সে কি জীবন্ত পরি

-কেশব চন্দ্র দাস
আমি কি দেখছি সত্যি দিনে তারা,
ও পারল যে কুয়াশাতে লাল ফুল রয়ে দারা;
যেন সে স্বর্গ অপ্সরা।
ওরে মন হরি,
সে কি ওই স্বর্গ পরি।

আমি কি হয়েছি সত্যি মন মরা,
ও দেখল যে উঁকিযে পালাল ভয়ে আচমকা;
যেন সে জল অপ্সরা।
ওরে মন হরি,
সে কি ওই জল পরি।

আমি কি মরেছি সত্যি খুঁজে দিশাহারা,
ও ফিরল যে রাতে বলল মনের প্রেম কথা;
যেন সে স্বপ্ন অপ্সরা।
ওরে মন হরি,
সে কি ওই স্বপ্ন পরি।

আমি কি লেখছি সত্যি পাগলা কবিতা,
ও আঁকল যে রূপের অপূর্ব একটা কবিতা;
যেন সে জীবন্ত অপ্সরা।
ওরে মন হরি,
সে কি ওই জীবন্ত পরি।

সে কি জীবন্ত পরি

-কেশব চন্দ্র দাস
আমি কি দেখছি সত্যি দিনে তারা,
ও পারল যে কুয়াশাতে লাল ফুল রয়ে দারা;
যেন সে স্বর্গ অপ্সরা।
ওরে মন হরি,
সে কি ওই স্বর্গ পরি।

আমি কি হয়েছি সত্যি মন মরা,
ও দেখল যে উঁকিযে পালাল ভয়ে আচমকা;
যেন সে জল অপ্সরা।
ওরে মন হরি,
সে কি ওই জল পরি।

আমি কি মরেছি সত্যি খুঁজে দিশাহারা,
ও ফিরল যে রাতে বলল মনের প্রেম কথা;
যেন সে স্বপ্ন অপ্সরা।
ওরে মন হরি,
সে কি ওই স্বপ্ন পরি।

আমি কি লেখছি সত্যি পাগলা কবিতা,
ও আঁকল যে রূপের অপূর্ব একটা কবিতা;
যেন সে জীবন্ত অপ্সরা।
ওরে মন হরি,
সে কি ওই জীবন্ত পরি।

দেশ ভক্তি


                 -টিটন রায়

আমার এই জন্মভূমি
ভারত মহান।
এই দেশে জন্মেছি বলে
গর্বিত আমার প্রাণ।।
দেশের প্রতি করবো শ্রদ্ধা
দেশ হল আমার সন্মান।
দেশের জন্য শহীদ যারা
তাদের জনাই সন্মান।।
দেশ ভক্তিতে যারা করেছে
নিজেদের আত্মদান।
দেশের জন্য করবো দান
আমার এই ক্ষুদ্র প্রাণ।।
ভারত আমার জন্মভূমি
ভারত আমার মৃত্যু স্থান।
ভারতের প্রতি শ্রদ্ধা আমার
থাকবে চিরকাল।।

দেশ ভক্তি


                 -টিটন রায়

আমার এই জন্মভূমি
ভারত মহান।
এই দেশে জন্মেছি বলে
গর্বিত আমার প্রাণ।।
দেশের প্রতি করবো শ্রদ্ধা
দেশ হল আমার সন্মান।
দেশের জন্য শহীদ যারা
তাদের জনাই সন্মান।।
দেশ ভক্তিতে যারা করেছে
নিজেদের আত্মদান।
দেশের জন্য করবো দান
আমার এই ক্ষুদ্র প্রাণ।।
ভারত আমার জন্মভূমি
ভারত আমার মৃত্যু স্থান।
ভারতের প্রতি শ্রদ্ধা আমার
থাকবে চিরকাল।।

ভালো থাকিস অশোক-বকুল-চাঁপা


                        -সুমন দেবনাথ

তোকে ঠিক ঠাক ভাবেই রোপন করে দেবো অশোক ।
তুই আপন করে নিস পাশে থাকা বকুলকে ।
চাঁপা যখনই সুগন্ধ ছড়াতে সমীরণকে আহবান করবে ,
তোরা দুজনে মিলেই তার সুবাস ছড়িয়ে দিস জন মাঝারে ।
তোদের তিনজনকেই দিয়ে আসলাম দায়িত্ব ।
ভালো রাখিস সেই বিদ্যালয়ের পরিবেশ ।
তোরা থাকবি , দেখে রাখবি সেই সন্তানদের যাদের আমরা রেখে এসেছি তোদের ভরসায় ।
প্রয়োজনের সময় তোরা তাদের ছায়া দিস ,
অক্সিজেনের প্রয়োজনে দিবি অক্সিজেন ।
এখন থেকে স্যার-ম্যামরাই হলো তোদের জনক-জননী আর শিশুরা তোদের সন্তান ।
আমরা যাবো , তোদের দেখে আসবো ।
বিপদ আসন্ন বুঝলেই আমাকে অনুভবে ডাকিস ।
হয়তো একটু দেরি হবে , তবে তোদেরকে বাঁচাতে সকল আঘাত হ সইতে রাজি ।
তোরা ভালো থাকিস অশোক , বকুল , চাঁপা ।


কবি পরিচিতি- জন্ম ১৯৯৫ সালের ৮ই নভেম্বর ত্রিপুরার আগরতলায় (পূর্ব গান্ধীগ্রাম) এক দরিদ্র দেবনাথ পরিবারে। ছোট থেকে শুধু দুঃখ আর কষ্টকেই সঙ্গী করে বড়ো হয়েছে। সুখ কি জিনিস সেটা দেখার সৌভাগ্য হয়নি। ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখে একদিন Air hostage হবে। B.A . পাসের পর Entrance দিয়ে সেই সুযোগও অর্জন করে তবে টাকার অভাবে যোগদান করতে পারেনি। তারপর স্বপ্ন দেখে সংবাদ পাঠক হওয়ার। বাংলা বিষয়ে মাস্টার্স করার সময় অর্জন করে সেই সুযোগ। তারপর সুযোগ আসে মডেলিং-এ। একে একে অনেক গুলো মডেলিং করে বর্তমানে একজন সফল পেশাগত মডেল। একাধিক award এখন তার ঝুলিতে। তার পাশাপাশি নিজের গাওয়া গানের অ্যালবামও রয়েছে। বর্তমানে ত্রিপুরার সাহিত্য ম্যাগাজিন মনন স্রোতের মডেল এবং ত্রিপুরা রংবাজ ইউটিউব চ্যানেলের অভিনেতা। হলিক্রস বি . এড . কলেজের বর্তমানে তৃতীয় সেমেস্টারের ছাত্র। শখ রয়েছে কবিতা লেখা ও আঁকায় ।

ভালো থাকিস অশোক-বকুল-চাঁপা


                        -সুমন দেবনাথ

তোকে ঠিক ঠাক ভাবেই রোপন করে দেবো অশোক ।
তুই আপন করে নিস পাশে থাকা বকুলকে ।
চাঁপা যখনই সুগন্ধ ছড়াতে সমীরণকে আহবান করবে ,
তোরা দুজনে মিলেই তার সুবাস ছড়িয়ে দিস জন মাঝারে ।
তোদের তিনজনকেই দিয়ে আসলাম দায়িত্ব ।
ভালো রাখিস সেই বিদ্যালয়ের পরিবেশ ।
তোরা থাকবি , দেখে রাখবি সেই সন্তানদের যাদের আমরা রেখে এসেছি তোদের ভরসায় ।
প্রয়োজনের সময় তোরা তাদের ছায়া দিস ,
অক্সিজেনের প্রয়োজনে দিবি অক্সিজেন ।
এখন থেকে স্যার-ম্যামরাই হলো তোদের জনক-জননী আর শিশুরা তোদের সন্তান ।
আমরা যাবো , তোদের দেখে আসবো ।
বিপদ আসন্ন বুঝলেই আমাকে অনুভবে ডাকিস ।
হয়তো একটু দেরি হবে , তবে তোদেরকে বাঁচাতে সকল আঘাত হ সইতে রাজি ।
তোরা ভালো থাকিস অশোক , বকুল , চাঁপা ।


কবি পরিচিতি- জন্ম ১৯৯৫ সালের ৮ই নভেম্বর ত্রিপুরার আগরতলায় (পূর্ব গান্ধীগ্রাম) এক দরিদ্র দেবনাথ পরিবারে। ছোট থেকে শুধু দুঃখ আর কষ্টকেই সঙ্গী করে বড়ো হয়েছে। সুখ কি জিনিস সেটা দেখার সৌভাগ্য হয়নি। ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখে একদিন Air hostage হবে। B.A . পাসের পর Entrance দিয়ে সেই সুযোগও অর্জন করে তবে টাকার অভাবে যোগদান করতে পারেনি। তারপর স্বপ্ন দেখে সংবাদ পাঠক হওয়ার। বাংলা বিষয়ে মাস্টার্স করার সময় অর্জন করে সেই সুযোগ। তারপর সুযোগ আসে মডেলিং-এ। একে একে অনেক গুলো মডেলিং করে বর্তমানে একজন সফল পেশাগত মডেল। একাধিক award এখন তার ঝুলিতে। তার পাশাপাশি নিজের গাওয়া গানের অ্যালবামও রয়েছে। বর্তমানে ত্রিপুরার সাহিত্য ম্যাগাজিন মনন স্রোতের মডেল এবং ত্রিপুরা রংবাজ ইউটিউব চ্যানেলের অভিনেতা। হলিক্রস বি . এড . কলেজের বর্তমানে তৃতীয় সেমেস্টারের ছাত্র। শখ রয়েছে কবিতা লেখা ও আঁকায় ।

সনেট-২ (যখনি মোর মম তুলে বিরহের তরঙ্গ)


                         -গৌরাঙ্গ সরকার

যখনি মোর মম তুলে বিরহের তরঙ্গ,
তুমি যে সন্নিকটে এসে দাও ধরা ;
অপরুপা হয়ে হও মোর মম সঙ্গ।
দেখেছিনু তোমার সবুজ ভরা হৃদয়,
পেয়েছিনু তোমার করুণা ভরা স্পর্শ ;
হে প্রিয়! আরো কাছে টানো তোমার, এই মোর সবিনয়।

শত খোঁজে আশার আলো পায়নি যাহা,
তুমি এক অচেনা পথিক হয়ে;
তোমারে না চাইতেই শূন্য হৃদয়ে ঢেলে দিলে তাহা।
জীবন-যাত্রায় অনেক দেখেছি,অনেক পেয়েছি,
পায়নি কেবল রঙিন চোখ,পায়নি মনের তৃষ্ণা ;
আজ পেয়েছি সব, যাহা আমি খোঁজেছি।
হে প্রিয় নৈসর্গিক! যখনি হৃদয়েতে যাহারে চেয়েছি;
তাকে পায়না পায়,বারংবার তোমারেই যে পেয়েছি।।


কবি পরিচিতি- কবি গৌরাঙ্গ সরকার জন্ম গ্রহন করেন ২রা জুলাই ১৯৯৩ সালে পশ্চিম ত্রিপুরার সিধাই মোহনপুরের কালিকামুড়া নামক এক  গরীব গ্রামে। পিতা অমরচাঁন সরকার মাতা ভানুরানী সরকার। কবি অতন্ত্য গরীব কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ছোটবেলা তিনি খুব কষ্টে দিন যাপন করেন,এমনকি না খেয়েও থাকতে হয়েছে, ২০১৪ সালে তাঁর পিতা মারা যাওয়ায় কর্ম জীবন আরো কঠোর হয়ে যায়। কবি একাধারে প্রকৃতি প্রেমিক এবং নিরাকার ঈশ্বরের ভক্তি প্রিয়। কর্মজীবনে তিনি নানান কাজের সঙ্গে যুক্ত - একটি সামাজিক সংস্থার সম্পাদক হিসাবে কাজ করছে, একটি ম্যাগাজিনে সম্পাদনা করছেন। তাছাড়া বেসরকারী স্কুল এবং গৃহ শিক্ষকতা উনার কর্ম। কবি কর্ম জীবনের পাশাপাশি নানান লেখার সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি মোট কবিতা লেখেন ১০৩ টি এবং গল্প লেখেন ১টি, প্রবন্ধ ১টি "শিশুর মানসিক ভারসাম্য" (অসম্পূর্ণ) একটি কাব্যগ্রন্থ "কবিতার ফুলে সাজাই রূপসী ত্রিপুরা"(অসম্পূর্ণ)
উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছে - 'মা',  গুরুদেবের প্রতি',  'স্মৃতির কথোপকথন',  'তোমার চাওয়া',  'যা পাখি উড়ে যা',  'বন্ধু',  'হৃদয়ের তৃষ্ণা',  'শৈশব',  'শান্তির বাণী',  'মনের ক্ষুধা',  'কবিতার ডাকঘর',  'শেষ স্মৃতি'।
তাছাড়া বাংলা সনেট ৩টি এবং ইংরেজি সনেট ৪টি রচনা করেন। তিনি সমাজ সংস্কারক হিসাবে কাজ করতে চান,তাই তিনি নিজেকে সমাজের কাজে উৎসর্গ করেন।

সনেট-২ (যখনি মোর মম তুলে বিরহের তরঙ্গ)


                         -গৌরাঙ্গ সরকার

যখনি মোর মম তুলে বিরহের তরঙ্গ,
তুমি যে সন্নিকটে এসে দাও ধরা ;
অপরুপা হয়ে হও মোর মম সঙ্গ।
দেখেছিনু তোমার সবুজ ভরা হৃদয়,
পেয়েছিনু তোমার করুণা ভরা স্পর্শ ;
হে প্রিয়! আরো কাছে টানো তোমার, এই মোর সবিনয়।

শত খোঁজে আশার আলো পায়নি যাহা,
তুমি এক অচেনা পথিক হয়ে;
তোমারে না চাইতেই শূন্য হৃদয়ে ঢেলে দিলে তাহা।
জীবন-যাত্রায় অনেক দেখেছি,অনেক পেয়েছি,
পায়নি কেবল রঙিন চোখ,পায়নি মনের তৃষ্ণা ;
আজ পেয়েছি সব, যাহা আমি খোঁজেছি।
হে প্রিয় নৈসর্গিক! যখনি হৃদয়েতে যাহারে চেয়েছি;
তাকে পায়না পায়,বারংবার তোমারেই যে পেয়েছি।।


কবি পরিচিতি- কবি গৌরাঙ্গ সরকার জন্ম গ্রহন করেন ২রা জুলাই ১৯৯৩ সালে পশ্চিম ত্রিপুরার সিধাই মোহনপুরের কালিকামুড়া নামক এক  গরীব গ্রামে। পিতা অমরচাঁন সরকার মাতা ভানুরানী সরকার। কবি অতন্ত্য গরীব কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ছোটবেলা তিনি খুব কষ্টে দিন যাপন করেন,এমনকি না খেয়েও থাকতে হয়েছে, ২০১৪ সালে তাঁর পিতা মারা যাওয়ায় কর্ম জীবন আরো কঠোর হয়ে যায়। কবি একাধারে প্রকৃতি প্রেমিক এবং নিরাকার ঈশ্বরের ভক্তি প্রিয়। কর্মজীবনে তিনি নানান কাজের সঙ্গে যুক্ত - একটি সামাজিক সংস্থার সম্পাদক হিসাবে কাজ করছে, একটি ম্যাগাজিনে সম্পাদনা করছেন। তাছাড়া বেসরকারী স্কুল এবং গৃহ শিক্ষকতা উনার কর্ম। কবি কর্ম জীবনের পাশাপাশি নানান লেখার সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি মোট কবিতা লেখেন ১০৩ টি এবং গল্প লেখেন ১টি, প্রবন্ধ ১টি "শিশুর মানসিক ভারসাম্য" (অসম্পূর্ণ) একটি কাব্যগ্রন্থ "কবিতার ফুলে সাজাই রূপসী ত্রিপুরা"(অসম্পূর্ণ)
উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছে - 'মা',  গুরুদেবের প্রতি',  'স্মৃতির কথোপকথন',  'তোমার চাওয়া',  'যা পাখি উড়ে যা',  'বন্ধু',  'হৃদয়ের তৃষ্ণা',  'শৈশব',  'শান্তির বাণী',  'মনের ক্ষুধা',  'কবিতার ডাকঘর',  'শেষ স্মৃতি'।
তাছাড়া বাংলা সনেট ৩টি এবং ইংরেজি সনেট ৪টি রচনা করেন। তিনি সমাজ সংস্কারক হিসাবে কাজ করতে চান,তাই তিনি নিজেকে সমাজের কাজে উৎসর্গ করেন।

স্বপ্ন বিলাসী


           —সংগীতা শীল

রঙিন স্বপ্নেভরা মধ্য রজনীতে
ক্ষনিকের প্রতিবন্ধকতা ভুলে গিয়ে
মেঘলা দিনের বৃষ্টিতে,
প্রকৃতিকে সাক্ষী রেখে
হারিয়ে যাবো কোনো এক শেষ বিকেলে।

তোমার মাথায় সাজানো বুনোফুল
নূপুর আর চুরিতে রুমঝুম শব্দতাল
সারাদিন মিষ্টি সুরের গুনগুন;
এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর মাঝে তোমাতেই মতিভ্রম হয় বারবার।

জোছনার রাতে থমকে দাঁড়াই,
স্বপ্নে আঁকা সৌন্দর্যের মাঝে
তোমার সবুজ অপরূপ সাজে;
কোমল স্পর্শে আমার স্পন্দিত হৃদয়!

তুমি মায়াজালে মাতোয়ারা করো
ইচ্ছে করে উদাসী হয়ে পথের প্রান্তরে ঘুরে বেড়াই
কখনো সুরের বন্যায় হারিয়ে গিয়ে
প্রজাপতি হয়ে প্রকৃতিতে গাঁ ভাসিয়ে দিই।

কবি পরিচিতি - জন্ম ২০০১সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারী, সাব্রুম দঃ জেলার জলেফা নামক গ্রামে। পেশায় বি.বি.এম কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ছোটোবেলা থেকেই কৌতুকের ছন্দে ছড়া বানাতেন। ধীরে ধীরে কবিতার প্রতি গভীর মনোনিবেশ ঘটলো। শুরু হয় ২০১৮সাল থেকে লেখালেখি। তারপর ফেসবুকে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকরা। ১৬-১২-২০১৮ সালে প্রথমে মননস্রোত সাহিত্য পত্রিকায় 'বিধাতা' কবিতাটি স্থান লাভ করে। তারপর হুমায়ুন এডিটোরিয়াল [কবিতা বিভাগ], নবোন্মেষ পুঃ ম্যাগাজিন, সৃজনী সাহিত্য সংস্থায় কবিতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি চান এইভাবে সাহিত্য জগতে নিজেকে অর্পিত করতে।

স্বপ্ন বিলাসী


           —সংগীতা শীল

রঙিন স্বপ্নেভরা মধ্য রজনীতে
ক্ষনিকের প্রতিবন্ধকতা ভুলে গিয়ে
মেঘলা দিনের বৃষ্টিতে,
প্রকৃতিকে সাক্ষী রেখে
হারিয়ে যাবো কোনো এক শেষ বিকেলে।

তোমার মাথায় সাজানো বুনোফুল
নূপুর আর চুরিতে রুমঝুম শব্দতাল
সারাদিন মিষ্টি সুরের গুনগুন;
এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর মাঝে তোমাতেই মতিভ্রম হয় বারবার।

জোছনার রাতে থমকে দাঁড়াই,
স্বপ্নে আঁকা সৌন্দর্যের মাঝে
তোমার সবুজ অপরূপ সাজে;
কোমল স্পর্শে আমার স্পন্দিত হৃদয়!

তুমি মায়াজালে মাতোয়ারা করো
ইচ্ছে করে উদাসী হয়ে পথের প্রান্তরে ঘুরে বেড়াই
কখনো সুরের বন্যায় হারিয়ে গিয়ে
প্রজাপতি হয়ে প্রকৃতিতে গাঁ ভাসিয়ে দিই।

কবি পরিচিতি - জন্ম ২০০১সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারী, সাব্রুম দঃ জেলার জলেফা নামক গ্রামে। পেশায় বি.বি.এম কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ছোটোবেলা থেকেই কৌতুকের ছন্দে ছড়া বানাতেন। ধীরে ধীরে কবিতার প্রতি গভীর মনোনিবেশ ঘটলো। শুরু হয় ২০১৮সাল থেকে লেখালেখি। তারপর ফেসবুকে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকরা। ১৬-১২-২০১৮ সালে প্রথমে মননস্রোত সাহিত্য পত্রিকায় 'বিধাতা' কবিতাটি স্থান লাভ করে। তারপর হুমায়ুন এডিটোরিয়াল [কবিতা বিভাগ], নবোন্মেষ পুঃ ম্যাগাজিন, সৃজনী সাহিত্য সংস্থায় কবিতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি চান এইভাবে সাহিত্য জগতে নিজেকে অর্পিত করতে।

আমার বসন্তের নির্বাসন

-সজীব পাল
বিশেষ কৃতজ্ঞ:সুজন দেববর্মা (পরিবারের তথ্য)


চন্দ্রা দেববর্মা সবেমাত্র বসন্তের শান্ত হাওয়ার আমেজে নিজেকে দেখতে পায়।সে তখন ঊনিশের এক তরুণী ।সে কি জানতো এমন একটা যৌবন জোয়ারের বাতাসের সাথে মিশে যাবে করুণ দিনগুলি ?চন্দ্রার বাবা তমল দেববর্মা দারুণ দীনতার সাথে সংসার চালায়।চন্দ্রার মা বছর চারেক আগে বিষধর বৃশ্চিকদংশনে মর্মবেদনা নিয়ে বীনা চিকিৎসায় প্রাণ হারায়।বাবার হাত ধরেই বেড়ে ওঠা মা মরা মেয়েটা আজ কত বড়ো ।

তমল দেববর্মা ভালো একটা সম্বন্ধ পেয়ে গতবছর চন্দ্রাকে কালিপুর বিয়ে দিয়ে দেয়।ছেলে নামকরা শিক্ষক ছিল,তবে রাজনৈতিক করার কারণে হঠাৎ দলগত পরিবর্তন কারণে রাতে অন্ধকারে বিরোধীদের লাঠির আঘাতে দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে বিদায় নিতে হয় পৃথিবী থেকে। ভগবানের কি নির্মম চিত্র !চন্দ্রা হতভাগি ছোটবেলা মা, বিয়ের পর স্বামী হারিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
এইদিকে চন্দ্রা আটমাসের অন্তঃসত্ত্বা,বাবা আগের মতো কাজ করতে পারে না।পরপর দুইটা ধাক্কায় সেও যেন কেমন মরি মরি অবস্থা ।তবুও মেয়ের দিকে চেয়ে বেঁচে আছে আজও ।

চন্দ্রার গর্ভের সন্তান নিয়ে পাড়াগায়ের লোক কটুকথা রটাচ্ছে।কেউ কেউ বলে এই সন্তান চন্দ্রা অন্য পরপুরুষের সাথে রাত কাটিয়ে সাধন করছে।এই সমাজের নারীরা আরেকটা নারীর বেদনা বুঝতে নারাজ।তারা যেন মানুষ নয় ! কেমন ঈশ্বরের মতো আরেকটা নারীর ভাগ্যে দুঃখ লেখে দেয়।চন্দ্রার যেন এই সমাজ জঘন্য লাগে।

নলুয়া গ্রাম থেকে প্রায় মাইল দুয়েক দূরে তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ উপজাতি পরিবার বসবাস করে ।আশির দশকের আগে থেকে।এই স্বল্প বিস্তীর্ন এলাকার একটা নিজস্ব নাম আছে,' নিদয়া'।তারা এতকাল বসতি করেও নিজের অর্থনীতির তেমন জাঁকজমক পরিবর্তন আনতে পারেনি।কোনো মতে নুন এবং পান্তা ভাতে দিন চলে।তারা আজও ঘরের ছাউনি শণের দিয়ে থাকে । তবে তাদের মধ্যে অর্থ কষ্ট থাকলেও অনেক পরিবার শিক্ষা সংস্কৃতি দিক থেকে যথেষ্ট সচেতন।এই গ্রামের অনেক ছেলে মেয়ে নলুয়া স্কুলে পড়ালেখা করে ; চন্দ্রাও সেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন ছিল।তমল দেববর্মা এই গ্রামেই।তার ভিটে মাটি ছাড়া জমি আছে চারবিঘের মতো।বিভিন্ন মরশুমে নানা ফসল চাষ করে সংসার চালায় হতদরিদ্র তমল দেববর্মা ।এইদিকে মেয়ের বিয়ের সময় দেড় বিঘার জমি মতো বিক্রি করতে হয়েছে।বিয়ের পর তো সেই মেয়েকে নিজেই চালাতে হচ্ছে ।যদিও তমল দেববর্মার এই নিয়ে বিন্দুমাত্র খেদ নেই।তার ভাবনা "কপালে যদি লেখা থাকে এই পরিনতির ,খণ্ডাবে কে!"

চন্দ্রা শুয়ে আছে,পড়নে রিষা বা পাছড়া(উপজাতি মহিলারা পরিধানের একপ্রকার বস্ত্র) ।তার শরীর ভীষন ক্লান্ত ।সকালে দুই বার বমি করেছে।পেটে একটাও অন্নদানা পড়েনি।তমল সেই ভোরে রান্নার কিছু ছিল না তাই শামুক খুঁজতে বের হয়েছে ; এখনো ফিরেনি।চন্দ্রা ওঠে বসতে পারছে না। আর , উঠলেই মাথা চক্কর দিয়ে চোখ অন্ধকার হয়ে আসে।সে ঢের টের পাচ্ছে তার শরীর আর মন কোনোটাই সঙ্গ দিচ্ছে না ।এমন কাউকে দেখতেও পাচ্ছে না যাকে বলবে মাথায় একটু জল ঢেলে দিতে।পেটে একটু একটু ব্যথা অনুভব করছে।
এর মধ্যে বাইরে থেকে শব্দ এলো,"মা চন্দ্র কৈ গেলিরে ? একটু জল দে-না মা, ভীষন তেষ্টা পেয়েছে ।"
চন্দ্রা হতভাগি বাবার কথা শুনতে পায় কিন্তু সাড়া দিতে পারছে না ।তার বাক্ স্বাধীনতাও যেন ক্লান্তি হরণ করে নিয়েছে।
তমল দেববর্মা কোনো উত্তর না পেয়ে ঘরে ঢুকে।গিয়েই কপালে চোখ উঠে গেছে। চন্দ্রা শুয়ে আছে হাত পা ছেড়ে । চন্দ্রাকে ধরেই বলল,'মা'রে কি হয়েছে কথা বল!
" বাবা একটু জল দাও"
'দিচ্ছি মা '- তমল মেয়ের মুখে জল ঢেলে দিলো আলতো করে।
' বাবা কথা বলতে পারছি না।শরীর বিবশ হয়ে আসছে।'
'কি হয়েছে বল মা ।কেন বিবশ হয়ে আসছে? '
তমল দেববর্মা ভয় পাচ্ছে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে কোনো কিছু খেয়ে ফেলেনিতো ! মেয়েটা এই বয়সে যা কষ্ট পেয়েছে এইরকম কাজ করা তার পক্ষে অসম্ভব কিছু না।
'জানি না বাবা , সকালে বমি.......'
কথা শেষ না করতেই তমল বলল ,থাক আর বলতে হবে না '।
চন্দ্রার বাবা তমল দেববর্মা পাশের ঘরের কাকাতো ভাই বঙ্কুশ দেববর্মাকে খুঁজতে গেলেন।মেয়েকে ডাক্তার থাক পরে ,আগে অন্ততপক্ষে নলুয়া বাজারের আনাড়ি ডাক্তারের থেকে ওষুধ এনে খাওয়াতে হবে।কিন্তু ওষুধ আনবার একটা কানাকড়িও নেই ঘরে।তাই বঙ্কুশের থেকে একশো টাকা ধার করতে হবে।না জানি মেয়েটা কত কষ্ট পাচ্ছে ।বাবার অর্থ কষ্ট দেখে ব্যথার কথা বলছে না।
তমল বঙ্কুশকে ঘরে পেলো না।তাকে না পেয়ে অসহায় পিতা ছোট ভাইয়ের বউয়ের কাছে হাত পাততে একটুও দ্বিধাবোধ করলো না ।যে পরিস্থিতিতে তমল দাড়িয়ে আছে এখন সম্মানের চিন্তা করলে হবে না । একজন বাবার কাছে সম্মানের চেয়ে বড়ো হলো সন্তানের প্রতি দায়িত্ব ।
তমল বঙ্কুশের স্ত্রীকে বলল,' নয়নতারা একটা সাহায্য করবে আমাকে বোন?

'কি সাহায্য দাদা ?'- বঙ্কুশের স্ত্রী বলল।

'আমার মেয়েটা বিছানা থেকে উঠতে পারছে না ।তাকে যদি এক্ষুনি ডাক্তারের কাছে না নিই তাহলে বড়ো একটা কিছু হয়ে যাবে।দাও না বোন একশোটা টাকা ধার! বিকালে রক্ত বেঁচে হলেও শোধ করে দেবো।'- তমল দেববর্মা জল জল চোখে বলল।

বঙ্কুশের স্ত্রী কিছু বলার আগেই পেছন থেকে তমলের বৃদ্ধা কাকি বলে উঠলো," খবর্দার একটা টাকাও ছোঁয়াবি না বউ।নইলে তোর একদিন কি আমার একদিন । মরোক ওই রাক্ষসী! জন্মের পরে মা , বিয়ের পর স্বামীকে খেলো।ধীরে ধীরে সবাইকে খাবে এই রাক্ষসী ।"
'আস্তে বলুন কাকিমা ।মেয়েটা শুনলে কষ্ট পাবে।ভীষন অসুস্থ সে।'

'কেন আস্তে বলবো কেন? মরোক ওই ডাইনি।গর্ভে নাকি আবার সন্তান ।ওই পাপের কারণেই এখন যন্ত্রণায় ছটফট করছে ।'

তমল দ্রুত পদচারণা করে বের হয়ে গেল।সে স্থির করলো ওষুধ দোকানির কাছে ভিক্ষা চাইবে।তার আগে মেয়েটাকে আরেকবার দেখে নিই কি করছে।এইদিকে তার ক্ষুধার তীব্র জ্বালা ।
ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে মুখে ভেসে উঠলো তমলের কালবৈশাখীর হাসি।এই হাসি কতটা শোকের ছায়া নেমে আসলে ফুটে ওঠে মুখে তা একমাত্র বাবাই জানে।যে মেয়ে এতক্ষণ বসতে শক্তি নেই ,এখন দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে।
চন্দ্রা গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছে।যেখানে এতক্ষণ শুয়েছিল সেখানে পরে আছে কাগজ কলম।সে কাগজটা হাতে নিয়ে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেছে ।পাশের ঘর থেকে সবাই আসে।বঙ্কুশের স্ত্রী তমলের হাত থেকে কাগজটা নিয়ে পড়ে ।তাদের ভাষায় লেখা আছে,
'বাবা আমার জন্য তোমাকে আর বারে বারে চোখের জল আর মানুষের কথা শুনতে হবে না।আমি চলে যাচ্ছি মায়ের কাছে ।আমাকে ধরে ইচ্ছে মতো কাঁদো ,যতক্ষন না তোমার চোখের নদী শোকে শুকায় ।' ইতি তোমার আদরের চন্দ্র 

লেখক পরিচিত - লেখক সজিব পাল জন্ম 2000সালের 20 জানুয়ারি বাঁশ পুকুর নামে একটি ছোটগ্রামে। ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যবই কবিতা গল্প থেকে লেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ।পরে কালক্রমে ধীরে ধীরে ফেসবুকের মাধ্যমে লেখার বহিঃপ্রকাশ  ।"মনন স্রোত " ম্যাগাজিনে প্রথম কবিতা "দীর্ঘপ্রতিক্ষা" তারপর সময়ে আরো প্রকাশ হয়।তার সাথে 'নবোণ্মেষ ' প্রথম গল্প "আধার সময় ",'।সৃষ্টি' (নলুয়া) এবং 'আগন্তুক  "(পশ্চিমবঙ্গ) ইত্যাদি ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখক হিসেবে যুক্ত ।কবিতার চেয়ে গল্পের প্রতি বেশি অনুরাগ ছিলেন উনার। তাঁর জীবনের সবটা জুড়ে গল্পের আওতা।

আমার বসন্তের নির্বাসন

-সজীব পাল
বিশেষ কৃতজ্ঞ:সুজন দেববর্মা (পরিবারের তথ্য)


চন্দ্রা দেববর্মা সবেমাত্র বসন্তের শান্ত হাওয়ার আমেজে নিজেকে দেখতে পায়।সে তখন ঊনিশের এক তরুণী ।সে কি জানতো এমন একটা যৌবন জোয়ারের বাতাসের সাথে মিশে যাবে করুণ দিনগুলি ?চন্দ্রার বাবা তমল দেববর্মা দারুণ দীনতার সাথে সংসার চালায়।চন্দ্রার মা বছর চারেক আগে বিষধর বৃশ্চিকদংশনে মর্মবেদনা নিয়ে বীনা চিকিৎসায় প্রাণ হারায়।বাবার হাত ধরেই বেড়ে ওঠা মা মরা মেয়েটা আজ কত বড়ো ।

তমল দেববর্মা ভালো একটা সম্বন্ধ পেয়ে গতবছর চন্দ্রাকে কালিপুর বিয়ে দিয়ে দেয়।ছেলে নামকরা শিক্ষক ছিল,তবে রাজনৈতিক করার কারণে হঠাৎ দলগত পরিবর্তন কারণে রাতে অন্ধকারে বিরোধীদের লাঠির আঘাতে দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে বিদায় নিতে হয় পৃথিবী থেকে। ভগবানের কি নির্মম চিত্র !চন্দ্রা হতভাগি ছোটবেলা মা, বিয়ের পর স্বামী হারিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
এইদিকে চন্দ্রা আটমাসের অন্তঃসত্ত্বা,বাবা আগের মতো কাজ করতে পারে না।পরপর দুইটা ধাক্কায় সেও যেন কেমন মরি মরি অবস্থা ।তবুও মেয়ের দিকে চেয়ে বেঁচে আছে আজও ।

চন্দ্রার গর্ভের সন্তান নিয়ে পাড়াগায়ের লোক কটুকথা রটাচ্ছে।কেউ কেউ বলে এই সন্তান চন্দ্রা অন্য পরপুরুষের সাথে রাত কাটিয়ে সাধন করছে।এই সমাজের নারীরা আরেকটা নারীর বেদনা বুঝতে নারাজ।তারা যেন মানুষ নয় ! কেমন ঈশ্বরের মতো আরেকটা নারীর ভাগ্যে দুঃখ লেখে দেয়।চন্দ্রার যেন এই সমাজ জঘন্য লাগে।

নলুয়া গ্রাম থেকে প্রায় মাইল দুয়েক দূরে তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ উপজাতি পরিবার বসবাস করে ।আশির দশকের আগে থেকে।এই স্বল্প বিস্তীর্ন এলাকার একটা নিজস্ব নাম আছে,' নিদয়া'।তারা এতকাল বসতি করেও নিজের অর্থনীতির তেমন জাঁকজমক পরিবর্তন আনতে পারেনি।কোনো মতে নুন এবং পান্তা ভাতে দিন চলে।তারা আজও ঘরের ছাউনি শণের দিয়ে থাকে । তবে তাদের মধ্যে অর্থ কষ্ট থাকলেও অনেক পরিবার শিক্ষা সংস্কৃতি দিক থেকে যথেষ্ট সচেতন।এই গ্রামের অনেক ছেলে মেয়ে নলুয়া স্কুলে পড়ালেখা করে ; চন্দ্রাও সেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন ছিল।তমল দেববর্মা এই গ্রামেই।তার ভিটে মাটি ছাড়া জমি আছে চারবিঘের মতো।বিভিন্ন মরশুমে নানা ফসল চাষ করে সংসার চালায় হতদরিদ্র তমল দেববর্মা ।এইদিকে মেয়ের বিয়ের সময় দেড় বিঘার জমি মতো বিক্রি করতে হয়েছে।বিয়ের পর তো সেই মেয়েকে নিজেই চালাতে হচ্ছে ।যদিও তমল দেববর্মার এই নিয়ে বিন্দুমাত্র খেদ নেই।তার ভাবনা "কপালে যদি লেখা থাকে এই পরিনতির ,খণ্ডাবে কে!"

চন্দ্রা শুয়ে আছে,পড়নে রিষা বা পাছড়া(উপজাতি মহিলারা পরিধানের একপ্রকার বস্ত্র) ।তার শরীর ভীষন ক্লান্ত ।সকালে দুই বার বমি করেছে।পেটে একটাও অন্নদানা পড়েনি।তমল সেই ভোরে রান্নার কিছু ছিল না তাই শামুক খুঁজতে বের হয়েছে ; এখনো ফিরেনি।চন্দ্রা ওঠে বসতে পারছে না। আর , উঠলেই মাথা চক্কর দিয়ে চোখ অন্ধকার হয়ে আসে।সে ঢের টের পাচ্ছে তার শরীর আর মন কোনোটাই সঙ্গ দিচ্ছে না ।এমন কাউকে দেখতেও পাচ্ছে না যাকে বলবে মাথায় একটু জল ঢেলে দিতে।পেটে একটু একটু ব্যথা অনুভব করছে।
এর মধ্যে বাইরে থেকে শব্দ এলো,"মা চন্দ্র কৈ গেলিরে ? একটু জল দে-না মা, ভীষন তেষ্টা পেয়েছে ।"
চন্দ্রা হতভাগি বাবার কথা শুনতে পায় কিন্তু সাড়া দিতে পারছে না ।তার বাক্ স্বাধীনতাও যেন ক্লান্তি হরণ করে নিয়েছে।
তমল দেববর্মা কোনো উত্তর না পেয়ে ঘরে ঢুকে।গিয়েই কপালে চোখ উঠে গেছে। চন্দ্রা শুয়ে আছে হাত পা ছেড়ে । চন্দ্রাকে ধরেই বলল,'মা'রে কি হয়েছে কথা বল!
" বাবা একটু জল দাও"
'দিচ্ছি মা '- তমল মেয়ের মুখে জল ঢেলে দিলো আলতো করে।
' বাবা কথা বলতে পারছি না।শরীর বিবশ হয়ে আসছে।'
'কি হয়েছে বল মা ।কেন বিবশ হয়ে আসছে? '
তমল দেববর্মা ভয় পাচ্ছে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে কোনো কিছু খেয়ে ফেলেনিতো ! মেয়েটা এই বয়সে যা কষ্ট পেয়েছে এইরকম কাজ করা তার পক্ষে অসম্ভব কিছু না।
'জানি না বাবা , সকালে বমি.......'
কথা শেষ না করতেই তমল বলল ,থাক আর বলতে হবে না '।
চন্দ্রার বাবা তমল দেববর্মা পাশের ঘরের কাকাতো ভাই বঙ্কুশ দেববর্মাকে খুঁজতে গেলেন।মেয়েকে ডাক্তার থাক পরে ,আগে অন্ততপক্ষে নলুয়া বাজারের আনাড়ি ডাক্তারের থেকে ওষুধ এনে খাওয়াতে হবে।কিন্তু ওষুধ আনবার একটা কানাকড়িও নেই ঘরে।তাই বঙ্কুশের থেকে একশো টাকা ধার করতে হবে।না জানি মেয়েটা কত কষ্ট পাচ্ছে ।বাবার অর্থ কষ্ট দেখে ব্যথার কথা বলছে না।
তমল বঙ্কুশকে ঘরে পেলো না।তাকে না পেয়ে অসহায় পিতা ছোট ভাইয়ের বউয়ের কাছে হাত পাততে একটুও দ্বিধাবোধ করলো না ।যে পরিস্থিতিতে তমল দাড়িয়ে আছে এখন সম্মানের চিন্তা করলে হবে না । একজন বাবার কাছে সম্মানের চেয়ে বড়ো হলো সন্তানের প্রতি দায়িত্ব ।
তমল বঙ্কুশের স্ত্রীকে বলল,' নয়নতারা একটা সাহায্য করবে আমাকে বোন?

'কি সাহায্য দাদা ?'- বঙ্কুশের স্ত্রী বলল।

'আমার মেয়েটা বিছানা থেকে উঠতে পারছে না ।তাকে যদি এক্ষুনি ডাক্তারের কাছে না নিই তাহলে বড়ো একটা কিছু হয়ে যাবে।দাও না বোন একশোটা টাকা ধার! বিকালে রক্ত বেঁচে হলেও শোধ করে দেবো।'- তমল দেববর্মা জল জল চোখে বলল।

বঙ্কুশের স্ত্রী কিছু বলার আগেই পেছন থেকে তমলের বৃদ্ধা কাকি বলে উঠলো," খবর্দার একটা টাকাও ছোঁয়াবি না বউ।নইলে তোর একদিন কি আমার একদিন । মরোক ওই রাক্ষসী! জন্মের পরে মা , বিয়ের পর স্বামীকে খেলো।ধীরে ধীরে সবাইকে খাবে এই রাক্ষসী ।"
'আস্তে বলুন কাকিমা ।মেয়েটা শুনলে কষ্ট পাবে।ভীষন অসুস্থ সে।'

'কেন আস্তে বলবো কেন? মরোক ওই ডাইনি।গর্ভে নাকি আবার সন্তান ।ওই পাপের কারণেই এখন যন্ত্রণায় ছটফট করছে ।'

তমল দ্রুত পদচারণা করে বের হয়ে গেল।সে স্থির করলো ওষুধ দোকানির কাছে ভিক্ষা চাইবে।তার আগে মেয়েটাকে আরেকবার দেখে নিই কি করছে।এইদিকে তার ক্ষুধার তীব্র জ্বালা ।
ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে মুখে ভেসে উঠলো তমলের কালবৈশাখীর হাসি।এই হাসি কতটা শোকের ছায়া নেমে আসলে ফুটে ওঠে মুখে তা একমাত্র বাবাই জানে।যে মেয়ে এতক্ষণ বসতে শক্তি নেই ,এখন দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে।
চন্দ্রা গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছে।যেখানে এতক্ষণ শুয়েছিল সেখানে পরে আছে কাগজ কলম।সে কাগজটা হাতে নিয়ে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেছে ।পাশের ঘর থেকে সবাই আসে।বঙ্কুশের স্ত্রী তমলের হাত থেকে কাগজটা নিয়ে পড়ে ।তাদের ভাষায় লেখা আছে,
'বাবা আমার জন্য তোমাকে আর বারে বারে চোখের জল আর মানুষের কথা শুনতে হবে না।আমি চলে যাচ্ছি মায়ের কাছে ।আমাকে ধরে ইচ্ছে মতো কাঁদো ,যতক্ষন না তোমার চোখের নদী শোকে শুকায় ।' ইতি তোমার আদরের চন্দ্র 

লেখক পরিচিত - লেখক সজিব পাল জন্ম 2000সালের 20 জানুয়ারি বাঁশ পুকুর নামে একটি ছোটগ্রামে। ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যবই কবিতা গল্প থেকে লেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ।পরে কালক্রমে ধীরে ধীরে ফেসবুকের মাধ্যমে লেখার বহিঃপ্রকাশ  ।"মনন স্রোত " ম্যাগাজিনে প্রথম কবিতা "দীর্ঘপ্রতিক্ষা" তারপর সময়ে আরো প্রকাশ হয়।তার সাথে 'নবোণ্মেষ ' প্রথম গল্প "আধার সময় ",'।সৃষ্টি' (নলুয়া) এবং 'আগন্তুক  "(পশ্চিমবঙ্গ) ইত্যাদি ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখক হিসেবে যুক্ত ।কবিতার চেয়ে গল্পের প্রতি বেশি অনুরাগ ছিলেন উনার। তাঁর জীবনের সবটা জুড়ে গল্পের আওতা।

মরতাম আমি সেই কবেই


-উজ্জ্বল ভট্টাচার্য
তোকে না পেয়ে মরতাম আমি সেই কবেই,
তবে জানিস?মা-টার j¤­Ml  দিকে তাকাইনা!
মনে পড়ে নিঃস্বার্থ স্নেহ,মায়া-মমতার কথা।
মনে পড়ে নিজে না খেয়ে আমায় খাওয়ানোর কথা,
নিজে ভালো না থেকেও আমায় ভালো রাখার কথা।
তখন আর এগোনোটা ঠিক হয়ে ওঠেনা,
বাঁচার তাগিদটা আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
একতরফার স্বাদটা আমায় রোজ মেরে ফেলে ,রোজই বাঁচায়,
আমি আছি দেখতে স্বাধীন অদৃশ্য বিরহের শুচালো খাঁচায়।
আর মরলেই কি প্রেম অমর হবে?প্রমাণ হবে কতটা ভালোবাসি?
আমি নাহয় ভাবনায় তোকে মেখে,হাসি মুখে থাকি বেঁচে।

কবি পরিচিতি – কবি উজ্জ্বল ভট্টাচার্য জন্ম ১৯৯৯ সালের ২৩ শে ডিসেম্বর,শান্তির বাজার দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার অন্তর্গত পূর্ব রাধাকিশোর গঞ্জ নামক গ্রামে।পেশায় শান্তির বাজার সরকারি মহাবিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।ছোটবেলা থেকেই তিনি কবিতার ভাব রাজ্যে বিরাজ করতেন।এক দূরন্ত টান ছিল কবিতার প্রতি।সপ্তম শ্রেণীতে তার প্রথম কবিত্বের হাতে খড়ি হয়।লিখে ফেলেন 'সবুজ পৃথিবী,নামক একটা কবিতা,যদিও তা অপ্রকাশিত।এইভাবে চলছিল তুক-তুক কবিতা নিয়ে প্রেম।তবে কবি হিসেবে সাহিত্য দুনিয়ায় আত্মপ্রকাশের মাধ্যম ছিল না। ২০১৮ সালে যখন কলেজে পা রাখলেন তখন পরিচয় হয় সহৃদয়বান ব্যাক্তিত্বের অধিকারী অতিথি অধ্যাপক শ্রীযুক্ত স্নেহাশীষ রায়ের সঙ্গে।ওনার সহযোগীয়তায় ত্রিপুরার সাহিত্যগোষ্ঠী নবোন্মেষ ও মননস্রতের সাথে পরিচিতি ঘটে। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে মননস্রোতে প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়'আমরা দুটি ভাই।আর ১লা সেপ্টম্বর 'রক্ত ঝরাবো,নামক একটি কবিতা নবোন্মেষ সাহিত্য গোষ্ঠীতে প্রকাশিত হয়।এছাড়াও ফেসবুকের বিভিন্ন সাহিত্য গোষ্ঠীর মধ্যে অনেক কবিতা প্রকাশিত হয় বিভিন্ন সাহিত্য সাথীদের হাত ধরে।

মরতাম আমি সেই কবেই


-উজ্জ্বল ভট্টাচার্য
তোকে না পেয়ে মরতাম আমি সেই কবেই,
তবে জানিস?মা-টার j¤­Ml  দিকে তাকাইনা!
মনে পড়ে নিঃস্বার্থ স্নেহ,মায়া-মমতার কথা।
মনে পড়ে নিজে না খেয়ে আমায় খাওয়ানোর কথা,
নিজে ভালো না থেকেও আমায় ভালো রাখার কথা।
তখন আর এগোনোটা ঠিক হয়ে ওঠেনা,
বাঁচার তাগিদটা আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
একতরফার স্বাদটা আমায় রোজ মেরে ফেলে ,রোজই বাঁচায়,
আমি আছি দেখতে স্বাধীন অদৃশ্য বিরহের শুচালো খাঁচায়।
আর মরলেই কি প্রেম অমর হবে?প্রমাণ হবে কতটা ভালোবাসি?
আমি নাহয় ভাবনায় তোকে মেখে,হাসি মুখে থাকি বেঁচে।

কবি পরিচিতি – কবি উজ্জ্বল ভট্টাচার্য জন্ম ১৯৯৯ সালের ২৩ শে ডিসেম্বর,শান্তির বাজার দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার অন্তর্গত পূর্ব রাধাকিশোর গঞ্জ নামক গ্রামে।পেশায় শান্তির বাজার সরকারি মহাবিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।ছোটবেলা থেকেই তিনি কবিতার ভাব রাজ্যে বিরাজ করতেন।এক দূরন্ত টান ছিল কবিতার প্রতি।সপ্তম শ্রেণীতে তার প্রথম কবিত্বের হাতে খড়ি হয়।লিখে ফেলেন 'সবুজ পৃথিবী,নামক একটা কবিতা,যদিও তা অপ্রকাশিত।এইভাবে চলছিল তুক-তুক কবিতা নিয়ে প্রেম।তবে কবি হিসেবে সাহিত্য দুনিয়ায় আত্মপ্রকাশের মাধ্যম ছিল না। ২০১৮ সালে যখন কলেজে পা রাখলেন তখন পরিচয় হয় সহৃদয়বান ব্যাক্তিত্বের অধিকারী অতিথি অধ্যাপক শ্রীযুক্ত স্নেহাশীষ রায়ের সঙ্গে।ওনার সহযোগীয়তায় ত্রিপুরার সাহিত্যগোষ্ঠী নবোন্মেষ ও মননস্রতের সাথে পরিচিতি ঘটে। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে মননস্রোতে প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়'আমরা দুটি ভাই।আর ১লা সেপ্টম্বর 'রক্ত ঝরাবো,নামক একটি কবিতা নবোন্মেষ সাহিত্য গোষ্ঠীতে প্রকাশিত হয়।এছাড়াও ফেসবুকের বিভিন্ন সাহিত্য গোষ্ঠীর মধ্যে অনেক কবিতা প্রকাশিত হয় বিভিন্ন সাহিত্য সাথীদের হাত ধরে।

পাঠকের চাহিদা


     -মৌ মন্ডল (গাঙ্গুলী)

পাঠকই একদিন কবিকে ,
খুঁজতে চেয়েছিলো শিরায়,উপশিরায়। 
দীর্ঘ প্রতীক্ষায় দিবা রজনী পার করেছিলো, 
কবির আগমনের অপেক্ষায় ।

পাঠকই একদিন কবিকে বুঝতে চেয়েছে অনন্তকাল,
বৃথা হয়েছে তবু ছাড়েনি হাল, 
কবির খোঁজে মহুয়ার নেশায় হয়েছে মাতাল । 

পাঠকই একদিন কবিকে খুঁজতে খুঁজতে, 
হারিয়ে ফেলেছিল জীবনের বাঁক, 
ঠিক তখনই কোথা হতে ভেষে আসে কবির ডাক। 

তারপর একদিন কবিতে পাঠকে, 
একাকার হয়ে জন্ম নেয়  ছোট্ট কবি । 
সে কবি  উন্মাদ হয়েছে বড়ো হবার নেশায়, 
সে ভুলেই গেলো কোথা হতে তার জন্ম। 
বদলেছে মোদের প্রজন্ম । 

আজ বলতে কোনো দ্বিধা নেই, 
পাঠক কখনোই কবিকে এড়িয়ে চলেনা। 
কবিই কবিকে এড়িয়ে চলে, 
পাঠক আজ বন্দী কবিতার বেড়াজালে। 

পাঠক কবিকে খুঁজতে গিয়ে নিজেই কবি হয়ে উঠেছে,  
তাই সে বুঝতে পেরেছে, 
কবি কে বোঝা নয়কো সোজা, 
কবি যে ছন্দ দ্বারা নিজেকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখেন।

কবি পরিচিতি: জন্ম ১৯৯৭ সালের ২১জুন, নদিয়া জেলার আলাইপুর গ্রামে। ছেলেবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি বিশেষ টান,সেই সূত্রেই একটু আধটু লেখালেখির সূত্রপাত ঘটে। ছেলেবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো একজন সৎ লেখিকা হবার, দারিদ্রের মতো একটা অভিশাপ কবির লেখালেখিতে একরকম বাধা সৃষ্টি করে। ২০১৪সালে প্রিয়রঞ্জন মণ্ডলকে বিয়ে করেন, এবং বিয়ের দুবছর পর থেকে ফেসবুকের সূত্রে আবারও নতুন করে সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। সর্ব প্রথম পারিজাত সাহিত্য পত্রিকার শারদ সংখ্যায় "বোনের ওড়নায় ভাইয়ের ফাঁসি" নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সাহিত্য গ্রুপ সহ পত্র পত্রিকাতে নিয়মিত লেখালেখি করেন, ২০১৮সালে কবি প্রথম আন্তর্জাতিক সাহিত্য একাডেমি থেকে সেরা লেখনী সন্মান এবং ২০১৯সালে পারিজাত সাহিত্য পত্রিকা পরিবার থেকে পারিজাত সাহিত্য রত্ন পুরষ্কারে ভূষিত হন। কবির একটাই উদ্দেশ্য, সাহিত্য সাধনায় নিজেকে উৎসর্গ করে তোলা।

পাঠকের চাহিদা


     -মৌ মন্ডল (গাঙ্গুলী)

পাঠকই একদিন কবিকে ,
খুঁজতে চেয়েছিলো শিরায়,উপশিরায়। 
দীর্ঘ প্রতীক্ষায় দিবা রজনী পার করেছিলো, 
কবির আগমনের অপেক্ষায় ।

পাঠকই একদিন কবিকে বুঝতে চেয়েছে অনন্তকাল,
বৃথা হয়েছে তবু ছাড়েনি হাল, 
কবির খোঁজে মহুয়ার নেশায় হয়েছে মাতাল । 

পাঠকই একদিন কবিকে খুঁজতে খুঁজতে, 
হারিয়ে ফেলেছিল জীবনের বাঁক, 
ঠিক তখনই কোথা হতে ভেষে আসে কবির ডাক। 

তারপর একদিন কবিতে পাঠকে, 
একাকার হয়ে জন্ম নেয়  ছোট্ট কবি । 
সে কবি  উন্মাদ হয়েছে বড়ো হবার নেশায়, 
সে ভুলেই গেলো কোথা হতে তার জন্ম। 
বদলেছে মোদের প্রজন্ম । 

আজ বলতে কোনো দ্বিধা নেই, 
পাঠক কখনোই কবিকে এড়িয়ে চলেনা। 
কবিই কবিকে এড়িয়ে চলে, 
পাঠক আজ বন্দী কবিতার বেড়াজালে। 

পাঠক কবিকে খুঁজতে গিয়ে নিজেই কবি হয়ে উঠেছে,  
তাই সে বুঝতে পেরেছে, 
কবি কে বোঝা নয়কো সোজা, 
কবি যে ছন্দ দ্বারা নিজেকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখেন।

কবি পরিচিতি: জন্ম ১৯৯৭ সালের ২১জুন, নদিয়া জেলার আলাইপুর গ্রামে। ছেলেবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি বিশেষ টান,সেই সূত্রেই একটু আধটু লেখালেখির সূত্রপাত ঘটে। ছেলেবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো একজন সৎ লেখিকা হবার, দারিদ্রের মতো একটা অভিশাপ কবির লেখালেখিতে একরকম বাধা সৃষ্টি করে। ২০১৪সালে প্রিয়রঞ্জন মণ্ডলকে বিয়ে করেন, এবং বিয়ের দুবছর পর থেকে ফেসবুকের সূত্রে আবারও নতুন করে সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। সর্ব প্রথম পারিজাত সাহিত্য পত্রিকার শারদ সংখ্যায় "বোনের ওড়নায় ভাইয়ের ফাঁসি" নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সাহিত্য গ্রুপ সহ পত্র পত্রিকাতে নিয়মিত লেখালেখি করেন, ২০১৮সালে কবি প্রথম আন্তর্জাতিক সাহিত্য একাডেমি থেকে সেরা লেখনী সন্মান এবং ২০১৯সালে পারিজাত সাহিত্য পত্রিকা পরিবার থেকে পারিজাত সাহিত্য রত্ন পুরষ্কারে ভূষিত হন। কবির একটাই উদ্দেশ্য, সাহিত্য সাধনায় নিজেকে উৎসর্গ করে তোলা।

ভালোবাসার অমর কাহিনী


                         -সজীব পাল

পৃযতটা না বৈচিত্রময়,তার চেয়েও জীবন,জীবনের গল্পগুলো যেন হাজারো গুন বৈচিত্রের সমাহার ।
মানুষ যা কল্পনাতে আনতে বিস্মিত হয়,ছমছম করে সমস্ত দেহ !তা কখনো কখনো কঠিন বাস্তবতায় কারোর জীবনের থিয়েটারে ঘটে যায়।আর তখনই সেই মানুষটা নিজের গতি থেকে বিমুখ হয় । বেছে নেয় এক অভিনব শোকের পথ ।

আজ আকাশটা একটু স্নিগ্ধ । মৃদু বাতাসে শীতল অনুভব হয়। অন্যদিনের চেয়ে আজ তীর্থের মন ঢের ভালো। তীর্থ এই ভালো লাগার অনুভূতিটা টের পাচ্ছে , কিন্তু সে নিজেই জানে না ভালোলাগার কারণ।তার হঠাৎ মনে পড়ল একটা পুরানো কথা,আগের লোকেরা বলতো ,"দুঃখের আগে নাকি সুখের বাতাস বহে।"
সে হঠাৎ আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে বললো,দুর! এইসব কি ভাবছি! সবসময় যে একই রকম লাগবে তার কোনো কথা নেই। তাছাড়া এই পার্কটা বেশ ভালো। এখানে আসলে সবারই মন ভালোহয়।

তীর্থ মনারচক পার্কে বসে আসে ,তার ভালোবাসার অপেক্ষায়।এইপার্কেই তারা ভালবাসাকে সময় দেয় একটু বেশি।

তীর্থ ইট পাটকেল দিয়ে গড়া একটা টুলে বসে আছে। আর মোবাইলে ছবি দেখছে।
আচম্বিত পিছন থেকে একজন তার চোখ ঢেকে দেয় হাতদিয়ে। তীর্থ নিজ হাতে ওই চোখ ঢাকা হাতগুলিতে স্পর্শ করে বলে তৃষা ?

তুমি কি করে বুঝলে আমি তৃষা?

তৃষার সাথে তীর্থের সাতমাস ধরে চলছে ভালোবাসার সম্পর্ক ।তৃষা অনেকটা পরির মতো দেখতে ,তীর্থের চোখে। তার চোখগুলি একটু ঈর্ষৎ বড়ো ।যা নারীদের সৌন্দর্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড়ো ভূমিকা পালন করে।নাকটা চিকন করে সরু । মুখের গঠনের সাথে মানানসই ।
তৃষা আজকে কালো সালোয়ার কামিজ পড়ে এসেছে। সুন্দরী মেয়েদের কালো পোশাকে ভালো মানায়। তৃষা সবকিছু ম্যাচিং করে পড়ে।

তোমাকে যে ভালোবাসি তাই!

ভালোবাসলে বুঝি সব বলা যায় না দেখে?

যায় যায় । সব বলা যায় । আচ্ছা এত কথা না বলে কাছে আসো-তো!

এই কথা বলে তীর্থ তৃষার হাতে টান দিয়ে পাশে বসায়। এবং ডান হাত দিয়ে তাকে আরো নিকট আনে । মাথার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে তীর্থ বলছে,"তৃষা ,

তৃষা একটু শিশুর মতো তীর্থের বুকে মাথা রেখে বলছে, "হু"

কখনো আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না-তো?এইভাবে বুকে মাথা রেখে সারাটা জীবন থাকবে!

না থাকবো না!

কেন?

আমি যদি আজকে মরে যাই ,তাহলে কিভাবে থাকবো?

তুমি মরবে না,।তীর্থ আরো কঠিন ভাবে তৃষাকে ধরে বলছে,যম আসলে তাকে বলে দেবো ,আমরা এখনো বৃদ্ধ হয়নি। তোমার নাম্বার দিয়ে যাও ,আমরা বৃদ্ধ হলে তোমাকে জানিয়ে দেবো। তখন এসে নিয়ে যেও।

তৃষা হেসে উঠল,"হা হা হা হা!"

তীর্থ তার মুখের দিকে চেয়ে আছে ,কি নিষ্পাপ হাসি।এইরকম মেয়েকে কেউ ভালো না বেসে পারে না।সবটা যেন অপার্থিব সুখ।
তীর্থ তার গালে হালকা তীক্ষ্ণ চাপ দিয়ে চুমু খেলো। কপালে।
আমাকে দেবে না ,-তীর্থ বলল।

ন্যাকামো করো না তো! অবুঝ শিশু । এই কথা বলে তৃষা যখন চুমু দেওয়ার জন্য মুখ তীর্থের পানে আকর্ষিত করছে,তাৎক্ষণিক তীর্থের মোবাইলে কল বেজে উঠল ।
তৃষা আকর্ষণ মুহুর্তেই নষ্ট হয়ে গেলো।

মোবাইলের নাম্বার চেয়ে তীর্থ বলল,প্রিয় আজকে উঠি! আর্জেন্ট কাজ আছে চলি?

আমি কি একা থাকবো এখানে!

তুমি একা থাকবে কেন তুমিও চলে যাও।


তীর্থ রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে বিছানায় শুয়ে শুয়ে তৃষা র সাথে কথা বলছে মোবাইলে । তীর্থ তৃষাকে বলছে ,তোমাকে একটা বললে রাগ করবে না তো?

ওপাশ থেকে তৃষা বলছে,আলবাত করবো।
তাহলে থাক বলবো না । আচ্ছা ভাত খেয়েছ?

খেয়েছি।আর কি বলতে চাইছিলে ওটা বলো।
বলছিলাম ইয়ে ..মানে ...।

কি ইয়ে মানে করছো ! এখন আসবো তোমার কাছে ?

আরে না না এইসব কিছু না। বলছিলাম ,তোমার বয়ফ্রেন্ড্ আছে?

হুম আছে! কেনো বলো তো?আর ওর নাম তীর্থ বিশ্বাস ।

আরে আমি না ।তোমার কোনো আগে বয় ফ্রেন্ড ছিল?

একজন ছিল,

সিরিয়াসলি!

হ্যাঁ-গো।তবে এখন নেই ।এখন শুধু তুমি আর তুমি।
তীর্থ তৃষাকে বলছে,কাল যদি সে ভালোবাসার দাবি করে ?

করলে করবে! বলবো আমার সব ভালোবাসা তীর্থকে দিয়ে দিয়েছি ।আমার কাছে এখন  মনটন কিছু নেই।

আই লাভ ইউ সোনা।

আই লাভ ইউ টু সোনা ।তৃষা বলছে ,রাখছি এখন ভীষন ঘুম পেয়েছে।

আচ্ছা ।


তীর্থ আজকে একটু দেরি করেই তৃষার সাথে দেখা করতে যায়। তৃষা মনমরা ভাব নিয়ে বসে আছে ।
তীর্থ বলছে হ্যালো ম্যাডাম আজকে এত নীরব কেন?
তৃষা কোনো জবাব দিলো না। তীর্থের কথাটা উপেক্ষা করে অন্যদিকে ফিরে রইলো। তীর্থ কাছে গিয়ে তৃষাকে স্পর্শ করতে গেলে সে ঝারকা দিয়ে উঠে দাঁড়ায় ।

তীর্থ অনেকটা আতঙ্কিত সুরে বললো,তোমার কিছু হয়নি তো ,?শরীর ঠিক আছে ?বাড়িতে কেউ কিচ্ছু বলেছে?

তৃষা তীর্থের দিকে ফিরে বলল,তুমি আমাকে ভুলে যাও তীর্থ,তোমাকে আমি ভালোবাসতে পারবো না!

রসিকতা করো না । চলো বসে কথা বলি।

মোটেই রসিকতা করছি না,সিরিয়াসলি বলছি।আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি ,আর সে কথা আমি তোমাকে রাত্রে বলেছি।
তীর্থ এবার অনেকটা সিরিয়াস মাইন্ড হয়ে যায় । কিন্তু তুমি-তো বলেছিলে ওকে তুমি ভুলে গেছো।

ভুলে গেছি! তোমাকে ভুলতে পারি ওকে নয়।

তীর্থের চোখে কোণে জল জমতে শুরু করে দিয়েছে । তাহলে আমাদের যে ভালোবাসা?

তোমাকে ভালোবেসে ছিলাম ঠিকই,তবে ওর থেকে বেশি নয়।আর তোমার সাথে ভালোবাসাটা অনেকটা ছেলে খেলার মতো ।

আমাদের মধ্যে যে শারীরিক বিষয়গুলো ওইগুলিকেও তুমি ছেলে খেলা বলবে? তোমার ভালোবাসা ছেলে খেলা হলেও ,আমারটা তো ছেলে খেলা ছিল না।আর তুমি সেটা জানতে।তার পরেও কেন এই অভিনয়ের জালে আটকা দিলে আমার হৃদয় ।
তৃষা অনেকটা অভিমানের কণ্ঠে বললো,আমি এইসব কিছু জানি না । আমি অনেকদিন আগেই বলতে চেয়েছিলাম আমার ভালোবাসার কথা ,কিন্তু পারিনি।তুমি যখন নিজে জানতে চাইলে আমার পূর্বের কথা,তখনই সিদ্ধান্ত নেই আসল কথা বলার জন্য ।

তৃষা আর কিছু বলতে গেলে তীর্থ থামিয়ে দিয়ে হাতজোড় করে ,পাগলের মতো হাঁটতে শুরু করে । ওখান থেকে চলে এসে বাড়িতে ঘরের দরজা বন্ধ করে নয়নের জলে সমস্ত দুঃখ ভুলতে চায়। কিন্তু ভালোবাসা চোখের জলে ভুলে যাওয়া যায় না । তীর্থ সেটা বুঝতে পেরেছে। সে নিজেকে সংযম করে ,স্থির করেছে তৃষার সেই ভালোবাসার লোকটির সাথে কথা বলবে।


তীর্থ বন্ধুদের সাথে কথা বলে তৃষার সেই ভালোবাসার লোকটির খোঁজ নেয়।

আচ্ছা তোমার সাথে তৃষার পরিচয় কত দিনের?

তৃষার সেই ভালোবাসার লোকটির নাম বিনয়। বিনয় বলল,বছর খানেক। কিন্তু আপনে কে ?তৃষাকেই বা কিভাবে চিনেন?

আমি তাকে ভালোবাসি ।

ভালোবাসেন মানে? নেশা করেছেন নাকি?

দেখো ভাই আমি সম্পূর্ণ সুস্থ,আর যে কথাটা বললাম ওই কথাটাও সত্যি । তোমার মতোই ওর সম্পর্ক আমার সাথে সাত আট মাস।ও তোমার জন্য গতকাল আমার ভালোবাসা অস্বীকার করেছে।

তো হয়ে গেলো । আমি কি করবো ।দেখলে তো কতটা ভালোবাসে আমাকে।

তীর্থ একটু উচ্চ কণ্ঠে বললো ,কি করে ভুলবো! ওর সাথে চলা দিনগুলি ? আর তার সাথে আমার সব হয়েছে ,পারবো না ভুলতে পারবো না। তুমি ভুলে যাও! প্লিজ!

আপনার সাথে যেমন সব হয়েছে ,আমার সাথে ও সব হয়েছে ।এখন বলুন আমি কি করে ভুলবো?


তীর্থ বিনয়ের কাছে কোনো সফলতা না পেয়ে,পুনরায় তৃষার কাছে যায় । ভালোবাসার জন্য ।

তৃষা আর তার বান্ধবী কলেজে যাচ্ছে একসাথে। তীর্থ তাদের রাস্তার মোড়ে দেখতে পায়।
সে যখন তৃষাকে ডাক দেয়,সুস্মিতা পিছনে একবার দেখে আবার হাঁটতে থাকে। সেও তাদের পিছু নিচ্ছে ।
প্রায় পাঁচ মিনিট হাঁটার পর তৃষার বান্ধবী তীর্থের কাছে আসে। তারপর বলে;"কি চাই আপনার পিছু নিচ্ছেন কেন? বাত্তামিজি করছেন? দেখুন ভালো ভালো বলছি ফিরে যান না হলে খারাপ হবে।

তোমার বান্ধবীকে বলো না একটু কথা বলতে ,ওকে খুব ভালো বাসি ।বাঁচব না তাকে ছাড়া ।

না বাঁচলে মরে যান! আর আপনার চেয়ারা দেখেছেন আয়নায়? ওর সাথে আসছেন প্রেম করতে!

এই কথা ওকে বলতে বলো। তোমার সাথে কোনো কথা নেই ।

তৃষা রাগাম্বিত চোখে তীর্থকে বলছে, তোমার কানে যায় নি ! বললাম তো তোমাকে ভালোবাসতে পারবো না।

তীর্থ এবার ক্ষুব্ধ হয়ে বললো,তোমার যদি আমার প্রতি এতটাই অপছন্দ তাহলে আমার অনুভূতি নিয়ে খেলার অধিকার কে দিলো তোমাকে? আমার ভালোবাসা তোমার কাছে কোনো মূল্য নেই?
তৃষা তোমাকে এখনো কাছে পেতে চাই!
তীর্থের চোখে ঝর্না বইছে নিরবধি ।

তীর্থ কাঁদতে থাকে, ভালোবাসার জন্য । তবুও তার ভালোবাসার দাম দেয়নি তৃষা ।কেঁদেই যাচ্ছে তীর্থ । অক্লান্ত । প্রেম কাঁদিয়ে যায় ,আর কিছু শিখিয়ে যায় ।
তীর্থ মনকে বুঝিয়েছে,পৃথিবীতে কিছু জিনিস চাওয়া যায় কিন্তু পাওয়া যায় না ।আর না পাওয়াটাই ভালোবাসার অমর কাহিনী ।

লেখক পরিচিত - লেখক সজিব পাল জন্ম 2000সালের 20 জানুয়ারি বাঁশ পুকুর নামে একটি ছোটগ্রামে। ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যবই কবিতা গল্প থেকে লেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ।পরে কালক্রমে ধীরে ধীরে ফেসবুকের মাধ্যমে লেখার বহিঃপ্রকাশ  ।"মনন স্রোত " ম্যাগাজিনে প্রথম কবিতা "দীর্ঘপ্রতিক্ষা" তারপর সময়ে আরো প্রকাশ হয়।তার সাথে 'নবোণ্মেষ ' প্রথম গল্প "আধার সময় ",'।সৃষ্টি' (নলুয়া) এবং 'আগন্তুক  "(পশ্চিমবঙ্গ) ইত্যাদি ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখক হিসেবে যুক্ত ।কবিতার চেয়ে গল্পের প্রতি বেশি অনুরাগ ছিলেন উনার। তাঁর জীবনের সবটা জুড়ে গল্পের আওতা।

ভালোবাসার অমর কাহিনী


                         -সজীব পাল

পৃযতটা না বৈচিত্রময়,তার চেয়েও জীবন,জীবনের গল্পগুলো যেন হাজারো গুন বৈচিত্রের সমাহার ।
মানুষ যা কল্পনাতে আনতে বিস্মিত হয়,ছমছম করে সমস্ত দেহ !তা কখনো কখনো কঠিন বাস্তবতায় কারোর জীবনের থিয়েটারে ঘটে যায়।আর তখনই সেই মানুষটা নিজের গতি থেকে বিমুখ হয় । বেছে নেয় এক অভিনব শোকের পথ ।

আজ আকাশটা একটু স্নিগ্ধ । মৃদু বাতাসে শীতল অনুভব হয়। অন্যদিনের চেয়ে আজ তীর্থের মন ঢের ভালো। তীর্থ এই ভালো লাগার অনুভূতিটা টের পাচ্ছে , কিন্তু সে নিজেই জানে না ভালোলাগার কারণ।তার হঠাৎ মনে পড়ল একটা পুরানো কথা,আগের লোকেরা বলতো ,"দুঃখের আগে নাকি সুখের বাতাস বহে।"
সে হঠাৎ আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে বললো,দুর! এইসব কি ভাবছি! সবসময় যে একই রকম লাগবে তার কোনো কথা নেই। তাছাড়া এই পার্কটা বেশ ভালো। এখানে আসলে সবারই মন ভালোহয়।

তীর্থ মনারচক পার্কে বসে আসে ,তার ভালোবাসার অপেক্ষায়।এইপার্কেই তারা ভালবাসাকে সময় দেয় একটু বেশি।

তীর্থ ইট পাটকেল দিয়ে গড়া একটা টুলে বসে আছে। আর মোবাইলে ছবি দেখছে।
আচম্বিত পিছন থেকে একজন তার চোখ ঢেকে দেয় হাতদিয়ে। তীর্থ নিজ হাতে ওই চোখ ঢাকা হাতগুলিতে স্পর্শ করে বলে তৃষা ?

তুমি কি করে বুঝলে আমি তৃষা?

তৃষার সাথে তীর্থের সাতমাস ধরে চলছে ভালোবাসার সম্পর্ক ।তৃষা অনেকটা পরির মতো দেখতে ,তীর্থের চোখে। তার চোখগুলি একটু ঈর্ষৎ বড়ো ।যা নারীদের সৌন্দর্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড়ো ভূমিকা পালন করে।নাকটা চিকন করে সরু । মুখের গঠনের সাথে মানানসই ।
তৃষা আজকে কালো সালোয়ার কামিজ পড়ে এসেছে। সুন্দরী মেয়েদের কালো পোশাকে ভালো মানায়। তৃষা সবকিছু ম্যাচিং করে পড়ে।

তোমাকে যে ভালোবাসি তাই!

ভালোবাসলে বুঝি সব বলা যায় না দেখে?

যায় যায় । সব বলা যায় । আচ্ছা এত কথা না বলে কাছে আসো-তো!

এই কথা বলে তীর্থ তৃষার হাতে টান দিয়ে পাশে বসায়। এবং ডান হাত দিয়ে তাকে আরো নিকট আনে । মাথার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে তীর্থ বলছে,"তৃষা ,

তৃষা একটু শিশুর মতো তীর্থের বুকে মাথা রেখে বলছে, "হু"

কখনো আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না-তো?এইভাবে বুকে মাথা রেখে সারাটা জীবন থাকবে!

না থাকবো না!

কেন?

আমি যদি আজকে মরে যাই ,তাহলে কিভাবে থাকবো?

তুমি মরবে না,।তীর্থ আরো কঠিন ভাবে তৃষাকে ধরে বলছে,যম আসলে তাকে বলে দেবো ,আমরা এখনো বৃদ্ধ হয়নি। তোমার নাম্বার দিয়ে যাও ,আমরা বৃদ্ধ হলে তোমাকে জানিয়ে দেবো। তখন এসে নিয়ে যেও।

তৃষা হেসে উঠল,"হা হা হা হা!"

তীর্থ তার মুখের দিকে চেয়ে আছে ,কি নিষ্পাপ হাসি।এইরকম মেয়েকে কেউ ভালো না বেসে পারে না।সবটা যেন অপার্থিব সুখ।
তীর্থ তার গালে হালকা তীক্ষ্ণ চাপ দিয়ে চুমু খেলো। কপালে।
আমাকে দেবে না ,-তীর্থ বলল।

ন্যাকামো করো না তো! অবুঝ শিশু । এই কথা বলে তৃষা যখন চুমু দেওয়ার জন্য মুখ তীর্থের পানে আকর্ষিত করছে,তাৎক্ষণিক তীর্থের মোবাইলে কল বেজে উঠল ।
তৃষা আকর্ষণ মুহুর্তেই নষ্ট হয়ে গেলো।

মোবাইলের নাম্বার চেয়ে তীর্থ বলল,প্রিয় আজকে উঠি! আর্জেন্ট কাজ আছে চলি?

আমি কি একা থাকবো এখানে!

তুমি একা থাকবে কেন তুমিও চলে যাও।


তীর্থ রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে বিছানায় শুয়ে শুয়ে তৃষা র সাথে কথা বলছে মোবাইলে । তীর্থ তৃষাকে বলছে ,তোমাকে একটা বললে রাগ করবে না তো?

ওপাশ থেকে তৃষা বলছে,আলবাত করবো।
তাহলে থাক বলবো না । আচ্ছা ভাত খেয়েছ?

খেয়েছি।আর কি বলতে চাইছিলে ওটা বলো।
বলছিলাম ইয়ে ..মানে ...।

কি ইয়ে মানে করছো ! এখন আসবো তোমার কাছে ?

আরে না না এইসব কিছু না। বলছিলাম ,তোমার বয়ফ্রেন্ড্ আছে?

হুম আছে! কেনো বলো তো?আর ওর নাম তীর্থ বিশ্বাস ।

আরে আমি না ।তোমার কোনো আগে বয় ফ্রেন্ড ছিল?

একজন ছিল,

সিরিয়াসলি!

হ্যাঁ-গো।তবে এখন নেই ।এখন শুধু তুমি আর তুমি।
তীর্থ তৃষাকে বলছে,কাল যদি সে ভালোবাসার দাবি করে ?

করলে করবে! বলবো আমার সব ভালোবাসা তীর্থকে দিয়ে দিয়েছি ।আমার কাছে এখন  মনটন কিছু নেই।

আই লাভ ইউ সোনা।

আই লাভ ইউ টু সোনা ।তৃষা বলছে ,রাখছি এখন ভীষন ঘুম পেয়েছে।

আচ্ছা ।


তীর্থ আজকে একটু দেরি করেই তৃষার সাথে দেখা করতে যায়। তৃষা মনমরা ভাব নিয়ে বসে আছে ।
তীর্থ বলছে হ্যালো ম্যাডাম আজকে এত নীরব কেন?
তৃষা কোনো জবাব দিলো না। তীর্থের কথাটা উপেক্ষা করে অন্যদিকে ফিরে রইলো। তীর্থ কাছে গিয়ে তৃষাকে স্পর্শ করতে গেলে সে ঝারকা দিয়ে উঠে দাঁড়ায় ।

তীর্থ অনেকটা আতঙ্কিত সুরে বললো,তোমার কিছু হয়নি তো ,?শরীর ঠিক আছে ?বাড়িতে কেউ কিচ্ছু বলেছে?

তৃষা তীর্থের দিকে ফিরে বলল,তুমি আমাকে ভুলে যাও তীর্থ,তোমাকে আমি ভালোবাসতে পারবো না!

রসিকতা করো না । চলো বসে কথা বলি।

মোটেই রসিকতা করছি না,সিরিয়াসলি বলছি।আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি ,আর সে কথা আমি তোমাকে রাত্রে বলেছি।
তীর্থ এবার অনেকটা সিরিয়াস মাইন্ড হয়ে যায় । কিন্তু তুমি-তো বলেছিলে ওকে তুমি ভুলে গেছো।

ভুলে গেছি! তোমাকে ভুলতে পারি ওকে নয়।

তীর্থের চোখে কোণে জল জমতে শুরু করে দিয়েছে । তাহলে আমাদের যে ভালোবাসা?

তোমাকে ভালোবেসে ছিলাম ঠিকই,তবে ওর থেকে বেশি নয়।আর তোমার সাথে ভালোবাসাটা অনেকটা ছেলে খেলার মতো ।

আমাদের মধ্যে যে শারীরিক বিষয়গুলো ওইগুলিকেও তুমি ছেলে খেলা বলবে? তোমার ভালোবাসা ছেলে খেলা হলেও ,আমারটা তো ছেলে খেলা ছিল না।আর তুমি সেটা জানতে।তার পরেও কেন এই অভিনয়ের জালে আটকা দিলে আমার হৃদয় ।
তৃষা অনেকটা অভিমানের কণ্ঠে বললো,আমি এইসব কিছু জানি না । আমি অনেকদিন আগেই বলতে চেয়েছিলাম আমার ভালোবাসার কথা ,কিন্তু পারিনি।তুমি যখন নিজে জানতে চাইলে আমার পূর্বের কথা,তখনই সিদ্ধান্ত নেই আসল কথা বলার জন্য ।

তৃষা আর কিছু বলতে গেলে তীর্থ থামিয়ে দিয়ে হাতজোড় করে ,পাগলের মতো হাঁটতে শুরু করে । ওখান থেকে চলে এসে বাড়িতে ঘরের দরজা বন্ধ করে নয়নের জলে সমস্ত দুঃখ ভুলতে চায়। কিন্তু ভালোবাসা চোখের জলে ভুলে যাওয়া যায় না । তীর্থ সেটা বুঝতে পেরেছে। সে নিজেকে সংযম করে ,স্থির করেছে তৃষার সেই ভালোবাসার লোকটির সাথে কথা বলবে।


তীর্থ বন্ধুদের সাথে কথা বলে তৃষার সেই ভালোবাসার লোকটির খোঁজ নেয়।

আচ্ছা তোমার সাথে তৃষার পরিচয় কত দিনের?

তৃষার সেই ভালোবাসার লোকটির নাম বিনয়। বিনয় বলল,বছর খানেক। কিন্তু আপনে কে ?তৃষাকেই বা কিভাবে চিনেন?

আমি তাকে ভালোবাসি ।

ভালোবাসেন মানে? নেশা করেছেন নাকি?

দেখো ভাই আমি সম্পূর্ণ সুস্থ,আর যে কথাটা বললাম ওই কথাটাও সত্যি । তোমার মতোই ওর সম্পর্ক আমার সাথে সাত আট মাস।ও তোমার জন্য গতকাল আমার ভালোবাসা অস্বীকার করেছে।

তো হয়ে গেলো । আমি কি করবো ।দেখলে তো কতটা ভালোবাসে আমাকে।

তীর্থ একটু উচ্চ কণ্ঠে বললো ,কি করে ভুলবো! ওর সাথে চলা দিনগুলি ? আর তার সাথে আমার সব হয়েছে ,পারবো না ভুলতে পারবো না। তুমি ভুলে যাও! প্লিজ!

আপনার সাথে যেমন সব হয়েছে ,আমার সাথে ও সব হয়েছে ।এখন বলুন আমি কি করে ভুলবো?


তীর্থ বিনয়ের কাছে কোনো সফলতা না পেয়ে,পুনরায় তৃষার কাছে যায় । ভালোবাসার জন্য ।

তৃষা আর তার বান্ধবী কলেজে যাচ্ছে একসাথে। তীর্থ তাদের রাস্তার মোড়ে দেখতে পায়।
সে যখন তৃষাকে ডাক দেয়,সুস্মিতা পিছনে একবার দেখে আবার হাঁটতে থাকে। সেও তাদের পিছু নিচ্ছে ।
প্রায় পাঁচ মিনিট হাঁটার পর তৃষার বান্ধবী তীর্থের কাছে আসে। তারপর বলে;"কি চাই আপনার পিছু নিচ্ছেন কেন? বাত্তামিজি করছেন? দেখুন ভালো ভালো বলছি ফিরে যান না হলে খারাপ হবে।

তোমার বান্ধবীকে বলো না একটু কথা বলতে ,ওকে খুব ভালো বাসি ।বাঁচব না তাকে ছাড়া ।

না বাঁচলে মরে যান! আর আপনার চেয়ারা দেখেছেন আয়নায়? ওর সাথে আসছেন প্রেম করতে!

এই কথা ওকে বলতে বলো। তোমার সাথে কোনো কথা নেই ।

তৃষা রাগাম্বিত চোখে তীর্থকে বলছে, তোমার কানে যায় নি ! বললাম তো তোমাকে ভালোবাসতে পারবো না।

তীর্থ এবার ক্ষুব্ধ হয়ে বললো,তোমার যদি আমার প্রতি এতটাই অপছন্দ তাহলে আমার অনুভূতি নিয়ে খেলার অধিকার কে দিলো তোমাকে? আমার ভালোবাসা তোমার কাছে কোনো মূল্য নেই?
তৃষা তোমাকে এখনো কাছে পেতে চাই!
তীর্থের চোখে ঝর্না বইছে নিরবধি ।

তীর্থ কাঁদতে থাকে, ভালোবাসার জন্য । তবুও তার ভালোবাসার দাম দেয়নি তৃষা ।কেঁদেই যাচ্ছে তীর্থ । অক্লান্ত । প্রেম কাঁদিয়ে যায় ,আর কিছু শিখিয়ে যায় ।
তীর্থ মনকে বুঝিয়েছে,পৃথিবীতে কিছু জিনিস চাওয়া যায় কিন্তু পাওয়া যায় না ।আর না পাওয়াটাই ভালোবাসার অমর কাহিনী ।

লেখক পরিচিত - লেখক সজিব পাল জন্ম 2000সালের 20 জানুয়ারি বাঁশ পুকুর নামে একটি ছোটগ্রামে। ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যবই কবিতা গল্প থেকে লেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ।পরে কালক্রমে ধীরে ধীরে ফেসবুকের মাধ্যমে লেখার বহিঃপ্রকাশ  ।"মনন স্রোত " ম্যাগাজিনে প্রথম কবিতা "দীর্ঘপ্রতিক্ষা" তারপর সময়ে আরো প্রকাশ হয়।তার সাথে 'নবোণ্মেষ ' প্রথম গল্প "আধার সময় ",'।সৃষ্টি' (নলুয়া) এবং 'আগন্তুক  "(পশ্চিমবঙ্গ) ইত্যাদি ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখক হিসেবে যুক্ত ।কবিতার চেয়ে গল্পের প্রতি বেশি অনুরাগ ছিলেন উনার। তাঁর জীবনের সবটা জুড়ে গল্পের আওতা।

ভন্ড ওঝা


             -প্রীতম শীল
'''"""""""""""""""""
শত বছর পূর্বে পিতা পেয়েছিল,
কোনো এক স্বপ্নাদেশে।
আজও আমি সবই পালন করি,
শুধু মাত্র  দৈবাদেশে।
তুমি হে বাপু আমায় বলছো,
মিথ্যাবাদী ভন্ড ওঝা।
দেবতারে তুষ্ট করি আমি,
এ কাজ  নইকো সোজা।
বলিলাম আমি তবে এত টাকা,
এ কোন বোকামি।
ওঝা কহেন, এ রাম রাম রাম,
টাকা নয় বলো প্রণামী।
আমি মোক্ষ লাভ করি বলেই,
লোকে বলে হীনতারিনী।
আমি ওঝা নয় বাপু ওঝা নয়,
আমি কুলকুন্ডলিনী।
আমি বলিলাম বাপু এত টাকা,
কোন ঠাকুরের প্রণামী।
এ টাকার মালিক কে?ঠাকুর!
না নিজেই আপনি।
উপকার যদি করবেই তবে,
যৎকিঞ্চিত নিয়ে করো ক্ষুন্নিবৃত্তি।
নেহাৎ এ সমাজে কিছু লোক বিশ্বাস করে,
তাতেই তোমাদের রাজত্বি।
সভ্য সমাজ যেদিন তোমাদের মতো,
কান্ডারীর মুখোশ খুলবে।
সেদিন এ সমাজের প্রতিটি মানুষ,
তোমাদের দিকে আঙুল তুলবে।

কবি পরিচিতি :- কবি প্রীতম শীল ২৮/০২/১৯৯৪ এ কাঁঠালিয়া নির্ভয় পুর গ্রামে অন্তত হতদরিদ্র ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন।  অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে কোনো ক্রমে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।পিতা স্বপন শীল ও মাতা সন্ধ্যা রানী শীলের প্রথম পুত্র। কবি প্রীতম শীল মঞ্চ নাটক লিখেন এবং নিজে অভিনয় করেন ও অভিনয় করতে ভালোবাসেন। কবি ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন মননস্রোতে নিয়মিত লিখেন। নবোন্মেষ কাব্যগ্রন্থে কবির কবিতা " অবুঝের কান্না" প্রকাশিত হয়। কর্ম জীবনে কবি গৃহশিক্ষক হিসাবে কাজ করেন। প্রীতম শীলের লেখা সমূহঃ ১)লক্ষ বেকারের কথা(অনুগল্প) ২)হাড় কিপটের এক টাকা লোকসান(গল্প) কবিতা সমূহঃ- ১)ইচ্ছে ছিল,  ২)আনন্দের জায়গা এখানে, ৩)সংঘাত, ৪)ইচ্ছেরা যখন আকাশ ছোঁয়, ৫)পালিয়ে যাবি কোথায় ৬)আদরের দুলালী ৭)শুধুই ভালোবেসে  ৮)এ কোন সমাজ  ৯)অবুঝের কান্না 
নাটক সমূহঃ-(মঞ্চ নাটক) ১)জয় মা দূর্গা  ২)শহীদ  ৩)কালো মেয়ে ৪)রক্তাক্ত আঙিনা

ভন্ড ওঝা


             -প্রীতম শীল
'''"""""""""""""""""
শত বছর পূর্বে পিতা পেয়েছিল,
কোনো এক স্বপ্নাদেশে।
আজও আমি সবই পালন করি,
শুধু মাত্র  দৈবাদেশে।
তুমি হে বাপু আমায় বলছো,
মিথ্যাবাদী ভন্ড ওঝা।
দেবতারে তুষ্ট করি আমি,
এ কাজ  নইকো সোজা।
বলিলাম আমি তবে এত টাকা,
এ কোন বোকামি।
ওঝা কহেন, এ রাম রাম রাম,
টাকা নয় বলো প্রণামী।
আমি মোক্ষ লাভ করি বলেই,
লোকে বলে হীনতারিনী।
আমি ওঝা নয় বাপু ওঝা নয়,
আমি কুলকুন্ডলিনী।
আমি বলিলাম বাপু এত টাকা,
কোন ঠাকুরের প্রণামী।
এ টাকার মালিক কে?ঠাকুর!
না নিজেই আপনি।
উপকার যদি করবেই তবে,
যৎকিঞ্চিত নিয়ে করো ক্ষুন্নিবৃত্তি।
নেহাৎ এ সমাজে কিছু লোক বিশ্বাস করে,
তাতেই তোমাদের রাজত্বি।
সভ্য সমাজ যেদিন তোমাদের মতো,
কান্ডারীর মুখোশ খুলবে।
সেদিন এ সমাজের প্রতিটি মানুষ,
তোমাদের দিকে আঙুল তুলবে।

কবি পরিচিতি :- কবি প্রীতম শীল ২৮/০২/১৯৯৪ এ কাঁঠালিয়া নির্ভয় পুর গ্রামে অন্তত হতদরিদ্র ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন।  অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে কোনো ক্রমে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।পিতা স্বপন শীল ও মাতা সন্ধ্যা রানী শীলের প্রথম পুত্র। কবি প্রীতম শীল মঞ্চ নাটক লিখেন এবং নিজে অভিনয় করেন ও অভিনয় করতে ভালোবাসেন। কবি ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন মননস্রোতে নিয়মিত লিখেন। নবোন্মেষ কাব্যগ্রন্থে কবির কবিতা " অবুঝের কান্না" প্রকাশিত হয়। কর্ম জীবনে কবি গৃহশিক্ষক হিসাবে কাজ করেন। প্রীতম শীলের লেখা সমূহঃ ১)লক্ষ বেকারের কথা(অনুগল্প) ২)হাড় কিপটের এক টাকা লোকসান(গল্প) কবিতা সমূহঃ- ১)ইচ্ছে ছিল,  ২)আনন্দের জায়গা এখানে, ৩)সংঘাত, ৪)ইচ্ছেরা যখন আকাশ ছোঁয়, ৫)পালিয়ে যাবি কোথায় ৬)আদরের দুলালী ৭)শুধুই ভালোবেসে  ৮)এ কোন সমাজ  ৯)অবুঝের কান্না 
নাটক সমূহঃ-(মঞ্চ নাটক) ১)জয় মা দূর্গা  ২)শহীদ  ৩)কালো মেয়ে ৪)রক্তাক্ত আঙিনা

মডেল হিসেবে তুমি


            - সুমন দেবনাথ

তুমি কখনো মডেলিং -র খাতায় নাম লিখিয়েছো ?
লেখাওনি ?
কি বলছো ?
আরে তবে শোনো বলছি ।
মডেলিং করা খুব সহজ জানো তো?
সুন্দর করে কথা বলা ,
একটু ঠিক-ঠাক করে বসা , চলা এটাই তো মডেলিং ।
তাই না ?
আসলে মডেলরা খুব আরামে থাকে জানো তো ?
কোনো সমস্যাই নেই তাদের জীবনে ।
একটা অনুষ্ঠানের প্রতিযোগি হয়ে নাম লেখাতে গেলেও তোমার শরীরের প্রতিটা অংশকে মনোযোগ দিয়ে সমান ভাবে পরীক্ষা পাশ করতে হয় ।
কোথাও আবার তোমাকে রোদে দাঁড়িয়ে , বৃষ্টিতে ভিজে নিজের শরীরের মাধ্যমে অপরকে মনোরন্জিত করতে হবে , নয়তো তোমার নাম থাকবে শেষের পাতায় ।
সুযোগে তোমাকে অনেক হাত স্পর্শ করতে চাইবে , সেই খেলা থেকেও নিজ ইচ্ছায় তোমাকে পরাজয় হয়ে ফিরে আসতে হবে ।
নয়তো পরিবারের নাম বদনাম হবে ।
কিন্তু তুমি নক্ষত্র হও সবাই চাইবে ।
কখনো বিছানা ভাগ করার প্রস্তাব আসে তবে ,
নিজ বদনাম না রটাতে কেউ পিছিয়ে যায় আর , কেউ উজ্বল হতে অপরিচিত কারোর বুকে রাত কাটায় ।
তবুও মডেলদের মুখে হাসি রাখতে হয় ।
কারণ হাসি ছাড়া তোমাকে কেউ কাছে টানবে না যে !
কাজের সুযোগ আসবেনা যে !
ছবিতে তাদের সুন্দর দেখাবেনা যে !
বাড়িতে নিজ হাতে জল না নিয়ে খাওয়া ব্যক্তিটাও মডেল হিসেবে আরেক জনকে নেশাক্ত করে দিতে পারে শুধু পরিবার চালানোর কথা ভেবে ।
মডেলদের আবার কিসের দুঃখ ?
শরীরের প্রতিটি অংশ দিয়ে রূপ ঝরাতে তাদেরকে অপরের কথায় নিজ শরীরকে ভাঙতে-গড়তে হয় ।
এটা আবার কিসের কষ্ট ?
ঠিক ভাবছো ।
আসলে মডেলরা শুধু ভালোবাসা দিতে নয় ,
তারা ভালোবাসা পেতেও চায় ।
মডেল কথাটির মধ্যেই যেমন সুগন্ধ মাখা আছে ঠিক এই মডেলরাও তোমার-তোমাদের জীবনকে পূর্ণতায় ভরিয়ে দিতে পারে ।
শুধু সময় করে একবার মডেলদের কাছে টেনে ভালোবেসে দেখো ।

কবি পরিচিতি- জন্ম ১৯৯৫ সালের ৮ই নভেম্বর ত্রিপুরার আগরতলায় (পূর্ব গান্ধীগ্রাম) এক দরিদ্র দেবনাথ পরিবারে। ছোট থেকে শুধু দুঃখ আর কষ্টকেই সঙ্গী করে বড়ো হয়েছে। সুখ কি জিনিস সেটা দেখার সৌভাগ্য হয়নি। ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখে একদিন Air hostage হবে। B.A . পাসের পর Entrance দিয়ে সেই সুযোগও অর্জন করে তবে টাকার অভাবে যোগদান করতে পারেনি। তারপর স্বপ্ন দেখে সংবাদ পাঠক হওয়ার। বাংলা বিষয়ে মাস্টার্স করার সময় অর্জন করে সেই সুযোগ। তারপর সুযোগ আসে মডেলিং-এ। একে একে অনেক গুলো মডেলিং করে বর্তমানে একজন সফল পেশাগত মডেল। একাধিক award এখন তার ঝুলিতে। তার পাশাপাশি নিজের গাওয়া গানের অ্যালবামও রয়েছে। বর্তমানে ত্রিপুরার সাহিত্য ম্যাগাজিন মনন স্রোতের মডেল এবং ত্রিপুরা রংবাজ ইউটিউব চ্যানেলের অভিনেতা। হলিক্রস বি . এড . কলেজের বর্তমানে তৃতীয় সেমেস্টারের ছাত্র। শখ রয়েছে কবিতা লেখা ও আঁকায় ।

মডেল হিসেবে তুমি


            - সুমন দেবনাথ

তুমি কখনো মডেলিং -র খাতায় নাম লিখিয়েছো ?
লেখাওনি ?
কি বলছো ?
আরে তবে শোনো বলছি ।
মডেলিং করা খুব সহজ জানো তো?
সুন্দর করে কথা বলা ,
একটু ঠিক-ঠাক করে বসা , চলা এটাই তো মডেলিং ।
তাই না ?
আসলে মডেলরা খুব আরামে থাকে জানো তো ?
কোনো সমস্যাই নেই তাদের জীবনে ।
একটা অনুষ্ঠানের প্রতিযোগি হয়ে নাম লেখাতে গেলেও তোমার শরীরের প্রতিটা অংশকে মনোযোগ দিয়ে সমান ভাবে পরীক্ষা পাশ করতে হয় ।
কোথাও আবার তোমাকে রোদে দাঁড়িয়ে , বৃষ্টিতে ভিজে নিজের শরীরের মাধ্যমে অপরকে মনোরন্জিত করতে হবে , নয়তো তোমার নাম থাকবে শেষের পাতায় ।
সুযোগে তোমাকে অনেক হাত স্পর্শ করতে চাইবে , সেই খেলা থেকেও নিজ ইচ্ছায় তোমাকে পরাজয় হয়ে ফিরে আসতে হবে ।
নয়তো পরিবারের নাম বদনাম হবে ।
কিন্তু তুমি নক্ষত্র হও সবাই চাইবে ।
কখনো বিছানা ভাগ করার প্রস্তাব আসে তবে ,
নিজ বদনাম না রটাতে কেউ পিছিয়ে যায় আর , কেউ উজ্বল হতে অপরিচিত কারোর বুকে রাত কাটায় ।
তবুও মডেলদের মুখে হাসি রাখতে হয় ।
কারণ হাসি ছাড়া তোমাকে কেউ কাছে টানবে না যে !
কাজের সুযোগ আসবেনা যে !
ছবিতে তাদের সুন্দর দেখাবেনা যে !
বাড়িতে নিজ হাতে জল না নিয়ে খাওয়া ব্যক্তিটাও মডেল হিসেবে আরেক জনকে নেশাক্ত করে দিতে পারে শুধু পরিবার চালানোর কথা ভেবে ।
মডেলদের আবার কিসের দুঃখ ?
শরীরের প্রতিটি অংশ দিয়ে রূপ ঝরাতে তাদেরকে অপরের কথায় নিজ শরীরকে ভাঙতে-গড়তে হয় ।
এটা আবার কিসের কষ্ট ?
ঠিক ভাবছো ।
আসলে মডেলরা শুধু ভালোবাসা দিতে নয় ,
তারা ভালোবাসা পেতেও চায় ।
মডেল কথাটির মধ্যেই যেমন সুগন্ধ মাখা আছে ঠিক এই মডেলরাও তোমার-তোমাদের জীবনকে পূর্ণতায় ভরিয়ে দিতে পারে ।
শুধু সময় করে একবার মডেলদের কাছে টেনে ভালোবেসে দেখো ।

কবি পরিচিতি- জন্ম ১৯৯৫ সালের ৮ই নভেম্বর ত্রিপুরার আগরতলায় (পূর্ব গান্ধীগ্রাম) এক দরিদ্র দেবনাথ পরিবারে। ছোট থেকে শুধু দুঃখ আর কষ্টকেই সঙ্গী করে বড়ো হয়েছে। সুখ কি জিনিস সেটা দেখার সৌভাগ্য হয়নি। ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখে একদিন Air hostage হবে। B.A . পাসের পর Entrance দিয়ে সেই সুযোগও অর্জন করে তবে টাকার অভাবে যোগদান করতে পারেনি। তারপর স্বপ্ন দেখে সংবাদ পাঠক হওয়ার। বাংলা বিষয়ে মাস্টার্স করার সময় অর্জন করে সেই সুযোগ। তারপর সুযোগ আসে মডেলিং-এ। একে একে অনেক গুলো মডেলিং করে বর্তমানে একজন সফল পেশাগত মডেল। একাধিক award এখন তার ঝুলিতে। তার পাশাপাশি নিজের গাওয়া গানের অ্যালবামও রয়েছে। বর্তমানে ত্রিপুরার সাহিত্য ম্যাগাজিন মনন স্রোতের মডেল এবং ত্রিপুরা রংবাজ ইউটিউব চ্যানেলের অভিনেতা। হলিক্রস বি . এড . কলেজের বর্তমানে তৃতীয় সেমেস্টারের ছাত্র। শখ রয়েছে কবিতা লেখা ও আঁকায় ।

★ যতদিন পুঁজিবাদের রাজত্ব ততদিন বেকারত্ব... ★


                                                                                              -রঞ্জিৎ বিশ্বাস 

বর্তমানের এই বৈশ্য তথা পুঁজিবাদী নিয়ন্ত্রিত সমাজে যদি প্রাচীন মুণি-ঋষিরা বেঁচে থাকতেন তবে তারা অবশ্যই বলতেন – 'সবার উপরে মানুষ সত্য,/ তাহার উপরে বেকারত্ব !' হ্যাঁ, আজকের বিশ্বে 'বেকারত্ব' একটা বিষাক্ত সত্য ও জটিলতর সমস্যা। দেশে, রাজ্যে, শহরে, গ্রামে সর্বত্র কিছু থাক বা না থাক বেকার বিরাট আকার ধারণ করে আছে । আর তা দিনকে দিন ৫জি গতিতে বেড়ে চলেছে । যে গতি বর্তমান ভারতে সবচেয়ে বেশী । অর্থাৎ বর্তমান মোদী জামানায় ভারতে বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক মন্দা চরম বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে । যা সম্প্রতি সাবেক আরবিআই-এর গভর্নর রঘুরাম রাজন স্বীকার করে বলেছেন, ভারতের বর্তমান সবচেয়ে বড় সমস্যা হল বেকারত্ব । তাছাড়া আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা তথা বিশ্বব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, নোটবন্দি ও জিএসটির ফলে ভারতের আর্থিক আরও সংকটময় পরিস্থিতিতে । তাছাড়া আরও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে, রাষ্ট্র সংঘের শ্রমবিষয়কসংস্থা "International Labour Organization' (ILO) "World Employment and Social Outlook"
-Trands - 2018 (WESO) শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলেন-- এ বছর ভারতে বেকার যুবক যুবতীদের সংখ্যা দাঁড়াবে ১.৮৬ কোটি এবং ২০১৯ সালে ওই সংখ্যা হবে ১.৮৯ কোটি । গতবছর (২০১৭) শেষে দেশে মোট ১.৮৩ কোটি বেকার ছিল । তাছাড়া ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে ভারতের বেকারত্ব বেড়েছে ৬.১ শতাংশ । গত ৪৫ বছরে যা রেকর্ড । দ্য ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে-এর সমীক্ষা বলছে, নোট বন্দির পর ভারতে বেকারত্ব বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে । প্রসঙ্গত, ভারতের বেকারত্ব নিয়ে B­m¡Qe¡ হচ্ছে আর ত্রিপুরা রাজ্যের কথা কি ভুলে গিয়ে পাপ করতে পারি ! না, LM­e¡C না। অর্থাৎ ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে "Fifth Annual Employment Unemployment Survey, Ministry of Labor and Employment, Govt. of India"- ¢l­f¡VÑ ­j¡a¡­hL ভারতে বেকারের হার সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে আমাদের এই ত্রিপুরা !এই রাজ্যের প্রতি ১০০০ জনে ১৯৭ জন বেকার সব মিলিয়ে বর্তমানে সমগ্র ত্রিপুরাতে সাত লাখের বেশি বেকার । অর্থাৎ, প্রাক্তন সিপিআইএমের আমলে বেকারের যে অবস্থা ছিল বর্তমানে বিজেপি সরকারের আমলে তার অবস্থা আরও করুণ ও দিশাহীন হয়ে আছে । আইএলও এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়-- "গোটা বিশ্বে বেকারত্ব বাড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে যত দ্রুত কর্মক্ষম মানুষ বাড়ছে তার সঙ্গে তাল রেখে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না ।" আইএলও-এর মহাপরিচালক বলেন-- "বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক নয়। এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি এবং যথেষ্ট কর্মসংস্থানের জন্য অশনিসংকেত । এছাড়া এতে গুণগত কর্মসংস্থান হুমকির মুখে ।" বলা বাহুল্য, রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধিগণ কর্মসংস্থান না হওয়া ও বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাকে দায়ী করলেও এই বেকারত্ব, অর্থনৈতিক মন্দা প্রভৃতি জটিল সমস্যার মূলে জন্মদাতা যে একমাত্র পুঁজিবাদ তা কিন্তু আজও তারা স্পষ্টীকরণ করেননি । তাই আজ আমাদের বিশ্ববাসীকে সুস্পষ্টভাবে জেনে রাখা উচিত এই যে বেকার সমস্যা, নৈতিক অবক্ষয়, সাংস্কৃতিক-সামাজিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক উচ্ছৃঙ্খলতা ও মানবতার অবমূল্যায়ন উত্তরোত্তর বেড়েই চলছে এর জন্যে দায়ী একমাত্রমানবতাবিরোধী পুঁজিবাদ । মুষ্টিমেয় কয়েকজন মানুষের টিকিয়ে রাখতে বেশি সংখ্যক মানুষের রক্ত চুষে সঞ্চিত অর্থ বলে সমাজের সব অংশের মানুষের বুদ্ধি, জ্ঞান, ক্ষমতা সবকিছু কিনে নিচ্ছে আর এভাবেই সে সবাইকে গোলামে পরিণত করছে । মূল সূত্রটা হচ্ছে, পুঁজিবাদ আগে অর্থ ছিটিয়ে সার্বিক সমস্যা তৈরি করে রাখো আর বেশি হলে সমাধানের নামে একটা নমুনা দেখাও তারপর আবার অর্থ ছিটিয়ে সমস্যা তৈরি করে চলেছে পুঁজিবাদীরা । এরা লাভ ছাড়া কিছুই বুঝতে চায় না । তাইতো এই বছরেও ভারতের প্রথম ধনীতম ব্যষ্টি মুকেশ আম্বানিই হলেন । যে শুধুমাত্র জিও ব্যবসার দ্বারা ৪১০ কোটি ডলার এখন পর্যন্ত সঞ্চয় করেছেন ! আর এই জন্যই বুঝা প্রয়োজন যে, পুঁজিবাদীরাই সবকিছু চালাচ্ছে । যেকোনো দেশের সরকার তার অঙ্গুলিহেলনে বসে ও চলে । আর তাইতো দেখতে পাচ্ছি, ধুরন্ধর দলীয় রাজনীতির সরকাররা পুঁজিবাদের দালালি করতে গিয়ে দেশের মূল প্রাণশক্তি যুবকদের অবস্থার চাপে ফেলে প্রথমে বেকারে পরিণত করছে তারপর যুবকরাও তাদের বেকারত্বের জ্বালা মেটানোর আশায় পার্টিবাজি করে, চিটিংবাজ এর ফাঁদে পড়ে এবং অপরাধমূলক কাজে নিজেকে জড়িয়ে নিচ্ছে । আইএলও এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,-- "চাকরি না পেলে অল্প বয়সীদের মধ্যে নিরর্থকতা ও অলসতার তৈরি হয় । অপরাধ, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, সহিংসতা ও মাদক গ্রহণের প্রবণতা বাড়ায় ।" হ্যাঁ, প্রসঙ্গত বলতে হচ্ছে, আজ দেশের কিছু বেকার কর্মসংস্থান পেলেও তাদের সাময়িক কিছু অর্থের টোপ দিয়ে একপ্রকার গোলামে পরিণত করা হচ্ছে । কারণ, দেখতে পাই বেকারদের যথার্থ যোগ্যতা যে বিষয়ে সেদিকে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে অন্য দিকে যাওয়ার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে । সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, দেশের কোন কর্মসংস্থান যদিও হয় তাতেও তাদের বাঁচার স্থায়ী গ্যারান্টি আজ নেই । কেননা আমরা দেখতে পাচ্ছি, বছর বছর কিভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ করে ও কোন ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই লাখ-লাখ নিযুক্ত কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হচ্ছে । সাম্প্রতিক কালে তো ভারতের অবস্থা খুবই ভয়ঙ্কর ।অর্থাৎ, মারুতি সুজুকি ৩ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করলো । গত ১৯ বছরের সবথেকে কম গাড়ী বিক্রি হওয়ার ফলে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী কাজ হারিয়েছে বলে জানান ভারতে গাড়ী প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোর সংগঠন সিয়ামের ডাইরেক্টর জেনারেল বিষ্ণু মাথুর । তাছাড়া দেশের বৃহত্তম বিস্কুট প্রস্তুতকারী কোম্পানি পারলে ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে চলছে । সাথে ফুড ডেলিভারি সংস্থা জোমাটো ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । তাছাড়া কম্পিউটার নির্মাতা সংস্থা hp ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে চলছে । আর সবচেয়ে বড় চিন্তার যে, ভারতীয় রেল অন্তত তিন লাখ লোককে ছাঁটাই করতে চলছে ও বিএসএনএল বন্ধের জন্যে প্রায় ২ লাখ কর্মচারী কর্মহীন হতে যাচ্ছে ! সম্প্রতি, যোগী রাজ্যেও কর্মরত হোমগার্ডের চাকরি থেকে ২৫ হাজার কর্মচারীকে ছাঁটাই করে দেওয়া হয়েছে । এবার ভাবুন, দেশের বর্তমান কর্মসংস্থানের অবস্থা কি ভয়ঙ্কর ! মানে, ভাত দেওয়ার মুরদ নাই কিল মরার গোঁসাই বর্তমান বিজেপি সরকার । দেশে এতে করেই দিন দিন বেকারের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে । আজ দেশের ধুরন্ধর রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে 'বেকারত্ব' একটা শক্ত ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে । একে কেন্দ্র করে বার বার সরকারের গদিতে বসতে গলা ফাটিয়ে বলা হয় তারা আসলে নাকি দেশের বেকারত্ব একেবারে দূর করে দেবে, বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করবে, তাদের জন্য প্রচুর কর্মসংস্থান দেবে ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু শেষে সবগুলো অশ্ব ডিম্ব প্রসব করে । মানে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি হচ্ছেও না । না হলে কেন সারা বিশ্বে বেকারত্ব বিপজ্জনকভাবে দিন দিন বাড়ছে । সুতরাং এগুলো পুঁজিপতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর নিতান্তই চরম ভন্ডামী ও কপটতা । তবে কি বিশ্বের জটিল সমস্যা বেকারত্ব দূরীকরণের কোন স্থায়ী সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই ? না, অবশ্যই আছে । আর তা হল স্থানীয় মানুষের ১০০ শতাংশ কর্মসংস্থানের নীতি বা ব্যবস্থাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান অর্থাৎ দেশের মধ্যে প্রথমেই এক একটা সামাজিক-অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করে সেই অঞ্চলে জনগণের ১০০ শতাংশ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে । আর এই ওই অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দ্বারা নোতুন নোতুন ব্লকভিত্তিক শিল্প তৈরীর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব । তবে সাথে সজাগ থাকতে হবে যে, যেহেতু পুঁজিবাদ তার মারাত্মক অর্থনৈতিক শোষণ টিকিয়ে রাখতে বিশ্বজুড়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে শোষণ করছে এবং লাগামহীন অর্থের বহিঃস্রোত করছে তাই প্রথমে স্থানীয় সম্পদ বা অর্থের বহিঃস্রোত বন্ধ করতেই হবে । এতে করেই পুঁজিবাদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে । তাছাড়া যদি কোনো দেশ বা তার কাঁচামাল বাইরে রপ্তানি করে তবে বুঝতে হবে সে দেশ বা অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাস্থ্যপ্রদ নয় । দৃষ্টান্তস্বরূপ, ত্রিপুরা থেকে রপ্তানিকৃত প্রধান অর্থকরী কাঁচামাল রাবার । সর্বোপরি, বিশ্বজুড়ে এখন যে অর্থনৈতিক কাঠামো রয়েছে তা পুরোপুরি খোলনলচে পাল্টে দিতে হবে । গড়ে তুলতে হবে সম্পূর্ণ নোতুন ধরনের অর্থনৈতিক কাঠামো । পুঁজিবাদীদের হাত থেকে আমাদের মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নিতে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ডাক দিতে হবে । সামাজিক-অর্থনৈতিক অঞ্চলের সার্বিক সমস্যা সমাধানে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শুরু করা দরকার । তবেই রাজ্য থেকে দেশ ও বিশ্বে সার্বিক সমস্যা সহ জটিল সমস্যার সমাধান পুরোপুরি ভাবে অবশ্যই সম্ভব। মনে রাখা দরকার, অন্যের কোলে পিঠে চড়ে নিজের আসল শক্তির পরিচয় হয় না নিজের পায়ে চলাতেই আপন শক্তি প্রমাণিত হয় । আর তার জন্যে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার সমূলে পতন ঘটাতে আরেকটা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সংগ্রামে নামতে হবেই । এছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই ।

লেখক পরিচিতি - লেখক শ্রী রঞ্জিৎ বিশ্বাস, জন্ম গ্রহণ করেন ১৫/০৪/ ১৯৯৩ ইং তথা বাংলা পয়লা বৈশাখ ত্রিপুরার এক প্রত্যন্ত গ্রাম দক্ষিণ চড়িলামের এক নিত্যান্ত আর্থিক ভাবে দরিদ্র সাধারণ পরিবারে আমার জন্ম । পিতা শ্রী অরুণ বিশ্বাস ও মাতা শ্রীমতি অঞ্জু বিশ্বাস'র একমাত্র পুত্র । আর্থিক দারিদ্র্যের মধ্যেই পুঁথিগত বিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে । বর্তমানে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় জড়িত ও গৃহ শিক্ষকতাই একমাত্র উপার্জনের রাস্তা । তিনি বইপোকা মানুষ । অজানাকে জানা ও জানাকে আরো গভীর ভাবে জানা তাঁর নেশা । নান্দনিক জগতে গান, কবিতা, নাটক, অভিনয়, সঞ্চালন ইত্যাদি করতে অন্তর থেকে ভালোবাসে । উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ জীবনে রাজ্য স্তরীয় বহু নাটকে অভিনয় করেছেন। তিনি নব্য-মানবতাবাদী, প্রাউটবাদী, প্রতিবাদী ও বাস্তববাদী । নেতাজী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম যে জাতির সেই জাতির গৌরবোজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যে কিছু করে যেতে কর্মে রত । আর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এর জন্যেই কাজ করে যেতে চান । সর্বোপরি তাঁর একটাই লক্ষ্য একটা অখন্ড আদর্শ মানুষের সমাজ গঠিত হোক।

★ যতদিন পুঁজিবাদের রাজত্ব ততদিন বেকারত্ব... ★


                                                                                              -রঞ্জিৎ বিশ্বাস 

বর্তমানের এই বৈশ্য তথা পুঁজিবাদী নিয়ন্ত্রিত সমাজে যদি প্রাচীন মুণি-ঋষিরা বেঁচে থাকতেন তবে তারা অবশ্যই বলতেন – 'সবার উপরে মানুষ সত্য,/ তাহার উপরে বেকারত্ব !' হ্যাঁ, আজকের বিশ্বে 'বেকারত্ব' একটা বিষাক্ত সত্য ও জটিলতর সমস্যা। দেশে, রাজ্যে, শহরে, গ্রামে সর্বত্র কিছু থাক বা না থাক বেকার বিরাট আকার ধারণ করে আছে । আর তা দিনকে দিন ৫জি গতিতে বেড়ে চলেছে । যে গতি বর্তমান ভারতে সবচেয়ে বেশী । অর্থাৎ বর্তমান মোদী জামানায় ভারতে বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক মন্দা চরম বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে । যা সম্প্রতি সাবেক আরবিআই-এর গভর্নর রঘুরাম রাজন স্বীকার করে বলেছেন, ভারতের বর্তমান সবচেয়ে বড় সমস্যা হল বেকারত্ব । তাছাড়া আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা তথা বিশ্বব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, নোটবন্দি ও জিএসটির ফলে ভারতের আর্থিক আরও সংকটময় পরিস্থিতিতে । তাছাড়া আরও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে, রাষ্ট্র সংঘের শ্রমবিষয়কসংস্থা "International Labour Organization' (ILO) "World Employment and Social Outlook"
-Trands - 2018 (WESO) শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলেন-- এ বছর ভারতে বেকার যুবক যুবতীদের সংখ্যা দাঁড়াবে ১.৮৬ কোটি এবং ২০১৯ সালে ওই সংখ্যা হবে ১.৮৯ কোটি । গতবছর (২০১৭) শেষে দেশে মোট ১.৮৩ কোটি বেকার ছিল । তাছাড়া ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে ভারতের বেকারত্ব বেড়েছে ৬.১ শতাংশ । গত ৪৫ বছরে যা রেকর্ড । দ্য ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে-এর সমীক্ষা বলছে, নোট বন্দির পর ভারতে বেকারত্ব বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে । প্রসঙ্গত, ভারতের বেকারত্ব নিয়ে B­m¡Qe¡ হচ্ছে আর ত্রিপুরা রাজ্যের কথা কি ভুলে গিয়ে পাপ করতে পারি ! না, LM­e¡C না। অর্থাৎ ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে "Fifth Annual Employment Unemployment Survey, Ministry of Labor and Employment, Govt. of India"- ¢l­f¡VÑ ­j¡a¡­hL ভারতে বেকারের হার সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে আমাদের এই ত্রিপুরা !এই রাজ্যের প্রতি ১০০০ জনে ১৯৭ জন বেকার সব মিলিয়ে বর্তমানে সমগ্র ত্রিপুরাতে সাত লাখের বেশি বেকার । অর্থাৎ, প্রাক্তন সিপিআইএমের আমলে বেকারের যে অবস্থা ছিল বর্তমানে বিজেপি সরকারের আমলে তার অবস্থা আরও করুণ ও দিশাহীন হয়ে আছে । আইএলও এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়-- "গোটা বিশ্বে বেকারত্ব বাড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে যত দ্রুত কর্মক্ষম মানুষ বাড়ছে তার সঙ্গে তাল রেখে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না ।" আইএলও-এর মহাপরিচালক বলেন-- "বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক নয়। এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি এবং যথেষ্ট কর্মসংস্থানের জন্য অশনিসংকেত । এছাড়া এতে গুণগত কর্মসংস্থান হুমকির মুখে ।" বলা বাহুল্য, রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধিগণ কর্মসংস্থান না হওয়া ও বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাকে দায়ী করলেও এই বেকারত্ব, অর্থনৈতিক মন্দা প্রভৃতি জটিল সমস্যার মূলে জন্মদাতা যে একমাত্র পুঁজিবাদ তা কিন্তু আজও তারা স্পষ্টীকরণ করেননি । তাই আজ আমাদের বিশ্ববাসীকে সুস্পষ্টভাবে জেনে রাখা উচিত এই যে বেকার সমস্যা, নৈতিক অবক্ষয়, সাংস্কৃতিক-সামাজিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক উচ্ছৃঙ্খলতা ও মানবতার অবমূল্যায়ন উত্তরোত্তর বেড়েই চলছে এর জন্যে দায়ী একমাত্রমানবতাবিরোধী পুঁজিবাদ । মুষ্টিমেয় কয়েকজন মানুষের টিকিয়ে রাখতে বেশি সংখ্যক মানুষের রক্ত চুষে সঞ্চিত অর্থ বলে সমাজের সব অংশের মানুষের বুদ্ধি, জ্ঞান, ক্ষমতা সবকিছু কিনে নিচ্ছে আর এভাবেই সে সবাইকে গোলামে পরিণত করছে । মূল সূত্রটা হচ্ছে, পুঁজিবাদ আগে অর্থ ছিটিয়ে সার্বিক সমস্যা তৈরি করে রাখো আর বেশি হলে সমাধানের নামে একটা নমুনা দেখাও তারপর আবার অর্থ ছিটিয়ে সমস্যা তৈরি করে চলেছে পুঁজিবাদীরা । এরা লাভ ছাড়া কিছুই বুঝতে চায় না । তাইতো এই বছরেও ভারতের প্রথম ধনীতম ব্যষ্টি মুকেশ আম্বানিই হলেন । যে শুধুমাত্র জিও ব্যবসার দ্বারা ৪১০ কোটি ডলার এখন পর্যন্ত সঞ্চয় করেছেন ! আর এই জন্যই বুঝা প্রয়োজন যে, পুঁজিবাদীরাই সবকিছু চালাচ্ছে । যেকোনো দেশের সরকার তার অঙ্গুলিহেলনে বসে ও চলে । আর তাইতো দেখতে পাচ্ছি, ধুরন্ধর দলীয় রাজনীতির সরকাররা পুঁজিবাদের দালালি করতে গিয়ে দেশের মূল প্রাণশক্তি যুবকদের অবস্থার চাপে ফেলে প্রথমে বেকারে পরিণত করছে তারপর যুবকরাও তাদের বেকারত্বের জ্বালা মেটানোর আশায় পার্টিবাজি করে, চিটিংবাজ এর ফাঁদে পড়ে এবং অপরাধমূলক কাজে নিজেকে জড়িয়ে নিচ্ছে । আইএলও এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,-- "চাকরি না পেলে অল্প বয়সীদের মধ্যে নিরর্থকতা ও অলসতার তৈরি হয় । অপরাধ, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, সহিংসতা ও মাদক গ্রহণের প্রবণতা বাড়ায় ।" হ্যাঁ, প্রসঙ্গত বলতে হচ্ছে, আজ দেশের কিছু বেকার কর্মসংস্থান পেলেও তাদের সাময়িক কিছু অর্থের টোপ দিয়ে একপ্রকার গোলামে পরিণত করা হচ্ছে । কারণ, দেখতে পাই বেকারদের যথার্থ যোগ্যতা যে বিষয়ে সেদিকে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে অন্য দিকে যাওয়ার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে । সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, দেশের কোন কর্মসংস্থান যদিও হয় তাতেও তাদের বাঁচার স্থায়ী গ্যারান্টি আজ নেই । কেননা আমরা দেখতে পাচ্ছি, বছর বছর কিভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ করে ও কোন ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই লাখ-লাখ নিযুক্ত কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হচ্ছে । সাম্প্রতিক কালে তো ভারতের অবস্থা খুবই ভয়ঙ্কর ।অর্থাৎ, মারুতি সুজুকি ৩ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করলো । গত ১৯ বছরের সবথেকে কম গাড়ী বিক্রি হওয়ার ফলে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী কাজ হারিয়েছে বলে জানান ভারতে গাড়ী প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোর সংগঠন সিয়ামের ডাইরেক্টর জেনারেল বিষ্ণু মাথুর । তাছাড়া দেশের বৃহত্তম বিস্কুট প্রস্তুতকারী কোম্পানি পারলে ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে চলছে । সাথে ফুড ডেলিভারি সংস্থা জোমাটো ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । তাছাড়া কম্পিউটার নির্মাতা সংস্থা hp ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে চলছে । আর সবচেয়ে বড় চিন্তার যে, ভারতীয় রেল অন্তত তিন লাখ লোককে ছাঁটাই করতে চলছে ও বিএসএনএল বন্ধের জন্যে প্রায় ২ লাখ কর্মচারী কর্মহীন হতে যাচ্ছে ! সম্প্রতি, যোগী রাজ্যেও কর্মরত হোমগার্ডের চাকরি থেকে ২৫ হাজার কর্মচারীকে ছাঁটাই করে দেওয়া হয়েছে । এবার ভাবুন, দেশের বর্তমান কর্মসংস্থানের অবস্থা কি ভয়ঙ্কর ! মানে, ভাত দেওয়ার মুরদ নাই কিল মরার গোঁসাই বর্তমান বিজেপি সরকার । দেশে এতে করেই দিন দিন বেকারের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে । আজ দেশের ধুরন্ধর রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে 'বেকারত্ব' একটা শক্ত ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে । একে কেন্দ্র করে বার বার সরকারের গদিতে বসতে গলা ফাটিয়ে বলা হয় তারা আসলে নাকি দেশের বেকারত্ব একেবারে দূর করে দেবে, বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করবে, তাদের জন্য প্রচুর কর্মসংস্থান দেবে ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু শেষে সবগুলো অশ্ব ডিম্ব প্রসব করে । মানে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি হচ্ছেও না । না হলে কেন সারা বিশ্বে বেকারত্ব বিপজ্জনকভাবে দিন দিন বাড়ছে । সুতরাং এগুলো পুঁজিপতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর নিতান্তই চরম ভন্ডামী ও কপটতা । তবে কি বিশ্বের জটিল সমস্যা বেকারত্ব দূরীকরণের কোন স্থায়ী সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই ? না, অবশ্যই আছে । আর তা হল স্থানীয় মানুষের ১০০ শতাংশ কর্মসংস্থানের নীতি বা ব্যবস্থাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান অর্থাৎ দেশের মধ্যে প্রথমেই এক একটা সামাজিক-অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করে সেই অঞ্চলে জনগণের ১০০ শতাংশ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে । আর এই ওই অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দ্বারা নোতুন নোতুন ব্লকভিত্তিক শিল্প তৈরীর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব । তবে সাথে সজাগ থাকতে হবে যে, যেহেতু পুঁজিবাদ তার মারাত্মক অর্থনৈতিক শোষণ টিকিয়ে রাখতে বিশ্বজুড়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে শোষণ করছে এবং লাগামহীন অর্থের বহিঃস্রোত করছে তাই প্রথমে স্থানীয় সম্পদ বা অর্থের বহিঃস্রোত বন্ধ করতেই হবে । এতে করেই পুঁজিবাদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে । তাছাড়া যদি কোনো দেশ বা তার কাঁচামাল বাইরে রপ্তানি করে তবে বুঝতে হবে সে দেশ বা অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাস্থ্যপ্রদ নয় । দৃষ্টান্তস্বরূপ, ত্রিপুরা থেকে রপ্তানিকৃত প্রধান অর্থকরী কাঁচামাল রাবার । সর্বোপরি, বিশ্বজুড়ে এখন যে অর্থনৈতিক কাঠামো রয়েছে তা পুরোপুরি খোলনলচে পাল্টে দিতে হবে । গড়ে তুলতে হবে সম্পূর্ণ নোতুন ধরনের অর্থনৈতিক কাঠামো । পুঁজিবাদীদের হাত থেকে আমাদের মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নিতে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ডাক দিতে হবে । সামাজিক-অর্থনৈতিক অঞ্চলের সার্বিক সমস্যা সমাধানে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শুরু করা দরকার । তবেই রাজ্য থেকে দেশ ও বিশ্বে সার্বিক সমস্যা সহ জটিল সমস্যার সমাধান পুরোপুরি ভাবে অবশ্যই সম্ভব। মনে রাখা দরকার, অন্যের কোলে পিঠে চড়ে নিজের আসল শক্তির পরিচয় হয় না নিজের পায়ে চলাতেই আপন শক্তি প্রমাণিত হয় । আর তার জন্যে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার সমূলে পতন ঘটাতে আরেকটা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সংগ্রামে নামতে হবেই । এছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই ।

লেখক পরিচিতি - লেখক শ্রী রঞ্জিৎ বিশ্বাস, জন্ম গ্রহণ করেন ১৫/০৪/ ১৯৯৩ ইং তথা বাংলা পয়লা বৈশাখ ত্রিপুরার এক প্রত্যন্ত গ্রাম দক্ষিণ চড়িলামের এক নিত্যান্ত আর্থিক ভাবে দরিদ্র সাধারণ পরিবারে আমার জন্ম । পিতা শ্রী অরুণ বিশ্বাস ও মাতা শ্রীমতি অঞ্জু বিশ্বাস'র একমাত্র পুত্র । আর্থিক দারিদ্র্যের মধ্যেই পুঁথিগত বিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে । বর্তমানে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় জড়িত ও গৃহ শিক্ষকতাই একমাত্র উপার্জনের রাস্তা । তিনি বইপোকা মানুষ । অজানাকে জানা ও জানাকে আরো গভীর ভাবে জানা তাঁর নেশা । নান্দনিক জগতে গান, কবিতা, নাটক, অভিনয়, সঞ্চালন ইত্যাদি করতে অন্তর থেকে ভালোবাসে । উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ জীবনে রাজ্য স্তরীয় বহু নাটকে অভিনয় করেছেন। তিনি নব্য-মানবতাবাদী, প্রাউটবাদী, প্রতিবাদী ও বাস্তববাদী । নেতাজী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম যে জাতির সেই জাতির গৌরবোজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যে কিছু করে যেতে কর্মে রত । আর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এর জন্যেই কাজ করে যেতে চান । সর্বোপরি তাঁর একটাই লক্ষ্য একটা অখন্ড আদর্শ মানুষের সমাজ গঠিত হোক।

উড্ডয়ন


                - দিপ্সী দে
রাতের শেষে,
সোনালী আলোর দেশে
চাদর জড়িয়ে মায়ের কাছে,
আরেকটু শুয়ে থাকার বাহানা।
ফোন হাতে,
যার কথায় সুন্দর সকালের সূচনা
সে এক উড্ডয়ন।
বিকেলে হাজার কাজ,
টিউশন গানকরার মাঝে
যার কথা মনে পড়ে সে,
   উড্ডয়ন।
মাঝরাত,
যখন সবাই ঘুমিয়ে কাতর
আমার কবিতার খাতা ভরে উঠে
যার নামে সে তুমি উড্ডয়ন।
যে নিজেকে বেডবয় বলে,
কাজের মাঝে আমার-
বেয়াদবি সহ্য করে সে উড্ডয়ন।
কবিতার যে অন্তমিল নেই
ভালোবাসা যে সীমাহীন
আপেক্ষায়,
টাইম লাইন ধরে হেটে যাবো দুজনে,
বলবো ভালোবাসি।

কবি পরিচিতি -জন্ম :পশ্চিম ত্রিপুরার  আগরতলা যোগেন্দ্রনগরে।1999সালের 14ই জানুয়ারী।
পেশায় বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী।তিনি কবিতা খুব ভালোবাসেন ছোট বেলাতেই কবিতার খাতা ছুঁয়ে ছিলেন।নিজে সংগীত নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষায় পাশ করেছেন।ছোট বেলা থেকেই সাহিত্যে তার ঝোঁক ছিলেন। সদ্য এইবিষয়ে রাজ্য সরকার থেকে পুরস্কার পেয়েছেন।তিনি সুযোগ পেয়েছেন বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট  কবিদের থেকে তালিম নেবার।তিনি বলেছেন যে তিনি কবিতা লেখা শিখছেন। বিদ্যালয় জীবন থেকে ওনার লেখা প্রকাশ শুরু হয়। তিনি বিবিধ পত্রিকার সাথে যুক্ত।মননস্রোত অশ্রুত নবোণ্মেষ পোস্টম্যান পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে ওনার লেখা প্রকাশিত হয়।তাছাড়াও 60 টি পত্রিকার সাথে উনি যুক্ত।উনি যাকে নিয়ে কবিতা লিখতে পছন্দ করেন সে উড্ডয়ন।তিনি সমাজে পথ শিশুদের সাহায্যের জন্য সচেষ্ট থাকেন।খোলা আকাশ নামক সামাজিক মাধ্যম সম্পাদনা করেন। ইউটিউবের বিভিন্ন চ্যানেলে তার কবিতা প্রকাশিত হয়।তিনি তার লেখার মাধ্যমে সবার মন জয় করতে চান।