আপন ভাষা

 আপন ভাষা
অনুশ্রী ভট্টাচার্যি ✒️

বাংলা মোদের মাতৃভাষা, মোদের গর্ব মোদের আশা।
এই ভাষাতে জড়িয়ে আছে হৃদয় ভরা ভালোবাসা।।
এই ভাষাতে বলতে পারি মন খুলে সব কথা।
বাংলা মোদের ভুলিয়ে দেয় মনের সকল ব্যাথা।।
সুকান্ত, নজরুল, রবীন্দ্রনাথের সেই মন জুড়ানো গান।
বাংলা যেন ফিরে পায় তার বিকশিত প্রাণ৷৷
মুক্ত হাওয়ায় বাজে যখন সেই বাংলার সুর ৷
বাংলার বুকে ফিরে যেন পাই সেই অমূল্য কহিনূর।।
সবুজ মাঠে লতানো ঘাসে, বাংলা মায়ের দৃশ্য ভাসে।
নদীর ধারে বাউলওয়ালা গান গেয়ে যায় প্রান উল্লাসে ।।
রংবেরঙ্গের তুলির টানে আঁকি মোরা বাংলার মুখ ৷
মাতৃ বাংলার স্পর্শে মোরা খুঁজে পাই বিরাজমান সুখ।।
পূর্ণ হবে মোদের আশা বাংলা সুরের ছন্দে।
গর্ব করি বাঙালী হয়ে বাংলা বলার আনন্দে।।

ভিন্ন কাজে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

রাজা দেবরায় ✒️


একজন মানুষের কাজের পরিধি বড়-ছোট হতেই পারে। অনেক ভাগও থাকতে পারে। আমাদেরও একই মানুষের কাজের ভাগগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণেই দেখা উচিত।

যেমন অভিনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একজনই  হতে পারেন। কেউ কেউ অভিনেতা হিসেবে বেশি পছন্দ করতে পারেন, কেউ কেউ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পছন্দ করতে পারেন এবং কেউ কেউ দুটোকেই পছন্দ করতে পারেন। আবার একইরকমভাবে অপছন্দও করতে পারেন।

মানুষ তো একজনই। কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন ভিন্ন। অভিনেতার সাথে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে গুলিয়ে ফেললেই সমস্যা দেখা দেয় স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গিতে। আলোচনা-সমালোচনা থাকতেই পারে এবং থাকবেই। কিন্তু দুটো বা তার অধিক কাজের ক্ষেত্রের একই মানুষকে একজন হিসেবে দেখলেই মূল্যায়নে স্বচ্ছতা থাকেনা। তাই একই মানুষের ভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই হবে।

রেজাল্ট

 সুজাতা পাল ✒️

দুটো কপোত কপোতী
একজন ছাড়া অন্য জন অসম্পূর্ণ
ঠিক যেমন হরিহর আত্মা।
টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার
পর পরই চাকরি পেয়ে যায়।
এখন আর মাঠে ময়দানে, পার্কে বসার দরকার পড়ে না।
বাড়িতে জানিয়ে  সোজা ছাদনাতলায়।
সেদিন কি মনে করে বেরিয়েছিলো ফুচকা খাবে বলে দুজনে।
রাস্তা পারাপারের সময় হঠাৎ বুকের ভেতর প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলো।
লুটিয়ে পড়লো দেহটা। ওর ওয়াইফ মূর্ছা যায়।
একটা বুলেট এসে এফোড় ওফোড় করে দিয়ে যায়।
সবাই বলাবলি করছিলো: গতদিন এক অন্য প্রকার রেজাল্ট বের হলো।

খুলে দেখি ঝরাপাতা

রেহানা বেগম হেনা ✒️

খুলে দেখি ঝরাপাতার ওড়না-
হাজারো বোবাকান্না সয়ে
হাওয়ায় থেমে থেমে যায় বয়ে,
পাহাড়ের বুক চিরে গুমরে নামে ঝর্ণা,
অভিমানী পাথরের প্রান্ত ছুঁয়ে ছুঁয়ে
 ধীরে মন্থরে গড়ায় মিঠে জলের ধারা ।
সামনের অগণিত হোঁচট
,নুড়ি ঠেলে এগিয়ে চলে আপন খেয়ালে ।

কাকডাকা ভোরের আকাশ 
চঞ্চল উদ্দাম সাহসী,
কৌতুহলী দৃষ্টিতে দেখে মেঠো আলপথ
দুপাশের ছোট ছোট কৃষকের চৌকাঠ
, পাইন আর দেবদারুর মাটির দাওয়া। 

রঙিন মাছের নানান জলকল্লোল কসরত
 সামনের দিকে এগিয়ে চলে ।
মন্থর গতির ধীরে লয়ে জমে পলি
হৃদয়ের ভিটের ওপরে রাশি রাশি
উঁচু হয় স্তরে স্তরে মোহনার কাছাকাছি,
সামনে সৈকত 
শুধু অন্তহীন অপেক্ষা..
কিছু পরেই মিশে যাবে মিঠে জলের ধারা
মিলবে গো সমুদ্রের নোনা জলে
সেখানেই তার আগামীর অস্তিত্ব।
মেঘ যাদের ভাসতে শেখায়, বৃষ্টি শেখায় ঝরা,
তাদেরই ঋণ থেকে যায় সময়টুকু ছাড়া ।

অবরোধ

সঞ্চয়িতা শর্মা ✒️

কুয়াশায় ঢাকলো শহর,
চামড়ায় নিষ্প্রাণ স্তর,
নদীর বুকেতে দেখা মিলেছে
একাধিক বালুচর।

দুপুর বেলার রোদ,
আর অর্থের অবরোধ,
কপালে শিরা ফুলে ফেঁপে উঠে,
শত চিন্তার স্রোত।

সকালটা ছিলো মিঠে,
ছিলো মুক্ত আকাশ নীল,
দুপুর হতেই মধ্য সারির
কত কথা কিলবিল!

রাতের অন্ধকারে,
আলো সঞ্চয় চাই,
তিন পায়ে ভর করেও যেন
মজবুত থাকে ঠাঁই।

তবু চলতি হাওয়ার বাঁক,
আর স্বপ্নের ঘুরপাক,
উপেক্ষিত হয় শত শত
ইচ্ছের পিছুডাক!

ভাষা

সুপর্ণা মজুমদার রায় ✒️

বিদ্রোহের আগুনে জ্বলে উঠেছো কি ভাষা? 
জ্বলছে কি তোমার অন্তরের দাবানল? 
হয়েছ কি জ্বলন্ত অগ্নিশিখা? 
ললাট পরে জাগে কি ক্রোধানল? 
কুলশীল জাত ভাষা তুমি, 
নিজ ঘরেই আজ অবহেলিত! 
অধিকার করেছে জারজ ভাষা 
তোমায় করেছে বিতারিত! 
জবাব কি দেবে না তাদের? 
নির্বাক কেন রইবে তুমি? 
শেখর শুদ্ধ উপরে ফেলে দাও 
কেড়ে নিতে দিও না নিজভূমি। 
মাতৃভাষা! তোমার মাঝে আছে সেই স্ফুলিঙ্গ।
মাতৃদুগ্ধ পান করেছ যে তুমি --
একুশ উনিশ তোমার সেই পরিচয়। 
সে তো ঠিকানা বিহীন জারজ সন্তান, 
পিতৃ পরিচয় তার বেনামি। 
তোমার অন্তর হোক বিদ্রোহী দাবানল,
ছড়িয়ে দাও দিকে দিকে। 
স্বাধিকার ফিরে পেতে বিদ্রোহ ডাকো চারিদিকে। 
তোমার গর্ভস্থ যে ভ্রূণ তোমার পরিচয় শরীর হতে মুছে ফেলতে চায়------,
তাদের একবার আঘাত করো। 
তুমি আবার বাঘা যতীন হও,হও বিনয় বাদল দিনেশ।
আরও একবার হও সুভাষ, সূর্য সেন,মাতঙ্গিনী, রফিক জব্বার সফিউল। 
যেভাবে জ্বলে উঠেছিলে রমনার প্রান্তরে, বরাকের তীরে ---
আবারও তুমি জ্বলে উঠো।
বীরদর্পে আঘাত করো।
মনে করিয়ে দাও তোমার ইতিহাস, তোমার
আত্মপরিচয়। 
তোমার ভূমিতে নিজের অশিতে
গুড়িয়ে দাও জারজের পাশ,
তোমার ঘর থাকুক চিরদিন তোমার 
জারজ ভাষার হোক বিনাশ। 

প্রেম বড় অসহায়

মায়া রানী মজুমদার ✒️

প্রেম বড় অসহায় ওগো 
      ফিরে দ্বারে দ্বারে,
কত কাতর আহ্বানে ডাকে 
     প্রেমিকাকে বারে বারে।
আদর সোহাগের মায়া জালে 
        হতে চায় বন্দি,
অথৈ প্রেম সাগর তীরে 
       আঁকে নানা ফন্দি।
কত অনুনয় বিনয় আর
  কত সভয় উদগ্রীবতা, 
প্রেমিকের করুণ চাহনিতে  
   রয় কত না অসহায়তা।
সভয় কাটিয়ে তুমি ওগো 
      নাম প্রেম নীরে,
অভয়ে সিক্ত কর মন
      অতি ধীরে ধীরে।
প্রেম বিনা ধরণী মাঝে 
     বিফল এ জনম,
জীব প্রেমে ধন্য হয়ে 
   সফল করো জনম।

যখন তুমি ছিলে

দেবলীনা ভট্টাচার্য্য ✒️

তুমি চলে যাওয়ার পর মা,
এখন নেই আর আমার
আগের মতো চাওয়া পাওয়া।
কোনোকিছুই এখন আমার
আর তেমন ভালো লাগে না
শুধু এখন টানে আমায় কিছু স্মৃতি
কিছু ফিরে না পাওয়া সময়
যে সময়গুলো তে তুমি ছিলে মা ।

যখন তুমি আমার কাছে ছিলে মা 
কত ঝগড়াই না করতাম আমরা
আবার তোমাকে ছাড়া আমার
এক মূহুর্ত সময় ও কাটতো না।
আর এখন দেখো তুমি নেই
তবুও ২বছর কাটিয়ে দিলাম
আমি নিজেকে সামলে নিয়েছি ।


যখন তুমি আমার কাছে ছিলে মা 
ওই সময়গুলোই ভালো ছিল
তুমি যাওয়ার পর মা
অনেক কিছু বদলে গেছে।
এখন চলার পথে তোমার
বলা কথাগুলো খুব মনে পড়ে
যেগুলো তুমি বলেছিলে।

ঊনপাঁজুরে

জনার্দন ✒️

কতটুকু দূরত্ব মাপার পর তুমি আপন হবে, 
বলে দিও; 

আমি এখনও একাই আছি,  
শরৎ কিংবা বসন্তের পর' আমি আরো একা হয়ে যাবো। 

তুমি যদি প্রণয়ের পরিধি বাড়াতে না' পারো,
সে'টা আমার মন্দভাগ‍্য, 
আমি না'হয় দূরত্বটা কমিয়ে নেবো। 

যতটুকু পরিধি তুমি মেপেছো, 
আমি ঠিক ততটুকুর হিসেব গুছিয়ে রেখেছি। 

তোমার ইচ্ছের জঠরে আমি অনন্তকাল;
আমার সুলেখনগুলোতে, 
তোমার ইচ্ছেগুলোকে সাজিয়ে রেখেছি। 

একা জীবনটাও যে একটা অনুভূতি! 
সেরকমই কিছু একটা মনে হয়, এখন;
হোক 'না সেটা ব‍্যথার অনুভূতি। 

বুকের গভীরে শুধু খরা,
গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদের মতো ;
নিঃসঙ্গতায় শুধু, তোমার ইচ্ছেগুলো নিয়ে ভাবি। 

এখনও একই ভাবে, একই জায়গায় আছি,
এতটাই মন্দভাগ‍্য যে' আমার 
আর কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।

কাজ করে যাও

বিপ্লব গোস্বামী ✒️

সবার কাছে ভালো হওয়া কি যায়?
কিছু লোকে মন্দ বলবে তোমায়।
তাই বলে কি তোমার মন কষ্ট পায়?
অজান্তে হয় তো অনেকেই গুণ গায়।

সব কাজে কি সবাই বলবে ভালো?
কিছু কাজে মন্দ বলবে লোকে।
তাই বলে কি জ্বালাবে না আলো?
ক'জন না হয় থাকুক একটু সুখে।

নিজের কাজ নিজে করে যাও
যে কাজেতে আত্মতুষ্টি পাও।
পরের কথা নাইবা দিলে কানে
একদিন হয় তো ভাসবে গুনগানে।

উপলব্ধি

চন্দন পাল ✒️
)
এই ঝর্ণা, কোথা যাস্! 
শুধু কি ত্যুই, আমিও শিখেছি। 
প্রতিদানহীন, প্রত্যাশাহীন ভালবাসা আর আকাশ হয়ে উঠা!

একবার থাম না! দেখ্ আমি এখানে দাঁড়িয়ে ---
কত আর ছুটবো তোর পিছে পিছে,,,!

আরবার মা কে বলবো,
আমার নাম যেন 'সাগর' রাখে,,,,,!

সবুর প্রিয়, আকাশ নাম যথাযথ । 

২)
তুমি ফুলকে ভালোবাসো।

আমিও,,

একই রূপে-গন্ধে  উপভোগী।

অথচ, তুমি ফুলকে আদর দিলে,

আমি কেন বোঁটা না ছিঁড়ার সংকল্প নিতে পারলাম না !

ঐ দেখি আকাশে দিবাকর হাসছে । 

যখন মুখামুখী দুজনে

অপর্ণা সিনহা ✒️

যখন মুখামুখী বসি দুজনে,
অনেক অভিমান, অভিযোগের ঢালি সাজিয়ে,
তুমি অজুহাত দেখাও যুক্তি দেখাও!
তর্ক হয়, বিতর্ক হয় মাঝে মাঝে ভালোবাসাও!
দুজনের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, কত আবদার, নালিশ শুনি দুজনেই ।
পরিবার নিয়ে, পিতা মাতা নিয়ে তর্ক উঠে,
তুমি কত সহজে বলো,'আজো চিনলে না আমাকে?'
সত্যিই তো চিনি না আমি।
এত দিনে যে নিজের নাম জানতে পারিনি
নিজেকে চিনতে পারিনি,
মাত্র কিছু দিনে তোমাকে চিনব কি করে বলো?
কত বলিষ্ঠ কন্ঠে তুমি বলো ,'আই হেট ক্রিটিসিজম!'
সন্দেহ তোমার পছন্দ নয় চিৎকার করে বলেছ বহুবার!
আমি বলতে পারি না ,আই হেট মাই সেল্ফ!
বাবাকে ভালোবাসি প্রচন্ড!
মায়ের এত কষ্টের পড়ও উনি আমার হিরো
ঠিক তোমার মতোই তাই 
তোমার বার বার ছেড়ে দেওয়ার হুমকির পরও
বলতে পারিনি 
যাও!আই হেট হউ!
যখন কখনও মুখামুখী বসি দুজনে
অনেক অপেক্ষার পড়ও বলতে পারি কই
ভালোবাসি,ভালোবাসি,ভালোবাসি!
শুধু দূরত্বই বাড়ে দুজনের;
কুল কিনারা পাইনা খুঁজে যখন ইচ্ছে হই ,
ইচ্ছেই তো হই!বলতে পারি কই
ছুঁয়ে দেখ একবার এই হাত, বুকের ভিতরের সুনামি
কী করে ডুবাতে চায় তোমার সকল অস্তিত্ব।
বলতে পারি কই,আগুনের কাছে এসো না,
জ্বলে উঠবে সৃষ্টি!এই সৃষ্টিছাড়া স্বপ্ন
একদিন মরণ ডেকে আনবে!
মুখামুখী হলে অন্য কিছু হয় না তা নয়
মাঝে মাঝে দীর্ঘ চুম্বন ,কখনও চুল বিলিকাটা
আবার কখনও সকল ভালোবাসা শিকেয় তুলে
তুমুল যুদ্ধে মাতি,শুধু দজনেই।
শাসন,শোষণ চলতে থাকে,চলতে থাকে অত্যাচার।
একেকবার তুমি সহ্য করো তো একেকবার আমি
বিশ্বাস নিয়ে যখন কথা উঠে 
তুমি কেমন নিষ্ঠুর হয়ে উঠো;
চোখের চাহনিতে ঘৃনা ঠিকরে বেড়ুই তখন!
এড়িয়ে যেতে চাও,যাওও অনেক দূরে।
অচেনা লাগে তখন, চেনা জানা শরিরের গন্ধটা তখন
অচেনা লাগে। তোমার স্পর্শ কেমন যেন,অবহেলিত চাহনি।
আমি অপেক্ষা করি চুপচাপ,
দিন যায়,রাত যায় সে পরিচিত সুরের গান আর বাজে না।
আমি তখন আর পতিব্রতা থাকি না।
তৃষ্ণা তখন হিংস্র হয়ে যায়
সিঁদুরে প্রচন্ড এলার্জি !
শাখায় পলাতে চর্ম রোগ ছড়ায়,
আমি তখন বড়ো গলায় কথা বলি
বোরখায় আগুণ দিয়ে শীতের রাত্র কাটায়।
শুধু প্রতিধ্বণি আসে কানে জীবন কোনও খেলা নয়,
মানুষ কোনও সস্তা পশুর দেহ নয়!
এর একটা মেরুদন্ড থাকে যেটাই কোনও ফারাক নেই ,
তোমাতে আমাতে ! রক্তেও নেই!
যখন মুখামুখী বসি কখনও সখনও
তোমার জিলের ধারে যাওয়া হয় না আর
তাই বিরক্তই হউ,আমি বুঝি ।
তবু ঐ শক্ত কাধে মাথা রেখে ধাতব মূর্তির মত পড়ে থাকি,
বৃষ্টি নামলেও সরি না সরতেও দিই না তোমায়।
তুমি তখন চেইনস্মুকিং করতে থাকো,
আমার চুলে সিগারেটের স্মেল এরপরেও কয়েকদিন থাকে।
আমি ইচ্ছে করেই শেম্পু করি না ,
স্কুলে হাটে বাজারে সকলকে এড়িয়ে চলি সে কদিন,
সে আমার একার অনুভবের বিষয়।
তুমি বুঝবে কী করে যখন মুখামুখী হই
কেন কাঁদি?কেন অভিযোগ করি ?কেন চরিত্রের কথা তুলি,
আমি সে কদিন কেনই বা পরিব্রতা থাকি না!
অসভ্য বলি,বাদর বলি,খামচি ,চুলে টান
সবই করি ,যখন মরণের কথা বলো;
যখন রাত গভীর হলে ঘুমের মাঝে তোমার কথায়
বিলিতি ইংলিশ মদের গন্ধ পাই আমি পতিব্রতা থাকি না।
বদেরও বদ বলে তিরষ্কার করি!
লাথি মারলে যেদিন আমার বিশ্বাসে সেদিনও,
নিয়েছিলাম বুকের ঐ গন্ধ মন ভরে।
তুমি টের পাওনি! সেদিন তুমি অন্য জগতে
তবু অভিযোগ,অবহেলা, অবিশ্বাস মিলে
যে নুনা নদী বয়ছে তার দুই তীরে মাঝে মাঝে
দাঁড়ায় আজও দুজনে যদি মুখামুখী বসি !

বাংলা ভাষা

মনচলি চক্রবর্তী ✒️

বাংলা মোদের মা 
বাংলা মোদের মাতৃভাষা, 
বাংলা ভাষার মাঝে আছে প্রান 
এই ভাষায় জাগে বুকে শিহরণ। 
কত দেশ কত যে ভাষা,
আমার হৃদয়ে লেখা থাকুক,
 চিরকাল অমর হয়ে, 
আমার মাতৃভাষা, বাংলা ভাষা। 
বাংলা ভাষায় বলবো কথা,
বাংলা ভাষায় লিখবো গাথা।
বাংলা ভাষায় গাইব গান, 
বাংলা মনে আনে ছন্দ তাল।
মায়ের ভাষায় আছে সুখ 
মাতৃভাষায় জুড়ে যায় বুক।
বাংলা মায়ের মুখ দেখে
জীবন মন দেবো সঁপে।
রক্ত জড়ানো একুশে ফুটুক,
শত শ্রদ্ধার একরাশ গোলাপ।  

শেষ বিদায়

সুস্মিতা সরকার ✒️

দেহের আজ শেষ বরন 
সাজ আজ শুধু ফুল ।
উপার্যিত সন্মান আজ
শুধু শেষ সম্বল ।
অগ্নি আজ অপেক্ষায়
দেহের মায়া শেষ ।
রূপ কথার গল্পের মায়া
বাকি শুধু কিছুক্ষণ ।
অশ্রু আজ বিদায় জানায় 
আজ যে শেষ যাত্রা।
পাপ পূণ্য গুনে সব 
জীবনকে শেষ বিদায় জানায়।

এক প্রকার স্বপ্ন

অনুরাগ ভৌমিক ✒️

স্বপ্ন তো খোলামকুচি,কুড়িয়ে নিলেই হয়।

এমন এক স্বপ্ন দেখা একা রাত-
ভোরমুখো তরঙ্গময় হাঁটে।

আলো,আলোক উজ্জ্বল হবে আগামী কালের সকাল,
এটাও এক প্রকার স্বপ্ন,
যা আমাকে তাড়ায়, তাড়িয়ে বেড়ায়,
অথবা নিজে থেকে লোভাতুর-
ছুটে যাই দূ্রান্তর,আরোও দূর-
যেখানে সূর্য তার ছানাদের আগলে রাখে,

খোলামকুচি তারাগুলো ডেকে নিয়ে যেতে চায় আকাশে।

এদিকে গোমতীর জলে ঢিল ছুঁড়ে
মনোরম আনন্দে মেতে উঠি,
বয়ে যায় বাসী ফুলের মতো সমস্ত উচ্ছাস...

