"দীঘি"

"দীঘি"

সময় হল ভেসে যাওয়ার মনু থেকে ফেনী ...
কোথাকার জলো হাওয়া 
এলোমেলো হল সব ,
গোধুলি সময় কড়া নাড়ে আঙিনায় ।
শুনেছ কলকলধ্বনি দেখেছ জল 
দেখোনিতো হৃদয়ের রক্তক্ষরণ ।
জলের ভিতরে  আগুন জ্বেলে
পেয়েছ কী নিখাদ সোনা ?
সরিয়ে দিয়ে বুকের পাথর 
পাবে কী আর হাজার তাঁরা ?
তাকাও যদি চোখে 
দীঘি দেখতে পাবে  !

"ব্যাবসা"

"ব্যাবসা"

সামান্য পথভ্রষ্ট কিংবা নিশাচর হলে
সমাজ তাকে "বেশ্যা" বলে করে বিসর্জন
আদো কী সবটায় তার দোষ
পুরুষের খামের খিদা আর নারীর দুর্বলতা,
দুটায় কী এখানে গৌন।
বেশ্যা  যদি দুষ্টা হয়  পুরুষ কেন যায় তার কাছে?
বাজারে নারীর অভাব অভিযোগ কেহ বোঝে না
হরিন চাওনি আর মিষ্টি হাসিতে সবটায় থাকে ঢাকা
শখে কেহ তথাকথিত বেশ্যা হয় না
বেশ্যা হয় চাহিদায়
যাকে দেখে ঘৃণায় লজ্জায় সমাজের মাথা নত।
সমাজের বড় বড় মাথারায় তাকে এ মোড়ে এনেছে।।
শত ঝড়ের মাঝে যার খোজ কেহ রাখে না
সামান্য দেহ ব্যাবসার খবর নিতে হাজার জন তার দর কষে।
মিডিয়া খবরের জন্য হামলে পড়ে।
পাড়ার মোড়ে গলির পথে বসে চর্চা সভা
রাতের আধারে সাজানো শরিরের চকচকা রুপ
দিনের আলোতে ছিড়া কাপড়ে আগলে রাখে সে,
সেও সন্মান পেতে চায়
সেও সাধারন ভাবে বাচতে চায়
তার ও মন আছে পরিবার আছে
কিন্তু কে শোনে তার কথা
আকাশের নিচে একফালি ছাউনির নিচে
সে যে গুমরে কাঁদে
বেদনা আর হতাশার জীবন তার কাটে আতংকে
নিমেষেই  বদলে জীবন রাতের আধারে
সবাই বলে বেশ্যা
সমাজে তার নাম বেশ্যা

"আরও একবার"

           ✍️পাপিয়া দাস

চলছে তিনটি বছর
চলে যাচ্ছে  সময়,
পঠন পাঠনে ধীরগতি।

কি এক মহাকাল!
নিয়ে এল আকাল,
বিপদের জঞ্জাল।

কাজকর্ম  নেই,
চলছে অভাব।
দীন দরিদ্র হতভাগ।

আচার -অনুষ্ঠানও
করতে হচ্ছে ভয়ে ভয়ে,
পঞ্চাশ  -ষাট জনকে নিয়ে।

অতিষ্ঠে কাটছে দিন 
দুটি বছর ধরে,
আবার ও নাকি এই মহামারী আসল পৃথিবী জুড়ে।

স্কুল কলেজে তালা
ছাত্রছাত্রীর  হাতে মোবাইল  ফোন,
মা-বাবার একি!পরম জ্বালা।

কবে ঘুচবে মহামারী
আসবে কবে   শান্তি ফিরে 
এই অশান্ত কুটিরে।

"মা স্নেহময়ী"

"মা স্নেহময়ী"

মা তুমি স্নেহময়ী,করুনাময়ী,
তুমি অতুলনীয়া 
তোমার স্নেহ আছে বলেই পৃথিবীতে
বেঁচে স্নেহ আছে বলেই পৃথিবীতে 
বেঁচে স্নেহ, মমতা, ভালবাসা।
মাগো, মা তোমার হাত ধরেই
প্রথম আলোর মুখ দেখা, পৃথিবীতে আসা।
তোমার কোলে মাথা রেখেই, আমার প্রথম 
শিক্ষা লাভের সূচনা। 
তোমার ভালবাসাতেই খুঁজে পাই 
আমার বেঁচে থাকার আশা।
মা, তুমি থাক গো চিরকাল শ্রদ্ধার আসনে,
অস্রুসিক্ত নয়ন মেছাতে।

নবোন্মেষ জানুয়ারী সংখ্যা

প্রকাশিত হল নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার জানুয়ারী সংখ্যা। 

সম্পাদকীয়

    সম্পাদকীয়...........................✍️
  
আমরা রোজ প্রতিবাদ করি, রোজ সম্পর্ক তৈরি করি, আবার রোজ শত্রু নিজে হয়ে যায়। পৃথিবীর নিয়মই এরকম। কিন্তু পৃথিবীতে এমন কিছু মহাপুরুষ বা মহামানব এসেছিলেন যাঁরা কোনোদিন শত্রু তৈরি করিনি৷ বরং সবাইকে ভালোবেসে গেছেন৷ তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল সমাজ কল্যাণ করা। এমন মহা-মানবদের নাম উল্লেখ করা যায়। যেমন- নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ, এপিজে আব্দুল কালাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আরো অনেকে। তাঁদের ঘৃণা বা জীবন থেকে ত্যাগ করতে চাইলেও আমরা তা পারি না। আজ তাঁদের মহান প্রেমের আবেগেই কবি-লেখকদের আবেগের তৈরি কলম দিয়ে নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার জানুয়ারী সংখ্যা সেজেছে। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, শুভকামনা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এবং যাদের সহযোগিতায় নবোন্মেষ মানুষের হৃদয় মহাকাশে স্থান পেয়েছে তাদেরও ভালোবাসা জানাই। এই সংখ্যায় যারা বিশেষ সহযোগিতা করেছেন, যেমন- পান্থ দাস, সুমিতা স্মৃতি, সঞ্চয়িতা শর্মা তাদেরও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। শুভকামনায়- 
গৌরাঙ্গ সরকার
(সম্পাদক, নবোন্মেষ)
শিবশংকর দেবনাথ
(সহ-সম্পাদক, নবোন্মেষ)

"ফুলেশ্বরী"

"ফুলেশ্বরী"

পিউ তিন বছর বয়েস থেকেই ফুল গাছে লাফ ঝাপ মারা প্রজাপতি, ভ্রমরের পিছনে ছুটতে ছুটতে মা শেফালী কে বলতো ধরে দাও আমি আদর করবো, নয়তো ঘাস ফড়িং এর লেজ বা গঙ্গা ফরি্্ এর লেজ ধরে চেঁচিয়ে বলতো সুতোয় বেঁধে দাও আমি ওর সাথে খেলবো । দাদা কৌশিক বহু কৌশলে প্রজাপতি কালো ভ্রমর ,ঘাস ফড়িং গঙ্গা ফরি্্ ধরে সুতোয় বেঁধে দিতো মনের আনন্দে খেলতো পিউ । কৌশিক কে বলতো থ্যনক ইউ সোনা ভাই ।আর কৌশিক বলতো আর জ্বালাস না ফুলেশ্বরী , আমি পড়তে বসবো ।
সোনাভাই ফুলেশ্বরী ক্রমান্বয়ে বড় হয় ।সে ডাকতারি পড়তে চলে যায় অরুনাচল প্রদেশ ।একা একা খেলে পিউ । তার কথা বলার সঙ্গী ফুল বাগানের ভ্রমর প্রজাপতি ঘাস ফড়িং গঙ্গা ফরি্্ ।
মা শেফালী গাছ লাগান, ফুল গাছের কাটিং করেন বাবা অমিয় ভূষণ ইস্কুলের মাষ্টার ছাড়া ও দলে দলে ছাত্র পড়ান ।গাছ গাছালির দিকে নজর দেবার সময় হয় না ।
অমিয় ভূষণ এর ছাত্র তীর্থঙ্কর সদ্য ইন্জিনিয়ারিং পাশ করে বাড়িতে এসেছে ।আজ দেখা করতে এসেছে অমিয ভূষণ স্যার এর সাথে । উঠানে দাঁড়াতেই দেখা হয় পিউ র সাথে । প্রথম দর্শনেই তীর্থঙ্কর দেখলো বহু রঙ্গা ফুল বাগানে  দাঁড়িয়ে আছে পিউ নামে মানবী প্রজাপতি ।
তীর্থঙ্কর কৌশিক এর সহপাঠী সে সুত্রে আগে ও যাতায়ত ছিলো কিন্তু আজ দেখলো এ পিউ সে পিউ নয় এ যে রূপের হাটে এ অপরূপা  ফুল কলি ।
তীর্থঙ্কর হেসে বলল কেমন আছো ফুলেশ্বরী ।
পিউ বললো ফুলেশ্বরী বললে কেন ,
তীর্থঙ্কর বললে  আমার ইচ্ছে হলো তাই ডাকলাম ,যদি সু্যোগ পাই বাকি জীবন ডাকবো ফুলেশ্বরী বলে ।
এ আমার সোনাভাই এর দেওয়া নাম ,আর কেউ ফুলেশ্বরী বলে ডাকলে সাড়া দেবো না ।
তীর্থঙ্কর বলে আমার অপরাধ কি ।
পিউ বলে জানিনা। আপনি আমাকে আর কখনো ফুলেশ্বরী বলে ডাকবেন না ।
পিউর বিয়ে হয়ে যায় । তীর্থঙ্কর এর সাথে নয় তমাল এর সাথে ।তমাল স্কুল শিক্ষক । এম এস সি পাশ । তমাল ভদ্র ।পিউ দের বাড়ি থেকে চার বাড়ি পরে । স্বামীর স্্সারে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য আরাম আয়েশ এর কমতি নেই । সাজানো গোছানো বাড়ি ঘর । সারা উঠোন জুড়ে ফুলের বাগান । বাড়ির এ কোন ও কোন এ ফুটে থাকে বাহারি রঙের ফুল গুলো । ফুলের সৌন্দর্য সৌরভের লোভে ছুটে আসে অলি ,নাচ গান করে প্রজাপতি লাফায় ঝাপায় ঘাস ফড়িং গঙ্গা ফরি্্ ।পিউর জীবন পূর্ণতা পায় একটা পুত্র সন্তান এর জন্ম দিয়ে ।
পিউর সুখ দুখ আনন্দ বেদনা ভালো মন্দ মিশে যায় তমাল এর জীবনের সাথে ।
পিউর জীবনে ঝড় আসে । চোখে নামে ঢল । এ ঢল আজীবন  ব ইতে হবে দু চোখে ।জানে না এর নিস্পত্তি কোথায় ।
ফুলের বাগানে দাঁড়িয়ে এখন ছবি তোলে না পিউ , ছেলের জন্য ধরে না প্রজাপতি ঘাস ফড়িং বা গঙ্গা ফরি্্ । শুধু হতাশা গ্রাস করে পিউ তমাল এর জীবনে ।
সোনাভাই কৌশিক ফুলেশ্বরী বলে ডাকলে সাড়া দেয় না ।
তমালের চাকরি চলে গেছে ।সে এখন কর্মহীন বেকার । সুপ্রিয় কোর্ট রায় দিয়েছে ও শিক্ষা দানের অযোগ্য ।পিউর স্বামী তমাল হতভাগা দশহাজার তিনশো তেইশ  এর ছাঁটাই হ ওয়া শিক্ষক ।
ফুলবাগানে ঝাঁক ঝাঁক প্রজাপতি নাচলে ও খিলখিলিয়ে আর হাসে না ফুলেশ্বরী ।
                  -------

"ওগো হেমন্ত রইলো তোমায় নিমন্ত্রণ"

"ওগো হেমন্ত রইলো তোমায় নিমন্ত্রণ"

ওগো হেমন্ত রইলো নিমন্ত্রণ, 
তোমার দ্বারে আমার। 
তুমি যে যাচ্ছো চলে বহুদূর, 
তাইতো বইছে ভুবনে বিষাদের সুর! 
ওগো হেমন্ত রইলো নিমন্ত্রণ, 
তোমার দ্বারে আমার। 
ওগো হেমন্ত তোমার আগমনে, 
বইছিলো চারিদিকে আনন্দের সুর। 
তোমার সহিত এসেছে আমার ঘরে, 
শতশত পাখি অতিথি হয়ে আমার ঘরে। 
এখন যে যাবে চলে যে যার নীড় ছেড়ে, 
আমার ঘরটি ফাকা করে! 
তোমার কুয়াশার চাদরে ঢাকা, 
সবুজ ঘাসের মাঠটি যেনো ডেকে বলছে তোমায়
ওগো হেমন্ত রয়ে যাও  আরও কিছুক্ষণ যেওনা সখা এখন! 
তুমি যে হেমন্ত নিয়ে যাচ্ছো চলে, 
সমস্ত পুরাতনকে ঝরিয়ে দিয়ে যাচ্ছো তুমি সখা চিরনবীনের আভা। 
প্রজাপতি তার রঙ্গিন পাখায় যেন, 
বয়ে নিয়ে চলেছে বিষাদের সুর
যাবে যে চলে সখা হেমন্ত ছেড়ে তাকে! 
ওগো হেমন্ত তোমার প্রেমের বৃষ্টিতে ভিজেছি আমি, 
তবুও তোমায় বিদায় দিচ্ছি আমি। 
যাচ্ছো নিয়ে তুমি হেমন্ত, 
আমার সমস্ত পুরানো স্মৃতির খাম। 
রেখে যে যাচ্ছো তুমি সখা আমায় একা, 
কবে যে হবে আমার সমস্ত প্রতিক্ষার অবসান
বলতে পারো কী সখা হেমন্ত আমায়? 
ওগো হেমন্ত তুমি ফিরে এসো প্রকৃতির রীতি মতো, 
রইলো নিমন্ত্রণ তোমার দ্বারে আমার। 
ওগো হেমন্ত এসে যেনো, 
ভরিয়ে দিও চাষার ঘর টি, 
দিও তুমি সখা এই বরটি। 
ওগো হেমন্ত রইলো নিমন্ত্রণ, 
তোমার দ্বারে আমার।

"অস্তিত্ব"

"অস্তিত্ব"

পরিচিত চায়ের চুমুকে, 
রেলিং ঘেরা ঝুল বারান্দায় 
তার আলতো ছোঁয়া রেখে যায়। 

হাতঘড়ি জানান দেয় 
বিকেলের মিঠে কড়া রোদে 
আড্ডা জমানোর নেশা। 

কখন যেনো হাতড়ে যায় 
শূন্য আরামকেদারার হাতল
দীর্ঘশ্বাস ফেলে। 

ফানুসের মতো উড়ে গিয়ে 
কষ্টগুলো বাষ্পীয় আকার নেয়
একা,  নিঃসঙ্গ ভাবে। 
নির্বাক হয়ে দেখি আমি 
চোখের জলের দাগে 
ছোঁয়া পাই  যে তার।। 
                  *****

"অভিব্যক্তি"

    সুপর্ণা মজুমদার রায়

তোর মন খারাপের সব দুঃখ গুলো গুছিয়ে রাখিস আমার জন্য । 
আমার ঝুলি ভরা সুখের বিনিময়ে তোর দুঃখ কিনে আনবো। 
তোর দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে যাওয়া জলগুলো জমিয়ে রাখিস জীবন পাত্রে। 
আমার তৃষিত হৃদয় সেই জলে ভিজাবো। 
সুদীর্ঘ বছর কেটে গেছে, আকাশের গায়ে আবীর উড়াই না। 
তোর আমার আবদ্ধ কথামালায় শেষের কবিতা লিখা আর হলো না। 
তোর ফেলে যাওয়া যে রঙিন ওড়নাটা, 
তাতেই এখন সাদা কালো জীবনের  বসন্ত মানাই । 
দ্বিধা দ্বন্দ্বকে উপেক্ষা করে মনের ভাঁজে 
যাযাবর সুখকে লুকাই। 
ভয় হয়,পাছে আমানতি সুখটা না চলে যায়, 
যে সুখে তোকে রাঙাবো ভেবেছিলাম । 
কে বলে,আমি নেই তোর পাশে? 
দমকা হাওয়ায় যখন তোর রেশমি চুল দুলে উঠবে, 
জানবি,পাশে আমিই আছি তোকে ভালোবেসে । 
------******------

"মধুর লীলাক্ষেত্র"

"মধুর লীলাক্ষেত্র"  

মিছে মায়ায় বদ্ধ হয়ে 
     হলে মায়াতে আবদ্ধ, 
অবশেষে আবার যেন 
       না হয় শ্বাস রুদ্ধ।
এতো কথা এতো গানে 
   পাও খুশীর আমেজ, 
থাকে যেন প্রাণে সদা 
   সুখের এই  আমেজ।
সুখ দুঃখ ঘূর্ণায়মান 
    তাই সদা জাগে ভয়, 
ভয়ে কম্পিত হয়ে ভাবো
       কখন যে কি হয়।
রঙ্গরসে আছে কন্টক 
      আছে কতো বাধা, 
বৃন্দাববনে করে লীলা
         কৃষ্ণ আর রাধা।
রঙ্গ লীলায় হয়ে মত্ত
       আনন্দে হন মগন, 
নরনারীর লীলাক্ষেত্রও
           মধুর বৃন্দাবন, 
প্রেম লীলায় কৃষ্ণ আর
          রাধা বিনোদিনী।
অষ্ট সখী রেখে রাধা
             হন উন্মাদিনী, 
বৃন্দাবনে রাধা কৃষ্ণের
         দেখে প্রেম লীলা, 
দেখাদেখি নরনারী মর্ত্যে 
          করে প্রেম খেলা। 
সর্ব কর্মেই আছে বাধা
     রেখো চোখে জড়তা, 
যথাসাধ্য করো চেষ্টা 
           রাখতে সম্ভ্রমতা।

"বর্তমান"

"বর্তমান"

আজ স্তব্ধ এই মানব জীবন।
দিন দিন বেড়েই চলেছে মনুষ্য পতনের সংক্রমণ।।

খেটে খাওয়া মানুষ আজ অন্নের কাঙ্গাল।
অভাবের দরুনই চুরি-ডাকাতি তুমাল।।

ব্যবসায়ী শ্রেণি হচ্ছে ক্ষতির সম্মুখীন।
কৃষকরা বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ সুদ করতে না পেরে ঋণ।।

পুড়ছে মানুষ আজ হিংসায়।
ডুবে মরছে লোভ লালসায়।।

পাশে দাঁড়ানোর বন্ধুত্ব আজ লুপ্ত হচ্ছে।
কাল মুখোশের আপনত্ত্ব বিশ্বাসী কে ধ্বংস করছে।।

প্রতিবাদ করা মানুষগুলো আজ নীরবতার দমনে ভুগছে।
অন্ধকারের কোপে যেন আলোর নিঃশেষ ঘটছে।।

সঠিক শিক্ষা গ্রহণে হচ্ছে নানান বাধা।
সরল সোজা দেখতে অথচ অমিল ধাঁধা।।

একের দুঃখে অন্যে হাঁসে।
ন্যায়-এর বিচার বন্যায় ভাসে।।

পরোপকারী সর্বস্ব হারাচ্ছে।
অথচ চোষাগুলো আরো অধিক ক্ষমতাবান হয়ে উঠছে।।

ভালো স্বভাবী মানুষরাও বহন করছে অপমান।
হ্যাঁ আজ এটাই বর্তমান।।

"সকলের স্বামী"

"সকলের স্বামী"

পাখির কাছে প্রশ্ন করি
কে শিখিয়েছেন গান ?
পাখি বলে তিনিই যিনি
দান করেছেন প্রাণ।

ফুলের কাছে প্রশ্ন করি
কে শিখিয়েছেন হাসি ?
ফুল বলে তিনি যিনির
ঐ রাঙা পদের দাসী।

শিশুর কাছে প্রশ্ন করি
কে শিখিয়েছেন মায়া ?
শিশু বলে তিনিই যিনি
দান করেছেন কায়া।

ফুল পাখি জল স্থলের
 সৃষ্টিকর্তা হন যিনি,
অনাদির আদি ঈশ্বর
সকলের স্বামী তিনি।

"নষ্ট ফসল"

"নষ্ট ফসল"

লাগিয়ে ছিলাম বহু কষ্ট করে, 
আজ আমি হতবাক নষ্ট দেখে। 
ঈশ্বরের কৃপায় মুই হয়েছিলাম ধন্য
সেই আমিই উড়িয়ে দিলাম আমার পণ্য। 
ন্যায্য দামে চলছি আমি অনবরত প্রতিদিন,
সেই সম্পদ আমার কাছে অমূল্য একদিন।
পরিবারের পেটের ভাত কিসে করিবো যোগাড় 
আমি এক ক্ষুদ্র চাষা সর্ব শান্ত হলাম এবার। 
দেশজুড়ে সবাই করে চাষার জন্য আন্দোলন 
দশের মধ্যে আমি এক ক্ষুদ্র চাষা কী করি এখন?
সবার এখন আন্দোলনের নেইকো দরকার 
সবার আন্দোলনের ফসল হয়েছে চমৎকার। 
পরাধীন থেকে স্বাধীন দেখিনি এই আন্দোলনের ধরন
দেশের সম্পদ নষ্ট করে সবাই বলছে আন্দোলনের ফসল।
গান্ধিজীও লবণ তৈরি করে করেছিল ডান্ডি অভিযান, 
লবন কিংবা দেশীয় সম্পদ নষ্ট করেনি একবার। 
পক্ষে - বিপক্ষে যাই আসুক ফসল সবার 
আমি গরীব হলাম আন্দোলনে নষ্ট এবার।
বিবেকানন্দ ডাক দিয়েছেন ভারত গড়ার
রেল ভাঙ্গাতে আমি পেলাম গরীব মরার।
যখন নষ্ট হচ্ছে চারিদিক নেতারাও দিচ্ছে উসকানি, 
আমি একটু নষ্ট করলে ক্ষতি কি, পস্তাবো তো আমিই।
জেনেশুনে সবাই সঠিকটা করি ভুল 
চাষা হয়ে জন্মিয়ে দিচ্ছি তার মাসুল।

"জীবন যেন কারাগার"

"জীবন যেন কারাগার"

একে একে দিনগুলো কাটছে হেলায় সব ।
জীবমাঝে নেই যে এখন, আগের কলরব ।।
স্কুলরুমে আর হয়না এখন পড়া-পড়া খেলা।
বেঞ্চগুলোতে জমেছে তাই বিষন্নতার ধূলা।।
ব্লাকবোর্ডে আর ভিড় করেনা ,নিউটন এর সূত্র।
ভরসা এখন অনলাইন ক্লাস আর নানান বইপত্র।।
গাঁদা গাঁদা আছে বই , সিলেবাস ও প্রচুর ।
নেই যে শুধু ক্লাসরুমে ওই সহজ সরল দুপুর।।
লেইজারেতে আর জমেনা ,কোলাহলের ভিড়।
মহামারীর প্রকোপে আজ শূন্য সুখের নীড়।
চিরসুখের সে মধুর দিনের পাই না দেখা আর ।
জীবন টা আজ মনে হচ্ছে যেন কারাগার !!

মানবিক ধর্মের সূচনা

মানবিক ধর্মের সূচনা

পড়াশুনার শেষ নেই।৷ একজীবনে মানুষ সব শেষ করতে পারেন না। আমারও একই দশা।  হাতের কাছে কিছু বই, খবরের কাগজ, টিভি, মোবাইল আর পরিবেশ প্রকৃতি পাঠ করেই শিক্ষা নিই, বিশ্লেষণ করি। 
ধর্ম জিনিসটা সম্পর্কে  শৈশব বা কৈশোরে একটা বোধ ছিল যে, আমরা যে পূজা আচ্চাটা করি, ব্রত উপবাস করি, মন্ত্র পড়ি, মণ্ডপ সাজাই, সেইরূপ যাঁরা পালন করেন না বা অন্যরকম ভাবে করেন, তাঁরা অন্য ধর্মের।
  কিন্তু পরবর্তী কালে, পড়াশুনা ও বিজ্ঞান থেকে বুঝলাম যার মধ্যে যেটা বেশি দেখা যায় সেটাই ধর্ম। মানে জল নরম, অনুগুলি ঢিলাঢালা, এইটা জলের তরল ধর্ম। ওভাবেই ইট কঠিন, বাতাসের গ্যাসীয় ধর্ম।
আগুনের জ্বালানো ধর্ম, গাছের পরোপকার ধর্ম, পশুর খাঅন-ঘুমান ধর্ম, জীবমাত্রই বংশবিস্তার ধর্ম, জীবশ্রেষ্ঠ মানুষের মধ্যে আরেকটা ধর্মের! ছাপ পড়তে দেখা যায়, যা নিম্নোক্ত ভাবনা বিশ্লেষণে স্ফুটন হতে পারে বলে মনে করি ।
   বানর শিম্পাঞ্জি সহ মহেঞ্জদারো, হরপ্পা ইত্যাদি সভ্যতা দেখে আমরা এখন বিবর্তিত ঘটনাসূত্রগুলির সামঞ্জস্য মিলাতে পারছি, কিন্তু একহাজার বছর পর প্রমান ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘটনাগুলি মিলাতেই পারবেন না।
  পৃথিবীতে প্রাণযুক্ত ও প্রাণহীন জিনিসের মধ্যে (বেশি লক্ষ্মণ অনুযায়ী, কাক পিঁপড়া সর্বভুক হলেও তারা পাখি, পতঙ্গ।) প্রচুর ভিন্ন ধর্ম দেখা যায়।
চোর ডাকাত হিংসুটে স্বার্থবাদী নামটা এভাবেই এসেছে বলে মনে করি । ইঁদুর বল্মীক বাদুড় ভূমিকম্পের অনিষ্টকারী ধর্ম প্রকট।
সূর্যের তাপদান, মেঘ-বৃষ্টির জলদান, গাছের ফলফুল ছায়াদান, মাটির সহ্যধৈর্য ইত্যাদি ধর্ম প্রকট।
  মোল্লা, পাদ্রী, ভিক্ষু, গুরুপুরোহিতদের 'সুখে থাকার উপায়' বলাটাই ধর্ম। যদিও বিবর্তনের যুগে অধিকাংশ গুরুর মধ্যে  মূলধর্মের চেয়ে নিজ সহমতে লোক টানার ধর্মটা বেশি দেখা যায়।

   সুখে থাকার উপায়  অনেক আগেই মানুষ খোঁজে পেয়েছিল।
   সারাবিশ্বে, যখন যেখানে মানুষ প্রথম খাদ্য উৎপাদন করতে শিখেছে এবং উদ্বৃত্ত খাদ্য ভোগ করার স্পৃহা জেগেছে, তখনই সুখে থাকার উপায় খোঁজা শুরু হয় বলে ধারনা করলে, বেশি ভুল হবে  না মনে হয়।
  কিন্তু প্রকৃতির কাজ প্রাকৃতিক, রহস্যময়। আপাতত সবকিছুর মূলে সূর্য রয়েছেন আমরা জানি। তাঁকে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় তাও জানি। আগেরদিনে ভাবুক মানুষদের মধ্যেও এ চিন্তাটা জায়গা পেয়েছে বলে মনে করি। তখন তাঁরাই প্রাকৃতিক দংশন(মৃত্যু) ছাড়া, অন্য মৃত্যুর হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে  উপায় খুঁজতে শুরু করেন।  তখনই শুরু হয় সূচিবসন, প্রাণায়াম, স্বাস্থ্যবিধি, জড়িবুটি, । পাশাপাশি, হিংস্র জন্তু বা নরখাদককে  নিয়ন্ত্রণ করা।
   যিনি বা যাঁহারা প্রথম উপায় (যেমন লজ্জা নিবারণ, রিপুবধ, অসুর বধ, রাক্ষস বধ, কুংফু) বের করে সফল হলেন,  তাঁদের মানুষ -- জ্ঞান তপস্বী, রাজর্ষি, প্রভু, ভগবান,পালনকর্তা এবং  অক্ষাংশ অনুযায়ী 'ইস্টার' (আমেরিকান), 'মার্জানা' (রাশিয়ান), 'এনা' (ব্রিটেন') এডরাও' (আফ্রিকান),  'লুমালুমা' (অস্ট্রেলিয়ান) ইত্যাদি দেবতুল্য নাম দিতে শুরু করলেন।
    বিষ্ণু মহেশ্বর, দূর্গা কালী গণেশ প্রমুখ বহুঅঙ্গ বিশিষ্ট ভগবান-- রাম, কৃষ্ণ, জগন্নাথ, হনুমান, রাবণ, মনসা, প্রমুখ ভগবান-- যীশু, বুদ্ধ, মহম্মদ, মহাবীর, আব্রাহাম(ইহুদী), বাহাওল্লাহ(বাহাই), নানক প্রমুখ ভগবান আমাদের বিশ্বাসে জাগ্রত, কেহ কেহ নিকট ইতিহাসে  অনেক প্রমান ও শিষ্য রেখে গেছেন।  যদিও সবক্ষেত্রে নৃতত্ত্ব ইতিহাস এখনো প্রমাণ সরবরাহ করতে পারেনি, আবার সবক্ষেত্রে স্বচ্ছ আবেগে বিতর্কমুক্তও নয়।  সংঘর্ষ, অসম প্রণয়, অক্ষাংশ বিশেষে ভগবানের অবমাননা, অঙ্গ বস্ত্রের অলৌকিকতা রয়েছে।

