| ✍️ ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্যি |
| সংজ্ঞা খুঁজে যাচ্ছি! ডিকশনারির পাতা ঘেটে শেষ করে ফেলেছি, নেট এ খুঁজে যাচ্ছি , এখনো জানতে পারি নি! ভালোবাসা কি? তোমার সাথে কথা না হলে যে কষ্ট হয়। তার নাম কি ভালোবাসা? তোমায় না দেখলে মনটা যেমন উদাস হয়ে ওঠে সে কি ভালোবাসা? তুমি অভিমান করলে মনের মাঝে যে উথাল পাথাল ঝড় বয়ে যায় তার নামই কি ভালোবাসা? তোমায় খুঁজে না পেয়ে যে ছন্নছাড়া দিন কাটাই তাকে কি ভালোবাসা বলে? কি জানি! কিছুতেই ভালোবাসার মানে বুঝতে পারি না। কেও বলে ভালোবাসা একটা অনুভুতি যা চাইলেও পাওয়া যায় না, আবার অনেক সময় না চাইতেও পাওয়া যায়! কেও কেও এত বেশি পায় যে ভালোবাসার যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে যায়; আবার অনেকে ভালোবাসা না পেয়েও যন্ত্রণায় কাতরায় ভালোবাসার কাঙাল হয়ে থাকে । তোমার ভালোবাসার পথ চেয়ে থাকি আর ভালোবাসার মানে খুঁজে বেড়াই শুধু তুমিই বোঝো না কিংবা বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকো আমায় কষ্ট দিতে। ভালোবাসা কি জ্যোৎস্নার চেয়ে সুন্দর, ভালোবাসা কি কবিতার চেয়ে কষ্টের ভালোবাসা কি ফুলের সৌরভ, ভালোবাসা কি সাগরের বিলাসিতা।। কিংবা নদীর বয়ে যাওয়া জল, আমি বুঝতে পারি না । আমার কাছে ভালোবাসা মানে তোমার বাড়ানো হাত আমায় কাছে টানার কিংবা "শুধুই তুমি"। |
ভালোবাসা
অনুগল্প-পনেরো বছর পর
.....................✍️ রুমা আচার্য্য
রাশি আর তার বর দুজনই ভাল চাকরি করে আর তাদের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। কোনো একটা কাগজ খুঁজতে গিয়ে পুরনো বাক্সে একটা ছবি দেখে রাশির দীর্ঘ পনেরো বছর পুরনো কিছু স্মৃতি মনে পড়ে যায়।
তো যেটা বলছিলাম,
নিশীথ, তৃষা, রাশি তিনজন কলেজের বন্ধু। নিশীথ আর তৃষার মধ্যে একটা আলাদা বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। কলেজের সব বন্ধুরা তা জানত ,তারপর কলেজ শেষ হতে না হতেই তিনজনই ভাল চাকরি পেয়ে যায় ।
আর ঐ দিকে রাশি খুব খুশি ছিল নিশীথ আর তৃষাকে নিয়ে। রাশি বরাবর তাদেরকে বিয়েটা সেরে নেওয়ার জন্য প্রস্তাব দিত, কিন্তু হঠাত্ একদিন নিশীথ রাশিকে ফোন করে বলে, "না না না, আমি তৃষা কে বিয়ে করব না, সব শেষ, তৃষা চাকরি পাওয়ার পর থেকে আর আমাকে আগের মত সময় আর ভালোবাসা কোনোটাই দিচ্ছে না।" যদিও নিশীথও আগের মত তৃষা কে সময় দিতে পারছিল না।
রাশি খুব কষ্ট করে দুজনকেই বোঝায় তোরা এভাবে 'ইগো ' না দেখিয়ে জীবনে এগিয়ে যা। তবে তা হয়নি। নিশীথ আর তৃষার মধ্যে ইগোটাই জিতে গেল ।
বছর দেড়েকের মধ্যে তৃষার বাড়ি থেকে বিয়ে দেওয়া হয়। তৃষা বর্তমানে বিদেশে তার বরের সাথে ভাল আছে, তবে তৃষা আর রাশির মধ্যে প্রায় ফোনে কথা হয়।
হঠাত্ রাশির ফোন বেজে উঠল। "নিশীথ বলছিলাম, রাশি কি করছিস অনেক দিন হলো দেখা হয় না। আজ সন্ধ্যায় অফিসের পর দেখা করতে পারবি?"
" ঠিক আছে, কোথায় দেখা করব?"
"কফি হাউস"
"ওকে"
নিশীথ আর রাশি এখন প্রায় দেখা করতে শুরু করে। রাশি কলেজের গল্প করলেই নিশীথ খুব রাগ করত, আজকাল রাশি নিশীথের পছন্দ অপছন্দ খুব ভালো করে খেয়াল করতে শুরু করে।
তৃষা অনেকদিন পর রাশিকে ফোন করে ধুম করে বলে বসে, " রাশি তোরা দুজন বিয়ে করে নে আমার বিশ্বাস তুই নিশীথকে খুব ভালো রাখবি।"
তৃষার ফোন পেয়ে রাশির মনে নিশীথের জন্য একটা আলাদা জায়গা তৈরী হল। ঐ দিকে নিশীথও রাশিকে সবুজ সংকেত দেয় , মাস ছয়েকের সম্পর্কের পর রাশি নিশীথকে বলে আমাদের বিষয়টা নিয়ে বাড়িতে কথা বলতে হবে এখন।
নিশীথ- কোন বিষয় নিয়ে? নিশীথ রাশিকে বলে, "দেখ রাশি, আমরা ভাল বন্ধু আর কোনো কিছু নেই আমাদের মধ্যে ,তুই জীবনে এগিয়ে যা।
"নিশীথ কী বলছিস! তবে এতদিন কী ছিল এসব?
" আরে রাশি তুই বোকা নাকি আমি তোকে ভালবাসি না।"
সেই দিনের পর রাশি আর ফিরে তাকাল না , তবে আজ পনেরো বছর পর কলেজের এক বন্ধুকে ফোন করে জানতে পারল নিশীথ বিয়ে করেছে তবে তার জীবনে নিত্য অশান্তি বয়ে যাচ্ছে ।
রাশি দীর্ঘনিঃশ্বাস নিয়ে মনে মনে বলল, যা হয় ভালোর জন্যই হয়।
সম্পাদকীয়
.............................................✍️ সম্পাদকীয়
আজ ১৫ আগস্ট অর্থাৎ মহান "স্বাধীনতা দিবস"। স্বাধীনতার ৭৫তম দিবস। ভারতবাসীর সবচেয়ে গৌরবের দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন। ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট এই দিনে ভারতবাসীর দেশভক্তি ইংরেজদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক নিজের প্রাণ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশবাসীকে। আর এর মূলে ছিলেন জাতির নেতা এবং নেতার নেতা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু। সেই ঘোষণার আলোকেই মরণপণ লড়াই এবং রক্তসমুদ্র পাড়ি দিয়ে ভারতবাসীর বীর সন্তানরা ছিনিয়ে আনে জাতীয় ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন– "স্বাধীনতা"। আর এই জাতীয় আন্দোলনে এবং কালের মহান উপহার অর্জনে সাহিত্যের প্রভাব কতখানি তা আলোকপাত করলে অসীম সাগরে চলে যাবো। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি মহান বিপ্লবী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা।
তাই বলতে পারি, সাহিত্য প্রতিবাদকে সুস্পষ্ট করে তোলে, কলমকে অস্ত্রশক্তিতে রূপান্তরিত করে। তাই সাহিত্য শুধু ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে রচিত হবে না, অন্যায়ের প্রতিবাদেও সাহিত্য বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাই আজ এইদিনে একটি সাহিত্য পত্র হিসাবে 'নবোন্মেষ'এর পক্ষ থেকে সমগ্র বিশ্ববাসী এবং দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও দেশভক্তির ভালোবাসা। এবং যারা এই সংখ্যায় কলম ধরেছেন তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
শুভ কামনায় ও ধন্যবাদান্তে
গৌরাঙ্গ সরকার ( সম্পাদক, নবোন্মেষ)
শিবশংকর দেবনাথ( সহসম্পাদক, নবোন্মেষ)
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)
