.... ✍️ প্রীতম শীল।
সুমন বছর ২৪ এর ছেলে। প্রেম টেম করেনা। ওসব নাকি বেদরকারি। যদিও সুমনের ভাব দেখে কোনো মেয়ে প্রেম করবে তাও না। কে বলেছে প্রেম ঐশ্বরিক দান? এটা কলিতে মিথ্যার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ।
তানিয়া রোজ সুমনকে দেখে মুচকি হাসতো। ছেলাটা প্রায় গামছা পড়ে থাকছে। গামছা একটা স্বাধীন পোষাক। পেন্টের, জামার,কিংবা শরীর মোছা সব কাজেই তিনি পারদর্শী। পাড়ার হারান কাকু তো গরু চরাতে গিয়ে এটাকে বিছানা বানিয়ে ফেলে। আবার কখনো কখনো পানা পুকুরে ছোট চিংড়ি ধরতে।
আজ সুমন দুটো গামছা নিয়ে একটা পেন্টের পরিবর্তে আরেকটা জামার পরিবর্তে। যদি লাল হতো বাবা রামদেবের মতো লাগতো। তানিয়া এই দেখে মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে প্রাইভেটে যাচ্ছে। অসাধারন মেয়েরা ছেলেদের দিকে তাকিয়ে হটাৎ এমন হাসি দিলে ছেলেরা আগে দেখে অপ্রত্যাশিত কিছু দেখে ফেলেছে কিনা। না সুমনের সব ঠিকই আছে। তবুও মেয়েটা কেন হাসলো? সুমনকে খুব বিরক্ত দিলো।
পরদিন সুমন গরুর জন্য ঘাস কাটছে। পরনে সেই গামছা। তানিয়া সুমনের দিকে তাকাতেই সুমন চোখ বড়ো বড়ো করে তাকাতে লাগলো। তানিয়া একটু থতমত খেয়ে সোজা হাটতে লাগলো। আর মনে মনে বলতে লাগলো কি ছেলেরে বাবা।
এই ভাবে বেশ কিছু দিন কেটে যায়। সুমন তানিয়ার মাঝে কোনো কথা হয়না। তবে সুমন তানিয়ার প্রতি একটু নরম হলো। একটা মেয়েকে প্রতিদিন দেখে,একটু মায়া জন্মানো স্বাভাবিক। তবে সুমন এটাকে প্রেম বলে মানতে নারাজ।
আজ দুদিন হলো সুমন তানিয়াকে দেখেনা। তানিয়া প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করে দেয়। কেন দেয় সুমন জানেনা। তবে তার একটু জানার আগ্রহ হলো! কেন হলো সে জানেনা। এটাকে প্রেম বলে কি?
খবর পেলো তানিয়া আর পড়বে না। ইচ্ছা আছে কিন্ত উপায় নেই। বাবা মা জোড় করে বিয়ে দিচ্ছে। সুমনের ইচ্ছা হলো এই বিয়েটা বন্ধ করে মেয়েটাকে হাসতে খেলতে ও পড়তে দেখুক। আর এই ভাবে মুচকি হাসি দিয়ে সামনে যেতে দেখুক! হ্যাঁ উপলব্ধি হলো "এটা বোধহয় প্রেম"!
সুমন তানিয়ার বাড়ি যাবে। আজ অনেকদিন পর পেন্ট পড়লো। জামা গায়ে দিলো। নিজের দিকে তাকিয়ে সুমন মনে মনে হাসলো। আর ভাবলো আজ তানিয়া আমাকে দেখে চমকে যাবে। আর হেসে বলবে কি ব্যাপার আজ সুট বুট পড়ে একে বারে বাড়িতে হাজির। তবে সে কি কথা বলতে পারবে। তার তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আগামি পড়শু বিয়ে। আচ্ছা সুমন যদি গিয়ে বলে তানিয়ার বাবাকে আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই! না না তা হয়না,এটাতো সিনেমা নয়?
সুমন তানিয়ার বাড়ি! প্রচুর লোক তানিয়ার বাড়ি! বিয়ের দুদিন আগেই এতো লোক। বলতে হবে তানিয়ার বাবার বিরাট কারবার। তবে লোকজনের সমাগম তো অন্য কথা বলে। একটু সামনে গিয়ে দেখে তানিয়া উঠানে। তবে দাঁড়িয়ে নয় শুয়ে। জীবিত নয় মৃত।
হাতে একটা চীরকূট। লিখা আছে আমি বিয়ে করতে চাইনা বাবা। আমি একজন কে ভালোবাসতাম। তোমরা জোড় খাটালে বলেই আমি আর পারলাম না।
প্রিয় গাছমা বাবু! এবার তো শুট বুট পড়ুন। আমি আর হাসবো না।
সুমন ফিরে আসলো। সবার অজানা কে প্রিয় গামছা বাবু!
সুমন আজও গামছা পড়ে থাকে! তানিয়ার শেষ মুচকি হাসিটা দেখার অপেক্ষায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন