যদি একবার বলো

......✍️ সুপর্ণা মজুমদার রায়
---------------------------
যদি একবার জড়িয়ে 
দাও তোমার ঐ অনামী নামের সাথে,
তবে মেঘ চাদর হতে চাই।
যদি একবার নীরবতায় আচ্ছন্ন
 মনের জঠর হতে বেরিয়ে আসে 
সেই না বলা কথা ,
তবে শ্রাবণের বাঁধন ছেঁড়া বৃষ্টি হতে চাই ।
আমাকে বোলো না মিথ্যেবাদী ।
আমার স্বপ্নিল ইচ্ছাগোলো 
তোমাতে নিছাড় করেছিলুম ।
ঋতুদের মতো নাহয় দুজন ভেসে যাব এক আবর্তে ।
বৃন্তহিন গোলাপের বদলে সন্ধ্যার মালতি হবো ।
জীবনের আলোয় দেখবো রাতের আঁধার ।
বাঁধভাঙা আলোর গুঞ্জন তুলবে অগণিত নক্ষত্র,
স্বপ্নচারী চাঁদ ঢালবে জোৎস্নার বারি ।
যদি একবার রাখো হাতে হাত,
সোনালী সাগর তটে বহুদূর হাটতে চাই ।
সবই তোমার সহজ ধারাপাতের মত জানা ।
আমি যে নিঃশব্দে তোমার মন ছুঁতে পারি,
যদি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে একবার বলো, 'ভালবাসি'।

নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার ৫ম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন

সাহিত্যের সিমানা সুদূর প্রসারি ৷ সেই সাথে বাংলা সাহিত্য চর্চা এবং সৃষ্টির পথ চলা শুরু হয়েছিল যুগ যুগান্তর পূর্বে ৷ আর বাংলা সাহিত্য আঙিনায় আমাদের ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরাও কোন অংশে পিছিয়ে নেই ৷ রাজ্যের একটি সুপরিচিত এবং সনামধন্য সাহিত্য পত্রিকা হল নবোন্মেষ ৷ ত্রিপুরার তথ্য, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির দিক দিয়ে নবোন্মেষ সুদূর প্রসারিত ৷ যার বিস্তার বাংলাদেশ, পশ্চিম বঙ্গ, উত্তরপূর্বাঞ্চল সহ আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ সহ অনেক জায়গায়।

বলা বহুল, এই দৃষ্টিতে আজ নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকা এবং নোতুন পৃথিবী সামাজিক সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় কবি বিপাশা নন্দীর মিলন চক্র স্থিত বাসভবনে ৷ 

মূলত নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকা এবং নোতুন পৃথিবী সামাজিক সংস্থার পঞ্চম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করা হয় ৷ কোভিড 19-এর কথা বিবেচনা করে ছোট্ট পরিসরে, ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয় ৷ উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, কবি, গবেষক ড.আশিস কুমার বৈদ্য মহোদয় ; বিশিষ্ট সাহিত্যিক, চিকিৎসক ডাঃ খোকন রায়; বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ড.সুজীত ভৌমিক; নোতুন পৃথিবী সামাজিক সংস্থার সভাপতি মিঠুন দেবনাথ; বাচিক শিল্পী, কবি বিপাশা নন্দী মহাশয়া ৷ অনুষ্ঠানে তরুন এবং যুব কবি তথা সাহিত্যিকদের উদ্যম ছিল লক্ষ করার মত ৷ উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তথা কবি সংগীতা দেওয়ানজী,তাছাড়া উপস্থিত ছিলেন নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার সভাপতি শ্রীমতী সুপর্ণা মজুমদার রায় মহাশয়া; সম্পাদক গৌরাঙ্গ সরকার মহাশয়, বিশিষ্ট কবি অপাংশু দেবনাথ, সংগীত শিল্পী শিলা দাশগুপ্ত এবং রাজ্যের নবীন তথা যুব কবি বৃন্দ ৷

উক্ত অনুষ্ঠানে ড.আশিস কুমার বৈদ্য, সাহিত্যিক ড.সুজীত ভৌমিক প্রমুখরা নবোন্মেষ তথা নোতুন পৃথিবীর ভূয়সী প্রশংসা করেন ৷
এছাড়াও এই বিশেষ অনুষ্ঠানে কবি সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয় রাজ্যের বিশিষ্ট কবিদের দ্বারা ৷

সম্পাদকীয়

আজ থেকে প্রায় ৫ বছর পূর্বে মানুষের হৃদয়ে সাহিত্য নব-জাগরণ সৃষ্টি করার তাগিদে 'নবোন্মেষ' গঠিত হয়েছিল। গুটিগুটি পায়ে উদারতার মন নিয়ে কাজ করে চলছে। শুধু সাহিত্য নয়, তথ্য এবং সংস্কৃতিও বাদ পড়েনি। সব মিলিয়ে 'নবোন্মেষ' একটি মিশ্র পরিষদে পরিনত হয়েছে। 'নবোন্মেষ' রাজাদের নিমন্ত্রণ করে এনে অনুষ্ঠান সুন্দর করেনা না শুধু, 'নবোন্মেষ' রাজা তৈরি করার কাজ করে।  এই ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে 'নবোন্মেষ'। আশা রাখি ভবিষ্যতে আরো কাজের ভার নেবে 'নবোন্মেষ'। সকলকে মনের অন্তঃস্থল থেকে গভীর কৃতজ্ঞতার উপহার হিসাবে অকৃত্রিম ভালোবাসা দিলাম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি যারা 'নবোন্মেষ'কে নিজেদের বক্ষে আগলে রেখেছে। 
শুভ কামনা ও ধন্যবাদান্তে
গৌরাঙ্গ সরকার
শিবশঙ্কর দেবনাথ
নবোন্মেষ, ত্রিপুরা

নবোন্মেষ ৫ম প্রতিষ্ঠা দিবস

অনুবদ্ধ

.....✍️ সমীরন পাল।

উচ্চাভিলাষী ললাট, শ্রদ্ধাবনত মস্তক,
স্মরন করি সগর্বে মহীয়ান;
সৃষ্টির সূচনার কান্ডারী নর-নারী।
কেবলই সৃষ্টি নয়-পালনে বহনে
বিশ্ব সংসার, সমাজ-সভ্যতা হয়েছে ধন্য। 
জন্মান্তরে নব যুগের যুগ্ম স্রষ্টা
মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা আর সৌন্দর্যের সুখ্যাতি;
সভ্যতা- সংস্কৃতি- শিল্প
প্রকৃতি-পুরুষের অবলীলায় হয়েছ সৃষ্ট।
বিদ্যা বুদ্ধি জ্ঞান সর্বতোভাবে 
নারী পুরুষ উভয়ই সমানে সাক্ষাতে;
নিয়ত স্রষ্টার অনন্য সৃষ্টিতে,
আদর্শ অনুপ্রেরণা শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠায়
নারী পুরুষ সমানে দ্বায়িত্ব নিয়েছে যুগে যুগে।
উন্নতিতে- বর্ধনে যদি মানব জাতী-
হতে চায় প্রকৃষ্টতর ও অগ্রনী;
তবে ভুলতে হবে বৈষম্য 
উভয়কে সমানাধিকার সমমর্যাদায় 
বহন করায় ধারন করায়
সার্থকতার পথ সুন্দর ও সুগম হবে।
********************

ভালোবাসি নবোন্মেষ

.....✍️ সুস্মিতা দেবনাথ 

শুষ্ক পাদপে পত্রের করে নব উন্মেষ,
নবরুপে এই আমি, অবশেষ। 
তুচ্ছ আমি,রঙ-তুলিহীন ছবি ।
নই আমি কোনো কবি ,,,,!
শুধু সৌহার্দের রেখে যাবো রেশ।
আমি ভালোবাসি নবোন্মেষ ।
ভালোবাসি নবোন্মেষ। ।
        _______________

মানবধর্ম

.....✍️ শিখা চৌধুরী 

ধর্মের মোহ ছাড়তে হবে
বুঝতে হবে সত্য, 
ধর্ম ধর্ম করে কেনো
দিবারাত্রি মত্ত! 

ধর্মের বিকারে হানাহানি 
নেই যে কোনো যুক্তি,
বৃথা এই আড়ম্বরে
মিলবে না তো মুক্তি!

যদি মানি সবাই মানুষ 
হবে সঠিক কর্ম,
এসো সবাই ভক্তি করি
শুধুই মানবধর্ম।

প্রেম পরিণতি

.....✍️ স্বপন কুমার ধর

বহুদিন আগে,
সেই যে প্রথম দেখা,
ক্রমে ক্রমে আলাপ পরিচয়,
ভালো লাগা, ভালোবাসা,
সান্নিধ্য লাভ, শিহরণ,
ভবিষ্যৎ স্বপ্ন, উন্মাদনা।
অবশ্যাম্ভবী পরিণতি -
বিবাহ, পিতৃত্ব, সংসার-জীবন,
সুখ-দুঃখের নৌকার কান্ডারী,
সাথে সহযাত্রী, সহধর্মিণী।
অতিক্রান্ত সময়ে -
বাধা না মানা, হার না মানা,
প্রান্ত সীমানার দিকে ধাবমান,
জীবন উপভোগে অতিবাহিত।

বহু উথ্বান-পতনের সাক্ষী থেকে,
এখনো চলেছি হাত ধরে,
কাছে থেকে, পাশে থেকে,
সূর্যোদয়ের দেশ কাটিয়ে।
সায়াহ্নের সূর্যাস্ত আসন্ন,
কখন যে আঁধার নেমেছে,
তার আঁচ ও বুঝতে পারিনি,
এবার তো বিদায়ের পালা,
বিদায় তো নিতেই হবে,
কেউ আগে, কেউ পরে,
একসাথে আর হবেনা দেখা,
চলে যেতে হবে একা একা,
অন্যজনের খালি দাঁড়িয়ে দেখা,
লাগবে যে তার সমস্ত কিছুই ফাঁকা।
যদি সত্যি হয় -
পতি-পত্নীর সাত জনম বাঁধন,
তবে নিশ্চিত,
মিলবো মোরা, আবার ফিরবো যখন।

তুমি - আমি ঋতুতে

.....✍️ অসীম দেববর্মা

গ্ৰীষ্মে তপনের তপ্ত হাওয়া সয়ে
এমবিবি কলেজের লেইকে ক্লান্ত
দুপুর কেটেছে প্রেমালাপে মগ্ন হয়ে। 
বর্ষার অবিরাম ধারায় কতো না ভিজেছি 
   ভিজে শরীরে বকুল তলায় দাঁড়িয়ে
বকুল ফুলের মিষ্টি সুবাস বুক ভরে নিয়েছি, 
তোমার গলায় শ্যাপলার মালা পরিয়ে দিয়েছি। 
            মহালয়ার ভোরে রেডিওতে
বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ শুনতে শুনতে, 
           হেঁটেছি শহরের পথে একসাথে। 
তুমি আর আমি একই রঙের শাড়ি - পাঞ্জাবি 
                    পরে অষ্টমীতে
            অঞ্জলি দিয়েছি দূর্গা বাড়িতে! 
        হেমন্তের হিমেল হাওয়া বাতাস জুড়ে
         ধানের ক্ষেতের আল ভেজা শিশিরে, 
              তোমার বাড়িতে নতুন চালের 
     পিঠে - পুলির আস্বাদন করেছি কতবার। 
                 শীতে কুয়াশার বুক চিরে
                     প্রাতঃ ভ্রমণে গিয়ে 
         খেঁজুরের রসে দুজনের ঠোঁট ভিজেছে, 
     সন্ধ্যায় শুকন্তলা রোডে কফিতে চুমুক দিতেই
                 শীত কাঁটার অনুভূতি হয়েছে! 
                 বসন্তে কৃষ্ণচূড়া ফুল খোঁপায়
                  গুঁজে পড়ন্ত বিকেল বেলায়, 
         নতুন বইয়ের পাতার পর পাতা উল্টিয়েছি
                              দুজনে বইমেলায়।

শতাব্দীর সীতা

.....✍️ শ্যাম মালাকার

  ভাঙতে সমাজ নিয়মের গাঁথা 
আমরা হলাম সেই মেয়ে , 
 আমরা হলাম এই শতাব্দীর 
            সীতা । 
তথাকথিত সমাজ বলে- 
      নারী  নয় পুরুষের  অধীন ।
আমরা চিৎকার করে প্রশ্ন করি - 
    সত্যিই কী নারী স্বাধীন ? 
আজকের সমাজে ভরে গেছে - 
     কাপুরুষ রামের বংশধর।  
কখনো ধরিত্রীতে  কখনো অম্বরে ,  
    যৌতুকের দায়ে বারে বারে লাঞ্ছিত হয় - 
 শত সতী সয়ম্বরে । 
   মন্দিরের হত্তা কর্তা রা আজ বলছে  - 
নারী ঋতুময়ী সে অসুচি  , 
     নারী অপবিত্র।  
সে মন্দিরে উঠেছে তাই - 
   করো মন্দির পবিত্র  । 
শবরীর অঙ্গে অঙ্গে 
   ঢালা হলো গঙ্গত্রী।  
কারণ গঙ্গাই না কী আসল সতী । 
     ভাঙতে সমাজ নিয়মের গাঁথা, 
আমরা সেই মেয়ে - 
   আমরা  হলাম - 
শতাব্দীর
            সীতা । 
কে বলে  নারী এখনো  স্বাধীন ? 
     কাপুরুষ রামের বংশধরদের কাছে 
নারী আজও পরাধীন । 
     ক্ষণে ক্ষণে নিচ্ছে তারা অগ্নিপরীক্ষা,  
কোথাও হথরস , 
  কোথাও বা গ্রাম বাংলার - 
বুকে নেমেছে ধস । 
       আজ কোথায় নারী স্বাধীন ? 
যখন মোল্লা মুরুব্বীদের মুখের বাণী - 
       জননী অপেক্ষায় আল্লাহ দামী  
যখন B.A - M.A পড়া ছেলে বলে - 
        আল্লাহের চেয়ে কেউ নয় বড় , 
তখন বৃদ্ধ জননী তো হবেই - 
     বৃদ্ধাশ্রম গামী।  
যেখানে বিয়ে নিয়ে ছেলে খেলা ।
     তালাক তালাক তালাক বলে - 
নারীর জীবন কে নিয়ে করে খেলা । 
    সেখানে কোথায় স্বাধীনতার সুর ? 
কোথায় বলো কোথায় ? 
   গ্রামের মেয়েদের যখন 
  কলেজ থেকে রাতে - 
 একটু আসতে হয় দেরী , 
     সমাজের মুরুব্বী রা গলা ফাটায় - 
"দেখ লো তোর মাইয়া এতো রাতে - 
      কার সনে ঢলা ঢলি করে ফেরি" । 
কই সুমন বা সুলেমান কে তো - 
     কেউ বলে না ? 
তারা তো রাত্রে ফেরে  - 
      মাদক খেয়ে । 
আর আমাদের বেলা সব দোষ ? 
     দোষ আমাদের  মেয়ে বলে ? 
মানছি না আর এই নিয়ম , 
     মানবো না আর অন্যায় । 
আমার রুখে দাঁড়াবো । 
    আমরা নই সে যুগের সীতা ।
আমরা হলাম এযুগের নারী , 
    আমরা প্রতিবাদী - 
আমরা সেই মেয়ে 
  আমরা  হলাম - 
 শতাব্দীর 
               সীতা  ।

ভুলসুটি

....✍️ অনামিকা দাস 

হয়তো একটু অভিমানী 
ভালোবাসার হাল্কা জোকসও
লাগিয়ে নেয় ভারি মনে।
শুনেছি তখন নাকি কটুকথাও
বেশ লাগে বুঝি মধু।
মনে মনে এতো স্নেহ 
উপরে দেখো অভিমান কেহ।
হৃদয় মাঝে নিয়েছো ঠাঁই 
ফাঁকি দেওয়ার পথ আর নাই।
একাকিত্বের কবিতা হয়ে 
আজীবন রয়ে যাবে মনে জোছনায়।

বর্ষণ

.....✍️ পান্থ দাস

মন আজ 
এক অনন্য ভাষার খোঁজে,
দিন আজ গুনছে প্রহর
মৃদু হাওয়ায় রেশে ৷

দিনের  অন্তিম বেলায়
মুছেছি অশ্রু কান্নার শেষে,
রয়েছি  বৃষ্টির অপেক্ষায়
খোলা মেঘের নীচে ৷

অবিলম্বে আসো চলে
কালো মেঘ দোলা দিয়েছে,
ক্লান্ত ঘুঘু হয়েছে আজ একা
বৃষ্টির জলে চোখের জল
তাঁরও নিমেষে লুকিয়েছে ৷

© হাঁপানিয়া, ত্রিপুরা

অন্তরাল

..... ✍️ সঞ্চয়িতা শর্মা
--------------
কল্পনার অলীক দুনিয়ার 
আকাশ হতো গোলাপী,
সাত রঙা শরবতের গ্লাসে
চুমুক দিতেম,অমনি--
জামার রঙ বদলে যেত।
ঘাস গুলি তখনো সবুজ,
মেঘ গুলি তখন আকাশনীল।
রঙ বদলের দুনিয়ায়,
গুলিয়ে যেত অন্তমিল।
রঙিন সরোজ বিলের জলে
দিয়েছি যখন ডুব,
হাস্য মুখেই তলিয়ে যাবো
সব হবে নিশ্চুপ।

পরিবর্তন

.....✍️ পৌষালী ভৌমিক

পরিবর্তনই সংসারের নিয়ম,
তাই মেনে নেওয়া যায় সব পরিবর্তন।
তবে মানুষের ক্ষেত্রে নিয়ম যে অন্য,
মানুষের পরিবর্তন কেউ মানতে চায়না,
'পাল্টে যাওয়াই স্বভাব' বলে এই বাক্য।
নিজের পরিবর্তন যখন সাদরে মানা যায়,
তখন অন্যেরটা মানতে কেন অনীহা প্রকাশ পায়?

আসক্ত

.....✍️ অনামিকা দও(অনু)

জীবণের মোরে আঁধারের তীরে ।
আমি আজ আসক্ত তোমার গল্পের নীড়ে।।
বাড়ছে যত দিন  ।
কাঁদছে দু-চোখ আজ হচ্ছে মলিন।।
ভুলবো বললেই ভোলা তো যায়না।
এইভাবে আর একলা চলা তো যায় না।।
আজও আমি যার নামে আসক্ত।
সে তো অন্য গল্পে নেশাক্ত।।
গল্প যখন সত্যি হয় দর্শকের ভিড়ে।
আমার রূপকথা না হয় বেচেঁ থাকুক কোড়া পাতার ঢেড়ে।।

সুখরঞ্জনের সুখপাখি

......✍️ শিবাশীষ মিত্র
        
সুখরঞ্জনের সুখপাখিটা নিরালায়, তারই অন্তরে।
সুখরঞ্জন খোঁজে মরে মরুতে,বরফে, তেপান্তরে।।
সুখরঞ্জন দেশান্তরী, সুখপাখিটার খোঁজে ।
সুখপাখি তার মনোছায়ায় নিরালায় মুখ গুঁজে ।।
সুখরঞ্জন বন্য বেশে হন্যে হয়ে দেউলিয়া ।
সুখপাখি তার বিরহিনী ঘরকোনে বসিয়া।।
সুখরঞ্জন দিকভ্রান্ত ভূয়া সুখের ঢপে।
সুখপাখি তার ঘরে বসে তারই নাম জপে ।।
সুখপাখিটার খোঁজে খোঁজে সুখরঞ্জন ক্লান্ত ।
আপন,যৌবন সব হারিয়ে আজ সে সর্বশান্ত ।।
সুখরঞ্জনের সুখের বাগান পরিচর্যায় পাখি ।
তিনকাল গিয়ে এককালে, ছানিপরা দুই আঁখি।।
সুখরঞ্জনের বৃদ্ধাবস্তা,সুখপাখি শিয়রতীরে।
সুখরঞ্জন পশ্চাতাপে আজ হাজারো সুখের ভীড়ে ।।
"কোন সে সুখের সন্ধানে তুই চিনলি নারে আপন-পর।
বেলাশেষে অবশেষে ফিরলি এসে নিজঘর।।
কোন সে নেশায় মত্ত ছিলি কিযে পাওয়ার আশে।",,,
সুখরঞ্জন বাউল গায় আজ, সুখপাখি তার পাশে।।

ক্ষুধার্তের আর্তনাদ

.....✍️  সুমিতা স্মৃতি

আমরা শিক্ষা চাই না, 
আমরা শুধু ক্ষুধা নিবারণের জন্য দুমুঠো অন্ন চাই। 
কারণ অক্ষারজ্ঞান মানুষকে শিক্ষিত করতে পারে, 
কিন্তু ক্ষুধার্তের পেট ভরতে পারে না। 
ক্ষুধার্ত পেটে অক্ষারজ্ঞান আমাদের কাছে পরিহাস বলে মনে হয়। 
কারণ ক্ষুধার্তরাই বোঝে, 
জীবনধারণের জন্য অক্ষারজ্ঞান নয়, দুমুঠো অন্নই যথেষ্ট।

বিষয়

.... ✍️ অন্তরা ভট্ট

বিষয়টা আর বিশেষ নয়
দেখতে হবে এখন
অন্য কিছু চুলোয় যাক
রাখতে হবে জীবন।

তোমার আমার জীবনেতে
ভ্যাপসা গন্ধে ভরা
সুগন্ধি মেখে চলছে যারা
ঘ্রাণী জীবন ভরা।

বাহিরেতে রোদের ছটা 
করে ঝলমল
ভেতরেতে বারি বিন্দু 
শুকায়নি এখন।

ভেতর পানে ধোঁয়াটে উনুন
মৃদু মৃদু জ্বলে
কখন আসবে থলে খানি
হাঁড়ি চাপবে বলে।।

 © বিলোনিয়া, দক্ষিণ ত্রিপুরা

প্রিয়_গামছা_বাবু

.... ✍️ প্রীতম শীল।

সুমন বছর ২৪ এর ছেলে। প্রেম টেম করেনা। ওসব নাকি বেদরকারি। যদিও সুমনের ভাব দেখে কোনো মেয়ে প্রেম করবে তাও না। কে বলেছে প্রেম ঐশ্বরিক দান? এটা কলিতে মিথ্যার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ।
তানিয়া রোজ সুমনকে দেখে মুচকি হাসতো। ছেলাটা প্রায় গামছা পড়ে থাকছে। গামছা একটা স্বাধীন পোষাক। পেন্টের, জামার,কিংবা শরীর মোছা সব কাজেই তিনি পারদর্শী।  পাড়ার হারান কাকু তো গরু চরাতে গিয়ে এটাকে বিছানা বানিয়ে ফেলে। আবার কখনো কখনো পানা পুকুরে ছোট চিংড়ি ধরতে।

আজ সুমন দুটো গামছা নিয়ে একটা পেন্টের পরিবর্তে আরেকটা জামার পরিবর্তে।  যদি লাল হতো বাবা রামদেবের মতো লাগতো। তানিয়া এই দেখে মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে প্রাইভেটে যাচ্ছে। অসাধারন মেয়েরা ছেলেদের দিকে তাকিয়ে হটাৎ এমন হাসি দিলে ছেলেরা আগে দেখে অপ্রত্যাশিত কিছু দেখে ফেলেছে কিনা। না সুমনের সব ঠিকই আছে। তবুও মেয়েটা কেন হাসলো? সুমনকে খুব বিরক্ত দিলো।

পরদিন সুমন গরুর জন্য ঘাস কাটছে। পরনে সেই গামছা। তানিয়া সুমনের দিকে তাকাতেই সুমন চোখ বড়ো বড়ো করে তাকাতে লাগলো। তানিয়া একটু থতমত খেয়ে সোজা হাটতে লাগলো। আর মনে মনে বলতে লাগলো কি ছেলেরে বাবা।

এই ভাবে বেশ কিছু দিন কেটে যায়। সুমন তানিয়ার মাঝে কোনো কথা হয়না। তবে সুমন তানিয়ার প্রতি একটু নরম হলো। একটা মেয়েকে প্রতিদিন দেখে,একটু মায়া জন্মানো স্বাভাবিক।  তবে সুমন এটাকে প্রেম বলে মানতে নারাজ। 

আজ দুদিন হলো সুমন তানিয়াকে দেখেনা। তানিয়া প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করে দেয়। কেন দেয় সুমন জানেনা। তবে তার একটু জানার আগ্রহ হলো! কেন হলো সে জানেনা। এটাকে প্রেম বলে কি?

খবর পেলো তানিয়া আর পড়বে না। ইচ্ছা আছে কিন্ত উপায় নেই। বাবা মা জোড় করে বিয়ে দিচ্ছে। সুমনের ইচ্ছা হলো এই বিয়েটা বন্ধ করে মেয়েটাকে হাসতে খেলতে ও পড়তে দেখুক। আর এই ভাবে মুচকি হাসি দিয়ে সামনে যেতে দেখুক! হ্যাঁ উপলব্ধি হলো "এটা বোধহয় প্রেম"!

সুমন তানিয়ার বাড়ি যাবে। আজ অনেকদিন পর পেন্ট পড়লো। জামা গায়ে দিলো। নিজের দিকে তাকিয়ে সুমন মনে মনে হাসলো। আর ভাবলো আজ তানিয়া আমাকে দেখে চমকে যাবে। আর হেসে বলবে কি ব্যাপার আজ সুট বুট পড়ে একে বারে বাড়িতে হাজির।  তবে সে কি কথা বলতে পারবে। তার তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আগামি পড়শু বিয়ে। আচ্ছা সুমন যদি গিয়ে বলে তানিয়ার বাবাকে আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই! না না তা হয়না,এটাতো সিনেমা নয়? 

সুমন তানিয়ার বাড়ি! প্রচুর লোক তানিয়ার বাড়ি! বিয়ের দুদিন আগেই এতো লোক। বলতে হবে তানিয়ার বাবার বিরাট কারবার। তবে লোকজনের সমাগম  তো অন্য কথা বলে। একটু সামনে গিয়ে দেখে তানিয়া উঠানে। তবে দাঁড়িয়ে নয় শুয়ে। জীবিত নয় মৃত।

হাতে একটা চীরকূট। লিখা আছে আমি বিয়ে করতে চাইনা বাবা। আমি একজন কে ভালোবাসতাম। তোমরা জোড় খাটালে বলেই আমি আর পারলাম না। 

প্রিয় গাছমা বাবু! এবার তো শুট বুট পড়ুন। আমি আর হাসবো না।
সুমন ফিরে আসলো। সবার অজানা কে প্রিয় গামছা বাবু! 
সুমন আজও গামছা পড়ে থাকে! তানিয়ার শেষ মুচকি হাসিটা দেখার অপেক্ষায়।

দূরাশা

......✍️ প্রবীর পাঁন্ডে
----------------------------------
কভূ ভাবি শূন্য মনে আমলকী বনে-
ফুটিব কদম্ব হয়ে বনলতা সনে। 
হয়তো কোনো বনবালা সেই ফুল লয়ে
সযত্নে গাঁথিবে মালা প্রেমসূত্র দিয়ে;
তখন সে বালিকার কোমল পরশে
জুড়াবে বিরহ যত মনের হরষে। 
কভূ ভাবি নীল-সাদা মরালের বেশে
ডানা মেলে উড়ে যাই নিরব আকাশে।
মহুয়ার গন্ধ ভরা বসন্ত বাতাসে
একদেহে একমনে যাই আমি ভেসে। 
ভাসমান মেঘপৃষ্ঠে আরোহণ করে
মনে হয় যাই চলে সুখস্বর্গ পুরে;
যেথা দেবসভা মাঝে দিব্য বেশ পরে
রম্ভাদি অপ্সরা যত নৃত্য গীত করে।
নন্দন কানন মাঝে দেব কন্যা গণ 
সখী পরিবৃত হয়ে করে বিচরণ। 
কভূ ভাবি বেণু হয়ে রাগিণীর সুরে
আনন্দে করিব পান অধরে-মধুরে। 
কিংবা কোকিলের বেশে বসি শাখা'পরে
গাহিব প্রণয় গীত কুহু কুহু স্বরে। 
কভূ ভাবি তরী হয়ে কনখল দেশে
কালিন্দীর পূণ্যস্রোতে যাই আমি ভেসে;
সেই তরী'পরে যবে ব্রজগোপীগণ
রাখিবে কোমল রাঙা যুগল চরণ
জীবন হইবে ধন্য চরণের তলে, 
জনম সার্থক হবে এই ধরাতলে।।

অশান্ত মানুষ

......✍️ ডা: শ্যামোৎপল বিশ্বাস

বিবিধ সত্ত্বায় ছড়িয়ে অনেক,
চামড়ায় শুধু শরীর আবৃত l
অস্থি মজ্জায় ঢালা হউক, 
শান্তি আর পবিত্র প্রেমসুধা নিয়ত l

উন্নতির চাবিকাঠি

......✍️ পাপিয়া দাস

জীবনে উন্নতির মূলে আছে যে চাবিকাঠি,
তা হল আমাদের  লক্ষ্য  স্থির  আর  সততার মাপকাঠি।

জীবনের  প্রতি মূহুর্তে যা আমাদের  মনে বিরাজমান  থাকবে
তা হল,আদর্শ  মানুষের ছবি
চোখে  ভাসমান  রাখবে।

জীবনে  উন্নতি  সাধন করলে
 আশীর্বাদময় আর ধন‍্য হবে জীবনে।
অবনতি  পেলে, জীবন ভাসে
অভিশপ্ত  প্লাবনে।

উন্নতির আরেক  নাম 
বিধাতা প্রাপ্তির  সুখ।
অবনতি  রেখে যায়
শুধুই  লাঞ্ছনা  আর কান্না ভরা বুক।

© মেলাঘর,ত্রিপুরা।

সময়

....✍️ মন্দিরা ভারতী

কখনো ভালো কখনো খারাপ
সবার আসে সবার যাই,
সময়ের আগে কি কখনো
কেউ কিচ্ছু পাই?

সময় যে বড্ড পাজি বাবু
সুখের সময় করো না অহংকার,
ভেবোনা তুমি ভেবোনা মশাই
দুঃখ ফিরে আসবে না আবার।

কখনো হাঁসি কখনো কান্না
সময়ের এটা চিরদিনের খেলা,
সময় বড়োই মূল্যবান
করো না তাকে অবহেলা।

দুঃখের সময় এলে আসুক
সময় নহে চিরস্থায়ী,
দুঃখ এলেও পেও না ভয়
দুঃখ টুকুও ক্ষনস্থায়ী।

© পশ্চিম বঙ্গ

সংসার

.......✍️সুশীল দাস

বিশ্ব সংসারে ভূমিষ্ঠ হইয়া
 সংসার ধর্মই সার,
 সংসার না করিয়াও  
 করি কত সংসার।

 সংসার সীমিত নহে 
 কেবল আপন আপন গৃহে,
 পৃথিবীটা ও সংসারসম 
 কেউ যদি তা চাহে।

 কেবল আপনজনে  
 মিলেমিশেই সংসার নয়,
পর জনকে নিয়েও কিন্তু
 সংসার ধর্ম হয়।

  দেশ যদি মোর গৃহ কিংবা
  পৃথিবীটা হয় পরিবার,
 সকলে মিলে মিশে
 করা যায় সংসার।

নিজের ঘর নিজের সংসার
এই নিয়ে ব্যস্ত সদা-ই,
বাইরে বাইরে থাকি আমরা
ঘরে কদ্দুর সময় কাটায়।

মৃত্যু কালে ত্যাজ কি শুধুই
গৃহ সংসার বাড়ি?
এই পৃথিবী, জগৎ সংসার
সব যেতে হয় ছাড়ি।

শ্রাবণ-জ্যোৎস্না ও জিয়ল গাছ

......✍️ অপাংশু দেবনাথ
--------------------------------
মজে যাওয়া জ্যোৎস্নার আগে ফিরে আসার কথা তোমার।
ফিরে আসেনা কেউ সুখের মতোন তেজি ঘোড়া ছুটিয়ে।

সেই দুরন্ত পায়ের গতি,রূপবিতান কর্মের।
ফল্গু মাতন বুকে তোমার, 
একটা সুর ক্রমাগতই বাজে ভিন্ন স্বরলিপি হয়ে ।

নির্বোধ-বিকেল পরিপাটি, চাদর শোভিত রাত।
অন্ধমায়ায় ছটফট করে এই জানালা কপাট।

অবিকল স্বপ্নেরা জানেনা তারাও-তো মৃত্যুর পথেই,
আগামি কোনো দুর্গন্ধময় বিষয়ী-ভোরে যাবে সে মরে।

স্বপ্নগুলো এভাবেই মরে,যেন কিরাত কিন্নর।
রাত কাটে,এভাবেই কাটে ধুলোর খরদুপুর।

সময়ের কাছে পূর্বাভাস জানতে চাই সম্ভাব্য ধ্বংসের,
মুখে একদলা থুথু ছুঁড়ে সে,কাটে কুৎসিত জীবন।

সন্ধ্যার অন্ধকার পেরিয়ে দেখি শ্রাবণ শ্রাবণ বৃষ্টি, 
যেন দাঁড় করিয়ে উঠোনে উল্লাসে মেতেছে মরমের
কেউ। শেখায় সে ধারাপাত,সত্য ও মিথ্যার। 

এক দারুণ বিশ্বাসে বলি,
ওঁম সত্য,ওঁম মিথ্যা ওঁম, পরমসত্য তুমি আমার।
যাবতীয় সত্য হাওয়ায় ওড়ে, মিথ্যার রণতরীও।

রাত হতে হতে ক্ষত চিহ্ন আঁকে সব ব্যর্থতার।
কে যেন বলে নদীতে মিশে যাবার আগে একদিন বৃষ্টি 
হবে, স্পষ্ট দেখি নদীতট, শ্রাবণ-জ্যোৎস্নায় হাসে অদ্ভুৎ জিয়ল গাছ।

বাংলাকে ভালোবাসি

......✍️ পি সি বর্মন

সকালের সূর্যের হাসি
পাবে তুমি আমার বাংলায়
যতদূর যাবে চোখ
সবুজের হাতছানি মুগ্ধ করবে তোমায়।

দেখবে সারি সারি সুপারি গাছ
পাতায় পাতায় মধুর আওয়াজ
শব্দের স্বর ধ্বনিতে
খুঁজে পাবে হারানো প্রেয়সীকে
যাকে ভালোবেসেছিলে 
নিজের প্রাণের থেকেও বেশি।

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
বাংলার হৃদয় ভূমি
এখানে আছে সুখ
এখানে আছে দুখ
আছে কান্না হাসির মিলন মেলা।

ভালোবাসি,খুব ভালোবাসি
বাংলার আম জাম কাঁঠাল
ভালো লাগে পুকুরের জল
আরো ভালো লাগে নদীর ঢেউ খেলানো কলতান।

জীবনের শেষ লগ্ন

.....✍️ শাশ্বতী দেব

ভাবাবেগে অতিক্রান্ত হয় সময়ের বন্যা 
একটা সময় সবাইকেই চলে যেতে হয় কালের স্রোতের মুখোমুখি
যদিও থাকেনা কোন চাওয়া পাওয়ার  নির্ণয়
সবার থেকেই  আদায়  হয়ে যায় হিসেবের বহি খাতা  জীবনের  শেষ  লগ্মে

ঈশ্বর বাণী

......✍️ সিক্তা 

কোথায় আছো ঈশ্বর বিদ্যাসাগর!
এসো তুমি জাগ্রত হও।
নারী আজ বিপন্ন !
তোমার মা আজ কাঁদছে!
তোমার বোন আজ কাঁদছে!
তোমার মেয়ে আজ কাঁদছে!
শুনতে কি পাচ্ছো তুমি ?
কবে - কবে এই নোনা জলের 
নদী তোমার চরণ স্পর্শ করবে!
তুমি আবার জাগ্রত হয়ে উঠবে!
বলবে উদাত্ত কন্ঠে -------
নারী গণ জাগ্রত হও। 
জাগ্রত হোক তোমাদের ত্রিনয়ন!
ভুলে গেছে সবাই, তুমি যেমন সৃষ্টি 
করো তেমনই প্রয়োজনে সংহার করো।
আকাশ বাতাস ভেদ করে তোমার 
আদেশ ধ্বনিত হোক ------
  " জাগ্রত হও নারী " ।

চিঠি

.....✍️ দীপ্র দাস চৌধুরী

হাজার হাজার প্রেম, বুকে নিয়ে বেঁচে থাকা দায়
কেউ তো খোলেনা এসে, আনকোরা চিঠিদের খাম,
জীবন শোনেনা কথা, দিনশেষে ভালোবাসা চায়
বারবার মনে আনে ছেড়ে যাওয়া মানুষের নাম।

কিছু কিছু ভালোবাসা, জীবন কবর ক'রে ছাড়ে
মেঘপুঞ্জ বৃষ্টি দিয়ে, ভেজায় সে' কবরের মাটি...
মৃতকে জাগাতে শুধু একমাত্র ভালোবাসা পারে
আমরা কাজের শেষে, যে যার নিজের পথে হাঁটি।

নতুন জীবন দেখে, পুরনো সে' চিঠিদের লাশ
কান্নার বদলে তারা, মুখে আনে ক্রুরতার হাসি,
জীবন কবিতা নয়, কঠিন বাস্তব উপন্যাস-
তবুও আমরা শুধু,  অলীক ভাবনায় বিশ্বাসী।

ডাকবাক্সে ধুলো জমে, খোলেনা কেউই তার দ্বার
চিঠিগুলো একা একা থেকে যায়, কিছু ধুলো মেখে,
খামের ভেতরে ঢাকা পড়ে থাকে স্মৃতির পাহাড়...
আমরা এড়িয়ে যাই, দেখেও সব কিছু না-দেখে।

© পশ্চিম বঙ্গ

দিনলিপি

....✍️  রত্না মজুমদার 

কপাল  জুড়ে  ভাগ্যের দিনলিপি 
বিষাদ বিরাগ নয় 
সমঝোতার প্রোটোকল
মাঝ রাস্তায় পড়বেনা সুতো ছিঁড়ে  সাধের ঘুড়ি
অঙ্কুরোদগমে নিরেট কুঁড়ি
এখনও আনকোরা জুটির ভোর
চলছে গ্রহ নক্ষত্রনুপুঞ্জের ন্যায় শৃঙ্খলে
ব্যাটিং এর ক্যাচ ধরে ভাল  বোলার
প্রত্যুৎপন্নমতির অস্থিমজ্জায় আকাশের ছাদ
উড়িয়ে নিতে পারবে না
হাতে হাত রেখে খাপে খাপে বাঁকা তলোয়ারও
ভেসে আসে আপন শিকড় ধরে  মহাসিন্ধুর উপরে উঠার মসৃণ গতি
অতি বাস্তবে এ পাঠের বিবৃতি

ঋতুবতী

......✍️ রাজেশ পাল

শান্তি ভিলাতে অশান্তির বাস
কালসর্প হয়ে মায়াদেবী করছে শান্তিকে গ্রাস ।
অরুপের দ্বিতীয় স্ত্রী রাতদিন অশান্তির আগুনে জ্বলছে ,
বাচ্চা হয়নি বলে মায়াদেবী বউমাকে দোষছে ।
     "সকাল হতে না হতেই ফোন আসলো
      কি জানি আবার কি বিপদ বাঁধলো "-
এই বাড়িতে আমি যদি কোনো কাজ না করি তাহলে কেউ ইডা করতোনা , কতক্ষণ হইছে ফোন বাজে কেউ তুলেনা । কি হইছে বউয়ের ? কানে শুনেনা ফোনডা যে বাজতাছে ? দেইখ্যাতো ভালোই আনছিলাম আইন‍্যা এনা দেহি ইডাও আগেরটার মতোই বন্ধ‍্যা ।
- হ‍্যালো ! হ‍্যালো ! কে কইতাছেন আপনে ? 
- নমস্কার মাসিমা , আমি রাজেশ , আপনার ছেলে অরূপের প্রথম বউয়ের ভাই ।
- আইচ্ছা ! তা কিতা মনে কইরা ফোন দিলা ? তোমার বইনের সাথে আমার পুলার ডাইভোর্স হইয়া গেছে এখানে কেরে ফোন ? কিছু নিবার লিগা নি ?
- মাসিমা একটা সুখবর দেওয়ার জন্য ফোন করেছি ।
- সুখবর ! কি সুখবর ? তোমার সুখবর ? বিয়া টিয়া ঠিক হইছে তোমার ? আমরা আইতে পারতামনা নিমন্ত্রণ দিয়া লাভ নাই ।
- না না মাসিমা বিয়ের খবর না । আমার বিয়ের খবর হলেতো আমি নিজে আপনার বাড়িতে এসে আপনাকে আর আপনার বন্ধ‍্যা ছেলেকে হাতজোড় করে আমার বিয়েতে না আসার  নিমন্ত্রণ করে যেতাম ।
- কি ?? কি কইলা তুমি ? আমার ছেলে বন্ধ‍্যা ? বাইচ্চা তোমার বইন জন্ম দিতে পারেনা আর দোষ আমার পুলার ? এতো এতো ডাক্তার , বৈদ‍্য দেখাইলাম আর কয় আমার পুলা বন্ধ‍্যা । আমার পুলার কোনো সমস্যা নাই , সমস্যা আছে তোমার বইনের । 
- মাসিমা , আমার বোন মা হয়েছে !!
- হ‍্যাঁ ! !!!!
- হ‍্যাঁ ! মাসিমা আমার বোন মা হয়েছে । আমার বোনের আবার বিয়ে হয়েছে , আপনার ছেলের খাঁচা থেকে মুক্তি পেয়ে আমার বোন বাঁচতে শিখেছে । আপনি কি বলেছিলেন আমার বোন বন্ধ‍্যা , একে কেউ বিয়ে করবেনা । আমার বোনের বিয়ে হয়েছে , আমার বোনের দ্বিতীয় স্বামী একজন মানুষ , আপনাদের মতো অমানুষ নয় ! আগামী অগ্রহায়ণে দুই বছর পূর্ণ হবে । গতকাল রাতে আমার বোনের ঘর আলো করে একজন কন্যা সন্তান আসলো । 
- ওহ !  মাইয়া জন্ম দিছে ! পুলা যদি হইতো তাইলে মানতাম । সব সম্পত্তি জাইবো আইতো না কিছু । পুলাতো জিনিস আনে ।
- ঠিক যেমন ভাবে আপনার ছেলে এনেছে , ভিক্ষে করে !
- এই ভিক্ষা মানে ? মাইয়া বিয়া দিলে এমন সবাই ওই দেয় , ইডি কি আমরারে দিছে ? মাইয়ারে এনা দিছিলো ।
- তাহলে ডিভোর্সের পর আপনার বন্ধ‍্যা ছেলে এগুলো ফেরত কেনো পাঠালোনা ?
- তুমি কি জিনিস পত্রর লিগা ফোন করছো ? আর বন্ধ‍্যা কারে কউ ?
- কাকে আবার আপনার ছেলেকে । আমার বোন বাচ্চা জন্ম দিতে অক্ষম , তার রজস্রাব নিয়মিত হয়না , সে অলক্ষী যা নয় তা শুনিয়েছেন , ভুলেগেছেন সব ? ভাগ্য আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কার দোষ আছে আর কার নেই ।
- আমরা ঔষধ খাওয়াছি দেইখ্যা ওই মা হইছে ।
- একদম ভুল , ডাক্তার পরীক্ষা করার পর একথা জানিয়ে দিয়েছিল যে আমার বোনের টেস্ট রিপোর্ট নরমাল এবং একথাও বলে দিয়েছিল যে দ্বিতীয়বার যেনো স্বামীকে নিয়ে আসে , তাকেও কিছু টেস্ট করাতে হবে । আপনার ছেলে যেতে রাজি হয়নি , আর আপনি আমার বোনের উপর সমস্ত দোষ চাপিয়ে দিয়েছিলেন ।
- আরে পুলা , ছেলেরার কোনো দোষ থাকেনা , মাইয়া হগলের ওই হয় । তুমি পুলা হইয়া মাইয়া হগলরে সাপোর্ট কেন করো ।
-  আমি মেয়েদের হয়ে কথা বলছিনা , আমি মানুষ হিসেবে কথা বলছি । "না আমি নারী , না আমি পুরুষ , আমি একজন মানুষ ।" অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে মনুষ্যত্ব লাগে লিঙ্গ না ।আপনার ছেলেতো দ্বিতীয়বার বিয়ে করলো , বাচ্চা হয়েছেতো এবার ?
না এখনো হইছেনা । বউরে নিয়া ডাক্তার কাছে যামু ।
বউকে নিয়ে আপনি না আপনার ছেলেকে পাঠান । আর ছেলেকে বলুন যাতে ডাক্তারি পরীক্ষাগুলো যথারীতি করে ।
আমার ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ সে কেরে ডাক্তার কাছে যাইতো ?
আপনার ছেলে অসুস্থ একথা আমি একবারও বলেনি ।
তাহলে সে কেরে যাইবো ? মাইয়াদের সমস‍্যা মাইয়ারা যাইবো । হেদিনের পুলা আমারে শিখায় , কে ডাক্তারের কাছে যাইবো আর যাইতোনা ।
সমস্যাটা শুধু মেয়েদের না ছেলেদেরও হয় । বাচ্চা না হলে দুজন কেই ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়া দরকার । ছেলে কিংবা মেয়ে হওয়ার জন্য মা-বাবা উভয়ই দায়ী । হ‍্যালো ! হ‍্যালো ! …...
   
" এই পৃথিবীতে অজ্ঞাণীকে জ্ঞান দেওয়া সম্ভব
কিন্তু যারা ডিগ্রীধারী মূর্খ তাদেরকে বোঝানো অসম্ভব । বিধাতা নিজেও হাসছে মায়াদেবীর কর্মকাণ্ডে , এক নারী আরেক নারীকে অপমান করছে মনের আনন্দে ।"

অবসাদ

....✍️  সুশান্ত ঘোষ 
 
অজয়ের অবিশ্বাস আর ঋত্বিকার কাজ থেকে ফিরে আসার পর অশ্লীল সন্দিহান কথাগুলো দিনের পর দিন ঋত্বিকার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল । ঋত্বিকা অজয়ের কথাগুলো শুনতেই লজ্জাবোধ করত যে এই অজয়কে একদিন ও ভালবেসে পরিবারের অমতে একবারে জোর করে বিয়ে করেছিল। তাই একদিন রাগের মাথায় বলেই ফেলল, যখন এতটা খারাপ কথা বলে আমার অফিসের বস সীতাংশুর সাথে অহেতুক সন্দেহ করে ওই নোংরা কথাগুলো বলতে পারছো তাহলে ডিভোর্সের ব্যবস্থা করছ না কেন ? আমি সারাদিনের এই অফিসের ধকল, বাসে মেট্রোয় গাদাগাদি করে কষ্ট করে বাড়িতে ফিরে আসার পর, এই কথাগুলো আর সহ্য করতে পারছি না । 
অজয়ের কাছে সত্যিই এইরকম আচরণ একবারই প্রত্যাশিত নয় । বরাবরের শান্ত অজয় একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে টেকনিশিয়ানের কাজ করত । অনেক টাকা মাহিনা না পেলেও, ওর আর ঋত্বিকার কোম্পানির কেরানির চাকরি থেকে যতটুকু রোজগার করত, ওর ঋত্বিকা, অজয়ের বাবা মা ও ওদের একমাত্র ছোট্ট মিষ্টি চার বছরের মেয়ে ইপ্সিতার সুন্দর চলে যেত। আর অজয়ের বাবার পোস্ট অফিসের চাকরি থেকে রিটায়ার্ড করার পর যতটুকু পেনশনের টাকা পেতেন । 
কিন্তু বাধ সাধল এই অনুজীবের আক্রমণ আর অজয়ের কোম্পানির লকডাউন । প্রথমে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল । মালিক তিন মাসের বেতন দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল, যে তার পক্ষে এইভাবে কর্মচারীদের বসিয়ে বেতন দেওয়া সম্ভব নয়, তাই যতদিন না অবস্থা স্বাভাবিক হচ্ছে, তিনি কোম্পানি বন্ধ রাখছেন। ফলে ওই সময় নতুন করে কাজ পাওয়ার কোন সুযোগ ও অজয়ের কাছে ছিল না । অজয় শুরুতে মানসিক ভাবে খুব ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু সেই সময় ঋত্বিকা আর অজয়ের বাবা বলেছিলেন, এতো চিন্তা করার কি আছে ? আমাদের যতটুকু রোজগার আছে, নুন ভাত ঠিক জুটে যাবে। কিন্তু এইভাবে বছর দেড়েক ঘরের মধ্যে বসে থাকতে থাকতে অজয় যেন হাঁপিয়ে উঠেছিল। ওর আচরণ ভারী অদ্ভুত ভাবে, সমস্ত রাগ যেন ঋত্বিকার ওপর গিয়ে পড়ত । আর ঋত্বিকা সমস্ত দিনের শেষে যখনই বাড়িতে ফিরে আসত, তখনই অজয় ভারী অদ্ভুত ভাবে ঋত্বিকার সম্পর্কে এই কথাগুলো যেন অজান্তেই বলে ফেলত ।
অজয়ের এই অশান্তির কারণে ওর বাবা বলতেন, তোমাদের কাউকে কোন কাজ করতে হবে না। আমার যতটুকু পেনশনের টাকা পাই, তাতেই পাঁচজনের ঠিক চলে যাবে । 
কিন্তু ঋত্বিকা বলত, বাবা একে এই সময় কাজ পাওয়া মুশকিল, তার ওপর এইরকম হঠকারী সিদ্ধান্ত আপনার ছেলের পাগলামির জন্য, আমি মানতে পারছি না। 
অজয় অবশেষে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলল ঋত্বিকাকে মিউচুয়াল ডিভোর্স দেওয়ার । ঋত্বিকা বলেছিল, তাতে যদি তোমার ভালো লাগে, আমাকে এইভাবে রোজ খারাপ কথা থেকে আমি মুক্তি চাইছি । আমি রাজি । উকিল কে ডেকে বিচারের ব্যবস্থা করল অজয় নিজেই ফোন করে । 
কিন্তু মিউচুয়াল ডিভোর্সের শুরুতেই অজয় বিচারকের সামনে বলল, আমার শুধুমাত্র একটাই সর্ত আছে যেটা মানতে হবে ঋত্বিকাকে । বিচারক বললেন, ওটাও আপনারা আলোচনা করে নিন নিজেরাই । অজয় বলল, না সবার সামনেই সর্তটা বলতে চাইছি, আমার সর্ত একটাই ডিভোর্সের পর ঋত্বিকা কিন্তু আমার কাছেই থাকবে । আমাকে ছেড়ে ঋত্বিকা কোথাও যেতে পারবে না । 
অজয়ের এই প্রস্তাব শুনে অবাক বিচারক, বললেন তাহলে ওনাকে ডিভোর্স দিতে চাইছেন কেন ?
অজয় বললো, ওর আচরণ আমার ভালো লাগছে না । তাই এই কঠিন সিদ্ধান্ত টা নিতে হলো । সন্ধ্যা ছটার সময় আগে ফিরে আসত অফিস থেকে বাড়িতে, এখন সাতটা- কোন কোন দিন সাড়ে সাতটা বেজে যাচ্ছে । আমাকে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে । এটা আমি সহ্য করতে পারছি না একদমই । আর ঋত্বিকার নিজের বাবা মা পরিবার, আমার মতো নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেকে ওর বিয়ে করার জন্য ওর সাথে কোন সম্পর্ক রাখেন না। ওদের বাড়ির অবস্থা খুব ভালো। আর সেখানে আমার পরিবারের কোন তুলনা ওদের সাথে চলে না । তাই বিয়ের পর থেকে ঋত্বিকা ওর পরিবারের সাথে কোন যোগাযোগ রাখে না ।
বিচারক বললেন, আপনাদের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে ?
অজয় বললো না, সেইরকম অবস্থা আমাদের নেই ।  আর সেইরকম কোন ক্ষমতা ও নেই। 
বিচারক বললেন, আপনি কি মনে করেন আপনার স্ত্রী কখনও, অপর কারো সঙ্গে, কোন রকম অবৈধ সম্পর্ক রাখতে পারেন ?
অজয় বললো, বিশ্বাস তো আমি করতে চাইছি না । কিন্তু দেরি করে ফিরে আসার জন্য এইরকম চিন্তা গুলো মাথায় স্বাভাবিক ভাবেই চলে আসছে ।
বিচারক বললেন, ঠিক বলেছেন আপনি । কিন্তু আজকাল যা অবস্থা গাড়ি ঠিকমতো রাস্তায় চলছে না । যে কটা চলছে ভীষণ কষ্ট করে, হয়তো আপনার স্ত্রী যাতায়াত করছেন । আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থা আজকে নেই তো । তারপর উনি একজন মহিলা । 
অজয় বললো এগুলো যেদিন ঘটে সেদিন তো এসে আগে বুঝিয়ে বলা হতো । এসেই সোজা বাথরুমে ঢুকে যায়, কোন কথা না বলে ।
বিচারক বললেন, ও এটা কারণ । ঠিক ভীষণ অন্যায় ঋত্বিকা দেবীর এটা । কিন্তু অজয় বাবু আপনাদের তো একটা মেয়ে আছে । আপনার বাবা মায়ের ও বয়স হয়েছে। বাহিরের জামা কাপড়ে সংক্রমণ ছড়ার আশঙ্কা একটা থাকে । ওটা একটু ক্ষমা ঘেন্না করেই দিন এই পরিস্থিতিতে । 
অজয় বললো, ওই জন্য তো ওর কথা চিন্তা করে বলেছি, ডিভোর্সের পর ও কিছুতেই আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারবে না । 
বিচারক বললেন ঠিক, আপনার ভীষণ একটা দূরদৃষ্টি রয়েছে ঋত্বিকা দেবীর প্রতি । ঠিক আছে আমরা আমাদের রায়ে উল্লেখ করে দিচ্ছি, যাতে উনি আগে বাড়িতে ফিরে বাথরুম থেকে ফ্রেস হয়ে ফিরে এসেই, পরিবারের কোন কাজ করার আগে আপনার পাশে বসে সমস্ত কথা বলেন । তারপর আপনার চার বছরের মেয়ে, আপনার বাবা মায়ের দিকে খেয়াল করবেন । এটাই সঠিক কি বলেন অজয় বাবু ?
অজয় বললো, না সেটা কি করে হবে ? ঘরের দরজার দিকে তাকিয়ে আমাদের মেয়ে গুড্ডি ওর মায়ের আসার দিকে তাকিয়ে থাকে । বাবা পায়চারি করতে থাকে বাহিরে । রাস্তায় গাড়ি ঘোড়ার যা অবস্থা । ওই কারণে বলেছি ডিভোর্সের পর আমার কাছেই থাকবে ।
বিচারক বললেন ঠিক আছে, আপনার কথাই থাকবে । আপনাদের মতো মানুষ, আজও আছে বলেই, এই সমাজে ভাললাগা ভালবাসা সব বেঁচে আছে । আপাতত এইভাবেই থাকুন, আমরা লকডাউন উঠলে আপনাদের ডিভোর্সের রায় টা জানিয়ে দেব । এই মুহূর্তে অনিয়মিত আদালতের জন্য এই রায় টা ঘোষণা করতে পারলাম না। বলে বিচারক বেরিয়ে যান । আর অজয়ের অলক্ষ্যে যাওয়ার সময় এই অবসাদের জন্য ঋত্বিকা দেবীকে পাশে ডেকে, ওনার স্বামীর দিকে, এই সময় একটু সঙ্গ দেওয়ার জন্য কথা বলে যান । 

( শব্দ সংখ্যা ৮৬২ )
স্বত্ব সংরক্ষিত

সময় গড্ডালিকা

.....✍️ গোবিন্দ ধর 


সেই কবিতাটি লিখে ফেললে পড়ে নিও।
তারণ্য তো কোথাও ফেসে গেছে বিপদতামী পথের ঠিকানায়।
হয়তো তরুণদের অভিভাবকও তেমনই চেয়েছিলো বলে 
দীর্ঘ নিরবতায় দমিয়ে দিতে দিতে
তারণ্যের মনের কোঠর থেকে বিশ্বাস নামক পাখিটি 
আর ভোরের কিচিরমিচির ডাকে না।
লুল পড়া সেই অভিভাবক তেমনই চেয়েছিলেন 
দীর্ঘ নিরবতা থাকবে যাবার সময়।কেউ কাঁদবে না। 
কারো বিবেকের ঘর থেকে প্রতিবাদে ডাকবে না পাখি।
সময় চলছে বেশ গড্ডালিকায় 
নতুন করে পথ দেখাতে চাইলে দেগে দেবে বুড়োভেড়াশাবক।
মূল স্রোত বলে চালিয়ে দেওয়া পেচ্ছাপকরণই 
আমাদের মেধাস্বত্ববিকাশের অদ্বিতীয়ম বটিকা।
সুতরাং সেই কবিতা কে লেখবে আর।
সবই গড্ডারিকা। 
তা থেকে কোন পাখি ভোরবেলা জাগিয়ে দিলে তা-ই হবে প্রতিস্রোত।সেখানেই দেগে দেওয়া হবে কবিতাকে, কবিকে।
মানুষ মুখচোখকান সব মাস্কের ভেতর আটকে রেখে বেশ তো ক্রান্তিকালে মরে মরে হাঁটছে খাচ্ছে অফিশ যাচ্ছে। 
আবার বাড়ি আসছে খাচ্ছে ঘুমাচ্ছে। মুখে মুখোশ।চোখ বন্ধ। কানবধির।দিব্যি বেশ তো আছে।এই সময়ই তো চেয়েছিলেন আমাদের প্রাজ্ঞ অভিভাবক।


১৩:০৮:২০২১
ধর্মনগর।

লাল টিয়া

....,✍️ সুবীর সরকার

লাল টিয়া একটি শব্দ।মধ্যরাত একটি শব্দ।যদি ঘুমকে দ্বিখণ্ডিত করি দেখা যায় পাশ ফেরা নারীর মুখের বাম পাশে এলানো চুল।এভাবেই তো ম্যাজিক
নেমে আসে আমাদের জীবনে।অস্থিরতা নিয়ে দৌড়তে থাকি।ভাঙনের গল্প দূরাগত মেঘের ছায়ায়
কেমন নেচে ওঠে।থাবার নিচে কতকিছুই তো আড়াল করে বেড়াল।
স্বপ্নে দেখি,আমাদের টুপি উড়ে যাচ্ছে।
আর পদযাত্রায় অংশ নিচ্ছে খোঁড়া হাঁস।

@পশ্চিম বঙ্গ

ভালোবাসার স্পন্দন

....,✍️ তাপস দত্ত 

আত্মগর্জনে পরিবেষ্টিত পরিচালিত…
অহংকারের চূড়ায় বাসস্থান,
ভুলতে চাওয়ার এক মিথ্যা প্রয়াস…!

ফেরানোর আশা ছেড়ে দিয়েছি এখন..
চেষ্টা করছি নিজেকে ফিরিয়ে আনার,
প্রতিক্ষার অবসানে নিতান্তই সাদামাটা,
মিথ্যার প্রতিশ্রুতিতে বন্দী শেকলে হাঁটা।

শর্ত দিয়ে কি সম্পর্ক ধরে রাখা যায়?
ইগোর সাথে বিষর্জন হলো ভালোবাসার।
একরওি ভালোবাসার অস্বীকৃতি
বলেছ শুধু দিয়েছি আঘাত!
সত্য বলার সাহস টা যে নেই…
নদীর ভাঙ্গন তো শুরু ইগোতেই।

আজ আমি ক্লান্ত,পরিশ্রান্ত
কাটাতে হবে মায়াজালের বন্দন।
ফিরে যেতে হবে নিজের ঘরে 
সব নাটক,বিনোদন তো শেষের পথে
হৃদয় জুড়ে থাকবে সে মিথ্যা ভালোবাসার স্পন্দন।

কৃষক

....✍️ মনচলি চক্রবর্তী

গরীব কৃষকদের শরীরের ঘামে, রক্তে
সযত্নে ফসল সোনার ফলায় মাঠে।
প্রতিদিন আমাদের আহারের যোগান দেয়,
নিত্য  যাদের  দিন কষ্টে কাটে।
 বাঁচতে আমাদের  কৃষকদের বেঁচেথাকা অপরিহার্য।

নিঃশ্বাস

....✍️মায়া রানী মজুমদার  
                    
ভবে  যবে  এসেছিলাম 
                  নিয়ে  এই  নিঃশ্বাস । 
ভাবি নি তো একদিন 
               বাতাসে মিলাবে শ্বাস ।। 
বেঁচে  আছি  মোরা 
                 ভর  দিয়ে  নিঃশ্বাসে । 
পারি করতে সবকিছু 
                       বাঁচার  আশ্বাসে ।। 
হারিয়ো  না  কেউ 
                  এই  বিশাল  বিশ্বাস । 
বুঝতেও নারবে কখন
                   যাবে চলে  নিঃশ্বাস ।।
এক  নিঃশ্বাসে  পেতে
                       পারি  কত  কিছু । 
আবার হারাতেও মোরা 
                    পারি  সকল কিছু ।। 
নিঃশ্বাসের  উঠা  নামায়
                       পড়ে  যদি  বাঁধা ।
মৃত্যুও হয় খেতে বসে
                    খেয়ে  আধা  আধা ।। 
হাওয়া দিই দেহ মাঝে
                          শ্বাসের   মাধ্যম । 
তাই তো পাই মোরা 
                         কাজের   উদ্যম ।।
বাঁচাতে মোদের শ্বাস 
                         কত  আয়োজন । নিয়মিত খাওয়া আর
                  ব্যায়ামের  প্রয়োজন ।। 
নিজ সৎ-কর্ম  আর
                     পূর্বপুরুষদের  বরে ।
শ্বাস  বায়ু  ততদিন 
                      ধরে রাখতে পারে ।।
 রাখতে পারি ধরে মোরা 
                     যত বেশী-দিন শ্বাস ।
তত  দিনই  ধরণীতে
                  থাকবে মোদের আশ ।। 
হেলায় নষ্ট করি মোরা 
                  মোদের জীবন  যখন । 
সময়ে  বুঝি না  মোরা 
                    হারিয়ে  বুঝি  তখন ।। 
বাঁচাব শ্বাস খুশী মনে 
                         ঘটাব  না  প্রমাদ । 
আছে বলেই শ্বাস তাই 
                       এত  স্বাদ  আহ্লাদ ।। 
সৎ ইচ্ছা পূরণ করতে 
                     হই  যেন  অভিলাষ । 
দামী হল সবার চেয়ে 
                  মোদের  একটা  শ্বাস ।।

একটি রাঙা মুখ

.....✍️ শিশির আধিকারী।

শহর থেকে 
অনেক..........  দূরে 
মাটির  গন্ধে 
মেটো পথে
খোঁজে  বেড়াই 
চেনা কোমল 
একটি রাঙা মুখ।।।।

পিতা

    ......✍️ অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী,

পিতা তুমি সবার সেরা জীবন্ত প্রতিমা। 
পিতা তুমি সন্তানের কারিগর তা সকলের জানা।। 
 পিতা মানে পরিবারের ছাতা মাথার উপর  ছাদ। 
পিতা মানে ক্ষমা করে দেন কঠিন অপরাধ।। 
পিতা তুমি পরিবারের মুখে ফুটাও মধুর হাসি। 
পিতা তোমায় আমরা সবাই বড়ো ভালোবাসি।। 
পিতা তুমি কঠোর শ্রমে হও না যেন ক্লান্ত। 
পিতা তোমার স্নেহের নীড়ে থাকি মোরা শান্ত।। 
পিতা মানে হাজার খুশি নতুন নতুন আবদার।
পিতা মানে যার ছোঁয়ায় সুখী হয় পরিবার।। 
পিতা কভু খালি হাতে ফেরে নাকো বাড়ী। 
পিতা তোমার অকৃপন হস্ত ভুলতে মোরা নারি।। 
পিতা তোমার রক্ত চুষে মোদের বেড়ে ওঠা। 
পিতা তোমার তিক্ত ভাষণ লাগে মিঠা মিঠা।। 
পিতা মানে যার হাত ধরে প্রথম হাঁটতে শেখা। 
পিতা মানে সন্তানদের গুঁছানো জীবনরেখা।। 
পিতা মানে চোখ রাঙানো শাসনের পরিবেশ। 
পিতা মানে আশার আলো আনন্দের সমাবেশ।। 
পিতা তোমার চরণতলে নমি বারে বারে। 
পিতার মতো কেউ নেই আর জগৎসংসারে।। 

অষ্টলক্ষীর বাঁধনে

....✍️ কানু বনিক 

অনেকটা পথ হেঁটে যাওয়ার পর দেখি, বিকেলের নির্মাল‍্য আলো এক-পা, দু-পা করে ছায়ার দৈর্ঘ‍্য বাড়িয়ে যাচ্ছে। 

তুমি এখনো একই জায়গায় দাড়িয়ে আছো, গোধুলিটা এখন একটা অলিখিত স্তবকে এগিয়ে আসছে। 

তোমার প্রণয় জঠরে সুখের অনুভূতিটা এখন আর আগের মত মনে হচ্ছে না, একটু একটু করে যেন মলিন হয়ে যাচ্ছে। 

তোমার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা আমার অনুভূতিগুলো দ্রাঘিমারেখা বরাবর চলতে থাকলে , তুমি হয়তো তার সঠিক দিশাটুকু এখনো বুঝতে পারো 'নি। 

আমার শ্রেয়তম পুষ্পবাসরে রাতের অন্ধকারে সবটুকু গরিমা নিয়ে জোনাকিরা যখন আলো দিয়ে যায়, আমি তার আভাটুকু গা'য়ে মেখে শ্রীনারায়ণ হওয়া স্বপ্ন দেখি। 

আমি শুক্লপক্ষের তিথিতে চাঁদের গা'য়ে প্রণয়ের শ্রীকথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে সাজিয়ে অষ্টলক্ষীর বাঁধনে আকাশগঙ্গার রূপসুধা পান করি। 

তুমি যখন সায়ন্তনী সন্ধ‍্যায় একরাশ শুভেচ্ছায় জ্ঞাপন করেছিলে, আমার ইচ্ছেগুলো তখন নীলকান্তের গভীর ধ‍্যানের মাঝে পরিধেয় খুঁজে।

এই বারের মতো থাক

 ................. ✍️ এলিনা সাহা


এই বারের মতো থাক তোর
    আর আমার গল্প টা ।
এই বার পূর্ণতা পাক অন‍্যের
   হাত ধরে তোর জীবন টা ।

এই বারের মতো থাক তোর, 
আমার প্রথম পুরুষ হ‌ওয়াটা।
 এই জীবন টা তো কেঁটেই 
 গেলো ফোনের ও পাশটাই।

তোকে দু-দন্ড সামনে দেখা টা 
      হলো আর কোথায়
তোকে নিয়ে মেলায় মেলায়
বাউল হয়ে ঘুরা হলো টা আর 
            কোথায় ।

  দীঘির তীরে বসে দু-কাপ
চায়ের চুমুকে দুজন আলতো
ভাবে ভেসে যাওয়া টা হলো  
           কোথায়।

 চল এবারের মতো থাক 
 তোকে ছোঁয়ে স্পর্শ করে 
      অনুভব করাটা।
থাক তুই আর আমি  এবারের
    মতো আমরা হ‌ওয়াটা।

যদি জন্ম না হতাম

    ✍️আলমগীর কবীর

আমি যদি আমি হয়ে জন্ম না নিতাম
যদি অন্য কেউ হয়ে জন্ম হতাম হয়তো ভালো হত
আমাকে দেখতে হতনা এতো নিষ্ঠুরতা!
পৃথিবীতে ভালো কিছু আছে বটে।
তবে নিষ্ঠুরতার চাপে পড়ে ভালোগুলো ঢাকা পড়ে আছে।
তাতে পৃথিবীর কোনো দূষ নেই
মায়ের সব সন্তানেরা যেমন মায়ের কথা শুনেনা
তবুও মায়ের কাছে সন্তানই থেকে যায়।
ঠিক তেমনি পৃথিবী মায়েরও অবাধ্য সন্তান বেড়ে গেছে
তবুও ওরা পৃথিবীরই সন্তান তাই পৃথিবী চুপ করে আছেন।
মা সন্তানকে কখনো আঘাত করতে চায়না 
তবে সন্তান সীমাহীন অবাধ্য হলে তার প্রায়শ্চিত্য হয়েই রয়
তাতে মাও তখন চুপ থাকেন!  
 হিংসা, বিভেদ, বিদ্বেষ, অপবাদ ছড়ানো কর্তারা
তারাও একদিন ধবংস হবে, নিজের কর্মফল পাবে। 
হয়তো সভ্যতাও আবার পূর্ব আকাশে উঠবে
তবে যদি আমি জন্ম না হতাম 
হয়ত আমাকে দেখতে হতোনা এতো বর্বরতার দৃশ্য! 

আলমগীর কবীর
বিশালগড়, সিপাহীজলা, ত্রিপুরা ( ভারত)