স্বপ্ন

✒️কণিকা নাথ

দু- নয়নে স্বপ্ন ছিলো, আকাশ ছোঁয়া আলো,
মনের সাথী আমায় বলে স্বপ্ন দেখা ভালো।

স্বপ্ন গুলো সত্যি করতে মনে জাগে আশা,
প্রথম স্বপ্ন পূরণ হলে মনে আসে ভাষা।

দেখো আমি হচ্ছি বড়ো শিখছি লেখাপড়া,
দেশ- বিদেশ সব পাল্টে গিয়ে হচ্ছে শাসন কড়া।

পড়াশোনা করে ভাবলাম ঘুরবো দেশ- দুনিয়া,
ভয়- শূন্য দূর করে, স্বপ্নগুলি রাখবো ধরিয়া।

সবার কাছে আমরা হবো স্থির বিশ্বাস,
দূর করবো কড়া শাসন মিথ্যে আশ্বাস।

দেশপ্রেমিক সেইজন যিনি দেশকে ভালোবাসেন,
স্বপ্নগুলো সত্যির জন্য যিনি দেশের কাজ করেন।

স্বপ্ন আমি বলছি শোনো আমার মনের কথা,
সবার মনে জমে আছে অনেক দিনের ব্যাথা।

স্বপ্ন তুমি এনেছিলে সাথে করে প্রাণ,
স্বপ্নগুলো সত্য তাহাই করে গেলে দান!

হায় ক্ষণকাল

✒️কৃষ্ণকুসুম পাল

হায় ক্ষণকাল,- মহাকাল হাসছে।
তোমার এতো দর্প,এতো হীনতা,
অর্থহীন হিংস্রতার ইতিহাস,
ঘূর্ণি বাতাস উড়িয়ে নেবে,
তীব্র সুনামী ডুবিয়ে ফেলবে,
লেলিহান আগুন পোড়াবে।
                   #
হায় ক্ষণকাল,তুমি নিজে ডুবলে,
দেশ,জাতি সকলকে ডোবালে,
অস্মিতা,ঐতিহ্য,গৌরব ধূলোয় মেশালে,
প্রতারিত হলো সততা,
প্রতারিত সকলে,
আকাশে চেপে বসলো বিভৎস অন্ধকার,
চারদিক ছারখার, চারদিকে হাহাকার।
           #
বাংলা ভুলে, জাতি ভুলে, প্রীতি ভুলে, একতা ভুলে,
দেশ,দশের পায়ে কুড়োল মেরে,
তুমি অমর হতে চাও! বৃথা।
তুমি ক্ষণকাল মাত্র, বেহায়া।
দেখ,মহাকাল করুনায় কাঁদছে।

মাতৃ মুখাগ্নিতে অসম্মতি

 ✒️মায়া রানী মজুমদার 

ভব বন্ধন থেকে জননী 
               পেয়ে গেলেন মুক্তি,
তথাপিও দিল না পুত্র 
         মাকে সন্তানের স্বীকৃতি।
বাধা হয়ে দাঁড়ায়
          পিতার পৈতৃক সম্পত্তি। 
মায়ের অন্তেষ্টিকৃত কর্মে 
       পুত্রের মুখাগ্নিতে আপত্তি।
কিছুতেই গললো না পুত্রের
               কঠিন কঠোর হৃদয়,
এই মাতৃগর্ভেই এই সন্তান 
          একদিন হয়েছিল উদয়। 
হায় রে বিধাতা, জন্মের
       কেন দিয়েছিলে অনুমতি ? 
জন্ম দিয়ে মা দিয়েছিলেন 
         কত সোহাগ প্রেম প্রীতি।
সন্তানের তরেই কত কষ্ট 
                মায়েদের আজীবন,
সেই মাকে না সেবিলে সন্তান
      হবে কি তার সুখের জীবন ?
মাতা পিতার অন্তেষ্টি ক্রিয়ায় 
          বিমুখ যে অবাধ্য সন্তান,
বেঁচে থেকেও কোনদিন 
            পাবে না কোন সম্মান।
জন্মদাতৃ মা থেকেই বড় 
       হয়ে গেল পৈতৃক সম্পত্তি,
পরলোকে গমন করে মা 
       পেয়ে গেলেন চরম মুক্তি।

মুক্তির উল্লাস'

✒️প্রবীর পাঁন্ডে
             
সোনার শিকল পায়ে দিলেও থাকব না আর ঘরে, 
অসীম যখন ডাক দিয়েছে কে আমায় রোধ করে। 
আলোক যখন পরশ করে কহেছে প্রিয়ার মতন-
আসবে বধূঁ যেওনা ভূলে রহিল নিমন্ত্রণ। 
বাতাস যখন দ্বারে এসে কহেছে আমারে
আকাশ তলে বিশ্ব তোমায় নিবে বরন করে। 
হৃদয় মাঝে ভাসে যখন শ্যামের বাঁশির স্বর
তখন আমার কীসের বাঁধন কিসের এত ডর। 
অন্তর মাঝে অন্তরতম নিয়েছে যখন পণ
প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখে নাহি সে এমন জন।
কোমল বাহু পারবে না আর আমায় ধরে রাখতে, 
কারো কোনো বাঁধন আমায় পারবে না যে বাঁধতে। 
অধর পটের ওই হাসিতে ভূলবো না আমি আর, 
ভেঙে দিব স্বপ্নে গড়া মায়ার এ সংসার। 
সীমার মাঝে আমার যে আর নাহি কোনো কাজ, 
প্রেমের বাঁধন শিথিল করে যাবই আমি আজ। 
মুক্তি যখন স্বয়ং এসে ডেকেছে আমারে-
তখন আমায় ঘরের মাঝে কে রোধিতে পারে ?

কবিতাবিজ্ঞান, জনস্বার্থে কবিতায় বিজ্ঞান চর্চা

✒️হাসনাইন সাজ্জাদী 

কবিতার সংজ্ঞা নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলার সময় এখনো আসেনি।তবে অনেকগুলো সংজ্ঞা এখন বেকডেটেড হয়ে পড়েছে।'কাব্যাং বাক্যাং মলমকৃতম' বা অলংকৃত বাক্যকে অতীতে কবিতা বলে এসেছি আমরা।আরো জানি 'কাব্য হি যশ সে' বা খ্যাতি অর্জনের জন্য কবিতা লেখা হয়।বলা হয় কবিতা আসে আবেগ থেকে।তাই কবির আবেগ যদি সমাজ ও সভ্যতাকে না বোঝে তবে মানুষ কবিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে।কবিতার পাঠক কোনো কালেই আহামরি ছিল না।তবে বর্তমানের মতো এতো আকাল বোধহয় কবিদের দেখতে হয়নি।কবিতার পাঠক এখন কবিরা।সাধারণের মধ্যে কবিতার পাঠক নেই।কেনো নেই তার উত্তর আমরা কোনো দিন খুঁজতে যাইনি।ফলে কবিতার সঙ্গে মানুষের দূরত্ব বেড়েছে।
কবিতার পাঠক হিসেবে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হলে কবিতাকে মানুষের প্রয়োজনের উপযোগী করতে হবে।আবেগ বা বিনোদন থেকে বের করে কবিতাকে জনস্বার্থ,স্বাস্থ্য ও প্রগতিশীলতার মাধ্যম করতে হবে।আর তা করতে পারলেই কবিতা তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। 
সেটা কিভাবে সম্ভব তার আলোচনার আগে বর্তমান কবিতার শ্রেণিবিন্যাস করতে চাই।বলে রাখা ভালো এটা একান্তই আমার মত এবং আমার মতের সঙ্গে অন্যদের মিল নাও হতে পারে।তবুও শত ফুল ফোটানোর প্রয়োজনে আমাকে কিছু কথা বলতে হবে।
কবিতাকে তিন অধ্যায়ে বিবেচনা করতে আমি অনুরোধ করি।
ক.বিনোদন ;
নিজের মত লিখলাম,নিজের মত ছন্দ দিলাম।দে দোল দে দোল ভাব নিলাম।প্রকৃত দোল আসলে আসলো না আসলে না তা নিয়ে ভাবলাম না।ভাব,ভাষা ও বাণীতে হেয়ালি রয়ে গেল।শিশির ভেজা হৃদয়ে সূর্য তাপ পড়তেই উধাও কবিতার প্রয়োজনীয়তা।এমন লক্ষ্যহীন কবিতা।বিজ্ঞানতো নেইই।নেই উত্তর ঔপনিবেশিক বা উত্তর আধুনিক ভাবনা।এমনকি আধুনিকতার লেশমাত্র নেই।আছে পেছনের অনুসরণ।কেউ বাহ বলুক না বলুক কিন্তু নিজে আনন্দ পেলাম।নিজের মত সুখ নিয়ে বেড়ালাম।সাহিত্যে তার কোনো স্থান হলো কী হলো না তা নিয়েও ভাবান্তর নেই।অন্যের লেখা পড়তেও অনাগ্রহী।নিজের লেখাই সেরা।নিজের ভাবনাই বয়ে বেড়াই নিজেরই কাঁধে। 
এটা সাহিত্যের বর্জ্য।সাহিত্যে ঠিকবে না বললে এটা সাহিত্যেরও লজ্জা।
খ.চানাচুর কবিতা ও ফুচকা কবিতা;
কবিতার পাঠ সুন্দর।বাণীতে উন্নাসিকতা।দায়সারা গোছের কবিতা।কিন্তু কোনো কল্যাণমুখীতা নেই।এমন কবিতা সমাজের উপকার অপকার কিছুই করতে সক্ষম নয়।
যে কবিতার পাঠে কোনো কল্যাণমুখিতা নেই,-শুদ্ধতার কবি অসীম সাহা দাদার ভাষ্যে এটা চাচাচুর কবিতা।আর ড.চন্দন বাঙ্গালের কথায় তা ফুচকা কবিতা।চানাচুর খেতে সুস্বাদু হলেও বদ হজম হয়।ফুচকা খেতে সুস্বাদু কিন্তু তার পুষ্টি গুণ নেই।সুযোগের ফলে এগুলোকে জনপ্রিয় কবিতা করে প্রচারণা দিয়ে সাময়িক চমক তৈরি করা হচ্ছে।কিন্তু সামাজিক প্রয়োজনে তা কাজে আসছে না।
কবি কবিতা লিখে আবৃত্তি করিয়ে বেড়াচ্ছেন,নিজেও করছেন,ভুল ইতিহাস চর্চা করছেন।গীতিকবিতাকে আধুনিক কবিতা বলছেন।ঘন ঘন লাইভে আসছেন,অনুবাদ করাচ্ছেন।ছন্দ ছন্দ করে প্রাণপাত করছেন।কিন্তু এটাও সময়ের অপচয় করছেন মাত্র।পাঠকের কাছেও বিনোদনের একটি উত্তম মাত্রা এ কবিতা।
কিন্তু বাঁকবদলের ধারায় এ কবিতা বেকডেটেড এবং কল্যাণহীন মাত্র।তাই এ কবিতা হারিয়ে যাবে একদিন।
এবং
গ.বিজ্ঞানকবিতা;
কবিতার উপমা,উৎপ্রেক্ষা ও চিত্রকল্পে বিজ্ঞান থাকবে।বাণীতে থাকবে কল্যাণমুখীতা।কবি ক্রান্তদর্শী ও সত্যদ্রষ্টা। -এটা ভুলে গেলে চলবে না।কবিতা কোনোরূপ অসার বাক্য হবে না।সত্য বলা ও আগাম দেখার কাজ করবে কবি।প্রাগ্রসরতা থাকবে কবিতার গঠন ও পঠনে।এমন কবিতাই বিজ্ঞান কবিতা।বিজ্ঞানকবিতা জনপ্রিয়তা পেতে সময় লাগবে।অথবা জনপ্রিয় নাও হতে পারে।কিন্তু বাঁকবদলের কাজটা করে দিবে বিজ্ঞানকবিতা।এ কবিতা মননে ও অন্বেষণে বিজ্ঞান।মানুষকে বিজ্ঞান ধর্মে সংগঠিত করবে।সব মানুষ একই ইলেকট্রন,নিউট্রন,প্রোটন ও প্রোটিন। মানে একই নিউক্লিয়াস বা একই সাইটোপ্লাজম মানবজাতি।জাতপাতের পার্থক্য আর ধর্মের লড়াই অযথা উন্মাদনা মাত্র-'কবিতা মানুষকে এ বোধ দিবে'।এ বোধ বিজ্ঞানের।এ বোধটাই বিজ্ঞানধর্ম।তাই বিজ্ঞান শুধু পরীক্ষাগারে নিরূপিত সত্যই নয়।বিজ্ঞান কল্যাণের ধর্মও বটে। 
এ কবিতা হারিয়ে যাবে না কোনো দিন।কল্যাণে ও বিজ্ঞানে তা উচ্চারিত হবে বারবার।
বিজ্ঞান কবিতা নিয়ে এগিয়ে যাবে সাহিত্য।
শরীর সুস্থ ও নিরোগ রাখতে যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনুসরণ কর‍তে হবে তেমনি উন্নত জীবন যাপনের জন্য ফলিত বিজ্ঞানের অনুসরণ কর‍তে হবে।প্রকৌশল বিজ্ঞানকে মানতে হবে।এসব কথামালা দিয়ে আমি সাজিয়েছি ফলিতবিজ্ঞানগ্রন্থ কবিতাবিজ্ঞান।
কবিতাবিজ্ঞান পড়ুন।জানুন...

ধুলায় নেমে এসো ঈশ্বর

✒️সুপর্ণা মজুমদার রায় 

একবার মহী রথের সিংহাসন ছেড়ে ধুলায় নেমে এসো ঈশ্বর। 
আর কতোদিন কাঠের পুতুল সেজে সিংহাসনে বিরাজ করবে ? 
বেহুঁশ তো নও তুমি!!
একবার নেমে এসে দেখো, যারা ধূপের ধোঁয়ায় তোমাকে আচ্ছন্ন করে রাখছে, তোমার রথের সামনে গড়াগড়ি যায় -----,
তাদের অপরিচ্ছন্ন হাতটা ধরেই সরলতাকে নিয়ে চলছে জুয়া খেলার জোয়ার । 
একবার নেমে এসে দেখো প্রতিনিয়ত কাফিনবন্দী মানবিকতা দাফন হচ্ছে। 
তুমি কি এসব পরখ করতে চাও না?
প্রদীপের আড়ালে অন্ধ হয়ে আছো!!
পুঁজিবাদের শক্তির কাছে বাঁধা পরে গেছো?
তুমি তো ঈশ্বর!! 
প্রতিদিন জীবন যুদ্ধে লড়ে যায় যারা,সেই দলিতের দলে একবার সামিল হও।
একবার মাটিতে নেমে তোমার রথের সিংহাসনে বসার অধিকার দাও ঐ অসহায় গণদেবতাকে ।
সাকার রূপে সরল জীবনের ভাগ্য লিখে দাও।
একবার দল বদল করো।
একবার মাটিতে নেমে এসো ঈশ্বর। 

কাঠ কস্তুর (২)

✒️চন্দন পাল

* মরুদ্যান
হাঁসফাঁস, স্যাঁতসেঁতে মরুতনু। প্রতি প্রত্যঙ্গে পৃষ্ঠে বসনবাকলের আঁড়ে অবিরাম হিমতৃষা। সন্ধ্যাশেষেও দরদর ঝরঝর। স্বেদজলরেখা আঁকা, সবুজ কবি ও কবিতার কপাল কপোল গ্রীবা গণ্ড, উপলছাতি কটি জঙ্ঘা মুরা। বিন্দু বিন্দু নোনাজল গিলে লজ্জাহরা আবরণ। কবি অনায়াসে তুলে নেয় স্ববাকল। দিনমান অবসাদে অবসন্ন কবিতা ঢলে পড়ে নিভৃতে মশাজালবর্গে। মধ্যনিশীথে কলমের বিনিদ্র চোখ দ্যাখে বিছানায় নিয়নের মায়ায় কবিতা! সৃষ্টির নিখুঁত শিল্প স্বল্পাবৃত! অনীহায় উষ্ণতাতে বশ্যতামাখা। উর্ধ্বে নিঃশব্দ আবর্ত পাখা। নিম্নে অবিনস্ত কুঞ্চিত কেশদামে নির্লিপ্ত পদ্মমুখ ঈষৎ হেলে। চাঁদবাঁকা ভ্রুর ঢালে নিমীলিত আঁখি যেন তুলিটানা দুই কৃষ্ণবাঁকধনু। মখমলি ওষ্ঠ ফাঁকে একাধিক অর্ধমুক্তোর ঝিকিমিকি। সুডৌল গ্রীবা শেষে, সুডৌল বক্ষোজ অনিন্দ্য সূর্যমুখী। তারই দাবী মেনে অবহেলে কাঁচুলি। রোমাঞ্চমাখা মরুগায়ে এক বিষ্ময়কর মরুদ্যান। পূর্বরাগাচ্ছন্ন কলম পরিমলাকাঙ্ক্ষায় সলাজ সঘন তাকায়। কবিতা বিভোর অচেতনে।

* কৈশোরোত্তর পাঠ
শ্বান,মন্ডূকের সকাশ মিলন প্রশ্ন এসে থামে, বয়ঃসন্ধি চোখে। গাঙভেজা কি মেঘভেজা বনবালার বিরল সৌষ্ঠব চলে অবচেতনে। কদাপি তাঁতশিল্প ভেদিয়া সবৃন্তবিল্ব ভাসে তাম্রাভ ঝলকে। স্নায়ুটানটান সরলরেখা আঁকে আড়াল রাখালের দেহে। জীবনস্তরের প্রাকৃতিক গুণে কখনো খেলে কখনো ঘর বুনে।

সরলরেখা

✒️রূপালী রায় 

সবটা মেঘ গায়ে জড়িয়ে ধরে 
একটা মেঘলা আকাশ 
পড়েছে নূপুর ।
কান্তি ভুলে শান্ত বিকেল 
আবার মেঘলা ,
রোদেলা দোয়েল ,
মনের খামে আবেগ জমানো সন্ধ্যা ।
শান্তি মেখে সবটা ভুলে 
আবার নবীন হাঁটছে জলে ,
ভিজে গেছে মন 
তবু -
শুকনো শরীর ফ্যাকাসে হয়নি 
সোনালী আলোর রঙটা ।

না- পাওয়া

✒️অসীম দেববর্মা 

    তোমার অলক্ষণ হৃদয়
আমার মনের সীমানা ছেড়ে
      যেদিন গেছে চলে,
সেদিন থেকে তোমার সঙ্গে 
 কাটানো স্মৃতির মুহুর্তেরা
আমার সামনাসামনি হয়ে
  আমার সঙ্গে কথা বলে।
স্ট্রিট লাইটের আলোর রেখায় 
    তোমাকে খুঁজতে গিয়ে
   শূন্য হাতে এসেছি ফিরে।

মানুষকে ভালবাসা

✒️বিপ্লব উরাং 

ধর্ম ধর্ম ধর্ম 
কত ধর্ম বাপরে!
হিন্দু মুছলমান,খৃষ্ট,বৌদ্ধ 
আর কত কি।

ধর্ম যারা বনায় ছিল
এখন,অদের বংশধররাই
ধর্ম লিয়ে খেলছে।

ধর্মে ধর্মে ভাগ করে
হিংস,ঘৃণা ছড়াছে।
মানুষে মানুষে ভাগ করে
নিজেরা স্বার্থ লুটছে।
হামরা সবে বকারম
হাঁ করে ভালছি।

বেচারাম কমরটা সজা করে
জর গলায় বল-
বনধ কর ধর্ম খেলা।

সব ধর্ম একেই--
মুল ধর্ম মানুষ ধর্ম। 
মানুষকে ভালবাস।

ট্রেন লেইট

✒️স্বর্ণা রায় 

অনেকটা পথ হেঁটে এসে দেখি আজ ট্রেনটা লেইট করে ফেলল,
বসে আছি আর আসে পাশে আড় চোখে দেখি যাচ্ছি অচেনা অনেক মুখ,
দীর্ঘ অপেক্ষা কখন আসবে গতিবেগে তুমি? 
অপেক্ষার পাশেও একটা স্থুল  আশা,,🌩এই ট্রেন নিয়ে যাবে আমায় অনেক অজানা ইতিহাসের কাছে,, 
এই সকল ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মনে হল আজ ট্রেনটা বড়ই লেইট,, 
ক্লাস চলে যাচ্ছে,,, 
তারপর যখন এল সেই লেইট ট্রেনটি তখন পড়ের স্টেশনে নেমে গেলাম,, 

আবার  কোন একদিন অপেক্ষায় বসবো তাই ভেবে,,,,

স্বভাব যায় না মলে

✒️অপর্ণা সিনহা

শাপদের পুচ্ছ সোজা করে
সে সাধ্য কারোর নেই,
তীর্থে শুধু মাথাটাই ঠেকবে
পুচ্ছ কিন্তু যেই সেই'ই!

খা খা রোদে চৌচির মাটি,
বৃষ্টির নাগাল কে পায়!
কিস্তিতে জমানো যত পুন্য
প্রখর তাপে,পুড়ে ছাই।

কৃষ্ণ এবার রাধাকে ছেড়ে
গোপীদের সঙ্গে মজেছে,
রাখাল,সখা,বাঁশী সব ভুলে 
কামিনীর ধ্যানে বসেছে!

যতোই কোমল বাণী ঝরাক
মাখুক মুখে আবেগের রঙ,
অশ্রুতে ভেসে বেড়াক তবুও
ভুলবে না,সে যে হিংস্র সঙ!

কুমির বেটা ছিঁচকাদুনে,মনে-
যে ছল চাতুরির দোলা,
ঠ্যাং উঁচিয়ে কু-কাজে মাহির
বক্রপুচ্ছ সদা উর্ধ্বে তোলা!
                           

৭৫ এর স্বাধীনতা

✒️জয়দীপ দেব

মহামানবের হাত ধরে স্বাধীন হল দেশ,
মানবগুলো আজ কোথায়, মনে পরছে বেশ?
অসীম সাহস আর, উদার মানসীকতা ,
কখনো কি ভোলা যায়; তাদের আত্ম-বলিদানের কথা।
এ যে প্রত্যেক ভারতবাসীর অন্তরে রয়েছে গাথা,
আজকের এই ৭৫-এর স্বাধীনতা ।
আজ স্বাধীন দেশ সব স্বাধীন মানব,
দেখেনি কেউ সেই অতীতের দানব। 
তারা রক্ত চক্ষু নিয়ে দেশকে করেছে শাসন,
অনাহারে, অত্যাচারে সকল মানবের দিন কেটেছে;
তাদের পাষানতায় মরেছে দেশের সকল বাহন।
মহানায়ক নেতাজী বলেছে,তোমরা দাও রক্ত, আমি দেব স্বাধীনতা; 
একথা আজ‌ও দেশবাসীর, অন্তরে রয়েছে গাথা।
দেশের সকল মহানায়ক, প্রাণ দিয়ে গেল সব;
দেশ সেবাতে নিযুক্তসব সীপাহীড়া এখনো লড়ছে খুব ।
আজ স্বাধীন দেশ স্বাধীন মানব ,
দেশ করছে শাসন ;
এদিক ওদিক মরছে আজো দেশের সকল বাহন ।
৭৫-বর্ষ স্বাধীনতায় দেশকে করি নমন,
এই দেশ যে আমাদের‌ও দেশ এই বিশ্বের প্রথম ।
আজ ৭৫-এর স্বাধীনতায় ঘরে ঘরে উঠেছে রব,
তাই আজ সকলে মিলে পালন করি,
"আজাদী কা অম্রীত মহোৎসব "।

জম্পুই হিল

✒️পান্থ দাস

ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের কথা বল্লে ত্রিপুরার কথা হবে না এটা ভাবাই যায় না। ভারতের একটি ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্য হল ত্রিপুরা। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, প্রকৃতি প্রভৃতির সমন্বিত একটি ক্ষেত্র হল এই ত্রিপুরা। 

