ভাঙতে সমাজ নিয়মের গাঁথা
আমরা হলাম সেই মেয়ে ,
আমরা হলাম এই শতাব্দীর
সীতা ।
তথাকথিত সমাজ বলে-
নারী নয় পুরুষের অধীন ।
আমরা চিৎকার করে প্রশ্ন করি -
সত্যিই কী নারী স্বাধীন ?
আজকের সমাজে ভরে গেছে -
কাপুরুষ রামের বংশধর।
কখনো ধরিত্রীতে কখনো অম্বরে ,
যৌতুকের দায়ে বারে বারে লাঞ্ছিত হয় -
শত সতী সয়ম্বরে ।
মন্দিরের হত্তা কর্তা রা আজ বলছে -
নারী ঋতুময়ী সে অসুচি ,
নারী অপবিত্র।
সে মন্দিরে উঠেছে তাই -
করো মন্দির পবিত্র ।
শবরীর অঙ্গে অঙ্গে
ঢালা হলো গঙ্গত্রী।
কারণ গঙ্গাই না কী আসল সতী ।
ভাঙতে সমাজ নিয়মের গাঁথা,
আমরা সেই মেয়ে -
আমরা হলাম -
শতাব্দীর
সীতা ।
কে বলে নারী এখনো স্বাধীন ?
কাপুরুষ রামের বংশধরদের কাছে
নারী আজও পরাধীন ।
ক্ষণে ক্ষণে নিচ্ছে তারা অগ্নিপরীক্ষা,
কোথাও হথরস ,
কোথাও বা গ্রাম বাংলার -
বুকে নেমেছে ধস ।
আজ কোথায় নারী স্বাধীন ?
যখন মোল্লা মুরুব্বীদের মুখের বাণী -
জননী অপেক্ষায় আল্লাহ দামী
যখন B.A - M.A পড়া ছেলে বলে -
আল্লাহের চেয়ে কেউ নয় বড় ,
তখন বৃদ্ধ জননী তো হবেই -
বৃদ্ধাশ্রম গামী।
যেখানে বিয়ে নিয়ে ছেলে খেলা ।
তালাক তালাক তালাক বলে -
নারীর জীবন কে নিয়ে করে খেলা ।
সেখানে কোথায় স্বাধীনতার সুর ?
কোথায় বলো কোথায় ?
গ্রামের মেয়েদের যখন
কলেজ থেকে রাতে -
একটু আসতে হয় দেরী ,
সমাজের মুরুব্বী রা গলা ফাটায় -
"দেখ লো তোর মাইয়া এতো রাতে -
কার সনে ঢলা ঢলি করে ফেরি" ।
কই সুমন বা সুলেমান কে তো -
কেউ বলে না ?
তারা তো রাত্রে ফেরে -
মাদক খেয়ে ।
আর আমাদের বেলা সব দোষ ?
দোষ আমাদের মেয়ে বলে ?
মানছি না আর এই নিয়ম ,
মানবো না আর অন্যায় ।
আমার রুখে দাঁড়াবো ।
আমরা নই সে যুগের সীতা ।
আমরা হলাম এযুগের নারী ,
আমরা প্রতিবাদী -
আমরা সেই মেয়ে
আমরা হলাম -
শতাব্দীর
সীতা ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন