জানুয়ারী সংখ্যা- কবি দেবব্রত'র স্মরণাঞ্জলি
সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়....................✍️
কবি দেবব্রত'র অনুপস্থিতিতে শব্দের উপস্থিতি......
কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া শব্দেরা থেকে যায়—নীরব অথচ দীপ্ত, স্থির অথচ গভীর। আজ যাঁর স্মরণে এই সাহিত্য সংখ্যা, তিনি তেমনই একজন কবি দেবব্রত। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের সময়ের সাহিত্যভূমিতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে, কিন্তু তাঁর কবিতা সেই শূন্যতার মধ্যেই আলো জ্বেলে রেখেছে।
তিনি কবিতা লিখতেন জীবনের গভীর তলদেশ থেকে—যেখানে আনন্দ ও বেদনা, প্রেম ও প্রতিবাদ, নিঃসঙ্গতা ও স্বপ্ন একে অপরের সঙ্গে কথা বলে। শব্দের প্রতি ছিল তাঁর অদম্য দায়বদ্ধতা। সহজ উচ্চারণে তিনি বলে যেতেন কঠিন কথা, নিঃশব্দে তুলে আনতেন সময়ের আর্তনাদ। তাঁর কবিতা পাঠ মানেই ছিল নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা।
এই সাহিত্য সংখ্যা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আমরা কোনো শোককে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে চাইনি; বরং চেয়েছি তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে আবার একবার সংলাপে বসতে। এখানে নানান কবিদের সংকলিত লেখাগুলো—কবিতা, প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণ—সবই এক একটি জানালা, যার ভেতর দিয়ে আমরা ফিরে তাকাই তাঁর জীবন, ভাবনা ও স্মৃতিচারণের দিকে।
একজন কবির মৃত্যু মানে কেবল একজন মানুষের প্রস্থান নয়; তা এক ধরনের নীরবতা। কিন্তু সেই নীরবতাকে ভেঙে দেয় তাঁর লেখা—বারবার, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আমরা বিশ্বাস করি, এই সাহিত্য সংখ্যা পাঠকের হাতে পৌঁছালে সেই নীরবতা আবারও অর্থবহ হয়ে উঠবে।
এই সংখ্যাটি আমরা উৎসর্গ করছি সেই কবিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছেন—মানুষ চলে যায়, কিন্তু কবিতা থেকে যায়। শব্দের মধ্যেই বেঁচে থাকে স্মৃতি, সময় আর ভালোবাসা। নবোন্মেষ তোমার অভাব সর্বদা অনুভব করবে।
ইতি- নবোন্মেষ
সম্পাদনায়- গৌরাঙ্গ সরকার
অক্ষর বিন্যাস- জয়জীৎ সুর
ডিজাইন- শিবশংকর দেবনাথ
শেষবেলায়
শেষবেলায়
✍️ ঊর্মি সাহা
আমি অপেক্ষায় থাকবো...
গানের ওপারে।
যেখানে পকেট ভরা সুখ নিয়ে বসে আছো তুমি,
যেখানে কোনো অসুখের আঘাত লাগে না,
তোমার আদুর আগে।
যেখানে তুমি আর স্পর্শ বোঝো না, দুঃখ বোঝো না, ক্লান্তি বোঝো না, প্রার্থনা বোঝো না...
শুধু বাতাসের মত মিশে যাও আমার শরীরে,
শুধু একরাশ কোকড়ানো স্মৃতি পরে আছে,
যা তুলে নিয়ে,
হিসেবের খাতায় লিখে লিখে নিঃশ্বাস নিচ্ছি,
সেইদিনের তোমার চন্দনে সাজানো মুখে আমি দেখেছি সময়ের নির্দয়তা।
তবুও, অপেক্ষায় থাকবো,
শেষবেলায়ও...
স্মরণে দেবব্রত
স্মরণে দেবব্রত
✍️সমর সরকার
তুমি ছিলে সহজ সরল প্রকৃতির লোক ,
কয়েক দিন করে গেলে এই ধরাতে ভোগ।
তোমার মনে ছিল কত আনন্দ উল্লাস,
হৃদয়ে ছিল কত কী সৃষ্টির অভিলাষ ।
তোমার সৃষ্টি গুলি আজ রয়েছে পড়ে,
আমরা সেই গুলি রাখব স্মৃতিতে ধরে।
তোমাকে নিয়ে ভাবতাম প্রতিদিন,
অন্তরে রাখব তোমায় চিরদিন।
শেষ আগুন
শেষ আগুন
✍️সপ্তশ্রী কর্মকার
ফুটপাথে পড়ে থাকা আলো মুঠোয় ভরি—
অন্ধকারে নিজেকেই জ্বালাই।
নদীর ওপারে কোনো মুখ চেনা যায় না,
মৃত্যুর এক পা আগে দাঁড়িয়ে বুঝি—
ক্ষুধা শুধু গণিত শেখায়
আমার নামটা আর নাম নয়,
একটা ঋতু—
এই দেশ এখন আমার কাঁধে
ভাই
ভাই
✍️সোমা চক্রবর্ত্তী
কেমন আছিস ভাই?
নিশ্চই ভালো!!
সেই ১১ নভেম্বর ২০২৫,
সবাইকে যন্ত্রণা দিয়ে
চলে গেলি পরপারে।
ভালো থাকার জন্যই তো!
তুই না তোর,
প্রেয়সির হাতটি ধরে কথা দিয়েছিলিস,
কখনই ছেড়ে যাবিনা,
তোর কথার কি কোনো মূল্যই নেই?
কোনো গুরুত্ব নেই?
নাকি গুরুত্বের দূরত্বই তোর শান্তি?
কেন মিথ্যে আশা দিয়েছিলিস?কেন?
জানিস ভাই মেয়েটি এখনো কাঁদে,
তোর অপেক্ষা করে,
তোর মুখ টা খুঁজে,
হাজারো ভিড়ের মাঝে তোর সঙ্গে কথাও বলে মনে মনে।
মেয়েটার মুখটার দিকে তাকালে;
তোর সুখটা ভেসে আসে ,
তোর চলে যাওয়ার যন্ত্রনাটা যে কি;
সেই মেয়েটিই জানে।
আমি তোর মেজ দিদি বলছি ,
ভালো থাকিস ভাই।
তরুণ কবি দেবব্রত (রাকেশ)
তরুণ কবি দেবব্রত (রাকেশ)
✍️পায়েল ভৌমিক
তুমি আমার এক অ-জানা কবি ,
তোমার লেখা প্রতিটি কবিতায় যেন, তোমার-ই প্রতিছবি।
কবিতার ভাষায় জ্বলছে হাজারো আলো ,
দূর আকাশে তুমি কবি শুক-তারা হয়ে জ্বলো।
তোমার কবিতায় ভেসে উঠেছে শব্দহীন ভাষা ,
শব্দহীন ভাষা গুলো জাগায় যেন ,কবি হওয়ার আশা।
তোমার কবিতার ভাষা থেমে গেছে সেই নিস্তব্ধ ভোরে ,
তখন সবাই ঘুমিয়ে ছিল , আর তুমি বহু দূরে।
তোমার লেখা প্রতিটি অক্ষর যেন , এক একটা নতুন জীবন ,
অক্ষরের স্মৃতিকূটে রেখে গেছ , হাজারো আনন্দ আয়োজন।
তুমি আছো হৃদয় জুড়ে
তুমি আছো হৃদয় জুড়ে
( পদ্য কবিতা )
✍️ জগন্নাথ বনিক
তোমার হাসিমাখা মুখখানি,
আজও মনে পড়ে বারংবার।
মনে পড়ে সেই তোমার মুখের মিষ্টি হাসি,
সেই মিষ্টি মুখখানি, আজও মোরা ভালোবাসি।
ভালোবাসি বলেই, তোমার স্মৃতিগুলো হৃদয় জুড়ে।
মনে পড়ে আজ, তোমার কথা,
বইমেলায় লিটল ম্যাগাজিন স্টলে,
যখন সবাই বসে গল্প করছিলাম।
তুমি সেলফি তুলছিলে বারবার,
আর সেই সেলফি গুলো আজও ফেসবুকে,।
স্মৃতি হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বারংবার।
কিন্তু তুমি পাশে নেই,
তুমি আছো সবার হৃদয় জুড়ে।
সবার হৃদয় জুড়ে, সবার হৃদয় জুড়ে।
স্মৃতির পাতা
স্মৃতির পাতা
✍️সুখময় মুড়াসিং
বসন্ত উৎসব ও সাহিত্য সভায়
প্রথম আলাপ ,
প্রাণখোলা যুবা লেখক মার্জিত হাসি
আপাদমস্তক নিষ্পাপ ।
কথা বার্তা ভাবনায় , প্রত্যয় ছাপ
আত্মবিশ্বাস অগাধ ,
প্রথম আলাপেই জয় করে নিলো
স্নেহ অবাধ ।
যেনো কত দিনের অলাপ পরিচয়
দ্বিধাহীন ব্যবহার ,
অন্তরের অন্দরে লুকায়নি কিছু
খোলামেলা সদাচার ।
অনুষ্ঠান শেষে স্নিগ্ধ পড়ন্ত বেলায়
যাত্রা পথে বিরতি ,
সবুজে সমারোহ চা বাগানে চলে
কবিতা আবৃত্তি।
খেলা হয় পুনরায় বসন্ত আবির
গানের তালে ,
এইতো ! এসেছিলো আমার কর্মক্ষেত্রে
প্রশান্তির হাসি তুলে ।
বুঝতে পারিনি এই যে শেষ দেখা
শেষ কথা বার্তা ,
ভেসে উঠছে এখন শুধু অতীত
স্মৃতির পাতা ।
সদা প্রাণবন্ত তুমি যেখানেই থাকো
ভালো থেকো ,
সৃষ্টিকর্তার কাছে একান্ত প্রার্থনা
তাকে ভালো রেখো ।
তুমি আমার লেখা কবিতা আর গল্প হয়েই থেকো
তুমি আমার লেখা কবিতা আর
গল্প হয়েই থেকো
✍️ অনুরাধা
আচ্ছা তুমি আমার বাস্তব না হলেও, আমার স্বপ্ন হয়েই থেকো।
আর ,স্বপ্ন যদি না ই বা হতে পারো,
তবে তুমি আমার লেখা কবিতা আর গল্প হয়েই থেকো।
আচ্ছা তুমি আমার জীবনের আলো না হতে পারলেও, তুমি আমার সেই রাতের আঁধার হয়ে থেকো....
যে আঁধারকে আমি নিজের মধ্যে মিশিয়ে নিতে পারবো...
আর সেই শেষের রাতের আঁধারের পরে আলোর অপেক্ষা হয়ে থেকো।
আচ্ছা, তুমি আমার মুখের মিষ্টি হাসি না হতে পারলেও,
আমার ম্লান মৃদু চাপা হাসি হয়েই থেকো...
যেখানে চাপা পরে গেছে কতনা যন্ত্রণা,আর কতনা গল্প,
তুমি আমার অপরিসীম কষ্ট না হয়ে,
বরং ভালোবাসা অল্প হয়েই থেকো।
তুমি আমার, আমার অহংকার না হতে পারলেও,
তোমার পাশে অন্য কেহকে দেখিলে যে ভীষন যন্ত্রণা হয়,
সেই যন্ত্রনার মাত্রা অল্প হয়েই থেকো।
আচ্ছা, তুমি আমার চোখের সেজে উঠা কাজল হতে না পারলেও,
আমার চোখের মুছে যাওয়া কাজল হয়েও থেকো।
তুমি আমার ভালোবাসা না হতে পারলেও, তুমি আমার যন্ত্রণা অল্প হয়েই থেকো।
আচ্ছা, তুমি আমার না হলেও..
আমার স্বপ্ন হয়েই থেকো...
আর স্বপ্ন না হতে পারলেও, তুমি আমার লেখা কবিতা আর গল্প হয়েই থেকো।
বিদায়
বিদায়
✍️অসীম দেববর্মা
একটি ছেলে,
দুচোখে ছিল স্বপ্ন অফুরন্ত
নবযৌবন তার প্রাণবন্ত,
প্রখর রোদে প্রাণোচ্ছল সারাদিন
বর্ষায় তার ক্লান্তি সমীচীন।
বৃষ্টিস্নাত সকাল
কিংবা
শিশির ভেজা শীতের বিকাল
মার - প্যাঁচের গাঁট চেয়েছিল খুলতে,
জীবন পথের চড়াই - উতরাইয়ে
কিন্তু
মাঝপথে থামতে হলো নিয়তির মারে!
দুরারোগ্য ব্যাধির বিষময় জ্বালায়
তিলার্ধেক মুহুর্তের জন্য হয়নি অস্থির
অদ্রির মতো নিজেকে রেখেছিল স্থির।
চিরদিনের জন্য উপোসিত হয়ে শায়িত
আছো বেণুবনে!
তুমি থাকবে তোমার রচনার পংক্তির সম্মোহনে।
চলে এসো সময় মত
চলে এসো সময় মত
---- দীপক রঞ্জন কর
চলে এসো সময় মত,
বলবো কথা মনে যত,
আসবো আমি যথাযথ
থাকুক বাধা শত শত ।
ভাবি কেন আগু -পিছু
লোকে ভাবুক কত কিছু ,
শিরদাঁড়টা করেই উচু
থাকবো নাকো মাথা নিচু।
পাতা ঝরার ফাগুন মাসে
কোকিল যবে গাইতে আসে
শিমুল পলাশ যবে হাসে
তুমি থেকো আমার পাশে।
কালো আষাঢ়ে বর্ষাকালে
যবে ময়ূর পেখম তুলে
তুমি আসবে চলে
একান্তেঐ বৃক্ষ তলে।
শরতের আশ্বিন মাসে
শিশির বিন্দু ঘাসে ঘাসে
শিউলি ঝরা পথের পাশে
সুখবর পাবে সে সুবাসে।
তোমায় নিয়ে ভাবনা যত
দিন রাত্রি অবিরত,
চলে এসো ঋতুর মত,
বলবো কথা মনে যত।।
শেষ কথা
শেষ কথা
✍️ সঞ্চয়িতা শর্মা
শেষ সূর্যাস্ত দেখেছি আমরা,
কী বিভৎস গ্রহনে নেমেছে অন্ধকার !
যেমন করে সাগরের বুকে ডুবে যায় সূর্য্য,
উত্তাল উর্মিরা করে হাহাকার!
আজও নিবিড় রাতে
কথা হয় তার সাথে
আজও কবিতা লিখে দিই উপহার ।
আগুন গিলেছি তাই
দহনের শেষ ছাই
আবিরের মতো করে মেখেছি আবার!
হতভাগা
হতভাগা
✍️ প্রদীপ চক্রবর্ত্তী
দিকশূন্যপুরের সেই চিরকিশোর ছেলেটা
জীবনের কাছে যার কোনো প্রত্যাশা নেই
আপন মনে ঘুরে বেড়ায় পথে প্রান্তরে-
এমনিই ঘোরে
আপন খেয়ালেই গায় না শোনা সব গান-
তাও এমনিই।
অগণিত মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ছেলেটিকে
জীবন দেয়নি কোনো প্রত্যাশার ছোঁয়া
দিয়েছে শুধু অবারিত আলো, বাতাস, জল-
সবাইকে যা দেয়
ক্ষুধার যন্ত্রণা, ঋতুর অত্যাচার সহ্যের ক্ষমতা-
যা হতভাগারা পায়।
সবাই বলে, এ যে ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস
কিন্তু ছেলেটা জানে
মাধ্যমিকে কেঁদেকেটে কঁকিয়ে
অঙ্কে এককুড়ি দশ তুলে হাঁফ ছাড়ার পর
উঁচুতলায় ওঠার সিঁড়িটা ভেঙে
সব হিসেবের ফল হয় শূন্য
শূন্যতার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়।
ভালবাসা
ভালবাসা
✍️ডাঃ অরূপ রায় বর্মণ
সেই যখন আমার চুলে পাক ধরেছে,
তুমি তখনও কোনো মতে ক্রিম মেখে মুখের ফাটলগুলো রেখেছ ঢেকে,
আমি দাঁড়িয়ে একলাটি, আর তুমি
একটানা বক বক করে যাচ্ছো
উবু হয়ে বসে থাকা ফুলওয়ালার সাথে,
আমার অস্তিত্ব তখন নেই আর কোন খানে!
তারপর ...কোন এক শীতের নিস্তব্ধ রাতে,
চাঁদ তখন কুয়াশার ঘেরাটোপে,
তুমি হাতে হাত রেখে বল,দেখ কি সুন্দর !
আমি ভাবি মিশে যাই আজ কুয়াশার সাথে,
আর বেঁধে রাখি তোমায় স্বপ্নমায়ায়,
শীতের এই নিঝুম রাতে।
আমি আজও আগের মতোই
আমি আজও আগের মতোই
✍️ অভিজিৎ দাস
আমি আজও আগের মতোই—
আগের মতোই একা;
বুকের ভিতর দুঃখগুলোই
মুখের বলিরেখা।
আমি আজও মুক্ত বাতাস,
মুক্ত যেমন পাখি;
স্বপ্নগুলো ভেঙে গেলেও
আবার স্বপ্ন আঁকি।
আমি আজও নীরব পথিক,
নীরব যেমন নদী;
মাঝে মধ্যে গল্প করি,
বর্ষা আসে যদি।
আমি আজও কঠিন পাহাড়,
বুকে পাথর পুষি;
একটা একটা খসাই পাথর,
নিজের ইচ্ছেখুশি।
আমি আজও তপ্ত দুপুর,
আগুনে গলা প্রহর;
অবুঝ বালকের মতোই পুড়াই
নিজেই নিজের শহর।
আমি আজও নীলাভ আকাশ,
মেঘের সাদা-কালো;
তোমার কথাই ভাবতে বসি,
ফুটলে চাঁদের আলো।
আমি আজও কান্না করি
এইটুকু অভিমানে;
আমি কেমন—না বুঝোক কেউ,
মনটা ঠিকই জানে।
গ্রাম্য জীবন
গ্রাম্য জীবন
✍️সুদীপ চক্রবর্তী
পরিচ্ছন্ন গ্রাম চুতুর্দিকে হরিৎ ক্ষেত্র,
মাঝখানে ছোট এক নদী প্রবাহিত।
নদীখানা বিভাজিত করে গ্রামটিকে,
গ্রামের একতা তবু অক্ষুণ্নই থাকে।
দুই তীরে সুখে বাস করে গ্রামবাসী,
নৌকাযোগে তাদের চলাচল বেশি।
নদীর দুপাশে দুটো সরু কাঁচা রাস্তা,
প্রকৃতি দেয় তাদের বাঁচিবার আস্থা।
প্রভাত রবির আগে ঘুম থেকে ওঠে,
কৃষি সরঞ্জাম নিয়ে যায় তারা মাঠে।
বৈচিত্র্যময় মরসুমে ঋতুকালীন চাষ,
জেলে ভায়েরা ধরে জাল নিয়ে মাছ।
সারাদিন শ্রম শেষে যা কিছু জোটে,
সূর্যাস্তের পূর্বেই তা নিয়ে যায় হাটে।
বেচা-কিনি সেরে, সবাই ঘরে ফিরে;
দারা-পুত্র-পরিবার সুখের সংসারে।
কেবল যখন আসে ঘন বর্ষায় প্লাবন,
দুঃসহ হয়ে উঠে তখন গ্রাম্য জীবন।
আসুক যত তাদের জীবন-যুদ্ধে কষ্ট,
সন্তানের পড়াশুনায় মন রাখে নিবিষ্ট।
শীতের ঠান্ডায় বৃদ্ধের কষ্ট
শীতের ঠান্ডায় বৃদ্ধের কষ্ট
✍️ মায়া রানী মজুমদার
কনকনে শীতেই ফুটপাতে বৃদ্ধ,
শীতে জবু-থুবু একেবারে স্তব্ধ।
বহু কষ্ট সহ্য করে রয় ফুটপাতে,
দিবা রাত্রিও কষ্ট পায় যে ভাতে।
দেখাশোনার নেই কোনও লোক,
বৃদ্ধের কপালে তাই এত দুর্ভোগ।
পরিচর্যা তো লাগে বয়োবৃদ্ধ হলে,
পরিসেবাও লাগে বয়োবৃদ্ধ বলে।
সন্তান থেকেও অনেকে দেখে না,
বিদেশে থেকেও হয় না দেখাশোনা।
অনুরোধেও বাবা ছাড়ে না স্বদেশ,
বাবা ছেলের মাঝে তাই এই বিদ্বেষ।
সবাই থেকেও কেউ বা স্বজনহারা,
দেনার দায়ে কোন বৃদ্ধ ঘর ছাড়া।
দয়াবান করো দয়া হইও না নির্দয়,
শীত-বস্ত্র অন্ন বস্ত্র দিয়ে হও সদয়।
বৃদ্ধরা বাঁচলে পাবে জীবনের স্বাদ,
সরল মনে বৃদ্ধ দানিবে আশির্বাদ।
একটি মোবাইলের আত্ম কথা
একটি মোবাইলের আত্ম কথা
✍️ সুব্রত আচার্য
আমি বহু চর্চিত এক কালের খুব নামি দামি কোম্পানির (SAMSUNG) তৈরি মোবাইল, আমার জন্ম দাতা কোম্পানি-ই প্রতিটি বাজারে খুব সুন্দর সুন্দর শো রোম খুলে আমাকে ও আমার পরিবারের সকল ছোট বড় সকল স্বগুত্রীয় দের তাদের ঘরে সাজিয়ে রাখত। সে সময় অন্য কোম্পানির প্রসার একে বারেই ছিলনা তা বলি না। তবে আমাদের কদর খুব বেশিই ছিল। আমাদের-ই লোক বেশি পছন্দ করত। আমি এক সময় খুব নীরবে খুব স্বযত্নেই এক বিক্রেতার শো রোমেই ছিলাম। বেশ শান্তিতেই ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আমার দিন কাটছিল। ভেবে ছিলাম এই ভাবেই দিন গুলি কাটিয়ে দেব। বেশ ছিলাম , ভালোই তো ছিলাম। শুধু নীরবে শো রোমের এক কোনে দিন কাটছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হটাৎ এক ক্রেতা আমায় দেখে খুব পছন্দ করলেন। আমাকে 12,500 টাকার বিনিময়ে ওখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেলেন। ক্রেতার হাত ধরে বেশ আনন্দেই উনার বাড়ি গেলাম। আ-হা-রে , প্রথম প্রথম আমায় কি যত্ন , খাতির, আমাকে কোথায় রাখবেন , আমার শরীরে ময়লা যেন না লাগে আমায় একটা আবরণ ও দিয়ে ছিলেন। আমাকে যাতে কেহ অযথা বিরক্ত না করে বাড়ির লোকেদের কি অর্ডার , মনে পড়লে হাসি পায়। হায় রে যত্ন। দিন যায় মাস যায় আমার মালিক (ক্রেতা) আমাকে যেন সেই মধ্য যুগিয় ক্রীতদাস প্রথার শিকার করে নিলেন। তিনি সারাদিন সারাক্ষন আমাকে দিয়ে কত যে কাজ করাচ্ছেন তার হিসাব রাখলে আমাকে পরের জন্মে কম্পিউটার হয়েই জন্ম নিতে হবে। আমি উনার অর্ডারে কাজ করতে করতে এখন খুবই ক্লান্ত। আর পারছি না। প্রায়শ-ই অসুস্থ হয়ে পরি। এই তো দুই বছর আগে খুব অসুখ হয়েছিল, আমাকে চিকিৎসার জন্য শো রোমেই নিয়ে গেলে সেখানকার তত্ত্বাবধায়ক বলে দেন তোমাদের হার্ট সরূপ আমার দেহে যে ব্যাটারি টা আছে তা খারাক হয়ে গেছে। তৎক্ষণাৎ ওটা রিপ্লেসমেন্ট করতে বলায় আমার মালিকও নতুন ব্যাটারি লাগিয়ে আবার আমাকে সচল করেন। সেই থেকে আজ অবধি উনার নির্দেশ মত উনার আঙুলের হেলানুতে কাজ করেই যাচ্ছি , করেই যাচ্ছি। আমার মালিক যে কত কাজ করছে , কখনো কখনো রাত 2টা থেকে 3টা পর্যন্ত কাজই করে যাচ্ছেন। তবে একটা কথা বলতে পারি উনার নির্দেশে আমার দ্বারা প্রকাশিত প্রতিটি কাজ সমাজের বিভিন্ন কাজে যথা যতই ব্যবহৃত হচ্ছে বা সমাদৃত হচ্ছে তা হলফ করেই আমি বলতে পারি। আমি হয়তো আর বেশি দিন নাও টিকতে পারি , বর্তমানে আমি খুবই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছি, কখনো কখনো ঠিক ঠিক পরিষেবা দিতে ব্যর্থ ও হয়ে পরি , তবু শেষ চেষ্টা করেই চলছি। উনার নির্দেশে সবই করে যাচ্ছি। আমি যতদিন আছি করেই যাব। জানিনা এমন কর্মদক্ষ আমার স্বগুত্রীয় দের মধ্যে কেহ পেয়েছেন কি না ? আমি উনাকে পেয়ে উনার অর্ডারে সব পরিষেবা দিতে পেরে নিজেকে গর্ব বোধ করি। আমার আয়ুষ্কাল যতদিন হউক উনার দীর্ঘ জীবন কামনা করছি।
কবিদের কোনো মৃত্যু নেই
কবিদের কোনো মৃত্যু নেই
আলমগীর কবীর
কবিদের কোনো মৃত্যু নেই—
কারণ তারা শরীর নিয়ে বাঁচে না,
বেঁচে থাকে শব্দের শিরায়, অনুভূতির নাড়ির স্পন্দনে।
যে দিন কবির হৃদয় থেমে যায়,
সেই দিন তার কলম আরও প্রখর হয়ে ওঠে,
তার কবিতা আরও গভীর হয়ে মানুষের জীবন ছুঁয়ে যায়।
শরীরের মৃত্যু একদিন অবশ্যই আসে—
মাটি ডাকে, আকাশ পূর্ণতা দেয়,
সময়ের ঘড়ি নীরব হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু একজন কবির লেখা তখনই শুরু হয়
যখন তার কণ্ঠ থেমে গেছে,
কারণ শব্দের মৃত্যু নেই—
আর কবি শব্দেরই সন্তান।
কবি চলে যায়, কিন্তু তার লেখা রয়ে যায়—
বইয়ের পাতায়, পাঠকের চোখে,
ভালবাসার কাঁপা কণ্ঠে,
দুঃখের স্তব্ধ রাতে,
ভোরের প্রথম আলোয়।
যখন কেউ নিঃশব্দে বলে—
“আমি বুঝতে পারছি তোমাকে”—
সেই মুহূর্তে কবি জন্ম নেয় আবার।
তার কবিতা নদীর মত—
একদিন ঝড়ে, একদিন শান্ত,
একদিন অশ্রুর মতো নোনা,
আরেকদিন হাসির মত ঝলমলে।
নদী যেমন শুকিয়ে যায় না,
তেমনই কবির অনুভূতিও শেষ হয় না।
তাই কবিদেহের চিতায় আগুন জ্বলে,
কিন্তু শব্দের আলো নিভে যায় না।
মানুষ চলে যায়,
কিন্তু ইতিহাস হাঁটু গেড়ে মাথা নত করে—
কারণ, কবিদের কোনো মৃত্যু নেই।
তারা বেঁচে থাকে—
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে,
প্রতিটি হৃদয়ের নিঃশ্বাসে,
প্রতিটি অশ্রুর নীরব ফিসফিসে।
কবি অমর—
কারণ তিনি আমাদের শেখান
ভালোবাসতে, ব্যথা বুঝতে,
আর মানুষ হয়ে জন্ম নিতে।
সত্য দ্রষ্টা
সত্য দ্রষ্টা
✍️ বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী
দেহ থেকে দ্রষ্টা নয়,
দেহ অনাদি নয়, অকৃত্রিম নয়,
এই দেহ নারী নয়, পুরুষ নয়।
ইন্দ্রিয়ের কামনায় যা' দৃশ্যত
তা শুধু অস্থায়ী রূপের ক্ষণস্থায়ী
বর্ণন।
দৃষ্টিতে লোভ আসে, কামনা হাসে,
হৃদয় -
তরঙ্গের সুরে নৃত্যের গান গায়।
তবে সত্য দ্রষ্টা
দেহের খাঁচায় আবদ্ধ নন,
আসীম ব্রহ্মাণ্ডের অমোঘ রীতির
মূর্ছনায় -
ভেসে থাকেন মহা সমুদ্রে।
যে দেহের স্পর্শ রোমাঞ্চ আনে,
ক্ষন আনন্দের অনুভূতি বিস্মৃতি হয়,
তাতেই বাস করেন চৈতন্যের অগ্নি
গভীরে নীরব ঋষি।
বসেন -
স্পর্শের অপরিমেয় উৎকর্ষে।
কামপরাবশ অগ্নি আহুতিতে
সমর্পন,
দগ্ধ করে আজীবন,
যেখানে -
ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়া
পরমাত্মার স্পর্শ মিলে,
সকল পরিমিতিবোধের
উন্মুক্ত আকাশে।
ভোগের দেহখানা মেলে
ব্রহ্মার মহা প্রকাশে।
যঃ পশ্যতি সঃ মুক্ত -
যিনি কায়ার গদ্যেও ছন্দের
অন্তঃকরণ স্পর্শ
অনুভব করেন,
ইহাই পরম সত্য।
তিনি অভিলাষী নন,
তিনি সত্য দ্রষ্টা, তিনি শান্ত।
গুচ্ছ কবিতা
শিলালিপি
--------------
✍️বিকাশ দাশ
গভীর সমুদ্রে যে মুখ একবার ডুবে যায়
সে মুখ তুলে আনা সহজ কর্ম নয়।
তবু জেগে থাকে --
উঠোন জুড়ে স্যাঁতাপড়া দাগ, আর--
অস্পষ্ট শিলালিপি ঘরময়।
এখনও দু-চোখে লগ্ন হয়ে আছে
সেই সব ছবি অজন্তার
তাই, তুমি হলে নীল নির্জনের একলা বাতিঘর
আমি শুধু অনন্ত রবিবার ।
এখনও বিষাদের ঘরে নোনা মাটি
সেই মাটি জুড়ে তক্ষকের ঘর -- মন্দ অসুখ ,
ভেঙে যাই নিয়ত শব্দ নিয়ম
ভেঙে পাই তোমার অক্ষত মুখ।
তুমি তো জানো মৃত্তিকা --
না ভেঙে -- ভেঙে যাওয়া
আমার পুরানো অসুখ।
আধ ময়লা মন খারাপ
------------------------------------
বিকাশ দাশ
যখন একটা আধ ময়লা মন খারাপ
একটা আস্ত দুপুর পেটে পুরে আমাকে ধ্বংস করে দেয়
আমি তখন সেলাই করা বিকেলের গায়ে
একটা গোটা ভারতবর্ষের ছবি আঁকি
ভেজা ভেজা অক্ষর সাজাই
ভাবনার গায়ে তালি দিই।
যখন আধ ভাঙা ভুলেরা শরীরে কষ্ট আঁকে
আমি মন খারাপ পুড়িয়ে উষ্ণতা খুঁজি।
চা বাগানের এক চামচ রোদ এনে দেয় ভেষজ ঘুম
পালিয়ে যাওয়া পাতলা আকাশ আরও গাঢ় হয়
আমার হারানোর কিছু ছিল না, কেবল এক বালতি মন খারাপ ছাড়া
চাওয়ার মধ্যে খেজুর রসের অনন্ত সকাল
এক পেয়ালা সুখ, এক বারান্দা আলো
আর মনের জ্বর মাপা একটা সন্ধ্যা।
কাচের চুড়ির মতো ঠুনকো ভালোবাসা
প্রজাপতির হয়ে হাতে বসলে
আমি ফোনের ভেতর আলগোছে চুমু খাই
আর মন খারাপ উড়িয়ে হো হো হেসে উঠি।
আগুন মায়ায় ছায়া ফেলে
------------------------------------------
বিকাশ দাশ
কুসুম নিও না কেউ হাতে
এখানে চুলের ঢেউয়ে কুসুম ভাসানো মানা।
আমাদের কুসুমিত মেয়েরা
বহুকাল পুষ্পরাগে সাজিয়েছিল দেহ
মুখে লোধ্র রেণু, হাতে লীলাপদ্ম
সেই শৃঙ্গার দেখে সাদা দেবলোকেরও ছিল অপাবৃত লোভ।
আমাদের পুরুষেরা কুসুমের আগুনকে
বহুকাল বুক পেতে নিয়েছিল ,
আগুনের মশালকে হাতে নিয়ে হেমন্তের যুবকেরা
অরণ্যে অরণ্যে জ্বেলেছিল হা-হা দাবানল।
আমাদের মেয়েরা দেবদাসী ছিল না কখনো
আমাদের পুরুষেরা আসলে মর্ত্য দেবদূত।
ওদের নিহিত প্রেম কুসুমকে ঘিরে
ওদের নিহিত প্রেম আগুনকে ঘিরে
এখানে কুসুম ফোটে না তারপর।
এখানে আগুন নেই জেনো
আগুনের গোধূলি আলোয় কিছু মায়া জেগে থাকে
ছায়ার মতন, চিরন্তন।
বিকাশ দাশ
১৭২ ন্যাশনাল প্লেস
বাকসাড়া, হাওড়া-৭১১১১০
পশ্চিম বঙ্গ, ভারতবর্ষ
আলাপন--৯৮৭৪৬৫০২৩৯
পিঞ্জিরার পাখি
পিঞ্জিরার পাখি
✍️ পাপিয়া দাস
তোমার অন্তিম যাত্রায়,
লোক সমাগমে ভীষণ ভিড় ছিল,
আমি আড়ালে বসে তোমার
শুভাযাত্রার সব দেখি,
কাছে যেতে পারিনি ।
একবুক কান্না নিয়ে চোখেরপাতা ভিজে গেলেও
কাউকে দেখাতে পারিনি ,
কারন আমি তোমার আত্মীয় নই,
কোনো বান্ধব নই,
আমি এক পিঞ্জিরার আবদ্ধ পাখি।
তোমাকে হারালে
তোমাকে হারালে
✍️কল্যাণ দেববর্মণ
তোমাকে না দেখে সারাক্ষণ আমি দেখে থাকি ছবি
হারানো এবং সদ্য বাসি এঁটো আরো কিছু সংলাপ ।
তোমার ঝাউ গাছের বড্ড কালো চুলের ভিতরে
কতো খুনটুসি এখনো বেঁচে আছে ছল চাতুরীর নর্দমায়।
বিমর্ষ আড়ালে প্রেম যে এতো সতেজ হয়ে সারাক্ষণ অপেক্ষার দীর্ঘয়াত আনন্দে আপ্লুত হয়ে জড়িয়ে থাকে
এক মোহনার অতল গহ্বরে মমির সদ্য ছবির কেনভাসে
এখনো তোমার পাশে হাঁটি পশ্চাতে কুজ্জটিকার আড়ালে
হারালে এতো আনন্দে কোন মোহনায় বাজে বাঁশের বাঁশি
আমি তো বসে থাকি, থাকব পর্বতের হিম শীতল চূড়ায়
যেখানে তোমাকে দেখেছি আকাশে এক নতুন ঠিকানায়
তুমি হারালে আমার পিপাসায় ছুটে যাই তোমার ঠিকানায়
একটা আকাশ
একটা আকাশ
✍️ কল্যাণী ভট্টাচার্য
একটা আকাশ থমকে থাকুক চোখের পলক ঘিরে
খুঁজবো না প্রেম এই পৃথিবীর লক্ষ লোকের ভীড়ে।
বসুন্ধরার স্নিগ্ধতা নাই ধান্ধাবাজির নেশা
হরেকরকম স্বার্থসিদ্ধি মানুষের আজ পেশা।
লোভের হৃদয় দেয় যদি ঠাঁই মেটায় না প্রেম ক্ষুধা
কোন ভরসায় আশ্রয় নেবে পবিত্র প্রেম সুধা।
ওই আকাশের বুকের মাঝেই জ্বলুক হাজার তারা
আমরা সবাই দেখতে থাকব ভীষণ ভাবুক যারা।
তোমার মাঝেই আকাশ বাতাস দেখব সকাল সাঁঝে
আমার এমন ছলা কলায় মুখ ঢাকবে লাজে।
উথাল পাতাল থাক যত ঢেউ রয় না চিন্তা মোটে
আঁধার রাতের শেষেই কিন্তু রবির কিরণ জোটে।
অগ্নিবীর বীরেশ্বর
অগ্নিবীর বীরেশ্বর
✍️ সজল চক্রবর্তী
তুমি সৈনিক গেরুয়া
তুমি সৈনিক ভারতাত্মা দেশমাতৃকার
তুমি অনন্তকাল দেশের আমাদের দীপ্ত সূর্য
লড়াই লড়েছ আসমুদ্র হিমাচল।
কঠিন শপথ ছিল জাগ্রত করার
দরিদ্র নারায়ণের বিবেক, চেতনা, সত্যের পথ,
লক্ষ্য ছিল বধ করতে
অহিংসা অলসতা অধর্ম অসাম্য
তাই তুমি সমাজতান্ত্রিক সন্ন্যাসী।
তোমার দেশ ভক্তির মানচিত্র প্রতিষ্ঠা করেছ
শিকাগোর বিশ্ব ধর্ম - হাটে নিষ্ঠায় প্রতিভায়
মাতৃভূমিই ছিল ধ্যান জ্ঞান আরাধনা।
যুগ প্রবর্তক তরুণ তেজী অগ্নিবীর
মূর্খ মুচি চণ্ডালের দুঃখে কাতর অস্থির
বিভেদ ভেঙ্গে করেছিলে চৌচির।
হে কর্মবীর ধর্ম - সম্রাট ' বর্তমান ভারত ' এর
চরণ বন্দনা করেছ এ প্রান্ত ও প্রান্ত
দেশনায়ক চিন্তানায়ক মানব প্রেমের মুক্ত গায়ক
তুমিই বলতে পারো, " আই অ্যাম দ্য গড " ।
প্রকৃত্ই ভারতের ভগবান বীর সন্তান
যার অবতার গুরু কেঁদেছেন " মা মা " বলে
শিষ্য তুমি কেঁদেছো জীবরূপী " শিব শিব " বলে।
প্রেমের টানে
প্রেমের টানে
✍️ জয়া দেবনাথ
ফাগুন ছুঁই ছুঁই---
পলাশ বনে রঙ লেগেছে যে সই,
আমি কান পেতে রই!
