঁদের ফাঁদ যেন তোমায় না ছোঁয়! তোমায় বড্ড ভালবাসি।

নদী


                ✍️ কল্পনা দাস (পাল)

ওগো  নদী, তুমি আপন মনে বয়ে চলেছ। 
তোমার  কি কিছু বলার  নেই  ? 
নেই কি কোন  অভিযোগ?
তুমি অসিম শক্তির অধিকারিণী, 
তাই তো তুমি এত  অভিমানী 
তুমি মনে মনে কত স্বপ্নের জাল বোনো , 
আর নিজের কথা নিজেই শুন।
ওগো নদী , তুমি কৃষকের প্রাণের বন্ধু, রাতের চুখের ঘুম।
তোমার বারিধারা বয়ে চলেছে কৃষকের  প্রতিটি ধমনীর 
রক্ত  স্রোতের   সাথে। 
গ্রীষ্ম ও বর্ষায় তুমি পূণ্য যৌবনা শরতে তুমি আবার শান্ত ও রূপবতী কন্যা।
তুমি বডড খামখেয়ালি পনায়  চলো। 
খুব নিরাশ করে তোল। 
যৌবনের উল্লাসে মও হয়ে দাও কড়তালি। 
এ কুল ভেঙে  ও কুল গড়
আবার  দুই কুল ভেঙে প্লাবিত কর। 
ভেসে যায় ঘর বাড়ি, কত পশুপাখি। 
কৃষকের শ্রমের ধন নিয়ে যাও কেড়ে। 
তোমার আনন্দের  প্লাবনে 
কত মায়ের কত সন্তান  যায় ভেসে । 
তুমি একবার পিছন ফিরে তাকাও না তো তায়   ? 
শুধু বিরামহীন ভাবে বয়ে চলেছো। 
কোথায় তোমার ঘর? 
কি তোমার ঠিকানা  ? 
‌এ শুধু তোমারই  জানা।

পাথর চোখ

                 
                  ✍️অনুরাগ ভৌমিক 

গভীরে একটা পিপিলিকার
প্রেম অণ্বেষণ।

পাকা পেয়ারার ভেতর শুয়ে
প্রতিবার দেখি -

বৃক্ষ ছায়ায় বিশ্রাম করে শব্দেরা।

যত ই আস্ফালন, প্রদর্শনীর মাঠে,

শব্দহীন ফুলেদের চেয়ে থাকা,

বৃষ্টি হোক, বৃষ্টির শব হয়ে উঠুক উঠান।

এভাবে মিলিয়ে যাবে শান্ত সম্পর্ক,

এভাবে চুপ হয়ে যাবে নেড়ি কুকুর-সময়।

কারন আরশোলার মৃত্যুতে কোনো শোক সভা হয়না...

বর্ণ মালার বর্ণালী


                 ✍️ মাধরী লোধ 

    অনামিকা পড়ে ছড়ার বই
     আঁচল কষছে অঙ্ক
   ইটের ঘরে চলে রঙ এর কাজ
ঈ 
   ঈশাণ দাদুর উঠেছে হৃদ কম্প ।
  উঠোনে শুকাচ্ছে সিদ্ধ ধান
 ঊষা দিদি শুকায় ভিজে চুল
ঋষভ পুকুর ঘাটে বড়শি বায়
  ৯
লিকার চা খেয়ে বেড়েছে শূল ।
এককা দোক্কা পাঞ্জা খেলার মাঠে
ঐরাবত দলের পড়লো হানা
ওল কপির ঝোল খেলে বল বাড়ে
ঔ 
 ঔষধ খেতে করলো মানা ।