টগরের আর্তনাদ



                 ✍️পাপিয়া দাস

গ্রীষ্মের আগমনের  সাথে সাথে
টগর, বেলি, চাঁপা ফুঁটিল গাছে গাছে।
পূজা দিতে গিয়ে গাছের সাথে,  ফুলের সাথে 
কথা বলি মাঝে মাঝে।

একদিন দুপুরে টগরের দিকে তাকিয়ে দেখি
কলি হয়ে  রয়েছে,ফুটে নি ফুলের মত,
জিজ্ঞেস  করি এমন হয়ে আছো কেন?
শুনি তারপর টগরের আর্তনাদ  যত।

গ্রীষ্মের দাবদাহে তপ্ত জীবন
বৃষ্টি নেই কে আমায় দেবে জল
প্রকৃতির উপর ভরসা করি 
তাইতো আমি থাকি  উজ্জ্বল।

কিন্তু প্রকৃতি আজ শুকিয়ে আছে
বৃষ্টি নেই  ফুটতে তো ইচ্ছে  আমার 
রোজ জল দিও তুমি আমায়
ফুটব ফুল হয়ে অঞ্জলি  হব দেবতার।

কাঠগোলাপ


                    ✍️পান্থ দাস

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর এই কাঠগোলাপ ফুল বর্তমানে ভারতে প্রায় বিলুপ্তির পথে। কিছু কিছু রাজ্যে সম পরিমানে বা মুলত গ্রাম ভারতে দেখা যায় এই মিষ্টি ফুল। 

পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন নামে পরিচিত এই কাঠগোলাপ ফুল। যেমন গুলাচি, গোলাইচ, গোলকচাঁপা, চালতাগোলাপ, গরুড়চাঁপা ইত্যাদি। মুলত ৮ থেকে ১৫ মিটার লম্বা হয় এই ফুল গাছ।

কাঠগোলাপ ফুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, কোনো কোনো ফুল দুধের মতো সাদা, কোনোটি সাদা পাপড়ির উপর হলুদ দাগ, আবার কোনোটি লালচে গোলাপি রঙের। আবার সাদা রঙের কিছু ফুল দীর্ঘ মঞ্জরিদণ্ডের আগায় ঝুলে থাকে। গ্রীষ্ম এবং শরৎকালে গোলাপী, সাদা ও হলুদ রঙের শেডের সুগন্ধযুক্ত ফুলে শোভিত হয় এই ফুল। 

চলুন চমৎকার এই ফুলকে আমরা সংরক্ষণ করি আর ছোট ছোট টবে কাঠগোলাপ লাগিয়ে শহরাঞ্চলেও এই গাছকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নেই।

গোপন ঘরে



                 ✍️ অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী,
মাথার উপর নিস্তব্ধ নীলাকাশ। 
বুক চিঁড়ে তার শূন্যতা এক রাশ।। 
সবুজের শেষে একাকার তার সাজ। 
গুনছে প্রহর একাকীত্ব আজ।। 
নীলগগনে ভাবনারা আজ সীমা থেকে সীমাহীন। 
কঠোর সূর্যালোক উতপ্ত তাপ বেদনা  অন্তহীন।। 
বেলা অবেলা ভাসে মেঘের ভেলা একা একেলা সঙ্গীহীন। 
 আলো আধাঁরি খেলা রাতের জ্যোৎস্না বেলা জোনাকিরা বেরঙিন।। 
আমি চাই আমার জ্যোতির বিন্দু আজই নিভে যাক। 
কাটছে না দিন, লাগছে না ভালো সম্পর্কের ঘূর্ণিপাক্।। 
মনের মণিকোঠায় সুপ্ত কাজল কালো  ব্যাথা। 
অধর জুড়ে ঢেউ খেলে যায় কত না বলা কথা।। 
আগ্নেয়গিরি গলিত লাভা বেরিয়ে উথলে পড়ে। 
চিল্কাহ্রদের লবনাক্ত জল পাহাড় বেয়ে ঝরে ।।