 মূলকথা  উপরোক্ত সবাই, যুগের পর যুগ আমাদের সুখে থাকার উপায়গুলি বলে গেছেন। কিন্তু কালের স্রোতে  ভগবান বা ঋষিগুরুর মৃত্যুর সাথে সাথে তাদের বলা উপায়গুলিও হারিয়ে যায়। তখন স্বাভাবিক ভাবেই এসে যায় শিষ্যপ্রথা এবং শ্লোক। গুরুরা বিবিধ উপায় উপাচার ওষুধ শিষ্যকে বলে যেতেন। শিষ্য তার শিষ্যকে বলে যেতেন। তারপর যখন স্মরন রাখতে অসুবিধা দেখা দিল তখন শুরু হল কষ্টসাধ্য লিপি ও শ্লোক অর্থাৎ ছন্দ আকারে বলা । আমরা জানি গদ্যের থেকে পদ্য বেশি মুখস্থ থাকে। (সাহিত্যের শুরুও সেখান থেকেই বলা যায়)। প্রস্তর লিপি, পুড়ামাটি লিপি, তাম্রলিপি, ভুজপত্র ও কাগজ আবিস্কারের আগ পর্যন্ত শুনে শুনেই শিষ্যরা ভাল থাকার উপায়গুলি ধরে রেখেছেন। শ্লোকগুলি শুধু জড়িবুটি, পরিচ্ছন্নতা, ব্যায়ামই ছিল না; নীতিমালা, অংকবিদ্যা, যুদ্ধবিদ্যা, কল্পিত দেবতুষ্টি ও দেবত্ব লাভের উপায় (অনুসরণ) মন্ত্রও ছিল। কিন্তু বহুযুগ ধরে শুনে আসা শ্লোকগুলির কিয়দংশ যে বিস্মৃত হতে পারে বা সংযোজিত হতে পারে, তা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।  স্রুতিস্তর ও ব্যায়সাপেক্ষলিপি পেরিয়ে, শেষে কাগজে সুরক্ষিত হওয়া  'উপায় গুলিকে' আমরা  শ্রুতি কাব্য বা বেদ বা ধর্মগ্রন্থ বলি।  গীতা বাইবেল কুরান ত্রিপিটক জেন্দাবেস্তা পড়লে দেখা যাবে, গ্রন্থগুলিতে ঐ ভাল থাকার উপায়গুলিই লিপিবদ্ধ আছে । আমরা সবাই প্রতিযোগি ভাব ছেড়ে সবটা অনুসরণ করলে পৃথিবীতে কোন সংঘাত থাকবে না।
  দীর্ঘ ও বহুযুগ ধরে,  মানুষ মানুষকে এভাবেই রক্ষা করে এসেছেন বলে একে মানুষের ধর্ম বলা হয় অর্থাৎ  মানবিক ধর্ম । 
   দুর্ভিক্ষ বা দুর্ভিক্ষের আবহ মানবিক ধর্মের সবচেয়ে বড় শত্রু। সে সময় ক্ষিধের জ্বালায় মানুষ মানুষের রক্ত খেতেও পিছপা হয় না।
   মহাপ্রভু নিমাই, লোকনাথ, সিড়ডি সাঁই, লালন ফকির, রামমোহন, ঈশ্বর চন্দ্র, রামকৃষ্ণ, অরবিন্দ, রামঠাকুর, অনূকূল, রবীন্দ্র, নজরুল, কামারুযযামান, টেরেসা, বিবেকানন্দ, প্রমুখ  অতি সাম্প্রতিক  ইতিহাস। মানবিক ধর্ম রক্ষায় তাঁরা আজীবন কাজ করে গেছেন।  মানবিক ধর্মই সবদেশের অগ্রগতি ও প্রজন্মের বাসযোগ্য পৃথিবীর একমাত্র  চাবিকাঠি। (সংক্ষেপিত)
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

,,,,,,,,বিভিন্ন সাময়িকী পরিবারগুলো যখন সংস্কৃতি ও মানবিকতার প্রসারে পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় নিরলস কাজ করে চলেছে ঠিক তখনি দূরে কোথাও ঘটে যাওয়া পরিপন্থী অনভিপ্রেত ঘটনাগুলি আমাদের ভাবিয়ে তুলে। গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে মনুষ্যত্বের উপলব্ধি ও প্রয়োগের আরও বেশি প্রচারের গুরুত্ব আছে বলে মনে করি। ধর্মের বিভাজন নয়, আমরা ধর্মের সূচনায় ফিরে যেতে চাই ।

সঙ্গতিহীন প্রলাপ

সঙ্গতিহীন প্রলাপ

সেদিন বসন্তকুটিরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়  পথের বাঁকে এসে দেখতে পেয়েছি, তুমি রাজঘাটে দাড়িয়ে আছো। 

তুমি অপেক্ষা করছো সকাল থেকে সন্ধ‍্যা, একটা বলয়ে, একটা শান্ত সময়ের;  
স্বপ্নমাখা কথাগুলো তুমি কাউকে শোনাবে বলে ভাবছো। 

চারদিকেই ছিল একটা নিস্তব্দতার ছবি, শুধুমাত্র বাতাসের একটা সঙ্গতিহীন প্রলাপ কানে বেজেছিল, 
এই নদী আর আকাশ সবকিছুই তখন রঙিন ছিল। 
কথাগুলো ছিল তোমার কোনো বসন্ত দিনের, শুনিয়েছিলে কোনো এক বেসামাল প্রেমিককে; জানি, সে কোনোদিনই তোমার ছিল না। 

বাতাসে ছিল প্রণয়ের সুবাস, আর ছিল  মনমাতানো একটা শুদ্ধ বিকেল, যা সহস্র প্রেমের যুগলকে বেঁধে রাখতে পারতো।

প্রিয় নেতাজী

প্রিয় নেতাজী

ভারত মায়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান 
        ওহে গুরুজী।
তুমি মহান বীর যোদ্ধা 
         প্রিয় নেতাজী।।
তোমার তরে স্বাধীন হলো 
         মোদের দেশমাতা।
যুগ যুগ ধরে রবে তোমার 
        অমৃত কথা।।
তব কীর্তি কথা আজও 
       গায় সর্বলোকে।
তোমার দিশায় চলছি মোরা 
        সেই আলোকে।।
বলেছিলে রক্ত দাও 
       দেবো স্বাধীনতা।
তুমিই মোদের শ্রেষ্ঠ বীর 
       কিংবদন্তি নেতা।।
ওহে দেশনায়ক তুমি  আছ 
        প্রতি ঘরে ঘরে।
রয়েছ প্রতিটি বাঙালির 
        অন্তরে আন্তরে।।
তোমার জন্ম জয়ন্তিতে করি 
        সশ্রদ্ধ প্রণাম।
রেখেছি মোর বক্ষের মনিকোঠায় 
       চির অধিষ্ঠান।।

হৃদনদী

হৃদনদী

হৃদনদী আজ শুকিয়ে গেছে চর জেগেছে তাতে, 
বিন্দু হয়ে উড়ে গেছে উষ্ণ অশ্রুপাতে ... 

কত বর্ষা আসে যায় , কত ময়ূর নাচে! 
বর্ষা বারি উধাও সব চরের বালির প্যাঁচে। 

নদীর বুকের ফাটল যত এদিক ওদিক ঘিরে, 
কত ছবি আঁকে বল শূন্য বক্ষ জুড়ে! 

এককালে এই হৃদ তটিনী ছিল দিশেহারা, 
উথাল পাথাল ধিতাং বোলে যেন পাগলপারা ... 

কত ডিঙ্গি ভেসে যেত প্রিয়ার মিলন আশে! 
কত মাঝি ধরত যে তান ক্লান্ত দিবা শেষে! 

কত প্রাণী বাঁধত বাসা গভীর জলের তলে! 
কত জেলে জাল পাত্ ত  স্তব্ধ ঊষা কালে! 

হৃদনদী আজ চরেই বিলীন,কাদায় কাঁটায় বাস, 
অতীত দিনের স্মৃতি শুধু বেঁচে থাকার আশ।    

আমি জীবন্ত হতে চাইনি

   ✍️পৌষালী ভৌমিক

আমি জীবন্ত হতে চাইনি...
বিষাদের সুর যখন বুকে বাজছিল,
সেই সুর আমি থামাতে পারিনি
আমি...জীবন্ত হতে চাইনি...
মনে যখন আনাগোনা থেমেছিল,
তখন ঢেউ খেলাতে পারেনি
আমি...জীবন্ত হতে চাইনি...
শিউলি তলায় তখন ও ঘ্রাণ ছিল,
কিন্তু শুভ্রতা কুড়িয়ে পাইনি
আমি...জীবন্ত হতে চাইনি...
শব্দ যখন নিঃশব্দ হয়েছিল,
আমি তীব্রতা খুঁজে পাইনি
আমি...জীবন্ত হতে চাইনি...
অভিমানের পারদ যখন চড়ছিল,
তখন আমি আমাকেই পাইনি.......।

শিক্ষা চাই

   ✍️অঙ্কিতা বর্ধন

আমি শিক্ষা চাই ,
    আমি এমন শিক্ষা চাই 
    যা অন্যায় এর বিরোধ করতে শিখাবে ।

পথে বসে থাকা বৃদ্ধের ,
 সাহায্য করতে শিখাবে ।

আমি শিক্ষা চাই,
      যা আমাকে মনুষত্বের শিক্ষা দেবে।
    শিক্ষা দেবে মূল্যবোধ এর ।

আমি শিক্ষা চাই ,
      পথে হাঁটা গর্ভবতীর সাহায্য করার ।
   মুমুর্ষ রোগীর সেবা করার।

আমি শিক্ষা চাই,
    মিথ্যা বলার আগে ঠোঁট কাঁপার।
  ভুল করে শিকার করার।

আমি এমন এক শিক্ষা চাই ,
 যে শিক্ষা আমাকে সাহস দেয়
       সত্যের পাশে আজীবন থাকার ।

আমি শিক্ষা চাই ,
        শিশুদের সিংহের মতো সাহসি করার।

সাহসী ও বুদ্ধিমান বিবেকানন্দ



   ✍️রাজা দেবরায়

স্বামী বিবেকানন্দ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের কথা বলেছেন বলে একটা সমালোচনা আছে। আসলে ঐ সময়টা মনে মনে চিন্তা করতে হবে। আজ তিনি যে সর্বত্র পূজিত হন সেটা এমনিতেই হতো না। তাঁর সমসাময়িক অনেকেই এই স্থানটা পাওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। তাছাড়া স্বামী বিবেকানন্দ 'ব্রাহ্মণ' যে ছিলেন না, সেটাও বুঝতে হবে।

স্বামী বিবেকানন্দ চিকাগো/শিকাগো থেকে ফেরার পরে ব্রাহ্মণগণ তাঁর সাথে দেখা করতে আসেননি। দক্ষিণেশ্বরে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর প্রয়াণের পরেও ব্রাহ্মণগণ দেখতে আসেননি। আর সেসময় ব্রাহ্মণদের কথাই মান্যতা পেতো সবসময়। ফলে এরকম একটা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে স্বামী বিবেকানন্দকে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের কথা বলতে হয়েছে যেগুলো সচরাচর ব্রাহ্মণগণ বলতেন।

স্বামী বিবেকানন্দ অসম্ভব সাহসী, দার্শনিক, সুশিক্ষিত, দারুণ বুদ্ধিমান ছিলেন। তাই চট করেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য যা যা প্রয়োজন হতো তাই করতে পারতেন এবং করেছিলেন। আবার অনুকূল পরিবেশেও যা যা করার কথা ছিলো তাই করতেন এবং করেছেন।

আসলে শ্রীরামকৃষ্ণ যেমন তাঁকে আগলে রেখেছিলেন তাঁর গানে মোহিত হয়ে, তাঁর ব্যক্তিত্বে মোহিত হয়, তাঁর শিক্ষাদীক্ষায় মোহিত হয়ে, তেমনি তাঁর বিরোধীও ছিলেন অনেক। বিশেষত রামকৃষ্ণ মিশন করার সময় দেখা গেছে সেটা। তবে তিনি তখন স্বামী বিবেকানন্দ হয়েছিলেন বলে কোনো বিরোধীতাই ধোপে টেকেনি। নিজের প্রচেষ্টায়, নিজের দমে করে দেখিয়েছেন। স্বামী বিবেকানন্দকে ভালোভাবে পুরোপুরি বুঝতে গেলে বিশেষত শেষ দিকের লেখা বা চিঠিগুলো পড়তে হবে।।

বাবুই পাখি

   ✍️আলমগীর কবীর 

আমার বাড়ির উঠুন পাশে বাবুই পাখির বাসা
থাকে তারা মনে নিয়ে কতই রকম আশা। 
করে তারা দিনের বেলা শুধুই কিচিরমিচির 
সারাদিন বুনে বাসা রাত্রে নিবিড়। 
বাবুই পাখির বাসা বুনা বড্ড চমৎকার 
তার উপর গবেষণা খুবই দরকার।
বাবুই পাখি পুরুষ নারী খুবই পরিশ্রমি
দিন দুপুরে প্রখর রোদে বাসা বুনানি। 
বাবুইরে তুই কেমন পাখি এতো কেনো বুদ্ধি? 
তোদের শিক্ষা মোদের দরকার হতে জ্ঞানের বৃদ্ধি।

মানবদ্রোহী

   ✍️কৃষ্ণকুসুম পাল
    সাধারণ সচিব।
    বাংলা আকিদেমি।ত্রিপুরা।

শিলের মতো ছিলিস শিলা,
প্রেম করেও ভাগলি না;
তোর ছেলেকে বানাবো চেলা,
মানুষ করতে পারলি না।
                #
ওরে হাঁদা,শোনরে গন্ডগাধা
রাজনীতিটা শেখাবো তোকে,
আসতে যেতে দাদা দাদা,
কতো সেলাম করবে লোকে।
               #
তুই মাস্তান হয়ে দিবি গুঁতো
সমস্যা হলেই ডাকবে নেতা
আমি টানবো ঘুড়ির সূতো,
উড়বে টাকা,ধরে বাঁধো বস্তা।
                 #
গ এর গলা কেটে
ন কে নিয়ে নাচানাচি,
ত এর চামড়ায় তবলা বাজাও,
অন্ত্রসহ শুকিয়ে করো হাড়কাঠি।
                  #
এ হলো গণতন্ত্র মন্ত্র,
নেতায় নেতায় ষড়যন্ত্র।
----------******----------

প্রেমের নতুন জন্ম দিলো

   ✍️শ্যাম মালাকার 

সই আমি তোমার প্রেমে
    অমর হতে চাই ।
  এ জনমে তো তুমি আর 
  আমার হলে না ।
মৃত্যুর ওপারে না হলেও 
  পরের জনমে দেখা হবে ।
কোনো এক শান্ত নদীর তীরে ,
   অথবা বিহঙ্গের কিচির মিচির ভিড়ে- 
কোনো এক কৃষ্ণচূড়ার নীচে 
   অথবা পদ্ম দীঘির পাড়ে । 
আমি ডুবে থাকবো 
    কৃষ্ণা রায়ের কবিতায় ।
তাই এখন থেকেই 
ভাগ্য দেবতার কাছে বলি 
 জনম জনম 
     তোমাকেই চাই ।
তাই রোজ মৃত্যু দেবতার কাছে বলি ,
   মৃত্যুর পরেও যদি কোনোযন্ত্রণা থাকে ,
তবে আমার শত পূন্যের বদলে 
  সেই যন্ত্রণা আমায় দিও ।
কিন্ত তার বদলে শ্যামের ভাগ্যে 
     রাই এর নামটি লিখে দিও ।
তাই রোজ ভাগ্য দেবতার কাছে বলি -
মৃত্যুর পর যদি মানুষ না করো - 
তবে আমায় আকাশ করে দিও ।
আর তুমি ঐ পূব আকাশের 
  তারা যেও। 
আমি দুই হাত মেলে তোমার - 
জড়িয়ে নেবো ।
আর তুমি মিট মিট করে 
     আমার বুকে হাঁসবে। 
রোজের তারা দের মাঝে- 
আমার কৃষ্ণা পক্ষের দ্বাদশী তিথির 
  তুমি তারাটি কে যদি খুঁজতে 
    শত শত বর্ষ কেটে যায় ।
তবে আমি মহাশূন্যে
  খুঁজে বেড়াবো।  
অপেক্ষা করবো হেমন্তের - 
   কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে আর
জ্যোৎস্না-প্লাবিত রাতে ।
  হেমন্তের কুয়াশাতে যখন তুমি নেই ,
নেই জ্যোৎস্না-প্লাবিত রাতে ।
ভাববো নবযৌবনা রূপ নিয়ে 
আসবে আগামী বসন্তের কোনো - 
   এক সুপ্রভাতে। 
তুমি আসবে হঠাৎই 
        ঝলমলিয়ে ।
তখন কন্ঠে আমার সুর ।
 আমার কলমে তখন ছন্দরা পাবে প্রাণ ।
তখন হাতে তোমার পত্রপল্লব ।
   খোপাতে অজস্র জংলী ফুল ।
তখন মনে হবে আমার- 
   মৃত্যু টা যেনো সার্থক ছিল ।
কারণ তোমার এই রুপ ,
    আমার হৃদয়ে - 
 প্রেমের নতুন 
         জন্ম দিলো ।

অস্হিত্ব

   ✍️কাজী নিনারা বেগম

স্বপ্ন গুলো অবহেলিত  দ্বীপের মধ্যে অপসৃয়মান,,
সভ্যতার ইতিহাসে বিনোদনের বাজারে পোড় খাওয়া মনে চীড় ধরে না ।।
হয়তো আরো অমসৃণ পথেই এগিয়ে যেতে হবে,,
বন্ধুর অবন্ধুর পথে অতিক্রম করতে ক্লান্তি র সাগরের তীরে।।
অপেক্ষারা  আজ কানায় কানায় কল্পনার  স্মৃতি বহন করে,,
কলমের ঢাকনা খুলে লিখে চলেছি।।
রেকাবে থাকা ডাইরির পাতায় পাতায় লিখে পুরানো বস্তাপচা গুণে ধরা ডাউন মার্কেট স্মৃতি গুলো! 
কাগজের উপর কলমের ঠোঁটের আচড়কেটে প্রতি ক্ষিত জন্মানো ভালবাসা কলমে পরিচিতি।।
লিখনি কখনো থাকেনা পরিসমাপ্তি শেষ  নেই যাত্রা শুরু,,
জীবন চরিত্রে ক্রন্দনের  অভ্যন্তরের আড়ালেই নিখুঁত কালি শেষ হবে কি? 
ধারকের ও বাহকের সমৃদ্ধি ইতিহাস রচনায় ,,
প্রতি নিয়ত লড়াই করে কলম অস্তিত্বের প্রমাণ বিলক্ষণ।

বন্ধ দ্বার

   
              ✍️অন্তরা ভট্ট

 মনের অলিগলি দিয়ে
ধাবমান নিত্য পথিক হয়ে
খুঁজে পায় না তার শেষ ঠিকানা
হেঁটে চলে অবিরত।

কবেকার সেই সব দিনে
কথা দিলে থাকবে সাথে
নিজেই হলে পথ হারা
হাঁটবে আর কত? 

পথিক সে তো তুমি
থামবে কবে কে জানি?
বাড়ি মুখো হও তবে
সেথায় হবে সুখী।

পাবো না তার দেখা
কোথায় আর যেতে পারি
মনের গলি সেতো 
এবার বন্ধ করে দিতে পারি।।

চিরকুট

   ✍️সীমা দাস

একখানা শূন্য চিরকুট ,

দিলাম তোমায়।

কলমদানিতে ভরাটে কলম,

 লিখে নিও ইচ্ছেমতন।

 পুরোটাই গোছালো শব্দ,

 কিংবা শূন্যপাতা।

 ইচ্ছেরা সবই এখন,

তোমার মালিকানাধীন।

 লিখতে পারো বটে,

 ভালোবেসে আমার নাম।

 আর না হয় ফিরিয়ে দিও,

 আঁকিবুকি কালো গোলাপ।

 তখন আর সাজবেনা,

 কুঞ্জে কুঞ্জে লাল গোলাপি ফুল।

আপনজন

    ✍️প্রতীক হালদার 

ভাবছো তুমি তুচ্ছ যাকে 
করছো যাকে হেলা,
সেই তোমাকে সঙ্গ দেবে 
জীবনের শেষ বেলা ।

সে ও মানুষ রক্ত-মাংসের 
তারও আছে মন,
মানুষ বলে ভেবো তাকে 
হবে আপনজন ।

বন্ধু বলে ভাবো যদি 
দুঃখের দিনেও তাকে পাবে,
মিলেমিশে থেকো সবাই 
কে বা কদিন পৃথিবীতে ।

যাওয়া-আসার সময়েতে 
কখন কাকে নেবে ডেকে,
পর হয়ে কখন যাবে 
এই সুন্দর পৃথিবী থেকে ।

বনভোজন

বনভোজন

বনভোজনের আনন্দটা হারিয়ে গেছে কবে। 
বনভোজনটা ভ্রমণ হয়ে দেখা দিলো যবে।। 
শীতের দিনে পাড়ায় পাড়ায় আনন্দ ছিল বেশ। 
দিনে দিনে আনন্দ কম, মাতাল পরিবেশ।। 
গ্রামে গ্রামে বাড়ী বাড়ী বনভোজনের  রেশ। 
অতীতটা আজ বাক্সবন্দী আনন্দ হলো শেষ।। 
জঙ্গল কেঁটে ঘর বানিয়ে হতো বনভোজন। 
এখন তা আর করবে বা কে ? সবাই মহাজন।। 
স্রোতের নৌকায় সময় চলে হারানো সেই দিন। 
মনের কোণে ছবি গুলো লাগে বেরঙিন।। 
আধুনিকতার ছোঁয়ায় পিকনিকে মোরা যাই এখন ছুটে। 
বনভোজনটা হারিয়ে গেছে কালস্রোতের পিঠে।। 
ডিজে গানের কলরবে বড়োই মাতামাতি। 
একটু আরটু বিবাদেতে লাগে হাতাহাতি।। 
পিকনিকটা আজ হয়ে গেছে একটু দুরে ভ্রমণ। 
খাওয়াটা না হয় হোটেলে হবে চলবে আলাপন।। 
নানান  POSE -এ DSLR -এ শুধু ফটো তোলা। 
 এক একটা বিরূপ ভঙ্গী যেন শুভ্র মূলা।। 
হারিয়ে গেছে কাঠ কুড়িয়ে রান্না করে খাওয়া। 
দিনের পর দিন বহে চলে আধুনিকতার হাওয়া।। 
হারিয়ে গেছে গল্প গুজব ভাব বিনিময়ের পালা। 
বেড়ে গেছে টাকার গরম বেড়েছে মনের জ্বালা।। 
পিকনিকটা হয়ে গেছে শুধু ঘুরাঘুরি। 
পোষাকের বেশভূষা দেখে জ্বলে পুড়ে মরি।। 
বনভোজন আজ অস্তিত্বহীন বিলুপ্তির পথে প্রায়। 
আধুনিকতার পদতলে সভ্যতা ডুবে যায় ।। 
  

শীত এল

   ✍️সুরমা আকতার 

শীত এল দেখ শীত এল,
পুরো গ্রাম জুড়ে একাই।
শীতের ভয়ে লুকিয়ে সবাই,
কেউ চাদ্দরে তো কেউ,
 রৌদ্দোরে ভাই।
শীত এল দেখ শীত এল ভাই,
শীতকে কেন এত ভয়?
শীত কি হিমালয়?
আগোছানো ছন্দে ভরা,
শীতের এলাকা।
উনুন আর উষ্ণতায়,
তৃপ্তি মিটায় এই ঋতুটা।
শীত এল শীত এল,
গামছা ছেড়ে গরম পোশাক পড়।

বিদ্রোহী

    ✍️সৌরভ দেবনাথ

বিদ্রোহী সেজেছি আজ আমি ক্ষুদ্র জীবন যুদ্ধে ,
কত লড়াই কত লড়াই খন্ড খন্ড প্রমান সহে ।
আমার রক্তের শিরায় শিরায় মিশে গিয়েছে আজ বদলার আগুন,
রণস্বরে ঝাঁপিয়ে পড়বো এবার দেখাবো কর্মের গুন।
লোকে যেথা ভীতু বলে আমি ভিতু নই,
আমি বিদ্রোহী আমি জীবনসংগ্রামী খুজি শুধু বেঁচে থাকার মূল ।
আমি ছিনিয়ে নেই সেই ভাগ্যরাশি, যাহা লোকেবলে তুই নগণ্য প্রাণী।
আমি আমার লেখার ছন্দে পরিবর্তন করি আধুনিক যুগের মানব জাতি ।
আমি অগ্নিরশিখা আমি দাবানল আমি অত্যাচারীদের করি ছাই।
এই নয় শেষ আমার এই নয় শেষ এইতো নিলাম আমি সংগ্রামের ভেষ ।
আমি লড়বো আমি লিড়েই যাবো যতদিন না নারীর নিরাপত্তা দিতে পারব।
আমি যোদ্ধা আমি লড়তে জানি আমি মানুষ আমি মৈএীর সেতু গড়তেও জানি।
আমার পরিচয় আমি বিদ্রোহী তার আগে আমি একজন সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি ।।

পাবনে পৌষ

   ✍️চিন্ময় রায়
   
বাঙালি আজ মও হয়েছে,
 পিঠে পুলির উৎসবে।
 পৌষ মাসকে বিদায় জানাই,
 হেসে খেলে সবে।
 চারিদিকে আজ বাদ্যযন্ত্র ডিজে বক্সের মেলা,
 হাসি আনন্দ উল্লাসেতে কাঁটবে সারাবেলা।
 তেরো পার্বণের একটি পার্বণ-
 পিঠে পুলির দিন।
 হাসি আনন্দ পিকনিকেতে,
 সকল বাঙ্গালী স্বাধীন।
 রাত জেগে সেই হাসি আনন্দ পিকনিকেতে মেতে,
 পৌষ পার্বণের দিনটি সবার কাটে আনন্দেতে।
 মায়েরা থাকেন রান্নাঘরে পিঠে পুলি নিয়ে,
 সেই পিঠেপুলি খাওয়ান তারা মোদের পেট পুড়িয়ে।
 ছেলেরা থাকেন পিকনিকেতে বন্ধুদের সাথে,
 কত মজাই করেন তারা সেই পৌষ পার্বণের রাতে,
 মাংস পোলাও বিরিয়ানি সব কত রকমারি খাবার,
 পৌষ পার্বণ আসুক ফিরে বাঙালির ঘরে আবার।
 প্রত্যেক বছর ঘুরেফিরে এই দিনটি এলে,
 সকলে মোরা একসাথে হই সব ঝগড়া বিবাদ ভুলে।

সিপাহীজলা ভ্রমণ

  
   ✍️পান্থ দাস, হাঁপানিয়া, ত্রিপুরা

অভয় আজ বেরাতে যাবার জন্য তৈরি হয়েছে ৷ সপ্তাহের একমাত্র ছুটির দিন রবিবারটাকে সে এইভাবেই ছাড়তে চাইছেনা ৷ ৮ বছর বয়স্ক অভয় ত্রিপুরার সবচেয়ে বড় অভয়ারণ্য সিপাহীজলায় তাঁর দাদা, দিদির সাথে যাবে বলে বায়না ধরেছে ৷ ছোট্ট অভয় এখনই রোমাঞ্চ প্রিয়, সে ঘুরতে যাওয়া খুব পছন্দ করে ৷ তবে তাঁর বাবা-মায়ের অফিস থাকে বলে যাওয়া আর হয়না অভয়ের ৷

তবে এবার তাঁর যেতেই হবে, যেভাবেই হোক না কেন ৷ সিপাহীজলা অভয়ারণ্য ত্রিপুরার প্রধান এবং বৃহৎ অভয়ারণ্য ৷ ভারতবর্ষের উওর-পূর্ব অংশে ছোট্ট পাহাড়ি ও সবুজ ত্রিপুরা রাজ্য অবস্থিত ৷  প্রায় ১৯ স্কয়ার কিলোমিটার বিশাল এলাকা নিয়ে ছেয়ে আছে এই অভয়ারণ্যটি ৷ নানা প্রজাতির পশু, নানা প্রজাতির প্রায় ১৫০টি পাখি, বিভিন্ন রকমারী গাছালি ও নানান অতি মূল্যবান ঔষধি গাছ, কাঠ রয়েছে এই অভয়ারণ্যে ৷ তার মধ্যে সমগ্র উওর পূর্বাঞ্চল জুড়ে বিশেষত চশমা বানর একমাত্র ত্রিপুরার সিপাহীজলায় পরিলক্ষিত হয় ৷ রয়েছে হাতী, চিতা বাঘ, হরিণ, ৫ প্রজাতির পাহাড়ি লেঙ্গুর, বাঘ, সিংহ, অজগর, জলহস্তী, ধনেশ, শারস, মাছরাঙা, টিয়া সমেত আরো অনেক অনেক বন্য প্রাণী ৷ শাল, আগর, সেগুন, গামাই, গর্জন, বট, করই, নীম, নানা প্রজাতির বাঁশ প্রভৃতি এই অভয়ারণ্যকে আরো আলোকিত করে রেখেছে ৷ বাঁশ এখানকার একটি অতি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ ৷

অমৃত সাগর নামে এক অনন্য লেইক রয়েছে এই সুবিশাল অভয়ারণ্যে ৷ তাতে নৌবিহারের ব্যবস্থাও উপলব্ধ রয়েছে ৷ ঋতু অনুসারে  বিভিন্ন দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভ্রমণ প্রিয় পর্যটকদের আগমন ঘটে থাকে অভয়ারন্যটিতে ৷ ঋতু অনুসারে পৃথিবীর দূর-দুরন্ত থেকে শত শত পরিযায়ি পাখির সমাগম ঘটে অমৃত সাগরের লেইকে ৷
মজার বিষয় হলো এই অভয়ারণ্য সারা বছরই সবুজে পরিপূর্ণ থাকে ৷ সারা বছরে এক বারও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় না এই সিপাহীজলা অভয়ারণ্যের ৷

 অভয়ের বাবার কাছ থেকে এইসব তথ্য পাবার পর তাঁর কৌতুহল যেন আরো দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল ৷ তাই তার সিপাহীজলা অভয়ারণ্যে যাওয়ার তাগিদ আরো বৃদ্ধি পেয়ে গেল ৷ সিপাহীজলাকে যেন অভয় নিজেরই বানিয়ে নিল মনে মনে ৷ পরদিনই অভয়ের মনের পরিতৃপ্তি ঘটলো ৷ দাদা-দিদির সাথে সকালেই বেরিয়ে পরলো ভ্রমণ পিপাসু অভয় এবং সম্পূর্ণ অভয়ারণ্য নিজ চোখে চাক্ষুষ করে তৃপ্তি পেলো ছোট্ট অভয় ৷

সতেন্দ্রনাথের ছন্দ |

    ✍️রাহুল দেবনাথ

আমি যদি ভাই  হতে পারতাম
সতেন্দ্রনাথের ছন্দ।
এই বিষাদে আমার জীবন
আর হতো নাকো মন্দ।
ছুটে বেড়ায় তাম কবিতা রাজ্যে
কখন আমি মাল্লা হয়ে।
কখনো আবার বিরহে বাঁচিতাম
যক্ষের নিবেদনের যক্ষ হয়ে।
ছন্দে ছন্দে কাটিয়ে দিতাম
জীবন আমার মন ভরে।
অমর হয়ে তবু বেঁচে থাকতাম
জীবন নাটের প্রতি মোরে।

আমার অভিমান

    ✍️ প্রিয়াঙ্কা আদক

তোমাকে নিয়ে অনেক অভিমান,
হয়তো রাগ বা ভালোবাসা বলতে পারো
অনেক জমে আছে, জানো বাবা
তুমি যখন ভাইকে কোলে নিতে,
আমাকে নিতে না 
তখন আমার খুব অভিমান হতো।
কারো সাথে কথা বলতাম না
 চুপটি করে বসে কাঁদতাম
কিন্তু তুমি বুঝতেই পারতে না।
তোমাকে বলতে চেয়েছি অনেকবার
কিন্তু পারিনি বলতে।
বলতে গেলেই অশ্রু গড়িয়ে পড়ে
দু'নয়ন বেয়ে; আচ্ছা বাবা,
তোমাকে নিয়ে কেন এত অভিমান?
হয়তো অনেক খানি ভালবাসি তাই
জানো তোমার ওপরে আমার অগাধ বিশ্বাস,
হয়তো নিজের ওপরে এতটা বিশ্বাস নেই।
কিন্তু মাকে ও তো ভালোবাসি
কই মাকে নিয়ে তো কোন অভিমান, অভিযোগ নেই আমার।
হয়তো বয়সটা এখন অল্প, 
তাই এত অভিমান।
জানো অভিমানগুলো জমতে জমতে 
পাহাড় সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবুও তোমাকে বলতে পারব না,
তাই খাতার পাতায় লিখে রাখলাম;
পারলে কোন একদিন পড়ে নিও।