✒️হাসনাইন সাজ্জাদী
কবিতার সংজ্ঞা নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলার সময় এখনো আসেনি।তবে অনেকগুলো সংজ্ঞা এখন বেকডেটেড হয়ে পড়েছে।'কাব্যাং বাক্যাং মলমকৃতম' বা অলংকৃত বাক্যকে অতীতে কবিতা বলে এসেছি আমরা।আরো জানি 'কাব্য হি যশ সে' বা খ্যাতি অর্জনের জন্য কবিতা লেখা হয়।বলা হয় কবিতা আসে আবেগ থেকে।তাই কবির আবেগ যদি সমাজ ও সভ্যতাকে না বোঝে তবে মানুষ কবিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে।কবিতার পাঠক কোনো কালেই আহামরি ছিল না।তবে বর্তমানের মতো এতো আকাল বোধহয় কবিদের দেখতে হয়নি।কবিতার পাঠক এখন কবিরা।সাধারণের মধ্যে কবিতার পাঠক নেই।কেনো নেই তার উত্তর আমরা কোনো দিন খুঁজতে যাইনি।ফলে কবিতার সঙ্গে মানুষের দূরত্ব বেড়েছে।
কবিতার পাঠক হিসেবে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হলে কবিতাকে মানুষের প্রয়োজনের উপযোগী করতে হবে।আবেগ বা বিনোদন থেকে বের করে কবিতাকে জনস্বার্থ,স্বাস্থ্য ও প্রগতিশীলতার মাধ্যম করতে হবে।আর তা করতে পারলেই কবিতা তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।
সেটা কিভাবে সম্ভব তার আলোচনার আগে বর্তমান কবিতার শ্রেণিবিন্যাস করতে চাই।বলে রাখা ভালো এটা একান্তই আমার মত এবং আমার মতের সঙ্গে অন্যদের মিল নাও হতে পারে।তবুও শত ফুল ফোটানোর প্রয়োজনে আমাকে কিছু কথা বলতে হবে।
কবিতাকে তিন অধ্যায়ে বিবেচনা করতে আমি অনুরোধ করি।
ক.বিনোদন ;
নিজের মত লিখলাম,নিজের মত ছন্দ দিলাম।দে দোল দে দোল ভাব নিলাম।প্রকৃত দোল আসলে আসলো না আসলে না তা নিয়ে ভাবলাম না।ভাব,ভাষা ও বাণীতে হেয়ালি রয়ে গেল।শিশির ভেজা হৃদয়ে সূর্য তাপ পড়তেই উধাও কবিতার প্রয়োজনীয়তা।এমন লক্ষ্যহীন কবিতা।বিজ্ঞানতো নেইই।নেই উত্তর ঔপনিবেশিক বা উত্তর আধুনিক ভাবনা।এমনকি আধুনিকতার লেশমাত্র নেই।আছে পেছনের অনুসরণ।কেউ বাহ বলুক না বলুক কিন্তু নিজে আনন্দ পেলাম।নিজের মত সুখ নিয়ে বেড়ালাম।সাহিত্যে তার কোনো স্থান হলো কী হলো না তা নিয়েও ভাবান্তর নেই।অন্যের লেখা পড়তেও অনাগ্রহী।নিজের লেখাই সেরা।নিজের ভাবনাই বয়ে বেড়াই নিজেরই কাঁধে।
এটা সাহিত্যের বর্জ্য।সাহিত্যে ঠিকবে না বললে এটা সাহিত্যেরও লজ্জা।
খ.চানাচুর কবিতা ও ফুচকা কবিতা;
কবিতার পাঠ সুন্দর।বাণীতে উন্নাসিকতা।দায়সারা গোছের কবিতা।কিন্তু কোনো কল্যাণমুখীতা নেই।এমন কবিতা সমাজের উপকার অপকার কিছুই করতে সক্ষম নয়।
যে কবিতার পাঠে কোনো কল্যাণমুখিতা নেই,-শুদ্ধতার কবি অসীম সাহা দাদার ভাষ্যে এটা চাচাচুর কবিতা।আর ড.চন্দন বাঙ্গালের কথায় তা ফুচকা কবিতা।চানাচুর খেতে সুস্বাদু হলেও বদ হজম হয়।ফুচকা খেতে সুস্বাদু কিন্তু তার পুষ্টি গুণ নেই।সুযোগের ফলে এগুলোকে জনপ্রিয় কবিতা করে প্রচারণা দিয়ে সাময়িক চমক তৈরি করা হচ্ছে।কিন্তু সামাজিক প্রয়োজনে তা কাজে আসছে না।
কবি কবিতা লিখে আবৃত্তি করিয়ে বেড়াচ্ছেন,নিজেও করছেন,ভুল ইতিহাস চর্চা করছেন।গীতিকবিতাকে আধুনিক কবিতা বলছেন।ঘন ঘন লাইভে আসছেন,অনুবাদ করাচ্ছেন।ছন্দ ছন্দ করে প্রাণপাত করছেন।কিন্তু এটাও সময়ের অপচয় করছেন মাত্র।পাঠকের কাছেও বিনোদনের একটি উত্তম মাত্রা এ কবিতা।
কিন্তু বাঁকবদলের ধারায় এ কবিতা বেকডেটেড এবং কল্যাণহীন মাত্র।তাই এ কবিতা হারিয়ে যাবে একদিন।
এবং
গ.বিজ্ঞানকবিতা;
কবিতার উপমা,উৎপ্রেক্ষা ও চিত্রকল্পে বিজ্ঞান থাকবে।বাণীতে থাকবে কল্যাণমুখীতা।কবি ক্রান্তদর্শী ও সত্যদ্রষ্টা। -এটা ভুলে গেলে চলবে না।কবিতা কোনোরূপ অসার বাক্য হবে না।সত্য বলা ও আগাম দেখার কাজ করবে কবি।প্রাগ্রসরতা থাকবে কবিতার গঠন ও পঠনে।এমন কবিতাই বিজ্ঞান কবিতা।বিজ্ঞানকবিতা জনপ্রিয়তা পেতে সময় লাগবে।অথবা জনপ্রিয় নাও হতে পারে।কিন্তু বাঁকবদলের কাজটা করে দিবে বিজ্ঞানকবিতা।এ কবিতা মননে ও অন্বেষণে বিজ্ঞান।মানুষকে বিজ্ঞান ধর্মে সংগঠিত করবে।সব মানুষ একই ইলেকট্রন,নিউট্রন,প্রোটন ও প্রোটিন। মানে একই নিউক্লিয়াস বা একই সাইটোপ্লাজম মানবজাতি।জাতপাতের পার্থক্য আর ধর্মের লড়াই অযথা উন্মাদনা মাত্র-'কবিতা মানুষকে এ বোধ দিবে'।এ বোধ বিজ্ঞানের।এ বোধটাই বিজ্ঞানধর্ম।তাই বিজ্ঞান শুধু পরীক্ষাগারে নিরূপিত সত্যই নয়।বিজ্ঞান কল্যাণের ধর্মও বটে।
এ কবিতা হারিয়ে যাবে না কোনো দিন।কল্যাণে ও বিজ্ঞানে তা উচ্চারিত হবে বারবার।
বিজ্ঞান কবিতা নিয়ে এগিয়ে যাবে সাহিত্য।
শরীর সুস্থ ও নিরোগ রাখতে যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনুসরণ করতে হবে তেমনি উন্নত জীবন যাপনের জন্য ফলিত বিজ্ঞানের অনুসরণ করতে হবে।প্রকৌশল বিজ্ঞানকে মানতে হবে।এসব কথামালা দিয়ে আমি সাজিয়েছি ফলিতবিজ্ঞানগ্রন্থ কবিতাবিজ্ঞান।
কবিতাবিজ্ঞান পড়ুন।জানুন...