স্বাধীনতা (ই) সংখ্যা

স্বাধীনতা শুধু একটি অর্জন নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের স্মারক। সেই স্বাধীনতার চেতনা ও অনুভূতিকে হৃদয়ে ধারণ করেই আমাদের সাহিত্য পত্রিকার এই ‘স্বাধীনতা' সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছে। এই বিশেষ সংখ্যাকে সমৃদ্ধ করেছেন আমাদের প্রিয় লেখক, কবি ও সাহিত্যপ্রেমীরা। যাঁরা তাঁদের মূল্যবান কবিতা, গল্প, অনুগল্প, প্রবন্ধ ও অন্যান্য লেখা দিয়ে এই সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। তাঁদের লেখায় স্বাধীনতার ইতিহাস যেমন উঠে এসেছে, তেমনি উঠে এসেছে দেশপ্রেম, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আগামী দিনের প্রত্যাশা। প্রত্যেকটি লেখা আমাদের এই সংখ্যাকে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তুলেছে। লেখকদের সৃজনশীল ভাবনা ও অনুভূতির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার নানা দিক পাঠকের সামনে নতুনভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের এই সাহিত্যিক প্রয়াস আমাদের পত্রিকার পথচলাকে আরও সমৃদ্ধ করবে—এটাই আমাদের বিশ্বাস। যাঁরা কলমের মাধ্যমে স্বাধীনতার কথা বলেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁদের সৃষ্টির আলোয় আমাদের নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকা আরও দূর এগিয়ে যাক—এই প্রত্যাশাই রইল।

ধূমকেতু (ই) সংখ্যা

সম্পাদকীয় বিংশ শতাব্দীর বাঙালির মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। তার কবিতা ও গানের জনপ্রিয়তা বাংলাভাষী পাঠকের মধ্যে তুঙ্গস্পর্শী। তিনি বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তার মানবিকতা, ঔপনিবেশিক শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধতা বোধ এবং নারী-পুরুষের সমতার বন্দনা গত প্রায় একশত বছর যাবৎ বাঙালির মানস পীঠ গঠনে ভূমিকা রেখে চলেছে। আমাদের ধূমকেতু ই সংখ্যা 16 জন কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের ভালোবাসায় সেজেছে। যা আমরা সমর্পণ করেছি মানবতার কবি তথা বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের স্মরণে। এই মাসে সমস্ত কিংবদন্তী কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের জন্ম তিথি ও প্রয়াণ তিথিতেও নবোন্মেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছে। তাই মননে চিন্তনে আমরা এই "ধূমকেতু" ই সংখ্যার মাধ্যমে সবার মাঝে সাহিত্য অনুভূতি জাগ্রত করার চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদান্তে, শ্রী পান্থ দাস সম্পাদক (ই) নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকা

রবী কানন (ই)

সম্পাদকীয় আমাদের এইবারের ই সংখ্যা "রবী কানন"। 22 জন কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের ভালোবাসায় সেজেছে নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার এই ই সংখ্যাটি। বৈশাখ মানেই রবী পক্ষ, কবিগুরু, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম তিথি। বিশ্ব সাহিত্যে কবিগুরু প্রভাব সীমাহীন। উনার ছোঁয়ায় বাংলা সাহিত্য, শিল্প উন্নততর হয়েছে। অ-ইউরোপিয় হিসাবে প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রাপক কবিগুরু। সেই সাথে প্রথম ভারতীয় বাঙালি যিনি এশিয়ায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। সাহিত্যের প্রতিটা ছত্রে উনার অবদান রয়েছে। ত্রিপুরার সাথেও কবিগুরুর সম্পর্ক নিবিড় ছিলো। তিনি মোট সাত বার ত্রিপুরা ভ্রমণে আসেন। উনার ব্যাপারে সম্পূর্ণ বলতে গেলে পৃষ্ঠা শেষ হবে না। তবে আমরা এই সংখ্যা নিবেদন করি কবিগুরুর প্রতি। এই মাসে সমস্ত কিংবদন্তী কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের জন্ম তিথি ও প্রয়াণ তিথিতেও নবোন্মেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছে। তাই মননে চিন্তনে আমরা এই "রবী কানন" ই সংখ্যার মাধ্যমে সবার মাঝে সাহিত্য অনুভূতি জাগ্রত করার চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদান্তে, শ্রী পান্থ দাস সম্পাদক (ই) নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকা

ই সংখ্যা "চড়ক"

আমাদের এইবারের ই সংখ্যা "চড়ক"। 15 জন কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের ভালোবাসায় নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার এই ই সংখ্যাটি প্রত‍্যেক সাহিত্যিকের প্রতি ভালোবাসার একটি অঙ্গ। চড়ক পূজা পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোকোৎসব। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিতে বা চৈত্রের শেষ দিনে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয় । বৈশাখের প্রথম দুই-তিন দিন ব্যাপী চড়ক পূজার উৎসব চলে। এটি চৈত্র মাসে পালিত হিন্দু দেবতা দেবাদিদেব শিবের গাজন উৎসবের একটি অঙ্গ। গাজন উৎসবে নানা ধরনের কঠোর তপস্যা অন্তর্ভুক্ত থাকে—যেমন গরম কয়লার ওপর হাঁটা বা ধাতব দণ্ড দিয়ে শরীর বিদ্ধ করা। চড়ক বলতে হুক-ঝোলানো প্রথাকে বোঝায়, যা সাধারণত এই উৎসবে সম্পাদিত শেষ প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে পালন করা হয়। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে মেলা বসে যা চড়ক সংক্রান্তির মেলা নামে অভিহিত। সংক্ষেপে বলতে গেলে চড়ক বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতার একটি বিশেষ উৎসব। যা যুগ যুগ ধরে অব্যাহত। এই মাসে সমস্ত কিংবদন্তী কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের জন্ম তিথি ও প্রয়াণ তিথিতেও নবোন্মেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছে। তাই মননে চিন্তনে আমরা এই "চড়ক" ই সংখ্যার মাধ্যমে সবার মাঝে সাহিত্য অনুভূতি জাগ্রত করার চেষ্টা করেছি।

ই সংখ্যা "পলাশ"

সম্পাদকীয় মার্চ মাস শুরু হলেই মনে একটি আলাদা অনুভূতির জোয়ার। বসন্তের রঙিন বাতাসে, নব পুষ্প কুঞ্জে মুখরিত হয়ে থাকে। আমাদের এইবারের ই সংখ্যা "পলাশ"। 38 জন কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের ভালোবাসায় নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার এই ই সংখ্যাটি প্রত‍্যেক সাহিত্যিকের প্রতি ভালোবাসার একটি অঙ্গ। এই সংখ্যার মাধ্যমে আমরা বসন্ত প্রেমের বাতাস ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। বসন্ত মানেই পলাশ ফুল। পলাশ গাছ সর্বোচ্চ ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। শীতে গাছের পাতা ঝরে যায়। এর বাকল ধূসর। শাখা-প্রশাখা ও কাণ্ড আঁকাবাঁকা। নতুন পাতা রেশমের মতো সূক্ষ্ম। গাঢ় সবুজ পাতা ত্রিপত্রী। বসন্তে এ গাছে ফুল ফোটে। টকটকে লাল ছাড়াও হলুদ ও লালচে কমলা রঙের পলাশ ফুলও দেখা যায়। পলাশ ফুল ছোট, ফুল ২ থেকে ৪ সে.মি. লম্বা হয়। বাংলা সাহিত্যে পলাশ ফুলের প্রসঙ্গ এসেছে নানাভাবে। কবি নজরুল তার একটি গানে লিখেছেন- “ হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল এনে দে এনে দে নইলে বাঁধব না, বাঁধব না চুল..." রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনেক কবিতা ও গানেও পলাশ ফুলের উল্লেখ আছে। যেমন - দোলের গান, ওরে গৃহবাসীতে "রাঙা হাসি রাশি রাশি প্রভৃতি। এই মাসে সমস্ত কিংবদন্তী কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের জন্ম তিথি ও প্রয়াণ তিথিতেও নবোন্মেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছে। তাই মননে চিন্তনে আমরা এই "পলাশ" ই সংখ্যার মাধ্যমে সবার মাঝে সাহিত্য অনুভূতি জাগ্রত করার চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদান্তে, শ্রী পান্থ দাস সম্পাদক (ই) নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকা

জানুয়ারী সংখ্যা- কবি দেবব্রত'র স্মরণাঞ্জলি


জানুয়ারী সংখ্যা- কবি দেবব্রত'র স্মরণাঞ্জলি

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়....................✍️

কবি দেবব্রত'র অনুপস্থিতিতে শব্দের উপস্থিতি......
কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের রেখে যাওয়া শব্দেরা থেকে যায়—নীরব অথচ দীপ্ত, স্থির অথচ গভীর। আজ যাঁর স্মরণে এই সাহিত্য সংখ্যা, তিনি তেমনই একজন কবি দেবব্রত। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের সময়ের সাহিত্যভূমিতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে, কিন্তু তাঁর কবিতা সেই শূন্যতার মধ্যেই আলো জ্বেলে রেখেছে।
তিনি কবিতা লিখতেন জীবনের গভীর তলদেশ থেকে—যেখানে আনন্দ ও বেদনা, প্রেম ও প্রতিবাদ, নিঃসঙ্গতা ও স্বপ্ন একে অপরের সঙ্গে কথা বলে। শব্দের প্রতি ছিল তাঁর অদম্য দায়বদ্ধতা। সহজ উচ্চারণে তিনি বলে যেতেন কঠিন কথা, নিঃশব্দে তুলে আনতেন সময়ের আর্তনাদ। তাঁর কবিতা পাঠ মানেই ছিল নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা।
এই সাহিত্য সংখ্যা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আমরা কোনো শোককে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে চাইনি; বরং চেয়েছি তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে আবার একবার সংলাপে বসতে। এখানে নানান কবিদের সংকলিত লেখাগুলো—কবিতা, প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণ—সবই এক একটি জানালা, যার ভেতর দিয়ে আমরা ফিরে তাকাই তাঁর জীবন, ভাবনা ও স্মৃতিচারণের দিকে।
একজন কবির মৃত্যু মানে কেবল একজন মানুষের প্রস্থান নয়; তা এক ধরনের নীরবতা। কিন্তু সেই নীরবতাকে ভেঙে দেয় তাঁর লেখা—বারবার, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আমরা বিশ্বাস করি, এই সাহিত্য সংখ্যা পাঠকের হাতে পৌঁছালে সেই নীরবতা আবারও অর্থবহ হয়ে উঠবে।
এই সংখ্যাটি আমরা উৎসর্গ করছি সেই কবিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছেন—মানুষ চলে যায়, কিন্তু কবিতা থেকে যায়। শব্দের মধ্যেই বেঁচে থাকে স্মৃতি, সময় আর ভালোবাসা। নবোন্মেষ তোমার অভাব সর্বদা অনুভব করবে।

ইতি- নবোন্মেষ
সম্পাদনায়- গৌরাঙ্গ সরকার 
অক্ষর বিন্যাস- জয়জীৎ সুর
ডিজাইন- শিবশংকর দেবনাথ

শেষবেলায়

   
   শেষবেলায়
       ✍️ ঊর্মি সাহা

আমি অপেক্ষায় থাকবো...
গানের ওপারে।
যেখানে পকেট ভরা সুখ নিয়ে বসে আছো তুমি,
যেখানে কোনো অসুখের আঘাত লাগে না, 
তোমার আদুর আগে।
যেখানে তুমি আর স্পর্শ বোঝো না, দুঃখ বোঝো না, ক্লান্তি বোঝো না, প্রার্থনা বোঝো না...
শুধু বাতাসের মত মিশে যাও আমার শরীরে,

শুধু একরাশ কোকড়ানো স্মৃতি পরে আছে, 
যা তুলে নিয়ে,
হিসেবের খাতায় লিখে লিখে নিঃশ্বাস নিচ্ছি,
সেইদিনের তোমার চন্দনে সাজানো মুখে আমি দেখেছি সময়ের নির্দয়তা।
তবুও, অপেক্ষায় থাকবো,
শেষবেলায়ও...

স্মরণে দেবব্রত


   স্মরণে দেবব্রত 
       ✍️সমর  সরকার

তুমি ছিলে  সহজ সরল প্রকৃতির লোক ,
 কয়েক দিন করে গেলে এই ধরাতে ভোগ।
 তোমার মনে ছিল কত আনন্দ উল্লাস,
হৃদয়ে ছিল কত কী সৃষ্টির অভিলাষ ।
তোমার সৃষ্টি গুলি আজ রয়েছে পড়ে,
আমরা সেই গুলি রাখব স্মৃতিতে ধরে।
তোমাকে নিয়ে ভাবতাম  প্রতিদিন,
অন্তরে রাখব তোমায় চিরদিন।

শেষ আগুন


    শেষ আগুন
    ✍️সপ্তশ্রী কর্মকার


ফুটপাথে পড়ে থাকা আলো মুঠোয় ভরি—
অন্ধকারে নিজেকেই জ্বালাই।
নদীর ওপারে কোনো মুখ চেনা যায় না,
মৃত্যুর এক পা আগে দাঁড়িয়ে বুঝি—
ক্ষুধা শুধু গণিত শেখায়
আমার নামটা আর নাম নয়,
একটা ঋতু—
এই দেশ এখন আমার কাঁধে

ভাই


    ভাই
 ✍️সোমা চক্রবর্ত্তী 

কেমন আছিস ভাই?  
নিশ্চই ভালো!! 
সেই ১১ নভেম্বর ২০২৫,
সবাইকে যন্ত্রণা  দিয়ে 
চলে গেলি পরপারে।
ভালো থাকার  জন্যই তো!
তুই না তোর,
প্রেয়সির হাতটি ধরে কথা দিয়েছিলিস,
কখনই ছেড়ে যাবিনা,
তোর কথার কি কোনো মূল্যই নেই?
কোনো গুরুত্ব নেই?
নাকি গুরুত্বের দূরত্বই তোর শান্তি?
কেন  মিথ্যে আশা দিয়েছিলিস?কেন? 

জানিস ভাই মেয়েটি এখনো কাঁদে,
তোর অপেক্ষা করে, 
তোর মুখ টা খুঁজে,
হাজারো ভিড়ের মাঝে তোর সঙ্গে কথাও বলে মনে মনে।
মেয়েটার মুখটার দিকে তাকালে;
তোর সুখটা ভেসে আসে , 
তোর চলে যাওয়ার যন্ত্রনাটা যে কি;
সেই মেয়েটিই জানে। 
আমি তোর মেজ দিদি বলছি , 
ভালো থাকিস ভাই।

তরুণ কবি দেবব্রত (রাকেশ)


তরুণ কবি দেবব্রত (রাকেশ)
         ✍️পায়েল ভৌমিক

তুমি আমার এক অ-জানা কবি , 

তোমার লেখা প্রতিটি কবিতায় যেন, তোমার-ই প্রতিছবি।

কবিতার ভাষায় জ্বলছে হাজারো আলো ,

দূর আকাশে তুমি কবি শুক-তারা হয়ে জ্বলো।

তোমার কবিতায় ভেসে উঠেছে শব্দহীন ভাষা ,

শব্দহীন ভাষা গুলো জাগায় যেন ,কবি হওয়ার আশা।

তোমার কবিতার ভাষা থেমে গেছে সেই নিস্তব্ধ ভোরে ,

তখন সবাই ঘুমিয়ে ছিল , আর তুমি বহু দূরে।

তোমার লেখা প্রতিটি অক্ষর যেন , এক একটা নতুন জীবন ,

অক্ষরের স্মৃতিকূটে রেখে গেছ , হাজারো আনন্দ আয়োজন।

তুমি আছো হৃদয় জুড়ে

   তুমি আছো হৃদয় জুড়ে 
    ( পদ্য কবিতা )
   ✍️ জগন্নাথ বনিক 

তোমার হাসিমাখা মুখখানি,
আজও মনে পড়ে বারংবার।
মনে পড়ে সেই তোমার মুখের মিষ্টি হাসি,
সেই মিষ্টি মুখখানি, আজও মোরা ভালোবাসি।
ভালোবাসি বলেই, তোমার স্মৃতিগুলো হৃদয় জুড়ে।
মনে পড়ে আজ, তোমার কথা,
বইমেলায় লিটল ম্যাগাজিন স্টলে,
যখন সবাই বসে গল্প করছিলাম।
তুমি সেলফি তুলছিলে বারবার, 
আর সেই সেলফি গুলো আজও ফেসবুকে,।
স্মৃতি হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বারংবার।
কিন্তু তুমি পাশে নেই, 
তুমি আছো সবার হৃদয় জুড়ে। 
সবার হৃদয় জুড়ে, সবার হৃদয় জুড়ে।

স্মৃতির পাতা

স্মৃতির পাতা 
    ✍️সুখময় মুড়াসিং 

বসন্ত উৎসব ও সাহিত্য সভায় 
প্রথম আলাপ ,
প্রাণখোলা যুবা লেখক মার্জিত হাসি
আপাদমস্তক  নিষ্পাপ ।

কথা বার্তা ভাবনায় , প্রত্যয় ছাপ
আত্মবিশ্বাস অগাধ ,
প্রথম আলাপেই জয় করে নিলো
স্নেহ অবাধ ।

যেনো কত দিনের অলাপ পরিচয়
দ্বিধাহীন ব্যবহার ,
অন্তরের অন্দরে লুকায়নি কিছু
খোলামেলা সদাচার ।

অনুষ্ঠান শেষে স্নিগ্ধ পড়ন্ত বেলায়
যাত্রা পথে বিরতি ,
সবুজে সমারোহ চা বাগানে চলে
কবিতা আবৃত্তি।

খেলা হয় পুনরায় বসন্ত আবির
গানের তালে ,
এইতো ! এসেছিলো আমার কর্মক্ষেত্রে 
প্রশান্তির হাসি তুলে ।

বুঝতে পারিনি এই যে শেষ দেখা
শেষ কথা বার্তা ,
ভেসে উঠছে এখন শুধু অতীত 
স্মৃতির পাতা ।

সদা প্রাণবন্ত তুমি যেখানেই থাকো 
ভালো থেকো ,
সৃষ্টিকর্তার কাছে একান্ত প্রার্থনা
তাকে ভালো রেখো ।

তুমি আমার লেখা কবিতা আর গল্প হয়েই থেকো


তুমি আমার লেখা কবিতা আর 
গল্প হয়েই থেকো 
           ✍️ অনুরাধা

আচ্ছা তুমি আমার বাস্তব না হলেও, আমার স্বপ্ন হয়েই থেকো।
আর ,স্বপ্ন যদি না ই বা হতে পারো,
তবে তুমি আমার লেখা কবিতা আর গল্প হয়েই থেকো।
আচ্ছা তুমি আমার জীবনের আলো না হতে পারলেও, তুমি আমার সেই রাতের আঁধার হয়ে থেকো....
যে আঁধারকে আমি নিজের মধ্যে মিশিয়ে নিতে পারবো...
আর সেই শেষের রাতের আঁধারের  পরে আলোর অপেক্ষা হয়ে থেকো।
আচ্ছা, তুমি আমার মুখের মিষ্টি হাসি না হতে পারলেও,
আমার ম্লান মৃদু চাপা হাসি হয়েই থেকো...
যেখানে চাপা পরে গেছে কতনা যন্ত্রণা,আর কতনা গল্প,
তুমি আমার অপরিসীম কষ্ট না হয়ে,
বরং ভালোবাসা অল্প হয়েই থেকো।
তুমি আমার, আমার অহংকার না হতে পারলেও,
তোমার পাশে অন্য কেহকে দেখিলে যে ভীষন যন্ত্রণা হয়,
সেই যন্ত্রনার মাত্রা অল্প হয়েই থেকো।
আচ্ছা, তুমি আমার চোখের সেজে উঠা কাজল হতে না পারলেও,
আমার চোখের মুছে যাওয়া কাজল হয়েও থেকো।
তুমি আমার ভালোবাসা না হতে পারলেও, তুমি আমার যন্ত্রণা অল্প হয়েই থেকো।
আচ্ছা, তুমি আমার না হলেও..
আমার স্বপ্ন হয়েই থেকো...
আর স্বপ্ন না হতে পারলেও, তুমি আমার লেখা কবিতা আর গল্প হয়েই থেকো।

বিদায়


      বিদায় 
             ✍️অসীম দেববর্মা
           
একটি ছেলে, 
                   দুচোখে ছিল স্বপ্ন অফুরন্ত 
                      নবযৌবন তার প্রাণবন্ত, 
              প্রখর রোদে প্রাণোচ্ছল সারাদিন 
                    বর্ষায় তার ক্লান্তি সমীচীন।
                          বৃষ্টিস্নাত সকাল 
                                কিংবা
                  শিশির ভেজা শীতের বিকাল
           মার - প্যাঁচের গাঁট চেয়েছিল খুলতে, 
            জীবন পথের চড়াই - উতরাইয়ে
                          কিন্তু
   মাঝপথে থামতে হলো নিয়তির মারে!
            দুরারোগ্য ব্যাধির বিষময় জ্বালায় 
         তিলার্ধেক মুহুর্তের জন্য হয়নি অস্থির 
         অদ্রির মতো নিজেকে রেখেছিল স্থির।
        চিরদিনের জন্য উপোসিত হয়ে শায়িত
                         আছো বেণুবনে!
 তুমি থাকবে তোমার রচনার পংক্তির সম্মোহনে।

চলে এসো সময় মত

   চলে এসো সময় মত
           ---- দীপক রঞ্জন কর

চলে এসো সময় মত, 
বলবো কথা মনে যত, 
আসবো আমি যথাযথ
থাকুক বাধা শত শত ।
         ভাবি কেন আগু -পিছু 
         লোকে ভাবুক কত কিছু ,
         শিরদাঁড়টা করেই উচু
          থাকবো নাকো মাথা নিচু।
পাতা ঝরার ফাগুন মাসে 
কোকিল যবে গাইতে আসে 
শিমুল পলাশ যবে হাসে 
তুমি থেকো আমার পাশে।
       কালো আষাঢ়ে বর্ষাকালে
        যবে ময়ূর পেখম তুলে 
        তুমি  আসবে চলে 
        একান্তেঐ বৃক্ষ তলে।
শরতের আশ্বিন মাসে 
শিশির বিন্দু ঘাসে ঘাসে 
শিউলি ঝরা পথের পাশে 
সুখবর পাবে সে সুবাসে।
         তোমায় নিয়ে ভাবনা যত 
         দিন রাত্রি  অবিরত,
         চলে এসো ঋতুর মত,
          বলবো কথা মনে যত।।

শেষ কথা


       শেষ কথা
    ✍️ সঞ্চয়িতা শর্মা
শেষ সূর্যাস্ত দেখেছি আমরা,
কী বিভৎস গ্রহনে নেমেছে অন্ধকার !
যেমন করে সাগরের বুকে ডুবে যায় সূর্য্য,
উত্তাল উর্মিরা করে হাহাকার!
আজও নিবিড় রাতে
কথা হয় তার সাথে
আজও কবিতা লিখে দিই উপহার ।
আগুন গিলেছি তাই
দহনের শেষ ছাই
আবিরের মতো করে মেখেছি আবার!

হতভাগা

    হতভাগা
   ✍️ প্রদীপ  চক্রবর্ত্তী

দিকশূন্যপুরের সেই চিরকিশোর  ছেলেটা
জীবনের  কাছে যার কোনো প্রত্যাশা নেই
আপন মনে ঘুরে বেড়ায় পথে প্রান্তরে-
এমনিই ঘোরে
আপন খেয়ালেই গায় না শোনা সব গান-
তাও এমনিই।

অগণিত  মানুষের ভিড়ে  হারিয়ে যাওয়া ছেলেটিকে
জীবন দেয়নি কোনো প্রত্যাশার  ছোঁয়া
দিয়েছে শুধু অবারিত  আলো, বাতাস, জল-
সবাইকে যা দেয়
ক্ষুধার  যন্ত্রণা, ঋতুর অত্যাচার  সহ্যের  ক্ষমতা-
যা হতভাগারা  পায়।

সবাই বলে, এ যে ভাগ্যের নিষ্ঠুর  পরিহাস
কিন্তু ছেলেটা জানে
মাধ্যমিকে কেঁদেকেটে  কঁকিয়ে 
অঙ্কে এককুড়ি দশ তুলে হাঁফ  ছাড়ার পর
উঁচুতলায়  ওঠার সিঁড়িটা  ভেঙে 
সব হিসেবের ফল হয় শূন্য 
শূন্যতার কাছে আত্মসমর্পণ  করতে হয়।