শিলালিপি
--------------
✍️বিকাশ দাশ
গভীর সমুদ্রে যে মুখ একবার ডুবে যায়
সে মুখ তুলে আনা সহজ কর্ম নয়।
তবু জেগে থাকে --
উঠোন জুড়ে স্যাঁতাপড়া দাগ, আর--
অস্পষ্ট শিলালিপি ঘরময়।
এখনও দু-চোখে লগ্ন হয়ে আছে
সেই সব ছবি অজন্তার
তাই, তুমি হলে নীল নির্জনের একলা বাতিঘর
আমি শুধু অনন্ত রবিবার ।
এখনও বিষাদের ঘরে নোনা মাটি
সেই মাটি জুড়ে তক্ষকের ঘর -- মন্দ অসুখ ,
ভেঙে যাই নিয়ত শব্দ নিয়ম
ভেঙে পাই তোমার অক্ষত মুখ।
তুমি তো জানো মৃত্তিকা --
না ভেঙে -- ভেঙে যাওয়া
আমার পুরানো অসুখ।
আধ ময়লা মন খারাপ
------------------------------------
বিকাশ দাশ
যখন একটা আধ ময়লা মন খারাপ
একটা আস্ত দুপুর পেটে পুরে আমাকে ধ্বংস করে দেয়
আমি তখন সেলাই করা বিকেলের গায়ে
একটা গোটা ভারতবর্ষের ছবি আঁকি
ভেজা ভেজা অক্ষর সাজাই
ভাবনার গায়ে তালি দিই।
যখন আধ ভাঙা ভুলেরা শরীরে কষ্ট আঁকে
আমি মন খারাপ পুড়িয়ে উষ্ণতা খুঁজি।
চা বাগানের এক চামচ রোদ এনে দেয় ভেষজ ঘুম
পালিয়ে যাওয়া পাতলা আকাশ আরও গাঢ় হয়
আমার হারানোর কিছু ছিল না, কেবল এক বালতি মন খারাপ ছাড়া
চাওয়ার মধ্যে খেজুর রসের অনন্ত সকাল
এক পেয়ালা সুখ, এক বারান্দা আলো
আর মনের জ্বর মাপা একটা সন্ধ্যা।
কাচের চুড়ির মতো ঠুনকো ভালোবাসা
প্রজাপতির হয়ে হাতে বসলে
আমি ফোনের ভেতর আলগোছে চুমু খাই
আর মন খারাপ উড়িয়ে হো হো হেসে উঠি।
আগুন মায়ায় ছায়া ফেলে
------------------------------------------
বিকাশ দাশ
কুসুম নিও না কেউ হাতে
এখানে চুলের ঢেউয়ে কুসুম ভাসানো মানা।
আমাদের কুসুমিত মেয়েরা
বহুকাল পুষ্পরাগে সাজিয়েছিল দেহ
মুখে লোধ্র রেণু, হাতে লীলাপদ্ম
সেই শৃঙ্গার দেখে সাদা দেবলোকেরও ছিল অপাবৃত লোভ।
আমাদের পুরুষেরা কুসুমের আগুনকে
বহুকাল বুক পেতে নিয়েছিল ,
আগুনের মশালকে হাতে নিয়ে হেমন্তের যুবকেরা
অরণ্যে অরণ্যে জ্বেলেছিল হা-হা দাবানল।
আমাদের মেয়েরা দেবদাসী ছিল না কখনো
আমাদের পুরুষেরা আসলে মর্ত্য দেবদূত।
ওদের নিহিত প্রেম কুসুমকে ঘিরে
ওদের নিহিত প্রেম আগুনকে ঘিরে
এখানে কুসুম ফোটে না তারপর।
এখানে আগুন নেই জেনো
আগুনের গোধূলি আলোয় কিছু মায়া জেগে থাকে
ছায়ার মতন, চিরন্তন।
বিকাশ দাশ
১৭২ ন্যাশনাল প্লেস
বাকসাড়া, হাওড়া-৭১১১১০
পশ্চিম বঙ্গ, ভারতবর্ষ
আলাপন--৯৮৭৪৬৫০২৩৯
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন