ধানের পাঁচালি


                 ✍️গোবিন্দ ধর 

এক.
মা ধান সেদ্ধ করেন উঠোনের কোণে 
খড়ের আগুন নিভে ধোঁয়া বেরুচ্ছে 
বাঁশের চোঙে ফু দিতে দিতে
মায়ের চোখ রক্তবর্ণ জবা।

দুই.
মায়ের স্বপ্ন সেদ্ধ হয়।
কলার মোচাও।
সকালের পাত পাড়তে পোকমরিচ জুম থেকে লাফিয়ে চলে আসে 
বাবার বাজারের থলে ভরে।

তিন.
আমাদের পূর্ব প্রজন্ম ধান ভানতে 
কখনোই শিবের গীত গাইতেন না।
সকলেই ধান চাষা চাষাবাদ পেশা।

চার.
ধানের আগাচার মতো বাবার কয়েকজন আগাছা বন্ধু ছিলেন।
বন্ধুদের অধিকাংশই ধানের আগাছা। 
বিকল্প এখন অব্দি তুমিই মেধা।

পাঁচ.
উঠোনে শুকাতে দেওয়া ধান
গোরুমোষ খেত
আমাদের অতিবৃদ্ধ পিতা উদাসীন। 
তিনি দেখেও না দেখার ভাণ করতেন।
বলতেন কত খাবে।

ছয়.
হালচাষে আমিও বাবার মতোই অপটু।
বাবা ও আমি তবুও চাষার পুত।
ধানগাছ পরিচর্যায় কেটে গেলো
গোটা এক ফতুর জীবন।

সাত.
ধানছড়া জমাতে জমাতে আমাদের এক সের ধান হলে
বিনিময়ে ঠাকুরদাস মুড়ি দিত।
মা মোয়া গড়তেন।
মুখে পুরে সোনালী মায়ায় ধানছড়া খুঁজতাম।

আট.
ধানে দুধ এলে ঘরে ঘরে লক্ষ্মী আসতেন।
চালতাপাতায় সাধ বেঁধে ধান গাছে রাখা হতো।
তারপর অগ্রাণে ঘরে উঠতো গোলাভরা লক্ষ্মীধান।

নয়.
মাড়াই ঝাড়াই সেদ্ধকালে
তুমি নেই। 
চাল হয়ে ধান গেলোহাড়িতে।
ভাত হয়ে নেমে গেলো অম্ল ভরা উদরে।

দশ.
সারা জীবন চাষার পুতের গালগল্প 
বাবার মৌনতায় প্রশ্রয় সূচক সম্মতি
আজও ধানের মায়াবি দোলন
আমাদের একমাত্র ধান যাপন। 


‌‌

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন