কবিদের কোনো মৃত্যু নেই

কবিদের কোনো মৃত্যু নেই
 আলমগীর কবীর

কবিদের কোনো মৃত্যু নেই—
কারণ তারা শরীর নিয়ে বাঁচে না,
বেঁচে থাকে শব্দের শিরায়, অনুভূতির নাড়ির স্পন্দনে।
যে দিন কবির হৃদয় থেমে যায়,
সেই দিন তার কলম আরও প্রখর হয়ে ওঠে,
তার কবিতা আরও গভীর হয়ে মানুষের জীবন ছুঁয়ে যায়।

শরীরের মৃত্যু একদিন অবশ্যই আসে—
মাটি ডাকে, আকাশ পূর্ণতা দেয়,
সময়ের ঘড়ি নীরব হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু একজন কবির লেখা তখনই শুরু হয়
যখন তার কণ্ঠ থেমে গেছে,
কারণ শব্দের মৃত্যু নেই—
আর কবি শব্দেরই সন্তান।

কবি চলে যায়, কিন্তু তার লেখা রয়ে যায়—
বইয়ের পাতায়, পাঠকের চোখে,
ভালবাসার কাঁপা কণ্ঠে,
দুঃখের স্তব্ধ রাতে,
ভোরের প্রথম আলোয়।
যখন কেউ নিঃশব্দে বলে—
“আমি বুঝতে পারছি তোমাকে”—
সেই মুহূর্তে কবি জন্ম নেয় আবার।

তার কবিতা নদীর মত—
একদিন ঝড়ে, একদিন শান্ত,
একদিন অশ্রুর মতো নোনা,
আরেকদিন হাসির মত ঝলমলে।
নদী যেমন শুকিয়ে যায় না,
তেমনই কবির অনুভূতিও শেষ হয় না।

তাই কবিদেহের চিতায় আগুন জ্বলে,
কিন্তু শব্দের আলো নিভে যায় না।
মানুষ চলে যায়,
কিন্তু ইতিহাস হাঁটু গেড়ে মাথা নত করে—
কারণ, কবিদের কোনো মৃত্যু নেই।

তারা বেঁচে থাকে—
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে,
প্রতিটি হৃদয়ের নিঃশ্বাসে,
প্রতিটি অশ্রুর নীরব ফিসফিসে।

কবি অমর—
কারণ তিনি আমাদের শেখান
ভালোবাসতে, ব্যথা বুঝতে,
আর মানুষ হয়ে জন্ম নিতে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন