দর্পচূর্ণ

   ✍️ রেহানা বেগম হেনা

আমি যে দেখেছি -
অনেক বছর ধরে পশুরাজের দাপট-
সমস্ত অরণ্যজুড়ে ;
সব পশুপাখি ছিল ভীত সন্ত্রস্ত,
নিঃশ্বাস নিতে ভয় পেত সবাই
অরণ্যে পা ফেলতো নিঃশব্দে;
শুকনো পাতার মর্মর শব্দে যেন ঘুম না ভাঙ্গে পশুরাজের ।

কিন্তু আজ দেখলাম -
পশুরাজ মৃত, পড়ে আছে বনের এককোণে।
বীভৎস তার লাশ, দেখে আৎকে উঠলাম,
দেহটা পচে ফুলে ফেঁপে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে;
হাজারো লাল , কালো পিঁপড়ে
তার পচা দেহ জুড়ে ঘোরে বেড়াচ্ছে,
কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে তার দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ।

আজ সে বড়ো অসহায়
আজ আর নেই দৈহিক শক্তির দাপট,
নেই অহঙ্কার, হুঙ্কার, গর্জন, বাহুবল।
যা দিয়ে এতোদিন অরণ্যে সৃষ্টি করে রেখেছিল ত্রাস।

অরণ্য আজ বড়ো শান্ত, স্তব্ধ
সময় বদলেছে -
বনের পশুপাখিরা আজ নিরাপদে পথ চলছে,
খরগোশের ছানারা আজ লাফালাফি করছে
মনের আনন্দে।
সময় সবারই আসে
সময় পরিবর্তনশীল
দাপট , হুঙ্কার আজ ফুটপাতে ধুলোয় গড়াগড়ি খায়,
সুউচ্চ বৃক্ষের কচি পাতায় আজ
আলোর ঝলকানিতে আর বাতাসের দোলায় যেন তারই সঙ্গীত ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন