সম্পাদকীয়


সম্পাদকীয়...................✍️

২১ শে ফেব্রুয়ারি বলি কিংবা মাতৃভাষা দিবস বলি এটার ইতিহাস কিন্তু বাঙালিদের হাত ধরেই তৈরি। বাঙালীরা দেখিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ কাকে বলে! মাতৃভাষার জন্য কি-না করা যায়! বাঙালী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে শিখতে পারা যায় যে, মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধের সমান। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ অর্থাৎ  সমস্ত বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী জনগণের গৌরবময় একটি দিন। এটি শহীদ দিবস হিসাবেও সুপরিচিত। বাঙালীদের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবময় স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮, বৃহস্পতিবার) বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে অনেক তরুণ শহীদ হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক, জব্বার, শফিউল, সালাম, বরকত সহ অনেকেই। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ৫ই আগষ্ট, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। সবাইকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা। 
শুভ কামনায়
গৌরাঙ্গ সরকার
(সম্পাদক)
শিবশংকর দেবনাথ
(সহ-সম্পাদক)
নবোন্মেষ, ত্রিপুরা

ফাগুনের উত্তাপ


          ✍️ইমরান খান রাজ 

ফাগুনের উত্তাপ আজ ছড়িয়ে পরেছে, 
আকাশে-বাতাসে আর মনের আঙিনায়। 
কোকিলের সুরে আর শিমুল ফুলের গন্ধে, 
ফাগুনের বার্তা ছড়িয়েছে বেশ। 
মনের ঘরে বাসা বেধেছে বসন্ত আর ভালোবাসা, 
তারই সুভাষে আজ মনঃপ্রাণ উৎফুল্ল। 

নদীর ধার, পুকুর পাড়, অথবা ফুলের বাগান 
সবখানেই আজ বসন্ত লেগেছে। 
কৃষ্ণচূড়ার লাল আবরণে ঢেকেছে পথ, 
মৌমাছিরাও আজ ব্যস্ত, শুধু বসন্তের আবহে৷ 
শিল্পীর আঁকা ছবিতে, রুপকথার রাজ্যে 
আজ শুধু বসন্তের আনাগোনা দেখছি।

একুশে ফেব্রুয়ারি


          ✍️ আলমগীর কবীর।

 একুশ মানে মাতৃভাষা, বাংলাভাষার প্রাণ
একুশ মানে ভাষা আন্দোলন, বাংলার জয়গান। 

একুশ মানে মোদের ভাষা, শহীদ ভাইদের স্মরণ 
একুশ মানে শহীদ বিদ্রোহীদের, হয়না কভু মরণ।

একুশ মানে রক্তে রাঙ্গা, তাজা জবা ফুল 
একুশ মানে রক্তনদীর , নেইকো যাহার কূল। 

একুশ মানে বীর শহীদদের,  শ্রদ্ধা জানাই শত
তাদের জন্য চলবে কলম লিখবো অবিরত। 

একুশ তারিখ ভুলবনা ভাই, শহীদের বলিদান।
শহীদ সকল অমর রহে, জয় হোক মাতৃভাষার   মান।

চালচিত্র






  
                 ✍️শ্যাম মালাকার 

মানব সভ্যতার ইতিহাস হলো ক্রমবিকাশের ইতিহাস । কালের অগ্রগতির সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়ে চলেছে সমাজ সভ্যতার চালচিত্র। সে চিত্রের মধ্যমণি হলো মানুষ । এই মানুষ শব্দটিকে যদি ভেঙে দেখা হয় তবে আমরা "মান" আর "হুশ" দুই শব্দ পেয়ে থাকি , সঙ্গত কারণেই মনে হয় যে - যে সৃষ্টির মধ্যে মানুষ নামক জীবই সবচেয়ে উন্নত । মানুষ শব্দটির মূল আরবী ধাতু হচ্ছে 'উনসুনম্ব, আর উনসুন মানে হচ্ছে স্নেহ ভালোবাসা। ... সে হিসেবে মানুষ শব্দটির সুন্দর অর্থ করলে দাঁড়াবে এই যে, যার মধ্যে অন্য সব সৃষ্টিকে ভালোবাসার উপাদান আছে এবং যার মধ্যে অন্যের ভালোবাসা রাখার জায়গা আছে- সেই হচ্ছে মানুষ। পরিবর্তনশীল যুগপর্বে প্রতিনিয়ত এই মানব সামাজও পরিবর্তিত হচ্ছে , সেই মধ্যযুগের ইউরোপ বলি কেন আর মধ্যযুগের ভারতবর্ষ বলি না কেন , প্রতিটি দেশে প্রতিটি মানব সমাজের চিন্তার জগতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন কোন না কোন সময়ে এসেছে ,তা ধর্মের ক্ষেত্রে হোক বা সামাজিক ক্ষেত্রে হোক, শিক্ষার ক্ষেত্রে হোক বা রাজনীতির ক্ষেত্রে হোক প্রতিটি ক্ষেত্রেই পূর্ববর্তী সমাজের চালচিত্র পদে পদে বদল হয়েছে এসেছে আধুনিক চেতনা, যে চেতনার মূল স্তম্ভ যুক্তিবাদী মন । পঞ্চদশ শতক ইউরোপের মাটিতে হয়েছিল নবজাগরণের জয়যাত্রা তার সাথে সঙ্গ দিয়ে শুরু হয়েছিল বিজ্ঞান চর্চা । ফলে ইউরোপের মানুষের চিন্তার জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয় । যে পরিবর্তনের ঢেউ গোটা মহাদেশের চালচিত্রকেই বদলে দিয়েছিল ।মধ্যযুগে ইউরোপে ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে শোষণ ও নির্যাতনের যাবতীয় ব্যবস্থা কার্যকর করা হতো । গির্জা রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্মের নামে নির্যাতন করতো । খ্রিস্ট ধর্মের এ সব বাড়াবাড়ির ফলে জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা বৃদ্ধি পায় । এক শ্রেণীর যাজক ধর্মকে ব্যবহার করে ভোগবাদিতায় মত্ত হয়ে মানবতা বিরোধী আদেশ জারিতে লিপ্ত থাকে । পঞ্চদশ- ষোড়শ শতাব্দীর বেশ কয়েকজন মানবতাবাদী ধর্মযাজক ও সাধক ক্যাথলিক ধর্মের এ সব বাড়াবাড়ির প্রতিবাদ করেন , খ্রিস্টধর্মের নতুন নতুন সংস্কারণের আন্দোলন গড়ে তোলেন । ইউরোপে ধর্মক্ষেত্রে এ সব আন্দোলন তৎকালীন ও পরবর্তী যুগপর্বে ইউরোপের আর্থ- সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে সব পরিবর্তন নিয়ে আসে তা সুদূরপ্রসারী অবদান রাখে । ইউরোপের ফরাসি বিপ্লব বিশ্ব সভ্যতার দরবারে নিয়ে আসে স্বাধীনতা আদায়ের এক প্রতিবাদী অগ্নিশিখা । যে অগ্নিশিখার স্ফুলিঙ্গ ফ্রান্স হয়ে সমগ্র পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়ে । শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জগদ্দল পাথরের মতো বসে থাকা পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তে স্বাধীনতার শোষণকারী বিভিন্ন রাজতন্ত্র ও সমাজের বুকে প্রচলিত কূপ্রথা গুলি ফ্রান্সের বিপ্লবের সাম্য মৈত্রী স্বাধীনতার সেই অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করে এক নতুন সভ্যতার জন্ম দিয়েছিল প্রতিটি দেশের মানব চিন্তনে । 
এখন আমি আলোচনা করবো এই একবিংশ শতকে গোঁড়া রক্ষণশীল ইসলামের আঁতুড়ঘর সুদূর সৌদি আরবের সমাজ সভ্যতার চালচিত্রের নিদারুণ পট পরিবর্তনের ক্ষণিক ভাবনা কতটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন মুখি । 

ইসলামের জন্মস্থান সৌদি আরবের পতাকায় রয়েছে আল্লাহর একত্ববাদের বাণী কালেমা শাহাদাত ও একটি তরবারির ছবি। সৌদি আরবের পতাকা এবং জাতীয় সংগীতে কিছু পরিবর্তনের গুঞ্জণ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্প্রতি দেশটির শূরা কাউন্সিল পতাকার প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো রাজকীয় ডিক্রির একটি খসড়া সংশোধনী অনুমোদনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। মজলিশে শূরার সদস্য সাআদ আল-উতাইবির প্রস্তাবের পর এতে অন্য সদস্যরা সম্মতি দেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।  সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, শূরার নিরাপত্তা ও সামরিক বিষয়ক কমিটির সম্মতির পর জাতীয় পতাকা, প্রতীক ও সংগীত সংস্কারের এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন এখন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।

এপির খবরে বলা হয়, সৌদির শূরা কাউন্সিলের সম্মতিই যে কোনো আইন বাস্তবায়ন ও সংস্কারে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। সে হিসেবে বাদশাহ’র অনুমোদন এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ এর অংশ হিসেবে পতাকা ও সংগীত পরিবর্তন করা হচ্ছে। 

সৌদি আরবের স্থানীয় একটি দৈনিকের খবরে হয়, সংস্কারে জাতীয় পতাকা ও সংগীতে কি পরিবর্তন হবে তা জানানো হয়নি, তবে এগুলোর আইনে সংশোধন আনা হবে।  আইনে কী ধরনের সংশোধন আসতে পারে সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু জানায়নি পত্রিকাটি। তবে পতাকার প্রয়োজনীয় সম্মান এবং কালেমাখচিত পতাকাকে অবহেলা ও অনিচ্ছাকৃতভাবে পড়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষার জন্যই এই আইন হতে পারে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে।  পতাকা অবমাননার অভিযোগ চার বাংলাদেশিকে গ্রেফতারও করেছে সৌদি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে সৌদি পতাকাকে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল ইসলামী দেশ হিসেবেই পরিচিত সৌদি আরব। কিন্তু হাজার হাজার বছরের সেই ঐতিহ্য থেকে ক্রমেই বেরিয়ে আসছে দেশটি। এক্ষেত্রে একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদির আদি ইসলামী ঐতিহ্যকে ‘কট্টরপন্থা’ আখ্যা দিয়েছেন। বিপরীতে দেশে ‘মধ্যপন্থী ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন তিনি। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘মধ্যপন্থা’র নামে তিনি আসলে পশ্চিমা ভাবধারা ও সংস্কৃতিকেই আমদানি করছেন। বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এখন নামেমাত্র সৌদি শাসক। প্রকৃত শাসন ক্ষমতা মোহাম্মদের হাতেই। ২০১৭ সালে ছেলেকে ক্রাউন প্রিন্স বা যুবরাজ ঘোষণা করেন বাদশাহ। সরিয়ে দেন ভাতিজাকে। ভবিষ্যৎ বাদশাহির পথ সুগম হওয়ায় পর্দার আড়াল থেকে সামনে চলে আসেন প্রিন্স সালমান।

প্রসঙ্গক্রমে মনে রাখা প্রয়োজন যে আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও সৌদি আরবে নারীর ভোটাধিকার অনেক পরে শুরু হয়েছে । অধুনা বাংলাদেশের বহু সমালোচিত ও নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তাঁর "নারীর কোনো দেশ নেই" গ্রন্থের "পুরুষের বেলায় অধিকার আর নারীর বেলায় দায়িত্ব" অধ্যায়ে বলেছেন - পুরুষেরা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে যে মর্যাদা পায় , নারীরা তা পায় না । পায় না , কিন্তু পাওয়া উচিত । এটি নতুন কোনও কথা নয় , সমতায় এবং সততায় বিশ্বাস করা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বহুকাল ধরে বলছেন এ কথা । মুঠো মুঠো ইতিহাস তুলে , তত্ত্ব তথ্য - দর্শন বর্ষণ করে তাঁরা দেখিয়েছেন একসময় নারীর অবস্থা কোথায় ছিল , বিবর্তনে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে , এবং কতটা পথ এখনও বাকি আছে বুড়ি ছুঁতে । 

মেয়েদের কি কেবল এই তৃতীয় বিশ্বই ঠকাচ্ছে ! প্রথম বিশ্বেও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কোনও ধারণা ছিল না মেয়েরা মায়ের জাতের বাইরেও একটি জাত , সে জাতের নাম মানুষ - জাত । মেয়েরা চিরকালই নগণ্য হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে , নাগরিক হিসেবে নয় । নাগরিক শব্দটির উৎপত্তি নগর থেকে । একসময় এক একটি নগরই ছিল এক একটি রাষ্ট্র । ভূমধ্যসাগরের কিনারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পনেরোশ নগরই , প্ল্যাটো মজা করে বলতেন ‘ পুকুরের চারধারে ব্যাঙের মতো ’ , ছিল সেকালের গ্রীস । গ্রীসে , আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে প্রথম যেখানে গণতন্ত্র চালু হয়েছিল , সেই গণতন্ত্রে নাগরিকের মর্যাদা পেত যারা সরকার চালাতো , রাজনীতির জ্ঞান ছড়াতো , তারাই , হাতে গোনা কিছু গণ্যমান্য লোক । নাগরিকত্ব পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকতো বাচ্চাকাচ্চা , নারী আর ক্রীতদাস - দাসী । 


 নাগরিকত্ব , নাগরিক অধিকার এসব ধারণার ধীরে ধীরে উত্তরণ হতে থাকে । রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয় , আরও গভীর হয় নাগরিকত্বের বোধ । সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য এটির প্রয়োজন ছিল । নাগরিক নীতিবোধ গড়ে তুলে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষায় প্রতিশ্রুত হওয়া , স্ব স্ব কর্মে , শ্রমে , শৃঙ্খলায় , দেশাত্ববোধে - প্রেমে নিজেকে উৎসর্গ করা ছিল নাগরিক হওয়ার শর্ত । সাম্রাজ্যের সকলেই নাগরিকত্ব পেয়ে গেল । এটি কেবল মুখের কথা হয়ে রইল না , রীতিমত আইনী প্রতিষ্ঠা পেল । চমৎকার ব্যাপার । কিন্তু নাগরিক হওয়া থেকে বঞ্চিত এই রোমান সাম্রাজ্যেও রয়ে গেল দুটো জাত ( ! ) , নারীজাত আর নিচুজাত ।


 ষোড়শ শতাব্দী থেকে এক পক্ষের কাঁধের দায়িত্ব অপরপক্ষের কাঁধেও কিছু গড়িয়ে গেল । নাগরিককে একগাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পালন করার জন্য , কিন্তু নাগরিকের জন্য রাষ্ট্রের কি কোনও দায়িত্ব নেই ? নিশ্চয়ই থাকা উচিত , এখন থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল নাগরিকের শারীরিক , পারিবারিক , বৈষয়িক নিরাপত্তা বিধান করা । রাষ্ট্রের দায় দায়িত্ব এবং নাগরিকের অধিকার বিষয়ে ফরাসি দার্শনিকদের চিন্তাভাবনা সাধারণ জনগোষ্ঠীতে এমনই প্রভাব ফেলেছিল যে ফরাসি বিপ্লবের মতো বিস্ময়কর ঘটনাও একদিন ঘটে গেল । লেখা হয়ে গেল মানুষের অধিকারের আইন । ওদিকে আমেরিকার মতো নতুন দেশেও পরিবর্তনের জোয়ার উঠেছে । স্বাধীনতা আন্দোলন ঘটেছে , গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে , সমানাধিকারের সংবিধানও রচিত হয়ে গেছে , গেছে বটে , কিন্তু ক্রীতদাস প্রথা , সাম্রাজ্যবাদ , উপনিবেশবাদ , পুরুষতন্ত্র সবই বহাল তবিয়তেই বিরাজ করছে তখন , যেসব প্রথায় , বাদে , তন্ত্রে কালো মানুষ , দরিদ্র আর নারীর কোনও অধিকার স্বীকার করা হয়নি । ,

পুরুষেরা এইভাবে বিশ্ব জুড়ে নিজেদের অধিকারকে ‘ মানুষের অধিকার ' বলে ঘোষণা করেছে । কোনও বিপ্লবই কোনও সংবিধানই কোনও আইনই নারীর পক্ষে কোনও ঢুঁ শব্দ করেনি । নারীকে আদৌ মানুষ ভাবার মন বড় বড় বরেণ্য বিপ্লবী বুদ্ধিজীবীরও ছিল না । পুরুষের জন্য ‘ অধিকার ’ এর ব্যবস্থা হয়েছে , পুরুষের কথা বলার , ভোট দেবার , ভোটে দাঁড়াবার , ভাবার , স্বাধীনতা পাবার অধিকার । নারীর জন্য হয়েছে দায়িত্বের ব্যবস্থা । ঘরসংসার সামলানো , পুরুষকে সুখ স্বস্তি দেওয়া , সন্তান উৎপাদন করা , সন্তানাদি লালন পালন করার ‘ দায়িত্ব ’ । এক শতক দুই শতক করে সময় পার হচ্ছে , নারীকে যে কুয়োতে ফেলে রাখা হয়েছিল , সে কুয়োতেই আছে , ওদিকে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে তথাকথিত গণতন্ত্রের চমক বাড়ছে , রংঢং বাড়ছে , স্বাধীনতা এবং অধিকার পুরুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে । তবু কী আশ্চর্য , নারীর অধিকারের কথা কোনও পুরুষ বা মহাপুরুষ উচ্চারণ করছেন না । দুএকজন বলেছেন বটে , কিন্তু নারীকেই দাঁড়াতে হয়েছে শেষ অবধি , রক্ত ঝরিয়ে নারীকেই লড়তে হয়েছে নিজের অধিকার আদায় করতে । ভোটের অধিকারের জন্য দীর্ঘ বছর ধরে আন্দোলন করে তবেই সফল হয়েছে পশ্চিমের নারীরা । কিন্তু পশ্চিমের নারীর সফলতার অর্থ কিন্তু ব্যাপক অর্থে নারীর সফল হওয়া নয় । এই একবিংশ শতাব্দীতেও পৃথিবীর অনেক দেশেই নারীর ভোটের অধিকার নেই । নারী এখনও রাজনীতি অর্থনীতি , শিক্ষা স্বাস্থ্য সর্বক্ষেত্রে ভয়ংকর বৈষম্যের শিকার । নিজের প্রাপ্য অধিকার থেকে অন্যায় ভাবে বঞ্চিত ।" 

 ২০১৫ সালে সৌদির শরিয়া কাউন্সিল সূত্রে গালফ নিউজ জানিয়েছে, এবার থেকে নির্বাচনে প্রার্থীও হতে পারবেন নারীরা।দেশটিতে ভোটার হিসেবে গত ২২ আগস্ট থেকে নারীদের নিবন্ধনের কাজও শুরু হয়েছে। এই কাজ চলবে ২১ দিন ধরে। মক্কা ও মদিনায় নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে আরো ছয় দিন আগে। আর আগামী ৩০ আগস্ট থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করতে পারবেন নারী প্রার্থীরা।সৌদি গেজেট জানায়, রোববার মক্কা ও মদিনায় যে দুজন নারী প্রথম ভোটার হয়েছেন তাঁরা হলেন- সানিফাজ আবু আল শামাত (মক্কা) এবং জামাল আল সাদি (মদিনা)। তাঁরা দুজন সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রথম ভোটার। মক্কার বাসিন্দা আল শামাত জানান, তিনি স্থির করেছেন, দেশটির ভোটকেন্দ্রে তিনিই প্রথম প্রবেশ করবেন।এদিকে আল-জাজিরা এক খবরে জানিয়েছে, এবারের পৌরসভা নির্বাচনে প্রায় ৭০ জন নারী প্রার্থী লড়বেন। নির্বাচনী প্রচারণায় পরিচালক হিসেবে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ৮০ জন নারীর।

রয়টার্সের খবরে ঘটনাটিকে সৌদি সমাজব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।গালফ নিউজ জানায়, এ বছরের ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সৌদি আরবের পৌরসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন এবং প্রার্থী হবেন সৌদি নারীরা। গালফ নিউজ আরো জানায়, সৌদি আরবের প্রয়াত বাদশা আবদুল্লাহর নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটিতে ভোটাধিকার পাচ্ছেন নারীরা। ২০১১ সালে প্রথম সৌদি আরবের রাজার তরফ থেকে মহিলাদের ভোটাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সৌদি আরবের রাজনীতি ও সমাজে মেয়েদের চূড়ান্ত বৈষম্য নিয়ে অনলাইনে নিন্দার ঝড় ওঠায় সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সময় সৌদি আরবের রাজা আবদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘শরিয়ত মতে যদি বাধা না থাকে, তাহলে কোনোভাবেই মহিলাদের আমরা সমাজে কোণঠাসা করে রাখতে পারি না।’

তবে শরিয়া কাউন্সিল সূত্রে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী এ পত্রিকা জানায়, সৌদি আরবে রাজতন্ত্র থাকায় রাজনৈতিক দল গঠনের কোনো সুযোগ পাবে না কেউ। তবে রাজতন্ত্রের অধীনে স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনায় এখন থেকে অংশ নিতে পারবেন নারীরা। যে কারণে নারীদের ভোটাধিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা রাজনৈতিক অধিকার বলা হচ্ছে না। তবে রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারীদের এই অন্তর্ভুক্তি সৌদির নারীদের অধিকার আদায়ের পথে হাঁটতে শেখাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কারেন মিডেলটন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সৌদি আরবে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার পথে একে একটি ক্ষুদ্র অর্জন বলে মন্তব্য করেন। সৌদি সমাজে নারীদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের এখানে গাড়ি চালানোর অধিকার নেই। ভ্রমণে, আর্থিক কাজে অথবা উচ্চ শিক্ষায়, অথবা বিবাহের ক্ষেত্রে এখনো তাদের পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হয়। সেজন্যই অধুনা বাংলাদেশের বহু সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তাঁর "নারীর কোনো দেশ নেই" গ্রন্থে বলেছেন- " আমি বিশ্বাস করি নারীর কোন দেশ নেই। দেশ মানে যদি নিরাপত্তা, দেশ মানে যদি স্বাধীনতা ,তবে নারীর নিশ্চয়ই কোনও দেশ নেই। পৃথিবীর কোথাও নারী স্বাধীন নয় ,পৃথিবীর কোথাও নারীর নিরাপত্তা নেই । " 


সমাজ ও সংস্কৃতির ‘আধুনিকায়নে’ ভিশন-২০৩০ ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সেই লক্ষ্যেই ইতিমধ্যে বহু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। গাড়ি চালানো, হলে গিয়ে সিনেমা ও মাঠে গিয়ে খেলা দেখা এমনকি অভিভাবক ছাড়াই নারীদের হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।  বলাবাহুল্য যে ইসলাম ( হিন্দু ধর্ম ও ব্যতিক্রম নয় ) নারীর স্বাধীনতা কীভাবে শোষন করে তা আমরা তিন তালাক, পর্দা প্রথা ইত্যাদি নানান কুপ্রথা থেকে জানতে পারি । সেখানে দাঁড়িয়ে ইসলামের আঁতুড়ঘর সৌদির বুকে নারীর এহেন স্বাধীনতা যেনো "সাগরে শিশির বিন্দু" । ইতিহাসের ছাত্র হয়ে আমি যখন সুলতানা রাজিয়া কে পড়েছিলাম তখন হাস্যকর লেগেছিল ইসলামের বিবিধ ভন্ড নিয়ম শুনে । তখন মনে নানান প্রশ্নের উদয় হয়েছিল । যেমন ধরুন - 1> পর্দা প্রথা যদি নারীর জন্য আল্লাহ্‌র আদেশ দিয়ে গেছেন তবে রাজিয়া যখন পর্দা ছাড়া দরবারে প্রবেশ করতো তখন দরবারের অভিজাতরা তাকে প্রতিরোধ করার পরিবর্তে সাদরে সম্মান জানাতেন তবে কী রাজিয়া নারী ছিল না ? 2> শুধু পর্দা প্রথার অবমাননা নয় রাজিয়া পুরুষের সাজসজ্জাতে যুদ্ধ করতেন এবং দরবারের রাজনীতিতে তিনি পুরুষের সাজসজ্জাতেই অংশগ্রহণ করতেন। ইসলামের রক্ষক স্বয়ং ধর্ম গুরু খলিফা রাজিয়া রাজিয়ার এহেন কর্ম কান্ডের প্রতিবাদ না করে তিনি স্বয়ং রাজিয়াকে "সুলতানা" অভিধাতে অভিহিত করিয়াছেন । সঙ্গত কারনেই মনে প্রশ্ন ওঠে যে পর্দাপ্রথা যদি ইসলামে নারীদের জন্য বাধ্যবাধকতা মূলক হয়ে থাকে তবে ধর্মগুরু খলিফার স্বয়ং রাজিয়াকে কেন প্রতিরোধ করলো না, তার পরিবর্তে তিনি কেন রাজিয়াকে সুলতানা অভিধায় অভিহিত করল ?

 এর পিছনেও খলিফার নিজের একটি ব্যক্তি স্বার্থ ছিল । পিতা ইলতুৎমিসের মতো তিনি ও নিজের কর্তৃত্ব কে যখন বৈধ্য রুপ দিতে খলিফার কাছে রাজদূত পাঠান এবং বলেন - "ধর্মগুরু যদি রাজিয়া কে সুলতানি সাম্রাজ্যের শাসক দলের স্বীকৃতি দেয় তবে রাজিয়া নিজেও সাম্রাজ্যের প্রচলিত মুদ্রায় নিজেকে খলিফার প্রতিনিধি হিসেবে জাহির করবেন। এতএব শাসন করবেন রাজিয়া কিন্ত তাকে পরিচালনা করবেন খলিফা "। খলিফা দেখল যে রাজিয়া নামমাত্র শাসক, রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আসল অধিকারী হলেন খলিফা স্বয়ং ।কারন এর আগে ইলতুৎমিস এসে খলিফার অনুমোদন নিয়েছিল কারণ খলিফা হলো ইসলামের রক্ষক এতএব খলিফা যদি কাউকে শাসক রুপে অনুমোদন দেয় তবে সমগ্র ইসলাম জগৎ কে তা মেনে চলতে হবে । খলিফার কর্তৃত্ব ইসলামিক জগতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা খলিফা উপলব্ধি করেছিলেন । খলিফা তার ঠুন্কো রাজনৈতিক কর্তৃত্বের সুবাদে অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব ও সমাজে নিজের ভাবমূর্তি কে সুদৃঢ় করতে তৎপর ছিলেন তাই হয়তো দাসেরও দাস ( মোহাম্মদ ঘুরির দাস হলেন কুতুবউদ্দিন আইবক এবং কুতুবুদ্দিন আইবকের দাস হলেন ইলতুৎমিস ) ইলতুৎমিস ও তার কন্যার রাজিয়াকে বৈধ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল । এই ধর্মগুরু কর্তৃক বৈধ্যতা দানের নজির শুধু সুলতানি যুগে বা ইসলামের মধ্যে নয় এই প্রথা আমরা দেখতে পাই ইউরোপের খ্রিস্টান জগতেও, যখন রোমানদের চোখে বর্বর জাতি ফ্রাঙ্ক জাতি গোষ্ঠীর অন্তর্গত শার্লামেন নিজের যুদ্ধ প্রতিভা দ্বারা রোমান সাম্রাজ্যের উপর নিজের আধিপত্য কায়েম করলেন তখন শার্লামেন উপলব্ধি করেছিলেন যে, তিনি শুধুমাত্র রোমান ভূখণ্ড দখল করেছেন । রোমান জাতিগোষ্ঠী গুলি এখনো তাকে বর্বর বলে মনে করে অতএব শার্লামেন কে তখনই রোমান সমাজের মানুষ তাদের শাসক বলে মেনে নেবে যখন তাকে পোপ বৈধ বলে স্বীকৃতি দেবে । শার্লামেন পোপের কাছে দূত পাঠায় এবং বলেন যে পোপ যদি তাকে স্বীকৃতি দেয় তবে তিনি পোপের প্রতিনিধি হিসাবে শাসন করবেন । পোপ তৃতীয় লিও ৮০০ খ্রিঃ ২৫ শে ডিসেম্বর রোম নগরে শার্লামেনকে ইমপেরাতোর আউগুস্তুস হিসেবে অভিষিক্ত করেন । ৮১২ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব রোমান সম্রাট শার্লামেন কে পোপ কর্তৃক পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট হিসেবে স্বীকৃতি দান একটি অখন্ড রোমান সাম্রাজ্যের ধারণার পরিবর্তে ইউরোপ মহাদেশের দুটি সাম্রাজ্যবাদ বা সভ্যতার বিকাশকে সুনিশ্চিত করে। এতএব সঙ্গত কারণেই দেখা যাচ্ছে যে প্রতিটা ধর্মের ধর্মগুরুরা নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নারী পুরুষ উভয়কেই স্বাধীনতা দিয়েছে । যেমনটা রাজিয়া পেয়েছে । আর এখনকার খলিফা এখনকার মোল্লা মৌলবীরা নারী সমাজের কাছে কোনো মুনাফা পাইনা বলে তাদের কে পর্দা নামক কূপ্রথাতে আবদ্ধ করে রেখেছে । সেখানে দাঁড়িয়ে ইসলামের আঁতুড়ঘর সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উদ্যোগে ওই দেশের সরকার নারীদের যেটুকু স্বাধীনতা ( গাড়ি চালানো, হলে গিয়ে সিনেমা ও মাঠে গিয়ে খেলা দেখা এমনকি অভিভাবক ছাড়াই নারীদের হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।) দিয়েছে তা যেনো - "গগণ ভেদিয়া অতল সাগরের বুকে একফোঁটা শিশির বিন্দুর বারি বর্ষণ " । কারণ এই আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও মগরাহাট মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র মিজান ফকির তার এক কবিতায় নারীর স্বাধীনতা নিয়ে ঠিক এইভাবে প্রশ্ন তুলেছেন - 


       " যে নারী বিকিয়েছে তার লজ্জা ,
 মুক্ত দেহকে করেছে যে ফ্যাসান ।
      তাকেই বা কে দিলো এত স্বাধীনতা ? " 

আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে নারী স্বাধীনতার উপর এহেন নিষ্ঠুর প্রশ্ন যেনো স্বাধীন ভারতে নারী কে পরাধীনতায় নিমজ্জিত করেছে । বলা বাহুল্য যে ইসলামের মধ্যে যে মধ্যযুগীয় অন্ধকার চেতনা নিমজ্জিত তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মিজান ফকিরের এই লেখনী । সেখানে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উদ্যোগ সত্যিই যেনো "গগণ ভেদিয়া অতল সাগরের বুকে একফোঁটা শিশির বিন্দুর বারি বর্ষণ " ।


যাই হোক যে পরিকল্পনা নিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অগ্রসর হয়েছিলেন অর্থাৎ সৌদির জাতীয় পতাকাতে পট পরিবর্তন করা সেইখানে ফিরে আসি , আজ অর্থাৎ 7/02/2022 তারিখে আন্তর্জাতিক ডেস্ক থেকে জানা যায় - পরিবর্তন আসছে না সৌদি আরবের পতাকা ও জাতীয় সংগীতে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। গত সোমবার সৌদির শুরা কাউন্সিল দেশের পতাকার প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো রাজকীয় ডিক্রির একটি খসড়া সংশোধনী অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেয়। এতে দেশটির পতাকা, প্রতীক এবং পতাকার বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়। সাআদ আল-উতাইবি এ প্রস্তাব উত্থাপনের পর অন্যান্য সদস্যরাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।সৌদির শুরা কাউন্সিলও একটি খসড়া সংশোধনীতে অনুমোদন দেয়। কিন্তু সেটি বাস্তবায়িত হবে না। গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পতাকা-জাতীয় সংগীতে পরিবর্তন না আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির শুরা কাউন্সিল।এতে আরো বলা হয়, সাআদ আল-উতাইবি নামে মজলিশে শুরার এক সদস্য সৌদির পতাকা ও জাতীয় সংগীতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেন। এখন তিনিই বলছেন, সংশোধনীর লক্ষ্য ছিল পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীতকে ক্ষতি, বিকৃত এবং পরিবর্তন থেকে রক্ষা করা।

সৌদি মালিকানাধীন সম্প্রচার মাধ্যমে আল আরাবিয়াকে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বিধিমালায় পতাকা উত্তোলনের স্থান ও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবর্তন না আনলেও সংশোধনীতে জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের অবমাননা রোধে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।সৌদি আরবের শাসনের মৌলিক আইন ৫০ বছর আগে চালু হলেও এতে জাতীয় সঙ্গীতের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে এখন প্রবিধান যুক্ত করা হয়েছে। সাআদ আল-উতাইবি বলেন, প্রবিধান, পতাকার আকৃতি এবং আকার নির্দিষ্ট করে দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো- অনুমতি পাওয়ার পর যাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার অধিকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর থাকে এবং সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পতাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রবিধান মেনে চলতে পারে। নতুন সংশোধনীতে জাতীয় পতাকা বা অন্য কোনো সৌদি প্রতীকের অবমাননা করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা তিন হাজার সৌদি রিয়েল পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রেখেছে সৌদি আরবের পাবলিক প্রসিকিউশন । বলা বাহুল্য যে এই একবিংশ শতাব্দীতে হঠাৎ করে আধুনিকরণের যে ঢেউ রক্ষণশীল সৌদির বুকে এসে পড়েছিল সে ঢেউ এর উপর লক্ষ করে কামান দাগালো গোঁড়া রক্ষণশীল ইসলাম ধর্ম এবং ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আধুনিকরণের প্রথম প্রয়াস এবং পূর্বের রক্ষণশীল অবস্থাতেই ফিরে গেলো আরব দুনিয়ার চালচিত্র । 




তথ্যসূত্র 
--------------


1> যুগান্তর ডেস্ক  , পরিবর্তন আসছে সৌদির পতাকা ও জাতীয় সংগীতে ( ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ)

2> n TV online, ভোটাধিকার পেলেন সৌদি আরবের নারীরা (অনলাইন ডেস্ক ২৪ আগস্ট, ২০১৫, ২১:৫৪)

3> আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ( অনলাইন ) বদলাচ্ছে না সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা-সংগীত ।

4> "নারীর কোনো দেশ নেই" , লেখিকা তসলিমা নাসরিন ।

5> আমার মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র মিজান ফকিরের এক কবিতার অংশ । ( কবিতার লাইন টি মিজান ফকিরের ফেসবুক A/C থেকে গৃহীত ) 

দিদি


            ✍️সুস্মিতা দেবনাথ।


রান্নাবাটির ঝগড়া-ঝাটি 
রোজকার মাতামাতি। 
বায়না,নালিশ, খেলাঘরের 
তুই যে খেলার সাথী। ।
মায়ার বাঁধন তোর সাথে দি,
তুই যে সহচরী। 
কে আমার আর বাঁধবে বেনী 
পড়িয়ে দিবে শাড়ি। ।
হবে যখন কলেজ যাওয়ার 
ভীষণ তরিঘরি,
নিজ হাতে কে খাইয়ে দিবে 
আমায় তারাতারি। ।
চুড়ি,বিন্দি,সাজ পোশাক 
আর যত আভূষণ,
আলমারি তোর খুলি যবে 
কেঁদে ওঠে মন। ।
তোর গায়ে মুখে  হাত-পা ছুঁড়ে 
ঘুমোনোর অভ্যাস। 
বিছানায় তোকে হাতরাই রোজ এপাশ আর ওপাশ। ।
মানা কিংবা মানিয়ে নেওয়া 
শিখেছি তোর থেকে। 
হাজার অভাব হার মানাই 
তাই, মুখে হাসি মেখে। ।
সুখে থাকিস,ভালো থাকিস,
ভালো রাখিস সবে। 
দিদি আমার লক্ষীটি ,,,,
তাই, সব ভালো হবে। ।
            

ননী গোপাল

    ✍️ তমাল দেবনাথ 

জাগো জাগো ননীগোপাল,
প্রভাত হয়ে এলো।
পূব আকাশে সূর্যি মামা,
উঁকি যে দিল।
হে প্রভু নন্দের নন্দন,
সকলেই আমরা তোমার আপনজন।
দেশবাসীকে রক্ষা করো,
একসাথে করো মিলন।
তুলসী, পূষ্প, চন্দন পরিয়ে,
ধূপ, দ্বীপ জ্বালিয়ে,
রাখি তোমায় স্বরণে।
প্রণাম জানাই তোমার চরণে।।
তুমি প্রভু, তুমি ঈশ্বর, তুমিই নন্দলাল,
তুমি গুরু, তুমি কৃষ্ণ, তুমিই গোপাল।
তুমি আছো বলেই,
পৃথিবী আজ আলোকিত।
তুমি আছো বলেই,
মানব আজও  জীবিত।
তোমার ঐ বাঁশির সুরে,
বৃন্দাবনে গান ধরে।
কৃষ্ণগোপাল বলে,
তোমার  ওই নাম করে।
হে প্রভু তোমার কৃপায়,
এ পৃথিবীতে আমার আশা।
তোমার প্রতি জানাই,
আমার আন্তরিক ভালোবাসা।

ভাবনার দৌড়

   ✍️ পার্থজিৎ ভৌমিক

বোঝিনি মায়ের আদর,পাইনি বাবার ছোঁয়া 
সবার জীবনে আলো আমার কেন  ছায়া?
এবেলায় ঠ‍্যালা কাকুর জল-বতাসাই সই,
ওবেলায় হয়তো জুটবে মিষ্টি আর দই।
আমি ভাবছিলাম.....

সকালে কাধেঁ ব‍্যাগ নিয়ে ছুটে যায় যারা,
মনে হয় আমারই বয়সী ওরা।
এভাবে আমিও পড়বো, স্কুলে যাবো
মাঠে খেলা করবো,মধ‍্যাহ্নে পেটপুরে খাবো
আমি ভাবছিলাম...

পড়নে আছে ছেঁড়া কাপড় 
কেউ রাখে না মোদের খবর।
ইচ্ছে গুলি পেতো যদি ইচ্ছে ডানার খোঁজ 
দুবেলা দুমুঠো খেতে পেতাম রোজ।
আমি ভাবছিলাম...

ভাবনাটাকে করবো সিঁড়ি 
বাস্তবতায় রাখবো পা।
সুখ পাখিটা  খোঁজে পেলে 
দুঃখ মনে রাখবো না।
এটাও ভাবছিলাম...

বাংলা তুমি

    ✍️ সুজন দেবনাথ

বাংলা তুমি মায়ের আঁচল 
বোনের ভালোবাসা,
বাংলা তুমি কুড়েঘর জুড়ে 
ছোট্ট ছোট্ট আশা।

বাংলা তুমি বুক জুড়ানো 
পল্লী গানের সুর,
বাংলা তুমি রাখালী বাঁশী 
কত মিষ্টি সুমধুর।

বাংলা তুমি শীতের ভোরে 
পিঠে পুলির আশ,
বাংলা তুমি তেরো পার্বণে 
সজ্জিত বারো মাস।

বাংলা তুমি দুঃখীর কন্ঠে 
করুন আর্তনাদ,
বাংলা তুমি সব মানিয়ে 
একটু বাঁচার সাধ।

বাংলা তুমি এপার ওপার 
মৈত্রী বন্ধন সেতু,
বাংলা তুমি গলে পরা ওই 
মিলন মালার সূতো।

বাংলা তুমি মাঠ ভরা ধান 
কৃষকের মুখে হাসি,
শহীদ রক্তে রঞ্জিত বাংলা 
ভীষণ ভালোবাসি।

ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে নেতা

   ✍️ কৃষ্ণকুসুম পাল

"ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে নেতা, বড় হলে ফেন ভাতে,
এখন বড় ভুঁড়ি,অনেক টাকা তোমার হাতে।
গাধা মার্কা ছিলে তুমি,
বারে বারে ফেল,
এখন গড় শিক্ষানীতি,
দেশ উচ্ছন্নে গেল।
ছিন্নমূল ছিলে তুমি,
কাঁপালে তিনকুল,
এখন দেশভক্ত ভ্রমর তুমি,
ভজ ভোটের ফুল।"

অর্পন

   ✍️ পৌষালী ভৌমিক

তুমি কাঠগোলাপ চেয়েছিলে,
আমি রাঙিয়ে দিতে পেরেছি।।
তুমি রং ভরা স্বপ্ন চেয়েছিলে,
আমি রামধনু আঁকতে পেরেছি।।
তুমি মরীচিকা চেয়েছিলে,
আমি প্রাণ ছোঁয়াতে পেরেছি।।
তুমি মধুমাস চেয়েছিলে,
আমি কাননে ফুল ফোটাতে পেরেছি।।
তুমি মায়াবী আঁধার চেয়েছিলে,
আমি আলোহীন কুন্তল ছড়াতে পেরেছি।।
তুমি আমায় চেয়েছিলে,
আমি তোমার প্রতিমূর্তিতে মিশতে পেরেছি।।

মনে রাখা সেই দিন

   ✍️ রঞ্জিত চক্রবর্তী

সৃষ্টির সময় থেকে 
রাত-দিন ফুরিয়ে কাল যখন পূর্ণ হয়
তখন ফিরে আসে
এই এমন একটি দিন।
আমি বা আমার মতো 
অনেকেই এসেছে বা আসবে 
মায়ের জঠর ছেঁড়া ব‍্যথার বিরতি দিয়ে 
বাবার উদ্বেগের পাহাড় পার হয়ে অন্ধকার থেকে আতুরঘরে আদরে নাম রাখা হয়
ঘর ভরে উঠে আলোয় - আলোয় 
জিভ নাড়িয়ে স্বাগত জানাই 
দিকে দিকে ছড়ায় নতুনের বার্তা।
অতীত মনে রেখেই জীবনের শুরু 
পায়ে-পায়ে শিঁড়ি বেয়ে ওঠা 
হয়তো কেউ ভুলে যায় 
কেউ মনে রাখে
ঋণী-তো তাদের কাছেই স্নেহ গন্ধ যার শরীরে।
জীবন ফিরে আসে
জীবনের হাত ধরে
ধাপ শেষ হলেই থেমে যাবে রথ
জন্মদিন এ কথায় বলে
যেনো ভুলে না যায় সে মানুষ আর ঈশ্বরে।

এক টুকরো আলোর প্রচ্ছদ

   ✍️কানু বনিক 

যতটুকু পথ আগলে রেখে তুমি প্রণয়ের পরিধি বাড়িয়েছো,  আমি তার সহবাসে সরোবর পযর্ন্ত এগিয়ে যেতে থাকি। 

শ্রাবনীধারার শেষলগ্নে আকাশ যখন ধূসর মেঘে আচ্ছন্ন, সনাতনী ধারায় গেরুয়া সন্ন‍্যাসী এসে ছটপূজায় শান্তিযজ্ঞ করে নেয়। 

তুমি এখনও ধ‍্যানে মগ্ন, ধ‍্যান ভাঙ্গলে না' হয় দিনের শেষে আশার বাণী শুনিয়ে যাবে। 

আমি আজ সায়ন্তনী সন্ধ‍্যায় তোমার নির্ভেজাল কথাগুলো, ছায়ামেঘের বুকে অক্ষরে অক্ষরে সাজিয়ে চন্দ্রবিন্দু পযর্ন্ত পৌঁছে যেতে চাই । 

আমার আকাশ ততটাই নির্মল, যতটা পূর্ণতা তোমার খেয়ালে ছায়ামেঘের অন্তরালে দিবাকরের এক টুকরো আলোর প্রচ্ছদ এঁকেছে। 

আমি যখন পথিক,  দুপাশের বনানীর আলতো ছোঁয়া মনটাকে উজাড় করে দূর দূরান্তে চলে গিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে রয়ে গেছে। 

তুমি যদি ছায়াপথ ঘুরে এসে বলো একটা নতুন আলোর সন্ধান পেয়েছি, আমি তার ঠিকানাটা হয়তো তোমার কাছে চেয়ে নিতে পারি। 

আমি  নিধিবনের গভীরে গিয়ে শুধু জোনাকির আলো দেখতে পাই ,  তোমার অলিখিত সম্পদ সেই আলোর লহরীতে বুদবুদ ছড়ায়। 

তোমার অমোঘ কথাগুলো যদি কোনো পবিত্রগ্রন্থে লেখা হতো, আমার সায়ন্তনী সকালে  সকল পাওয়া বুকে মেখে নেওয়া যেতো।

বসন্ত

   ✍️ সুবর্ণা

স্নিগ্ধ সকাল,  মিঠে কড়া আলো
হিমেল হাওয়ায় হৃদয় ছুঁয়ে গেলো।

ফুটপাথের ধূমায়িত চায়ে
কুয়াশার চাদরে উষ্ণতা মাখিয়ে।

প্রজাপতিরা  উড়ে  বেড়াবে মনে
  মেঘের সাথে খেলার সনে।

দোতারায় সুর তুলে
প্রতীক্ষার সকল স্মৃতি ভুলে।

বসন্তের ক্যানভাসে রঙের আঁকিবুঁকি
রক্তিম পলাশে বুঁদ হয়ে থাকি।

গল্পটা

   ✍️ শিউলি দাস

যদি গল্পের শুরুটা  লেখা ছিলো অন্য কোথাও 
শেষ টা হোক তোমার নামে ।
তবে বেনামি চিঠি টা আজও লুকোনো আছে শূন্য খামে।
অজস্র ঝরা বসন্ত আর না দেখা শরৎ আছে তাতে ,
টেবিলের এক পাশে পরে আছে ।
দিনের শেষে এক বার ছুঁয়ে দেখি, 
আজও চিঠিটা সতেজ কিনা ,
নাকি পড়ে থেকে ফেকাসে হয়ে গেছে ।
নাঃ শেষ এখনও হয়ে যায়নি 
তবে আগের মত জীবন্ত ও রয়ে যয়নি 
বেঁচে আছে শেষ নিঃশ্বাস নিয়ে 
ছোট্ট একটা খামের দেয়ালে
বন্দি জীবন নিয়ে।

চিঠি

   ✍️ মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য 

আধুনিকতার রঙ্গীন ছোঁয়া,
মুঠোফোনের একচেটিয়া বাজার,
স‍্যোসাল মিডিয়ার সুবিপুল চাহিদা,
ভুলতে বসেছি তোমায়।

এখন আর নেই সেই প্রতীক্ষা,
ডাক বাক্সে নেই ভীড়,
রানারের ছোটাছুটি,পোষ্টকার্ড,সুবহ -
পীতরঙ্গা খামটি চোখেও পরেনা আজকাল।

লালরঙা বাক্সটি কেমন যেন বুড়িয়ে গেছে,
অনুভূতি,সুখানুভব,আবেগ
সবটাই সীমাবদ্ধ ঐ মুঠোফোনে।
তোমায় লেখার অনন্ত ভালোলাগা লুপ্তপ্রায়।

মায়ের সোহাগ,বাবার নিঃস্বার্থ প্রেম
বোনের খুনসুটি,ভাইয়ের অভিমান
প্রেয়সীর সুনির্মল ভালোবাসার প্রেমময় সুবাস
তোমার বুকে আঁচড় কাটে না আর।

ভীষণ অনুভূত তোমার শূন‍্যতা,
আগামী প্রজন্মের কাছে হয়তো-
হয়তো বা তুমি একটি ইতিহাস,
তোমার অস্তিত্বের লড়াই বড্ড যাতনার।

আমি শূন্যতা ঢাকি

   ✍️ চিন্ময় রায়
  
       শূন্য দিয়েই বিচরণ মোর,
 শূন্যতেই শেষ-
 হেসেখেলে দিন গুলো মোর,
 কাটছে মজায় বেশ।
 কেউ কখনো পূর্ণ হয়না,
 শূন্যেই রয়ে যায়।
 আবার কেউ কখনো হাসি আনন্দে,
 শূন্যতা ঢাকতে চায়।
 সকল মানুষ জর্জরিত,
 পরিস্থিতির কারণে।
 শূন্যতেই বিচরন করি,
 সুখ নেই তাই জীবনে।
 সন্ধান নেই কাজের আজও,
 শূন্য হয়েই রই।
এখন মোর সম্বল শুধু,
কাব‍্য লিখন আর বই।
 লিখতে আমি ভালোবাসি,
তাই লিখি মনের সুখে।
কষ্টগুলো চেপে মনে,
থাকি হাসিমুখে।

কবর

   ✍️ সঙ্ঘমিত্রা

জানি আমি ফিরে আসার পরে তোমার বাঁধন খুলে যাবে
তুমি পাহাড় হয়ে আবির রাঙানো আকাশ ছোঁবে
 যদি আমার স্থবিরতা তোমায় নাড়া দেয়
তোমার উঠোন খুলে পড়ে নিও প্রতিটি মধুময় ক্ষণ
আর যদি হঠাৎ মেঘের দিকে তাকাও তার ভাজে পেয়ে যাবে খারাপি মনের লাশ।
অবনমিত কুয়াশাদের খুলে দেখে নিও যুগল অট্টহাসি,
আমার ছায়ারা এখন নিয়ন্ত্রিত
হঠাৎ কান্না পেলে মুহূর্তদের কবর দিও।

দুঃখ

✍️ ঈশানী ভট্টাচার্য

চিৎকার করে কাউকে ডাকতে ইচ্ছে করে।
কিন্তু সেই ডাকের সারা মিলবে তো?

চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে,
কিন্তু সেই কান্নার কারণ 
শোনার কেউ আছে কি?

চিৎকার করে রাতের 
অন্ধকারে
কাউকে নিজের মনের চাপা
কষ্টগুলো উগরে দিতে ইচ্ছে করে।
সেইটুকু শোনার সময় কারোর আছে কি?

ডানপিঠে

    ✍️ রুপালী রায় 

তুমি আসবে বলে এই যে আমার  এত বিশাল আয়োজন 
সে সবটাই কি তবে ব্যর্থ হলো ।
না, না
এতটা স্বার্থপর তোমাকে তো আমি
চিনিনি ।
এই যে আমি, 
 নিজের হাতে তোমাকে 
আমার মতো করে গড়েছি 
একটু একটু করে,
তার সবটাই যদি মিথ্যে হয় 
তাহলে আর এত অজুহাত কিসের?
কিসের এত মান ভঞ্জনের পালা ?
আমাকে তুমি প্রেমিক করো নি ,
আমাকে তুমি প্রতিদ্বন্দ্বি করেছো ।
আমার চুপ থাকার রহস্যে 
আমি নিজেই ডুবে যাই ।
আমার নিঃপ্রাণ কর্ম আমাকে নিয়ে 
উপহাস করে ।
তবুও আমি কাউকে ডুবে যেতে দেইনি ।
আমাকে যারা নিঃস্ব করতে সদা প্রয়াসী ,
আমি তাদের বারবার সুযোগ করে দিয়েছি ।
কিন্তু এরা তার সঠিক ব্যবহার জানেনি ।
আমাকে যারা বন্ধু ভেবেছে 
আমি তাদের বন্ধুত্বের মর্যাদা দিয়েছি 
আমাকে যারা প্রতিপক্ষের আসনে বসিয়েছি 
তারা আমার চিরকালের শত্রু ।
আমি তাদের ভালোবাসি ।

বীরত্ব

   ✍️ চন্দন পাল

ফুলটি ছিঁড়ে নিল নিষ্ঠুর, প্রবঞ্চক বলল অমূলক, সমাজকে কাটল কীট !। 

তাই বলে তুমিও, অনুমোদিত আমিও ? 

একবার প্রতিভাহীন ফুলদানির দিকে তাকাই,
তাকাই শ্রীহীন নগরীটির দিকে। 
ম্লেচ্ছ লোকগুলিরে অনুভব করি।
সভ্যতার কাপড় পরা কিনা জানতে চেও না !

স্বার্থান্ধ কিবা ছল প্রতিভাতেই কী বিশেষ বীরত্ব ! 
জানি, প্রজন্ম ঘুমে। বুমেরাং জেগে কিনা জানতে চেও না।

নারী নির্যাতন

    ✍️ সৌরভ দেবনাথ

পএিকার পাতা গুলো উলটুলেই নজরে আসে কিছু পুরুষ জাতির বীরত্বের কাহীনি,
ওরা যে কত বীর তা প্রমান করে একজন নিরীহ নাবালিকা কে অপমান করে,ধষণ করে।

হে নারী তুমি কি ভুলে গেছ? 
আজ যে দেশে তুমার সাথে অন্যায় হচ্ছে,
সেই দেশের মাটিতেই জন্ম নিয়েছিলেন রানী লখি বাই এর মতো নারী যুদ্ধারা,

হে নারী আজ অসহায় হয়ে পড়ছে তুমার স্বাধীনতা,

তবে কি আর আসবে না আমার স্বাধীনতা?
আসবে অবশ্যই আসবে,
তোমাকেও ঝাসি রানী,লখি বাই এর মতো যুদ্ধা হতে হবে।

হে নারী আজ তোমরাও দাঁড়িয়ে আছ মৃতু এবং জীবন যুদ্ধের মাঝে,
আজ তোমাকেও যুদ্ধা হতে হবে এই নষ্ট সমাজে নগ্ন চরিত্রের বিরুদ্ধে।

কতই না আশা ছিল আমার এই কোমল শিশু মনে,
পুরো স্বপ্ন আশাটাই নষ্ট করে দিল নষ্ট সমাজের কোনে নিয়ে।

যৌবনের বসে কুলাঙ্গাররা চোখ রাখে শিশুদের মাঝে,
দেহ তৃপ্তি হয়ে গেলে কন্যা পরে থাকে রক্তাত্ব অবস্থায় রাস্তার মোড়ে। 

কেউ বলে এ নারী নারী নয় এতো অহারে,
                      আবার 
কেউ বলে মেয়ে তো চরিএহীনা, না জানি কোথায় কোথায় চলে তার লেনাদেনা।

তবু আমি থেমে যায়নি,
ছুটে যায় পুলিশ বাবুর কাছে, তারাও করল কত রঙ্গরসা,
তবু আমি রাখি ভরসা।

তারপর আবার চলে যায় চিকিতসালয়ে,তারাও করে কত রঙ্গনীলা।
আমি আবারও আহারে,আমি আবারও চরিএহীনা।

এরপর কিছু মিডয়া এসে জানতে চায় নষ্ট সমাজের নষ্ট লোকটি কিভাবে তার লালসা,যৌবন তৃপ্তির অবসাদ ঘটাল?

পরে খবরটি  Facebook-এ দেওয়ার পর সমাজবাসীরা Like ও Comment করে দোষীর ফাসি চায় বলে নিজ গৃহে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।

নারীরা আজ বাঁচতে চায়,দেওন ওদের একটু ঠাই।

লড়াই করে ছিল আদালতের দরবারে,
সেখানেও নারী তুমি অস্মান হও নষ্ট সমাজের মাঝে। 

অবশেষে তুমি বিজয়ী হলে কাগজ আর কলমে,                 
                              কিন্তু 
আজ-অ আমি কলঙ্কিত হয়ে রয়েছি এই নষ্ট সমাজের দাঁড়ে।

আগে কত স্ব-জনের চলিত আসাযাওয়া আমার বাড়িতে,
আজ কেউ আসে না আমাকে খুজিতে।।   

বাবা

    ✍️ অগ্রদীপ দত্ত

বাবা তুমি যে আমার অন্ধকারের আলো,
আমার জীবনের তোমারি প্রদীপ জ্বালো।
বাবা তুমিতো বর্ষার ছাতার মতো, 
তোমার নিচে আমি আশ্রিত।
বাবা তুমি প্রভাতের আলো,
 আমার জীবনের পথ কে করো ভালো।
বাবা তুমি রাত জাগা সেই পাখি,
আমার অসুখে না মুদিলে আঁখি,
আমার জন্য তোমার ব্যাকুলতা দেখি।
তুমি দাও মাথায় হাত বুলিয়ে,
সে রাতে আমি যাই ঘুমিয়ে। 
ঘুমে তোমার চোখ হয় রাতা,
তুমি যে আমার জন্মদাতা। 
তুমি যখন করো মোর প্রতি রাগ,
মনে হয় জড়িয়ে ধরে করি সোহাগ।
 মানে-অভিমানে আছো তুমি,
 কি করি বুঝিনু আমি।
করিও না আর রাগ,
ভুল হলে করো মাফ।

 তোমার বয়স বাড়ে যত,
ভগবানের কাছে করি মাথা নত,
 তোমার আয়ু বাড়ে একশত। 
তুমি হবে যেদিন আকাশের তারা,
 চলতে হবে এ ভুবনে তোমায় ছাড়া।
বয়ে নিয়ে যাব তোমার সংসারের ধারা,
আমার ভাবনায় তোমার স্মৃতি সব দেবে সারা।

উড়তে ইচ্ছে করে

    ✍️ বিপ্লব গোস্বামী

ইচ্ছে করে উড়ে উড়ে চাঁদের দেশে যাই
সেথা গিয়ে স্বপ্নে দেখা পরীর দেখা পাই।
 ইচ্ছে করে পরীর সনে আকাশ মাঝে উড়তে
 মেঘের ভেলায় ভেসে ঐ বাযুর সাথে দুলতে।
 ইচ্ছে করে উড়ে উড়ে দূূূর চাঁদের দেশে যাই
 সেথায় গিয়ে চরকা কাটা বুড়ির দেখা পাই।
ইচ্ছে করে দেখে আসি যে তারার ঝিকিমিকি
 চাঁদের বুড়ির কাছে গিয়ে সুতা কাটা শিখি।।
 ইচ্ছে করে উড়ে উড়ে রামধনুর দেশে যাই
 সেথায় গিয়ে নকশা আঁকা মেয়ের দেখা পাই।

আগুন

    ✍️সুস্মিতা মহাজন 

একসাথে অনেকগুলো মনকে পুড়তে দিলাম,
শেষে বললাম ভালো থেকো!
জানি এগুলো ছাঁই হবে,
একটা সময় দমকা হাওয়ায় সবটা উড়ে যাবে।
কিছুটা আগুনের তাপের দাগ হবে শরীরে, 
জমাট বাঁধা কালো ছাঁইপোড়া দাগ।

পাপড়ি

      
                  ✍️পান্থ দাস

গোধুলির ঠিক পূর্বের সময়টা ছিল ‌৷ যখন বেলাটা শেষের পথে, একদম সেই সময়টা ৷ ছেলেটা দাড়িয়েছিল গ্রামের বকুল গাছটার নিচে ৷ একটু একটু হালকা হাওয়াও বইছিল, হাতে ছিল একটি গোলাপ ৷ হয়তো কারোর নাম গাঁথা ছিল তাঁতে, কিন্তু সময়টা যে থামতে চাইছে না ৷ বকুলের ছায়াও যে এখন শেষের পথে, ক্লান্ত চোখ শুধু অপেক্ষায় ৷ 

গোপন মন আশার আলোটা যে ছাড়তে চাইছে না ৷ বকুলের শুভ্র ঘ্রাণের ছোয়া মনকে যেন আরো মাতিয়ে তোলে ৷ তবে গোলাপটা যে আর বেশী সময় হাসতে দিয়ে থাকতে পারছে না, সময়টা সত্যি কারোর জন্য থেমে থাকে না ৷ সময়ের ভিড়ে আজ হারিয়ে গেল আমার গোলাপটাও যে, শুধু কালের বিনিময়ে তাঁর শুকনো পাপড়িই হাতে রয়ে গেল যে ৷

এসেছে ধরায় আমার বসন্ত


               ✍️শুক্লা চক্রবর্তী

এসেছে ধরায় আমার পাড়ায়, 
আমার সখা আমার প্রিয় বসন্ত। 
এসেছে ধরায় আমার বসন্ত সখা যে, 
তাইতো কৃষ্ণচূড়া সাজিয়েছে নবরূপে প্রকৃতিমারে। 
তাইতো উদাসি কোকিলের কুহুকুহু সুরে, 
হয় যে আমার মন ব্যাকুল। 
চারিদিকে বাজছে যেন সংগীতের কলতান, 
চলো তবে সবে মিলে করি গান। 
"শোনো গো দখিনো হাওয়া 
প্রেম করেছি আমি"
বউ কথা কউ পাখি যে ডাকে ডালে ডালে, 
এ শুনে যে আনন্দে মাতে ছেলে থেকে বুড়ে। 
পলাশ শিমুল কুরচি কুসুম ফুটছে বনে বনে, 
ভ্রমরেরা ছুটছে তাইতো দলে দলে। 
বৃক্ষে বৃক্ষে এলো নব পল্লব, 
  তাইতো বুঝেছি আমি... 
এসেছে ধরায় আমার পাড়ায়
আমার প্রিয় সখা আমার বসন্ত।

ফেসবুক ও বন্ধু


           ✍️প্রতীক হালদার 

ফেসবুক জুড়ে পরিচিত হই 
প্রতিনিয়ত-প্রতিক্ষনে,
কারোর কাছে ফ্যালনা আবার
কেউ দাম দেয় মনে-মনে।

খোঁজ খবরে হয় জানা-শোনা 
অচেনাও হয় চেনা,
ভালোবাসা বিনিময়ে হয় বন্ধুত্ব 
যায় না মানুষকে কেনা।

মনের খুশি ছড়িয়ে যখন 
ফেসবুকে রঙ লাগে,
ইচ্ছে গুলো ডানা ঝাপটায় 
খুশিতে হৃদয় জাগে।

ছড়িয়ে পড়ুক হাজার খুশি 
খুলুক নতুন দোর,
ফেসবুক যেন বন্ধু হয়ে 
দিক সদা মনে জোর।

এমনি করেই থাকুক বন্ধুত্ব 
বাঁচুক ফেসবুক জুড়ে,
জীবন পথে একা হলেও 
রইব সবার ভিড়ে ।

সম্পর্ক


              ✍️শাশ্বতী   দেব

সম্পর্কের  টানে  সময়ের টানাপোড়েনে  সম্পর্কে  আসে  জটিলতা,

সম্পর্ক  এক   জায়গায়  কখনও  টিকে  থাকে  না ।

নদীর  স্রোতের  মত  সম্পর্ক  অহরহ  রূপ  বদলাতে  থাকে ,

বিভীষিকায়  ঘেরা  অদৃশ্য  এই  সম্পর্ক  কখনও  কখনও  নষ্ট  হয়ে  যায়  সময়ের যাতাকলে   পড়ে।

সম্পর্কের জেরে  মানুষের চিন্তাধারায় অনেকটাই অবনতি  হয়ে  
চলছে;

কালের  সীমানা  ছাড়িয়ে অনেক সম্পর্ক  আবার  মাথা উঁচু  করে  দাঁড়িয়ে।

জীবন তৃষ্ণা


                ✍️প্রবীর পাঁন্ডে

জগতের কত রঙ, কত রূপরাশি, 
কত শান্ত ছবি, কত মধুময় হাসি;
কত ফুলের আসব, কত তরুলতা, 
শূন্য তপোবন মাঝে কত নীরবতা;
কত প্রভাতের আলো, কত অন্ধকার, 
কত লুকোচুরি খেলা মেঘবালিকার। 
নয়ন ভরে করেছি পান,তবু মিটেনি পিপাসা। 
একি জীবন তৃষা! 

জীবনের কত কথা, কত সুর গান
কত অনাবিল ছন্দে মধুময় তান;
হৃদয়ের মর্মবাণী, কত ভাব ভাষা, 
আকুল প্রাণের কত মৌন ভালোবাসা;
চঞ্চল ঝরনার  কল কল গীত, 
প্রিয় মিলনের কত বাঁশরী সংগীত। 
হৃদয় ভরে করেছি পান, তবু মিটেনি পিপাসা। 
একি জীবন তৃষা! 

উর্দ্ধে নীলিমা আকাশ, কত তারা শশী, 
নিম্নে অসীম সাগর অতল জলরাশি;
কত বহবান নদী, কত নির্ঝরিনী, 
কত গিরি-মরুভূমি, কত পুস্করিনী;
কত আনন্দ মধুর অধরের সূধা, 
কত হাসি,কত অশ্রু, সৌন্দর্য বসুধা। 
অঞ্জলি ভরে করেছি পান, তবু মিটেনি পিপাসা। 
একি জীবন তৃষা!

উষ্ণতার আশ্রয়

 
           ✍️কাজি নিনারা বেগম

মায়াবী ভোরের শীতের সকালে চায়ের কাপে থাকবে তুমি,
ক্লান্তি গুলো অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কনকনে হিমেল হাওয়ায় বেমালুম হেরে যাই আমি।
 হিমেল কনকনে রাত্রি ছিনিয়ে নিল আগুনের জলন্ত লেলিহানে,,
হৃদয়ে স্পন্দন গতি বেড়ে যায় সমর্পন করি  এক সমুদ্র ভালবাসার আঙিনায়।
 শীতের কম্বলের আশ্রয়ে খুঁজে নেই তোমার লোমশ বুকের সৌরভ,,
অলিন্দে ও রক্তের শিরা ও উপশিরায় রক্ত তঞ্চন জমাট বেঁধে থাকা রক্ত কনিকায় তোমার নাম!

মৃত্যুর হাতছানি

        
          ✍️প্রিয়াঙ্কা আদক মন্ডল

মৃত্যু বড়ই নির্মম, কঠোর, অবাঞ্ছনীয়
কোন অস্ত্রাঘাত ছাড়াই মৃত্যু অনিবার্য।
অদৃশ্য রোগে ভুগছি আমি, 
ঘোর সংকটে কাটছে মোর অস্তিত্ব। জীবনে এসেছিল মোর মৃত্যু একবারও বলিনি কাউকে, 
মৃত্যুকে ঠিক কতখানি পুষেছিনু মোর হৃদয়ে!
হ্যাঁ, নিজের অজান্তে নয় 
মরণঝাঁপ দিয়েছিনু সমুদ্রস্রোতে
শুধুই অদৃশ্যের হাতছানি, না 
অনন্ত মহাকালের স্বপ্নে বিভোর 
কষ্ট আঁকড়ে ছিল মনের গভীরে 
দেহ ক্ষত-বিক্ষত করেছিল আঁধারে।
ভেবেছিনু শব শেষ! 
কিন্তু না, কিছুই হলো না 
জীবনের ক্লান্তির মহাবিশ্রাম বটে 
দীর্ঘ ঘুমের অবসান ঘটে। 
মৃত্যুর অপেক্ষায় আমরা সবাই আছি একদিন মৃত্যুর জন্য আমরা সবাই প্রতিদিন বাঁচি।

সূর্বণ


            ✍️কাজী নিনারা বেগম

হে  মন্দাকিনী তোমার কৌশিকী ধারায় প্রবাহিত করে দাও গনতন্ত্রের ও চেতনা ও মানবতার মৌলিক "সা,রে ,,গা,,মা ,, পা" এর রিদমের সেই সুরের ছন্দ ও তালে। শির দাঁড়া সোজা রেখে উন্নত শিরে হাটো। তাকাও সেই রোদ্দুর দিনের ইতিহাস সাক্ষিদের অমর দেশপ্রেমিক ও বাপুজীর নিরলস প্রচেষ্টায় ভারত স্বাধীনতা ও নব জাগরণের দিনগুলো কি ভূলে গেছ! হে বীর প্রতীক মাতৃভূমির সন্তানেরা তোমাদের করি অভিবাদন। সম্পৃক্ত হৃদয় স্পর্শ করে আছো আজও বিদ্যমান। সম্পৃতি মিছিলে  কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে   চলো এলো  মেলো মেলোডি ভালবাসার মানবতার ও চেতনার সূরে। পুতে দাও মৃত্তিকার জঠরে সেই কলঙ্কিত বীজ। মূছে দাও সেই অফুরান কবিতার ছন্নছাড়া লাইন গুলো।বারান্দার রঙ চটা দেওয়ালের অমসৃণ পিঠে । বন্ধুর অবন্ধুর অলিতে গলিতে মেট্রো শহরের সোনালী  চৌরঙ্গী লেনের অবিভক্ত লাল নীল বাতির, ঝলসানো সিগন্যাল প্রসেসিং রেড সিগন্যালে। হাটুকনা নির্ভয়ে নির্ভ য়ায় হাটুকনা পারমিতা ও আইরিনরা। 
বড় মুড়া পাহাড়ের বেথালিঙ শিবের  চিরহরিৎ জঙ্গলে তারুণ্যের তরুরাজ্যের নব জাগরণের হৌক না 21জানুয়ারী পুন্য রাজ্যের সুবর্ণ জয়ন্তীর। বিশ্ব মৈত্রীর ত্রিবেনী সঙ্গমে। ফজরের আজানে খোদার দরবারে
ও মন্দিরের পুজারী কন্ঠে অনুসুয়া হৌক না ভ্রষ্টাচারের নীল বিষের ফনায়। আসুক না পরম ধর্মের সহিষ্ণুতা।

হঠাৎ যদি

          
         ✍️সুপর্ণা মজুমদার রায়

হঠাৎ যদি আকাশ কোনো ছলে?
নেমে আসে মাটির ধরা তলে!! 
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা সাথী হবে সব,
ধরনী পরে শুরু এক মহামিলনোৎসব।
উজান পানে উড়িয়ে দিয়ে সপ্তরথী ঘোড়া, 
আকাশ মাটির মনটি হবে মুক্ত-বাঁধনছাড়া। 
হাত বাড়িয়ে আকাশ মাটি দুজনার জড়াজড়ি, 
বহু যুগের সপ্ন পূরণ দুজনায় ভাব করি। 
সুদূর হতে আকাশ মাটি তৃষিত নয়নে চেয়ে, 
একে অপরের ভাবটি জানায় নীরবতা জানিয়ে। 
নাম না জানা কোন সে বেদন ভালবাসার ছলে, 
দূর হতে তাই আকাশ মাটি মনের কথা বলে। 
এমনটি এক দিন আসুক আকাশ মাটির মাঝে, 
ভাঙবে আগল,মিলন হবে দুজন দুজনার কাছে। 
সিক্ত হবে দুটি হৃদয় ভালোবাসা মনে,
আলোক বার্তা ধ্বনিত হবে 
কোকিল গাইবে মধুর কুজনে। 

ছোটবেলা ও যৌবনের শেষে


                ✍️পাপিয়া দাস
ছোটবেলা  বেলা বেশ ভালই ছিল,
শুধু খেলার সাথে পরিচয়।
চাকরি  বাকরির দরকার  নেই,
শুধু বইয়ের সাথে পরিচয়।

খাবার  মজুত আছে কিনা
দেখার দরকার ছিলো নাতো,

পেট ভরে খাবার  পেলে
অন‍্যদের খাবারের  চিন্তা ছিলো নাতো।

নিজের ঘুমে বিভূর তখন
অন‍্যের ঘুমের চিন্তা নেই

যখন তখন  ঘুমিয়ে  পড়া
চিন্তা  করার মতো কোনো চিন্তা নেই।

যৌবনে পা রাখতেই মা বাবার 
বার্ধ‍্যক‍্যের চিন্তা
  আর কর্মজীবনের  চিন্তা মাথায়  এসে চেপে ধরে।

বিয়ের পরে স্বামী,স্ত্রী 
সন্তানের  ভরণপোষণের  
দায়িত্ব পড়ল  বুঝি ঘাড়ে।

কি কি কর্তব্য  করতে হবে
কে কি দায়িত্ব  নেবে 
রাখে নাতো বাকি।

বৃদ্ধ বাবা মা, শ্বশুর শাশুড়ির
দেখাশুনার দায়িত্বে থাকবে
কাজে দিতে পারবে না ফাঁকি।

অফিস  কাচারী  ঘর সংসার 
সামলাতে  হবে তোমায়।
ছুটাছুটি করতে করতে পৌঁছে যাবে
যৌবনের  শেষ কাটগড়ায়।

মাতৃভাষা কলমে


             ✍️ মনচলি চক্রবর্তী 

বাংলা মোদের মা 
বাংলা মোদের মাতৃভাষা 
বাংলা ভাষার মাঝে আছে প্রান 
এই ভাষায় জাগে  বুকে শিহরণ। 
কত দেশ কত যে ভাষা,
আমার হৃদয়ে লেখা থাকুক
 চিরকাল অমর হয়ে 
আমার  মাতৃভাষা বাংলা ভাষা। 
বাংলা ভাষায় বলবো কথা
বাংলা ভাষায় লিখবো গাথা।
বাংলা ভাষায় গাইব গান 
বাংলা মনে আনে ছন্দ তাল।
মায়ের ভাষার আছে সুখ 
মাতৃভাষায় জুড়ে যায় বুক।
বাংলা মায়ের মুখ দেখে
জীবন মন দেবো সঁপে।
রক্ত জড়ানো একুশে ফুটুক
শত শ্রদ্ধার  একরাশ গোলাপ।

মানুষ বড়ই নিষ্ঠুর জাতি

                   ✍️স্বৈপায়ণ দেব  
                    
                       মানুষ বড়ই নিষ্ঠুর জাতি,
                      নিষ্ঠুর এই সমাজ পরিপাটি।
                                 নিষ্ঠুর আমি, 
                                  নিষ্ঠুর তুমি, 
                          নিষ্ঠুরতায় অধোগামী।

                            এই নিষ্ঠুরতার জেরে 
                         কিভাবে যে অকালে মরে ?
                           মায়ের কোল শূন্য করে  
                              আত্মহত্যা সে করে,
                              কি নিষ্ঠুরতাই করে।

                               নিষ্ঠুর তো সেও
                          যে করেছে তাকে হেয়। 
                              ভুলে-যাও-তাকে, 
                            পরোনা আর পাকে।
                          আর নয় রুখে দাঁড়াও 
                        নিজেকে এবার সামলাও, 
                        নিজের বান্ধব নিজে হও 
                         না হয় নিষ্ঠুর আরো হও। 

                         কিন্তু এই নিষ্ঠুরতার জেরে
                              ছেড়ে যেও না তারে, 
                             যে লালন পালন করে 
                             বাঁধলো তার সকল স্বপ্ন 
                                শুধু তোমার তরে।

তোমাকে পাশে চাই

      
                ✍️ মাধুরী লোধ

আমি তোমাকে পাশে চাই
ভিত্তি প্রস্তর আর ফিতা কাটার এলবামে 
ঝুলন্ত পুল এ লোহা লক্কর এ নাড়ীর যোগ 
উচ্ছাস আনন্দ চূড়ান্ত ব্যসত তায় 
সনাক্ত হবে প্রবাহমান নদীর অগ্নি রথ ।
আমি তোমাকে পাশে চাই
গুড মর্নিং ,গুড ইভিনিং ,গুড নাইটে
অভিন্ন বন্ধন যেনো শতমূলী ছড়া
ভুলিয়ে দেবে ত্রিতাপ জ্বালা
আছে শুধু না বলা কথায় মূকাভিনয় ।
আমি তোমাকে পাশে চাই
পূর্ব , পশ্চিমে  উত্তর  দক্ষিণে
কবি ও কবিতা  ও লিটলম্যাগে 
নিঃসঙ্গ নদী তীরে অশান্ত ঘূর্ণাবর্তে
হৃদয় ডালে বসন্ত কোকিল স্বরে ।
আমি তোমাকে পাশে চাই অজাতশত্রু হঠাতে শেখা যুদ্ধ কৌশল
জাকির হোসেন, আমজাদ আলী,বা বিসমিল্লা খান
মাদার টেরিজা , বৈষ্ণব পদাবলী বা
মানুষ বনাম মনুষ্যত্বে
আমি তোমাকে পাশে চাই 
ঠাকুর ঘরে শোবার ঘরে , বারান্দায় , বাড়ির আনাছ কানাচে , শেষ বিদায়ের মৌন মিছিলে পরম সাথী সবুজ সাথীর ন্যায় ।