সম্পাদকীয়.........
রথযাত্রা হোন মনের: প্রতিবছর আষাঢ় মাসে শুক্ল দ্বিতীয়াতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা শুরু হয়৷ রথযাত্রার ইতিহাস যদি বলা হয় তাহলে কথিত আছে, ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ অনুযায়ী, কৃষ্ণ তাঁর ভক্ত রাজা ইন্দ্রদ্যন্মুর সম্মুখে আবিভূর্ত হয়ে পুরীর সমুদ্রতটে ভেসে আসা একটি কাষ্ঠখণ্ড দিয়ে তাঁর মূর্তি নির্মাণের আদেশ দেন। মূর্তিনির্মাণের জন্য রাজা একজন উপযুক্ত কাষ্ঠশিল্পীর সন্ধান করতে থাকেন। তখন এক রহস্যময় বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কাষ্ঠশিল্পী তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হন এবং মূর্তি নির্মাণের জন্য কয়েকদিন সময় চেয়ে নেন। সেই কাষ্ঠশিল্পী রাজাকে জানিয়ে দেন মূর্তি নির্মাণকালে কেউ যেন তাঁর কাজে বাধা না দেন। বন্ধ দরজার আড়ালে শুরু হয় কাজ। রাজা ও রানি সহ সকলেই নির্মাণকাজের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ওঠেন। প্রতিদিন তাঁরা বন্ধ দরজার কাছে যেতেন এবং শুনতে পেতেন ভিতর থেকে খোদাইয়ের আওয়াজ ভেসে আসছে। ৬-৭ দিন বাদে যখন রাজা বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন এমন সময় আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়। অত্যুৎসাহী রানি কৌতুহল সংবরণ করতে না পেরে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। দেখেন মূর্তি তখনও অর্ধসমাপ্ত এবং কাষ্ঠশিল্পী অন্তর্ধিত। এই রহস্যময় কাষ্ঠশিল্পী ছিলেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। মূর্তির হস্তপদ নির্মিত হয়নি বলে রাজা বিমর্ষ হয়ে পড়েন। কাজে বাধাদানের জন্য অনুতাপ করতে থাকেন। তখন দেবর্ষি নারদ তাঁর সম্মুখে আবির্ভূত হন। নারদ রাজাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন এই অর্ধসমাপ্ত মূর্তি পরমেশ্বরের এক স্বীকৃত স্বরূপ ও এই অসম্পূর্ণ রুপেই পূজা শুরু করতে বলেন। কথিত আছে, আষাঢ় মাসের শুক্ল দ্বিতীয়ায় বলরাম ও বোন সুভদ্রার সঙ্গে মাসির বাড়ি যান জগন্নাথ। মাসির বাড়ি অর্থাৎ ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুন্ডিচার বাড়ি। সেখান থেকে আবার সাতদিন পর মন্দিরে ফিরে আসেন জগন্নাথ। এটাকেই জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি যাওয়া বলে৷ পরপর তিনটি সুসজ্জিত রথে চেপে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে যান জগন্নাথ। এই যাওয়াকে সোজা রথ আর ফিরে আসাকে উল্টো রথ বলে। তবে আমি বলবো রথযাত্রা হোক মন এবং নিজের জীবনের। জীবনে পিছিয়ে না পড়ে রথের মতো নিজের জীবনের সুখ-দুঃখের দড়ি ঈশ্বরের প্রতি টেনে নিয়ে যাওয়া উচিৎ। যদি মনের রথ(ঈশ্বরের সাধনা) টেনে নিয়ে যাওয়া যায় তাহলে এই পৃথিবীতে সর্বশ্রেষ্ঠ হবে৷ আমাদের জুন মাসের সাহিত্যের রথ টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ সহযোগিতা করেছে কবি ও নবোন্মেষ প্রধান আহ্বায়ক পান্থ দাস। কবি পান্থ দাস'কে নবোন্মেষ পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানই। সবার জন্য রইলো শুভ কামনা।
ধন্যবাদান্তে,
গৌরাঙ্গ সরকার
সম্পাদক, নবোন্মেষ
অন্ধকারের প্রেম
✒️সুমিতা বর্ধন
অন্ধকার রাত টা বড্ড কাটে আমায়
সেই রাতের জন্য অপেক্ষা করেছি
কতো বছর,কতো মাস, কতো দিন
সেই রাত টা এসেছিলো একদিন
গভীর আলিঙ্গনে জড়িয়ে নিয়েছিলো আমায়
নিকষ কালো অন্ধকারকে
ভালোবেসে বুকে তুলে নিয়েছিলাম আমিও
অন্ধকারের বুক বেয়ে নেমে আসা স্পর্শ,
আমার মনে শিহরণ জাগিয়েছিল,
শিৎকারে কেঁপে উঠেছিলাম সেদিন,
দেখেছিলাম ভালবাসার নগ্ন রূপ
সেই রূপের মোহ জালে বিদ্ধ হয়েছিলাম সেদিন (কিন্তু)
হঠাৎ অন্ধকারের বুক চিরে এলো-
এক ছটাক আলো,
সেই আলোর ছটায়
চোখে পরতেই সম্বিত ফেরে,
দেখি অনেক দূরে দাঁড়িয়ে
সেই মরীচিকা।
আর কত
✒️গৌরব নাথ
আর কত?
তবে একথা বলার জন্য পর্যাপ্ত অপেক্ষা ঠিকই কি করে নিয়েছি আমি
অবশ্য কমও করিনি,
ঠিক এভাবেই আমি
নিজেই নিজের কথার জন্য করোর
মগজে গেলে মনে যাই না
মনে গেলে মগজে যাই না।
প্রতিদিন কবিতানামের লেখা নষ্ট লিপিতে
নয়তো পকেটে ভেজা কাগজের মতো হয়ে যায়
ছিঁড়তে ছিঁড়তে টুকরো হয়- তারপর হারিয়ে যায়, ঝাঁটা খায়
ঠিক যেমনটা মায়ের হাতে বোনা কাথা ইঁদুর খেলে হয়।
হোক অবসান তবুও
✒️গোপা রায়
এক অনন্ত প্রতীক্ষার অবসানে
থাকুক মোহনার উত্তাপ,
শিশির বেয়ে রৌদ্র নেমে আসুক-
বুকের মধ্যাচলে।
মাধবীর আলিঙ্গনে বৃক্ষটা থাকুক ফুলেল শুভেচ্ছায়।
নিঃসঙ্গ প্রহরগুলো আজ
মেলুক পাখনা শুঁয়োপোকার পরিচ্ছদ খুলে।
আজ আগলের আগল খুলে যাক---
সপ্ত দুয়ার ভেদে।
মেঘের পাঁপড়ি ঝরে পড়ুক
তৃষ্ণার্ত বারান্দার ঠোঁটে।
আজ বড্ড বেশি সমতল
হোক মৃত্তিকার চড়াই শরীর।
পথের ঠিকানা পথের বুকে
রাখুক সরলরৈখিক নিঃশ্বাস।
আজ তবুও হোক প্রতীক্ষার অবসান।।
প্রানের রবি
✒️সঙ্গীতা সেন
তাঁকে বিশ্বকবি বললে তিনি অনেক দূরে চলে যান, কিন্তু তিনি যে আমার খুব কাছের। ভালো লাগায়-মন্দ লাগায়, আঘাতে-ভালোবাসায়, মিলনে -বিরহে তিনি আমার প্রিয় বন্ধু হয়ে আছেন।
রবীন্দ্রনাথ মানে গান,কবিতা, গল্প আর উপন্যাস- না না, আমার কাছে সখা,পিতা,ঈশ্বর। ছোটবেলার শিশু রবি থেকে বুড়ো রবি - 'মাগো আমায় ছুটি দিতে বলো' থেকে শুরু করে 'মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে'।
গানে গানে তাঁকে প্রণাম জানাই, অভিযোগ জানাই,প্রেম জানাই। আমি এপারে, তিনি ওপারে, আমার গানের সুর তাঁর চরণ ছুঁয়ে যায়। তাঁর আর আমার মাঝখানকার পথ সীমাহীন, এর শেষ কোথায় জানা নেই। কিন্তু এই সীমাহীন পথের শেষে রবি আছেন।
গভীর ব্যাথাভরা এই জীবনে
'আমার ব্যাথা যখন আনে আমায় তোমার দ্বারে'।
কবির দুঃখগুলো যেমন কবিকে ইশ্বরের নিকট নিয়ে গেছে। তেমনি আমার দুঃখগুলোও আমাকে রবির নিকট নিয়ে এসেছে। তাঁর গানের মধ্য দিয়েই আমি আমার দুঃখগুলোকে আরো গভীরভাবে চিনতে পারি। যে দুঃখ, ভালোবাসা, আনন্দ, অভিমান কথায় প্রকাশ করতে পারিনা, তা রবির সুরে প্রকাশ করি, তাঁর গানই আমার নিঃসঙ্গ দিনের সঙ্গী হয়ে ওঠে।
কখনো কখনো মনে হয়, আমার অন্তরের বাণীই তাঁর সুরে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে। তাই তো সে আমার বড্ড কাছের - 'আমার গানের রবি, প্রানের রবি... আমার রবি'।
"গানের ভিতর দিয়ে যখন দেখি ভুবনখানি,
তখন তারে চিনি আমি, তখন তারে জানি"
নুডলসের গপ্পো (তৃতীয় পর্ব)
✒️রাজা দেবরায়
গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম যে সি.আর.এস বা 'চাইনিজ রেস্তোরাঁ সিন্ড্রোম'কে ইংরেজিতেও কেউ ভালো বলছেননা। এবার ইংরেজিতেই মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট সম্পর্কে আরও কিছু জেনে নিই আমরা।
What's the science behind MSG?
The flavour enhancer works when molecules of MSG bind to receptors on the tongue that naturally sense the key flavour chemical it contains - glutamate.
Glutamate is a compound naturally found in foods from breast milk to parmesan cheese.
MSG was patented in 1909 by the Japanese chemist Kikunae Ikeda, who gave his invention the name "the essence of taste" and described its ineffable flavour as "umami", now recognised as one of the five basic flavours.
Although anecdotal claims that MSG has adverse effects have proliferated since the mid-20th Century, no studies have established any accepted mechanism for harm.
A 2019 review of scientific literature in the journal Food Science and Food Safety concluded that claims linking MSG to an assortment of ailments were unsubstantiated.
(চলবে)
রসিক ঠিকেদার
✒️দীপক রঞ্জন কর
হাওড়ার ঠিকেদার হরিপদ পালদা
শখ করে ট্রেন ধরে গিয়েছিল মালদা।
জ্যান্ত মাছ চাই চিংড়ি, কই ,গলদা,
শহর হতে আনবে তাজা টেংরা,পাবদা।
ট্রেন থেকে নেমে দেখে পকেট খানি ফাঁকা,
হাত দিতেই বুঝে যায় উধাও সব টাকা।
কিযে হলো ভাবে সে,সেজে গেল বোকা,
মাছ খেতে এসে শেষে খেয়ে গেল ধোকা।
ফেরা ট্রেনে বাড়ি ফিরে রসিক ঠিকেদার
পালদা'র মালদা যাওয়ার স্বপ্নই ছারখার।
নগ্নতা
✒️অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী
প্রতিটি মানুষের মনেই নগ্নতার বসবাস।
আর আচার আচরণেই তাঁর বহিঃপ্রকাশ।।
যুগ যুগ ধরে আমরা নগ্নতা প্রতিপালন করি।
কখনো বা কেউ মহোৎসবে উৎযাপনও করি।।
কিন্তু আমাদের ভাবা উচিৎ
এগুলো পাশবিক বৈশিষ্ট্য ছাড়া আর কিছু নয়।
মনুষ্যত্ব ভুলে মানুষ পশুতে পরিনত হয়।।
ছন্দহারা জীবনে নগ্নতা মাতাল হয়ে উঠে
নিস্তব্ধ জীবন পথের কন্ঠরুদ্ধ মুখে।
সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো হঠাৎ করে জলন্ত লার্ভা ভেসে উঠে সমাজের বুকে।।
প্রবল গতিতে ছুটে চলে রক্তধারা অনির্বার।
চারিদিকে শুধু হাহাকার করুণ আর্তনাদ।।
ধর্ষন, খুন নিয়েই প্রতিদিনের প্রভাত সমাচার।
শহরে নগরে অলিতে গলিতে শুধু নগ্নতার ফাঁদ।।
টাকার বড়াই
✒️বিপ্লব গোস্বামী
টাকা আছে বলে তাই
সবার সম্মান পাই,
প্রধান অতিথি হয়ে
সভা-অনুষ্ঠানে যাই।
টাকা আছে বলে তাই
গ্ৰামের মোড়ল মশাই,
ইচ্ছে মতো যা তা করি
যারে খুশি তারে শাসাই।
টাকা আছে বলে তাই
গায়ের জোর খাটাই,
গার্লফ্রেন্ড সাথে নিয়ে
হোটেলেতে রাত কাটাই।
টাকা আছে বলে তাই
শাশুড়ির প্রিয় জামাই,
শ্যালিকার প্রিয় জিজু
আদর সোহাগ পাই।
টাকা আছে বলে তাই
সবার সম্মান পাই,
মূর্খ হলাম তাতে কি ?
স্যার স্যার বলে সবাই।
আগামীর ভাবনা
✒️গোপাল দে
চলো যাই,ঘুরে আসি কোনো এক অজানা বনপথে,
সকাল সন্ধ্যা যেখানে থাকবেনা কোনো পথশিশুর আর্তনাদ,
দিনের শুরুতে যেখানে থাকবেনা কোনো সন্তানহারা মায়ের কান্না,
শীতাতুর বৃদ্ধার গোঙানির শব্দে যেখানে হবে না কোনো রাত্রিযাপন।
কুয়াশার চাদরে ঢাকা এক নিশ্চুপ নির্জন সকাল উপহার দেব তোমায়,
শুধু পাখীর কলকাকলিতে যেখানে চাপা পড়বে তাজা গোলাবারুদের শব্দ।
দিনশেষে সবুজ অরণ্যে গা এলিয়ে,শত ব্যস্ততা পিছনে ফেলে
আগামীর হাতে তুলে দেবো এক চিলতে হাসি।
বেষ্টনী
✒️গোপাল বনিক
আমরা ভীরু উড়ন্ত পাখির দল,
আকাশের গর্জনে শামুককের খোলসে ঢুকে পড়ি।
আমাদের কোনো যন্ত্রনাবোধ নেই।
শিরা উপশিরায় বইছে জরভরত রক্তের হিমশিতল স্রোত।
আবর্তের বাইরে আসা আমাদের কর্ম নয়।
আমরা ফিসফিস করা পাড়া -প্রতিবেশীর দল।
অসহ্য যন্ত্রনার মাঝে ফুল আর প্রজাপতি নিয়ে খেলা করি।
আমরা ছোট হতে হতে এখন বড্ড ছোট -বড় সীমিত।
তোমার সাথেই চলে যাবো
✒️ জনার্দন
তুমি কি একপ্রস্ত জোনাকীর আলোর মতো?
তাহলে রাতের অন্ধকারেই এসো;
অন্ধকারে তোমাকে দারুন দেখায়।
আমি হয়তো ততটা বুঝতে পারি নি;
কিন্তু লোকে বলে তুমি নাকি ভীষন সুন্দর,
আকাশের তারাগুলোও তোমাকে দেখতে চায়;
তোমার সৌন্দর্য্য ওরা উপভোগ করতে চায়।
যদি পারো একটু সময় দিও;
আর যদি না-ই পারো
তবে স্বপ্নে আসতে একটুও ভুলবে না।
আমি শিউলী বাগানটাকে ঘুচিয়ে রাখবো,
কাঁটায় ভরা গোলাপের বাগানে হয়তো না-ই গেলে;
শিউলীর আলতো ছোঁয়া,
তোমার কোনো বাধা হবে না।
বসন্তের আগুন অনেকটাই নিভে গেছে
এখন শ্রাবণী ধারার জন্যে অপেক্ষায় আছি
যখন বৃষ্টি নামবে,
তখন মধুস্নানে পরিশুদ্ধ হয়েই তোমার সাথেই চলে যাবো;
আসতে কিন্তু একটুও ভুলবে না।
পেছনে পড়ে থাক প্রান্তর
✒️রেহানা বেগম হেনা
চলো দুজনে হাতে হাত রেখে
হেঁটে যাই হাজার আলোকবর্ষ পথ
ভালোবেসে বেসে যাই আরও দূরে
কোনও এক অজানা জগৎ।
আপন খেয়ালে কূজনে দুজনে
চলো যাই মিলিয়ে ঐ অন্ধকার নির্জনে,
চলো যাই বিলীন হয়ে
দুজনে দুটি মনের মাঝে,
চিরদিন চিরকাল
সকাল বিকাল দুপুর সাঁঝে।
মনে করো,
তুমি ভোরের নরম আভায় দূর্বা কোমল
আমি তোমার চিকন ঠোঁটে
সিগ্ধ শিশিরের জল
নয়তো,
তুমি কোনো এক ভোরে ফোটা বেলিফুল
আমি তোমার সমস্তটা জুড়ে মিষ্টি সৌরভ,
কিংবা..
তুমি রাতের অন্ধকার এক আকাশ
আমি তোমার বুকে মিটিমিটি কোন একটি তারা!
অথবা..
তুমি যদি হও কোনো এক নদী
আমি তোমার বুকের উতলা ঢেউ
তুমি যদি চাঁদ হও পূর্ণিমার
আমি তোমার বুকে ঝরা জোছনা
তুমি যদি হও বিকেলের ক্লান্ত পাখি
আমি তোমার অপেক্ষায় থাকা
শান্তির নীড়।
এভাবেই হোক না জানা অজানার স্পর্শ,
চলো না, এভাবে হেঁটে হেঁটে যাই হাজার হাজার আলোকবর্ষ।
কলম
✒️অনুরাগ ভৌমিক
প্রমিত প্রেম নিয়ে আর ব্যস্ত থাকতে চায়না মন,
আকাশের ওপার থেকে যে শব্দ উড়ে আসে-
তার সাথে কীসের মিল,তাও খুঁজে না আর।
তার ও পরে যেখানে স্বপ্ন গ্রাম;
তা পেরিয়ে দিগন্ত বিস্তৃত এক দেশ,নিরব।
ছুটে যায় , শান্ত-শান্তির অণ্বেষণে।
এখটু ধ্যানস্ত হয,
কে যেন পায়েস নিয়ে আসে,কে যেন চোখের জল,
কে যেন,কে যেন একটা পেন্সিল,একটা তিলের নাড়ু,একটু আচার...
না, আরও দূরে আরও আরও দূরে ছুটে চলে,
পথে একটা কলম,রেখে গেছে কেউ।
তুলে নেয়,লিখে 'প্রেম'-
শব্দ ধীরে ধীরে শিব হয়ে উঠে।
সময় বুড়ো হয়, একদিন লক্ষ্য করে কলমটার দিকে তাকিয়ে আছে একটা আলোর শিশু,
উৎসাহ দেখে হাতে দিতে যায়-
সে মিলিয়ে যায় ভীড়ে।
শিশুটি কে আজ ও মাঝে মাঝে খুঁজি...
প্রত্যাশা
✒️মাধুরী লোধ
তুমি ক্ষেতের পাশ দিয়ে যাও লাল শাকের গায়ে ছোঁয়া লাগতেই নিমেষেই লাল রঙ লেপে যায় তোমার ঠোটে
তুমি শশা ঝিঙ্গা র ফুল কে আদর করো ফুল গুলো ফাঁক খুঁজে গোপনে তোমার শাড়ি জুড়ে নক্সা হয়ে ফুটে ।
তুমি পাকা টমেটো তুলবে বলে কোমরে আঁচল গুঁজে উপুড় হলে আধপাকা টমেটো হয় তোমার গাল
তোমার পরনের কলাপাতা রঙের শাড়ি গাজর রঙ্গা ব্লাউজ সীম বরবটি মিষ্টি আলু হয় লজজায় লাল ।
চিত্রাল প্রজাপতি উড়ে কুমড়ো ফুলের আশেপাশে তোমার হৃদয়ে বাজে কোকিল বোল
পাল্্ শাকের পাকা বীচি গুলো চেঁচিয়ে বলে আমায় নাও ঝাঁকায় রেঁধে খাবে ঝোল ।
তুমি ক্ষেতের পাশ দিয়ে যাও ঘাড় ঘুরাতে ঘুরাতে সূর্যমুখীর হয় ঘাড় ব্যথা
তিলফুল বলে আমাকে তুলে নাও সযতনে খোঁপার মালা বানিয়ে নাচবে গাইবে হবে কথকতা ।
তোমার নাকের ডগায় জমে যাচ্ছে কচি কচি ঘাম গাছের ডাব বলে খাও ভাবের জল
লাউ তোল চিচিঙ্গা তোল তোল আলু বেগুন মুলা তাজা তরিতরকারি খেয়ে হাসো খলখল ।
তুমি হাত পাততে গিয়ে ও থমকে দাড়াও মনে হবে লতানো গাছ বাহন হতে চাইছে তোমার
এ যে পরম প্রত্যাশা জীব জড় লতাপাতা মানুষের ও আপন জন কে আঁকড়ে থাকা সকলের জন্য সবার ।
গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ হেমন্ত শীত ও বসন্তে যে কোন দিন যে কোন সময়ে স্বাগত তোমাকে আমার কৃষি আঙ্গিনায়
তুমি হয়ো সেচের জল , মাটি বা জৈবিক ,সার ঔষধি হয়ো আলো বাতাস পোকা দমন প্রকিয়া আরো আরো ফসল ফলাবার প্রত্যাশায় ।
ভালবাসা ভালবাসার গল্প কথা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মাঠে ঘাটে হাটে ঘরে বাইরে
তুমি রোজ এসে মুছিয়ে দিও ঘাম পুষিয়ে দিও শ্রমের দাম মাঠের ফসলকে নিও আপন করে ।
পুরনো মূর্তি
✒️রিপন সিংহ
আমি আজ পুরোনো সেই মূর্তি,
পথের ধারে রেখে চলে গেলি।
ক্ষনিকের জন্য আমাকে সাজিয়েছো
অনেক কিছু মাঙ্গিয়েছো
তোদের চোখে কি এখন আমার প্রতি একটু খানি প্রেম নেই!
পথের ধারে রেখে গেলি যৌবনহীনা বলে
তবে রেখে একদিকে ভালোই হল
ক্ষনিকের প্রেমের সময় দেখেছি তোমাদের ভন্ডামি,
আজ পথের ধারে বসে চোখে পড়লো সমাজের রুপখানি।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)