ত্রিপুরার প্রকৃতি খুবই নির্মল। মূলত সবুজে ঘেরা। পাহাড়, নদী, গাছপালা, বনজ সম্পদে এক অনন্য গাঁথা ত্রিপুরার। জম্পুই হিল ত্রিপুরার একটি উল্লেখযোগ্য পাহাড় শ্রেণী। রাজধানী আগরতলা থেকে দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার জম্পুইয়ের । জাম্পুই পর্বতাঞ্চলকে ত্রিপুরার দার্জিলিং বলা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় তিন হাজার ফুট। এই পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম বেটলিঙশিপ। যার উচ্চতা প্রায় ৯৫০ মিটারের কাছাকাছি। সূর্যাস্তের পর হিলটপ থেকে অপরূপ সূর্যাস্ত দেখতে রাজ্য, বহিঃরাজ্য দেশ, বিদেশ থেকে অনেক পর্যটকের সমাগম হয় এই জম্পুইয়ে  ।

সকালে জাম্পুই পাহাড় থেকে সূর্যোদয়ের দৃশ্যও ব্যাপক। আশেপাশের স্পটগুলোও খুব মনোরম। ত্রিপুরা আর মিজোরামের সীমান্তবর্তী আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকাটি দেখে আসতে পারেন আপনারাও। এখানকার কমলালেবু বিখ্যাত।প্রতিবছর এখানে অরেঞ্জ ফেস্টিভ্যাল হয়। প্রতি নভেম্বরে এখানে পর্যটন উৎসবও হয়। জম্পুইয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে আশ্চর্য করবেই।

প্রেম বার্তা

✒️কৃষ্ণ ধন শীল 

তুমি এসেছো তাই-
ফুটেছে ফুল সৌরভ আসে ভেসে, 
এসেছে ফাগুন যেন জ্বলছে আগুন 
গহীন মরূর দেশে !

তুমি এসেছো তাই -
কল্পনায় তোমার ছবিটি আঁকি,
হাতে রেখেছি হাত দু'চোখে চোখ 
তবুও মন দেয় ফাঁকি! 

তুমি এসেছো তাই- 
ঘুরে আসে মন স্বপ্নীল শহরে, 
কতো স্বপ্ন বুনে রাখি পুষে 
আমার হিয়া- গহ্বরে! 

তুমি এসেছো তাই-
আজ যেন উদাসী আকাশ-বাতাস,
পাখির কলতান ভ্রমরের গুঞ্জন
ফুটেছে যে বাহারি কাশ।

তুমি এসেছো তাই- 
মেঘেরা আজ গুরু গুরু ডাকে, 
বর্ষায় পানি রুনু ঝুনু তানে 
শতদলের কাঁখে! 

তুমি এসেছো তাই-
আমি লিখে যাই কবিতা আবার, 
গেয়ে যাই গান কোনো অচিন সুরে 
যা প্রেম-বার্তা আমার।

মুক্তি

✒️সুজাতা পাল

তহবিলে যৎসামান্য যেটুকু আছে
তা গুনে গুনে বলে দিতে পারি
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য সাধারণ গ্রেচুইটি
মন খারাপের কিছু অলস দুপুর,
আর একাকীত্বের বিষন্ন রাত।
পুরনো স্মৃতিগুলো যদিও কখনো কখনো সদ্য প্রস্ফুটিত গোলাপের মতো তাজা সুবাস ছড়ায় নাকে।
ইচ্ছেরা ডুকরে ডুকরে হাঁপিয়ে ওঠে তবু
অপেক্ষায় থাকি সেই ব্রাহ্ম মুহূর্তের
যা যাবতীয় মোহ মায়া কষ্ট থেকে
চির প্রশান্তির দেশে নিয়ে যাবে।

প্রেমময় সমভূমি

✒️সুজন দেবনাথ

মানুষের মনে সহস্র হিংসায় সঞ্চিত 
ওই মলিন পাহাড়টায় ধ্বস নামুক,
তবেই তো সমস্ত ভালোবাসার সঞ্চয়ে
গড়ে উঠবে একটি প্রেমময় সমভূমি।

যেখানে বর্ণমালার চাষাবাদ হবে,
সদ্য অঙ্কুরিত হবে নতুন শব্দরাশি। 
ঐক্যের মন্ত্রে খুশির পাপড়ি ছড়াবে- 
শত সহস্র এগিয়ে চলার কাব্যরা।

মেঘলা আকাশ

✒️মনচলি চক্রবর্তী 

মেঘলা আকাশ
মন আনচান
বিরহের বুঝি 
হল অবসান 
মেঘ গর্জায় 
বুক দুরুদুরু
হৃদয় তুফান 
এই বুঝি শুরু 
এসো বরষন
ধুয়ে দাও মন
মুছে দাও আজ
বিষাদের ক্ষন
চাতকেরা হোক
পিপাসা মুক্ত
ধরনী তুমি হও
বরষ সিক্ত
অবগুন্ঠন খুলেছে 
যে আজ
মেঘবালিকার
অপরুপ সাজ।।






ইচ্ছে

✒️সঙ্গীতা গুপ্ত

নিয়মের বেড়াজালে ই বড় হয়েছি,
মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় নিয়ম ভাঙি,
ভালো মন্দ কিছু একটা হবে জানি,
প্রতিদিন প্রতিক্ষণ কত ইচ্ছে ডানা মেলে উড়তে চায়,
ইচ্ছে গুলো কে আঁকড়ে ধরে থাকার ভয় ভাবায়।
মনের ক্যানভাসে জমা থাকে সব,
চোখের ভেতর অনিশ্চিত সব স্বপ্ন,
চোখের দৃষ্টি কমে আসছে কিন্তু,
মনের ক্যানভাসে কেবল ঝরে পড়া হলুদ পাতা।
নতুন নতুন ভাবনাকে নিয়ে মেতে ওঠা
এ জীবনে হবে কি স্বপ্নের সাকার
অবুঝ মন মানে না কোন বাধা
ইচ্ছে র ডানায় ভর করে ই মন  ভাবতে শেখায়।

             ‌       

একটি বার্তা

✒️সুবর্ণা চক্রবর্তী
       
উষ্ণতায় মোরা আদুরে সকাল 
আলতো ছুঁয়ে যাওয়া বসন্তের দোলা,
অতীতের আভাস যেনো রেশ রেখে যায়।
অভ্যাস মতো ঘুম ভাঙে
তবে বার্তা থাকে না আর।
শব্দেরা উঁকি দেয় তবুও, আনমনে করে বিচরণ। 
ছন্দ কেটে গেলেও অভ্যাসের মোড়কে গুছিয়ে নিতে চায়। 
ঝরা পাতায় পলাশী বনে আজও
পিছু ধরে টানে কিঞ্চিত উষ্ণতার অন্বেষণে।
শেষ অধ্যায়ের প্রেমটাই না হয় রয়ে যাক,
সূচনা নাই বা রইলো উপসংহার হয়ে থাক।
           

ধর্ম রথ

✒️শুভ্রা দেব

আধুনিকতার বহর কাঁধে
ঘুর্ণায়মান ধর্ম রথ---
নিম কাঠের তেতো ভাব কাটিয়ে 
গায়ে জড়ানো লৌহ খোলস ।

ঝাঁ চকচকে রোশনাই
সাজো সাজো রব ;
ভক্তি ভরে ভক্তবৃন্দ --
পুণ্য লাভের আশায়
টান দিয়ে যায় রথে ।

ধর্ম পথে কর্মদোষে 
হাঁক ছাড়ে স্বর্গরথ........!

গগনচুম্বী রথের চূড়া 
তড়িৎচৌম্বকের উষ্ণ চুম্বন এঁকে
উড়ন্ত পাখির সাথে 
মৃত্যু কথা বলে অবিরত !

বাঁশরী বাহিত

 
 
 

 ✍️ - পৃথ্বীশ দত্ত

একটি বাঁশী বেজে চলেছে নিভৃতে 


বহুদূর হতে সে তরঙ্গ,


স্মরণাতীত অতীত পেরিয়ে এসে--


স্পর্শ করে মরুভূমি 


বালুকাপ্রান্তর ও রুক্ষতার তপ্তগ্রাস !




সেই থেকে এই মনে জলোচ্ছ্বাস 


এই মন মোহনাবাহিত 


বাঁশী জানে মারণব্যাধি


সেই আনে ছিদ্রবাহী উপশম সুধা !