আমি নই গো কবি

✒️গৌতম অধিকারী

হে গুণীশ্রেষ্ঠ,
দোহাই তোমার রাঙা পায়ে ধরে,
ওগো বলোনা কবি মোরে।
যে হৃদয়ে প্রেম নেই সে কি আর হয় কবি!
জাগেনি এখনো হৃদয়ে মন্দিরেতে প্রেমরবি।
মায়াময় সংসারেতে ষড়রিপুর মাঝেতে দেখছি বিশ্বালয়।
এখনো করাতে পারিনি সত্যের সাথে নিজেরে পরিচয়।।

হে ন্যায়পূজারী,
দোহাই তোমার রাঙা পায়ে ধরে,
ওগো কবি বলোনা আর মোরে।
হতে পারেনি অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী লেখনী।
ঈশ্বরসৃষ্ট বিশ্বধামের বেদনা কোনদিনও তো হৃদয় দিয়ে অনুভব করিনি!
সবাইকেই উপেক্ষা করে নিজের মহিমার প্রচার করে যাই!
মিথ্যার যতোসব যশ-মান- প্রতিষ্ঠার অভিলাষে নিজ পরিচয় হারাই।।

হে বিশ্বপথিক,
দোহাই তোমার রাঙা পায়ে ধরে,
বলোনা! বলোনা! কবি আর মোরে।
অতীতের স্মৃতিতে, সবারই প্রীতিতে হয়নি গো মোর স্বার্থান্ধ হৃদয় জাগ্রত।
ঐশী নীতিতে, মাটির সুগন্ধির ঘ্রানেতেও মোর হৃদয় মন্দির অস্তমিত।
আমিত্বের অহংকারে দিয়েছি মরণ ডুব সবাইকে করে পর।
মিথ্যার ছলনায় পেলাম না কারোরই কোনো বর!!

হে দয়ার সাগর,
দোহাই তোমার রাঙা পায়ে ধরে,
দয়া করে আর বোলো না কবি মোরে।
মিথ্যার অহংকারে যা কিছু করেছি ভুল তোমার সনেতে।
ওগো! রাঙা চরণের ঐশী পদরেণু লাগাও না মোর ললাটে।
চোখের জলে আমিত্বের অহংকার পড়বে যখন গড়িয়ে গড়িয়ে,
রেখো গো তুমি আমায় তোমার বক্ষের মাঝেতে আলিঙ্গন দিয়ে।।

মোর বিনম্র চিত্তে নিবেদন,
ওগো দোহাই তোমার রাঙা পায়ে ধরে,
বলোনা! বলোনা! আর কোনদিনও বলোনা! কবি মোরে।
অতি দীনহীন-সাধারণ হয়ে পড়ে থাকতে চাই সংসারে।
কবির বদলে মানুষ হতে এসেছি গো তোমার তরে।
দয়া করে সরিয়ে দিও না গো আর আমারে।
ওগো তুমি বলো না! আর বলো না! কবি মোরে।।

জীবনবোধ

 ✒️সংহিতা ভট্টাচার্য 

চায় না হতে  ইঞ্জিনিয়ার 
কিংবা  ব্যারিস্টার 
'বড় হয়ে বোকা হবো'
সরল শিশুর জবাব।

শপথ নিয়েছে ঠকাবে না সে 
থাকবে  সবার পাশে 
সত্যিকারের মানুষ হয়ে 
জীবনকে ভালোবেসে।

সহজ সরল সত্য  মানুষ 
সমাজে অতি বিরল
হৃদয়ে তাদের  ফুলের বাগান 
নেই কোথাও গরল।

সমাজ সংসার কেমন হতো 
বলতো আন্দাজে?
বোকা মানুষ দিয়েই যদি
 এই পৃথিবী সাজে?

দোষ চাপাবে কে কার ঘাড়ে? 
টুপি পরাবে কে?
বোকা বানানোর ফন্দি এঁটে 
ধড়িবাজ হবে কে?

ঐ শিশুর মতো সবাই যদি 
জীবনের পাঠ শেখাও 
ঠকে গিয়ে কাঁদবে না কেউ 
ঠগবাজ হবে  উধাও।

আবির হোলি

✒️দীপক রঞ্জন কর

চলনা খেলি আবার হোলি 
আবির রঙে মাতিয়ে তুলি,
চলনা খেলি রঙের হোলি
ফাগুনের বাতাসে ঝড় তুলি।

চলনা খেলি সেই হোলি
পিচকারীতে সব রঙগুলি
 রঙ ছিটিয়ে অলিগলি
সাজাই মনের  রঙ্গলি।

লাল হলুদে সবুজ রঙে
খেলবো হোলি সেই ঢংগে,
খেলবো হোলি তোর সঙ্গে
হোলি যে আজ সারা অঙ্গে ।

আবির রঙে রাঙ্গিয়ে মুখে
খেলবো আজ মনের সুখে
পিছনে বলার বলুক লোকে
রাঙ্গা মুখে চিনবেনা তোকে।

আতর রঙে রাঙিয়ে দেবো
তার থেকেই যে সুবাস নেবো,
ফাগুন প্রেমের গীত গাইবো
রঙের ভেলা দুজনে বাইবো।

কৃষ্ণ খেলবে রাধার সনে
দোল দোলনে আপন মনে,
জগৎ আজ খেলবে হোলি
চলনা খেলি আবির হোলি।

ক্ষমতা

 ✒️শাহিনুর চৌধুরী

 ক্ষমতা! পারো বটে, পারো তুমি ,প্রর্কট শক্তি
তোর বলে তুমি বলিয়ান, 
হাঁরাতে পারো তুমি, মারতে পারো,
অকারণে নিরীহের গায়, করতে আঘাত।
ক্ষমতা! পারো তুমি, সবই পারো,তোমার তেজস্বীতা। 
সাঁজানো, গোঁছানো বাড়ী ঘর
 গুঁড়িয়ে ভেঙ্গে চুরমার করতে পারো,
তছনছ করতো পারো উদ্যান।
ক্ষমতা! পারো তুমি সবই পারো,
চাই শুধু চাই, ক্ষমতা চাই।
অর্থের ক্ষমতা, রাজনৈতিক ক্ষমতা,
গায়ের জোর ক্ষমতা,
ক্ষমতা!, ক্ষমতা, তুমি অদ্ভুত! অদৃশ্যতা!
তুমি বিলীন করতে পারো
, পূর্ণ্যতা কুল শূন্যতা।
ক্ষমতা! পারো তুমি, সবই পারো।
জাগ্রত করতে পারো,
ভাঙ্গতে পার হাজারো স্বপ্ন।
ক্ষমতা! পারো তুমি,সবই পারো
ছত্রভঙ্গ করতে পার,
পূর্ণ্যতা মাঠ, করতে পারো শূন্যতা।
উল্টেপাল্টে দিতে পারো, সব সিঁড়ি লিফট রাজপথ,
ক্ষমতা! পারো তুমি, সবই পারো।
আলোর ঝর্ণাধারা রাত, 
বিদ্যুৎ হীন করতো পারো,
ক্ষমতা! তুমি পারো,সবই পারো,
দূর্বল অসহায় মানুষের গায় তুলতে পারো হাত।
ভিঁটেমাটি কেড়ে নিয়ে সর্বহারা করতে পারো
আগুনে পুড়াইয়া ঘর-বাড়ি করতে পারো ছাঁই।
ক্ষমতা! তুমি পারো, সবই পারো।

(তৎকালীন বর্তমান সমাজব্যবস্হা সাথে সার্মঞ্জস্যতা রেখে তা বর্নিত)

সোনালী ভোর

✒️উত্তম সরকার
 
পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে
রাত পোহালেই আমি বাসী
প্রত্যুষের আগেই অনেকে 
গন্তব্যে পৌঁছে যায়
সোনালী ভোর হলে.....
বদলে যায় অনেক কিছু