বাস্প

 অসীম দেববর্মা ✒️
           
     বাড়ির সামনেই রাজপথ
   পথের উল্টোদিকে বিশাল     
                 বটগাছ
   পাখিদের মধুর কূজনে ঘুম
                  ভাঙ্গে,
                 আবার 
 দিগন্ত কাঁপিয়ে পাখিরা বিশ্রামে যায়।
একা আমি চার দেওয়ালের ঘরে বদ্ধ!
         কংক্রিটের বেড়াজাল 
    অসাড় দেহ নড়বড়ে চলন
    দোদুল্যমান মনের অবস্থা
        বিবাগী অনুভূতি
স্মৃতিরা নিকোটিনের ছাই 
    সম্পর্কের নাগপাশ 
       দু'চোখ ঝাপসা
       ভাত ঘুম উধাও।

আমি দেখেছি

স্বপন দেবনাথ ✒️

আমি নিরব মনে দেখেছি --
এক সুন্দর ফুটফুটে রাত বিলীন হয়ে যেতে
নতুন এক সূর্যোদয়ের তাগিদে।

আমি নিরব মনে দেখেছি --
আঁধারী হাওয়া সুমধুর তানে বয়ে যেতে 
আমায় ছেড়ে তোমার প্রান্তরে ।

আমি নিরব মনে দেখেছি --
জন-কল্লোলের মতো জোনাকিরা ছুটে যেতে
সেই আবার, তোমার আঘ্রাণের টানে।

আমি নিরব মনে দেখেছি --
চমৎকার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে রাতের পরী 
এক‌ই নজরে, আমাদের অভিমুখে।

আমি নিরব মনে দেখেছি --
এই আঁধারে এলেই তোমার মুখশ্রী বারম্বার
খুঁজে পাই এই আঁধারী সৌন্দর্যৈ।

আমি নিরব মনে দেখেছি --
যতবার তোমায় খুঁজে পাই 
ততবারই উন্মিলিত হয় আমার মাঝে
চির প্রশান্তি, আর প্রশান্তি।

আমার বাংলা ভাষা

বিজয়া শর্মা ✒️

বাংলা আমার প্রথম বুলি,
বাংলায় গাই গান।
বাংলা আমার মাতৃভাষা,
বাংলায় আমার প্রান।
শুনেছি গো ইংরেজি নাকি,
সবার সেরা-
আমি বাপু বড্ড গেঁয়ো,
হৃদয় আমার বাংলায় ঘেরা।
বাংলা ভাষায় আবেগ ঘেরা,
আছে কত সুখ।
এই ভাষাটা শুনলে পরে,
গর্বে ভরে বুক‌।
বাংলা আমার জন্মভূমি,
বাংলা মায়ের ভাষা।
বীর শহীদদের রক্তে কেনা,
আমার বাংলা ভাষা।

এক বসন্ত উৎসবে

 কৃষ্ণ ধন শীল ✒️
                 

এক বসন্ত উৎসবে আমি তোমাদের সাথে 
নব নব কিশলয়ে ভরাবো বাগান, 
আমি গাছ নয় তবুও হে বৃক্ষ তোমাদের সাথে 
একত্রে সবুজের সমারোহ করবো প্রদান!

সৃজনী মহীর সন্তান মোরা শুধু দুটি রূপ 
ফাগুনের বেলায় অবলীলায় তাই মিশিতে চাই,
শুষ্ক অশ্রু বারিধারা নিমেষে হবে চুপ 
নব পাখির দল ধরবে তান আমাদের আঙ্গিনায়।

তুমি দেবে ছায়া ফুল ফল আর পাতার বাহার 
আমি তোমায় ভালবেসে দেবো জল আর স্নেহ,
আগামী বসন্তে মহীর তরে এ উপহার 
বসন্ত উৎসবে এক সাথে দূরে নয় কেহ!

মহীর হৃদয় জুড়ে সেদিন যত হিংস্র কাকের দল 
দেখবে চেয়ে গজে ওঠা ভালোবাসার বন,
কুঠারাঘাত নয় বরং স্বার্থহীন প্রেমে বল
বসন্ত উৎসবে এভাবে চলো সাজাবো ভূবন।

একটি মেয়ের অপূর্ন স্বপ্ন

 মানব দেবনাথ ✒️

একটা মেয়ে স্বপ্ন দেখে, তার ভালোবাসার মানুষের;
ভাবে ভালোবাসার মানুষটা কেবল তারই হবে।
মেয়েটা জানেনা আরও একটি মেয়ে তার মত করে,
তার ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের করে ভাবে।

মেয়েটা স্বপ্ন দেখে ভালোবাসার মানুষের সাথে ,
ঘুরতে যাবে পাহাড়ি দেশে।
মেয়েটি ভাবে ভালোবাসার মানুষটা তাকে;
"কসম কি কসম" গানটি শোনাবে।
মন খারাপের সঙ্গী হবে তার,
হবে তার "চাট"খাওয়ার সাথী।
বোকা মেয়ে! বুঝেনা তার ভালোবাসার অনুভূতি ,
যে তার ভালোবাসার মানুষটি বুঝেনা।
সেই মেয়েটা স্বপ্ন দেখে পথের ধারে হবে একটা কুড়ে ঘর;
সেথায় থাকবে মধ্য রাত জাগা সুখ সারাক্ষণ।
অথচ তার অজানাই রয়ে যায়, অমন ঘরের স্বপ্ন;
তার ভালোবাসার মানুষটি এবং ওই আরেকটি মেয়ে ভাবে আনমন।
মেয়েটার স্বপ্ন মিশে যায় ওই আরেকটি মেয়ের মাঝে,
আর এইভাবেই একদিন ওই আরেকটি মেয়ে স্বপ্ন পূরণ হবে;
আর এই মেয়েটির দখিনা বাতাসে যায় বয়ে।
ও মেয়ে! কষ্ট হবে কিন্তু ভুলে যাও,
যে আরেকটি ছেলে তোমায় অন্তর থেকে ভালবাসে;
যে তোমায় সত্যিকারই ভালো রাখতে চায়।
কিছু না ভেবে তার কাছে ফিরে যাও।

বর্ণের আজন্ম অহংকার

তাহমিনা কোরাইশী ✒️

একুশ রাজপথে শব্দ বোল কষ্টিপাথরে যাচাই
আত্মত্যাগের বর্ণ লাল বুকেরই নির্যাস,
হৃদয়ের চৌকোণা ফ্রেমে
বেজায় চৌকস করে বসিয়ে তোমাকে
বর্ণ ফুলের মালায় সাজিয়ে বিশেষ একদিনে
হয়েছি আত্মহারা।
আমার এই ক্যাটরেক্স চোখে শীতল পাটির
আসন পাতা,
দিতে পারিনি উষ্ণতা সূর্যের কোল ঘেষে দাঁড়িয়েও
কেবলই পুড়ে যায় স্মৃতির পৃষ্ঠা।
একুশ তুমি রাজপথে  শব্দের বোল
কৃষ্ণচুড়ায় শিশির কণায় শতদল,
স্পর্ধায় আমার গর্ব ভরা সম্পদ বাংলার বোল
মায়ের মমতায় শান্তির নিরিবিলি কোল
সারা জীবনের উপাস্য তুমি অধিকারে দেশ-জাতি
অহংকারী।
সূর্যকে সূর্যমূখী দেয় প্রেম-ভালোবাসা-সোহাগ
আমি দেবো শব্দের ভ্রুণে জন্ম নেয়া প্রত্যয়,
থাকবে না এই চলা আশ্রয়হীন রাত
কাটবে না পথ আর নিদারুণ শঙ্কায়।
দাঁড়াবো তোমাকে ছুঁয়ে আমার বর্ণের আজন্ম অহংকারে।

বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান

তাহমিনা কোরাইশী ✒️

কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিল একদিন বাংলার মানুষ
সেদিনের সেই রূঢ় পৈশাচিকতায়
আজও নিরবে অশ্রু বিসর্জন
বদলে গেছে সময় বদলে গেছে জীবন।
ঝুম বৃষ্টিতে হেসে ওঠে সবুজে সবুজ প্রকৃতি
ফুলেরা তোমায় আরতি দেবে বলে বাগান সাজায়
আনন্দে উদ্বেল লাল সবুজের আমাদের পতাকা
দৃঢ় প্রত্যয়ে জেগে আছে ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল জমিন।
তোমার যোগ্য উত্তরসূরী নিয়েছে হিসেব কড়ায় গন্ডায়
দণ্ডে দণ্ডিত আজ সেই নরপিশাচের দল।

আজ জানাই শতবর্ষের শত সালাম হে মহান
তোমার জন্য কন্ঠে আনন্দ সংগীত হে মহীয়ান
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান
আছো আমাদের হৃদয়ে চিরদিন হে অনির্বণ।

কল্পনাতে মিছে বাসা

 সাবেরা আতিক ✒️

স্বপ্ন দেখি দুই চোখে আজ
স্মৃতির পাপড়ি মেলে,
সেই যে গেলে আর এলেনা
আমায় একা ফেলে।

আফসোস করেই কাঁদতে যদি
হয়গো আমার বনে,
তবুও সুখ বুকে আমার
কষ্টটা থাক মনে।

মনের মানুষ মনেই থাকুক
চিল শকুনের ভয়ে,
কেঁদেই না হয় কাটাবো বনে
তোমার স্মৃতি লয়ে।

