জন্মাষ্টমী


               ✍️ মনচলি চক্রবর্তী 

কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি,
রোহিণী নক্ষত্রে জন্মাষ্টমী।
কংস -বধ, মথুরা, বৃন্দাবন,
সর্বত্র  পালিত শ্রীকৃষ্ণের জন্মানুষ্ঠান।
রাসলীলা কৃষ্ণের দুষ্টু কর্মকাণ্ড,
শিশু মনে জাগায়  আনন্দ।
 শ্রীকৃষ্ণগোপালের জন্ম, 
হাওয়ায় সবার  আনন্দ। 
দেবকীর অষ্টম সন্তান,
বিষ্ণুর অষ্টম অবতার ।
কংসের কারাগৃহে জন্ম শ্রীকৃষ্ণের,
তবু কারামুক্ত প্রেমে বন্দী রাধিকে!
ননী চোরা, ননী গোপাল ,
মিষ্টি সুরের বাঁশি বাজায় রাখাল ।
গোপিনীদের করে পাগলিনী!
মাখনে আস্বাদিত লীলা ছলকারি। 
জন্মাষ্টমীর পূজা উৎসব
প্রকৃত অর্থে আনন্দোৎসব।

ছিন্ন বীণা

                    
        ✍️ সুখ চন্দ্র মুড়াসিং 

সংসার সমুদ্রের কয়েক কদম আগেই সুখেন বাবুর হৃদয় বীণা বিহাগ রাগে বাজতে শুরু করল । বরযাত্রী নিয়ে সাজানো গাড়ী থেকে নামতেই  বরণ ডালা নিয়ে বরণ করতে এসে শাশুড়ি মার কয়েকটি তির্যক কথায় শোরগোল পড়ে গেল। ঘনিষ্ঠ কয়েক জন ছাড়া বাকী বর যাত্রীগণ  তাদের গাড়িতে  গিয়ে বসে পড়লেন ।
উপস্থিত মান্য গণ্য গণের হস্তক্ষেপে বিয়ে সম্পন্ন হবার পর সুখেন বাবু বর সজ্জায় প্রবেশ করে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর হাব ভাবে হতাশা হলেন, বধূ বরণের সময়  স্ত্রীর উদ্বত আচরণে আতরের সুবাস ফিকে হয়ে গেল । ধীরা গমনে গিয়ে স্ত্রী এবং শাশুড়ির নানা তির্যক বাণে ক্ষত বিক্ষত হলেন।শাশুড়ি এবং স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বললেন - যদি এতই অপছন্দ রাজি হলেন কেন ? প্রতি উত্তরে শাশুড়ি মা বলেন - তোমাকে নয় তোমাদের ও  ঘনিষ্ঠ জনদের আচার ব্যবহার আমাদের অপছন্দ ওরা অসামাজিক। মানসিক নির্যাতনে বিধস্ত অভুক্ত সারারাত মশার কামড় খেয়ে বারান্দায়  বসে রইলেন কেউ রা করলেন না।
     ভোররাতে এক রাশ অপমান ও দুঃখ নিয়ে শশুর বাড়ী ছেড়ে  বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। সবার অলক্ষে নিজ ঘরে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়লেন , শান্তির ঘুম ভঙ্গ হল এক দল পুলিশ এবং পরিবারের লোকদের চেঁচামেচিতে। যৌতুকের জন্য নববধূ নির্যাতনের অভিযোগে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হল। থানায় , শাশুড়ি দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন - যদি ঘরজামাই থাক অভিযোগ উঠিয়ে নেব নয়ত জেলে পচে মর।

আরেকটি বার

                  ✍️ইমরান খান রাজ 

বৃষ্টি এলো 
ভিজিয়ে দিল 
আমার এই মন, 
তুমিহীনা দিনটাতে 
থাকেনা সুখ 
করে শুধু জ্বালাতন। 
দিকে দিকে খুঁজি 
সকাল-বিকাল-সাঝে 
পাইনা কোথাও দেখা, 
তোকে ছাড়া আমি 
শূন্যতায় ভুগি 
কেন জানি লাগে একা৷ 
ছুঁই ছুঁই করে 
তোকে ছুঁতে পারি না 
পালাস কেন বারবার? 
চল ভালোবাসি, 
চল কাছে আসি 
তুই-আমি আরেকটি বার।

শরৎ সৈকতে সে

অনুশোচনা


                     ✍️অধীর কুমার রায।

আমি সেই হিমাংশু ,
যে কুড়ি বছর আগে তোমাকে নামিয়েছিল
নালার পঁচা গলা জলে পানা পুকুরে ।
তুমি কাঁদতে কাঁদতে সেই নালায় নেমে
ভালোবেসে ফেললে কচুরিপানার ফুল।
তারপর ধবল বকের ডানায় দুজনায়
দিগন্ত রেখা ধরে কত উড়েছি নীল নীলিমায়।
দেখিনি সম্পর্কে চির, ছাতা হয়নি ফুটো,
চোখে পড়েনি ভূমিকম্পের চোরা ফাটল।
শুধু ভাবনারা ঘুম থেকে জেগে 
বিবেকের আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে
প্রশ্ন করেছে বারংবার ,
"সেদিন তুমি ঠিক করেছিলে?"
এই প্রশ্নের উত্তরে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া
আর একটাই পথ খোলা আছে নীলাঞ্জনা,
আন্দামানের সেলুলার জেলের লোহার গারদ।

স্বাধীনতা


                   ✍️তপন মাইতি

স্বাধীনতা অবশ্যই পাওয়া যাবে 
যদি না 
আমরা আমাদের পাপ্য অধিকার 
থেকে বঞ্চিত না হই 
প্রত্যেকের তার হাতে সাড়ে তিন হাত পেলেই যথেষ্ট
তবু পৃথিবীতে কেউ নিজের জন্য 
একদম একা বাঁচতেই পারে না 
অথচ সবেতে শুনি 
'একা এসেছিস একাই চলে যেতেই হবে 
এত মায়া বাড়িয়ে লাভটা কি?
ধৈর্য ধর
অপেক্ষা কর 
জানো না সবুরে মিঁয়া ফলে 
তোমার ঠিক যা যা দরকার 
যা যা প্রাপ্য 
সবই তা পাবে 
রাজতন্ত্র গিয়ে গণতন্ত্র সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র এল 
অথচ পঁচাত্তর বছর পর স্বাধীন দেশে বসে 
আর কতদিন হা স্বাধীনতা হা স্বাধীনতা করবে?
কবে আমরা স্বাধীনতার মত স্বাধীনতা পাব?