এখনো মনের দরজায় কড়া নাড়ে কাঁটা গোলাপের ছোঁয়া,
ফুলের পাপড়ি গুলো ঝরে পড়ে আছে উদাসীন হাওয়ায়।
তবুও ফিরে ফিরে চেয়ে দেখি সুখের জল ছবির রঙিন দিনগুলোকে।
প্রেমের টানে তোমার পরশ খুঁজি,
আকন্দ ফুলের মালা গাঁথি।
নদী তীরে একাকী বসে কলমের তুলিতে নিজেকেই মেলে ধরি।
তৃষ্ণার্ত বুকে যখন ব্যথা জড়িয়ে কথা গুলি মনে করি,
তখনই গোধূলি বেলায় চেনা সুরের ঘ্রাণটা অমাবস্যার ভরা কোটালে ছেয়ে যায়।
কাঁটায় ঘেরা পথ
কাঁটায় ঘেরা পথ
✍️অনুরুপা বনিক
যে পথে গেছি আমি বিঁধে যাই কাঁটা!
তবু যে সে পথের পথিক আমি সকাল ভোর সন্ধ্যা!!
আমি পথে যেতে যেতে দেখি শুধু কাঁটায় ঘেরা পথ!
দিন দুপুরে আঁধার ঘেরা কালো ছবি!!
যেদিকে তাকাই দুপথের ধারে
কাঁটায় ঘেরা বাগান!
কি যেন কি খুঁজি আমি আঁধারে কি ফুলের সুগন্ধে !!
অজস্র কাঁটা বনের মাঝে আমি তোমায় খুঁজে পাই!
হাতে নিতেই রক্তাক্ত আমি তোমার পরশে!!
তবু যে ভালো লেগেছে শুধু তোমারে!
কাঁটায় ঘেরা পথ পেরিয়ে এলাম এক নতুন আলোর পথে!!
কাঁটা পথের পথিক হয়ে অনেক কেঁদেছি একাকী!!
তাই বদলে নিয়েছি পথ দুজনে!
যে পথে এলাম আমি আলোয় দেখি সবারে !!
সে যে কাটার চেয়ে ও আঘাত বেশি এ পথে!
অভিমানে অনাদরে কেঁদে কেঁদে হ্নদয় গেছে ভেঙে!!
তাই আমি হেরে গেছি বার বার নিজের কাছে!
কাঁটায় ঘেরা পথে নেমে
তবু পথে নামতে হয় সবারি!!
বিদায়ের স্মৃতি
বিদায়ের স্মৃতি
✍️অর্পিতা বৈদ্য
অল্প বয়সে ধরলে কলম
গান কবিতা গল্পরে,
মন টা আজি ভারাক্রান্ত
বিয়োগ ব্যাথা অন্তরে।
কলম ধরলে কম বয়সে
গড়বে সমাজ ধরাতে,
অল্প বয়সে বিদায় নিলে
অনেক রোগে আঘাতে।
তোমার চির ব্যথার স্মৃতি
ভাসছে চোখে অশ্রুবান,
যেথায় থেকো ভালো থেকো
সুখে রাখুক ভগবান।
তোমার বিয়োগ ব্যথার তরে,
সকল কবি ব্যথার বান
আজকে তুমি বিদায় নিলে
শোক ছায়ায় বিরহ গান।
কবি তুমি সৃষ্টি কারক
লেখার মাঝে মহৎ কাজ
যেথায় তুমি গেছো চলে
সুখে থেকো সেথায় আজ।
ব্যাকুলতা
ব্যাকুলতা
✍️ মণীশ রুদ্রপাল
প্রশ্নের আরতি করে করে
নিজেকে তুলে ধরেছি;
তবু এক বিমিশ্র সত্তা,
সর্বৈব উত্তর হতে ব্যর্থ হয়েছি!
ব্যাকুলতা
ব্যাকুলতা
✍️ মণীশ রুদ্রপাল
প্রশ্নের আরতি করে করে
নিজেকে তুলে ধরেছি;
তবু এক বিমিশ্র সত্তা,
সর্বৈব উত্তর হতে ব্যর্থ হয়েছি!
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)