ভালবাসার স্বপ্ন দুয়ার মেলে আজও থাকি
স্বপ্ন রঙীন দিনগুলি মোর
দিয়ে যায় যে ফাঁকি।

কল্পনাতে বাঁচবে কি আর
তোমার ভালোবাসা,
দূর থেকে তাই স্বপ্ন দেখি
বাঁধি মিছে বাসা।

ছু্ঁয়ে থাকি

নিবারণ নাথ✒️

       সারা রাত ছুঁয়ে থাকি
       এক টুকরো আগুন
       চোখের কোনে সাজিয়ে রাখি।
       টুকরো টুকরো স্বপ্ন
       ক্লান্ত দিনের বেদনা
       ভালোবাসার গন্ধ
      প্রাণের খোঁজেই দেখি।
      আমার আমিই
      আমার ঘাম
      আমার রক্ত আবার
      শেষ সূর্যের আলোয়,
      সুখ সন্ধ্যায়
      নিরন্তর টানে আমার আশ্রয়।

কী করবে

যুস্মিতা দাশগুপ্ত✒️

ওজন বুঝে তুমি চলবে,
স্মার্ট  শুধু তোমাকেই বলবে,
চশমা পরে কায়দা করবে,
হোঁচট খেয়ে মাটিতে পরবে।
যখনই তুমি জিন্স লাগাবে,
দেখতে তোমাকে ভালোই মানাবে,
টুপি পরে কায়দা দেখাবে,
লোকে দেখলে মুখ বেকাবে।
সম্মান দিলে সম্মান পাবে,
গরিবকেও আপন ভাববে,
ছোট বড়ো সবাই কে মানুষ বুঝো,
মানুষের মধ্যেই ভগবান খুঁজো। 

রূপসী

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য✒️

তোমার রূপে আমার অনন্ত ভালোলাগা
জীবনের আলপথ ধরে হেঁটে গেছি
তোমারই অমোঘতায়
ক্লান্তি এলেও ভুলেছি অপার স্নিগ্ধতায়।

রঙচড়া গোধূলিতে- তোমার এলোকেশি রূপ
বসন্তের অনন‍্য উল্লাস,
পলাশের রুদ্রতা তোমার বৈভব, 
সবুজের মোহনীয়তায় প্রাচুর্য‍্য।

তাই আমি ঘুরে ঘুরে খুঁজতে চাইনা
অন‍্য কোন রূপসী ললনা,
তোমার চুলের মায়াবী ঘ্রাণ, শ‍্যামলী বাহার
আমার শৈশবের উচ্ছ্বাস,যৌবনের প্রেম,বার্ধ‍ক‍্যের বিলাস।

তোমার পথেই হউক আমার যাপন
আগুনি বুকে অন্তিম সমর্পণ।
সবুজের টানে অবুঝের ভিড়ে অটুট থাকুক বন্ধন
চির চঞ্চল চির প্রশান্ত এই রূপসী বাংলার ভুবন।

তোমাতে সমর্পণ জীবনানন্দের বনলতা,
রবী ঠাকুরের সোনারতরী,
নজরুলের ঝিঙ্গে ফুল আরো শত কবির উদ্দীপনা
তাই তো বারে বারে চাই এই শ‍্যামলী বুকের উষ্ণতা।

২১শে ফেব্রুয়ারি

নীলিমা দাশগুপ্তা✒️

বাংলা ভাষা কেড়ে নেবে
নিষ্ঠুর জিন্নাহ পাকের ভাষণ।
উর্দুই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা
ওরা করবে বাংলা শাসন।

তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে
ছাত্ররা মিছিলে নগ্নপায়ে দিলো যোগ,
 দমাতে মিছিল মাঝে
পুলিশ ঝাঁঝরা করলো ওদের বুক। 

ছালাম বরকত রফিক জব্বার
শফিক জীবন দিলো ঢেলে,
তাঁদের রক্তের বিনিময়ে 
বাংলা ভাষা স্বাধীনতার ডানা মেলে।
 
বায়ান্ন সালের একুশ ফেব্রুয়ারি
ভাষা রক্ষায় জীবন দিলো যারা,
বিশ্বের কাছে প্রতি বছর
শহীদের মর্যাদা পায় তাঁরা।

বসন্তের এই দক্ষিণা বাতাসে,
শহীদ মিনার স্মৃতির ফলক মাঝে
গভীর শ্রদ্ধায় পুষ্পস্তবক অর্পণ দুহাত ভরে।
দোয়া করবো তাঁদের তরে।
শ্রদ্ধা নিবেদন সব শহীদ স্মৃতির স্মরণে।