একটা নদীর গোপন কথা

….✍সজীব পাল




"তোমার কথায় যুক্তি আছে একশো শতাংশ,কিন্তু ব্যাপারটা কি জানেন ভাই ?মানুষ সত্যের উপর এই তথ্যটা মানতে চায় না । অদ্ভুত ব্যাপার হল এইটা ছাড়া বিশ্বাসও করতে চায় না ।তাই বলি কি আপনে এই নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করে অযথা সময় নষ্ট করবেন না "

" কিন্তু আমার চাকরি ? এইটা ছাড়া আমি ত নিঃস্ব !"

" এইটা তোমার ভাগ্যে নেই ।আমার কাছে যুক্তি চেয়েছেন,আমি দিয়েছি। তার চে বেশি বলতে পারব না।পরে দেখবেন চাকরির পিছে ঘুরে যেন সর্বস্ব না খোয়ায়। তুমি আসতে পারো ভাই ।"

"দাদা যাবার আগে একটা কথা জানতে চাই ।"

"কী কথা ?"

"পৃথিবীতে ধন, ঐশ্বর্য এবং ক্ষমতার পরে সত্য শব্দটাকে বিশ্বাস করেন?"

"করি "


"করলে আজ পৃথিবীতে সত্য নিয়ে এত পীড়াপীড়ি কেন ?"


"দেখো ভাই তোমার প্রোবলেম আমি বুঝতে পারছি ।কিন্তু এইটা ও তোমাকে জানতে হবে সব কিছু মানুষের হাতে থাকে না। কিছু কপালেও থাকতে হয় । না হলে তোমার চাকরি মুহুর্তেই ধূলিসাৎ।


" ঠিক আছে বুঝতে পেরেছি। আমি আসছি ।"


সুমিত মাস কয়েক আগে ছোট একটা চাকরি জোগাড় করে।গত কয়দিন অসুস্থতার সুবাদে অফিস কামাই করে ,কিন্তু তার সমস্যার কথা সে অফিসের ম্যানেজারকে বিশদে ফোনালাপে জানায় ।কিন্তু আজ দশটায় যখন অফিসে আসে তখন তার টেবিলে একটা চিঠির খাম দিয়ে যায় তার-ই সহকর্মী দিনেশ রায়। বয়সে তার চেয়ে বেশি বলে সুমিত তাকে দাদা বলে ডাকে। খামটা খুলে সুমিত এতটাই শক্ খেল শেষে না পড়ে যায় তাই দিনেশ রায় তাকে সান্ত্বনার ভঙ্গিতে শান্ত হতে বলেন । তারপর ধীরে সুস্থে ম্যানেজারের রুমে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে বলে তার অফিস কামাই তার একমাত্র নিমিত্ত । এই নিয়ে অনেক তর্কাতর্কি হয়,ম্যানেজার অশোক সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন যে ওইদিন কোনো কল সুমিত তাকে করেননি । বরং অশোক ফোন করলে সুমিত কল কেটে দেয় । তাই ওরা তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে ।

সুমিত কলহিস্ট্রি দেখালেও অশোক সিদ্ধান্ত এবং নিজের কথায় নিশ্চল। ব্যর্থ, ক্লান্ত সুমিত ফিরে আসে সহকর্মী দিনেশ রায়ের কাছে ।


দীনেশের বিধবা বৃদ্ধ মা অসুস্থ সকালে অফিসে আসার পর পাশের বাড়ির একজন কল করে জানায় মার কথা । সে ভেবেছিল অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা যখন হয়েছে তখন ফিরে গিয়েই না হয় মাকে হাসপাতালে নেওয়া যাবে । কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা তার কাছে একটা টাকাও ছিল না । ভেবেছিল ম্যানেজারের কাছ থেকে এই মাসের বেতনটা অগ্রিম চেয়ে নেবে ।কিন্ত এতবড় বিপদ সে সমাগত তার আশঙ্কা যে ছিল না তা নয়,সে জানতো অশোক এমন ধরনেরই ব্যক্তি । তবে সে ভেবেছিল হয়ত বেতন কমিয়ে দেবে। সোজা চাকরি থেকে বরখাস্ত অনুমানের বাইরে ছিল ।অথচ এমনটাই হয়েছে ।সে এখন এতটাই ক্লান্ত এবং দুর্বল যে মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা পর্যন্ত নেই । তার ধারণা পৃথিবীর একমাত্র পুত্র সে যে মায়ের মৃত্যুর জন্য প্রত্যক্ষ দায়ী হবে । সে এখন দ্বিধায় আছে বাড়ি যাবে নাকি  ঠিক করে উঠতে পারেনি ।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন